আজ , ।   
Home Blog Page 662

আদালতের রায়ের মারপ্যাচে হাতিয়ায় খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবার

একেএম ফারুক হোসেন:
আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বসতভিটা দখল করার চক্রান্তে একটি অসহায় পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের(৪০) দেবর ফখরুল ইসলাম পাশার বিরুদ্ধে। ১২ দিন ধরে বাড়ির উঠোনে কুয়াশাচ্ছন্ন খোলা আকাশের নিচে তাবু টাঙিয়ে কোন মতে রাত্রি যাপন করছে পরিবারটি।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ১ ডিসেম্বর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির উঠোনে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবার। আগে  ২০ নভেম্বর বুধবার নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার লক্ষীদিয়া গ্রামের এমপির পোল সংলগ্ন ফখরুদ্দিনের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার(৪০) একই বাড়ির মৃত ফখরুদ্দিনের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তান-সন্ততি নিয়ে স্বামীর ভিটে মাটিতে বসবাস শাহেনা আক্তারের। সেই স্বামীর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারই ছোট ভাই ফখরুল ইসলাম পাশা(৪৮)। যে কারণে আজ সন্তান-সন্ততি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনিরাপদ বসবাস এই অসহায় পরিবারের।
অমানবিক এই নিষ্ঠুরতার বর্ণনা শুনে ঘটনাস্থলে প্রতিবেদকের সন্ধ্যা অবধি সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার ও তার ছেলেমেয়েরা মিলে বাড়ির উঠোনে তাবু টাঙ্গিয়ে বসে আছে । শীতের রাতে ঘন কুয়াশায় আবৃত তাবুর চারিদিক। তাবুর নিচে চোখ যেতেই দেখা যায় যেনো- শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতরা শীতে কাঁপছে। আসবাবপত্রসহ সবকিছু চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
দুর্বিষহ এমন হৃদয়বিদারক ঘটনাচিত্র সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া, আমজাদ, সাজ্জাদ, হুলারা বেগম, নুর ইসলাম, স্বপন ও আশরাফ সহ অসংখ্য মানুষের সাথে কথা হয়। তারা জানান, এই বাড়ির জমি কেনার সময় ফখরুদ্দীন মিয়া ব্যবসা করতেন। বিক্রেতাকে অল্প অল্প করে টাকা দিয়েছে। পরে নিজের নামে জমি কবলা করে বাড়ি তৈরি করেন। ঐ সময় ফখরুদ্দীন মিয়ার বাবা আজিজুল হক বাবর অসুস্থ ছিলেন, বাকি সবাই বেকার ছিল। ফখরুদ্দীন মিয়াকে ভাই- বোনেরা বহু কষ্ট দিয়েছে। অবশেষে তিনি মারাও যান। এখন তার স্ত্রী-সন্তানদেরও  কষ্ট দিচ্ছেন ভাই-বোনেরা।
“এই বাড়িটি আমার স্বামীর। বিশ বাইশ বছর এই বাড়িতে বসবাস করেছি। বাড়িতে দু’টি ঘর ছিল। টিনের ঘরটি দেবর’রা ভেঙে নিয়ে গেছে আর আমি বিল্ডিংটিতে থাকি। আমার স্বামীকে তার ভাইয়েরা তিনবার পিটিয়েছে, পরে আমার স্বামী মারা যায়। এখন আমার দেবর, ননদেরা আর শ্বাশুড়ি মিলে চক্রান্ত করে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা মেরে রেখেছে। গত ১২দিন ধরে আমি উঠানে তাবু টাঙ্গিয়ে থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এখন কোথায় যাব ? কোথায় থাকবো ? কার কাছে বিচার চাইবো ? তারা বলছে আমার ছেলে আর মেয়ে জামাইকে মেরে ফেলবে। এখানে তারা আমাকে থাকতে দিবে না। মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের বিরুদ্ধে জিডি করেছে। এর আগে তিন-চারটা মামলা দিয়ে আমাদেরকে শুধু হয়রানি করে যাচ্ছে। আমরা অসহায়। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।” এভাবেই করুন আকুতিতে ভয় আর উৎকণ্ঠায় অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার।
তিনি আরও বলেন, ২০০২ সাল থেকে বিক্রেতাকে এই বাড়ির ২৮ শতাংশ জমি কেনার টাকা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরিশোধ করে থাকে তার স্বামী ফখরুদ্দীন। পরে ২০১৭ সালে বাড়িটি তার স্বামীর নামে রেজিস্ট্রি হয়। বিক্রেতা প্রয়াত দিদার মিয়ার স্ত্রী ও ছেলেরা এখনো জীবিত আছে। অথচ তারা হিংসাত্মক ভাবে আমার শাশুড়িকে জিম্মি করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে। এলাকার সব মানুষ জানেন তারা আমাদেরকে কীভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। এমন নির্মমতায় পাড়া-প্রতিবেশীদের সমবেদনা করা ছাড়া তাদের ভয়ে আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার মতো কোন সুযোগ নেই। অভাব-অনটন, দুঃখকষ্ট আর নিরাপত্তাহীনতায় নির্ঘুম রাত কাটে আমাদের। আমার দেবর ফখরুল ইসলাম পাশার চক্রান্তে ও তার বোনেদের সহযোগিতায় তাদের মাকে (আমার শ্বাশুড়ি)কে দিয়ে কলাকৌশলে এবং চাপপ্রয়োগ করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তারা নির্যাতন ও হামলা করে যাচ্ছে বলে জানান এ ভুক্তভোগী নারী।
বাড়ির দলিলপত্র ও মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের স্বামীর নামে বাড়ি রেজিস্ট্রীর বিরুদ্ধে মামলা দেয় মা হাসনা আরা বেগম। ফখরুদ্দীন ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ, হাতিয়া আদালতে ২৬/২০২২ নং দেওয়ানী মোকদ্দমা শুনানীকালে ফখরুদ্দীনের মৃত্যু হয়।
হাতিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৬/২০২২ এর ৫ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন এক আদেশে বলা হয়- ১সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষ( ভুক্তভোগীর শ্বাশুড়ি পক্ষ) আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতিতে শুনানি করেন আদালত। আদালতের আদেশে বলা হয় বাদীনী হাসনা আরা বেগমকে পূর্বের অবস্থায় বসতবাড়িতে বসবাসের অবস্থান ঠিক করে দেওয়ার জন্য কিন্তু মৃত ফখরুদ্দিনের পরিবারকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার কোন নির্দেশনা দেননি আদালত। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন শুধুমাত্র বাদিনী হাসনা আরা বেগমকে তার বসবাসের জন্য পূর্বের অবস্থায় বাসস্থান ফিরিয়ে দিতে। প্রসঙ্গত: এর আগে বাদিনী হাসনা আরা বেগম ও তার ছেলে বিবাদী মৃত ফখরুদ্দিনের স্ত্রী ও পরিবারসহ একই সাথে একই ঘরে বসবাস করতেন।
অপরদিকে মৃত ফখরুদ্দিনের ক্রয়-কৃত জমির দলিল এখনো আদালত কর্তৃক বাতিল করা হয়নি বা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়নি। সেহেতু এটি একটি অমীমাংসিত বিষয়। তাছাড়া যদি এই ভিটেবাড়ি তাদের পৈত্রিক ভিটে হয় তাহলে মৃত ফখরুদ্দিন তাদের বড় সন্তান হিসেবেও তার অংশীদার।
এদিকে ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ বাবুল জানান, আমার শ্বশুর কষ্ট করে বাড়ির জমি কিনছে। আমি এক প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করার সুবাদে প্রায়ই চট্টগ্রাম থাকি। অথচ আমার চাচাশ্বশুর ফখরুল ইসলাম পাশা অকারণেই আমাকেও মামলাতে জড়ায়।
এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের ফখরুল ইসলাম পাশার সাথে কথা হলে তিনি জানান-আমরা অন্যায় ভাবে তাদেরকে ঘর থেকে বাহির করিনি। এটা আদালতের নির্দেশ ছিল।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সহকারী কমিশনার ভূমি এর তত্ত্বাবধানে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

কিংস্টনে ক্যারিবীয়ানদের ইতিহাসের সামনে দাঁড় করালো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক:

বাংলাদেশ কিংস্টনে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকছে তা অনেকাংশে নিশ্চিত। বেশ অনেকটা দিন পরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাদা পোশাকে দেখা গেল আগ্রাসী এক দিন। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে লিড এখনই ২১১।

দিনশেষ করেছিলেন জাকের আলী অনিক এবং তাইজুল ইসলাম।  ২৯ রানে ক্রিজে অপরাজিত জাকের আলী। ৯ রানে অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ৪৭ বলে ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন।

দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ব্যাট করতে নামেননি মুমিনুল হক। অসুস্থ বোধ করায় তাকে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। চেহারাই বলে দিচ্ছিল শারীরিকভাবে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তিনি। কিন্তু চতুর্থ দিনে প্রয়োজন হলে মাঠে দেখাও যেতে পারে তাকে। বাংলাদেশের লিড আরও বাড়বে সেটা সহজেই বলা চলে।

যদিও লিডের এই সংখ্যাটাই বাংলাদেশকে কিছুটা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে তৃতীয় দিনের শেষেই। বার্বাডোজের এই স্টেডিয়ামে যে চতুর্থ ইনিংসে ২১২ রানের বেশি লক্ষ্য নিয়ে কেউ কখনো টেস্টই জেতেনি। সর্বোচ্চ ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের নজির আছে। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই লক্ষ্য তাড়া করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই মাঠে ২০০ এর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজিরই আছে কেবল ২টি। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য পার করেছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া ১৫০ এর বেশি রানতাড়া করে জেতার নজির আছে দুইটি। ১৯৮৩ সালে ভারত এবং ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।জ্যামাইকার এই টেস্টেও রান ওঠেনি খুব একটা। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করতে পেরেছিল ১৬৪ রান। বিপরীতে ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। বাংলাদেশ লিড পায় ১৮ রানে। সেটাই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল লিড নেয়ার পথে বড় সহায়ক।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত, আটক ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ৭ ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

এছাড়া হাইকমিশনে হামলার সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

 ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এনই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা ও প্রতিবেশী দেশের জাতীয় পতাকা অপমানের ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ তাদের তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন উপ-পুলিশ সুপারকে (ডিওয়াইএসপি) প্রত্যাহার করেছে।

এছাড়া হামলার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন ভারতীয়কে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মূলত সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত নিপীড়নের নিন্দা এবং ইসকন সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি দাবির নামে সেখানে তাণ্ডব চালায়।

আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের ব্যানারেই সেখানে হামলা এবং তাণ্ডবের সময় এই ভাঙচুর ও হাইকমিশন অফিসের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে।

ইন্ডিয়া টুডে এনই বলেছে, বিক্ষোভের নামে হাইকমিশনের সামনে জড়ো হওয়ার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একটি দল বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তবে একপর্যায়ে ওই গ্রুপের কিছু সদস্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, হাইকমিশন চত্বরে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অপমান করে।

এই ঘটনায় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আগরতলার ঘটনাটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে বলতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কিরণ কুমার ইন্ডিয়া টুডে এনইকে বলেছেন, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

সপি কিরণ কুমার বলেছেন, “আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছি এবং একজন ডিওয়াইএসপিকে পুলিশ সদর দপ্তরে স্থানান্তর করার পাশাপাশি তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছি। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে।”

দ্বিতীয়বারের মতো ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন মানিক সাহা

এদিকে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আগরতলা সার্কিট হাউসে গান্ধী মূর্তির সামনে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এ ধরনের আচরণ একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়।”

আলোকিত প্রতিদিন/ ০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

সদর মডেল থানার বিশেষ অভিযানে ৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার -২ 

আবু সায়েম:
কক্সবাজারের কলাতলী সুগন্ধা বীচ সংলগ্ন প্রাসাদ প্যারাডাইস  রেস্টুরেন্টের এর বিপরীতে ঝাউবাগান এলাকা থেকে ৪ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ রাউন্ড গুলিসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
২ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ১০ টায় কক্সবাজারের সম্মানিত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহর নির্দেশে সদর মডেল থানার ওসি মোঃ ইলিয়াস খানের দিকনির্দেশনায় এসআই আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ  কলাতলীর সুগন্ধা বীচ সংলগ্ন প্রাসাদ প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঝাউবাগান এলাকায়  অভিযান চালিয়ে  ২ টি দেশীয় তৈরি এলজি,২ টি একনলা বন্দুক,২ রাউন্ড তাজাগুলিসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, মহেশখালী উপজেলার ঘোরকঘাটা এলাকার জকরিয়া সওদাগরের পুত্র ইকবাল হোসেন ফয়সাল (৩৪) এবং একই উপজেলার ছোট মহেশখালী লম্বারঘোনা এলাকার মো: আবুল কালামের পুত্র মো: আরমান হোসেন ( ৩৪) ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোঃ ইলিয়াস খান বলেন, সদর মডেল থানার আওতাধীন সকল জনসাধারণ ও আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা আমার মূল লক্ষ ও উদ্দেশ্য।  জনস্বার্থে এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের এসপি মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি একটা চলমান  প্রক্রিয়া। এর আগেও বেশকিছু অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছি।সামনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা অবৈধ  অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি জোরদার করেছি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ ডিসেম্বর-২৪/মওম

৬৬৩ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌরুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। ১ ডিসেম্বর রবিবার সকাল ১০টায় ৬৬৩ জন যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এমভি বার আউলিয়া জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনে যাত্রা সাধারণত নভেম্বর থেকে শুরু হয়। সরকারের নানা সিদ্ধান্তের কারণে এবছর আজ থেকেই  জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। পরিবেশ রক্ষার জন্য নানা নিয়মকানুন মানতে হবে পর্যটকদের। যেখানে কোন পলিথিন এবং প্লাস্টিক ব্যবহার করা যাবে না। সেন্টমার্টিনে যেতে পর্যটকদের প্রয়োজন হচ্ছে ট্রাভেল পাস। ট্রাভেল পাস নিয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ্যাপস তৈরি করেছে।এর আগে বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাত্রী সংকটের কারণে নির্ধারিত ‘কেয়ারি সিন্দবাদ’ জাহাজটি ছেড়ে যায়নি।এদিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পলিথিন এবং ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে শনিবার থেকে কাজ শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ১০ টিম। তারা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহাজ মনিটরিং, স্ক্যানিংসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবে।

সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, কোনো পর্যটককে পলিথিন ও ওয়ানটাইম প্লাস্টিক নিয়ে জাহাজে উঠতে দেওয়া হয় নি। আজকে প্রায় ৬৬৩ মতো পর্যটক নিয়ে এমভি বার আউলিয়া জাহাজ এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের জন্য তিনটি জাহাজকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে যাচাই-বাছাই করে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রতিবছর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত ছয় মাস টেকনাফ-সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি ছয় মাস সাগর উত্তাল থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সম্প্রতি নাফ নদে ডুবোচর জেগে ওঠার কারণে নাব্য সংকটে ও মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির কারণে আপাতত টেকনাফ থেকে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

১৯ নভেম্বর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে সেন্টমার্টিনের পর্যটক নিয়ন্ত্রণে কমিটি গঠন এবং একই সঙ্গে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপগামী জাহাজ চলাচল নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির কর্মপরিধি হিসেবে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে ওঠার আগে পর্যটকদের জাহাজ ছাড়ার জায়গা, অর্থাৎ এন্ট্রি পয়েন্টে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে ট্রাভেল পাস নিতে হবে। পাসধারী পর্যটকদের অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ নিশ্চিত করবে কমিটি।

পর্যটক ও অনুমোদিত জাহাজে নিষিদ্ধঘোষিত পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্য পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটি কঠোর থাকবে। পর্যটকরা সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছানোর পর কোন হোটেলে থাকবেন, তা লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ ডিসেম্বর-২৪/মওম

অর্থহীন ভালোবাসা: সাহিদা আক্তার

অর্থহীন ভালোবাসা

ব্যর্থ তুমি ভেঙে যেতেই পাল্টে যাবে সময়ের চাকা

মানুষের স্রোতে ভাসা সেই, তুমিও হবে ভীষণ একা।

হেরে যেতে যেতে ফিরে আসো যদি তবেই তুমি বীর

নতুবা তুমি এক আকাশ করুণা,অবহেলা প্রীতির।।

রাতের আঁচলে মুছবে একদিন ভীষণ শূণ্যতার শোক

হেলায় কি হারিয়েছিলে বুঝবে সেদিন প্রতি পলক।

হেলায় কি হারিয়েছিলে বুঝবে সেদিন প্রতি পলক।

দুচোখের বৃষ্টিই বলে দেবে আমি তোমার কি আবেগ!

অভিমানের আকাশ জুড়ে জমেছিলো কতখানি মেঘ।

আমি কোনো দূর জানালায় উদাস সে ক্লান্ত দুপুর

তখনও স্মৃতি আকড়ে নতুন আশায় পুরনো নুপুর।

জলের দামে কিনেছিলাম ভালোবাসার এক নদী

দু-চোখ ভরে জমিয়ে রেখে ভিজছি নিরবধি।

বেঁচে থাকাটা অনুভব করতে গিয়ে পেয়েছি শুধু মৃত্যুর খোঁজ

মৃত্যুকে স্পর্শ করতে গিয়ে ভীষণভাবে বাঁচতে চেয়েছি রোজ।

আসলে কতোখানি বেঁচেছি আর মরেছি কতোটা তার

হিসেবের খাতা নিয়ে জীবনের সময় আজ শুধুই ফেরার।

সবশেষে তাই এটুকুই জেনেছি আমি —

ভালোবাসা অনেকটাই একগুঁয়ে অসুখ

বাকীটুকু অর্থহীন পাগলামি।।

আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ ডিসেম্বর-২৪/মওম

 

 

 

বিজিসি অ্যাওয়ার্ড-২৪ পেলেন আব্দুল মান্নান

বিজিসি অ্যাওয়ার্ড-২৪ পেলেন আব্দুল মান্নান

 

সামাজিক কাজে বিশেষ অবদান রাখার জন্য দ্যা ফ্রেন্ডশিপ ট্যুর এন্ড ট্রাভেলসের কর্ণধার আব্দুল মান্নান বিজিসি অ্যাওয়ার্ড-২০২৪ এ ভূষিত হয়েছেন।

গত ৩০শে নভেম্বর শনিবার বাংলাদেশ গ্রিন লিফ কালচারাল ফোরাম ও গ্রিন লিভ ম্যাগাজিনের যৌথ উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজিসি অ্যাওয়ার্ড সিজন-৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন ম্যাজিশিয়ান, বংশীবাদক জুয়েল আইচ। অনুষ্ঠানটি উদ্ভোধন করেন এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশিপ সামমিট এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ গোলাম ফারুক মজনু।

অনুষ্ঠানের উদ্ভোধনী বক্তব্যে মোঃ গোলাম ফারুক মজনু বলেন, বেঁচে থাকার মাঝেই মানুষ জড়িয়ে পড়ে কেউ সুকর্মে, কেউ আবার কুকর্মে। কর্ম গুনে কেউ হয় বাবুর্চি, কেউ আবার হয় হিরোইনচি। হিরোইনচি বলা হয় একজন নেশাখোর মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে। মাদকাসক্তি নিরাময়ে সেলিব্রিটিদের এগিয়ে আসতে হবে। এখানে দেশের অনেক সেলিব্রিটিরা উপস্থিত হয়েছেন। আপনাদেরকে মানুষ ফলো করেন। তাই আপনাদের বক্তব্য কিংবা আপনাদের পরামর্শ সাধারণ মানুষ সাদরে গ্রহন করবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমাদের সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

সম্মাননা প্রসঙ্গে আব্দুল মান্নান উপস্থিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “যেকোনো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত হলে সেটা অবশ্যই ভালো লাগে। এতে করে কাজের প্রতি ভালোবাসা, ভালো লাগা ও দায়বদ্ধতা বেড়ে যায়। কোনো নির্দিষ্ট গতিতে নিজেকে আটকে আর রাখতে চাই না। সব সময় মানব সেবার কথা মাথায় রেখে কাজ করি। ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের ভালোবেসা অর্জন করতে চাই।”

২০২৪ এর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শহীদ স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও জাতীয় সংগীত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ৫০ টি ক্যাটাগরিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এছাড়াও সেরা গায়ক হিসেবে পুরস্কার পান বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মনির খান, গুনী সিনিয়র অভিনয় শিল্পী অঞ্জনা, জনপ্রিয় চিত্র নাইকা অপু বিশ্বাস, চিত্র নাইকা তমা মির্জা, চিত্র নায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দিঘি, চিত্র নায়ক ইমন, অভিনয় শিল্পী রুনা খান, অভিনয় শিল্পী কুসুম সিকদার, অভিনয় শিল্পী সখ, অভিনয় শিল্পী পারসানা ইভানা, অভিনয় শিল্পী সাইদুর রহমান পাভেল, জনপ্রিয় শিশু শিল্পী সিমরিন লুবাবা, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহা, নৃত্য শিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, কোরিয়ার, ট্রেনার বুলবুল টুম্পা, ফ্যাশন মডেল সৈয়দ রুমা, ব্রান্ড প্রোমোটার বারিশ হক, ইনফ্লুয়েঞ্জার সানজিদা সায়মা, উদ্যোক্তা তাসলিমা ইসলাম, অর্গানাইজার উর্মী ইসলাম সহ বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মানিকগঞ্জে পদ্মায় ধরা পড়ল ৪৪ কেজির বাঘাইর,৪৮ হাজারে বিক্রি

মো: মহিদ আহমেদ:
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের পদ্মায় ৪৪ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ জেলের জালে ধরা পড়েছে। পরে মাছটি ১১০০ টাকা কেজি দরে ৪৮ হাজার টাকায় শিবালয় উপজেলার আরিচা আড়তে বিক্রি  হয়েছে।
রবিবার দিবাগত ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে হরিরামপুর উপজেলার হরিনাঘাট থেকে আজিমনগর এর মাঝামাঝি  পদ্মা নদীতে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার আব্দুল মমিন মাঝির  জালে মাছটি ধরা পরে বলে জানা গেছে । সোমবার সকালে বিক্রয়ের জন্য মাছটি আরিচা আড়তে নিয়ে আসেন মমিন। জেলে আব্দুল মমিন বলেন, আমিসহ জামালপুরের আদর আলী, সাজল এবং আমির হামজা এই চারজন জেলে হরিরামপুর এরিয়ার পদ্মায় জাল ফেলি। ভোর  রাত সাড়ে তিনটার দিকে হরিরামপুর উপজেলার হড়িনা ঘাট থেকে আজিমনগর এরিয়ার পদ্মা নদী থেকে আমার জালে বাঘাইর মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি ভোরে আরিচা আড়তে নিয়ে আসি। পরে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। জেলে আদর আলী বলেন, মাছটি উপরে তোলার পর আমরা বেশ খুশি হয়েছি। বড় মাছ জালে আটকালে আনন্দ পাই। আর ভাল দাম পেলে আরো ভাল লাগে। আরিচা ঘাট আড়তদার মামুন মিয়া বলেন, রবিবার সকালে মমিন নামের জেলে পদ্মা থেকে বড় একটি বাঘাইর মাছ ধরে আড়তে আরিচা আড়তে নিয়ে আসে। আমার পাশের খোলায় (আড়তের বসার জায়গা) মাছটি ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক পাইকার ঢাকায় নিয়ে গেছে। হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরুল ইকরাম  বলেন, হরিরামপুর পদ্মায় বড় মাছ ধরা বা বিক্রির বিষয়ে আমি অবগত নই। মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীতে আগের মতো পানি থাকেনা। মনুষ্য সৃষ্ট বিভিন্ন কারনে মাছের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আগের মতো নেই। তারপরও এখনো মাঝে মাঝে বড় বড় আইর, পাঙাশ, বাঘাইর ধরা পড়ে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ ডিসেম্বর-২৪/মওম

বিআরটিএর অফিস পিয়ন সজিবের আলিশান বাড়ির নেপথ্যের কালো বিড়াল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বিআরটি অফিসে চাকরি পেয়ে যেনো আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। আর এই চেরাগের মাধ্যমে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক।
নোয়াখালী জেলার কবির হাট উপজেলার মৃত এনাম আহসানের পুত্র মোঃ সজীব আহসানের বিরুদ্ধে ঘুস দূর্নীতির মাধ্যমে শতকোটি টাকার মালিক হওয়ার অবিশ্বাস্য কাহিনীর উপাখ্যান জেলার মানুষের মুখে মুখে। পিতা মৃত এনাম আহসানের মুক্তি যোদ্ধার কোটায় চাকরি পেয়ে গড়েছেন এইসব অবৈধ সম্পদ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাকরি করতেন ঢাকার বিআরটিএ মিরপুর কার্যালয়ে অফিস সহকারী হিসাবে। হাসিনা সরকার পতনের পর তড়িগড়ি করে বদলি হয়ে বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিআরটিএ অফিসে কর্মরত আছেন। তার এই পদটি ১৪ তম গ্রেডের। বেতন পান সরকার থেকে সব মিলে ১৮/২০ হাজার টাকা। তাহলে এতো ছোট চাকুরী করে এতো অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার আলিশান বাড়ী গাড়ীর মালিক কিভাবে হলেন তা নিয়ে এলাকার সচেতন মহল রিতীমত হতবাক হয়ে পড়েছেন?
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিস সহকারী সজীব আহসান চাকুরীর মেয়াদ মাত্র ৪/৫ বছর অতিক্রম হতে চলেছে। তাহলে এই স্বল্প বেতন দিয়ে তিনি কিভাবে ৬/৭ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন? তিনি স্বল্প বেতন দিয়ে নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাইজদী লক্ষীনারায়ন পুর মৌজায় মাইজদী কোর্ট স্টেশনের উত্তর পাশে রেল লাইনের পূর্বপাশে ১২ শতাংশ জমি কিনে তথায় ৪ ইউনিটের ৮ তলা বিশিষ্ট একটি আলীশান বাড়ী নির্মাণ করেছে।ঐ বাড়ির ৮ম তলার মধ্যে ৬ তলা পুরোপুরি সম্পন্ন করেছেন।জানা যায়,বাড়ীটি বানাতে তিনি খরচ করেছেন প্রায় ৫ কোটি টাকা।পুরো ভবনটি বিদেশী ফিটিংস দিয়ে সম্পন্ন করেছেন।তার আলিশান বাড়িটির পাশেই রেললাইনের পশ্চিম পাশে তাদের আরেকটি পৈত্রিক বাড়ি রয়েছে। ঐ বাড়ীতে তার পরিবার পরিজন বসবাস করছে। ঐ বাড়ীর দক্ষিন পাশে ২/৩ শত গজের মধ্যে আরো ১০ শতক ভূমি খরিদ করে তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙিন টিন দিয়ে ঘেরাও করে মুক্তিযোদ্ধা এনাম আহসানের বাড়ী নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছেন। তৃয় শ্রেনির কর্মচারী সজীব হোসেনের লক্ষীনারায়ন পুর মৌজায় ৩ টি বাড়ীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানান এই এলাকায় সজীবের প্রায় ৭/৮ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান এতো স্বল্প বেতনের চাকুরী করে সজীব কি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক? এলাকাবাসী  সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন সজীবের এই সম্পদ দুর্নীতির টাকায় কেনা। এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এপিএস রাহাতের মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধো কোটায় সজীব  আহসান চাকুরী নেন। চাকুরীতে ডুকে সজীব নিজেকে ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা পরিচয় দিতেন।ভাগিনা পরিচয় দিয়েই তিনি বিআরটিএ অফিসের সকল তদবির, নিয়োগ বানিজ্য করে আলাদিনের চেরাগের মত সম্পদ গড়তে থাকেন।কথিত সজীবের বিরুদ্ধে এলাকায় মানুষের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। সে এলাকায় যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে মন্ত্রী কাদেরের ভাগিনার দাপট দেখিয়ে একদল কিশোর গ্যাঙ্ক পালতো।এই কিশোর গ্যাংকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি ও মানুষের জমি দখলের নেশা পেয়ে বসে।প্রতি সপ্তাহে সরকারি ছুটির দিনে নিজের কেনা সাদা প্রাইভেট কার নিয়ে এলাকায় এসে কিশোর গ্যাংদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করতো।নোয়াখালীতে যে সজীবের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তা নয়।ঢাকা শহরেও তার আলীশান ফ্ল্যাট রয়েছে। তিনি স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। লক্ষীনারায়ন পুর মৌজার সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সজীব সাবেক মন্ত্রী কাদেরের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে।ঐ সন্ত্রাসী বাহনী দিয়ে  গত ২০২৩ সালে তার জমি জোর পূর্বক দখল করে নেয়।ঐ সময় তারা সুধারাম থানায় মামলা করতে গেলে সজীব তার বাহিনী দিয়ে প্রানে হত্যার হুমকি দেয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। সজীবের দুর্নীতির এখানেই শেষ নয়।তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার নির্মিত আলীশান ভবনের সামনে সরকারী রেললাইনের মালিকানা ৪/৫ শতক ভূমি জোর পূর্বক দখল করে তথায় দামী দামী লোহার এ্যাঙ্গেল দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/ ০২ ডিসেম্বর-২৪/মওম

মানিকগঞ্জে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে গ্রেপ্তার

মো: মহিদ আহমেদ: 
মানিকগঞ্জে পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ৩  যুবক  প্রক্সি দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা।
২৯ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে জেলা পুলিশ লাইনে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা ছিল। সেই মৌখিক পরীক্ষার প্রকৃত তিনজন পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য তিনজন যুবক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় তাদের সন্দেহ হলে আটক করা হয়। পরে টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে এসেছেন বলে স্বীকার করেন তারা। প্রেফতারকৃতরা হলো-মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার তালুকনগর গ্রামের মোঃ শামীম খান, মোঃ ইসমাইল খান ও মোঃ নাজমুল হোসেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম আমান উল্লাহ জানান, এ বিষয়ে একজন উপরিদর্শক বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।  আর গ্রেফতারকৃত তিনজন আসামিকে আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বাকি আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/ ৩০ নভেম্বর-২৪/মওম