আজ রবিবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 2606

নিউইয়র্কে করোনায় বিএনপি নেত্রীর মৃত্যু

::সংবাদদাতা, নিউইয়র্ক::
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বিএনপির এক নেত্রী মারা গেছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯৩। মারা যাওয়া বাংলাদেশির নাম রাশেদা আহমেদ মুন (৪৬)। দেশের বাড়ি পাবনা, তিনি নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করতেন।
প্রায় চার সপ্তাহ লং আইলান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মারা যান বলে জানান ‘বাংলাদেশ সোসাইটির’ কর্মকর্তারা। অপরদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বুধবার এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অপর এক বাংলাদেশি। তার নাম কবীন্দ্রনাথ সেন (৬৮)। তিনি ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ যুক্তরাষ্ট্র শাখার অন্যতম সভাপতি। গত সপ্তাহে পরিষদের অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ দাস মারা যান।

গোলাপের পাপড়িও সাভারের দুর্বৃত্তদের কাছে অসহায়!

::আলী হোসেন, সাভার::

গোলাপের রঙে মেতে উঠত যে জমি, তা এখন গোলাপের কবরভূমি! দুর্বিত্তদের সেনদৃষ্টিতে মুছে গেছে ফুলচাষী নাজিম উদ্দিনের স্বপ্ন। সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুরের দুই বিঘা সরকারি জমিতে ১৫ বছর ধরে গোলাপের চাষ করে আসছিলেন তিন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে তার গোলাপ বাগান কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুধু নাজিম উদ্দিন না, একই রাতে ওই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষকের প্রায় আট বিঘা জমির গোলাপের বাগানে ছোবল বসিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
সব জমিই সরকারি। যা দখলে রেখে ফুল চাষ করে সংসার চালাতেন এসব কৃষক।
বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব দত্ত বলেন, একটি পক্ষ কৃষকদের দখলে থাকা জমি ইজারা নিয়ে তা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল। আরেকটি পক্ষ ওই জমিতে কবরস্থান ও ঈদগাহের মাঠ বানানোর চেষ্টা করছিল। সম্ভবত এই দুই পক্ষের কোনো এক পক্ষ গোলাপ বাগান কেটে ফেলেছে।’ সরকারি জমি হলেও অন্য কারো রাতের আঁধারে ফসল কাটার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে ওসি বলেন, ভূক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে সাভার থানায় অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে ফুল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। এখান আর এলাকায় ফুলের হাট বসে না। এই অবস্থায় এলাকার কয়েক শ ফুল চাষি অর্থকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আশা ছিল, করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে ফুল বিক্রি করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো, কিন্তু দুর্বৃত্তরা সব স্বপ্ন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে গেছে। তারা আরও প্রশ্ন রাখেন, ফুলগুলোর কী দোষ ছিল? ক্ষতিগ্রস্থদের ভেজাচোখ আর দীর্ঘশ্বাস যেন বলতে থাকে- গোলাপের পাপড়িও সাভারের দুর্বৃত্তদের কাছে অসহায়!
স্থানীয় বিরুলিয়া ইউনিয়নের (ইউপি) চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, ইউনিয়নের কুমারখুদা মৌজাসহ আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার একর সরকারি জমি রয়েছে। এসব জমি বন বিভাগের বলেই জানেন স্থানীয় লোকজন। এলাকার কৃষকেরা পতিত এসব জমি ৬০-৭০ বছর ধরে দখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছেন। কয়েক বছর ধরে অন্য এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একসনা ইজারা নিয়ে এসব জমি দখল শুরু করছেন। তাঁরা প্লট আকারে এসব জমির দখল টাকা বিনিময়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন অন্যদের। যারা টাকা দিয়ে প্লটের দখল নিচ্ছেন তাঁরা পাকা, আধাপাকা এবং বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ইউপি সদস্য আরও বলেন, জমি দখলে প্রভাবশালীদের সহায়তা করে থাকেন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। তাঁরা ঈদগাহ ও কবরস্থানের নামে কয়েক বিঘা জমি দখলের পাঁয়তারা করছিলেন। সম্ভবত তাঁরাই বৃহস্পতিবার রাতে গোলাপ বাগান কেটে ফেলেছেেন।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের একজন সত্তর বছর বয়সী আনসার আলী। এই বৃদ্ধ বলেন, তিনি ৫০ বছর ধরে দুই বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছেন। এর আগে তাঁর বাবা ওই জমি চাষ করেছেন। কয়েক বছর আগে ছয় লাখ টাকা ব্যয় করে তিনি জমিতে গোলাপের বাগান করেন। মাসে তাঁর ৫০-৬০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হতো। খরচ বাদে যে টাকা থাকতো তাতে স্বচ্ছলভাবে চলত তাঁর সংসার। কিন্তু করোনা-পরিস্থিতির কারনে ফুল বিক্রি না করতে পেরে, এমনিতেই বিপাকে ছিলেন। এর ওপর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর জমির গোলাপ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ফলে তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
অপর কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা যুগের পর যুগ ধরে সরকারি জমি চাষ করে খেয়ে পরে বেঁচে রয়েছেন। সরকার ইজারা দিতে চাইলে, তাঁর মতো গরিব কৃষকদের দিতে পারত। আর সরকারের জমি প্রয়োজনে কৃষকেরা তা ছেড়ে দিতেন। কিন্তু জমি ইজারা দেওয়া হচ্ছে প্রভাশালীদের। এর ফলে কৃষকেরা দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।

ভারতে লকডাউন বাড়ল দুই সপ্তাহ

:: ডেস্ক প্রতিদিন ::
তৃতীয় দফায় লকডাউন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকা অবস্থায় সারা দেশে আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিল দেশটির সরকার।
আগামী ৪ মে থেকে আরও দু’সপ্তাহ লকডাউন চলবে বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘোষণা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১৭ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে লকডাউন চলবে। ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইন অনুসারে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
এনডিটিভি অনলাইন জানিয়েছে, এই সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন গাইডলাইন তৈরি করেছে। লাল, কমলা ও সবুজ অঞ্চল অনুসারে এই গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। কমলা ও সবুজ এলাকার ক্ষেত্রে কিছু শিথিলতা আনা হবে। তবে সব এলাকায় কিছু বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। বিমান, রেল, মেট্রো পরিষেবা ও আন্তঃরাজ্য ভ্রমণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময়ে বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁ, হোটেলও বন্ধ থাকবে। সিনেমা হল, মল ও জিমের মতো বড় জমায়েতের স্থান বন্ধ থাকবে।
দেশটিতে করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। এই বৈঠকেই লকডাউনের মেয়াদ ২ সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভারতে শুক্রবার পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৩৬৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৯ হাজার ৬৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ১১৫২ জনের।

প্রথম কোন সাংসদ করোনায় আক্রান্ত

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
প্রথম কোন সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। বর্তমানে তিনি ন্যাম ভবনে হোম আইসোলেশনে আছেন। ভবনটি লকডাউন করা হয়েছে। সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত সাংসদ নিজেও বিষয়টি জানান।
এই প্রথম একজন সংসদ সদস্য কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত হলেন। ষাটোর্ধ্ব সংসদ সদস্য জানান, বৃহস্পতিবার তার নমুনা আইইডিসিআরে দেওয়া হয়েছিল। আজ শুক্রবার তার ফল জানানো হয়েছে। এতে তিনি পিজিটিভ এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনো রিপোর্ট হাতে পাইনি। তবে আইইডিসিআর থেকে আমাকে পজিটিভ হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ শারিরীকভাবে কোনো সমস্যা হচ্ছে না জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘খুব এক সমস্যা হচ্ছে না। এখন বাসাতেই আছি। বাইরে যাচ্ছি না।’::

করোনায় স্ত্রীর মৃত্যুতে অক্সিজেন মাস্ক পরলেন না স্বামী

:: ডেস্ক প্রতিদিন ::
৬৩ বছরের বিবাহিত জীবন। প্রথমে ৮১ বছর বয়সের স্ত্রী মেরির ধরা পড়ে করোনাভাইরাস। কয়েকদিন পর ৯০ বছরের স্বামী বিলকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, তিনিও করোনা পজিটিভ। বিলকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা যখন আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তখন জানতে পারেন তাকে ছেড়ে চলে মেরি। স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদে বেঁচে থাকার আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন বিল। অক্সিজেন মাস্ক পরতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অপেক্ষায় থাকেন মৃত্যুকে আলিঙ্গণের। কয়েক ঘণ্টা পর তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এভাবেই ছয় দশকের বেশি দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে একই দিনে পৃথিবী ছেড়ে গেলেন বিল ও মেরি।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা ছিলেন বিশেষ মানুষ। ইস্টার সানডেতে যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতালে একই দিনে মৃত্যু হয় বিল ডার্টনাল ও তার স্ত্রীর মেরির। উভয়েই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। এই দম্পতির মেয়ে রোজমেরি জানান, মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বাবা অক্সিজেন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। মাকে ছাড়া তিনি বাঁচতে চাননি।
বিল-মেরির বিবাহিত জীবন ৬৩ বছরের। হলিডে ইন হোটেলে একটি অস্থায়ী বয়স্ক নিবাসে বাস করছিলেন তারা। মার্চের শেষ দিকে মেরিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকদিন পর স্ট্রোক করেন ডার্টনাল। তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ধরা পড়ে করোনাভাইরাস।
রোজমেরি জানান, মা-বাবা হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে ছিলেন। ইস্টার সানডেতে মায়ের মৃত্যুর বাবা অক্সিজেন মাস্ক পরতে অস্বীকৃতি জানান। কয়েক ঘণ্টা পর তার শান্তিপূর্ণ মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, তারা দারুণ জুটিতে পরিণত হন। আমার বাবা নিশ্চিতভাবেই মাকে ছাড়া বেঁচে থাকতে চাননি। জীবন সবসময় সহজ ছিল না। কিন্তু তারা কঠিন সময় একসঙ্গে অতিক্রম করেছেন এবং আমাদের ছেড়ে গেছেনও একসঙ্গে।
রোজমেরি আরও বলেন, বাবা-মাকে হারানো এমনিতেই কষ্টের। কিন্তু তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং শেষ মুহূর্তে তাদের পাশে থাকতে না পারা অনেক বেশি কষ্টের।
রোজমেরির বোন অ্যান জানান, লকডাউনের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হলে বাবা-মায়ের স্মরনসভা আয়োজন করা হবে।

নানা সংকটের মধ্যেই মানিকগঞ্জে করোনার চিকিৎসা কাল শুরু!

:: প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ ::
মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে কাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে কোভিড-১৯ চিকিৎসা কার্যক্রম । ১০০ শয্যার এই করোনা হাসপাতালে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে বসানো হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। প্রস্তত আইসিইউ এবং আইসোলেশন বিভাগ। প্রস্তত চিকিৎসক ও নার্সরাও। তবে সংকট রয়েছে আইসিইউ বিভাগের দক্ষ জনবল আর চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর।
জানা যায়, এই জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এতদিন রোগীদের সেবার জন্য পাঠানো হত রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। এমতাবস্থায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে শুরু হচ্ছে করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম। হাসপাতালের পুরাতন ভবনটিকে ঘোষনা করা হয়েছে ১০০ শয্যার কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ২ বেডের আইসিইউ বিভাগসহ যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ সারোয়ার জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের যাদের পজেটিভ হয়ে আসবে তাদের জন্য এই হাসপাতালে পুরুষ এবং মহিলা ওয়ার্ডে আলাদা ভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। তিনি বলেন এখানে সম্প্রতি ২ টি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের সাপ্লাইটা নেই বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনের জন্য ৭৬ জন চিকিৎসক এবং ৯০ জন নার্সের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শনিবার থেকে চিকিৎসা সেবা শুরু হলেও আইসিইউ বিভাগে ঘাটতি রয়েছে দক্ষ জনবলের। এছাড়া চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর সংকট রয়েছে।
এব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আরশ্বাদউল্লাহ বলেন,‘ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী আমাদের এখানে এখন খুব সামান্যই আছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। খুব শিঘ্রই সেগুলো পেয়ে যাবো বলে আশা করি।’ বর্তমানে যে সুরক্ষাসামগ্রী আছে তা দিয়ে আমাদের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে কোন সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালের পুরাতন ভবনে করোনা চিকিৎসা সেবা দেয়া হলেও হাসপাতলের নতুন ভবনে সাধারন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। এতে কোন অসুবিধা হবে না।’

সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

:: প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা ::
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বজ্রপাতে ফজলুর রহমান (৩৩) নামের এক কৃষকের মুত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের ছোটরাজনগর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম দফাদারের ছেলে।
যুগিখালী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, ছোটরাজনগর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান তার ছেলেকে নিয়ে রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদে তারাবী নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে বাড়ির পাশে একটি নারিকেলগাছে বজ্রপাত ঘটে। এতে কৃষক ফজলু গুরুতর আহত হয়ে রাতেই মারা যান। এদিকে, তার শিশুপুত্র এতে মারাত্মক আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তার অবস্থা এখন আশংকামুক্ত।
চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম আরো জানান, দুপুরে নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন করা হবে। এদিকে, তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মেয়র তাপসের পক্ষে ইফতার বিতরণ করলেন যুবলীগ নেতা মধু

:: নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর পক্ষে জনসাধারণের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দক্ষিণ মহানগর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহাম্মদ উল্লাহ মধুর তত্ত্বাবধায়ন ও নির্দেশনায় আজ শুক্রবার (১ মে) গেন্ডারিয়া থানার ৪০নং ওয়ার্ডে ৩০০ পরিবার এর মধ্যে এই ইফতারি বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও যুবলীগ নেতা মনির হোসেন শাহীন উপস্থিত ছিলেন এবং এর
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা এমএকে আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইফতার বিতরণ কাজে সহযোগিতা করেন বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মী ও সেচ্ছাসেবকরা।

একদিনে করোনায় ৭ কর্মী : সাভারে পোশাক কারখানা বন্ধে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চিঠি

:: প্রতিনিধি, সাভার ::
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি এ অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে সাভারে একদিনে সাত পোশাক শ্রমিকের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. নাজমুল হুদা মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ৫১ জনের নমুনা পাঠালে আট জনের পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরমধ্যে সাত জনই পোশাক শ্রমিক।
দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গার্মেন্টস বন্ধ ও লকডাউনের বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সায়েমুল হুদা বলেন, সাভারের প্রবেশদ্বারগুলো খুলে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শিল্প কলকারখানা চালুর কারণে আমাদের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। শুক্রবারও কয়েকজন পোশাক শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন। এখনই সব পোশাক কারখানা ও প্রবেশপথ বন্ধ করা না হলে এই এলাকায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
উপজেলা নির্বাহীকে লিখা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার চিঠিতিনি আরও বলেন, সাভার উপজেলা শিল্পাঞ্চল এবং শ্রমিক অধ্যুষিত হওয়ায় এখানে অধিক জনবসতি গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু পোশাক কারখানা খোলার আগে এর প্রাদুর্ভাব তেমন ছিল না। তাই সব তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখাসহ উপজেলার সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান বরাবর বৃহস্পতিবার একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং জেলা সিভিল সার্জনকেও পাঠানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নাজমুল হুদা মিঠু বলেন, সাভার উপজেলায় মোট ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাঠানো নমুনার মধ্যে ২৫ জন। বাকিরা অন্যান্য জায়গা থেকে নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন। পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে ৫ জন উলাইল এলাকার বাসিন্দা। তারা ওই এলাকার একাধিক কারখানার শ্রমিক।
কারখানায় কাজে ব্যস্ত পোশাক শ্রমিকরাআশুলিয়ার গ্লোবাল নিটওয়্যার লিমিটেড কারখানার পরিচালক রেজাউল কবির রাসেল বলেন, সারা দেশে করোনা অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তবে তাদের কারখানা বন্ধ রাখার কোনও সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি। তবে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতর, বিজিএমইএ, শ্রম মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ সায়েদ বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। সিদ্ধান্ত জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তার বিয়ে, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

:: প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ::
কোয়ারেন্টিন ভেঙে বিয়ে করায় এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নুর আহমদ জমাদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যাংক কর্মকর্তাকে এ জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ঢাকায় এক্সিম ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন বলে তিনি জানান।
মোজাম্মেল হক বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ২৭ এপ্রিল লকডাউন ভেঙে ঢাকা থেকে বোয়ালখালী চলে আসলে ইউনিয়ন করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তাকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি তা মানেননি। শুক্রবার বিয়ে করে বাড়িতে বউ নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে দুপুরে তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। পাশাপাশি তাকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’
অভিযানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মুবিনের নেতৃত্বে ১৮ বীর ব্যাটালিয়নের সেনা সদস্য ও বোয়ালখালী থানার পুলিশ সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন।