আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 5

বাসি ভাত দিয়ে পাকোড়া তৈরির রেসিপি জেনে নেওয়া যাক

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

আমাদের প্রায় সবার বাড়িতেই অল্প একটু হলেও ভাত থেকে যায় অনেক সময়। পরদিন বাসি ভাত খেতে মন টানে না কারোই। তখন সেই ভাত দিয়ে কী করা যায়, তা ভাবতে বসে যান অনেকে। আপনি যদি সুস্বাদু পাকোড়া তৈরি করে নিতে পারেন, তাহলে আর বাসি ভাত হাঁড়িতে পড়ে থাকবে না, বরং খাওয়ার জন্য কাড়াকাড়ি লেগে যাবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বাসি ভাত দিয়ে সুস্বাদু পাকোড়া তৈরির সহজ রেসিপি-

তৈরি করতে যা লাগবে: ভাত- ২ কাপ,পেঁয়াজ কুচি- ১টি,কাঁচা মরিচ কুচি- ঝাল অনুযায়ী ডিম- ১টি,ধনিয়া পাতা কুচি-২ টেবিল চামচ,লবণ- স্বাদমতো,বেসন-২টেবিল চামচ,হলুদের গুঁড়া- সামান্য,তেল- ভাজার জন্য।

যেভাবে তৈরি করবেন: ভাতের সঙ্গে ডিমও বেসন মেখে নিন। তার সঙ্গে পেঁয়াজ, মরিচ, ধনিয়া পাতা কুচি, লবণ এবং হলুদের গুঁড়া মিশিয়ে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে গরম হতে দিন। খুব বেশি উত্তপ্ত করবেন না, এতে পাকোড়া দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যাবে। তেল গরম হয়ে এলে তাতে মিশ্রণ থেকে পাকোড়ার আকৃতিতে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে ভালোভাবে ভেজে তুলুন। নামিয়ে পছন্দের যেকোনো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

আলোকিত প্রতিদিন/১০জুন ২০২৬/মওম

ধামরাইয়ে মাটি খেকো ও ইটভাটার দৌরাত্ম্যে বিলীন হচ্ছে কৃষি ভূমি!

মামুন আহমেদ জয় | ঢাকা জেলা প্রতিনিধি, ঢাকার ধামরাই উপজেলার একসময়ের সবুজ-শ্যামল কৃষি অঞ্চল আজ ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে জলাশয় ও খননকৃত গর্তে। উপজেলার নান্নার, কুল্লা, সুতিপাড়া, সোমভাগ, সুয়াপুর, ভাড়ারিয়া, সানোড়া, বালিয়া ও রোয়াইল ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপরিকল্পিত ইটভাটা এবং অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে উর্বর কৃষি ভূমি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, একসময় এসব ইউনিয়নের জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হতো। ধান, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করতো না, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে একের পর এক অবৈধ মাটি কাটা ও ইটভাটার বিস্তারে কৃষিজমির চিত্র বদলে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে ভরে জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে কৃষিকাজ তো দূরের কথা, ভবিষ্যতে এসব জমি পুনরায় আবাদযোগ্য করা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অবৈধ মাটি ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভেকু (এক্সকাভেটর) জব্দ করা হলেও কয়েকদিন পর তা আবার ছাড়িয়ে এনে একই স্থানে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। ফলে কৃষি নির্ভর এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-২০ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অতীতে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ধামরাইয়ে অবৈধ মাটি ব্যবসা ও পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। তার নির্দেশনার আলোকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদোয়ান আহমেদ রাফি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করে আসছেন।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধুমাত্র জরিমানা কিংবা সাময়িকভাবে ভেকু জব্দ করলেই কি বন্ধ হবে এই পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব? তারা অবৈধ মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন ফসলি জমি ধ্বংসের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধামরাইয়ের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বাড়তে পারে জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি।

এখন প্রশ্ন একটাই—ধামরাইয়ের উর্বর কৃষি জমি কি রক্ষা পাবে, নাকি মাটি খেকোদের লোভের কাছে হারিয়ে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা?

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিশ্বকাপের আমেজে নোরা-সানজয়ের ‘সির সির’ ঝড়, একদিনেই ৩০ মিলিয়ন ভিউ পার

বিনোদন ডেস্ক:

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ প্রকাশের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় নোরা ফাতেহি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সানজয়। ৯ জুন মুক্তির পর এক দিনেই ইউটিউবে গানটি ৩ কোটির (৩০ মিলিয়ন) বেশি ভিউ অতিক্রম করেছে।

৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এই গানটি ফিফার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলের পাশাপাশি নোরা ফাতেহি এবং সানজয়ের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের আবহ, আন্তর্জাতিক সংগীতের ছন্দ এবং প্রাণবন্ত নৃত্যশৈলীর মিশেলে তৈরি ‘সির সির’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে।

গানটির কোরিওগ্রাফি এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনায় দেখা গেছে বৈশ্বিক উৎসবের আবহ। নোরা ফাতেহির পারফরম্যান্স যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি গানের রিদম ও প্রোডাকশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সানজয়।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সানজয় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজে ও ইডিএম সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের পাশাপাশি তিনি বলিউড এবং বৈশ্বিক সংগীত জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। অরিজিৎ সিং, গুরু রন্ধাওয়া, সুনিধি চৌহানসহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মিউজিক অ্যালবামে জায়গা পাওয়া এই গানে সানজয়ের উপস্থিতি বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই অ্যালবামে শাকিরা, দ্য রোলিং স্টোনস, ড্যাডি ইয়াঙ্কি, বার্না বয় ও রেমার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারাও যুক্ত আছেন।

অন্যদিকে, ফিফা বিশ্বকাপের আরেক আলোচিত গান শাকিরার ‘দাই দাই’ দুই সপ্তাহে ইউটিউবে ১০৮ মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে। সেই তুলনায় নোরা ফাতেহি ও সানজয়ের ‘সির সির’ মাত্র এক দিনেই ৩০ মিলিয়নের বেশি ভিউ পেয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মুক্তির শুরুতেই এমন গতিতে ভিউ বাড়ায় গানটি আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে নতুন সেনসেশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংগীতপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল মিউজিক অ্যালবামের গানটি এখন বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

আলোকিত প্রতিদিন/১০জুন ২০২৬/মওম

পুশ-ইন ও সীমান্ত হ*ত্যার প্র*তিবাদে ঢাকায় বি*ক্ষোভ করবে ১১ দল

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামী ১২ জুন শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সকল জেলায় এবং সীমান্তবর্তী পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে এগারো দলীয় ঐক্য। এছাড়া সারাদেশে খুন, ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন সোমবার রাজধানীর শাহবাগের শহীদ হাদী চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

অবিলম্বে ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

১০ জুন বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে। ‎‎এ সরকার সংস্কার চায় না তাদের কর্মে প্রমাণিত হয়েছে। একইসঙ্গে ‎প্রতিবেশী দেশ বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে। ‎ভিনদেশি নাগরিক থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে বরং জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের দেশের বসবাসকারীদের।

তিনি বলেন, ‎সীমান্তে হত্যা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। সীমান্তে গত তিন মাসে ৫০ এর অধিক পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারত। গত ১০০ দিনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে দেশটি।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত হত্যা নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ‎কোনো আইন অনুযায়ী সরাসরি গুলির আইন নেই। এটা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, ‎দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে সদা সজাগ থাকবে বিরোধীদল। এবং সরকার যেন কোনো ধরনের উদাসীনতার পরিচয় না দেয় সে ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

এসময় ‎সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এসময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমি সীমান্ত এলাকা ঘুরেছি, দেখেছি মানুষের কত কষ্ট। আমি দেখে এসেছি সীমান্তে সরকারের ভূমিকা অপ্রতুল। বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১০জুন ২০২৬/মওম

 শান্তি ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় থাকবে। আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে নিরাপদ এবং শান্তিময় পৃথিবী গড়তে জাতিসংঘ সনদের প্রতি বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালন উপলক্ষে ১০ জুন বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত শহীদ হওয়া বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতিও সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে শহীদদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী এবং শান্তিকামী মানুষের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নয়, জাতিসংঘের পতাকাতলে বিশ্বের যেকোনও প্রান্তে শান্তি রক্ষায় আমাদের শান্তিরক্ষীরা বদ্ধপরিকর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা খুব সহজে আসেনি। শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাদের এই মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। পরিবার-পরিজন থেকে বহু দূরে থেকে প্রতিকূল পরিবেশে তারা নিষ্ঠা, সাহস এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অবদানের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের নিষ্ঠা, কর্তব্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের কারণেই বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সুনাম ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ সদস্য নারী। তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী তার স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ঘিরে অপতৎপরতা এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয়েছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনাও সশস্ত্র বাহিনীর ওপর একটি বড় আঘাত ছিল। তাই ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন অ্যান্ড চেইন অব কমান্ড’-এর গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে নিজেদের স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা যে যেখানে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব এক জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ আরও বহুমাত্রিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

শাহাদতবরণকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মানার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক এবং অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১০জুন ২০২৬/মওম

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ মিলিয়ন ডলারের ড্রো*ন ভূ*পাতিত করল ই*রান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিজেদের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরান। ১০ জুন বুধবার দুই দেশের মধ্যে হামলা এবং পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এরমধ্যেই তেহরান মার্কিনিদের ড্রোন ভূপাতিত করেছে।একটি এমকিউ-৯ ড্রোনের দাম ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। যা বাংলাদেশি অর্থে সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বুশেহেরের জামে ড্রোনটি টার্গেট করা হয়। ড্রোনটি ভূপাতিত করতে সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় বলেও জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনীর চৌকস এ ইউনিট।

এমকিউ-৯ ড্রোন দীর্ঘসময় আকাশে উড়তে পারে। এটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ড্রোন নজরদারি এবং নির্ভুল হামলায় ব্যবহার করে থাকে।

গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে ইরান। তিনি এর জবাব দেওয়ার হুমকি দেন। তার হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সেনারা ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায়।

এর জবাব দিতে ইরান বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন এবং মিসাইল ছুড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে তাদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ডও একই ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা সতর্কতা দিয়েছে, মার্কিনিরা যদি আবারও আগ্রাসন চালায় তাহলে আগের চেয়ে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: মেহের নিউজ

আলোকিত প্রতিদিন/১০জুন ২০২৬/মওম

মানিকগঞ্জে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে কিশোরের মৃ#ত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় গাছে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফয়সাল (১৬) নামের এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকার তাসনুভা ফিলিং স্টেশনের একটি আমগাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল ওই এলাকার মুন্নু মিয়ার ছেলে। ফয়সাল ওই ফিলিং স্টেশনের একজন কর্মচারী ছিলেন।

 

তাসনুভা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী তানজিলুর ফারগানি খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তার প্রিয় দল ব্রাজিলের প্রতি সমর্থন জানাতে ফিলিং স্টেশনের একটি আমগাছে পতাকা টানাতে ওঠেন ফয়সাল। এ সময় অসাবধানতাবশত গাছের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তখন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বর্তমানে নিহতের মরদেহ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ও নিহতের পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক:

মিরপুরে ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক হোসেনের পর বল হাতে নাহিদ রানার তাণ্ডবে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় জয়। ২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করা ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশে ওটাই ছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম জয়।

২১ বছর এবং ১৫ ম্যাচ (একটি পরিত্যক্ত) পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে জয় পেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। এই ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় ছিল একটি।

ম্যাচটিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ গড়েছিল বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৭ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর চার বছর পর দেশের হয়ে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অস্ট্রেলিয়া বোলারদের বিরুক্ষে ব্যাটিং ঝড় তোলেন।

ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অপরাজিত ৮৬ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। ৭০ বলের তার ইনিংসে ৭টি চারের মারের সাথে ৩টি ছক্কার মার ছিল।

ব্যাট হাতে তাণ্ডব ছড়ানো মোসাদ্দেক বল হাতেও সফল ছিলেন। ১০ ওভার বল করে ৩.৭০ ইকোনিকে ৩৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়ার পথে ছিলেন গতিময় টাইগার বোলার নাহিদ রানা। ১০ ওভার বল করে ৪১ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট।

৪২.২ ওভারে বজ্রপাতের কারণে খেলা বন্ধ করেন দেন মাঠ আম্পায়ার। এ সময় ৯ উইকেট নিয়ে ১৯১ রান করেছিল অস্ট্রেলিয়া। জয় থেকে মাত্র এক উইকেট দূরে থাকলেও ঘোষণা আসতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৮টায় অবশেষে আসে কাঙ্কিত ঘোষণা। বৃষ্টি আইসে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জুন ২০২৬/মওম

টাঙ্গাইলে এলজিইডি’র অসমাপ্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দা*বিতে মা*নববন্ধন

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইলের লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কে এলজিইডি নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঘাটাইলের আনেহলা ইউনিয়নের খায়েরপাড়া বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন বিধ্বস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না করে মাঝপথে বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় শহিদ ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, খায়েরপাড়া বাজার সমিতির সভাপতি হামিদুর রহমান হিরো, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম খান দুলাল, সমাজ সেবক তাওহিদুল ইসলাম তারেক, হিটলার, মোখলেছুর রহমান খান বেল্লাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণাধীণ সড়কটির বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করে আত্মগোপণে চলে গেছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ রাখতে সড়কডিটর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে ব্যাপক কষ্ট করছে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে কাদা-পানির কারণে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া যানবাহন চলাচলে সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। তারা দ্রুত নির্মাণাধীন সড়কটির উন্নয়ন কাজ শেষ করার দাবি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জুন ২০২৬/মওম

চিনি সত্যিই কি স্বাস্থ্যের জন্য বি*পজ্জনক

  লাইফস্টাইল ডেস্ক:

অনলাইনে অনেকেই চিনিকে স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বা “বিষাক্ত” হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়—সব মিষ্টি খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।

কিংস কলেজ লন্ডনের পুষ্টিবিদ ডা. এমিলি লিমিং বলেন, এটি একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ চিনিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়ার পর নিজেকে ভালো অনুভব করেন, আর সেখান থেকেই ভুল ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু এর কারণ সবসময় চিনি নয়—বরং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (আল্ট্রা-প্রসেসড) মিষ্টি খাবার বাদ পড়লে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক মান উন্নত হয়। ফলে ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়।

ডা. লিমিং আরও বলেন, যারা চিনিকে ‘বিষাক্ত’ বলেন, তারা প্রায়ই মনে করেন চিনি একাই ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের জন্য দায়ী। তবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ক্যালোরি সমান থাকলে বেশি চিনি থাকা খাদ্যতালিকা ওজন কমানো, বিপাকক্রিয়া বা গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকে অতিরিক্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

তার মতে, “খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যের ঘাটতি থাকলে তা পুষ্টিগতভাবে ভালো নয়, কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে চিনি নিজে থেকেই সরাসরি ক্ষতিকর—এমনটা বলা যায় না।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “ক্ষতি হয় মূলত তখনই যখন দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বেশি থাকে; মাঝে মাঝে অল্প চিনি খাওয়া থেকে নয়।”

বিশেষজ্ঞরা জানান, সব মিষ্টি খাবার এক নয়। যুক্তরাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম ‘ফ্রি সুগার’ গ্রহণ করা উচিত—যা যুক্ত হয় মিষ্টি, বিস্কুট বা ফলের জুসের মতো খাবারে। তবে সম্পূর্ণ ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এতে গণ্য হয় না, কারণ এগুলো ফাইবার ও নানা পুষ্টি উপাদানের সঙ্গে থাকে।

ফল সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ডা. লিমিং। তিনি বলেন, “মানুষ যখন বলে ফল খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে চিনি বেশি—তখন আমি খুবই হতাশ হই। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত পরামর্শ।”

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জুন ২০২৬/মওম