আজ সোমবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 47

তাড়াইলে কৃষকের স্বপ্ন পানির নিচে

মো.আনোয়ার হোসাইন জুয়েল:

অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কিশোরগঞ্জের হাওড়া অঞ্চল তাড়াইল উপজেলায় ৪৬৪৪ জন কৃষকের বোরো ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

তাড়াইল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন হাওড় অঞ্চল। গত এক সপ্তাহ অতি ভারী বৃষ্টির কারণে নদী নালা খাল বিল সহ ফসলি জমির উপর পানি উঠে পড়েছে। এতে বোরো ধান তলিয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের বোনা স্বপ্ন। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করায় তারা এখন পথের ভিখারী হয়ে গেছে। কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে না পারার কারণে ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে কৃষকগণ।

জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের আলী ওসমান বলেন আমার ২০০ শতাংশ জমি পানির নিচে একেবারে তলিয়ে গেছে। আমি ঋণ নিয়ে ফসল আবাদ করেছিলাম, ধান বিক্রি করে এসব ঋণ পরিশোধ করার কথা। কিন্তু এখন রক্ত বিক্রি করেও ঋণ পরিশোধ করতে পারব না। আলিম উদ্দিন, মহর উদ্দিন সহ আরো অনেকেই বলছেন, কৃষিই আমাদের একমাত্র পেশা। আমাদের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এখন আমরা কি খাবো, কি পড়বো বুঝতে পারছিনা। ধান বিক্রি করে আমাদের সংসার চলে, সন্তানদের লেখাপড়া করাই। কিন্তু এখন আমাদের সব শেষ। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।

ধলা, জাওয়ার, দামিহা, দিগদাইড় ও তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নে সরে জমিনে দেখা যায়, আবাদকৃত বোরো ধানের অধিকাংশ জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধানের উপরে পানি থৈ থৈ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার বিকাশ রায় বলেন, এবছর বোরো ধানের আবাদি জমির পরিমাণ ১০ হাজার ৪২০ হেক্টর। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ হেক্টর। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করেছি এবং ৪ হাজার ৬৪৪ জন কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকা গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। যদি সরকারের কর্তৃক কোন প্রণোদনা আসে তাহলে যেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকগণ কিছুটা হলেও উপকৃত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

তামাক পণ্যের কর বৃদ্ধি ও বর্ধিত মূল্য নির্ধারণের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন

সাইফুল ইসলাম সবুজ :

বর্তমান অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাক পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি ও বর্ধিত মূল্য নির্ধারণের কার্যকর দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
৪ মে সোমবার বেলা ১২ টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডরপ) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সচেতন নাগরিক ও বিড়ি শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে।
এসময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে সর্বোচ্চ ৩৫.৩শতাংশ। তামাকজনিত রোগের প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে।যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট নির্দেশ করে। তাছাড়া, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে, তামাক খাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।মানববন্ধনে বিড়ি শ্রমিকরা দাবি জানিয়েছেন যে, বাজারে যেখানে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ অন্য সবকিছুর দাম বাড়ছে, সেখানে বিড়ি ও সিগারেটের দাম যেন খুব বেশি না বাড়ে। ফলে, এগুলো সকলের জন্য, বিশেষ করে আমাদের মতো তরুণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সহজলভ্য থাকে। এই কারণে তামাক সেবন কমছে না, বরং বাড়ছে। আমরা নিজেরা এই মারাত্মক কাজটি করতে চাই না। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি হলো, তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো হোক এবং আমাদের মতো বিড়ি শ্রমিকদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা হোক। মানববন্ধন থেকে আসন্ন জাতীয় বাজেটে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডরপএর ,তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা, এডভোকেসি কো অর্ডিনেটর শিলভানা আক্তার, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক,সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, সদস্য জয়নব বিবি,সাংবাদিক বোরহান তালুকদারসহ অন্যান্যরা।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

নোয়াখালী নবগঠিত ছাত্রদলের পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নিজ জেলা নোয়াখালীতে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদলের পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নোয়াখালী। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে আগামীতে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী।এসময় নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করা ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা শহরে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে তারা। এ সময় সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কমিটি বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে । এতে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম অভিযোগ করে বলেন, “নাসির উদ্দিন নাসির তার নিজের পকেট বাহিনী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করেছেন। গত ১৭ বছর যাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়নি, যারা একদিনও জেল খাটেননি, তাদের এই কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।”

নাসির উদ্দিন নাসিরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াসিম আরও বলেন, “নাসির আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, তার বাবা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার। তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে আমাদের প্রাণের দল ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”

সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা আর ঘটেনি। একজন ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতাকে সরাসরি উপজেলার নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যারা উপজেলা পর্যায়ে যোগ্য ছিলেন, তাদের জেলা কমিটিতে নামকাওয়াস্তে পদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ১৭ বছর এই মাইজদী শহরের রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, নির্যাতিত হয়েছি। আজ ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মাথায় আমাদের সরিয়ে দিয়ে নিজের লোক সেট করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এক নেতার এক পদ নীতিতে বিশ্বাস করে কখনো জেলা কমিটিতে ঢুকিনি। কিন্তু আজ আমাদের কর্মীদের আমাদের সমমর্যাদার পদ দিয়ে আমাদের অপমান করা হয়েছে।”

বিক্ষুব্ধ নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের কাছে তারা এই অনিয়মের বিচার চান। যদি অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটিগুলো বাতিল করে ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের মূল্যায়ন করা না হয়, তবে তারা নোয়াখালীতে হরতালসহ যেকোনো কঠোর গণকর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।

পরে বঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা বিক্ষোভ শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও জেলা কমিটির একাধিক নেতা পদত্যাগ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রকি, নোয়াখালী কলেজের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত শুভ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিজভী, তারেক নূর, হৃদয়সহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

পুলিশের পোশাকে আগের শার্ট বহাল থাকবে, প্যান্টে*র রং হবে খাকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: পুলিশের আগের জামা বহাল থাকবে এবং প্যান্টের রং খাকি করা হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা’ সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের অগ্রগতির বিষয় জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কীভাবে হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা ঐতিহ্যবাহী ড্রেস যাতে দেওয়া যায় সেটাও বিবেচনা করেছি। আগের শার্ট যেটা কি বলব, ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারাদেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি। এই হিসেবে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে দিয়েছি। সেটা তাদের পরিধান করতে আর কিছুদিন সময় লাগতে পারে। কারণ এটা প্রস্তুতির বিষয় আছে, কাপড় প্রোডাকশনের বিষয় আছে, জামার বিষয় আছে। এটা এখনো আমরা অফিসিয়ালি ঘোষণা করিনি; তবে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আজ ঘোষণা দিলাম।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নেত্রকোনায় হাওরের পানিতে তলিয়ে গেছে ১১ হাজার ৩শত ২০হেক্টর জমির ধান

শহীদুল ইসলাম রুবেল:

গত এক সপ্তাহে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় প্রায় ১১ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরাঞ্চলে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাঝে চরম হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে।নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোনা জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ জাজার ৫ শত ৪৭ হেক্টর। শেষ পর্যন্ত জেলার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরো বেশ কিছু জমিতে বোরো ধানের আবাদ করে। হাওরের ধান পাকতে শুরু করায় কৃষকরা নানা ধরনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। যখন হাওরে অল্প অল্প ধান কাটা শুরু হয় তখনি জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। এরপর গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদ নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে বেশীর ভাগ হাওর ও বিলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে ফসলী জমির ধান পানিতে তলিয়ে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন হাওর ও বিলে প্রায় ১১হাজার ৩শত ২০হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। হাওর সহ সারা জেলায় ক্ষতিগ্রস্থ জমির পরিমান হচ্ছে ১৮ হাজার ১শত ৭৫ হেক্টর।এ কারণে কৃষকের রঙ্গিন স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে গেছে। চোখের সামনে সারা বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চারদিকে কৃষকের হাহাকার পরিলক্ষিত হচ্ছে। নেত্রকোনায় গত চার দিন যাবত কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছু কিছু বিল ও হাওর এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। আর বৃষ্টি বা ভারী বর্ষণ না হলে নিমজ্জিত ধান কিছুটা উদ্ধার করা যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে। হাওর পাড়ের শত শত কৃষক পরিবারের মাঝে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। যতটুকু ধান পাওয়া গেছে, সেই ধানের দামও পাচ্ছে না কৃষক। এখন প্রতিমন ধান বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ৬ শত টাকা থেকে ৭ শত টাকা দরে। পানিতে নিমজ্জিত ধান হাঁসের খাবারে পরিণত হচ্ছে।নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান,সোমবার সকাল পর্যন্ত উবদাখালী নদীর পানি ০.৫০ সেঃমিঃ, কংশ নদীর পানি ০.৬৭ সেঃমিঃ ও ধনু নদীর পানি ০.০৮ সেঃ মিঃ বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, যদি আর কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তা হলে হাওরের বাকি ধান এক সপ্তাহের মধ্যেই কাটা শেষ হবে। কারণ হিসাবে বলেন, জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেষ্টার মেশিন ধান কাটতে পারছে না। ধান কাটা শ্রমিকরাই কাঁচি দিয়ে ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানেই সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই কৃষকরা ভিজা ধান শুকানোর জন্য ছুটছেন।
এদিকে হাওর এলাকার মেন্দিপুর গ্রামের
কৃষক আরিফ তালুকদার জানান, পানির নিচে পাকা ও আধাপাকা ধান আছে তা কাটানোর জন্য শ্রমিকদের প্রতি কাটায় ১৮শত টাকা দিয়ে হয় এছাড়াও ধান কাটার পড়ে তা নৌকা দিয়ে বাড়ি আনার জন্য আরো ১ হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে করে প্রতি ১ কাটা জমির ধান কারতে ২ হাজার ৮শত টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ঋণ করে ধান চাষ করা কৃষকের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন এত টাকা খরচ করে ধান কাটার টাকা তাদের হাতে নেই। বছরের একমাত্র ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নেত্রকোনার কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

যশোরে পাট গাছের চারায় পোকার উপদ্রব, কৃষকের দুঃচিন্তা

রুহুল আমিন,যশোর:

যশোরের দিগন্তজোড়া মাঠে এবার পাটের সমারোহ থাকলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। একদিকে গত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ আবাদ, অন্যদিকে ‘বিছা পোকা’ ও ‘আঁচা পোকা’র আক্রমণ। সোনালি আঁশের স্বপ্ন বাঁচাতে তপ্ত দুপুরেও কীটনাশক হাতে মাঠেই সময় কাটছে চাষিদের।
চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় মোট ২৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার কেশবপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, শার্শায় ৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর, মণিরামপুরে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর, চৌগাছায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর, সদরে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর এবং অভয়নগরে ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যশোরে পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, আর আবাদ হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার ৫০ হেক্টরের কাছাকাছি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বছর আবাদ হয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার হেক্টরের উপরে।

সরেজমিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গোপালপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আফজাল হোসেন পাটক্ষেতে বিষ স্প্রে করছেন। ভরদুপুরে পাটগাছে স্প্রে করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, পাটগাছে পোকা লেগেছে। এখন যদি পাটের চারার ডগা বা মূল খেয়ে ফেলে, তবে পাট ভালো হবে না। পাটগাছে একাধিক ডালপালা হবে, ফলে পাটের আঁশ ছাড়াতে কষ্ট হবে। এতে ফলন ভালো হবে না।

একই মাঠের কৃষক হোসেন আলী বলেন, এ বছর পাটের চারায় পোকা লেগেছে। অতীতে এ মাঠে এমন হয়নি। এতে পাটচাষে খরচ বাড়ছে। তারপরও এখনই স্প্রে না করলে বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে, তাই আগেভাগে পাটে স্প্রে করছি।

যশোর মণিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের কৃষক আলী আকবার জানিয়েছেন, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। জমিতে বপনের পর থেকে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে পাট ঠিকমতো বড় হয়নি। সেই সাথে এখন যোগ হয়েছে পোকার আক্রমণ। অন্য বছরে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ হারে ফলন হয়ে থাকে; এ বছর ৬-৮ মণের বেশি ফলন হবে না। আমরা বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছি, তারপরও পোকার আক্রমণ কমছে না।

কৃষক হাসান খান বলেন, এ বছর অতিরিক্ত রোদের কারণে পাট নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু আমাদের মাঠে না, মাঠের পর মাঠ জমির পাট বড় হয়নি। ছোট পাটগাছে পোকা লাগায় গাছ দ্রুত বাড়ছে না। ফলে এ বছর ফলন কম হবে।

এর মাঝেও কৃষকরা তাদের পাটক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে হঠাৎ বৃষ্টি পাটের জন্য ভালো হয়েছে, সেই সাথে জমিতে আগাছা বেড়েছে। কেশবপুর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের কৃষক মুহিবুর রহমান পাশের মাঠে আটজন শ্রমিক নিয়ে পাটক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। তিনি জানান, পাট এখনও ছোট। ক্ষেতে আগাছা থাকলে পাটের চারা বড় হতে পারবে না। তারপরও এই কচি পাটে লেগেছে পোকা। আগাছা পরিষ্কার করে স্প্রে করবেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ বছর পাটের ফলন ভালো হবে। আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের গ্রোথ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। তবে এ সময় পাটগাছ খুব নরম থাকে। ফলে পাটগাছে পোকা যাতে না লাগতে পারে, তার জন্য কৃষককে বিষ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

কারাগারে বন্দী সাংবাদিকরা প্রত্যেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত আছে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

শহিদুল্লাহ সরকার:

বর্তমানে যে সাংবাদিকরা কারাগারে রয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অন্তবর্তীকালীন সরকার অভিযোগ এনেছে তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

৪ মে দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে সত্যজিৎ রায় চলচিত্র উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় তিনি আরও বলেন,মুলত ফ্যাসিবাদ আমলে যে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের উপর অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাকে সহযোগীতা করার কিছু সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ,আবার অনেক সাংবাদিক স্বাধীন ভাবে সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছেন তাই এই সরকারের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নাই, এই কারণে আইনমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলে সাংবাদিকদের জন্য যেটা ন্যায্য সেটা গ্রহণ করবো তবে আইনের বাইরে কারো কোন ক্ষতি হতে দেবো না বলে তিনি জানান, পরে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (জবিসাস) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর কামরুল আহসানসহ আরো অনেকে।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

গণমাধ্যম দিবসে সিআরএর আলোচনা সভা

মোঃ জহির উদ্দিন বাবর :

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। রবার (৩ মে) দুপুরে নগরীর চট্টগ্রাম শিশু একাডেমী হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিআরএর সভাপতি সোহাগ আরেফিনের সভাপতিত্বে এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক শাহীন-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের উপদেষ্টা সম্পাদক আয়ান শর্মা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খোকন ও সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম অপরিহার্য। তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিআরএর সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুবেল, অর্থ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রমিজ, সহ দপ্তর সম্পাদক জহির উদ্দীন বাবর, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, আপ্যায়ন সম্পাদক সাফায়েত মোরশেদ, সম্পাদক রিদোয়ান হৃদয় এবং সদস্যবৃন্দ—মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ রিয়াজ উদ্দীন, রতন বড়ুয়া ও শাহেদুর রহমান মোর্শেদ।

আলোচনা সভাটি সাংবাদিকদের পেশাগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

আশুলিয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অ*ভিযান ৩ প্রতিষ্ঠানকে জ*রিমা*না

খোরশেদ আলম:

ঢাকার আশুলিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুসকা তৈরি এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রবিবার ০৩ মে বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার আদর্শ সুপার মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ অভিযানে পরিচালনা করেন ঢাকার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান। অভিযানে আদর্শ সুপার মার্কেটের দুইটি মুদি দোকান-মক্কা-মদিনা এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং মেসার্স মায়ের দোয়া বাণিজ্যালয়কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুসকা তৈরি এবং ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার দায়ে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

ঢাকার জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসানুজ্জামান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ সতর্ক করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে সাভার উপজেলা প্রশাসন ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়। এ অভিযান জনস্বার্থে নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন /০৩ মে ২০২৬ /মওম

দৌলতপুর থানার ওসি ও এসআই’র বিরুদ্ধে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ

মিজানুর রহমান খান কুদরত:

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কোমর উদ্দিন ও এসআই হাবিবুল্লাহ বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড, জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ এবং অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার টেপরি গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মিলনকে গত ৫ এপ্রিল দুপুরে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই এসআই হাবিবুল্লা পুলিশের গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই চট্টগ্রাম থেকে আসা রিংকু চৌধুরী নামে এক নারী উপস্থিত ছিলেন, যিনি ২৪ লাখ টাকার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর মেয়ে মনি রহমান অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তার বাবাকে ২৪ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়। স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি কক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে জোরপূর্বক একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যেখানে নির্দিষ্ট তারিখে থানায় হাজির হওয়ার কথা বলে ছিল।

পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে থানায় গেলে তিনি জানতে পারেন, তার কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ওই স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, থানার ওসি তার বাবার কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আকাশ রহমান সুজন তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে অশোভন আচরণ ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।দৌলতপুর থানার এসআই হাবিবুল্লার সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: কোমর উদ্দিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ন মিথ্য বানোয়াট।

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম