জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রূপগঞ্জে ছাত্রদলের আলোচনা সভা
নব্য বিএনপিরাই সন্ত্রাস নৈরাজ্যের সাথে জড়িত : আমিনুল হক
ওবায়দুল কাদেরের বেয়াই চেয়ারম্যান সিরাজ উল্লাহ চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার
মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ:
কবিরহাটের ১ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সিরাজ উল্যাহকে (৫৮) নরোত্তমপুর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার ১ নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সিরাজউল্লাহ বি,কম কে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গতরাতে গ্রেফতার করেছে কবিরহাট থানা পুলিশ।সিরাজ উল্লাহ বি,কম নরোত্তমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বেয়াই। তিনি ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার শ্যলক।কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন মিয়া জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত সিরাজ উল্লাহ বি,কম চেয়ারম্যান এখন কবিরহাট থানা হেফাজতে রয়েছেন। ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় কবিরহাট থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে ১টি সাজা পরোয়ানা সহ মোট ৪টি পরোয়ানা রয়েছে: ১) সাজা সিআর-৪৯৯/২০২১,দায়রা-৯৭৩/২০২২সংক্রান্তে ১(এক)বৎসরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৩৩০০০০০ টাকা জরিমানা।
২) সিআর-৪২২/২০২১
৩) সিআর১৮৯০/২০২২
৪) সিআর ৩১৭৮/২০২৩
ওসি শাহীন মিয়া জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর-২৪/মওম
মানিকগঞ্জে পাচারকালে সার জব্দ, আটক ২
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে চলতি মাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের হামলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। জাতীয় এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী জেরমান গালুশেঙ্কো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, আবারও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে শত্রুপক্ষ। হামলার সময় ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে জরুরি বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করেছে জাতীয় গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনার্গো। প্রধান বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রভাব রাজধানী কিয়েভসহ ওডেসা, ডিনিপ্রোপ্রেট্রোভস্ক ও ডোনেস্ক অঞ্চলের ওপরও পড়েছে।
রাশিয়া এর আগে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর উপর ১০টি বড় হামলা চালিয়েছে। ওইসব হামলায় পুরো খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শীতকাল আসার আগে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা তৈরি করে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বৃহস্পতিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন বলে গভর্নর ওলেক্সান্দার কোভাল জানিয়েছেন। এছাড়া পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানাননি।
পশ্চিমাঞ্চলীয় লুটস্ক শহরের মেয়র বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কথা জানিয়ে বলেন, পানি এবং তাপ সরবরাহের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়েছে।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ সিনিয়েহুবভ বলেছেন, শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ব্যবসায়িক স্থাপনা ও একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলেও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের একটি বাণিজ্যিক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কিছু ভবন ও একটি ট্রাক সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর-২৪/মওম
আবারও হাসনাতকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা
জানা যায়, এর আগে মাতুয়াইল এবং গুলিস্তানে দুইবার দুর্ঘটনার শিকার হয় তাকে বহন কারী গাড়ি। মাতুয়াইলে আঘাত করে পালিয়ে যায় একটি ট্রাক। আবার গুলিস্তানে আঘাত করে আরেকটি মিনি ট্রাক। পরপর এমন কয়েকটি ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা সন্দেহ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
গতকাল বুধবার অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত শেষে ফেরার পথে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের হাজী রাস্তার মোড়ে হাসনাত এবং সারজিসের গাড়িবহরের একটি প্রাইভেটকারকে চাপা দেয় একটি ট্রাক। এতে প্রাইভেটকারটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে চাপা দেয়া ট্রাকটিকে জব্দ করে থানায় রাখা হয়। আটক করা হয়েছে চালককেও। আটক ট্রাকচালকের নাম মুজিবর রহমান (৪০)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বইলর গ্রামে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর-২৪/মওম
স্বৈরাচারের দোসররা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে : তারেক রহমান
আলোকিত প্রতিবেদক:
বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২৭ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যার পর যখন এই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়, এর কিছুসময় আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে দলের পরামর্শ সরকারকে জানিয়ে এসেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা।
তারেক রহমানের প্রশ্ন, শিক্ষার্থীরা কেন শিক্ষাঙ্গনে ভাঙচুর করবে ?
১৭টি পয়েন্টে দেওয়া বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে জনতার আন্দোলনে যে শিক্ষার্থীরা সামনের কাতারে থেকে সাহসী ভূমিকা রেখেছিল, হঠাৎ করেই এখন তারা কেন একে-অপরের বিরুদ্ধে এতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠলো? জনমনে এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।’ ‘ছাত্র-জনতার এমন একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা কেন শিক্ষাঙ্গনে ভাঙচুর চালাবে? কেন আগুন ধরিয়ে দেবে?’ প্রশ্ন রাখেন তারেক।
তিনি মনে করেন, এসব ঘটনা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, ‘‘জনগণের যৌক্তিক আন্দোলন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ ‘সাবোটাজ’ করছে কিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করতে হবে। পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিতাড়িত স্বৈরাচার দেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে কিনা, সরকারকে এ বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ ‘আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করুন। সরকার পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিতে না পারলে জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা জনগণের অসহিষ্ণু হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।’
লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান বলেন, ‘অবৈধ ক্ষমতা আর অবৈধ সুবিধা হারানো পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জনগণের দাবি আদায়ের এই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।’
‘জনগণের অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে চক্রান্তের জাল বিছিয়েছে। সারা দেশে একটি পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। জনগণের মনে অসহিষ্ণুতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।’ তিনি মনে করেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতার মন্তব্য, ‘গত কয়েকদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ঘটনা ঘটেছে— এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারীদের অপতৎপরতা উদ্বেগজনক হয়ে দেখা দিয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘আমি বারবার বলেছি, জনগণের নিত্যদিনের দুর্দশা লাঘবে ‘করণীয় নির্ধারণ’ই হোক সরকারের প্রথম এবং প্রধান অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মনে রাখা দরকার, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবারকে প্রতিদিন সাধ এবং সাধ্যের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে। পারিবারিক খরচ মেটাতে এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই ‘সংস্কারের চেয়ে সংসার’ অগ্রাধিকার হয়ে ওঠা অস্বাভাবিক নয়।’’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে না পারলে ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে এই স্পর্শকাতর ইস্যু ব্যবহার করার সুযোগ নিতে পারে। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিন। জনগণকে আস্থায় রাখুন। হাজারো ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর স্বৈরাচার বিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। সরকারের কোনও কাজ কিংবা কথা যেন ছাত্র-জনতার ঐক্যে ফাটল ধরার কারণ না হয়, সরকারকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।’
দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সরকারকে আরেকটু সময় দিন। আরেকটু ধৈর্যের পরিচয় দিন। শান্ত থাকুন। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক এবং সজাগ দৃষ্টি রাখুন। দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যাত্রাপথে ষড়যন্ত্রকারীদের বাধা বিচক্ষণতার সঙ্গে অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে চরম মূল্য দিতে হবে।’
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর-২৪/মওম
নগর ভবনে ব্র্যাকের প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত
আলোকিত ডেস্ক :
ব্র্যাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আয়োজনে শিশু যত্ন সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নগরীর বিভিন্ন স্থানে ডে কেয়ার স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইউডিপি সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব মাসুদ আহমদ এর সভাপতিত্বে ও ইউডিপি ঢাকা অঞ্চলের সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার তুহিন আলম ও ডেপুটি ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকার পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী জনাব মীর খায়রুল আলম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান সমাজ কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহম্মদ মামুন-উল-হাসান, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জনাব বিকাশ সরকারসহ প্রমুখ।
সভার শুরুতে প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন ব্র্যাক বিআইইডি’র সিনিয়র ফিল্ড ম্যানেজার দিলরুবা বেগম এবং বিআইজিডি’র প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর রাইসা আদিবা।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন যে, নগরায়ন, অভিবাসন ইত্যাদি কারণে যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে একক পরিবারে পরিণত হচ্ছে। আর বাবা মা উভয়ে কর্মজীবী হওয়ার কারণে যেসব পরিবারের শিশুরা ঠিকমত বেড়ে উঠার পরিবেশ পাচ্ছে না, তাদের মনোসামাজিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। বাড়িতে ডে কেয়ার সেন্টার চালু হলে শিশু ঠিকমত যত্ন ও সুরক্ষা পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
পুলিশ পরিদর্শক জনাব বিকাশ সরকার বলেন যে, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে কর্মজীবী মায়েদের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং ডে কেয়ার সেন্টারগুলো মায়েদের ভরসাস্থল হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ডে কেয়ার সেন্টারের উদ্যোক্তা নূর বানু বলেন যে, আগে তার স্বামী ঘরের বাইরে যেতে দিতেন না। পরবর্তীতে তিনি ব্র্যাকের মাঠকর্মীদের মাধ্যমে এই প্রজেক্টের কথা জানতে পারেন ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি নিজ বাড়িতেই চার জন শিশুসহ একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালু করেছেন এবং কিছু টাকা আয় করছেন। এসময় অংশগ্রহণহকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউডিপি প্রোগ্রামের ম্যানেজার-অপারেশন জনাব রেজভিনা পারভীন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি জনাব মাসুদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন যে, নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা ও স্বাবলম্বনের কথা উঠলেই সাধারণত হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ ইত্যাদির কথা মাথায় আসে। কিন্তু এখন সময় এসেছে এসব গতানুগতিক চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিজ বাড়িতেই ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করে উদ্যোক্তারা যেমন বাড়তি কিছু আয় করতে পারবেন তেমনি কর্মহীন নারীরা নিশ্চিন্তে যে কোন আয়মুখী কাজে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবী নারী হিসেবে অর্থনৈতিক সাবলম্বিতা অর্জন এবং পরিবার ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্র্যাক নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নানা ধরণের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি Evedience on Child Care (EEC) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ঢাকা (কুনিপাড়া, বেগুনবাড়ি, মধুবাগ), টঙ্গী, সাভার ও গাজীপুর এলাকাতে। উক্ত প্রকল্পের মাধ্যমে শিশু যত্ন সেবা প্রদানকারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারীদের কাজের উপর এর প্রভাব ও শিশুর বিকাশের ফলাফলগুলো বোঝার চেষ্টা করা হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ প্রকল্পকালীন সময়সীমার মধ্যে ব্র্যাক নতুন ২০০ উদ্যোক্তা চিহ্নিত করবে যারা বাড়িতে ডে কেয়ার সেন্টার চালাবে। প্রত্যেক উদ্যোক্তার জন্য ১৬ জন মা যাদের ২-৫ বছর বয়সী সন্তান আছে এবং যারা শিশু যত্নের সেবা নিচ্ছেন না তাদের খুঁজে বের করা হবে। মোট ৩২০০ মা এবং শিশু থাকবে। এছাড়াও ১৫০ টি দলকে খেলাধুলা ভিত্তিক শিশু যত্ন ও ব্যবসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং অন্য ৫০ টি দলকে সাধারণ ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যারা শিশু যত্ন ব্যবসা শুরু করবেন না। সর্বোপরি ৩০০ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ দেখার জন্য আইসিডিডিআরবি’র সাথে মিলে ‘ব্রেইন ইমেজিং’ গবেষণা করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ২৮ নভেম্বর ২০২৪
নেত্রকোণার তিনটি কলেজে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের মতবিনিময় সভা ও বৃক্ষরোপণ
কুমিল্লা মুরাদনগরে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক
নাজমুল হাসান:
কুমিল্লা উত্তর জেলা মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে একটি সিএনজি তল্লাশি করে নগদ ২ লক্ষ ৭ হাজার ৩ শত ১০ টাকা ও ৩ হাজার ৭শত ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করে। আটক কারীরা হলেন-দেবিদ্বার উপজেলা পৌরসভার বাসিন্দা মৃত রহিম সরকার এর ছেলে মো: ইমরান ওরফে (ইবু-২২) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলাধীন তেতা ভূমি গ্রামের ছেনু মিয়ার বাড়ির মো: হৃদয় মিয়ার স্ত্রী মাদক ব্যবসায়ী খাদিজা আক্তার (২৪)।
২৭ নভেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় কোম্পানিগঞ্জ বাস স্টেশনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের প্রতিনিধি দল। কুমিল্লার মুরাদনগরে ক্যাপ্টেন মোঃ সাইদুর রহমানের নির্দেশনায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ এনামুল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলার দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের দায়িত্বে থাকা ক্যাপ্টেন মোঃ সাইদুর রহমান। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সকাল থেকে কোম্পানীগঞ্জ বাস স্টেশন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখি। সকাল ১১টায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে একটি সিএনজি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তখন সিএনজিতে থাকা দুজন মাদক ব্যবসায়ী একজন পুরুষ ও একজন নারীর কাছে নগদ টাকা ও ইয়াবার প্যাকেট পাওয়া যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা মো: ইমরান ওরফে ইবু ও খাদিজা আক্তার কে আটক করা হয়। পরে তাদের কে আটক করে মুরাদনগর থানা পুলিশ এস আই আরিফের হাতে তুলেদেই। এস আই আরিফ বলেন, যৌথবাহিনী আমাকে খবর দিয়ে ২ লক্ষ ৭ হাজার ৩শত ১০ টাকা ও ৩৭৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারী কে আমার কাছে তুলে দেন।
সেনাবাহিনীর চৌকস দলের টহল টীমে দায়িত্বে থাকা ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ এনামুল আরও জানান, আটককৃতরা একটি মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য। এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে কসবা বটার এলাকা থেকে ইয়াবা এনে দেবিদ্বার এবং মুরাদনগরের বিভিন্ন জায়গায় উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকজনের কাছে বিক্রি করতো।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হোক বলেন, মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল-হাজতে প্রেরণ করা হবে।

