আজ সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৯ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 156

জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান টাঙ্গাইল আসছেন বুধবার 

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলে আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন তিনি।
এ উপলক্ষে ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ১১ দলীয় জোটের টাঙ্গাইল জেলা শাখা।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জোট মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ বলেন, জামায়াতের আমীরের আগমন উপলক্ষে আমরা প্রস্ততি গ্রহণ করছি। এ সমাবেশ টাঙ্গাইলে নতুন এক ইতিহাসের সৃষ্টি করবে। আমরা আশা করছি জামায়াতের ইসলামী লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। এর বাইরেও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত থাকবেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল বাসীকে দলে দলে পৌর উদ্যানে যোগ দিয়ে আমীরে জামায়াতের জনসভাকে সাফল্য মণ্ডিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হোসনে মোবারক বাবুল, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল, খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা শহিদুল ইসলাম, শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি শাহীন মিঞা।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাকে সমপরিমাণ জবাব দিয়ে দেবেন

মামুনুর রহমান:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে আল্লাহর নাম নিয়ে তাকে সমান পরিমাণ জবাব দিয়ে দেবেন, বেশি দেওয়ার দরকার নাই। তবে নিজে জবাব দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাবেন। যদি দেখেন প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এটা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে, তাহলে সেটা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।’
শফিকুর রহমান রোববার দুপুরে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন। শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেন দলের জেলা কমিটির আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান।
জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান বলেন, যতদিন পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা না হবে ততদিন চব্বিশ চলবে। আপনারা জেগে থাকবেন, পাহারা দেবেন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে। আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে চাই। আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামে উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব, আমরা বসব প্যাসেঞ্জার সিটে। তোমরাই আমাদের অহংকার। তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে, ১২ তারিখ সেই বাঁক পরিবর্তনের দিন। আল্লাহতায়ালার গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে তুচ্ছ শান্তির জন্য হানাহানি হবে না, নোংরা ঘটনা ঘটবে না। রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয় সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের কেউ চাঁদাবাজ বলতে পারবে না। আমরা কোথাও চাঁদাবাজি করি না। বাংলাদেশে মোট মামলা করেছি ১ হাজার ২০০। এর মধ্যে ৮টি মামলায় আসামি একজন করে। দ্বিতীয় কাউকে অপরাধী পাইনি, তাদের নাম লিখব কী করে? আমরা এটা করিনি। কিন্তু অনেকেই হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা করেছেন। তারপর তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছেন। এসব হারাম।
জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আমি মায়েদের অত্যন্ত সম্মান করি। আমার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নামে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে। একটা দল সেটি নিয়ে হইহই রইরই করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। যারা মায়েদের সম্মান করে না তারাই এখন মিছিল করছে। সাত ঘণ্টা পর আমার এডমিন একাউন্টের এক্সেস ফিরে পেয়েছে। এই সাময়িক সময়টুকুতে যদি কোন মা ওদের অপতথ্যের কারণে মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
শেরপুরের উন্নয়নের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যেহেতু কৃষিপ্রধান এলাকা, এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে ভালো হবে। এ জেলায় মেডিকেল কলেজ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশের কোন জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। আর যেখানে যে ইন্ডাস্ট্রিজ প্রয়োজন সেটি গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্য শেষে জামায়াতের আমীর শেরপুর-১ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। সেইসঙ্গে তাঁদেরকে ভোট প্রদানের জন্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানান।
নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর শাহাদাৎ হোসাইন, সাবেক সেক্রেটারি জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইলাহী, শেরপুর জেলা এবি পার্টির সভাপতি জাহান মল্লিক, খেলাফত মজলিস শেরপুর জেলা শাখার আমীর আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শফিকুল ইসলাম, জেলা এনসিপির আহবায়ক লিখন মিয়া, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মামুনুর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুজ্জামান মাসুম, জুলাই যোদ্ধা খোকন চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ বক্তব্য দেন। জনসভায় শেরপুরের জেলা, উপজেলা ও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক ও জনতা উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

নবীনগরে আগুনে বিএনপির কার্যালয়সহ ৪ দোকান ভস্মীভূত

মোঃ দেলোয়ার হোসেন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নাটঘর ইউনিয়নের একুইছড়া গতকাল (০১/০২/২৬) দিবাগত গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিএনপির কার্যালয়সহ চারটি দোকান আগুনে ভস্মীভূত হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়- গভীর রাতে হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের মাইক দিয়ে আগুন লাগার ঘোষণা শুনে গ্রামবাসী ঘটনা স্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ভাবে আগুনের সূত্রপাত জানা যায়নি । তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের মাঝে ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কেউ বলছেন বৈদ্যুতিক শট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ জানান-“রাত ১১টায় নাটঘর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর পাই। এ আগুনে অফিসের আশে-পাশের দোকান গুলো পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান- রাত ১টার দিকে বাজারে আগুনে ঘটনা ঘটে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ প্রথমে আগুন দেখতে পান এবং পরে মাইক দিয়ে ঘেষনা দেওয়ার পর আমরা বাজারে আসি। ধারনা করছি বিএনপির অফিসের বিদ্যুতের লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির বলেন-“বাজারের পাশে আমার বাড়ি। আগুন লাগার পর যখন বাজারে আসি, তখন আবু হানিফ আমাকে বললেন- বিদ্যুৎ থেকে আগুন লেগেছে।”
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান-“একুইছড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনের নিরাপত্তায় সব সংস্থা মিলে কাজ করার প্রত্যয় জিওসি’র

মোঃ নিশাদুল ইসলাম নিশাদ:
​আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাজিম-উদ-দৌলা, এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি, পিএইচডি।
০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তিনি জেলা প্রশাসন এবং সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
​সকালে জিওসি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান ১০১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মেহেদী হাসান চৌধুরী, পিএসসি। সেখানে তিনি এলাকার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন।
​এরপর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় মেজর জেনারেল নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, “একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
​উক্ত সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র‍্যাব (RAB), বিজিবি (BGB), এনএসআই (NSI) এবং আনসার ও ভিডিপিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে বিশদ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
​পরবর্তীতে জিওসি নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের শৃঙ্খলা ও আন্তঃবাহিনীর মধ্যে শক্তিশালী যোগাযোগ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
​সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উচ্চপদস্থ এই সামরিক কর্মকর্তার সরাসরি তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগ আসন্ন নির্বাচনে জেলায় একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার ক্ষমতা ইরানের  আছে: ওয়াশিংটন পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা বিষয়ক মূল্যায়ন নথির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরান এখনো কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থে আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। এসব সামরিক স্বার্থের মধ্যে রয়েছে ১০টিরও বেশি ঘাঁটি এবং দশ হাজার মার্কিন সেনা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক মিত্রের প্রস্তুতকৃত মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান গোলাবারুদ, উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এসব সক্ষমতা এই অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই সক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্প এর আগে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও এখন এই অবস্থান পরিবর্তন করে তেহরানকে পরমাণু বিষয়ক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে সরে যাওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক ইরানি কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান সম্মানজনকভাবে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ ও সামরিক হুমকির মধ্যে আলোচনায় বসবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১২ দিনের হামলায় দখলদার ইসরায়েলের পাশে ছিল, যার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দেখিয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং নতুন কোনো সংঘাত হলে এসব হামলা সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে না।

এদিকে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি আরব দেশ ঘোষণা করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

যারা মি*থ্যা বলে, তারা কখনো জনদরদী হতে পারে না: তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক: নির্বাচনের আগে একটি দল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে হাজারো-কোটি মানুষের সামনে দাঁড়িয়েও যারা মিথ্যা কথা বলে তারা আর যাই হোক, কখনো জনদরদী হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ সোমবার নগরীর খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখছি একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরে আটকে রাখতে চায়। দলটির একজন নেতা পরিষ্কারভাবে নারীদের অসম্মান করেছেন। অথচ আমাদের মহানবীর স্ত্রী বিবি খাদিজা ছিলেন একজন কর্মমুখী নারী এবং সফল ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বলছে তারা ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের আগে তারা নারীদের নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্য করছেন। এরা শুধু নিজেদের স্বার্থ নিয়েই কথা বলছে।’

এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল আইডি হ্যাক নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে যারা ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায়, তারা নির্বাচনে সুযোগ পেলে তাদের আচরণ কী হতে পারে? তারা দেশের স্বার্থ বুঝে না, তারা শুধু নিজের স্বার্থ বুঝে। স্বার্থের প্রয়োজনে তারা ধর্মকে ব্যবহার করে।’

জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের কাছ থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে তখন বললো আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে। অথচ, যারা বিশেষজ্ঞ তারা বলেছে এভাবে আইডি হ্যাক হতে পারে না। এরা নির্বাচনের আগে নিজেদের স্বার্থে নেতা থেকে পুরো দল মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। তারা মিথ্যাবাদী। হাজারো-কোটি মানুষের সামনে দাড়িয়েও যারা মিথ্যা কথা বলে তারা আর যাই হোক, এরা কখনো জনদরদী, দেশদরদী হতে পারে না।’

খুলনাকে মৃত শিল্প নগরী হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প নগরীকে পুনরায় জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তরুণদের জন্য আইটি পার্ক এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ ছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার কৃষক ভাইদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণাও দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা আপনাদের অপমান করে, তাদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা আপনাদের অধিকার ফিরে পাবেন, ইনশাআল্লাহ।’

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ডিএমপির ৩টি হটলাইন চালু, অভিযোগ জানাতে অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষ্যে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

হটলাইন নম্বরগুলো হলো : 01320037358, 01320037359, 01320037360

২ ফেব্রুয়ারি সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এসব হটলাইন নম্বরের মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বা অভিযোগ সহজে এবং দ্রুত পুলিশকে জানানো যাবে। নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য বা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এ সংক্রান্তে পুলিশের হস্তক্ষেপের বিষয়ে এসব মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ করা হলো।

তিনি আরও জানান, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে ডিএমপি।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

শিক্ষাবিদ-আইনজীবি আব্দুল হাই শিকদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আলোকিত প্রতিবেদক: 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আব্দুল হাই সিকদার ২০১০ সালের ০২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। তিনি ছিলেন ভান্ডারিয়া বিহারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক এবং পিরোজপুর জেলা ভান্ডারিয়া কোর্টের অ্যাডভোকেট। তাহার মৃত্যুবার্ষিকী আজও ভান্ডারিয়ার মানুষ স্মরণ করেন। তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন সততা শৃঙ্খলা নৈতিকতা মানুষের প্রতি ভালবাসার মূল্য। একজন শিক্ষক হিসেবে উনি গরিব অসহায় ছাত্র-দের বিনামূল্যে শিক্ষাদান করতেন। একজন শিক্ষক হিসেবে তার লেখা পাঠ্যবই ছিল বাংলা স্টার, ইংরেজি স্টার, স্টার গ্রামার, একজন ভালো লেখকও ছিলেন তিনি। ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যিক ছিলেন। এডভোকেট হিসাবেও গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে থাকতেন সর্বদা। আব্দুল হাই শিকদার ব্যক্তিগত জীবনে তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। সবাই শিক্ষিত এবং কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন, তাহার মেয়ে ড.সাবিনা ইয়াসমিন বলেন আমার বাবা পৃথিবীর সেরা বাবা, কারণ আমার বাবার মৃত্যু কালীন সময় ছিল মাত্র নয় টাকা, এক কাপ চা ও একটি পান, এর মূল্য টাকা ভাঙতি না থাকায় সে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয় সেই অসুস্থ কেন্দ্র করে তার মৃত্যু হয়। তাহার বড় ছেলে ইমাম হোসেন পলাশ বলেন এমন সৎ মানুষের দৃষ্টান্ত খুব কম পাওয়া যায়। আব্দুল হাই শিকদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছরে পারিবারিক ভাবে দোয়ার আয়োজন করা হয়। আজও ভান্ডারিয়ার থানার মানুষ তাকে স্মরণ করে, হাই স্যার এর মতন একজন আদর্শ মানুষ আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মহান আল্লাহতালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন আমিন।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম

জামায়াতে ইসলামী দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: মির্জা ফখরুল

বিশেষ প্রতিবেদক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এই দেশটাকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। ওরা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। ওরা এমন একটা দল, যারা আমাদের সামনের দিকে যেতে বাধা দেয়। আমরা পেছনের দিকে যেতে চাই না, আমরা সামনে যেতে চাই।’

আজ সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের লালমিয়া মার্কেটে নির্বাচনী প্রচারণাকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা নারীরা বেশি ছেলেদের চেয়ে। আপনারা জানেন মা-বোনেরা? আপনাদের সংখ্যা বেশি। নারী-পুরুষ সমান অধিকার। ইসলাম ধর্মেও বলা আছে- আল্লাহ তায়ালা বলেছেন – মেয়েদের সমান যে অধিকার প্রাপ্য সেটা তাদেরকে দিতে হবে। এই বিষয়গুলো জামায়াত মানুষকে ভুল বুঝায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা বলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যায়। বেহেশতে যাবে নাকি? যাবে না। এভাবেই তারা ভুল বোঝায়, এই ভুলগুলো আমরা বুঝতে চাইনা। আমরা চাই মানুষ এখানে সঠিক ভাবে সত্য কথা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় বের হয়েছে আমি জানিনা সত্য না মিথ্যা, জামায়াতের আমিরের এক্সহেন্ডেল হ্যাক হয়েছে। জামায়াতের আমির সাহেব মহিলাদের বিরুদ্ধে নাকি কথা বলেছেন। আমি কিন্তু এসব জানিনা, আমি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করতেছি? বাজে কথা বলেছেন! জামায়াতের আমির যদি নারীদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করে থাকেন তাহলে অন্যায় করেছেন, সঠিক করেন নাই। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তবে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারটাই হচ্ছে এমন- ওরা তো মহিলাদের কাজ করতে দিতে চায় না। বলে মহিলারা ঘরে থাকবে, কাজ করবে না। ওই যে গার্মেন্টসে যারা কাজ করে মেয়েরা, তাদেরকে বলে দিয়েছে পাঁচ ঘন্টার বেশি কাজ করতে পারবা না। কাজ না করলে খাবে কি?’

এসময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঈদের পর বইমেলা চান ২৬২ প্রকাশক,মেলায় অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি

আলোকিত প্রতিবেদক:

প্রকাশনা শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরে আয়োজনসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন সাধারণ প্রকাশকরা। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে বইমেলায় ২৬২ প্রকাশক অংশ না নেওয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন।

২ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষে এসব দাবি জানান ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক এবং অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬-এর সদস্য মাহরুখ মহিউদ্দিন।

প্রকাশকদের অন্য দাবি হচ্ছে— স্টল এবং প্যাভিলিয়ন ভাড়া মওকুফ ও সরকারি খরচে অবকাঠামো নির্মাণ করা; শিক্ষার্থী ও পাঠকদের জন্য সরকারি ‘বই-ভাতা’ বা প্রণোদনা চালু করা; এবং সরকারিভাবে প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি কিনে নেওয়া।

মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্প আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটে দাঁড়িয়ে আছে। অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বিক্রির স্থান নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো— আন্তর্জাতিক জরিপে পাঠাভ্যাসে বাংলাদেশ ১০২ দেশের মধ্যে ৯৭তম, দেশে প্রকাশিত ৯৫ শতাংশ বইয়ের প্রথম মুদ্রণ ৩০০ কপি বা তার কম, আর এর ৭০ শতাংশ বই সেই কপিও বিক্রি হয় না। বিগত দেড় বছরে বই বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। উন্নত দেশে রাষ্ট্র যেখানে লাইব্রেরি ও পাঠকের জন্য হাজার হাজার কপি বই কিনে লেখক ও প্রকাশকদের সুরক্ষা দেয়, সেখানে আমাদের প্রকাশকরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ঝুঁকিতে সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকে বই প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় টিকে থাকা নিছক ব্যবসা নয়, এটি এক ধরনের আত্মত্যাগ বা ‘স্যাক্রিফাইস’। তাই প্রকাশনা শিল্প রক্ষায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং এবারের বইমেলা ঈদের পরে আয়োজন এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা তিনটি বড় সংকটের মুখোমুখি। প্রথমত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা— ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রোজা এবং সামনে ঈদ থাকায় মানুষের ব্যয় পোশাক ও খাদ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে, উপরন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না; পাঠকশূন্য মেলায় স্টল নেওয়া নিশ্চিত লোকসান। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন লজিস্টিক সংকট— প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিক এবং স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া কঠিন, নির্মাণসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, ফলে তাড়াহুড়ো করে মেলা আয়োজন বাস্তবসম্মত নয়। তৃতীয়ত, মানবিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা— স্টলের অধিকাংশ কর্মী শিক্ষার্থী; ঈদের আগে তারা বাড়ি যেতে চাইবেন, যা ঠেকানো অমানবিক, আর রোজা রেখে সারাদিন কাজ করে ইফতারের পর ক্লান্ত শরীরে স্টলে দাঁড়িয়ে কাজ করা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও মানবিক অধিকারের পরিপন্থি। এ প্রেক্ষাপটে আমরা চার দফা দাবি জানাচ্ছি— ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের ঘোষণা, স্টল ভাড়া মওকুফ ও সরকারি খরচে অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য বই-ভাতা চালু এবং সরকারিভাবে প্রতিটি মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি ক্রয়ের নীতি প্রণয়ন। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এসব দাবি মানা না হলে ৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ২৬২ জন প্রকাশকসহ সাধারণ প্রকাশকদের পক্ষে আসন্ন বইমেলায় অংশগ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা মেলা চাই, কিন্তু ধ্বংসের পথে যেতে চাই না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাকলীর প্রকাশক এ কে নাসির আহমেদ, অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, অ্যাডর্নের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, আদর্শের প্রকাশক এবং অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬-এর সদস্য মাহবুব রহমান প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ফেব্রুয়ারি ২০২৬/মওম