আজ বৃহস্পতিবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 91

ঘিওরে বিনম্র শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত

প্রতিনিধি, ​ঘিওর (মানিকগঞ্জ):

যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওরে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনতা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে বীর শহিদদের।
২৬ মার্চ ​বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সময় তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সকাল ১০টায় উপজেলা চত্বরে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

​দিবসটি উপলক্ষে ঘিওর কেন্দ্রীয় স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ। শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

​ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাশিতা তুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং ঘিওর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মোঃ মেঝবা উদ্দিন খান।
​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন-ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ​কাজী ওয়াজেদ আলী মিস্টার, সহসভাপতি ​অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম খান মনোয়ার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর
​মাওলানা মোঃ জহিরুল ইসলাম।
​এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ঘিওর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোকিত প্রতিদিন /২৬ মার্চ ২০২৬ /মওম

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আলোকিত ডেস্ক:

মহান স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ সেনা, নৌ এবং বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে সই করেন রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধান।

এরপর বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতারা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদেন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা এ স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন /২৬ মার্চ ২০২৬ /মওম

বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিবসে অ‌ভিনন্দন জানালো পা‌কিস্তান

আলোকিত প্রতিবেদক:

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণ‌কে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানি‌য়ে‌ছে পা‌কিস্তা‌ন।

স্বাধীনতা দিবস উপল‌ক্ষ্যে ২৬ মার্চ বৃহস্প‌তিবার পা‌কিস্তা‌নের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তায় এ অভিনন্দ জানি‌য়ে‌ছে।

বার্তায় বলা হ‌য়ে‌ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণ বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে তাদের উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানায়।

পাকিস্তান বাংলা‌দে‌শের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে এবং দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং সহযোগিতা আরও গভীর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

আলোকিত প্রতিদিন /২৬ মার্চ ২০২৬ /মওম

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ: আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশ-সহ মোট ৬টি দেশের জাহাজে কখনও হামলা করা হবে না। বাকি ৫টি দেশ হলো ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাক।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি; সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হরমুজে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে অনেক রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক দেশকে আমরা মিত্র বলে বিবেচনা করি।”

“আমি যদ্দুর জানি, হরমুজ প্রণালিতে ৬টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)। এই দেশগুলো হলো চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে সম্মতিও জানিয়েছে। এই ছয় দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সবসময়, এমনকি যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা প্যাসেজ পাবে।”

প্রসঙ্গত, জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ন। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান, ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরহারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।

ইরান অবশ্য এর আগেও বলেছে যে এই অবরোধ শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর প্রযোজ্য হবে। ‘অশত্রু’ কিংবা ‘মিত্রভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

তবে মিত্রদেশগুলোর জাহাজে হামলা না করলেও হরমুজে এসব দেশের জাহাজ চলাচলে কিছু নিয়ম জারি করেছে ইরান। এর মধ্যে প্রধান নিয়মটি হলো— হরমুজে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক সব বিদেশি জাহাজকে অবশ্যই টোল দিতে হবে— এমন একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইতোমধ্যে সেই আইনের খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

আলোকিত প্রতিদিন /২৬ মার্চ ২০২৬ /মওম

দৌলতদিয়ায় ৪০ যাত্রী নিয়ে নদীতে বাস,উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি

রুহুল আমিন: 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করছে বিআইডব্লিউটিসি। মূলত একটি ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

২৫ মার্চ বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোয়া ৫টার দিকে বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু করেনি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। বড় হতাহতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এসেছেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার, জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের কর্মকর্তারা। তারা এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রত্যক্ষদর্শী, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। পন্টুন থেকে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ছয়-সাত জন সাঁতরে তীরে উঠলেও বাকিরা নিখোঁজ আছেন।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‌‘৪০ জনের মতো যাত্রী ছিল বাসটিতে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযান শুরু করবে। দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।’

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‌‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’

মনির হোসেন আরও বলেন, ‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেলো। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন। আমরা বাসটি উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছি। এখনও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি।’

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলছে। হামজা উদ্ধার অভিযান শুরু করবে।’

আলোকিত প্রতিদিন /২৫ মার্চ ২০২৬ /মওম

গৌরবদীপ্ত ২৬শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস

আলমগীর মতিন চৌধুরী:

কোটি কোটি বাংলাদেশের মানুষের গৌরবদীপ্ত ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আগামীকাল। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিন। স্মৃতিময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৬তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশ। একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ অবস্থায় গ্রেফতার হয় শেখ মুজিবুর রহমান, ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। শুরু হয় স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধ। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে কেঁপে উঠেছিল জেনারেল আইয়ুবের গদি। ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা-পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ করাচী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল গ্রাম-শহর, জনপদ। শত ষড়যন্ত্র ও সামরিক জান্তার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সত্তরের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাঙালির হাতে শাসনভার দেওয়ার বদলে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির জুলফিকার আলী ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার নামে করতে থাকেন কালক্ষেপণ। পর্দার আড়ালে প্রস্তুত হয় হিংস্র কায়দায় বাঙালি হত্যাযজ্ঞের ‘নীলনকশা’। বাঙালির আবেগ, সংগ্রাম ও মুক্তির আকাক্সক্ষাকে নির্মূল করতে অস্ত্র হাতে নামে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী। শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে রক্তের বন্যায় ডুবিয়ে দিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু করে পৃথিবীর ইতিহাসের নিষ্ঠুর গণহত্যা। সেই কালরাত্রি থেকেই শুরু হয় মৃত্যু, ধ্বংস, আগুন আর আর্তনাদ, পৈশাচিক বর্বরতা। কিন্তু ওই ঘোরতর অমানিশা ভেদ করেই দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর নতুন সূর্য। ২৬ মার্চ সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন বাঙ্গালি সেনা অফিসার দেশপ্রেমিক মেজর জিয়াউর রহমানের কন্ঠে ভেসে আসে স্বাধীনতার ঘোষণা। পূর্বাপর শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমনপীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীলনকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীরসন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।

এ আত্মদানের ভিতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করা সত্ত্বেও বাঙালির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে ছলচাতুরী করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। প্রতিবাদে ১৯৭১ সালের মার্চে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে এ ভূখন্ডের মানুষ। সমস্যা সমাধানের পথ পরিহার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে গণহত্যা শুরু করে। লাখো শহীদের আত্মদানের পথ ধরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করি আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদ্যাপন করা হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ৫৬তম বার্ষিকী। ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার
বীরত্বে জাতি স্বৈরাচারের অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে মুক্তি মিলে। জাতি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি­ রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা। এরপরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে সৌধপ্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কর্মমুখর
বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত-পথ নির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতা জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আজকের এই দিনে সশ্রদ্ধচিত্তে ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, সংগঠক ও সর্বস্তরের জনগণকে-যাঁরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদেরকে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে চলার সাহস যোগায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরের জনগণের ক্ষমতায়নকে সুসংহত করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে সাম্য, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী-সমৃদ্ধ মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও অনাকাঙ্খিত জ্বালানি পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব দেশ ও দশের ওপর পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে। এসময় দৃঢ় জাতীয় ঐক্য, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম খুব জরুরি। তিনি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বানীতে বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। ৫৬তম ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি  বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’ প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশাপাশি সারা দেশে স্থানীয় স্মৃতিসৌধগুলোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয়েছে। আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং ঢাকা নগরীতে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হবে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে। আজ আমরা স্বাধীনতার ৫৪ বছরে। বাঙালি জাতির জীবনে ২৬ মার্চ দিনটি একই সঙ্গে গৌরব ও শোকের। বাংলার মানুষের ওপর পাকিস্তানি শাসকরা শোষণ এবং ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর যে আগ্রাসন চালিয়েছিল, এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধিকারের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাঙালিরা। তারা ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পরাধীনতার শিকল ভেঙে বিশ্বের বুকে স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছিল বীর বাঙালি। মৃত্যুপণ লড়াই ও রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

দেশে স্বর্ণের দামে আবারও পতন, ভরিতে কমলো ৫৪৮২ টাকা

আলোকিত ডেস্ক:

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে পাঁচ হাজার ৪৮২ টাকা। এর ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়।

২৫ মার্চ বুধবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই সারাদেশে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে দুই লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকায়। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

গত ১৯ মার্চ দু’বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। পৌনে ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে দু’বারে সোনার দাম ভরিতে কমে ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৪৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২০ বার কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।

স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা পাঁচ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট চার হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন রুপা প্রতি ভরি তিন হাজার ৩২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন /২৫ মার্চ ২০২৬ /মওম

ভারত সফর আপাতত স্থগিত করলেন শাকিরা

বিনোদন ডেস্ক:

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে শাকিরার ভারত সফর আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। শাকিরার ‘ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট’ নিয়ে উত্তেজনার পারদ ছিল ভারতে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সে আশায় জল ঢেলে দিল ।

আয়োজক সংস্থা ‘ডিস্ট্রিক্ট বাই জোম্যাটো’ ইনস্টাগ্রামে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে শাকিরার ফিডিং ইন্ডিয়া কনসার্ট আপাতত স্থগিত করা হলো। অনুরাগী, শিল্পী ও প্রোডাকশন টিমের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’ আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক টিকিট হোল্ডার পাঁচ থেকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে টিকিটের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত পেয়ে যাবেন। তবে এ ঘোষণায়ও শান্ত হননি অনুরাগীরা।

শেষবার ২০০৭ সালে মুম্বাইয়ে পারফর্ম করেছিলেন পপ তারকা শাকিরা। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর পর ১০-১১ এপ্রিল মুম্বাই ও ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে তার মঞ্চ মাতানোর কথা ছিল। শাকিরা নিজেও এ সফর নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন। আয়োজকরা শিল্পীর টিমের সঙ্গে কথা বলে নতুন তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে চাচাতো ভাই-বোনের ম*র্মান্তিক মৃ*ত্যু

মো: মহিদ:

মানিকগঞ্জে কালিগঙ্গা নদীতে গোসল করতে নেমে চাচাতো ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ২৫ মার্চ দুপুরে সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের বালিরটেক বাজার সংলগ্ন পুরাতন ট্রলার ঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের আজহার মিয়ার ছেলে মো. আকাশ মিয়া (২০)। একই উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর মেয়ে মোসা. সাদিয়া আক্তার (১৯)। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে গোসল করতে নেমে হঠাৎ পানিতে ডুবে যায় দুইজন। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর আকাশ মিয়াকে এবং কিছু সময় পর সাদিয়া আক্তারকে পানির নিচ থেকে তুলে আনেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রথমে একজনকে উদ্ধার করা হলেও অপরজন নিখোঁজ ছিল। পরে তাকেও উদ্ধার করা হলে দুজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আলোকিত প্রতিদিন /২৫ মার্চ ২০২৬ /মওম

টাঙ্গাইলে গোরস্থানের জমি নিয়ে সং*ঘর্ষে নি*হত ১, আহত ৭

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে গোরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে নাইম সওদাগর(১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত নাইম ওসমান সওদাগরের ছেলে ও হাতিয়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বুধবার(২৫ মার্চ) সকালে কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, রামদেবপুর দক্ষিণপাড়া গোরস্থানের জমি নিয়ে স্থানীয় সওদাগর ও সিকদার পরিবারের মধ্যে প্রায় আড়াই মাস ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে একাধিকবার ঝগড়া ও হামলার ঘটনা ঘটে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও মীমাংসা হয়নি। এমনকি এরই জের ধরে ঈদুল ফিতরে দুই পক্ষ আলাদাভাবে জামাতে নামাজ আদায় করে। একই বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার(২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় আবার দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি হয়। ওইদিনের ঝগড়ার জেরে বুধবার সকালে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে নাইম সওদাগর দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সহ দলবল নিয়ে সিকদার পরিবারের পক্ষের হামিদ মন্ডলের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় সিকদার পরিবারের লোকজন পাল্টা হামলা করলে উভয় পরিবারের ৮জন আহত হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় কলেজছাত্র নাইম সওদাগরকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
আহতদের মধ্যে সওদাগর পরিবারের পক্ষের মাজাহারুল ইসলাম(১৮), সাকিল সওদাগর(২৩) ও বক্কর সওদাগর(২০) এবং সিকদার পরিবারের পক্ষের হবিবর রহমান সিকাদার(৪৫), তার বাবা আ. আজিজ সিকদার(৭৬), মামুন সিদার(৩৫), হাফিজুর সিকদারকে (৩১) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে আহত আজিজ সিকদারের ছেলে হবিবর রহমান সিকদারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জেওএম তৌফিক আজম জানান, গোরস্থানের জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম