রুহুল আমিন,যশোর:
যশোরের দিগন্তজোড়া মাঠে এবার পাটের সমারোহ থাকলেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। একদিকে গত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ আবাদ, অন্যদিকে ‘বিছা পোকা’ ও ‘আঁচা পোকা’র আক্রমণ। সোনালি আঁশের স্বপ্ন বাঁচাতে তপ্ত দুপুরেও কীটনাশক হাতে মাঠেই সময় কাটছে চাষিদের।
চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় মোট ২৫ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার কেশবপুর উপজেলায় ৬ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, শার্শায় ৪ হাজার ৯৭০ হেক্টর, মণিরামপুরে ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, ঝিকরগাছায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর, চৌগাছায় ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর, সদরে ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর এবং অভয়নগরে ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যশোরে পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, আর আবাদ হয়েছিল প্রায় ২৫ হাজার ৫০ হেক্টরের কাছাকাছি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বছর আবাদ হয়েছিল প্রায় ২৬ হাজার হেক্টরের উপরে।
সরেজমিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের গোপালপুর মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আফজাল হোসেন পাটক্ষেতে বিষ স্প্রে করছেন। ভরদুপুরে পাটগাছে স্প্রে করার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, পাটগাছে পোকা লেগেছে। এখন যদি পাটের চারার ডগা বা মূল খেয়ে ফেলে, তবে পাট ভালো হবে না। পাটগাছে একাধিক ডালপালা হবে, ফলে পাটের আঁশ ছাড়াতে কষ্ট হবে। এতে ফলন ভালো হবে না।
একই মাঠের কৃষক হোসেন আলী বলেন, এ বছর পাটের চারায় পোকা লেগেছে। অতীতে এ মাঠে এমন হয়নি। এতে পাটচাষে খরচ বাড়ছে। তারপরও এখনই স্প্রে না করলে বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে, তাই আগেভাগে পাটে স্প্রে করছি।
যশোর মণিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের কৃষক আলী আকবার জানিয়েছেন, তিনি এ বছর এক বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। জমিতে বপনের পর থেকে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে পাট ঠিকমতো বড় হয়নি। সেই সাথে এখন যোগ হয়েছে পোকার আক্রমণ। অন্য বছরে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মণ হারে ফলন হয়ে থাকে; এ বছর ৬-৮ মণের বেশি ফলন হবে না। আমরা বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছি, তারপরও পোকার আক্রমণ কমছে না।
কৃষক হাসান খান বলেন, এ বছর অতিরিক্ত রোদের কারণে পাট নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু আমাদের মাঠে না, মাঠের পর মাঠ জমির পাট বড় হয়নি। ছোট পাটগাছে পোকা লাগায় গাছ দ্রুত বাড়ছে না। ফলে এ বছর ফলন কম হবে।
এর মাঝেও কৃষকরা তাদের পাটক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে হঠাৎ বৃষ্টি পাটের জন্য ভালো হয়েছে, সেই সাথে জমিতে আগাছা বেড়েছে। কেশবপুর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের কৃষক মুহিবুর রহমান পাশের মাঠে আটজন শ্রমিক নিয়ে পাটক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। তিনি জানান, পাট এখনও ছোট। ক্ষেতে আগাছা থাকলে পাটের চারা বড় হতে পারবে না। তারপরও এই কচি পাটে লেগেছে পোকা। আগাছা পরিষ্কার করে স্প্রে করবেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ বছর পাটের ফলন ভালো হবে। আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের গ্রোথ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। তবে এ সময় পাটগাছ খুব নরম থাকে। ফলে পাটগাছে পোকা যাতে না লাগতে পারে, তার জন্য কৃষককে বিষ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
আলোকিত প্রতিদিন /০৪ মে ২০২৬ /মওম

