আজ বুধবার, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 205

ভারতে থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত হাসিনাকেই নিতে হবে: জয়শঙ্কর!

বিশেষ প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে থাকার ব্যাপারে তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানালেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এন এনডিটিভির সিইও ও এডিটর ইন চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে রাহুল কানওয়াল জানতে চান, শেখ হাসিনা কি ‌‌যতদিন খুশি ভারতে অবস্থান করতে পারবেন? জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এটা তো ভিন্ন বিষয়, তাই না? তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন এবং আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে বলে তিনি জানান।

এ সময় নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিবেশী বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ভারতের অবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা যা শুনেছি তা হলো; বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা বাংলাদেশের।

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতিও হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শ্রমিককে দেখতে গাজীপুরে ছুটে এলেন মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী দম্পতি

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি. দূরদেশ মালয়েশিয়া থেকে শুধু একজন শ্রমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে ছুটে এলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজ্জাফফার শাহ বিন আব্দ রহমান ও তাঁর স্ত্রী নোরলিজা মোহদ নূর। গল্পটি যেন রূপকথার মতো—একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের প্রতি অসীম ভালোবাসা, আস্থা এবং মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একজন বিদেশি মালিক পুরো পথ পাড়ি দিয়ে শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বেলা বারোটার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের এক ছোট গ্রামে উপস্থিত হন।
পিরুজালী গ্রামের পিয়ার আলির ছেলে সোলাইমান (৩৬) জীবিকার তাগিদে ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন। শুরুতে প্রবাসজীবন ছিল সংগ্রামী ও কঠিন, কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি কাজ পান মুজ্জাফফার শাহের প্রতিষ্ঠানে। সৎ, পরিশ্রমী এবং দায়িত্বশীল সোলাইমান ধীরে ধীরে মালিকের মন জয় করেন। কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক ধীরে ধীরে বদলে যায় পারিবারিক বন্ধনে। মালিক-শ্রমিকের দূরত্ব মিলিয়ে যায় পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।
প্রায় ১৮ বছর পর, সোলাইমান যখন বাংলাদেশে তার সন্তান জন্মের খবর দেন, তখন ব্যস্ত মালয়েশিয়ান দম্পতি নিজের দেশে থেকে সবকিছু পেছনে ফেলে তাকে দেখতে আসেন। তাদের আগমনে সোলাইমানের গ্রামে নেমে আসে উৎসবের আমেজ—পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই বিস্ময় ও আনন্দে অভিভূত হন। দুপুরে সোলাইমানের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আপ্যায়ন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি দম্পতি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
সোলাইমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমি কখনও ভাবিনি আমার মালিক শুধু আমার জন্য এত দূর থেকে বাংলাদেশে আসবেন। তিনি যা করেছেন, তা কথায় বোঝানো যাবে না। আমার পরিশ্রম ও সততাকে তিনি এত মূল্য দিয়েছেন—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আজ আমার গ্রামের মানুষরা তাকে যে সম্মান দেখিয়েছে, তাতে আমি সত্যিই গর্বিত।
মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুজ্জাফফার শাহ জানান, তিনি বাংলাদেশে এসেছেন তার ভাই সোলাইমানের সঙ্গে দেখা করতে। সোলাইমান প্রায় ১৬ বছর ধরে তার জীবনের সঙ্গে যুক্ত। আমরা চাই তার ছেলে আবদুল্লাহকেও দেখি। যেন আমার নিজের পরিবারের একজন সদস্যকে দেখছি। এখানে আসতে পারায় এবং আমাদের যাত্রায় সহায়তা করার জন্য আমি এবং আমার স্ত্রী অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। মুজ্জাফফার শাহ আরও বলেন, এই গ্রাম খুবই শান্তিপূর্ণ। মানুষরা খুবই সদয়। এছাড়াও এটি আমার এখানে দ্বিতীয় সফর; প্রথমে এসেছিলাম সোলাইমানের বিয়ের সময়।
স্থানীয় যুবক রবিউল ইসলাম বলেন, সোলাইমান শুধু আমাদের গ্রামের গর্ব নয়, তিনি প্রমাণ করেছেন—সততা ও ভালোবাসা মানুষকে কত দূর নিয়ে যেতে পারে। বিদেশি মালিক তাঁর বাড়িতে এসে যেভাবে আপন মনে মিশেছেন, তা সত্যিই অবাক করার মতো।
রাবিয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, আমরা তো ভাবতেই পারিনি এত বড় একজন মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী আমাদের গ্রামের মাটিতে পা রাখবেন। তিনি খুব সহজ-সরল মানুষ, সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেছেন। তার এই আচরণ আমাদের খুব ভালো লেগেছে।
কলেজছাত্র স্বাধীন মিয়া বলেন, এটি আমাদের গ্রামের ইতিহাস হয়ে থাকবে। একজন শ্রমিকের প্রতি মালিকের এত সম্মান ও ভালোবাসা আগে কখনও দেখিনি। আমরা ভাবছিলাম, এ যেন সিনেমার গল্প!
মালয়েশিয়ান এই ব্যবসায়ী এলাকাবাসীর অনুরোধে স্থানীয় মসজিদ উন্নয়নে ১১ লাখ টাকা অনুদান দেন, যা সবাইকে আরও আবেগাপ্লুত করে তোলে।
স্থানীয়রা বলছেন, যদি প্রতিটি শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে এমন আন্তরিকতা ও বিশ্বাস থাকে, তাহলে শ্রমিকের কাজের ফলাফল বৃদ্ধি পায় এবং দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ইট আনছেন স্থানীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ শনিবার একই নামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এর জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে অংশ নিতে অনেকে মাথায় করে ইট নিয়ে আসছেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬ ডিসেম্বর শনিবার সকালে অনুষ্ঠানের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বেলডাঙ্গা থানা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যরা জড়ো হন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশসহ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। উত্তর বারাসাতের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে প্রস্তাবিত কাঠামোর জন্য তার অবদানের অংশ হিসেবে মাথায় ইট বহন করতে দেখা যায়। এএনআইকে তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবির যেখানে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন আমি সেখানে যাব। আমি বাবরি মসজিদের জন্য ইট নিয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মুর্শিদাবাদের বাসভবন থেকে রওনা দেওয়ার সময় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এএনআইকে বলেন, ‘আমি আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। আমি কিছু বলব না। পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। আমি তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই কথা বলেছি। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর পুলিশ আমাকে সমর্থন করছে। তারা আমাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রশাসন আয়োজকদের পুরোপুরি সহযোগিতা করছে।

dhakapostএ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদে যেন কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা না ছড়ায়, সেজন্য যা যা করা দরকার তা করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

সরকারকে বলা হয়েছে, এই সম্ভাব্য উত্তেজনা থামাতে এবং শান্তি বজায় রাখতে যা যা করা দরকার, তার সবই করতে হবে।

এ বিষয়ে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেছেন, সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে উপস্থিত রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে র‌্যাফের ইউনিট সহ ৩৫০০ জনের একটি দল রেজিনগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের সুরক্ষার জন্য বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, রাজ্য সরকারকে তাদের অবস্থান অনুযায়ী কাজ করতে হবে। মুর্শিদাবাদে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। হুমায়ুন কবীরের এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর বলেন, মূল ইভেন্টটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। দুই ঘণ্টা কোরান পাঠ করা হবে। অনুষ্ঠানে কোনো বক্তৃতা থাকবে না, কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, কোনো দলীয় পতাকা থাকবে না। আমি ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে উপস্থিত থাকব। এই মসজিদ তৈরি করতে তিন বছর সময় লাগবে। অর্থ জোগাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। একই সঙ্গে তিনি এ অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পুরো ঘটনাকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। তার অভিযোগ, রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলো তৃণমূলকে বদনাম করার চেষ্টা করছে। হাইকোর্টের নির্দেশের পর রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে।

এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বসু বাংলার জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উসকানিমূলক বক্তব্য ও গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রাজভবনে একটি ‘অ্যাক্সেস পয়েন্ট সেল’ স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালের আজকের দিনেই অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। হুমায়ুনের এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হওয়ার আট মাস আগে ওয়াক্‌ফ (সংশোধনী) আইনের প্রতিবাদে এই মুর্শিদাবাদেই ছড়িয়ে পড়েছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

তারাগঞ্জে অবৈধ মাটি বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

শফিউল মন্ডল, তারাগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের তারাগঞ্জে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেনাববর হোসেনের নেতৃত্বে আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত ঠাকুরপাড়া গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে দোয়ালীপাড়া গ্রামের মো. শরীফ (২৬), পিতা নুরালী—নিজ মালিকানাধীন কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করছিলেন বলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। এসময় অভিযানে উপস্থিত দুই ট্রাক্টরচালক ও জমির মালিককে একই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তলব করা হয়। তারা ভবিষ্যতে এমন কাজে আর লিপ্ত হবেন না—এই মর্মে মুচলেকা দিলে তাদের সতর্ক করে দায়মুক্ত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেনাববর হোসেন বলেন, “উর্বর কৃষিজমি রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি ভবিষ্যৎ ফসল উৎপাদনের জন্য হুমকি। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরে রাশিয়ান গণ-কূটনীতির শত বার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার রাশিয়ান হাউস রুশ জনগণের গণ-কূটনীতির ১০০ বছর ও বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক কনসার্টের আয়োজন করেছে।

৫ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকার ‘রবীন্দ্র সরোবর’-এ অনুষ্ঠিত এ উৎসবে ১৩ হাজারেরও বেশি দর্শক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ছিল বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক দলসমূহের পরিবেশনা— শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা, জনপ্রিয় ব্যান্ড সোনার বাংলা সার্কাস ও সংগীতশিল্পী দল আকাশ অ্যান্ড কোম্পানি। তারা পরিবেশন করেন রুশ ও বাংলা সংগীতের ঐতিহ্যবাহী ও সমসাময়িক উপস্থাপনা।

সন্ধ্যার অনুষ্ঠানটি দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতাকে আরও একবার তুলে ধরে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা— জাতিসংঘে ভেটো প্রয়োগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

আজ এই বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে সোভিয়েত এবং রাশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা ৬০০০-এরও বেশি বাংলাদেশি পেশাজীবীর মাধ্যমে, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত, বিজ্ঞান এবং প্রশাসনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশে বসবাসরত রুশ প্রবাসীরাও তরুণ প্রজন্মের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন রাশিয়ার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে পেশাগত সম্ভাবনার সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী তরুণ বীরদের প্রতি অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়— যাদের সাহস ও আত্মদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করে।

উপস্থিত আলোচনায় আধুনিক কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে রোসাটম স্টেট করপোরেশনের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কথাও গুরুত্বসহ তুলে ধরা হয়। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্র বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও জাতীয় জনশক্তি উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ওস্তাদ হাসান আলী খানের স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

মোঃ আনোয়ার  হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ৬ ডিসেম্বর শনিবার বরেণ্য কন্ঠশিল্পী ওস্তাদ হাসান আলী খানের স্মরণ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১ ঘটিকায় নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ অডিটোরিয়ামে ওস্তাদ হাসান আলী খানের সন্তান খুরশিদ হাসান খানের সভাপতিত্বে ও আব্বাস উদ্দিন হেলাল এবং রিপা আক্তারের উপস্থাপনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- একুশে পদক প্রাপ্ত ও বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী খাইরুল আলম শাকিল, মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত সুরকার ও সংগীত পরিচালক- শেখ সাদী খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী- মাসুদা আনাম কল্পনা, বিশিষ্ট লোকসংগীত শিল্পী আব্দুল আলীমের সন্তান আজগর আলীম, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও নাট্য অভিনেতা ইকবাল আহমেদ, উপাধ্যক্ষ গোলাম মাওলা খান দিপু  করিম হাসান খান ও নবীনগর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অঞ্জন কুমার নাগ।
শেখ সাদী খান তার বক্তব্য বলেন- সংগীত হল জাদু, ভালোবেসে সংগীত করতে হয়। সংগীতে এমন বিষয় সংগীত দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করা যায়। খাইরুল আলম শাকিল বলেন- যে জাতি সংস্কৃতিতে এগিয়ে যাবে না সে জাতি অমানবিক হয়ে যায়। উক্ত অনুষ্ঠানের দুইজন একুশে প্রাপ্ত, লেক সংগীতের বর পুত্র আব্দুল আলীমের সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য ওস্তাদ হাসান আলী খান বুলবুল ললিতকলা একাডেমি লোকসংগীত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন। কন্ঠশিল্পী ওস্তাদ হাসান আলী খান ১৯৪৪ সনে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সংগীত জীবন শুরু করেন। সমসাময়িক শিল্পীদের মধ্যে একমাত্র তিনি একাধারে লোকসংগীত, উচ্চাংগ সংগীত, আধুনিক, নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করতেন সমান দক্ষতায়। তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন ড. সনজিদা খাতুন, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, নীনা হামিদ, মুজিব পরদেশী প্রমুখ। ১৯৯৩ সনের ১২ই জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

রূপগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬দফা দাবিতে কর্ম বিরতি

রিপন পাল:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬দফা দাবিতে কর্ম বিরতি চলছে। গতকাল ৬নভেম্বর শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজিত কর্ম বিরতি কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক এসোসিয়েশনের সভাপতি মাকসুদুল হাসান।
সভায় বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য পরিদর্শক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম শাহ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ পরিণীতা দাস, মনিরা আক্তার, সেলিনা আক্তার, আজশুদা আক্তার, সজীব মীর, মহাদেব বাবু প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সহকারীদের ১৪তম গ্রেড প্রদান, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক/সমমান সংযোগ এবং নিয়োগবিধি সংশোধন করতে হবে। এছাড়া ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নিতকরণ, টেকনিক্যাল পদমর্যদা প্রদান এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। অন্যথায় সারাদেশের স্বাস্থ্য সহকারীদের সমন্বয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই ঢাকায় আসবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

 আলোকিত প্রতিবেদক: 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে বিশেষায়িত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড তাকে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত ঘোষণা করে ‘সবুজ সংকেত’ দিলেই কেবল সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় আসবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে তিনিই কাতারের সঙ্গে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ম্যাডামের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমেই কাতারের অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসবে। তারা সেভাবেই প্রস্তুত রয়েছে। মেডিকেল বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত জানাবে, তখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় পৌঁছাবে এবং ম্যাডামকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবে।’

জার্মানি থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘জার্মানি থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসছে—বিষয়টি ঠিক আছে। তবে এটি আমরা ভাড়া করছি না। কাতার কর্তৃপক্ষই তাদের তত্ত্বাবধানে জার্মানি থেকে একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা (অ্যারেঞ্জমেন্ট) করে দিচ্ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য কাতারের রয়েল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগেই সবকিছু হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তিনি বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনো আকাশপথে দীর্ঘ ভ্রমণের মতো শারীরিক সক্ষমতা বা ‘ফ্লাইং ফিটনেস’ অর্জন করেননি। মূলত এ কারণেই তার লন্ডন যাত্রা বিলম্বিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানান, গত দুই দিনে মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুই দফায় মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হয়।

এদিকে, শাশুড়িকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যেতে গতকাল লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবায়দা রহমান। তিনি খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডেরও একজন সদস্য।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

ভারতকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-চীনসহ আলাদা জোট করতে চায় পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও চীনকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ‘জোট গঠনের’ যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটিতে অন্য আরও দেশকে যুক্ত করে জোটের পরিধি বাড়ানো যেতে পারে। এই অঞ্চল ছাড়াও অন্য অঞ্চলের দেশকেও এতে যুক্ত করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

গত ৩ ডিসেম্বর বুধবার ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে ইশহাক দার বলেন, “আমরা নিজেরা লাভবান হয়ে অন্যের ক্ষতি হওয়ার বিপক্ষে। আমরা সবসময় সংঘাতের বদলে সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছি।”

নতুন জোট গঠনের মাধ্যমে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মূলত সার্কের বিকল্প কোনো কিছু প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। কারণ ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনার কারণে সার্ক প্রায় অকার্যকর হয়ে আছে।

গত জুনে চীন-পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কূটনীতিকরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন তারা। ওই সময় বলা হয় এই আলোচনা ‘তৃতীয় কোনো দেশকে উদ্দেশ্য’ করে নয়।

ইশহাক দার এমন সময় এ কথা বললেন যখন আঞ্চলিক উত্তেজনা চলছে। যারমধ্যে ভারত-পাকিস্তানের কয়েক যুগের শত্রুতাও রয়েছে। এ দুই দেশ গত মে মাসেই চারদিনের যুদ্ধে জড়িয়েছিল।

অপরদিকে গত বছরের গণআন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেও সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় সম্পর্ক আরও তলানিতে গেছে। গত মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

পাকিস্তানের উদ্যোগ- 

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে বলেছেন, “আমাদের নিজস্ব জাতীয় উন্নয়ন প্রয়োজনীয়তা এবং আঞ্চলিক অগ্রাধিকার কারও অনমনীয়তার কাছে কখনো জিম্মি হওয়া উচিত না। আপনারা জানেন আমি কাদের (ভারত) কথা বলছি।”

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপ গত ১১ বছর ধরে ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের আমাদের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশের সম্পর্কও দোদুল্যমান।”

তিনি বলেন, পাকিস্তান এমন এক দক্ষিণ এশিয়ার স্বপ্ন দেখে যেখানে বিভাজনের জায়গায় সম্পর্ক এবং সহযোগিতা স্থলাভিষিক্ত হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে, দ্বন্দ্বগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা হবে এবং সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে শান্তি বজায় থাকবে।

তবে-লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রাবেয়া আক্তার বলেছেন,পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর এই আশাবাদ এ মুহূর্তে বাস্তবের চেয়ে বেশি উচ্চাকাঙ্খী। তবে এরমাধ্যমে পাকিস্তান ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেহেতু সার্ক এখন অকার্যকর, তাই তারা আঞ্চলিক সহযোগিতার মেকানিজমকে বহুমুখী করতে চায়।

সার্ক কি-

ঢাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৮৫ সালে সার্ক গঠিত হয়। এটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হয় বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা। অষ্টম দেশ হিসেবে ২০০৭ সালে এ জোটে যোগ দেয় আফগানিস্তান।

সার্কের লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু গত ৪০ বছরেও সার্ক তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক।

২০১৬ সালে সার্কের ১৯তম সম্মেলন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভয়াবহ এক হামলার পর ভারত সম্মেলন না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। তারা অভিযোগ করে, এ হামলায় পাকিস্তান জড়িত। এরপর থেকে সার্কের সম্মেলন আর হয়নি।

সার্ক গুরুত্বপূর্ণ কেন-

সার্কভুক্ত দেশগুলোতে আছে ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চল। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য খুবই কম। পুরো অঞ্চলে যে পরিমাণ বাণিজ্য হয় তার মাত্র পাঁচ শতাংশ (২৩ বিলিয়ন ডলারের কাছকাছি) হয় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে।

অপরদিকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের আসিয়ান জোটের দেশগুলো যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করে তার ২৫ শতাংশই নিজেদের মধ্যে। অথচ এসব দেশে মাত্র ৭০ কোটি মানুষের বাস।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, নিজেদের মধ্যে থাকা বাধা দূর করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করতে পারবে।

সার্কের মধ্যে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সবচেয়ে কম। ২০২৪ সালে তারা মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বাণিজ্য করেছে। তবে অন্য দেশের মাধ্যমে তাদের বাণিজ্য হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের মতো। বাণিজ্য কম হওয়ার কারণ হিসেবে আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী না হওয়াকে বলা হয়।

২০১৪ সালে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে যাচ্ছিল। এতে করে ইউরোপের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এক দেশের গাড়ি আরেক দেশে চলতে পারত। কিন্তু পাকিস্তান এটি আটকে দেয়। এছাড়া রেল সংযোগেও বাধা দেয় তারা। করোনার সময় ছাড়া সার্ক আর বড় কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ফারওয়া আমের সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, যদি ভারত-পাকিস্তান সীমিত ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে পারত তাহলে সার্ক পুনর্জীবিত হতো। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থায় এটি অনেকটাই অসম্ভব।

সার্ককে পাশ কাটিয়ে নতুন জোট গড়ার চেষ্টায় অবশ্য পাকিস্তানই প্রথম নয়। সার্ক ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল মিলে বিবিআইএন নামে একটি জোট করেছিল। এছাড়া বাংলাদেশ, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডকে নিয়ে বিমসটেক নামে আরেকটি জোট তৈরি করা হয়।

পাকিস্তানের প্রস্তাবের সম্ভাবনা কতটুকু-

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের শাবাব ইনাম খান আলজাজিরাকে বলেছেন, “পাকিস্তানের এ প্রস্তাব যদিও উচ্চাকাঙ্খী, কিন্তু এটি খুবই প্রয়োজনীয়।” তিনি বলেন, “নিরাপত্তা-সর্বস্ব চিন্তাভাবনা অথবা সম্ভবত রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির অভাবের ফাঁদে পড়ে দক্ষিণ এশিয়া বারবার বাস্তবসম্মত আঞ্চলিক সহযোগিতা, এমনকি ছোট আকারের সহযোগিতা গঠনেও সফল হতে ব্যর্থ হয়েছে।”

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেছেন, “তাত্ত্বিকভাবে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের সুযোগ রয়েছে। ভারত-পাকিস্তানের খারাপ সম্পর্কে কারণে সার্কের নিরব মৃত্যুর কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় আরেকটি জোট গঠনের স্থান সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হওয়ার কারণে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সহযোগিতার পথ তৈরি হয়েছে।”

পাকিস্তানের এ প্রস্তাব সফল হবে কি না এ প্রশ্নে লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবিয়া আক্তার বলেছেন, “প্রথমত দেখতে হবে যখন আঞ্চলিক জোট স্থবির হয়ে আছে, তখন সম্ভাব্য রাষ্ট্রগুলি ছোট, নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক দলগুলির মধ্যে ব্যবহারিক গুরুত্ব দেখতে পাচ্ছে কি না। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ ভারতের সাথে কোনো রাজনৈতিক সমস্যা বা মূল্য সৃষ্টি করে কি না, সেটিও দেখতে হবে।”

তিনি বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো পাকিস্তানের এ উদ্যোগে আগ্রহ দেখালেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের দোন্থি বলেছেন, পাকিস্তানের এ প্রস্তাব সফল হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। একইসঙ্গে ভারত-চীনের প্রতিযোগিতাও বাড়বে।

সূত্র: আলজাজিরা

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম

আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইলে রোপা আমন ধান চাষে সাফল্য ধরা দেওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। ভালো বীজ ও আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ছোঁয়া এবং অনুকূল পরিবেশের ফলে বিঘা প্রতি ২ থেকে ৪ মণ ধান উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকের আনন্দ পরিবার থেকে পাড়া-গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা বাজারে আমন ধানের ভালো দাম প্রত্যাশা করেছে।
এদিকে অগ্রহায়নের শুরু থেকে জেলার চাষিরা আমন ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেছে। এলাকাভেদে পর্যায়ক্রমে রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তুলছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে জেলায় উৎপাদনের প্রায় ৬৩ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন করা হয়েছে- বাকি ধানগুলেঅ ক্ষেত থেকে কেটে-মাড়াই করে ঘরে তুলতে নানা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত এখন কৃষক-কিষাণীরা।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ১২টি উপজেলায় রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ দুই হাজার হেক্টর। সরকারি প্রণোদনা ও কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাতের বীজ দেওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এক লাখ ৪ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এরমধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে, চাষ করা হয়েছে ৫ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে। বাসাইলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ৩৯২ হেক্টরে। কালিহাতীতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৩০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ৮ হাজার ৪৬৫ হেক্টরে। ঘাটাইলে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৪০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৪৯০ হেক্টরে। নাগরপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫১০ হেক্টরে, চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ২০১ হেক্টর। মির্জাপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে, চাষ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৪৮ হেক্টর। মধুপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ১৩ হাজার ২ হেক্টরে। ভূঞাপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৩০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ৬ হাজার ১০৫ হেক্টরে। গোপালপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৯০০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টরে। সখীপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ২৬০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ১৭ হাজার ২৬৫ হেক্টরে। দেলদুয়ারে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর, চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে এবং এবং ধনবাড়ী উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে, আবাদ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে জেলার কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের দিগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠেজুড়ে চলছে রোপা আমন ধান কাটার উৎসব। কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ নিয়ে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন) ব্যবহার করে ধান কাটা ও মেশিনে মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে ভালো খড় পেতে প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ কৃষক হাতে ধান কেটে মেশিনে মাড়াই করছেন। কৃষকের উঠানে ইতোমধ্যে নতুন ধানের স্তুপ জমতে শুরু করেছে। রোপা আমন উঠতে কিষাণীরাও দম ফেলার ফুসরত পাচ্ছে না।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বিগত বছরগুলোতে বিঘাপ্রতি তারা ১৪-১৬ মণ হারে রোপা আমন উৎপাদিত হতো। এ বছর বিঘাপ্রতি ১৮-২০ মণ হারে ধান পাচ্ছেন। ভালো বীজ বপণ ও জমি প্রস্তুত থেকে মাড়াই পর্যন্ত আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে আবাদ করায় উৎপাদন বেড়েছে বলে মনে করছেন তারা। অধিক ফলন পাওয়ায় কৃষকদের হাসি-আনন্দ পরিবার থেকে পাড়া-গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষকরা জানায়, বাজারে রোপা আমন ধানের দাম আশানুরূপ পেলে তারা এ মৌসুমে লাভের মুখ দেখবেন। আর বাজার যদি কম থাকে তবে ফসল উৎপাদনের ইচ্ছাশক্তি অনেকটা মৃয়মান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কালিহাতীর সহদেবপুর ইউনিয়নের দিগর গ্রামের কৃষক রায়হান আলী, রকিবুদ্দিন, আবু বক্কর, আব্দুর জব্বার, আমজাদ আলী, নওশের হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলকভাবে কম হলেও হয়নি বলা যাবেনা- তাই ধানে কিছুটা চিটা হওয়ায় ফলন অনেকটা কম হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় ধানের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ক্ষেতের ধানগুলো জমিতে নেতিয়ে পড়েছিল- এজন্য অনেক ধানের চিটা হয়েছে। সার, বীজ, কীটনাশ প্রয়োগের খরচের পর এবার আগের তুলনায় বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৪ মণ ধান বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বাজার ভালো পেলে নতুন ধান বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা।
টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশেক পারভেজ জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষে প্রশক্ষিণ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং বীজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ফলে এবার রোপা আমন ধান চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়ে অনেক খুশি।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে জেলার এক লাখ ৪ হাজার ৫৮৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ধানের মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমির ধান কর্তন শেষ হয়েছে- যা জেলায় উৎপাদিত রোপা আমনের প্রায় ৬৩ শতাংশ। ধান কাটার পাশাপাশি দ্রুতগতিতে চলছে মাড়াইয়ের কাজও। জেলার এ বছর হাইব্রিড ও উফশী জাতের আমনের চারা রোপণ করা হয়েছিল। কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয় জাতের আমনের চাষও হয়েছে। রোগবালাই কম থাকায় সব জাতেরই আশানুরূপ ফলন হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে জেলায় রোপা আমন ধান কাটা শেষ হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ডিসেম্বর ২০২৫/মওম