:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
আগে বহুবার বলা হয়েছে, ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের একমাত্র ৫০ ওভারের আসর প্রিমিয়ার লিগই দেশের অন্তত ১০০ থেকে সোয়াশো ক্রিকেটারের ‘রুটি রুজির’ মূল ও একমাত্র উৎস। এই লিগ খেলে যে পারিশ্রমিক পান সেটাই তাদের সারা বছরের আয় এবং তা দিয়েই তাদের নিজ পরিবারের ভরন-পোষণের ব্যবস্থা হয়।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর পর এক ম্যাচ হয়েই বন্ধ হয়ে গেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটারদের হাত টানাটানি। শতাধিক ক্রিকেটার এখন পড়ে গেছেন চরম অর্থকষ্টে।
যদিও বিসিবি এরমধ্যে ৯৬ ক্রিকেটারকে এককালিন ৩০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে; কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ খেলেতো এর চেয়ে অনেক বড় অংকের টাকা মেলে ক্রিকেটারদের।
প্রিমিয়ার লিগ ঠিকমত চললে এতদিনের সুপার লিগে গড়াতো, তাতে করে ক্রিকেটাররা গড়ে ৬০ থেকে ৭৫ ভাগ পারিশ্রমিকও পেয়ে যেতেন। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই মেলেনি। কিছু ক্রিকেটার অবশ্য দল বদলের আগে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ অগ্রিম পারিশ্রমিক পেয়েছেন। যদিও বড় একটি অংশ কোন টাকাই পায়নি।
সব ক্লাবের পেমেন্ট সিস্টেমও সমান ছিল না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোট ১২ ক্লাবের মধ্যে ৪ থেকে ৫ ক্লাব সে অর্থে কোন অগ্রিম পেমেন্টই করেনি। যে কারণে ওই দলগুলোর ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত একট টাকাও পাননি।
৬ থেকে ৭ টি ক্লাব দলবদল শুরুর আগে নিয়মমেনে অগ্রিম পেমেন্ট দিয়েছে। সে তালিকায় আবাহনী, প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম দোলেশ্বর, গাজী গ্রুপ, মোহামেডান ও খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সংঘ আছে। এ ৬টি ক্লাব দল বদলের আগে নিয়ম মেনে গড়-পড়তা ২০ থেকে ৩০ ভাগ অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছে।
কারো কারো ক্ষেত্রে ওই অগ্রিম অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ ৪০ শতাংশেরও বেশি। ওই দলগুলোর বাইরে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ নতুন দলে আসা ক্রিকেটারদের অগ্রিম পারিশ্রমিক দিয়েছে; কিন্তু যারা দলে থেকে গেছেন, তাদের কোনোই পেমেন্ট দেয়নি।
ক্রিকেটারদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ জামাল, শাইনপুকুর আর ওল্ডডিওএইচএস- এই চার দলের ক্রিকেটাররা এখন পর্যন্ত কিছুই পাননি।
ব্রাদার্সের ক্রিকেটারদের মধ্যে একমাত্র জুনায়েদ সিদ্দিকীকে তার মোট পারিশ্রমিকের তিন ভাগের একভাগ অগ্রিম দেয়া হয়েছে। বাকিরা এক টাকাও পাননি। একইভাবে শেখ জামালের ক্রিকেটারদের হাতেও এখন পর্যন্ত একটি টাকাও ওঠেনি।
পেমেন্ট না পাওয়া নিয়ে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ব্রাদার্সের সিনিয়র ক্রিকেটার তুষার ইমরান জানান, ‘আমার জানামতে, আমরা যারা রেজিস্টার্ড ক্রিকেটার আছি, তাদের মধ্যে শুধু দলবদলের আগে জুনায়েদ সিদ্দিকী একটা পেমেন্ট পেয়েছেন। এছাড়া আর কাউকে একটি টাকাও দেয়া হয়নি।’
একই কথা বলেন শেখ জামাল ধানমন্ডির অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানও। আজ বিকেলে জাগো নিউজকে সোহান জানিয়েছেন, ‘আমরা একজন ক্রিকেটারও এখন পর্যন্ত একটি পয়সাও পাইনি। বলা হয়েছিল, লিগ শুরুর পর এক পার্ট পেমেন্ট দেয়া হবে; কিন্তু এক ম্যাচে হয়ে লিগ বন্ধ হবার পর আর কোন টাকা পয়সা পাইনি। তবে আমাদের অফিসিয়ালসরা জানিয়েছেন, লিগ আবার শুরু হলেই আমাদের পারিশ্রমিকের একটা অংশ দিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু লিগ কবে শুরু হবে কে জানে! এদিকে সামনে ঈদ। আমি একা নই, ক্রিকেটারদের হাত একদমই খালি। কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’
এদিকে করোনায় আচ্ছন্ন চারপাশ। সব কিছু বন্ধ। ফলে লিগ কবে শুরু হবে, কিংবা এ বছর আদৌ হবে কি না? তা নিয়েও রাজ্যের সংশয়। তাতেই তুষার ইমরান আর নুরুল হাসান সোহানের মত প্রায় শ’খানেক ক্রিকেটার ভুগছেন চরম অর্থকষ্টে।
তাদের মনে রাজ্যের হতাশা। তুষার ইমরান তো আফসোস নিয়ে বলেই ফেলেছেন, ‘যদি লিগ শুরুর পর একটি টাকাও হাতে না পাই, আর এই যদি হয় ওপেন দলবদলের নমুনা, তাহলে তো প্লেয়ার্স বাই চয়েজই ভাল ছিল।’
একটি পয়সা না পাওয়া ক্রিকেটারদের সবার জিজ্ঞাসা, ‘লিগ কবে শুরু হবে, কিংবা আদৌ হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। তাহলে আমাদের কি হবে? আমরাতো লিগ শুরুর প্রহর গুনছি।’
এদিকে সামনে ঈদ, ক্রিকেটাররা তাকিয়ে বোর্ডের দিকে। তাদের আশা, সিসিডিএম আর বিসিবি মিলে ঈদের আগে ক্রিকেটারদের একটা আংশিক পেমেন্টের ব্যবস্থা করলে অন্তত ঈদটা করা যেত।
চরম অর্থকষ্টে ক্লাবের ক্রিকেটাররা
৮ মে থেকে ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা
:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দেশের এয়ারলাইন্সগুলোকে আগামী ৮ মে থেকে অভ্যন্তরীণ (ডমেস্টিক) ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি নিতে বলেছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে, এ বিষয়ে বেবিচক ইতোমধ্যে এয়ারলাইন্সগুলোকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ৭ মে পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ৮ মে থেকে ফ্লাইট চালু হচ্ছে কি না, এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে যদি ফ্লাইট চালু হয় তাহলে এয়ারলাইন্সগুলো কী ধরনের প্রস্তুতি নেবে, তাদের সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা এয়ারপোর্টে প্লেনে কীভাবে যাত্রীদের হ্যান্ডেল করবে, কীভাবে বুকিং নেবে ইত্যাদি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ৮ মে থেকে শুধু অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল করতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে যেসব নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে তা হলো- ফ্লাইট সংখ্যা নিয়মিত থেকে কম হবে। ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেয়া যাবে। প্রতিটি ফ্লাইটের আগে প্লেন ডিসইনফেক্টেড বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রতিটি যাত্রীকে নতুন হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক দিতে হবে। এ ছাড়া বিমানবন্দরগুলোকে দেয়া বেবিচকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তিনটি ফ্লাইট ছাড়ার অনুমতি দিতে হবে।
এদিকে বাংলাদেশে চারটি এয়ারলাইন্স কোম্পানি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে। তবে মার্চ থেকে তিন মাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। ১৫ মে পর্যন্ত সবধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সেক্ষেত্রে যদি ৮ মে থেকে ফ্লাইট চলাচল চালু হয় সেক্ষেত্রে শুধু নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সই ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
এর আগে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ফ্লাইট ওঠানামায় চার দফা নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে ৭ মে পর্যন্ত বেঁধে দেয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল
:: প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ ::
নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে; কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে জেলাটিকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তা এখনও ঠিকমত কার্যকর হচ্ছে না। জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘শনিবার নাগাদ এ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শতভাগ লকডাউন কার্যকরের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।’
মহামারী ঠেকাতে গত ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করে আইএসপিআর। কিন্তু জেলা শহর ও প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে লোকজনের আনাগোনা কম থাকলেও পাড়া-মহল্লায় লকডাউন চলছে ঢিলেঢালাভাবে। তারা ভিড় করে চলাফেরাও করছে। প্রশাসনও তা স্বীকার করছে।
জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘লকডাউন সেভাবে কার্যকর হচ্ছে না। মানুষ সচেতন নয়। নানা অজুহাতে তারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসছেন। মানবিক কারণে আমরা বল প্রয়োগ করতে পারছি না।’
এদিকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শনিবার পর্যন্ত এ জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ জেলায় মৃত্যু হয়েছে নারীসহ ৪৬ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৪২ জন।’
আরও ২৩২ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত
:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::
দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। করোনা প্রতিরোধে শুরু থেকেই মাঠের সম্মুখ যোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ২৩২ সদস্য করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে ৭৪১ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানা কার্যক্রমের জন্য পুলিশ সদস্যদের সরাসরি জনসাধারণ এবং আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে নিজেদের মধ্যেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ২৩২ জন সদস্যের করোনা টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত পুলিশের ৭৪১ জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশেই (ডিএমপি) ডিএমপিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫৬ জন। এছাড়া, বর্তমানে ১৭৪ জন সদস্য আইসোলেশনে রয়েছেন এবং কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১ হাজার ২৫০ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন পুলিশের ৫৭ জন সদস্য।
ছুটি পঞ্চম দফায় বাড়ছে ১৬ মে পর্যন্ত
::নিজস্ব প্রতিবেদক::
করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শনিবার (২ মে) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ছে বলতে পারেন। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি চাওয়া হয়েছে, ১৬ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসেবে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত বাড়িয়ে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই ছুটির সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়াও গণপরিবহন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ছুটির সময় জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রণালয় বিভাগের অধীন দফতর এবং মাঠপর্যায়ের অফিস খোলা রয়েছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।
সর্বনিম্ন করোনা শনাক্ত রাজশাহীতে
:: প্রতিনিধি, রাজশাহী ::
সারাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৯০ জন। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ, যার পরিমাণ ১.৫৩ ভাগ। আর সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। যার পরিমাণ ৮৩.০৭ ভাগ। আজ শনিবার (২ মে) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত দৈনিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ পরিমাণ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ১ মে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, শনাক্ত রোগী ৮৩.০৭ ভাগ ঢাকা বিভাগের, ৪.৬ ভাগ চট্টগ্রাম বিভাগের, ১.৫৭ ভাগ সিলেট বিভাগের, ১.৮০ ভাগ রংপুর বিভাগের, ২.২০ ভাগ খুলনা বিভাগের, ৩.৭১ ময়মনসিংহ বিভাগের, ১.৬৯ ভাগ বরিশাল বিভাগের এবং রাজশাহী বিভাগের ১.৫৩ ভাগ।
অনলাইন কার্যক্রমে ঝুঁকছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
:: ডেস্ক প্রতিদিন ::
করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ ছুটির কারণে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে বেশি যুক্ত হলেও সরকারি বা পাবলিক প্রতিষ্ঠানও অনলাইন ক্লাসে মনোযোগী হচ্ছে।
গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সন্ধান পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সর্বশেষ ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও থাকছে এই ছুটির আওতায়। এদিকে পরিস্থিতি খারাপ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি থাকতে পারে এমনটাই জানান দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগ্রহী হয়ে ওঠে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দু-একটি ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করে। একে একে বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। আর যারা ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যেতে পারছে না তারাও অনলাইনে ভিডিও ক্লাস আপলোড করছে ছুটির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা তাদের কার্যক্রমে যুক্ত হয়। প্রাথমিকভাবে বিদ্যালয়গুলোকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে নির্দেশনা দেয় অধিদফতর। তবে তারা ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে নয়, ক্লাস রেকর্ডিং করে তা প্রচারের ব্যবস্থা নিয়েছে। সংসদ টিভির মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। রেকর্ড করা ভিডিও ক্লাস ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখানে আপ করা হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘ ছুটির কারণে আমাদের ভিন্ন মাত্রায় যেতে হয়েছে। সংসদ টিভির পাশাপাশি অনলাইনে ভিডিও ক্লাস আপলোড দিচ্ছি। ইউটিউবে যাচ্ছে এসব ক্লাস। করোনার এই পরিস্থিতির পরও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রাখা হবে শিক্ষার্থীদের।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ্ বলেন, ‘সংসদ টিভিতে প্রচারের জন্য যেসব ভিডিও ক্লাস করা হয়েছে সেগুলো “ঘরে বসে শিখি” ইউটিউব চ্যানেলে যাচ্ছে। এছাড়া আমরা “ঘরে বসে শিখি” আলাদা পোর্টাল করছি। সেখানে ক্লাসগুলো আপলোড করা হবে। যেকোনও সময় শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এগুলো দেখতে পারবে।’
করোনা পরিস্থিতির কারণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিডিও ক্লাস এবং ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে মনোযোগী হয়। রাজধানীর নামকরা বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নেওয়া। রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ চতুর্থ শ্রেণি থেকে একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নিচ্ছে আগে থেকেই। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু করেছি। তার এক সপ্তাহ পর থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি এবং ২০ এপ্রিল থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস নিচ্ছি। করোনার কারণে ছুটি বেড়ে যাওয়ায় এই ব্যবস্থা নিয়েছি। ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি সব ক্লাস চলবে।’ এক্ষেত্রে কলেজের ক্লাস সবচেয়ে ভালোভাবে হচ্ছে, অংশগ্রহণ খুবই ভালো বলে জানান অধ্যক্ষ।
সরকারি ছুটির পরপরই ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে রাজধানীসহ দেশের ১৫টি ক্যাম্পাসে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির আগেও জরুরি প্রয়োজনে এই প্রতিষ্ঠানটি ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসবি-ক্যামব্রিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এমকে বাশার বলেন, ‘প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ক্যামব্রিয়ানের সব শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের কনটেন্ট প্রস্তুত করা আছে। আমরা সব সময়ই ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের উপযুক্ত অবকাঠামো প্রস্তুত রেখেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটির সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ভার্চ্যুয়াল ক্লাস পরিচালনা করছি। আমাদের কোনও সমস্যা নেই। প্রশিক্ষিত শিক্ষক যেমন রয়েছেন, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও আমরা আগেই থেকেই প্রস্তুত রেখেছি।’
উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ থেকে ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করেছি। ইংরেজি মাধ্যমেও ভার্চ্যুয়াল শুরু করা হয়েছে। করোনার সময় ছুটিতে যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি না হয় সে কারণেই ভার্চ্যুয়াল ক্লাস শুরু করেছি।’
রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, ‘আমরা ছুটি শুরু হওয়ার পর থেকে অনলাইনে ভিডিও ক্লাস দিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা আগে থেকেই এই ব্যবস্থা নিয়েছি। খুব শিগগিরই ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যাবো।’
শুধু প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েই অনলাইন ক্লাস শুরু করা হয়েছে তা নয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আগে থেকেই অনলাইন ক্লাস এবং ই-ভ্যালুয়েশন চালিয়ে আসছিল। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাস পুরোপুরি শুরু করে। গত গত ২৩ মার্চ অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উৎসাহিত করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত ২১ এপ্রিল সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি দিয়ে তথ্য চায় সংস্থাটি। চিঠিতে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে কিনা, কতগুলো বিভাগে নেওয়া হচ্ছে এবং ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কত– এসব বিষয় জানতে চায় ইউজিসি। ইউজিসির প্রতি সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। ইউজিসির বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নতুন একটি গাইড লাইন তৈরি করবে।
ইতোমধ্যে ৬৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস চালাচ্ছে সাতটি।
ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখতে আমরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি গাইডলাইন তৈরি করবো। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে বিষয়েই এই গাইডলাইন তৈরি করা হবে।’
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন দেশের ৫ কোটি ৯০ লাখ শিক্ষার্থীকে ভার্চ্যুয়াল ক্লাসে যুক্ত করা সম্ভব নয়। এছাড়া সরকারি প্রাথমিকে এটি এখনই সম্ভব নয়। তবে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। আর সরাসরি ভার্চ্যুয়াল ক্লাসেও মোট শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ যোগ করা সম্ভব হবে।
১৫ টন চাল কেলেংকারি : পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাত প্রত্যাহার
:: সংবাদদাতা, চকরিয়া (কক্সবাজার) ::
অবশেষে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার আলোচিত ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে। তার স্থলে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে।
বৃহস্পতিবার রাতে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে সাঈকা সাহাদাতকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা স্বাক্ষরিত উক্ত প্রজ্ঞাপনে নতুন নিয়োগকৃত ইউএনওকে আগামী ৩ মের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পেকুয়ার প্রত্যাহারকৃত ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ১৫ টন চাল কেলেংকারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে।
চাল কেলেংকারিসহ ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পরপরই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে পেকুয়া থেকে প্রত্যাহার করে নতুন ইউএনও নিয়োগ দিল।
এদিকে সরকারের এই ত্বরিৎ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পেকুয়ার সর্বস্তরের মানুষ। তাদের আশা, প্রত্যাহার হওয়া ইউএনও’র বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা বা দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে প্রত্যাহার এবং নতুন ইউএনও হিসেবে নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে নিয়োগ প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভবঘুরেরাও বাদ পড়েনি হোটেল আল গণির সহযোগিতা থেকে, উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কক্সবাজারবাসী
:: আবু সায়েম, কক্সবাজার ::
রাস্তায় পড়ে থাকা ভবঘুরে, অনেকের কাছে পাগল বলে পরিচিত, তারা স্বাভাবিক সময়ে পথচারীদের কাছ থেকে যা পায় তাই খায়। কিন্তু লকডাউনে অনেকটাই অসহায় এখন। পথে নেই পথচারী। তাই খাবারের যোগারও নেই। আবার রাস্তায় যাদের বসবাস, তারাও পড়েছেন বিপাকে। এই সব অসহায়,পথশিশু, ছিন্নমূল, ভবঘুরের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ করে দিনের পর দিন বাস্তবাসয়ন করে চলেছে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী হোটেল আল গণি। লকডাউনের কারণে যখন কক্সবাজারের সকল হোটেল-মোটেল জোনসহ সব ধরণের খাবার রেস্তোরাঁ বন্ধ, ঠিক তখনই মানবিক দিক বিবেচনায় এসব পথশিশু ছিন্নমূল অসহায় মানুষের পাশে দাড়িঁয়েছেন এই হোটেলকর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়. গত ২৪ মার্চ থেকে সরকার ঘোষিত লকডাউনে আল গণি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন ৪০০ মানুষের জন্য শহরের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে এসব অসহায় ছিন্নমূল, ভবঘুরে, পথশিশু সহ পাগলদের খাবার দিয়ে আসছেন। অনেকেই হোটেল আল গণি কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করেন, নিঃসন্দেহে হোটেল আল গণির এমন কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। তাদের ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ নজিরবিহীন।
হোটেল আল গণির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রুবেল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি আলোকিত প্রতিদিনের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।অসহায়ত্বের মধ্যে মানুষ দিনপাতিত করছেন। অসহায় দরিদ্র মানুষরা কিন্তু সরকারি ত্রাণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা পাচ্ছেন। অথচ যারা রাস্তায় থাকেন, যাদের কোন ঘরবাড়ি নেই, যারা ভবঘুরে এবং পাগল তাদের পাশে কেউ নেই। এজন্য আমি এসব মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রতিদিন ৪০০ পথশিশু, ছিন্নমূল এবং ভবঘুরেসহ পাগলদের দুই বেলা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে শহরের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে গিয়ে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মাওলানা, আলেম, মৌলভিদের জন্যও আলগণি কর্তৃপক্ষ বিশেষ সম্মাননা প্রদান করছে। ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের হোটেল আল গণির মানুষের পাশে থাকবে।’
করোনাভাইরাস দ্বিতীয়বার হতে পারে না, দাবি গবেষকদের
:: ডেস্ক প্রতিদিন ::
ফেব্রুয়ারি মাসে মূল চীনা ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে গুরুতরভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায়। এরপর থেকে দেশটি উঠেপড়ে লাগে এই ভাইরাস দমনে এবং সর্বশক্তি দিয়ে সফলভাবে লড়াই চালায় এর বিরুদ্ধে। একটা সময়ে গিয়ে করোনার বিরুদ্ধে জয় লাভও করে। কিন্তু হটাৎ করেই কয়েক জনের শরীরে দ্বিতীয়বার করোনার সংক্রমণ ধরা পরে দেশটিতে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার চিকিৎসাবিষয়ক গবেষকরা বলছেন, কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া কয়েকজনের শরীরে ফের করোনা পাওয়া যায়। এটা হয়েছিল টেস্টিংয়ের ভুলে।
দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধবিষয়ক কেন্দ্র সিডিসির গবেষকরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের পক্ষে মানবদেহে দ্বিতীয়বার হানা দেওয়া অসম্ভব।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিডিসির গবেষকরা দেখেছেন, সন্দেহজনক পুনরায় সংক্রমিত করোনা রোগীদের টেস্টের ফলাফলগুলো ভুল ছিল। নিষ্ক্রিয় ভাইরাস ও জীবন্ত ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারেনি ওই টেস্টগুলো। তাই এমনটা হয়েছে।
সিডিসি জানিয়েছে, এইচআইভি ও চিকেনপক্সের মতো অন্যান্য ভাইরাসগুলো মানব কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করতে পারে এবং পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আগে বছরে পর বছর ধরে সুপ্ত থাকতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস হোস্ট সেলের নিউক্লিয়াসের বাইরে থাকে। এর মানে এই ভাইরাসটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা পুনরাবৃত্তি ঘটায় না। দক্ষিণ কোরিয়ার সিডিসি কমিটির প্রধান ড. ওহ মায়ং ডন এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একবার আক্রান্ত হলে পুনরায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আবার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাস একবার যাদের আক্রমণ করে, তাদের কিছুটা সংক্রমণরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়। এতে আবার তাদের সংক্রমণ ঘটনার ঘটনা বিরল।
যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন ও সাসেক্স মেডিক্যাল স্কুলের সংক্রামক রোগের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন কোহেন বলেন, অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, একবার কেউ সংক্রমিত হলে তারা সাধারণত প্রতিরোধী হয়ে ওঠে এবং পরে আর তাদের সংক্রমণ ঘটে না। তবে সব সময় এর ব্যতিক্রম থাকবে। এটি অবশ্যই যুক্তিসংগত প্রত্যাশা।
সূত্র: স্কাই নিউজ।

