আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2604

পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাস বৈষম্য বাড়াবে: ছাত্রফ্রন্ট

:: প্রতিনিধি, ঢাবি::
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোতে পর্যাপ্ত আয়োজন ছাড়া অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থায় বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মনে করছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
অনলাইনে ক্লাস না নিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক ব্রিগেড গঠনের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
রোববার ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স একটি যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কথা আমরা সবাই জানি। একই সাথে সকলেরই অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইস আছে এমন ভাবাটা বাতুলতা এবং এই করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের উপরে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছু নয়।দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহৎ একটি অংশ এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে, এটা ভাবা কোনভাবেই উচিত নয় যে শুধুমাত্র সামর্থ্যবানদের সন্তানেরাই এখন এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করছে। তাই আমরা মনে করি উপযুক্ত আয়োজন, যেমন সকলের জন্য ডিভাইসের আয়োজন নিশ্চিত করা, ইন্টারনেট সুবিধাকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে করা, সকল অঞ্চলে নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা এবং ক্লাসকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান বৈষম্যকে আরো বেশি প্রকট করবে।”
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালরে এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই বলা আছে, এটা একটা অব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। অথচ আমরা দেখছি বছর বছর এই বিশবিদ্যালয়গুলো শত শত কোটি টাকা মুনাফা করেছে, লাগামছাড়া টিউশন ফি নিয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। নামে-বেনামে ফি আরোপ করেছে শিক্ষার্থীদের ওপর। এই সম্পর্কিত কোনো নীতিমালাও প্রণীত হয়নি এখনও। এই দুর্যোগে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের এক সেমিস্টারের ফি মওকুফ করা উচিত।”

বাড়ি-দোকান ভাড়া প্রসঙ্গে দরকার সরকারি নির্দেশনা

:: তুষার আহসান ::
কোভিড- ১৯ মহামারীর এই সঙ্কটকালে সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় আগামী দুই মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ এই দুই মাস কোনো ব্যাংক কোনো ঋণের সুদ আদায় করতে পারবে না। যে সুদ হবে তা হিসাব করে আলাদা রাখতে হবে। কীভাবে-কবে পরিশোধ করতে হবে, তা পরে জানানো হবে। আজ রোববার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ এখনো বাড়িভাড়া, দোকানভাড়া প্রসঙ্গে নেই কোন উদ্যোগ, নেই নির্দেশনা; আছে শুধুই অনুরোধ।
করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়ায় ভয়াবহ মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও রয়েছে সঙ্কটে। আর মধ্যবিত্ত নিম্নমধ্যবিত্তরা রয়েছেন আরও সংকটে। চাকুরিচ্যুতি না ঘটলেও বেসরকারি চাকুরেদের অধিকাংশই পাচ্ছেন না বেতন। অফিস-আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জন আপাতত বন্ধ। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো বাড়িভাড়া দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, করপোরেট ও সরকারি চাকরি ব্যতীত সবাই একপ্রকার বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। অবশ্য প্রণোদনা যে যে খাতে দেওয়া হয়েছে, সেসব চাকুরেদের হিসাবটা একটু আলাদা। যদিও ওসব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকরাও এখনো তাদের বেতন পাননি বা পাচ্ছেন না বলে আমরা জেনেছি। এদিকে নানা ছুঁতোই মার্চের বেতনের খণ্ডাংশ যে সব প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের দেওয়া হয়েছে বা যারা পেয়েছেন, তা দিয়ে সংসারে খাবারের টাকাই হয়নি অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে বাসা ভাড়ায় রয়েছে বাড়ির মালিকদের চাপ। অথচ বাড়িওয়ালা ও বিজনেস মল ও দোকানঘর মালিকদের অধিকাংশের কথা ছিল- কড়া সুদে লোন নিয়ে বাড়ি করেছি, শোধ দেবো কীভাবে? এখন তো তাদের একটা হিল্লে হলো। তবে এখনও কেন কোন নির্দেশনা নেই?
অবশ্য অনেক বাড়িওয়ালা বাসা ও দোকানভাড়ার ওপরেই চলেন। এটাও ঠিক। তবে যেভাবেই চলুন না কেন, এমন একটি সংকটমুহূর্তে ভাড়ায় যদি ক্যাটাগরি ঠিক করে দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হত, তবে বিপাকে পড়তে হত না ভাড়াটিয়াদের। যেমন: যাদের ব্যাংক লোন আছে, তাদের যেহেতু সুদ বন্ধ রাখা হয়েছে, তাদের ভাড়া এক তৃয়াংশ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে নিতে বলা যেতে পারে। যাদের লোন নেই, তারা অর্ধেক ভাড়া নিতে পারবে ইত্যাদি। এটা মোটা দাগে বললাম। তার মানে ভেবে চিন্তে অনেক কিছুই করা সম্ভব।
শিক্ষার্থীরা অনেকেই তাদের বাড়িতে চলে গেছে। তাদেরকে ফোনে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে- বাসা ভাড়া পরিশোধের জন্য। অনেক বাড়িওয়ালারা ইতোমধ্যে ভাড়া মওকুফ করেছেন। এটা প্রশংসনীয়। অন্যরাও মানবিক হবেন- এটাই কাম্য। তবে প্রয়োজন সরকারি নির্দেশনা। অনুরোধে কোন কাজ হতে আমরা কখনোই দেখিনি। তাই কোন অনুরোধ নয়।

সব ঋণের সুদ আদায় দুই মাস বন্ধ

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
কোভিড- ১৯ মহামারীর এই সঙ্কটকালে সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় আগামী দুই মাস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ এই দুই মাস কোনো ব্যাংক কোনো ঋণের সুদ আদায় করতে পারবে না। যে সুদ হবে তা হিসাব করে আলাদা রাখতে হবে। কীভাবে-কবে পরিশোধ করতে হবে, তা পরে জানানো হবে।
রোববার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের এই নির্দেশনা পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্ব স্থবির হয়ে পড়ায় ভয়াবহ মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও রয়েছে সঙ্কটে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, তাদের ব্যাংক ঋণের সুদের বোঝা লাঘবে সরকার পদক্ষেপ নেবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় দুই মাস জন্য বন্ধ রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকের সকল প্রকার ঋণ/বিনিয়োগের ওপর ১ এপ্রিল ২০২০ তারিখ হতে ৩১ মে ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সময়ে আরোপিত/আরোপযোগ্য সুদ/মুনাফা ‘সুদবিহীন ব্লকড হিসাবে’ স্থানান্তর করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্লকড হিসাবে স্থানান্তরিত সুদ/মুনাফা সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার নিকট হতে আদায় করা যাবে না এবং এরূপ সুদ/মুনাফা ব্যাংকের আয়খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। কোনো ব্যাংক ইতোমধ্যে সুদ/মুনাফা আয়খাতে স্থানান্তর করা হয়ে থাকলে তা রিভার্স এন্ট্রির মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে।’

চিংড়ি বাজারেও অচলাবস্থার ধাক্কা

:: আলোকিত প্রতিবেদন ::
বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে দেশের চিংড়ি বাজারে অচলাবস্থার ধাক্কা চরমে পৌঁছেছে। রফতানি বাতিল হয়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও নেমেছে এর দাম। ফলে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বব্যাপী চলমান লকডাউন এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করবে বলে বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশে মোট উৎপাদিত চিংড়ির অধিকাংশই চাষ হয় দক্ষিণের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। এর বাইরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় লোনাপানি ধরে রেখে স্বল্প পরিমাণে বাগদা ও গলদা চিংড়ির চাষ হয়ে থাকে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে চিংড়ি উৎপাদনে ক্রমাগত প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে বাংলাদেশ। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রায় এক লাখ ২২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন চিংড়ি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। বাকি চিংড়িতে মিটেছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫২০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু তা এখন শুধুই স্বপ্ন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সর্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন বলেন, চিংড়ি দামি ও সৌখিন খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে দেশে দেশে যে মন্দা ও অবরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই পণ্যের চাহিদা গেছে কমে। ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারাও গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত ২৯০টি ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন, যাতে ‘৪৬০ কোটি টাকা লোকসান হবে’ বলে ব্যবসায়ীরা হিসাব করে দেখেছেন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের তথ্যে এবার থাকছে বিস্তারিত…
বাগেরহাটের চিংড়ি চাষী সমিতি ও বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে, কৃষক পর্যায়ে গলদা চিংড়ির উৎপাদন খরচ পড়ছে গড়ে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা । বাগদা চিংড়িতে সাড়ে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি। প্রতিবছর মাঘ মাসের প্রথম দিকে চাষীরা তাদের ঘের প্রস্তুত করে মাঘী পূর্ণিমা তিথি থেকে বাগদার রেণু পোনা ছাড়া শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে জেলার ঘের মালিকরা তাদের ঘেরে রেণু ছাড়তে থাকেন। আর ধরা শুরু হয় বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেদ কনক বলেন, জেলায় ৪৯ হাজার ১৪৪ হেক্টর জমি জুড়ে ৭৮ হাজার ১০০টি বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এবার মওসুমের শুরুতে চিংড়ির দামটা বেশ ভালো ছিল। করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার আগে গলদা প্রতি কেজি ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। আর বাগদা বিক্রি হয়েছে ৭০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা কেজি। করোনাভাইরাসের প্রভাবে চিংড়ি মাছের দামটা পড়ে গেছে। বাগদা সাড়ে ৪০০ টাকা এবং গলদা ৫০০ টাকা থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু ছাইদ বলেন, তার জেলায় ৬৬ হাজার চিংড়ির ঘের রয়েছে। এর মধ্যে গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে ৪১ হাজার, ২৫ হাজার রয়েছে বাগদা চিংড়ির ঘের। দুটি মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, জেলায় চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৭৫ হাজার চাষী। এ বছর ১১ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে গলদা চিংড়ি এবং ৬৬ হাজার ৭৯৭ হেক্টর জমিতে বাগদা চাষ হয়েছে। জেলায় মোট ঘেরের সংখ্যা ৫৪ হাজার ২৭৯টি।
চিংড়ি চাষ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশির দশকে বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় চিংড়ি চাষ শুরু হয়। কালের পরিক্রমায় এখন দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে চিংড়ি চাষের সাথে জড়িত।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৫ লক্ষ টাকা দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

:: সংবাদদাতা, খুবি ::
করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)। এক পত্রের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ১ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিলিয়ে যৌথভাবে মোট ১৫ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিচ্ছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

দায় কার?

:: তুষার আহসান ::
দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলো, দল বেঁধে সব শ্রেণির মানুষ রাজধানী ছাড়লো। সে যেন এক জনস্রোত। সাধারণ ছুটি বাড়লো কি বাড়লো না, সেটাকে মাথায় না রেখেই ৩ এপ্রিল রাত থেকেই ঘটে গেল ফের ঘটনা। পোশাক কারখানা বন্ধ রাখা বা থাকার ঘোষণা না আসায় ফিরতে শুরু করলো পোশাক শ্রমিকরা। ফের জনস্রোত। তারা আসলো, বন্ধ ঘোষণা করার উদ্যোগ নিলেন বিজিএমইএ। ফের ঢাকা ফাঁকা হতে শুরু হলো, দেখা গেল জনস্রোত। আবার গত দুই দিনে সকল বাধা অতিক্রম করেই ফিরছেন যারা তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টস কর্মী। এতে কী দাঁড়ালো? পথের দীর্ঘ স্রোতে দীর্ঘক্ষণ পাশাপাশি এসে কারখানায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হলে তা যদি করোনা মোকাবেলা করা যায় তো ঠিক আছে, নইলে এই দায় কার?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গার্মেন্টস খুলে দেওয়া আত্মঘাতী, বিফলে যেতে পারে সব উদ্যোগ। সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও রুহিন হোসেন প্রিন্সের মতে, করোনা মহামারির মধ্যে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি তা সমগ্র দেশের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের যাবতীয় উদ্যোগ বিফলে যেতে পারে বলেও তাদের মত।
সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদসহ সবার বক্তব্য উপেক্ষা করে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হলো। সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে- গার্মেন্টস খোলা মানে কিন্তু শুধু গার্মেন্টস খোলা না। এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও খুলে যাওয়া। যেমন- যাতায়াত ব্যবস্থা সচল হলো, এই সুযোগে বাবু বাজারের পাইকারি মার্কেট খুলে গেল, দোকান মালিক সমিতি দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে নিল। ফলে সরকার এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাসায় থেকে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশলকে ঝুঁকিতে ফেলে দিল।’
লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘এই দুর্যোগের সময় পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা নষ্ট পুঁজিবাদী ব্যবস্থার চরম দৃষ্টান্ত, যেখানে জীবনের কোনো মূল্য নেই, শুধু মুনাফাটাই বড় বিষয়। যদি সেখানে বড় ধরনের কোনো সংক্রমণ হয়, তাহলে শুধু শ্রমিকরা নয়, সমাজের অন্যান্যরাও আক্রান্ত হবে। যেখানে গার্মেন্টস শিল্প এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে এটা জেনেও কারাখানা চালু করা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন বিরোধী।’
দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা যখন বাড়ছে, বিশেষজ্ঞরা যখন মে মাসকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন, ঠিক সেই সময়ে পোশাক কারখানা খুলে দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এমনকি নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছড়িয়ে যাওয়া চরম ঝুঁকির নারায়ণগঞ্জেও ২৩২টি কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনা সংকটেও বনবিভাগের বিশেষ অভিযান, মিললো ডাম্পারভর্তি কাঠ

:: আবু সায়েম,কক্সবাজার::
করোনা পরিস্থিতিতেও সতর্ক রয়েছে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগ। চলছে অভিযান। সম্প্রতি অভিযান থেকে মিলেছে বনবিভাগ থেকে চুরিকৃত ২৭০ ঘনফুট কাঠ, জ্বালানি কাঠভর্তি ডাম্পার, অবৈধভাবে উত্তোলিত বালিসহ একটি ট্রাক এবং একটি ডাম্পার। জব্দ করা হয়েছে এর সবই ।
পহেলা মে উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক সোহেল রানা এবং সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এমদাদুল হকের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ইদগাঁও বাজার, খুটাখালী এলাকা এবং কালিরছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭০ ঘনফুট সরকারি কাঠ, বালিভর্তি ট্রাক, কাঠভর্তি ডাম্পার উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে গেলে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উত্তর বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন তিনটি পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে সরকারি চুরিকৃত ২৭০ ঘনফুট সেগুন ও গর্জন কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, উত্তর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন পাহাড় থেকে মাটি কাটা এবং অবৈধভাবে গাছ কেটে আসছিলো একটি অসাধু চক্র।কিন্তু আমরা বনবিভাগ সজাগ রয়েছি। করোনা সংকট পরিস্থিতিতে ও আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ফলশ্রুতিতে আমরা পহেলা মে আমাদের বনবিভাগের আওতাধীন তিনটি পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৭০ ঘনফুট সরকারী কাঠ, বালিভর্তি ট্রাক এবং জ্বালানি কাঠ ভর্তি ডাম্পার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। বন বিভাগকে স্বচ্ছএবং অসাধু চক্রের হাত থেকে সরকারি কাঠ এবং পাহাড় কাটা রক্ষা করতে বিশেষ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিদ্যুতায়িত একজনের মৃত্যু

::প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা::
কলারোয়ায় জমিতে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে মো. কামরুল গাজী (৪৫) নামের এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি ৭নং চন্দনপুর ইউনিয়েনের বয়ারডাঙ্গা গ্রামের মৃত আজিজুর রহমান গাজীর ছেলে।
বয়ারডাঙ্গা বটতলা মোড়ের মুদি দোকানদার মো. আব্দুল মাজেদ সরদার জানান, কামরুল ময়রা নিজ দোকানের পাশে মেটে আলুর বীজবপন করার জন্য মাটি তৈরি করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত ঝুড়ির আঘাতে বিদ্যুৎয়ের তার ছিঁড়ে তার শরীরে জড়িয়ে পড়লে ঘটনা স্থলেই মারা যান। পরে পরিবারে সদস্যরা খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বয়ারডাংগা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।

বসুন্ধরা করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন কাল

::নিজস্ব প্রতিবেদক ::
করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্তের চিকিৎসায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দেশের বৃহত্তম অস্থায়ী হাসপাতালটি নির্মাণ শেষে এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। এরপরই চালু হবে চিকিৎসা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে পরিচালক পদায়ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৪ মে (সোমবার) হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে। সেই অনুযায়ী হাসপাতালটিতে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতা ও সরঞ্জামাদি পরীক্ষার কাজ। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম বারে বারে চালিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শেষবারের মতো দেখে নেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতের সংযোগগুলো।
শনিবার (২ মে) আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম এম জসীম উদ্দিন নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।বসুন্ধরা করোনা হাসপাতাল। ছবি: জিএম মুজিবুরকোভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে ততদিন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের রূপ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
জসীম উদ্দিন বলেন, পূর্ণাঙ্গ ফার্নিচার, সব ধরনের সরঞ্জাম বসানো হয়ে গেছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) বাদে অন্যান্য সব প্রস্তুত। আইসিইউ হতে কয়েকটা দিন সময় লাগবে। তবে এখন যেকোনো সময় রোগী এলে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। বলা যায় হাসপাতাল প্রস্তুত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ৪ মে উদ্বোধনের কথা বলা হয়েছে। সেই হিসেবে রোগী আসতে দুই-একদিন বাকি আছে। এজন্য শেষবারের মতো সবকিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন চলছে মূলত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। এখানে বড় একটি এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম। উদ্বোধনের তারিখকে সামনে রেখে আমরা একেবারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে, লাইনগুলো টেস্ট করে, এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ভালোভাবে মনিটরিং করে দিতে চাচ্ছি। সেই কাজগুলোই চলছে।বসুন্ধরা করোনা হাসপাতাল। ছবি: জিএম মুজিবুরহাসপাতালটি ৪ তারিখেই হস্তান্তর হবে কিনা এমন প্রশ্নে আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কনফারমেশন এখনো পাইনি। আজ ২ তারিখ। যেহেতু এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি, মনে হয় দুই-একদিন দেরিও হতে পারে।
এদিকে আইসিসিবিতে নির্মিত হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসক ও নার্সের চেম্বারগুলোর কাজ শেষ। বেডগুলোতে বেডসিট, ডাস্টবিন, স্যালাইন হ্যাঙ্গারসহ আনুষাঙ্গিক সার্পোট বসানো হয়েছে। টয়লেট নির্মাণও শেষ। হাসপাতালের এসি, চেয়ারসহ অন্যান্য কাজের ফিনিশিং শেষ। চালিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালে মোট আইসোলেশন বেড হবে দুই হাজার ১৩টি। ট্রেড সেন্টারে ছয় ক্লাস্টারে এক হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে আরও পাঁচশ ২৫টি বেড। এর বাইরে চার নম্বর হলে হবে ৭১ বেডের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র।
উল্লেখ্য, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে দুই হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

তৈরি হচ্ছে জিদানের দল

:: ক্রীড়া ডেস্ক ::
করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে ইতালির পর ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ স্পেন। করোনার প্রকোপ সামান্য কমতেই প্রাণ পেতে শুরু করেছে সেখানকার জীবনে। লকডাউন আস্তে-ধীরে তুলে নিচ্ছে সরকার। স্থগিত থাকা লা লিগার বাকিটুকু শুরু করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দলগুলো। সরকারের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে সাজানো হচ্ছে ভালদেবেবাসকে। এই অনুশীলন কেন্দ্রেই আগামী ১১ মে থেকে শুরু হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন। তবে জিনেদিন জিদানের দল শুরুতে অবশ্যই আলাদা আলাদাভাবে করবে ব্যক্তিগত অনুশীলন।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, করোনার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে খুব কমসংখ্যক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফেরই প্রথমত ভালদেবেবাসে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। কড়াকড়িভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনেই হবে অনুশীলন।
স্পেনের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিধি অনুযায়ী কোনও খেলোয়াড়ের শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা না গেলে, অথবা কেউ যদি আক্রান্তের সংস্পর্শে না যান, তাদের করোনা পরীক্ষা করার দরকার নেই। তবে লা লিগা খুব কড়াকড়ি নিয়ম করেছে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করে কেউ খেলায় ফিরতে পারবে না। আর আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে পরীক্ষা। খেলোয়াড়, কোচ এবং কোচিং স্টাফের সবাইকে এই পরীক্ষা দিতে হবে।
বার্সেলোনার চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে লা লিগায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জিনেদিন জিদানের দল। চ্যাম্পিয়নস লিগেও টিকে আছে তারা এখনও, যদিও শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ২-১ গোলে হেরেছে নিজেদের মাঠ বার্নাব্যুতে।
লা লিগার আগেই আর্সেনাল-টটেনহামসহ কয়েকটি ক্লাবের খেলোয়াড়েরা ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন সেসন শুরু করেছে। জার্মানির বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলো ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে অনুশীলন করে আসছে সেই ৬ এপ্রিল থেকে। এর মধ্যে শুক্রবার এফসি কোলনের তিনজন করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন। তারপরও অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ক্লাবটি।