আজ , ।   
Home Blog Page 684

রাঙ্গাবালীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন পরিস্কার-পরিছন্ন করেন বিডি ক্লিন

মোঃ কাওছার আহম্মেদ, রাঙ্গাবালী 
“পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিডি ক্লিন টিমের তারুণ্যের অংশগ্রহণে উপজেলার মৌডুবী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্ন অভিযান করেন রাঙ্গাবালী বিডি ক্লিন টিম। আজ বুধবার মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শপথ শেষে অত্র প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন।
বিডি ক্লিনের উপজেলা সমন্বয়ক ইউসুফ আলী সিরাজুলের নেতৃত্ব পরিচ্ছন্ন অভিযান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সহ সমন্বয়ক মো.নাইম মাহমুদ, সমন্বয়ক আইটি এন্ড মিডিয়া মো.আমিন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান সুজন, তানজিম হাসান, মো. ইমন, মো. মিশকাত হোসেন সহ অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পরিচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করে বিডি ক্লিনের উপজেলা সমন্বয়ক ইউসুফ আলী সিরাজুল বলেন,’শুধু মাত্র নাগরিক সচেতনতা ও পরিচ্ছন্ন মানসিকতাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আসুন, নিজেদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করি, গড়ে তুলি একটি পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ।’
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

যেসব চা পানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়!

লাইফস্টাইল ডেস্ক…

নিয়মিত চা পানে অভ্যস্ত কমবেশি সবারই আছে। ব্ল্যাক-গ্রিন টি’সহ বিভিন্ন ধরনের ভেষজ চা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি কার্সিনোজেনিক যৌগ আছে। যা শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। জানলে অবাক হবেন, নির্দিষ্ট কিছু চা পানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা জানাচ্ছে নিয়মিত চা পানে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে, তাও আবার ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। তবে কোন চা পান করছেন তার উপর নির্ভর করছে আপনি কতটা ঝুঁকিমুক্ত হবেন। ৮ দেশের ১ মিলিয়নেরও বেশি মানুষের উপর পরিচালিত নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, কালো, সবুজ ও ওলং চায়ের মাঝারি ব্যবহার টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

চীনের উহান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রধান লেখক জিয়াইং লি বলেছেন, ‘আমাদের গবেষণার ফলাফল সত্যিই অবাক করার মতো, টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে দিনে ৪ কাপ চা পান করার মতো সহজ কিছু আর হতে পারে না।

প্রথমত, তারা চায়না হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভে থেকে টি-২ডি (টাইপ ২ ডায়াবেটিস) (গড় বয়স ৪২) এর কোনো ইতিহাস নেই এমন ৫ হাজার ১৯৯ প্রাপ্তবয়স্কদের (২৫৮৩ জন পুরুষ, ২৬১৬ জন নারী) ডাটা সংগ্রহ করা হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো জীবনযাত্রার ভুল অভ্যাসের কারণে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে তা সে চা পানকারী হোক আর না হোক। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি। তবে সঠিক জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত কালো, সবুজ বা ওলং পান করলে এই রোগের ঝুঁকি আরও কমে যায়।

গবেষকরা জানান, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যারা প্রতিদিন ১-৩ কাপ চা পান করেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৪ শতাংশ কমে, আর যারা প্রতিদিন কমপক্ষে ৪ কাপ পান করেন তাদের ঝুঁকি কমে ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চায়ের নির্দিষ্ট উপাদান যেমন পলিফেনল, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

ওলং চা হলো একটি ঐতিহ্যবাহী চীনা চা, যা সবুজ ও কালো চা তৈরি করতে ব্যবহৃত একই উদ্ভিদ থেকে তৈরি হয়। পার্থক্য হলো এই চা ভিন্নভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। অন্যদিকে সবুজ চাকে বেশি অক্সিডাইজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, কালো চা কালো হওয়া পর্যন্ত অক্সিডাইজ করার অনুমতি দেওয়া হয় ও ওলং চা আংশিকভাবে অক্সিডাইজ করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাংবাদিক মোঃ শওকত আলী সফল সংগঠক হিসেবে বিটিএসএফ সম্মাননায় ভূষিত 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সন্তান,
বিটিএসএফ-এর কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সফল সংগঠক হিসেবে বিশেষ অবদানের জন‍্য বিটিএসএফ “
সম্মাননা স্মারক” পেয়েছেন।
গত শনিবার (৯ নভেম্বর ২০২৪) দুপুরে
ঢাকার তোপখানা রোডের ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক ফোরাম (বিটিএসএফ) ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এসময় দেশের নানান শ্রেণী পেশার বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইতিপূর্বেও বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পদক ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
বিটিএসএফ-এর চেয়ারম্যান কায়সার হাসানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব মোঃ আল-আমিন শাওনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক এমপি ও বিটিএসএফ-এর উপদেষ্টা অধ্যক্ষ নূর আফরোজ বেগম জ্যোতি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, বিশিষ্ট  সংগঠক ও বিটিএসএফ-এর কো-চেয়ারম্যান এ্যাড. শাহিদা রহমান রিংকু। প্রধান বক্তা ছিলেন, বার্তা প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক ও বিটিএসএফ-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ মনির হোসেন কাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট জাদু শিল্পী ও বিটিএসএফ-এর উপদেষ্টা এ্যাড. মাসুদুর রহমান, ঢাকার লাবণ্য ক্রিয়েশনের চেয়ারম্যান ও  বিটিএসএফ-এর উপদেষ্টা মোঃ মনিরুজ্জামান, ইদিলপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও বিটিএসএফ-এর উপদেষ্টা মোঃ দেলোয়ার হোসেন শিকারী, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি ও বিটিএসএফ-এর কো-চেয়ারম্যান শরীফ মোঃ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ প্যাকেজিং মালিক কল্যাণ পরিষদ ঢাকার সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ শামছুল আলম, রুদ্রকর নীলমনি উচ্চ বিদ্যালযের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাইদ মাহমুদ। বিশেষ বক্তা ছিলেন, বিটিএসএফ-এফ ভাইস-চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগম,  এম, এ, গফুর মোল্লা, মাহবুবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ভাইস-চেয়ারম্যান মু. হারিসুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ ছবুর হোসেন,  হামিদুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, আসাদুজ্জামান মিঞা প্রমূখ। বিটিএসএফ-এর কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন জেলার বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মৎস্য কন্যা : আ. জ. ম. সাইফুর রহমান

মৎস্য কন্যা

আর কত চিৎকারে তৃষ্ণার্ত কণ্ঠনালী আক্রান্ত হলে এক ফোঁটা জল দেবে?
কতটা ক্ষুধার্ত হলে পেট ও পিঠের সাথে ফারাক থাকে না
তার পরিমাপ করে এক মুঠো ভাত খেতে দেবে?
আর কত জীর্ণশীর্ণ বিবস্ত্র শরীর এক টুকরো বস্ত্রে ঢেকে দেবে?
সাতাশ বছর ধরে আটলান্টিকে সাঁতার কেটেছি
আরো কত পথ বাকী মৎস্য কন্যা ভেসে উঠবার?
হৃদয় অভ্যন্তরে আরো কত রক্ত ঝরালে
সূচাগ্র যন্ত্র দিয়ে করবে সেলাই।
আরো কত হিম হলে হিমাঙ্কের স্তব্ধ হিমানীতে
উলান হয়ে দেবে একটু উত্তাপ?
সুদীর্ঘ পথের সাঁতারক্লান্ত আমি নিশ্চিত ডুবে যাবো
তবুও কি টেনে তুলবে না?
আমার চোখের জল শেষ হলে রক্ত ঝরে যাবে
তবুও কি বিন্দু ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে আসবে না বুকের গভীরে?
আলোকিত/১৪/১১/২০২৪/আকাশ

রাজশাহী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া মিলছেনা খতিয়ান-নকশা

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): রাজশাহী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস এখন দূর্নীতির আখড়া। অনিয়ম যেন এই অফিসের নিয়মে পরিনত হয়েছে। সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে অফিস সহায়ক যোগ স্বাজসেই চলে নিয়ম বহির্ভূত কাজ। সেই সাথে চলে অবৈধ লেনদেন। তাদের এই দূর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও ভূক্তভোগীদের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, ২০০৭ সালে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের একটি মাঠ জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। এই মাঠ জরিপে যেসকল জমি রেকর্ড করা হয় সেই সকল জমির মালিকদের ভূমি সংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি প্রদান শুরু হয় চলতি বছরের ১৭ জুলাই। আইন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এটি পৌঁছে দেয়ার কথা থাকলেও নিয়মের ব্যাত্যয় ঘটিয়ে বিতরণ কার্যক্রম চলে চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
শুধু তাই নয় সরকার নির্ধারিত একটি ফি পরিশোধ করে কাগজাদি সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। খতিয়ান ও মাঠ খসড়ার জন্য সরকারি ফি ১০০টাকা হলেও সেটি সংগ্রহ করতে গুনতে হয় ২০০ থেকে ৫০০টাকা। আর নিদিষ্ট মৌজার নকশার জন্য সরকার নির্ধারিত ৫০০টাকার পরিবর্তে জমির মালিকদের গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ১০০০টাকা। এরপরও মিলছেনা কাগজের আসল কপি।
সরকার নির্ধারিত ফি এর সাথে বাড়তি টাকা দিয়ে মিলছেনা জমির কাগজের স্ক্যান কপি। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে সরবরাহকৃত ওই কাগজ গুলো আসল কাগজের স্ক্যান কপি বলে ভূক্তভোগীদের দাবী। আবার অনেক ভূক্তভোগী আসল কাগজ চাইতে গেলেই সেটেলমেন্ট কতৃপক্ষ কাগজ পুনরায় মূল্যায় করার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা জানায়। যৌথভাবে এই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম, আ: ওহাব, সার্ভেয়ার আবুল কাশেম, সৈয়দ আলী ও সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আবু সাঈদ।
ভূক্তভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেবীনগর মৌজার কৃষক মো: কামরুজ্জামান বলেন, আমরা মাঠ বুঝার জন্য খতিয়ান নিতে এসেছি। না দিয়ে বার বার হয়রানি করছে। সরকারি ফি ১০০ টাকার কাছে ২০০,৪০০,৫০০,৭০০, ৮০০ টাকা করে লিয়েছে। কিন্তু আজকে বলছে আমাদের মৌজার কাগজ ঢাকায় গেছে।
খতিয়ান নিতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, এখানে খতিয়ান নিতে এসেছি, জুলাই থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। পয়লা নিয়েছে ২০০ এখন নিচ্ছে ৫০০,৭০০ টাকা। আবার বলছে সাহেব নাই, নথি ঢাকা গেছে। ভোগান্তির শেষ নাই।
মাঠ খসরা নিতে আসা দেবীনগরের বাবলু বলেন, আমার একটা সালিশ আছে, আজকে এসেছি ২-৩দিন আগে একবার এসেছিলাম মাঠ খসড়া নিতে। তারা বলছে মাঠ খসরা নাই। মাঠ খসড়া ঢাকায় চলে গেছে। কখন আসবে তা বলতে পারছিনা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এই কার্যক্রমের সহযোগি হিসেবে ছিলাম। যে কয়দিন কাজ করেছি সরকারী রেট ১০০ ও ৫০০ টাকা নিয়েছি। যদি কেউ অতিরিক্ত দিয়েও থাকে এসে দাবী করেনি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী দিয়ারা অপারেশনের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো: আতিয়ার রহমান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ আমি পাইনি। পূর্বে এই অভিযোগ দায়ের করা ছিলো। সেটির তদন্ত ঢাকায় চলছে। যদি কেউ আমার কাছে এই অভিযোগ নিয়ে আসেন তবে আমরা তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
আলোকিত/১৩/১১/২০২৪/আকাশ

রাজশাহীতে পরীক্ষা দিতে আসা ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ

নাহিদ ইসলাম (রাজশাহী): রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে পরীক্ষা দিতে আসা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর নাম শিহাব আল রশিদ ওরফে গালিবকে (২৭)। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার শিহাব আল রশিদ ওরফে গালিব রংপুর মেডিকেল কলেজের ছাত্র। তিনি পাবনা সদরের চাকপাইলানপুর গ্রামের হারুন আর রশিদের ছেলে। আগে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ছিলেন। তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে ২০১৭ সালে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। রাজশাহীতে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৭ সালেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হন ছাত্রলীগ কর্মী শিহাব। পরবর্তীতে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে বৃত্তিমূলক (প্রফ) পরীক্ষা দিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে আসেন শিহাব। মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে দেখে শিহাবকে চিনে ফেলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। তখন তারা সেখানে তাকে ধরে মোটরসাইকেলে তুলে বন্ধগেট এলাকায় নিয়ে এসে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেন।
নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, আওয়ামী সরকারের পতনের আগে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা আছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিহাব আল রশিদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আলোকিত/১৩/১১/২০২৪/আকাশ

রাত নাম‌লেই পা‌ল্টায় মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালীর রূপ, চ‌লে মাদক সেবন ও জুয়াখেলা

মো: নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান 
বান্দরবা‌নের লামার আর্কষনীয় পর্যটন স্পট নাম মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালী ‌রি‌সোর্ট এন্ড রে‌ষ্টু‌রেন্ট। দি‌নের বেলায় মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালী থে‌কে চার‌দিক থে‌কে প্রাকৃ‌তিক দৃশ‌্যাবলী দেখ‌লে মন প্রাণ জু‌ড়ি‌য়ে যায় পর্যটক‌দের। আর তা‌তেই পাগল হ‌য়ে উঠে ভ্রমণ পিপাসু মানু‌ষেরা। কিন্তু রা‌তের আধার নাম‌তেই এটি হ‌য়ে উঠে অত‌্যান্ত ভয়ংকর। চা‌রদি‌কে নিরব নিস্তব্ধ। বিদ‌্যুৎ না থাকায় আরো ভয়ংকর হ‌য়ে উঠে এটি। পর্যটক‌দের গা ছমছম ক‌রে। হঠাৎ ঘুম থে‌কে শিউরে উঠে পর্যটকর‌া। আর এমনই ভী‌তিকর প‌রি‌বেশে সারারাত জু‌ড়ে চ‌লে বখা‌টে‌দের আসর।
মদ‌্যপান, ইয়াবা সেবন ও জুয়া‌খেলা প্রতি‌দিনের নিত‌্যসঙ্গী। সব‌কিছুর নেতৃত্ব দেন উপ‌জেলা প‌রিষ‌দের সরকারী গাড়ী চালক জিয়াউর রহমান ও লামা উপজেলার ছাত্রলীগ নেতা সাদনান আহম্মেদ। সবকিছু ধামাচাপা দি‌তে স্থানীয় প্রশাসন ও মি‌ডিয়া‌কে ম‌্যা‌নেজ করার কথাও স্বীকার ক‌রে‌ছেন গাড়ী চালক জিয়াউর রহমান নি‌জেই।
স্থানীয়রা জানায়, লামার মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালী‌র মা‌লিক লামার সা‌বেক উপ‌জেলা চেয়ারম‌্যান মোস্তফা জামা‌নের গাড়ী চা‌লক জিয়াউর রহমা‌ন। প্রভাবশালী লামা আওয়ামীলীগ নেতা ও সা‌বেক উপ‌জেলা চেয়ারম‌্যান মোস্তফা জামা‌নের গাড়ী চা‌লক। তখনকার সম‌য়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাকুরী দেওয়ার কথা বলে অসহায়‌দের কাছ থে‌কে হা‌তি‌য়ে নি‌য়ে‌ছেন কো‌টি কো‌টি টাকা। লামায় গ‌ড়ে‌ছেন ক‌য়েক কো‌টি টাকার সম্পদ।
আর এ টাকায় লামার শহ‌রের প্রবেশ প‌থে গড়ে তুলেছেন মি‌রিঞ্জা ভ্যালি রি‌সোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট না‌মে এ রি‌সোর্ট। প্রশাস‌নিক কোন ধর‌নের অনু‌মোদন ছাড়া প্রভাব খা‌টি‌য়ে এটি গ‌ড়ে‌ছেন তি‌নি। এদি‌কে গত দুই বছর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপজেলা পরিষদের গাড়ি না চালিয়েও বেতন নিচ্ছেন প্রতি মাসে। অথচ নি‌জে পাজেরো জিপ গাড়ি কিনে সে‌টি নি‌জেই চা‌লি‌য়ে জেলাজু‌ড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
নি‌জের রি‌সোর্ট ব্যবসাও দেখাশোনা করছেন তি‌নি। তারা আরো জানায়, এটি দি‌নে দেখ‌তে আর্কষনীয় হ‌লেও রা‌তের প‌রি‌বেশ ভিন্ন। অন্ধকার নাম‌লেই গা ছমছম ক‌রে। পর্যটকরা ভো‌গেন নিরাপত্তাহীনতায়। এরই ম‌ধ্যে জিয়াউর রহমা‌নের নের্তৃ‌ত্বে সারারাত চ‌লে মদ‌্যপান, ইয়াবা সেবন পাশাপা‌শি জুয়া‌খেলা আর হৈ‌চৈ যেন যেন এরই এক‌টি অংশ।
স‌রেজ‌মি‌নে ঘু‌রে দেখাগে‌ছে, লামা শহ‌রের অদূ‌রে শহ‌রের প্রবেশ প‌থে পাহাড়ী আঁকাবাঁকা নির্জন নয়না‌ভিরাম স্থা‌নে গ‌ড়ে উঠে‌ছে মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালী। অথচ এর আশে পা‌শে নেই আইনশৃংখলা বা‌হিনীর কোন নিরাপত্তা চৌ‌কি। শহ‌রের অদূ‌রে হওয়ায় প্রশাস‌নের নজরদারীও নেই সেখা‌নে। পর্যটক‌রা অনায়া‌সে নি‌চের ইচ্ছেমত আস‌ছে আর য‌া‌চ্ছে। কোন জবাব‌দিহীতাও নেই সেখা‌নে। কিন্তু সন্ধ‌্যা নাম‌লেই শহ‌রের অ‌নেক বখা‌টে ঝা‌কে ঝা‌কে মোটর বাইক চা‌লি‌য়ে আস‌তে থা‌কে মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালীর দি‌কে। সারারাত সেখা‌নে মদ, ইয়াবা আর জুয়ার আসর ব‌সি‌য়ে ভোর রা‌তে ফি‌রে আসে বা‌ড়ি‌তে। অ‌নে‌কের ম‌তে সম্প্রতি রা‌তের বেলায় অ‌নেক মামলার আসামীদের দেখা মি‌লছে এই পর্যটন স্পষ্টে।
এ বিষ‌য়ে বান্দরবা‌নের বা‌সিন্দা নুরুল হক ব‌লেন, লামার মি‌রিঞ্জা অত‌্যান্ত সুন্দর ও ম‌নোরম। ত‌বে সেখা‌নে পর্যটকদের কোন নিরাপত্তা নাই। প্রশাস‌নিক অনু‌মোদনও নাই।  তারপরও কিভা‌বে এটি চল‌ছে জানা নাই।
সোহরাব হো‌সেন না‌মের একজন জানায়, আওয়ামীলীগ সরকা‌রের আম‌লে  জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা সাদনা ও জিয়াউর রহমানের মা মহিলা কাউন্সিলর জাহানার বেগমের প্রভাব কা‌জে লা‌গি‌য়ে সে অ‌বৈধভা‌বে এটি গ‌ড়ে‌ছে। স্থানীয়দের দাবি অবৈধ আয়ের উৎস, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান এবং চাকুরী না করে বিগত দুই বছর সরকারি কোষাগার থেকে বেতন উত্তোলনের বিরু‌দ্ধে তদন্ত ক‌রে আইনগত ব‌্যবস্থা নেয়া জরুরী।
লামার সা‌বেক মেয়র জ‌হিরুল ইসলাম ব‌লেন, জিয়াউর রহমান বে‌শির ভাগ সময়ই মদ‌্যপ অবস্থায় থা‌কে। রা‌তে বে‌শি মাতাল হ‌লে সবাইকে গা‌লিগালাজ ক‌রে। তাই কেউ তার সম্পর্কে মুখ খুল‌তে চায়না। ত‌বে পর্যটক‌দের নিরাপত্তার বিষয়‌টি প্রশাস‌নের নজ‌রে রাখা উচিত।
এ ব‌্যাপা‌রে  জিয়াউর রহমান ব‌লেন, আমি আর সরকারী চাকুরী কর‌তে চাইনা। আমার মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালী‌তেই বাকী সময় পার কর‌বো। এখা‌নে পু‌রোপু‌রি নিরাপত্তা র‌য়ে‌ছে জা‌নি‌য়ে তি‌নি ব‌লেন, এখা‌নে রা‌তে কোন মদ, ইয়াবা সেবন বা জুয়ার আসর চ‌লেনা। তবে পাশ্ববর্তী উপজাতি পাড়া থেকে মদপান করলে আমার কিছু করার নেই।
এ বিষ‌য়ে লামা উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী ব‌লেন, নিরাপত্তার জন‌্য মি‌রিঞ্জা ভ‌্যালীর আশেপা‌শে কোন পু‌লিশ ফা‌ঁড়ি নেই। ত‌বে এর পা‌শেই বি‌জি‌বির এক‌টি পর্যটন কেন্দ্র র‌য়ে‌ছে। নিরাপত্তার জন‌্য ইতিম‌ধ্যে এক‌টি প‌ু‌লিশ ফা‌ঁড়িও দেবার প‌রিকল্পনা র‌য়ে‌ছে সেখা‌নে। মাদকের বিষয়টি অনেকে মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন তবে লিখিত অভিযোগ পায়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিন পালন

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর
কথা সাহিত্যিক ও লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিনে তার পরিবার এবং ভক্তদের ভালবাসা শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে হুমায়ূন আহমেদের হতে গড়া নুহাশ পল্লীতে নানা আয়োজন করা হয়। বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা কবরে শ্রদ্ধা জানাতে নুহাশ পল্লীতে ভিড় জমায়।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, বুধবার মধ্য রাত ১২টা ১মিনিটে নুহাশ পল্লীতে এক হাজার ৭৬টি মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে পুরো নুহাশ পল্লী আলোকিত হয়ে উঠে। পরে সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা জন্মদিনের কেক কেটে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের কর্মসূচি শুরু করে। সকালে নুহাশ পল্লীতে আসেন হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নিশাত।
পরে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তার ছেলে নিনিত ও শাওনের পিতা মোহাম্মদ আলী নুহাশপল্লীতে আসেন। শাওন তার দুই ছেলে, পিতা এবং নুহাশ পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ হুমায়ুন ভক্তদের নিয়ে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারা নুহাশ পল্লীর লিচু তলায় হুমায়ূন আহমেদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। এসময় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও হুমায়ুন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে বেলা ১১টার দিকে হুমায়ূন আহমেদের ম্যূরালের সামনে আপেল গাছ তলায় দুই ছেলে নিশাত ও নিনিতকে নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিনের কেক কাটেন মেহের আফরোজ শাওন। জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিকের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এসময় শতাধিক হুমায়ূনভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও নুহাশপল্লীর কর্মচারীরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
মেহের আফরোজ শাওন সাংবাদিকদের বলেন, নুহাশ পল্লীটা হুমায়ূন আহমেদ করেছিলেন গাছ লাগানোর জন্য। হুমায়ূন আহমেদ বলতেন বাংলাদেশের মাটিতে হয় এমন সমস্ত গাছ এখানে থাকবে। গাছের প্রতি প্রেম ও ভালবাসার কারণে নুহাশ পল্লীটা তৈরী হয়েছে। যখন যেখানেই দূর্লভ কোন গাছ পাওয়া যায় তা আমরা সংগ্রহ করে নুহাশ পল্লীতে রোপন করি। নুহাশ পল্লীর পরিচয় হচ্ছে গাছের মাধ্যমে। তাই নুহাশ পল্লীকে নিয়ে নতুন করে কোন পরিকল্পনা আপাতত নেই।
তিনি জানান, নুহাশ পল্লীতে একটি স্যুটিং ফ্লোর ছিল সেটি এখন অচল হয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর কিছু কাজ ওই ফ্লোরে করা হয়েছিল। এখন সেটিতে কোন কাজ করা হয় না। তাই, এটি এখন অচল হয়ে পড়ে আছে।
ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল আরো জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারেও হলুদ পাঞ্জাবী ও শাড়ি পড়ে একদল হিমু হুমায়ূন আহমেদের কবরে শ্রদ্ধা জানান। গাজীপুর শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভেতরে পিরুজালী এলাকায় অবস্থিত নুহাশ পল্লী। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ নানা বয়সী ভক্তরা। কবরে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। তারা হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে সাজানো গোছানো নুহাশ পল্লীর বিভিন্ন স্থাপনা এবং নান্দনিক শিল্পকর্ম ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও নুহাশ পল্লীতে আসেন তাদের প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের সমাধিস্থলে। তারা ঘুরে দেখেন নুহাশ পল্লী পুরো এলাকা।
উল্লেখ্য, সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নবেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার ছায়া সুনিবিড় প্রত্যন্ত কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজ। দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে লিচু তলায় তাকে সমাহিত করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

চট্টগ্রামে এলডিপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাফরকে সংবর্ধনা

মোঃ আবদুল ওয়াদুদ, চট্টগ্রাম

এলডিপি’র যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি, একই দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হাজী এম. এ. জাফরকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছানোর পর তাঁকে ওই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় আগত এলডিপি’র চট্টগ্রামের ও সাতকানিয়ার নেতৃবৃন্দরা বিমান বন্দরে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর সংবর্ধিত এলডিপি নেতা আলহাজ্ব এম. এ. জাফর দলীয় নেৃতৃবৃন্দদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনারা দলকে এবং আমাকে ভালোবাসার টানে সবাই বিমান বন্দরে এসেছেন।

আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছেন। সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার জন্য আমি সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। দলের মধ্যে হাইব্রীড কেউ থাকবেনা। আমি তৃণমুল এবং দলের জন্য নিবেদিত নেতা-কর্মীদের অবশ্যই মূল্যায়ন করবো। আমি অতীতে যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম; আগামীতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। এরআগে এই নেতা আসার খবর পেয়ে বিমান বন্দরে বেশকিছু গাড়ী নিয়ে শতাধিক দলীয় ও অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও গ্রামের বাড়ী সাতকানিয়া উপজেলার একাধিক শিক্ষা, সামাজিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বিমান বন্দরে ভীড় জমান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন আছিয়া বেগম

মো: মহিদ
মানিকগঞ্জে তৃতীয় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন জমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন আছিয়া বেগম (৩০)। গত ১০ নভেম্বর রবিবার শহরের বাসস্ট্যান্ড ফিরোজা জেনারেল হাসপাতালে দুই ছেলে এক মেয়ের জন্ম দেন সিংগাইর উপজেলার দক্ষিণ জামসা গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম। পূর্বেও দুটি সিজারের মাধ্যমে দুটি ছেলে বাচ্চাও হয়েছিল তার।
৪ মাস পূর্বে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে ট্রিপলেটের কথা জানতে পেরে বেশ ভয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে মানিকগঞ্জ ফিরোজা জেনারেল হাসপাতালে আসলে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ওয়াহিদুর রহমানের সেবার নিশ্চয়তা ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে ভর্তি করে রোগির স্বজনরা।
পরে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা: ওসমান গনির মাধ্যমে সিজার অপারেশন সফল হয়। বর্তমানে  মা ও বাচ্চারা ভাল আছেন বলে জানান হাসপালটির পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান।
আছিয়ার স্বামী কৃষক খলিল মিয়া বলেন, এই হাসপাতালে আমার দুইটি ছেলে সন্তান ও একটি মেয়ে হয়েছে। তারা সবাই ভাল আছেন। এখানকার ডাক্তার নার্সরা সবাই ভাল, তারা আমাদের সহযোগিতা করছে। আমি গরিব মানুষ বাচ্চাদের ভালোভাবে লালন পালন করতে সমাজের বিত্তবানদের  সহযোগিতা কামনা করি।
ফিরোজা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাথী সরকার বলেন, আমি এই আছিয়ার আল্ট্রাসনোগ্রাম করি। রোগীর আগে যেহুতু দুইটা বাবু আছে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে হয়েছে। যেহুতু ওনার পেটে তিনটা বাচ্চা প্লাস হচ্ছে, আগে দুইটা সিজার আছে, তাই আমরা কাউন্সিলিং করে দিই এবং পরীক্ষা নিরিক্ষা সবই করে দেই। তারপরে রোগী আমাদের কাছে ব্যথা নিয়ে আসে। পরে আমরা সিজারিয়ান অপারেশন করি। এখন বাচ্চারা স্কেনো ইউনিটে নিবির পর্যবেক্ষনে আছে এবং ভালও আছে।
হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, গত ১০ নভেম্বর আছিয়া নামের একজন রোগী আমাদের এখানে ভর্তি হয়।ভর্তি হওয়ার পরে আমি সুন্দর করে ম্যানেজমেন্ট করে দিয়ে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেই। মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ওসমান গণি স্যারের মাধ্যমে অপারেশনটা সফল হয়। আর তিনটা বাচ্চা জন্ম গ্রহন করে। আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, এখন বাচ্চা তিনটা ভাল আছে, মাও আল্লাহর রহমতে ভাল আছে। যেহেতু রোগীর পরিবারটি খুবই গরীব তাই হাসপাতালটির পক্ষ থেকে বিল কমিয়ে আগেও ছাড়া দেওয়া হয়েছে, এবারও সর্বোচ্চ্য ছাড়া দেওয়া হবে। এছাড়া আমাদের হাসপাতালটি সরকারি নিয়ম মেনে  সহলের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ১৩ নভেম্বর-২৪/মওম