আজ , ।   
Home Blog Page 697

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত 

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে  কালিয়াকৈর বাসষ্টান্ডে এ  উপলক্ষে  বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মিছিলটি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের লতিফপুর এলাকা প্রদক্ষিন করে পুনরায় কালিয়াকৈর বাসস্টান্ডে  এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ, কালিয়াকৈর উপজেলা বি এন পির সাবেক আহ্বায়ক,   আখতারুজ্জামান  গাজীপুর জেলা বি এন পির সহ সভাপতি মোখলেছুর রহমান মাষ্টার, গাজীপুর জেলা বি এন পির সহ সভাপতি, হযরত আলি মিলন,  কালিয়াকৈর উপজেলা যুব দলের আহ্বায়ক তপন খান,,   উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেই যে ৭ কাজ করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমালা হ্যারিসকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এর মাধ্যমে দেশটির প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এক মেয়াদের বিরতিতে দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফিরছেন সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

মূলত অভিবাসন, অর্থনীতি এবং ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিরে আসতে চলেছেন হোয়াইট হাউসে। তার রিপাবলিকান পার্টি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফের দখলে নেওয়ায় কংগ্রেসে এখন নিজের রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য তিনি প্রচুর সমর্থনও পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, নিজের বিজয় ভাষণে ট্রাম্প “একটি সাধারণ নীতিবাক্য দ্বারা দেশ শাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তা হলো— “প্রতিশ্রুতি দেওয়া, প্রতিশ্রুতি রাখা। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে যাচ্ছি।” তবে কিছু ক্ষেত্রে, তিনি কীভাবে তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে পারেন তার সামান্য বিশদ বিবরণ তিনি দিয়েছেন। ২০২৩ সালে ফক্স নিউজ তাকে প্রশ্ন করেছিল— ক্ষমতায় গেলে তিনি তার ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন কিনা বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করবেন কিনা।

জবাবে ট্রাম্প উত্তর দিয়েছিলেন, “প্রথম দিন ব্যতীত” তিনি তা করবেন না। তিনি বলেছিলেন, “না, না, না, প্রথম দিন ছাড়া। আমরা সীমান্ত বন্ধ করে দিচ্ছি এবং আমরা ড্রিলিং, ড্রিলিং, ড্রিলিং করছি। এরপরে, আমি স্বৈরশাসক নই।”

 অভিবাসীদের নির্বাসন

নির্বাচনের প্রচারণা চালানোর সময় মার্কিন ইতিহাসে অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরকে সবচেয়ে বড় গণ বিতাড়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কাজও সম্পূর্ণ করার অঙ্গীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদের সময় ওই প্রাচীর নির্মাণ শুরু হয়েছিল।

জো বাইডেন-কমালা হ্যারিস প্রশাসনের অধীনে গত বছরের শেষে মার্কিন দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসীদের ক্রসিংয়ের সংখ্যা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলেছেন, ট্রাম্প যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেভাবে অভিবাসীদের নির্বাসনে পাঠানো হলে বিশাল আইনি এবং লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এবং এই পদক্ষেপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও মন্থর করতে পারে।

অর্থনীতি, ট্যাক্স এবং শুল্কে কাজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যে দুটি ইস্যু তার একটি হচ্ছে— অর্থনীতির অবস্থা। ট্রাম্প “মুদ্রাস্ফীতির অবসানের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ফের কমে আসার আগে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে এটি বেশ উচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে পণ্যের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত।এছাড়া ট্রাম্প ব্যাপকভাবে কর কমানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। তিনি টিপসকে করমুক্ত করার, সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের ওপর কর বাতিল এবং কর্পোরেশন ট্যাক্স ছেটে ফেলার প্রস্তাব করেছেন।

তিনি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বেশিরভাগ বিদেশি পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক প্রস্তাব করেছেন। চীন থেকে আমদানিতে অতিরিক্ত ৬০ শতাংশ শুল্ক থাকতে পারে বলে তিনি বলেছেন। কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।

 জলবায়ু সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কমানো

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে শত শত পরিবেশগত সুরক্ষা বিধিনিষেধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আমেরিকাকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও প্রত্যাহার করেছিলেন তিনি। এবার তিনি আবারও বিধিনিষেধ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিশেষত আমেরিকান গাড়ি শিল্পকে সাহায্য করার উপায় হিসাবে। তিনি ক্রমাগত বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার সংক্রান্ত বাইডেন প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন।

তিনি মার্কিন জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসের পক্ষে প্রথম দিনেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি তেল খননের জন্য আর্কটিক মরুভূমির মতো এলাকাগুলো উন্মুক্ত চান। আর এ বিষয়ে তার যুক্তি, এতে জ্বালানি খরচ কম হবে।

 ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান:

টানা আড়াই বছর ধরে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তায় রশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার সাথে এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে আলোচনার চুক্তির মাধ্যমে “২৪ ঘণ্টার মধ্যে” সংঘাত শেষ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য উভয় পক্ষেরই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করার কথা তিনি বলেননি। তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উৎসাহিত করবে।

ট্রাম্প চান, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সংঘাত থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুক। গাজা যুদ্ধ সম্পর্কে বলতে গিয়ে— ট্রাম্প নিজেকে ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হিসাবে জানান দিয়েছেন, তবে আমেরিকান মিত্রকে (ইসরায়েলকে) গাজায় তার অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি লেবানন-সম্পর্কিত সহিংসতাও বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেটি তিনি কীভাবে করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

 গর্ভপাত নিষিদ্ধ নয়

কমালা হ্যারিসের সাথে প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি জাতীয় গর্ভপাত নিষেধাজ্ঞার আইনে স্বাক্ষর করবেন না। নিজের কিছু সমর্থকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই ট্রাম্প একথা বলেছিলেন।

এর আগে ২০২২ সালে গর্ভপাতের দেশব্যাপী সাংবিধানিক অধিকার সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে বাতিল হয়ে যায়। আর তাই এই অধিকারের বিষয়টি নির্বাচনের আগে কমালা হ্যারিসের জন্য প্রধান প্রচারণার বিষয় হয়ে ওঠে এবং বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটের দিনে গর্ভপাতের অধিকার রক্ষা বা প্রসারিত করার ব্যবস্থাও অনুমোদন করে।

অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে নিয়মিত বলেছেন, অঙ্গরাজ্যগুলোকে গর্ভপাতের বিষয়ে তাদের নিজস্ব আইনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। তবে এই ইস্যুতে নিজের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বার্তা খুঁজে পেতে কার্যত সংগ্রাম করেছেন তিনি।

৬ জানুয়ারির ঘটনায় কিছু দাঙ্গাকারীকে ক্ষমা করবেন

২০২১ সালের গত ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলে জো বাইডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশন বসেছিল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট সদস্যদের। অধিবেশন চলাকালে সেখানে হামলা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক হাজার উন্মত্ত সমর্থক।

ওই দাঙ্গায় পুলিশ সদস্যসহ নিহত হয়েছিলেন ৫ জন। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হওয়া এই হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের উস্কানি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্রাম্প এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।

আর এখন ট্রাম্প বলছেন, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে দাঙ্গার অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া কয়েকজনকে “মুক্ত” করবেন তিনি। ভয়াবহ সেই দাঙ্গার ঘটনার গুরুত্ব বা তাৎপর্য কমিয়ে আনার জন্য কাজ করেছেন ট্রাম্প এবং এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া শত শত সমর্থককে রাজনৈতিক বন্দি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেককে “ভুলভাবে কারারুদ্ধ করা হয়েছে”। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, “তাদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনার সময় সম্ভবত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল”।

 স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করবেন

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার “দুই সেকেন্ডের মধ্যে” স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রবীণ এই প্রসিকিউটর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছেন।বিবিসি বলছে, স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল বাতিলের কথিত প্রচেষ্টার জন্য এবং গোপন নথিগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছেন।

তবে ট্রাম্প কোনো ধরনের অন্যায় কাজ করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং নির্বাচনের আগে উভয় ক্ষেত্রেই বিচারের মুখোমুখি হওয়া রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ নভেমাবর-২৪/মওম

অন্তর্বর্তী সরকার গত তিন মাসে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত তিন মাসে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তারা অনেকগুলো কাজ করেছে।

৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন তিনি। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সবাই যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করি এবং উপযুক্ত ও যৌক্তিক সময়ে তারা একটি নির্বাচন দিতে সক্ষম হলে জাতির সামনে যে চ্যালেঞ্জ আছে, তা পূরণে সক্ষম হবে।বিএনপি সংগ্রাম-লড়াই করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে শপথ নিয়েছি-জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আধিপত্যবাদকে রুখে দিয়ে স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখব, সংগ্রাম এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৭ শতাধিক নেতাকর্মীকে গুম-খুন করেছে। ৬০ লাখের বেশি মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে তারা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে নির্যাতন নিপীড়ন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিলো কিন্তু আল্লাহর রহমতে ৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো এই ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের আধিপত্যবাদকে পরাজিত করতে পেরেছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭ নভেমাবর-২৪/মওম

ঘিওরে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

সৈয়দ এনামুল হুদা:

আজ ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিপাহী -জনতার বিপ্লব ঘটেছিল। যা তৎকালীন রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দিয়ে দেশ ও জাতিকে নতুন পরিচয়ে অভিষিক্ত করেছিল। আওয়ামী শাসনামে দিবসটি পালন করতে পারেনি বিএনপি।

 

গত ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। এ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষথেকে ১০ দিনের কর্মসূচী ও ঘোষণা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জের ঘিওরে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে উক্ত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) উপজেলার ঘিওর বাস স্ট্যান্ডে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ বিপ্লব ও সংহতি দিবস অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর মানিরুজ্জামান মানিক এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী ওয়াজেদ আলী মিষ্টার এর সঞ্চালনায়ে সকাল ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এরপর দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালী বের হয়ে ঘিওর বাজার পদক্ষিন করে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এসে সমাপ্ত হয়। এসময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু কাউসার রেজা, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ জানে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন ভূইয়া, মোঃ মিজানুর রহমান খান কুদরত, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফ সানোয়ার প্রমুখ। এছাড়াও বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে কদর বাড়ছে শাপলা-শালুকের

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত, মানিকগঞ্জ 
অপরূপ গ্রাম বাংলার পুকুর, খাল-বিল ও হাওরের পানিতে অযত্নে বেড়ে ওঠা শালুক আগে ছিল অভাবী মানুষের খাবার। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় এর কদর এখন দেশজুড়ে। পুষ্টি সন্ধানীদের কাছেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ। উৎপাদনের খরচ নেই, শুধু পানি থেকে তুলে আনার কষ্টটুকু মেনে নিলেই উপার্জনের সুযোগ। সেজন্য শালুক তুলতে আগ্রহী পুকুর-হাওরপারের অনেক মানুষ। অন্যদিকে সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে দিগুণ মূল্যে বিক্রি করছেন কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সেজন্য বাজারে শালুক এখন আকর্ষণীয় খাদ্যপণ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বড় শহরগুলোতে শালুকের দাম ভিন্ন। তবে মানিকগঞ্জের ঘিওর-দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কদর বাড়ছে শালুকের। উপজেলার বিভিন্ন বাজার- ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ অথবা ১০০ টাকায়। দোকানির মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকে টুকরির সামনে। এসব বিবেচনায় বাণিজ্যিকভাবে শালুক চাষ হলে আসতে পারে ভালো সফলতা- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিশ্লেষক এবং কৃষি কর্মকর্তারা।
দৌলতপুর উপজেলার আনন্দ বাজারে টুকরিতে (ঝুড়ি) করে শালুক বিক্রি করছিলেন ষাটউর্দের কবিল মিয়া। খুচরা বিক্রি দিনে প্রায় ৪০ কেজি। তিনি জানালেন, আমনের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় শালুকের উৎপাদন কমেছে। তবে এখনও পানিতে প্রচুর শালুক পাওয়া যায়।
কবিল মিয়া (৬০) আরও জানান, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ দলবদ্ধভাবে পুকুর, খাল-বিল থেকে শালুক তোলেন। তাদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন তিনি। এরপর সিদ্ধ দিয়ে বাজারে বিক্রি করেন ১০০ টাকা কেজি দরে। গেল ১০ বছরে শাপলা-শালুক বিক্রির মাধ্যমে পরিবার চালানোর পাশাপাশি কিছু জমিরও মালিক হয়েছেন তিনি।
একই উপজেলায় রামচন্দ্রপুর গ্রামের বানু বেওয়া দৌলতপুর বড় বাজারে শাপলা-শালুক বিক্রি করেন প্রায় তিন বছর ধরে। এ ব্যবসায় তার সংসার চলে যাচ্ছে মোটামুটি ভাবে। তিনি বাণিজ্যিকভাবে শালুক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কয়েকজন শালুক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তোলনকারীদের কাছ থেকে ভেজা শালুক ৪০ টাকা কেজিতে কেনা যায়। প্রতি ৫০ কেজি সিদ্ধ দিলে ওজন কমে প্রায় পাঁচ  কেজি। পরে এগুলো বাজারে এনে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে ভালো মুনাফা আসে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, এক সময় হাওর-বিলে ব্যাপকভাবে শালুক উৎপাদন হতো। তবে বোনা আমনের আবাদ বেড়ে যাওয়ায় এখন তা কিছুটা কমেছে। সরকারিভাবে শাপলা-শালুক চাষের উদ্যোগ নিলে এটি আলোর মুখ দেখতে পারবে। এটা করতে পারলে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শাপলা গাছের গোড়ায় একাধিক গুটির জন্ম হয়। যা ধীরে ধীরে বড় হলে তাকে শালুক বলা হয়। বাজারে শাপলার ডাঁটারও বেশ চাহিদা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে শালুক অত্যন্ত উপকারী। এটি সবজি হিসেবে কাঁচা, সিদ্ধ করে ও পুড়িয়ে খাওয়া যায়। শরীরে খাদ্যশক্তির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ সবজি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া চুলকানি ও রক্ত আমাশয় নিরাময়ে শালুক বেশ উপকারী। একটি ১০০ গ্রাম ওজনের শালুকে খনিজ পদার্থ রয়েছে ১.৩ গ্রাম, আঁশ ১.১ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ১৪২ কিলোক্যালোরি, প্রোটিন ৩.১ গ্রাম, শর্করা ৩১.৭ গ্রাম এবং ক্যালসিয়াম ৭৬ মিলিগ্রাম।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

‘ব্যক্তিগতভাবে কাউকে চিনতে চাই না’ বললেন রাজশাহীর ডিসি

নাহিদ ইসলাম: রাজশাহীর নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার বলেছেন, আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে আইনানুযায়ী কাজ করব, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে চিনতে চাই না। আমাদের কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল থাকলে, আপনারা সুধরে নেবেন।
আমরা বৈষম্যহীনভাবে কাজ করতে চাই। নতুন কর্মস্থলে যোগদান উপলক্ষে মতবিনিময়কালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, দেশের শান্তি, মঙ্গল ও উন্নয়নের স্বার্থে এখন থেকে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এক্ষেত্রে আমাদের অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা যেন আর ক্ষমতার দাপট না দেখাই। না হলে ভবিষ্যতে আমাদেরও একই পরিণতি হবে। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের মুখে জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন।
এ সময় উন্নয়ন ও সংস্কারসহ সব সরকারি কাজে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন রাজশাহীর প্রথম নারী জেলা প্রশাসক। রাজশাহীর নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আখতার বলেন, এখন থেকে সবাই নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করব। আর প্রতিটি পদক্ষেপে গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সমষ্টিগত স্বার্থে পাশাপাশি থেকে আমরা সব বৈষম্যবিলোপে কাজ করব।
নবাগত জেলা প্রশাসক আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জাতির বিবেক ও চোখ। তাই এই চোখ যেন কখনো একপক্ষ হয়ে কাজ না করে। শিগগিরই আমরা এই রাজশাহী জেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়মগুলো খুঁজে বের করে তা সংস্কারের চেষ্টা করব। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কোনোভাবেই সময়ক্ষেপণ করা হবে না। তবে সরকারি দপ্তরের সংবাদ পরিবেশনের আগে তথ্যগুলো অবশ্যই সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার জন্য স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকরা রাজশাহীর ইজারা দেওয়া খালগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া, বিভিন্ন হাট-বাজার ও বালু ঘাট ইজারার অনিয়ম দূর করা, ডিসি অফিসের দুর্নীতি বন্ধ করা, এলআর ফান্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভূমি সেক্টরকে নিষ্কলুষ করা, নীরব চাঁদাবাজি বন্ধ করা, দখলদারি বন্ধ, জলাবদ্ধতার সমাধান এবং আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যপারে নব নিযুক্ত জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সরকার অসীম কুমারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার, দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, আমাদের রাজশাহী পত্রিকার সম্পাদক আফজাল হোসেন, রাজশাহী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক আহসান হাবিব অপু, চ্যানেল আই টেলিভিশনের রাজশাহী প্রতিনিধি আবু সালেহ মোহাম্মদ ফাত্তাহসহ প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, নবাগত জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার ৩ নভেম্বর রাজশাহীর ১২৭তম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি) হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানায় জন্মগ্ৰহণ করেছেন। তিনি যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৫ সালে এইচএসসি পাসের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে ১৯৯৮ সালে অনার্স ও ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২৫তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। আর তার প্রথম কর্মস্থল ছিল রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়।

আলোকিত/০৬/১১/২০২৪/আকাশ

কলাতলী, সুগন্ধ পয়েন্ট ও হোটেল মোটেল জোন এলাকায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জেলা প্রশাসনের অভিযান…

আবু সায়েমঃ কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা পয়েন্ট ও হোটেল-মোটেল জোনে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। যা পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য বিরক্তিকর কারণ ছিলো।

বুধবার (৬ নভেম্বর) কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আরিফ উল্লাহ নিজামীর নেতৃত্বে দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভির হোসেন, সদর থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কক্সবাজার পৌরসভা ও আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অভিযানের বিষয়ে সদরের সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন , সুগন্ধা পয়েন্ট, হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী এপ্রোচ সড়কসহ কলাতলী বীচ এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা গুলো অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা, ভ্যান উচ্ছেদ ও ধ্বংস করা হয়।অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের ফলে সড়কগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। পর্যটক ও স্থানীয়রা এখন নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রাঙ্গাবালী/দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরি সাড়াদান পদ্ধতি শক্তিশালী করতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

মোঃ কাওছার আহম্মেদ, রাঙ্গাবালী, 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরি সাড়াদান পদ্ধতি শক্তিশালী করতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের এসওডির আলোকে কর্মশালা করা হয়। এই কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার সাহা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় দুর্যোগ ঝুকি হ্রাস নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইতিহাস গড়ে হোয়াইট হাউসে ফিরলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪৮ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এক মেয়াদের বিরতিতে দ্বিতীয় বারের মতো দোর্দণ্ড প্রতাপে হোয়াইট হাউসে  ফিরলেন রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগের জনমত জরিপের সব হিসেব-নিকাশ উল্টে দিয়ে মঙ্গলবার মার্কিনিরা আরেকবার বেছে নিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে। এর মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর কমালা হ্যারিসের উত্থানের আশায় গুঁড়েবালি দেখল বিশ্ব; আর শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশটিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নির্বাচনের আগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কথার লড়াই আর বিভাজনের রাজনীতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠান এই দুই প্রার্থীর মাঝে যে তুমুল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে সেই আভাস দিয়ে আসছিল মতামত জরিপে। যদিও এসব জরিপের বেশিরভাগেই নীল শিবিরের প্রার্থী কমালাকেই এগিয়ে রাখতে দেখা যায়। কিন্তু মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দেশটির ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘‘আমেরিকা প্রথম’’ নীতিতে অটল ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই বেছে নিলেন মার্কিন ভোটাররা।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, দেশটির নির্বাচনে মোট ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য ২৭০টির প্রয়োজন। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ সময় বুধবার পৌন ৪টার দিকেই এই ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যান। দেশটির নির্বাচনে ফল নির্ধারণী ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য খ্যাত জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা, মেইন, পেনসিলভানিয়ায় লাল শিবিরের জয়ে হোয়াইট হাউসের মসনদ নিশ্চিত হয় ট্রাম্পের।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, চার বছর আগের ভোটে হেরে হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে; নতুন আমেরিকান নেতৃত্বের সূচনা হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটির গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠান ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা এডিসন রিসার্চ বলছে, ৭৮ বছর বয়সী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০টিরও বেশি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে বুধবার হোয়াইট হাউস পুনরুদ্ধার করেছেন; যা দেশটিতে চলমান মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও গভীর করে তুলেছে । বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ৬ টার দিকে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণী দোদুল্যমান রাজ্য-খ্যাত উইসকনসিনের ফল প্রকাশের সাথে সাথেই ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। উইসকনসিনের ১০টি ইলেক্টোরাল ভোটের মাধ্যমে ম্যাজিক ফিগার ২৭০ পেরিয়ে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন বার্তা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২৭৯টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলীয় কমালা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৩টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। তবে এখনও কয়েকটি রাজ্যে আংশিক ভোট গণনা বাকি রয়েছে।

শুধু ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটই বেশি পাননি ডোনাল্ড ট্রাম্প, বরং পপুলার ভোটও প্রায় ৫০ লাখ বেশি পুড়েছেন নিজের ঝুলিতে। এর আগে, ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে লাল ঢেউয়ের গর্জনে মেতে ওঠা সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমেরিকা আমাদের এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে।’’

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টায় পরের বছরের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালান ট্রাম্পের কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে চালানো ওই সহিংসতার পর ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শেষ দেখেছিলেন অনেকে। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নিজ দলের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনী দৌড় থেকে দূরে সরিয়ে দেন তিনি। মার্কিন অর্থনীতিতে জেঁকে বসা মুদ্রাস্ফীতি আর দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন দশায় ভোটারদের উদ্বেগকে পুঁজি করে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা চালান তিনি। ‘‘আমেরিকা ফার্স্ট’’ নীতির কথা জানিয়ে দেশ থেকে অবৈধ অভিবাসনের অবসানের রূপকল্প তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করেন তিনি।

বিপরীতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী পরিবারের সন্তান কমালা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রকে অভিবাসীদের জন্য স্বর্গরাজ্যে পরিণত করে তুলবেন বলে ভোটারদের কাছে কমালার বিষোদগার করেন। শেষ পর্যন্ত মার্কিন রাজনীতির বিদ্বেষ আর বিভাজনের রূপরেখায় কমালা হ্যারিসকে হারিয়ে দিলেন রিপাবলিকান ট্রাম্প।

ভোটের পর বুধবার হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সমর্থকদের নিয়ে ইলেকশন নাইট পার্টিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল কমালা হ্যারিসের। কিন্তু নির্বাচনের ফলে বিপর্যয়ের আভাস মেলায় সেই অনুষ্ঠান স্থলে যাননি তিনি। সেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে খালি চেয়ার আর জনশূন্য মঞ্চ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ নভেমাবর-২৪/মওম

নোয়াখালীতে রেকর্ড সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৫: সংবাদ সম্মেলনে চট্রগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি

প্রতিনিধি,নোয়াখালী: 
নোয়াখালীর সেনবাগ-সোনাইমুড়ীতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র,গুলি, ও মাদকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় ৫টি বিদেশি পিস্তল, ৮টি এলজি, ৪টি একনলা বন্দুক, ৯টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২৭৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ১২ কেজি গাঁজা এবং ২টি পিকআপ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, জেলার চাটখিলের ছয়ানী টবগা গ্রামের বাদল হোসেন (২১), একই উপজেলার রুইতখালী গ্রামের মো. রবিন (২৮), সোনাইমুড়ী দেওটি গ্রামের মো. বাহার (৩০), বেগমগেঞ্জের হাজীপুর ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন (২৬) ও কুমিল্লার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের মুরাদ হোসেন (২২)।
৫ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.আহসান হাবীব পলাশ। এর আগে, সোমবার দিবাগত রাতে জেলার সেনবাগের সেবারহাট বাজার ও সোনাইমুড়ী থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও সেনবাগ থানা পুলিশ সদস্যরা সেনবাগের সেবারহাট সায়েদ প্লাজার সামনে নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশী করা শুরু করে। চেকপোস্টে রাত ১টার দিকে ১২ কেজি গাঁজাসহ একটি পিকআপ আটক করা হয়। এরপর রাত দেড়টার দিকে পিকআপের ভিতরে পলিথিনের প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় ১০টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অস্ত্রবহনকারী আসামিদের র থানায় এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় ৩-৪ দিন পূর্বে সোনাইমুড়ীর দেওটি গ্রামের একজন ব্যক্তির কাছ থেকে তারা আরো কয়েকটি অত্যাধুনিক পিস্তল সরবরাহ করেছে।
পুলিশ আরও জানায়, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ীর বাহারকে আটক করে পুলিশ। পরে তার ভাষ্যমতে প্রবাসী জাফর মিয়ার রান্নাঘরের প্লাস্টিকের বালতিতে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৯টি ম্যাগাজিনসহ ৫টি বিদেশী পিস্তল, ২টি দেশীয় তৈরি এলজি, ২৭৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জব্দ করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি নেছার আহমেদ, নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ নভেমাবর-২৪/মওম