আজ বুধবার, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ধামরাইয়ে মাটি খেকো ও ইটভাটার দৌরাত্ম্যে বিলীন হচ্ছে কৃষি ভূমি!

আরো খবর

মামুন আহমেদ জয় | ঢাকা জেলা প্রতিনিধি, ঢাকার ধামরাই উপজেলার একসময়ের সবুজ-শ্যামল কৃষি অঞ্চল আজ ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে জলাশয় ও খননকৃত গর্তে। উপজেলার নান্নার, কুল্লা, সুতিপাড়া, সোমভাগ, সুয়াপুর, ভাড়ারিয়া, সানোড়া, বালিয়া ও রোয়াইল ইউনিয়নসহ বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি কৃষিজমি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপরিকল্পিত ইটভাটা এবং অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার কারণে উর্বর কৃষি ভূমি দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, একসময় এসব ইউনিয়নের জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হতো। ধান, সবজি ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করতো না, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে একের পর এক অবৈধ মাটি কাটা ও ইটভাটার বিস্তারে কৃষিজমির চিত্র বদলে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক স্থানে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্ত পানিতে ভরে জলাশয়ে পরিণত হয়। ফলে কৃষিকাজ তো দূরের কথা, ভবিষ্যতে এসব জমি পুনরায় আবাদযোগ্য করা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অবৈধ মাটি ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভেকু (এক্সকাভেটর) জব্দ করা হলেও কয়েকদিন পর তা আবার ছাড়িয়ে এনে একই স্থানে মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। ফলে কৃষি নির্ভর এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা-২০ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অতীতে একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, ধামরাইয়ে অবৈধ মাটি ব্যবসা ও পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। তার নির্দেশনার আলোকে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদোয়ান আহমেদ রাফি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করে আসছেন।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, শুধুমাত্র জরিমানা কিংবা সাময়িকভাবে ভেকু জব্দ করলেই কি বন্ধ হবে এই পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব? তারা অবৈধ মাটি কাটা ও কৃষিজমি ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন ফসলি জমি ধ্বংসের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ধামরাইয়ের খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বাড়তে পারে জলাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি।

এখন প্রশ্ন একটাই—ধামরাইয়ের উর্বর কৃষি জমি কি রক্ষা পাবে, নাকি মাটি খেকোদের লোভের কাছে হারিয়ে যাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা?

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

- Advertisement -
- Advertisement -