আজ মঙ্গলবার, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিনি সত্যিই কি স্বাস্থ্যের জন্য বি*পজ্জনক

আরো খবর

  লাইফস্টাইল ডেস্ক:

অনলাইনে অনেকেই চিনিকে স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বা “বিষাক্ত” হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়—সব মিষ্টি খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।

কিংস কলেজ লন্ডনের পুষ্টিবিদ ডা. এমিলি লিমিং বলেন, এটি একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, অনেক মানুষ চিনিযুক্ত খাবার বাদ দেওয়ার পর নিজেকে ভালো অনুভব করেন, আর সেখান থেকেই ভুল ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু এর কারণ সবসময় চিনি নয়—বরং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত (আল্ট্রা-প্রসেসড) মিষ্টি খাবার বাদ পড়লে খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক মান উন্নত হয়। ফলে ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়।

ডা. লিমিং আরও বলেন, যারা চিনিকে ‘বিষাক্ত’ বলেন, তারা প্রায়ই মনে করেন চিনি একাই ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের জন্য দায়ী। তবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ক্যালোরি সমান থাকলে বেশি চিনি থাকা খাদ্যতালিকা ওজন কমানো, বিপাকক্রিয়া বা গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকে অতিরিক্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

তার মতে, “খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যের ঘাটতি থাকলে তা পুষ্টিগতভাবে ভালো নয়, কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটে চিনি নিজে থেকেই সরাসরি ক্ষতিকর—এমনটা বলা যায় না।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “ক্ষতি হয় মূলত তখনই যখন দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা ক্রমাগত বেশি থাকে; মাঝে মাঝে অল্প চিনি খাওয়া থেকে নয়।”

বিশেষজ্ঞরা জানান, সব মিষ্টি খাবার এক নয়। যুক্তরাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ৩০ গ্রাম ‘ফ্রি সুগার’ গ্রহণ করা উচিত—যা যুক্ত হয় মিষ্টি, বিস্কুট বা ফলের জুসের মতো খাবারে। তবে সম্পূর্ণ ফলের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এতে গণ্য হয় না, কারণ এগুলো ফাইবার ও নানা পুষ্টি উপাদানের সঙ্গে থাকে।

ফল সম্পর্কে ভুল ধারণা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ডা. লিমিং। তিনি বলেন, “মানুষ যখন বলে ফল খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে চিনি বেশি—তখন আমি খুবই হতাশ হই। এটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত পরামর্শ।”

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জুন ২০২৬/মওম

- Advertisement -
- Advertisement -