আজ সোমবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 49

ঈদের আগে শপিংমল খোলার সময় ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি চায় ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিধার্থে শপিংমলগুলোর বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতি। শনিবার (২ মে) সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু সই করা চিঠিতে এ দাবি করা হয়। রোববার (৩ মে) এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে শপিংমলগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে, দেশের অধিকাংশ ক্রেতা অফিসের পর সন্ধ্যায় কেনাকাটা করতে আসেন, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই শপিংমল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিক্রয় কমে গেছে এবং ব্যবসার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ হবে। এছাড়া, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের ভ্যাট ও ট্যাক্স আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, সন্ধ্যার পর অনেক ভ্যানভিত্তিক অননুমোদিত ব্যবসা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে, যা নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর এবং একটি অসম ও অনিয়ন্ত্রিত বাজার সৃষ্টি করছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা সবসময় সরকার নির্ধারিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করতে প্রস্তুত। তারা বিদ্যুৎ সাশ্রয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। পাশাপাশি, যদি প্রয়োজন হয়, শপিংমলগুলোর খোলার সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে ১১টা নির্ধারণের প্রস্তাবও তারা দিয়েছেন। এতে বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সম্পদের সাশ্রয় হবে এবং ব্যবসায়ীদের বিক্রি করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাবে।

অতএব, ব্যবসায়ী সমাজ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ জনগণের সুবিধা বিবেচনায় তারা মন্ত্রীর কাছে শপিংমলগুলোর বন্ধের সময় ৯টা পর্যন্ত বৃদ্ধি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: তদবির করলেই অপরাধী—ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।

তিনি বলেন, রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধেই প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, সন্ত্রাস এবং অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন করছে ডিএমপি। এর অংশ হিসেবে অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা, চেকপোস্ট স্থাপন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে কাজ করছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

মো. সরওয়ার জানান, কাঁচাবাজার, বড় মার্কেট, টার্মিনাল ও অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিটিটিসির যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলেও জানান তিনি। গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং বড় মাদক চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের পেছনের গডফাদারদের শনাক্ত করে মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

নগরীর নিরাপত্তা জোরদারে বসিলা ও কারওয়ান বাজার এলাকায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি স্থানে ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজও চলছে, যাতে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।

ডিএমপি কমিশনার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা চাঁদাবাজি, মাদক, অনলাইন জুয়া ও প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অপরাধীর পরিচয় বা প্রভাব নয়, অপরাধই মুখ্য বিবেচ্য। চাঁদাবাজদের পক্ষে তদবিরের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি অপরাধীকে ছাড়াতে তদবির করে, তাকেও অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে ডিএমপির অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং নতুনভাবে শনাক্তদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী রাজধানীর বাইরে পালালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা তুলনামূলক কম হলেও মাঝারি পর্যায়ের কিছু অপরাধী সক্রিয় রয়েছে, যাদের ওপর নজরদারি চলছে। মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন ও নতুন থানা গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিচার শুরু

আলোকিত প্রতিবেদক:

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ রোববার (৩ মে) অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৩ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুদকের পক্ষে মীর আহমেদ আলী সালাম শুনানি করেন, তবে আসামি বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকায় তার পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। গত বছরের ৩০ নভেম্বর তদন্ত শেষে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদ এসব অবৈধ সম্পদ গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এখন পর্যন্ত বেনজীর আহমেদ পলাতক থাকলেও মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়:প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতি ফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

৩ মে রবিবার রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা ।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই। একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক এবং জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার।  বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে।  দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

 সরকার প্রধান বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা।

আলোকিত প্রতিদিন /০৩ মে ২০২৬ /মওম

সিলেটে ভয়া*বহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৮ শ্রমিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মধ্যে ৪ জনের নামপরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের সুরুজ আলী (৬০), একই উপজেলার শেষস্তি গ্রামের আব্দুল বাসিরের মেয়ে মোছা. মুন্নি (৩৫), সিলেটের জালালাবাদ থানার লালারগাঁও এলাকার সুজাত আলীর ছেলে মো. বদরুল (৩০) এবং দিরাই উপজেলার নুরনগর এলাকার মৃত নূর সালামের ছেলে মো. ফরিদুল (৩৫)। অন্য ৪ জনের নামপরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে মো. আলমগীর (৩২), সিলেট নগরের কালিবাড়ি এলাকার তোরাব উল্লাহ (৬০), আম্বরখানার লোহারপাড়ার রামিন (৪০) ও একই এলাকার আফরোজ মিয়া (৪০), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে রাভু আক্তার (২৫), সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাউমারা গ্রামের বদরুজ্জামানের মেয়ে হাফিজা বেগম (৩০) এবং দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার রাজা মিয়া (৪৫)।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রিয়াজুল কবির জানান, রোববার সকাল ৬টার দিকে সিলেট থেকে একটি ডিআই পিকআপে করে বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক লালাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেতলী বাজার এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কাঠালবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ও ট্রাক—উভয় চালকই পালিয়ে গেছেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

অকটেন সংকট মোকাবিলায় বড় আমদানির পরিকল্পনা বিপিসির

বিশেষ প্রতিবেদক:

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন করে বড় আমদানির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫৩ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন আমদানির পর আগামী দুই মাসে আরও ৫০ হাজার টন অকটেন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল আমদানিও বাড়ানো হবে।

যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র সংকট ও ভোগান্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ পড়ে। বিশেষ করে অকটেনের ঘাটতি প্রকট হয়ে ওঠে। অনেক ফিলিং স্টেশন তেলশূন্য হয়ে পড়ে, আর যেখানে তেল ছিল সেখানে তৈরি হয় দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন গ্রাহকরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে এবং পরে সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ায়। ফুয়েল পাস চালুসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শুরুতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এপ্রিল মাসে বিপিসির তেল আমদানির চিত্র
এপ্রিল মাসের শুরুতে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি ছিল অনেক বেশি। পাশাপাশি বিপিসির মজুতও চাপের মধ্যে ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাসব্যাপী আমদানি কার্যক্রম চালু রাখে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমদানি করা ১১টি কার্গো যথাসময়ে তেল খালাস সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ৩ এপ্রিল ইউনিপ্যাকের এমটি শ্যান গ্যাং ফা হিয়েন ৩৪ হাজার ৪৩ টন ডিজেল ও ইউনিপ্যাকের আরেকটি জাহাজ এমটি ইউয়ান ঝিং হে ২৭ হাজার ৩৭৪ টন ডিজেল খালাস করে। ৮ এপ্রিল নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ৮ হাজার টন ডিজেল, ভিটল এমটি সেন্ট্রাল স্টার ২৬ হাজার ১ টন অকটেন ও বিএসপি এমটি ইস্টার্ন কুইন ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল খালাস করে।

১৩ এপ্রিল এমটি গ্রেট প্রিন্সেস কার্গো থেকে ১১ হাজার ৯০০ টন জেট ফুয়েল, ১৪ এপ্রিল এমটি লুসিয়া সলিস ৩৪ হাজার ৯৯১ টন ও এমটি টর্ম দামিনি ৩২ হাজার ৯৩৫ টন ডিজেল খালাস করেছে। এছাড়া ১৬ এপ্রিল নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল, ১৭ এপ্রিল এমটি নেইভ সিয়েলো থেকে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন, এমটি অকট্রি কার্গো থেকে ৩৫ হাজার ৩৪৫ টন, ১৮ এপ্রিল এমটি কেইপ বনি জাহাজ থেকে ৩৩ হাজার ৩৯৭ টন ডিজেল এবং ১৯ এপ্রিল এমটি লিয়ান সং হু ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেল খালাস করেছে। খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে ৪১ হাজার ৯০৭ টন ডিজেলবাহী এমটি লিয়ান সং হু ও ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেনবাহী এমটি নেইভ সিয়োলো।

দেশে আগমনের পর্যায়ে রয়েছে ৬০ হাজার টন ডিজেলবাহী দুটি কার্গো জাহাজ (ভিটল ও এমটি হাফনিয়া চিতাহ কার্গো)। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুটি কার্গো ফোর্স ম্যাজিউর (অনির্ধারিত কারণে স্থগিত) হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাকের কার্গোটির ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং থাইল্যান্ডভিত্তিক পিটিএলসিএল কার্গোটির ৮ হাজার টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানির কথা ছিল। সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল ওকিটিউএর ৩০ হাজার টন ডিজেলবাহী কার্গো মে মাসে ডেফার করা হয়েছে।

একাধিক চালানে ডিজেল আমদানি হয়েছে
অকটেন ও জেট ফুয়েলের উল্লেখযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে/কিছু কার্গো খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, আবার কিছু জাহাজ দেশের পথে।তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি চালান স্থগিত (ফোর্স ম্যাজিউর) হয়েছে এবং কিছু আমদানি পিছিয়েছে।

অপরিশোধিত তেলের সংকটে রিফাইনারি বন্ধ
অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রায় ১৮ দিন বন্ধ রয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে গিয়ে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একটি ট্যাংকার জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়।

মে-জুনে বড় পরিকল্পনা
বিপিসি জানিয়েছে— মে মাসে ১ লাখ টন এবং জুনে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হবে/একই সময়ে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের বড় চালান আনা হবে। এপ্রিল শেষে মজুতে থাকা জ্বালানি দিয়ে সীমিত সময় চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা
বিপিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে। নতুন চালানগুলো সময়মতো পৌঁছালে সামনে জ্বালানি সংকট থাকবে না বলেই আশা করছে সংস্থাটি। সংক্ষেপে, সাম্প্রতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে বিপিসি এখন আমদানি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা যায়।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

টাঙ্গাইলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কা লেগে বাইক চালক নি*হত 

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক আবু হানিফা(৪৮) নিহত হয়েছেন। ২মে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মধুপুরের কাকরাইদ স্ট্রিল রাইস সাইলো’র সামনে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
নিহত আবু হানিফা মধুপুর পৌরসভার দামপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কলা চাষি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জলছত্রের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক আবু হানিফার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা এনামুল হক ও অটোরিকশা চালক কদ্দুস আলী জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোটরসাইকেলটি এসে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই চালক মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মরদেহ উদ্বার করা হয়েছে। ট্রাক জব্দ এবং চালক শনাক্তের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন /০৩ মে ২০২৬ /মওম

কুমিল্লা দেবিদ্বারে মোটরসাইকেল থেকে ছি*টকে পড়ে কাভার্ডভ্যানে পি*ষ্ট হয়ে শিশুর মৃ*ত্যু

নাজমুল হাসান:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পিতার মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে কাভার্ডভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (৩ মে) সকাল ৯টার দিকে কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌর এলাকার আজগর আলী মুন্সি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত খালিদ হোসেন (১০) দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের (ভুঁইয়া বাড়ি) স্বপন ভূঁইয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় যাতায়াত করত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খালিদ তার বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে পৌর এলাকার বাবুস সালাম হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিল। পথিমধ্যে আজগর আলী স্কুলের সামনে পৌঁছালে ভাঙাচোরা সড়কের কারণে মোটরসাইকেলটি ঝাঁকুনির শিকার হয়। এতে খালিদ মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায় এবং পেছন থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
দেবিদ্বার বাবুস সালাম মাদরাসার শিক্ষক মো. আবু সাঈদ জানান, খালিদের বাবা সম্প্রতি মাদরাসায় অফিসিয়াল কাজে যোগ দেন এবং খালিদ প্রায়ই তার সঙ্গে আসা-যাওয়া করত। ঘটনার দিনও কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন, ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার সংখ্যা। এলাকাবাসীর দাবি, ইতোমধ্যে এই সড়কে শতাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটির সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

আলোকিত প্রতিদিন /০৩ মে ২০২৬ /মওম

নির্মাণাধীন নবীনগর-আশুগঞ্জ ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক পরিদর্শনে এমপি

মোঃ আনোয়ার হোসেন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-আশুগঞ্জ নির্মানাধীন সড়ক ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষতিগ্রস্থ একাধিক অংশ আজ (২/৫/২৬) পরিদর্শন করেছেন নবীনগরের এমপি এডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা এবং সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এডভোকেট আব্দুল মান্নান এমপি সরেজমিনে নির্মাণাধীন নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ অংশসহ সার্বিক কাজের অগ্রগতির খোজ-খবর নিয়ে দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করতে নির্দেশ দেন।

এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এমপি বলেন-“নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়কটির কাজ দ্রুত করাসহ ভারী বৃষ্টির কারনে সৃষ্ট যে ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে তা সরেজমিনে দেখতে এসেছি।” তিনি আরো বলেন-“এ সড়কটি নির্মান শেষ হলে নবীনগর এবং কুমিল্লা-চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলের মানুষ দ্রুত ভৈরব হয়ে উত্তরবঙ্গ, সিলেট, ঢাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হবে।”

আলোকিত প্রতিদিন /০২ মে ২০২৬ /মওম

বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে নতুন সংগঠন জাতীয় ছাত্রমঞ্চের আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের অধিকার, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার দাবিতে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ছাত্রসংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রমঞ্চ’। সংগঠনটি ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)’-এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। শনিবার (২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম জাতীয় ছাত্রমঞ্চের ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা জানান, ‘প্রজ্ঞা, সংগ্রাম ও সমৃদ্ধি’ এই মূলনীতি ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের অধিকার, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক গণতন্ত্রের আদর্শ বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে কাজ করবে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ। এতে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ শিক্ষার্থীদের সব লড়াই-সংগ্রামের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে সংগঠনটি।

নেতারা বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, অদক্ষতা ও নীতিহীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। এর বিপরীতে জাতীয় ছাত্রমঞ্চ জ্ঞান, যুক্তি, সংস্কৃতি ও সেবাভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

সংগঠনটি ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে– বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস, জেন্ডার-সেফ শিক্ষাঙ্গণ, বেসরকারি শিক্ষায় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সরকারি বৃত্তি, গবেষণা সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ।

ঘোষিত কমিটিতে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জামাল সায়েম, আহ্বায়ক হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি পাটোয়ারী, সদস্য সচিব হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহনাফ আতিফ, প্রধান সংগঠক হিসেবে ঢাকা কলেজের সালমান শরীফ এবং মুখপাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তাহসিন নাভিদ নির্ণয়ের নাম ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জিহাদ আরাফাত ও জহির উদ্দীন বাবর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে সৈয়দ মাশরুর জিসান ও আফিফা আরনাজ এলমু এবং যুগ্ম প্রধান সংগঠক হিসেবে মো. নাঈম হোসেন ও আঞ্জুমান আরা স্বপ্নার নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন /০২ মে ২০২৬ /এমআরএম