আজ বুধবার, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 71

সুন্দরবনে ঝড়ে নিখোঁজ চার মৌয়াল, অসহায় পরিবারের পাশে এম পি গাজী নজরুল ইসলাম

এস কে সিরাজ:

সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়া জেলেদের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে শ্যামনগরের কয়েকটি পরিবার। পুরো ঘটনায় উঠে এসেছে জীবন-মৃত্যুর লড়াই, সীমান্তসংলগ্ন উত্তেজনা এবং প্রকৃতির নির্মম রূপ। এ অবস্থায় নিখোঁজদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ছুটে যান সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলাম।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল শ্যামনগর উপজেলার তারানীপুর গ্রামের মোহাম্মদ শেখের পুত্র আল মামুনসহ মোট ৮ জন বৈধ পাশ নিয়ে সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী এলাকা দিয়ে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তারা তালপট্টি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করেন এবং ভুলবশত ভারতীয় অংশে যান। সেখানে একদিন অবস্থানের পর একটি খালের ভিতরে কাজ করার সময় ভারতীয় বনরক্ষীরা তাদের নৌকাটি আটক করে নিয়ে যায়। এতে তারা জঙ্গলের মধ্যে নৌকাবিহীন অবস্থায় চরম বিপদের মুখে পড়েন।
নৌকা হারিয়ে তারা জঙ্গলের ভিতরে কিছু সময় অবস্থান করার পর সবাই একত্রিত হয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। নদীর তীরে এসে গেমো গাছ নদীর তীরে পাওয়া ড্রাম দিয়ে একটি ভেলা তৈরি করেন এবং আটজন একসঙ্গে সেই ভেলায় উঠে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা শুরু করেন।
গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কাছিকাটা এলাকার পাগলের খাল সংলগ্ন নদীতে তারা ভেলা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু নদীর মাঝামাঝি পৌঁছানোর পরপরই হঠাৎ প্রবল ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হয়। তীব্র স্রোতে ভেলাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বাংলাদেশে আসার পরিবর্তে উল্টো দিকেও সরে যেতে থাকে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তারা ভেলাটি খুলে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় কেউ ড্রাম ধরে, কেউ সাঁতরে বাঁচার চেষ্টা করেন। ঝড়, বৃষ্টি আর তীব্র স্রোতের মধ্যে তারা সারা রাত নদীতে ভেসে থাকেন।
জীবিত ফিরে আসা মনিরুল ইসলাম (পিতা আরাব মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর) জানান, “আমরা আটজন একসাথে ভেলায় উঠেছিলাম,মাঝ নদীতে ঝড় শুরু হলে ভেলা আর নিয়ন্ত্রণে ছিল না, পরে ভেলা খুলে যে যার মতো বাঁচার চেষ্টা করি, সারা রাত পানিতে ছিলাম, কানতে কানতে ভেসেছি,ভোরের দিকে আমি তীরে উঠি, পরে আরও দুইজন এবং কিছুক্ষণ পর আরেকজনকে পাই—মোট চারজন বেঁচে ফিরেছি। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে চারজন বাংলাদেশ অংশে উঠতে সক্ষম হন। তারা হলেন— মনিরুল ইসলাম (পিতা আরাব মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর, গ্রাম তারানীপুর), আল মামুন (পিতা মোহাম্মদ শেখ, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর, গ্রাম তারানীপুর), সবুর (পিতা আকবর মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর, গ্রাম গোদাড়া নয়াবেকি), ইউনুস (পিতা জলিল মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৪২ বছর, গ্রাম গোদাড়া নয়াবেকি)। পরে তারা হলদিবুনিয়া ফরেস্ট অফিসে পৌঁছে কোস্টগার্ডের সহযোগিতা নেন। অন্যদিকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন চারজন— মিকাইল হোসেন (পিতা মৃত রহমান গাজী, বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর, গ্রাম সোরা), অলিউর রহমান লিটন (পিতা ওহিদ মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর, গ্রাম গোদাড়া নয়াবেকি), কবির হোসেন (পিতা ফারুক গাজী, বয়স আনুমানিক ৪২ বছর, গ্রাম গোদাড়া নয়াবেকি), আকবর মোল্লা (পিতা আমিন মোল্লা, বয়স আনুমানিক ৭২ বছর, গ্রাম গোদাড়া নয়াবেকি)।
তাদের পরিবারে এখনো চলছে আহাজারি ও অনিশ্চয়তা। স্থানীয় বনবিভাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ঢাকায় অবস্থানকালেই বন বিভাগ, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে রাতভর যাত্রা করে শ্যামনগরে এসে তিনি নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, ভেটখালী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাস্টার গাজী নজরুল ইসলাম এবং শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য মো. রাকিবুল্যাহ সোহাগসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন /১৩ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

ইরানে ফের হামলা চালানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প : দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু করার কথা চিন্তা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের যে ঘোষণা দিয়েছেন তার সাথে আবারো বিমান হামলা চালানোর বিষয়টিও তার বিবেচনায় আছে।

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করা হবে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ‘বাধা দেবে না’। এখন এ অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

আর ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে তেহরান ‘নতি স্বীকার’ করবে না। এদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউজ থেকে বিবিসিকে বলা হয়েছে, সব পথই খোলা রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়ে ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধ করেছেন। একইসাথে বুদ্ধিমত্তার সাথে সব বিকল্প পথও খোলা রেখেছেন। ওয়াল স্ট্রিটকে যারা বলেছেন প্রেসিডেন্ট এরপর কী করবেন তারা স্রেফ অনুমান করে বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক পোস্টের পর হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওই পোস্টে তিনি বলেছেন, ইউএস নৌ-বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা ছেড়ে যেতে চেষ্টা করা যে কোনো এবং সব জাহাজকে অবরোধ করবে।

এদিকে, ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি জানিয়েছে, এই নৌপথের কাছাকাছি আসা যে কোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘তারা এখন আলোচনায় ফিরলেও কিছু যায় আসে না’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আরেক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানে ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

‘কারণ ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক।’ এদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির কাছে মেরিল্যান্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরান যদি এখন আলোচনায় ফিরে না আসে, তাহলেও কোনো সমস্যা নেই।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার একদিন পর ট্রাম্প বলেন, তারা ফিরে আসুক বা না আসুক, আমার কিছু যায় আসে না। যদি তারা ফিরে না আসে, তাহলেও আমার কোনো সমস্যা নেই (আই অ্যাম ফাইন)।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র চায় এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা এই ইচ্ছে প্রকাশ করেছে।

সূত্র : বিবিসি।

আলোকিত প্রতিদিন /১৩ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

৭২ ঘণ্টার আ*লটিমেটাম: বগুড়ায় নেতাকর্মীদের নামে ‘মি*থ্যা মা*মলার’ প্র*তিবাদে ফুঁ*সছে রাজপথ

​মাজেদুর রহমান,ব্যুরো চীফ:
​বগুড়া শহরের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সাতমাথা। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়েরকৃত মামলাকে ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
​রবিবার সকাল ১১টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দল। শহরের চেলোপাড়া ও ফুলবাড়ি এলাকা থেকে আগত প্রায় ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করেন রাজপথ। সমাবেশে বক্তারা চেলোপাড়ার কুখ্যাত ‘সান্দার পট্টি’ উচ্ছেদ এবং অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ঘটা হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক নেতাদের নামে মামলা দিয়ে ফায়দা লোটার তীব্র নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে ফুলবাড়ি এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রবিন হোসেন নামে এক ব্যক্তি খুন হন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান শম্ভু, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিনুর হাসান শাওনসহ আপেল, রাহুল, রায়হান, সামাদ ও নীরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করে রাজনৈতিক শক্তিকে দমনেই এই ‘সাজানো’ মামলা দেওয়া হয়েছে।
শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আদিল শাহরিয়ার গোর্কি। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল।
​বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ​”বিএনপির কিছু বহিষ্কৃত নেতা আজ পকেটমার, ছিনতাইকারী ও সুদখোর সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উল্লাপাড়া থেকে আসা ‘সান্দার’ গোষ্ঠীরা করতোয়া নদীর জায়গা দখল করে শহরজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীরা বগুড়ার জন্য এখন ক্যান্সারে রূপ নিয়েছে। এদের এখনই শহর থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে সমাবেশ থেকে জানানো হয়, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা না হয়, তবে বগুড়াবাসী বসে থাকবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায় এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, তবে দাবি আদায় না হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর ও বৃহত্তম কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নিরপরাধ নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে আরডিএ বগুড়া ও রাকাব-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

বগুড়া অফিসঃ
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়াতে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায়  কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং  আরডিএ বগুড়ার মহাপরিচালক ডক্টর মোঃ আব্দুল মজিদ প্রামানিক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গোলাম মরতুজা বিশেষ আলোচনায় মিলিত হন।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করাই ছিল এই সভার প্রধান উদ্দেশ্য।
সভায় দুই প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ কার্ডের প্রায়োগিক দিক এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ডক্টর মোঃ আব্দুল মজিদ প্রামানিক (মহাপরিচালক, আরডিএ) বলেন, “কৃষক কার্ড গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। আরডিএ-র গবেষণা ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান এই কার্ডের সঠিক ব্যবহারে কৃষকদের দক্ষ করে তুলবে।
মোঃ গোলাম মরতুজা (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাকাব) বলেন, “রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কৃষকদের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং প্রকৃত কৃষকরা দ্রুততম সময়ে আর্থিক সুবিধা লাভ করবেন।”
সভায় কৃষক কার্ড বিতরণের ডাটাবেজ যাচাই, সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরডিএ ও রাকাব-এর যৌথ তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়।
১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই সভায় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল নাগাদ ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট কৃষি বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

ফুল চাষে নতুন সম্ভাবনা ‘বিনা গ্ল্যাডিওলাস-১

খালেদ হাসান :

কৃষিভিত্তিক পণ্য হিসেবে দেশে ও বিশ্বে ফুলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ফুলের চাহিদা প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ফুল চাষ কে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও ফুল চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং কৃষকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। ১৯৮২-৮৩ অর্থবছর থেকে ফুলকে দেশে অর্থকরী ফসল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে সরকার ফুলকে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকাভুক্ত করে, যা এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে দেশের প্রায় ২০ টি জেলায় কমবেশি ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করা হচ্ছে।এদিকে ফুল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত ‘বিনা গ্ল্যাডিওলাস১’ নামের নতুন জাত। ২০২৫ সালের ৫ মে জাতীয় বীজ বোর্ড এ জাতটি সারাদেশে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। নতুন এই জাতটির অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এর দৃষ্টিনন্দন রং—গোলাপি পাপড়ির মাঝে সাদা ডোরাকাটা নকশা, যা ফুলটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এছাড়া ফুলের আকার বড়, গাছের উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এটি সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিটি স্টিকে ফুলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় উৎপাদনও বেশি হয়। বিশেষ করে, ফুলটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফুলদানিতে সতেজ রাখা যায়, যা বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
বিনা’র উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাসরীন আখতার জানান, ২০১৮ সালে গ্ল্যাডিওলাস ফুলের কয়েকটি বিদেশি জাতের করম (বীজ) সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে এসব করমের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় গামা রশ্মি প্রয়োগ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় একটি জাতের পাপড়িতে ভিন্নধর্মী রঙের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যা মূল মাতৃ গাছ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল।তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে ওই উদ্ভিদটি নির্বাচন করে এর বংশ বৃদ্ধি করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ফলন ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক চাষ পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ার পর জাতীয় বীজ বোর্ডে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘বিনা গ্ল্যাডিওলাস১’ জাতটি দেশে ফুল চাষে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনাকেও আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর মহাপরিচালক ড. শরিফুল হক ভূঞা বলেছেন, ইরাডিয়েশন বা বিকিরণ প্রযুক্তি বর্তমানে উদ্ভিদ প্রজননের একটি আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জেনেটিক বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব, যা ফুল চাষ শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি জানান, ফুলের নতুন জাত উদ্ভাবনে সাধারণত গামা রশ্মি (y-ray) বা এক্স-রে(x-ray) ব্যবহার করা হয়। মিউটেশন ব্রিডিং পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ভিদের আকৃতি, রং, ফুল ফোটার সময় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্ল্যাডিওলাস, গোলাপ, জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকা ফুলের নতুন রঙ, দীর্ঘস্থায়ী এবং অধিক উৎপাদনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ড. ভূঞা আরও বলেন, বাংলাদেশে ফুলের একটি সম্ভাবনাময় বাজার রয়েছে। এ অবস্থায় বাণিজ্যিকভাবে ‘বিনা এর গ্ল্যাডিওলাস১’ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ফুল রপ্তানি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

মানিকগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করলো তাকওয়া ফাউন্ডেশন

মো: মহিদ:

মানিকগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন। ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী কালী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তাকওয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নায়েব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ( রেজিস্ট্রার) মুহাম্মদ মোস্তফা হাবীব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও পয়লা ইউনিয়ন বিএনপি এর সাধারণ সম্পাদক জনাব আলহাজ্ব আল মামুন,তাকওয়া ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ সুলাইমান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জনাব আবুল কালাম আজাদ,তেরশ্রী কে এন ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম,জনাব মোহাম্মদুল্লাহ প্রমুখ।অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মোঃ বাবুল মিয়া।

আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

জুলাই সনদের দফাগুলো বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

১২ এপ্রিল রবিবার সকালে রাজধানীর সেনানিবাসের দরবার হলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নানাভাবে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছিল। তবে আমরা মনে করি সশস্ত্র বাহিনী কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালেল ৫ আগস্ট পরবর্তী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরমতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। এ সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নেই আমরা বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন,সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।

তারেক রহমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সেনাবাহিনীর অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করেন। বলেন সশস্ত্র বাহিনী কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী সেখানে অভ্যর্থনা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।

আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

নবীনগরে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

মোঃ আনোয়ার হোসেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. এম.এ মান্নান। ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির সদস্য মো. মলাই মিয়া, মাসুদুর রহমান মাসুদ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিপুল সংখ্যক কৃষকগণ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন-“সরকার কৃষকদের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করছে। বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং তারা বেশি লাভবান হবেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের প্রণোদনা দিতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।”

আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

টাঙ্গাইলের বহু প্রতিক্ষিত পাথরঘাটা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলে বহু প্রতিক্ষিত বাসাইল, সখীপুর ও মির্জাপুর উপজেলার সংযোগস্থল পাথরঘাটায় ব্রিজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার ১১ এপ্রিল শনিবার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ওই ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল-৭(মির্জাপুর) আসনের এমপি ও বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আমিন শরীফ সুপন, বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. আকলিমা বেগম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ, বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান প্রমুখ।
স্থানীয় জনগণের জন্য দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাথরঘাটা ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিজটি নির্মিত হলে তিনটি উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই ব্রিজ অপরিসীম ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করছে। আগামি ২০২৭ সালের ৩ জুন ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই ব্রিজটি নির্মিত হলে বাসাইল, মির্জাপুর ও সখীপুর উপজেলার মাঝে সংযোগ স্থাপন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে।
আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

গোবিন্দগঞ্জে বি*প্লবী জননেতা কমরেড আব্দুল মতিন তালুকদারের স্বরণসভা অনুষ্ঠিত

এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু :

দুনিয়ার মজদুর এক হও এই বৈপ্লবিক স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আজীবন বিপ্লবী জননেতা কমরেড আব্দুল মতিন তালুকদারের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১১ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাসদ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে মহান এই বিপ্লবীর স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় এবং তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।
বাসদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি কমরেড রফিকুল ইসলাম রফিকএর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালা মানিক দেব এর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুনার রশীদ ভূইয়া।
প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে বলেন, কমরেড আব্দুল মতিন তালুকদার শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আদর্শবাদী ও ত্যাগী বিপ্লবী। মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে মেহনতি মানুষের প্রতিটি লড়াইয়ে তিনি সম্মুখ সারিতে ছিলেন। শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন ও সমাজ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন তিনি দেখে ছিলেন, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন আমাদের। বর্তমান দুঃশাসন ও পুঁজিতান্ত্রিক শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে তার প্রদর্শিত বিপ্লবী পথই আমাদের পাথেয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কমরেড শওকত হোসেন আহমেদ, কমরেড আবুল কালাম আজাদ বাবুল এবং কমরেড সামসুল আলম জুলফিকার।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলার জে এস ডি সভাপতি আয়ুব হোসেন সরকার, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এম মতিন মোল্লা
উপজেলা সিপিবি-র সাধারণ সম্পাদক আল মামুন মোবারক, বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড সন্তোষ গুপ্ত সহ উপজেলার বাম-প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটকালে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। আব্দুল মতিন তালুকদারের অসমাপ্ত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো।
স্মরণ সভায় স্থানীয় বাসদ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
আলোকিত প্রতিদিন /১২ এপ্রিল ২০২৬ /মওম