আজ , ।   
Home Blog Page 661

শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ‘এনাফ’ ক্যাম্পেইন শুরু 

আবু সায়েমঃ
শিশুদের ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করতে নতুন ক্যাম্পেইন ‘এনাফ’  নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের স্বপ্নীল সিন্ধু হোটেলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন অফিসিয়াল তথ্য মতে,  ক্ষুধা নিয়ে রাতে ঘুমাতে যায়  বাংলাদেশের এক চতুর্থাংশ শিশু। মানুষের চাহিদা অনুপাতে খাবারের জোগান যথেষ্ট থাকলেও অসমবন্টন আর বৈষম্যের ফলে চাহিদ মতো সবার খাদ্য জোটে না।
দ্বন্দ-সংঘাত, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং করোনা মহামারীর কারনে সার বিশ্বেই দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি। ফলে পৃথিবীর ইতিহাসে ঠিক এই সময়ে সবচেয়ে বেশী বেড়েছে খাদ্য অনিশ্চয়তা আর  ক্ষুধার সংকট। এনাফ বা পর্যাপ্ত খাবার আছে, তবুও সবাই পাচ্ছে না যথেষ্ট খাদ্য। এই বিষয়কে বিবেচনা করে শিশুর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  ENOUGH নামে বিশ্বব্যাপী একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন। তারই ধারবাহিকতায় বাংলাদেশেও ওয়ার্ল্ড ভিশন এই ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। বাংলাদেশেও প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। ফলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।
মতবিনিময় সভায় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে কাজ করার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের সামনে ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. রাহুল ম্যাথিউ নিমাগাদা।
তিনি জানান, শিশুর অপুষ্টি-জনিত সমস্যা চিহ্নিত করা ও এর স্থানীয় সমাধানের লক্ষ্যে এখন বাংলাদেশের ২৮ জেলার ৮৮টি উপজেলায় কাজ করছে সংস্থাটি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির লক্ষ্য ২- ‘ক্ষুধা মুক্তি’ অর্জন করতে এনাফ ক্যাম্পেইনের ইউনিয়ন পরিষদে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ, জেলা পর্যায়ে পুষ্টি মনিটরিং কার্যক্রম বেগবান করা এবং জাতীয় পর্যায় থেকে খাদ্যের সুষম বণ্টনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারে ওয়ার্ল্ড ভিশনের রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্রোগ্রাম এর নতুন রেসপন্স ডিরেক্টর আসুন্থা চার্লস স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন।
বিশ্বের কয়েকটি দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে  আসুন্থা  চার্লস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা কার্যক্রমের প্রকল্প বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহায়তা ও পরামর্শ প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশের ৪০ মিলিয়ন টন খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয়। দেশের মোট চাহিদা হলো ৩০ থেকে ৩২ মিলিয়ন টন। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, দেশের মানুষ প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন টন খাদ্য শস্য নষ্ট করে ফেলে। এ অপচয় বন্ধ হওয়া দরকার। এই উদ্দেশ্যে এনাফ ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার জেলায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
উন্মুক্ত আলোচনা সভায় তারা বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সিনিয়র সাংবাদিক মো: নুরুল ইসলাম,
দৈনিক বাঁকখালীর সম্পাদক  প্রকাশক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কক্সবাজার প্রতিনিধি  ও দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হাসানুর রশীদ।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম

নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন।

৪ ডিসেম্বর বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত “নিষ্ক্রিয়তা”র অভিযোগের ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে দেখছে, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার করা এ প্রশ্নের জবাবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো এক ইমেইলে সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানানোর কথা বলা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র জানান, “আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর সহিংসতা ও তাদের প্রতি অসহিষ্ণুতার যেকোনও ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশের সব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছি।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত নিপীড়নের যে ঘটনাগুলো ঘটছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন (করার স্বাধীনতাকে) মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে সমর্থন করে। আমরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারসহ আমাদের সকল অংশীদারদের কাছে সেই সমর্থনের কথা জানাই।”

বাংলাদেশে ইসকনকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করার দাবি ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানান, “বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ও সংবিধানে (নাগরিকদের) যে অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তার আলোকে এ ইস্যুগুলো সমাধান করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।

তিনি আরও জানান, আমরা বাংলাদেশসহ সকল দেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে প্রশ্ন করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই মুখপাত্র জানান, “আমরা বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের সাথেই আমাদের সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্য দিই। তাদের একে অপরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারটি আমরা বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকারের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।”

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা সংক্রান্ত ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম

আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে লড়াই করে দিল্লির দাসত্বকে খান-খান করে দেব : রিজভী

আলোকিত ডেস্ক:

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা ছোট-বড় সব দেশের স্বাধীনতার মর্যাদা দেই। একইসঙ্গে আমরা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু ভারতের শাসকগোষ্ঠী যদি মনে করেন- বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও অন্যান্য দেশ কব্জা করে নেবেন তাহলে আপনারা ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছেন।

৪ ডিসেম্বর বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ এবং পদযাত্রায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ জাগরিত। তাদের মনের জাগরণ দেশ মাতৃকা রক্ষার জন্য। এই মাতৃকায় যাদের জন্ম—হিন্দু-মুসলমান, তারা এই মাটির সন্তান। এখানে আমাদের সবার জন্ম। তারা এই দেশকে অন্যের গোলামির কাছে বিক্রি করবে কেন? দেশের মুক্তির জন্য সিরাজ-উদ-দৌলা, মোহনলাল যদি একসঙ্গে লড়াই করতে পারেন।   দেশ রক্ষার জন্য ঠিক একইভাবে আমরা হিন্দু-মুসলমান কেন পারবো না। আমরাও একসঙ্গে লড়াই করবো। দিল্লির দাসত্বকে খান-খান করে দেব।

রিজভী বলেন, আপনারা (ভারত) আগরতলায় হাইকমিশনে আমাদের পতাকা ছিঁড়েছেন। এটা তো প্রচণ্ড আঘাত। এটা আমরা কোনো দিনও ভুলে যাবো না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিজেপি সরকার গোড়া হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করে ক্ষমতায় এসেছে। এদের আর কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং ক্ষমতায় থাকতে হলে হিংসা এবং ঘৃণা ছড়াতে হবে। এছাড়া নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় থাকা অনেক মুশকিল হবে। কারণ ভারতের স্বাধীনতায় তাদের উত্তরসূরিদের কোনো অবদান নেই।

রিজভী বলেন, আমার কাছে অবাক লাগে, যে ভদ্র মহিলার (কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ছিল। অসাম্প্রদায়িক, সেক্যুলার হিসেবে যে রাজনীতিবিদকে চিনতাম। অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলতেন। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলতেন কিন্তু তার গভীরে ছিলো কট্টর হিন্দুত্ববাদ। এই সিনিয়র নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের হার ২৫ শতাংশ অথচ সরকারি চাকরিতে সুযোগ পায় মাত্র ১ শতাংশ। তাহলে মমতা তো কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী ছিল না।

তিনি বলেন, এই দেশে যারা ইসলামি রাজনীতি করেন তারাও কিন্তু সাম্প্রদায়িক কথা বলেন না। অন্য ধর্মের প্রতি আক্রমণ করে কোনো কথা বলেন না। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। আমরা এখানে যারা আছি তারা তো সিরাজ উদ দৌলা, মোহনলাল, মীর মদনের উত্তরসূরি। তাই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়বো। এটা আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যে আছে। বাংলাদেশের মানুষের দেশরক্ষার অন্তর্নিহিত শক্তি, প্রাণের উন্মাদনা এটা ভারত কখনোই টের পায়নি৷ আপনাদের যদি অশুভ ইচ্ছা থাকে তাহলে আমরাও বলবো- আমাদের নবাবের এলাকা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা। যদি আপনারা একের পর এক আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন- তাহলে এগুলো আমরা দাবি করবো।

সংগঠনের সভাপতি অর্পনা রায় দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খান প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম

১৫ বছর পর বাংলাদেশের টেস্ট জয় উইন্ডিজের মাঠে

ক্রীড়া ডেস্ক:

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। আন্টিগাতে প্রথম ম্যাচে না পারলেও জ্যামাইকায় কিংস্টন টেস্টে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ক্যারিবিয়ানদের ১০১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রটাও তাতে বাংলাদেশ জয় দিয়েই শেষ করেছে। এই জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ।

কিংসটনে ১০১ রানের জয়ের মাধ্যমে ১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে জয় পেলো টাইগাররা। সবশেষ ২০০৯ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ থেকে টেস্টে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এমন জয়ে তাই উচ্ছ্বসিত হওয়াটাই বেশ স্বাভাবিক।

কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই মাঠে ২১২ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। এবার উইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল ২৮৭ রানের। টপ-অর্ডারের শুরুটা নেহাত মন্দ ছিল না। তবে অভিজ্ঞ তাইজুলের ঘূর্ণি আরও একবার পথ দেখাল বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।জ্যামাইকায় কিংস্টন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে নাহিদ রানার ৫ উইকেট শিকারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ছিল সর্বনিম্ন রানের স্কোর। ১৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। দলের হয়ে চতুর্থ দিনে অনেকটা একাই লড়াই করেছেন জাকের আলি। তবে ৯ রানের জন্য মিস করেছেন সেঞ্চুরি। ৫ ছক্কা ও ৮ চারে ৯১ রান করেন জাকের। তার ব্যাটে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ক্যারিবিয়ানদের টার্গেট দাঁড়ায় ২৮৭ রানের।

২৮৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫৭ রানের মধ্যে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তাইজুল এবং তাসকিন আহমেদ। মিকাইল লুইস ৬ ও কাসি কার্টি ১৪ রান করে আউট হন। তবে কেভাম হজ ও ক্রেইগ ব্রাফেটের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই দুই ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল। ব্রাফেট ৪৩ ও হজ ৫৫ রান করে আউট হন।

তাদের বিদায়ের পর আর কেউ থিতু হতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভারে ১৮৫ রানে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা। তাইজুল নেন ৫টি উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন ও হাসান মাহমুদ নেন ২টি করে উইকেট।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম

ডিবির অভিযানে দেশীয় এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজসহ আটক-২ 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজার সদর থানার আওতাধীন খুরুশকুল ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর কাশেমের মাছের প্রজেক্টের সম্মুখে দাঁড়ানো থাকা সিএনজির পেছনের সিট থেকে ২ টি দেশীয় অস্ত্র,  ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ সহ ২ জনকে আটক করেছে ডিবি।

২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ও পরিদর্শক প্রতুল কুমার শীল ও উপ পরিদর্শক সমীরের নেতৃত্বে কক্সবাজার সদর থানার আওতাধীন  খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের  ০৯ নং ওয়ার্ডস্থ ছনখোলা বাজার রোড হতে সাম্পানঘাট জাহাঙ্গীর কাশেমের মাছের প্রজেক্টের  সম্মুখে দাঁড়ানো  থাকা সিএনজির পেছনের সিট  তল্লাশি  করে অস্ত্র ও কার্তুজসহ  ২ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, সদরের লিংক রোড় মুহুরী পাড়া ০৪ নং ওয়ার্ড ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা বজল কবিরের ছেলে সিএনজি চালক আব্দু রহিম প্রঃ ইলিয়াস এবং একই এলাকার মৃতঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ ওসমান। গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,অভিযানে সিএনজি চালক আঃ রহিমকে গ্রেফতার করা হলে পরবর্তীতে তার দেখানো মতো মোঃ ওসমানকে লিংক রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো বলেন,এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে  কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হবে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

২১ আগস্টের মিথ্যা মামলা থেকে তারেক রহমান এর মুক্তিতে সাভারে আনন্দ র‍্যালী

শহিদুল্লাহ সরকার:
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খালাস পাওয়ায় সাভারে  আনন্দ র‍্যালী করেছে বিরুলিয়া ইউনিয়ন  বিএনপি।
আজ দুপুরে  সাভার থানা ও বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি এ আনন্দ র‍্যালীর আয়োজন করে। র‍্যালিটি বিরুলিয়ার আকরান সাবেক বিএনপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলাল এর বাড়ি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগান এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যেদিয়ে শেষ হয়।
এসময় থানা যুবদলের সভাপতি গোলাম হোসাইন ডালিম, বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মন্ডলসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েক’শ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

ভালো নেই মানিকগঞ্জের সংবাদপত্র হকাররা, জীবনমান উন্নয়নে কল্যাণ ট্রাস্টটের দাবি 

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত : 
মানিকগঞ্জে ‘পেপারওয়ালার’ খবর রাখেনা কেউ। ভালো নেই জেলাসহ উপজেলার সংবাদপত্র হকাররা। সংবাদ পত্রে আসে না হকারদের কষ্টের জীবনের কথা। জীবনমান উন্নয়নে হকারদের কল্যাণ ট্রাস্টটের দাবি।
‘গরম খবর, গড়ম খবর’ ‘আজকের গরম খবর’, সব খবর জানতে পত্রিকা পড়ুন’- এমনি ভাবে ডাকতে থাকে পত্রিকার হকার। সেই কাক-পাখি ডাকা ভোরে শহর থেকে অলিগলি রাস্তায়, বাসা বাড়ির সামনে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে হকাররা জীবনের চাকা ঘুরাতে পত্রিকা বিক্রি করেন। পাঠক তার পছন্দের পত্রিকাটি অন্তত পাঁচ থেকে দশ টাকার বিনিময়ে সারা পৃথিবীর খরব পেয়ে যায় নিমিষেই হাতের নাগালে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে খবরের কাগজের মালিক পক্ষ রাত ১২টার পর তীর্থের কাকের মতো বসে থাকেন পাঠক মহলে খবরের কাগজ পৌঁছবে বলে। কিন্তু একবারও কি পাঠক ভাবেন কার মাধ্যমে তার পছন্দের খবরের কাগজটি তিনি সহজেই পেয়ে যান? মালিক পক্ষ কি একবারও ভাবেন তার কোটি টাকার খবরের কাগজটা কে এসে তার পরিশ্রমের মাধ্যমে পাঠক মহলে ছড়িয়ে দেন? তিনি আর কেহ নন। তাকে পাঠক মহল এক নামে চেনেন তার নাম হলো, ‘হকার’ যাকে পত্রিকার হকার বলে চেনেন এমনকি তাকে অনেক সময় ডাকা হয়, ‘এই পেপার’, ‘ওই পত্রিকা’  ইত্যাদি নামে ডাকে। একটা পত্রিকার দাম যদি পাঁচ টাকা হয় তবে হকার পাঁচ টাকা বিক্রি করে পত্রিকার এজেন্ট এবং এজেন্ট পত্রিকার মালিককে দিয়ে কত টাকা হকার পায়? সে ক্ষেত্রে একজন হকার অবশ্যই নিরীহ মানুষ যার অঢেল টাকা কামানোর পথ নাই বলেই পত্রিকা বিক্রি করার জন্য নেমে যায়। সময়টা কখন পাঠক জানে? কি দিন কি রাত কি বৃষ্টি কি রৌদ্র, কি গরম কি শীত আকাশ পরিবেশের আবহাওয়া যেমনই থাক হকার তার আরামের ঘুম হারাম করে মোরগ ডাকার আগেই নেমে পড়েন সমিতি কিংবা এজেন্টের কাছ থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করার জন্য তার পরও ছুটে চলেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। সেই গভীর রাত থেকে নেমে সারা দিনের পরিশ্রমের ফল আসে একজন হকারের জন্য সর্বসাকুল্যে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। যেদিন ভালো চলে সেদিন ৪০০টাকা হয়। কিন্তু এই আয়ের কোনো নিরাপত্তা নেই। এমনকি সামান্য এই আয়ের নিমিত্তে বিপন্ন হয় পুরো জীবনটাই। তাছাড়া পরিবার-পরিজন ও সন্তান লালন-পালন করে তাদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ এই আয় দিয়ে টিকে থাকা মুশকিল। এরই জনবহুল ব্যস্ত এই এলাকায় খবরের কাগজ বিক্রির উলেখযোগ্য বাজার হিসেবে বেছে নেন রাস্তার চলমান গাড়িগুলোকে। সে জন্য দিতে হয় দৌড়ঝাপ। সে ক্ষেত্রে দূর্ঘটনায় পড়া স্বাভাবিক। পাঠকের কাছে নিজের জীবন বাজি রেখে খবরের কাগজ পৌঁছায় ঠিকই কিন্তু দূর্ঘটনায় তাদের পাশে কেউ থাকার নাই। প্রাকৃতিক রোগব্যাধি তো থাকেই। এই এলাকার হিসাব অনুযায়ী একজন হকারের মাসিক আয় সর্বসাকুল্যে ৯ হাজার টাকা। ব্যস্ততম এই শহরের পারিপার্শ্বের সাপেক্ষে ৯ হাজার টাকায় টিকে থাকার কথা না থাকলেও নিজের সমস্যা ঢেকে পাঠকদের পত্রিকা ঠিকই পৌঁছে দেয় হকার। তাদের সম্বন্ধে ভাবার জন্য নাই পাঠকের সময় না পত্রিকার হকার সমিতির সময় না পত্রিকার মালিক পক্ষের সময়। সংবাদপত্র বিক্রি করে হকাররা লাভ পান কমিশন অনুযায়ী। প্রকাশকের কাছ থেকে হকার্স সমিতি পত্রিকা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিশনে। এর মধ্য থেকে হকাররা পত্রিকা পান ৩৫ শতাংশ কমিশনে। মাঠ পর্যায়ের হকাররা অনেক পত্রিকার ক্ষেত্রেই নির্ধারিত কমিশন পান না। মধ্যস্বত্ব ভোগীরা তাতে ভাগ বসায়। ১৯৭৪ সাল থেকে এই একই রেটে চলছে পত্রিকা বিপণন। অনেক সময় গড়িয়েছে। তিন টাকার পত্রিকা ১২ টাকা হয়েছে, সবার লাভ বেড়েছে। কিন্তু হকারদের আয় বাড়েনি। অনেকে পত্রিকার সংখ্যার কথা বলেন, কিন্তু হকাররা বলছেন, তাতে কাজ হচ্ছে না। সার্বিকভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
মাস্টার্স পাস করে চাকরী না পেয়ে পত্রিকার হকার পেশায় থাকা মো. বুলবুল ইসলাম বলেন, অনেক পত্রিকা আছে তারা বেচে যাওয়া পত্রিকা ফেরত নেয় না। আমাদের আয় কম। পাঁচটা পত্রিকা বেচলে ১৫ টাকা লাভ হয়। একটা থেকে গেলে তার পুরোটাই ক্ষতি। বড় পত্রিকাগুলো ফেরত দিতে ঝামেলা হয়। দু’চারটা ফেরত নেয়, বাকিগুলোর নিজের পকেট থেকে গচ্চা দেয়া লাগে। বৃষ্টির মৌসুম এলে নিয়মিত পত্রিকা ভিজে যায় আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় পত্রিকা বিক্রি করতে রাস্তায় নামাই যায় না। শত ঝামেলা পেরিয়েও হকাররা নিয়মিত পাঠকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও ঠিক সময়ে পত্রিকা পৌঁছে দেন। মাস শেষে যখন নিজেদের হিসেবের খাতা খুলেন প্রহসন আর মানসিক কষ্ট ছাড়া আর কিছু না। এভাবেই চলছে মানিকগঞ্জের হকারদের কষ্টের জীবন।
পত্রিকার হকার মোহন দাস বলেন, গ্রামে পত্রিকা এখন খুব কম বিক্রি হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকলেই খবর পড়ে থাকে। আগের চেয়ে এখন পত্রিকা তেমন চলে না। তবুও পত্রিকা বিক্রি করছি অল্প স্বল্প নিজেদের খরচ বাড়লেও পত্রিকার দামও আমাদের পাওনা তো বাড়ে না। বছরে দুটো ঈদ আসলে পত্রিকার হকাররা পান না কোনো অতিরিক্ত মূল্য-বোনাস। স্বাধীনতার পর থেকে দিনের পর দিন যে কোনো পত্রিকার দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়ে নি হকারদের শ্রমের মূল্যের। অষ্টম ওয়েজ বোর্ড হিসেবে সাংবাদিকরা বেতন পায় ঠিকই কিন্তু প্রেসের আওতায় আসে না সাংবাদিকদের সংবাদ বাহকের বাইরের মূল সংবাদ বাহক তথা হকাররা। সাংবাদিক, সম্পাদক প্রকাশকরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের নিচে বসে সংবাদ লিখেন, ছাপান কিন্তু এই সংবাদ ও সংবাদপত্র যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এলাকার পাড়া-মহল্লা এমনকি শোবার ঘরে নিয়ে পৌঁছায় তাদের দুর্দশা জীবন ও কষ্টময় জীবিকার কথা বৈচিত্রময় সংবাদপত্রে আসে না। রাতের প্রহর কাটিয়ে ভোর হলেই চোখ মেলে পত্রিকার শিরোনামগুলোতে চোখ বুলালে আতংকিত আমরা হই ঠিকই কিন্তু যারা সর্বদায় পাঠকদের জন্য নিজেরাই আতংকে থাকেন তাদের খবর আমরা নিজেরাও নেই না এমনকি সংবাদপত্রে কখনও আসতে দেখি না। সাংবাদিকদের  জাতীয় প্রেসক্লাবে হয়েছে কি হকারদের নিয়ে কোনো সম্মেলন? কিন্তু পত্রিকার সাংবাদিক-সম্পাদক ও প্রকাশক, পাঠক আমার আপনার সকলেরই উচিত পত্রিকার হকারদের ন্যায্য অধিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া। যাদের অঢেল ও সীমাহীন পরিশ্রমের ফলে আমরা প্রতিদিন সংবাদপত্র পাই এবং পড়ি তাদের জন্য সাংবাদিক, সম্পাদক, পাঠক এমনকি উভয়ের কিছু একটা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে জাতীয় প্রেসক্লাব ও তথ্য মন্ত্রণালয় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আর সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দেশের লেখক সাহিত্যিকরা। যাদের কলমের খোঁচায় ওঠে আসবে হকারদের দূর্ভোগের কথা। হকাররা হয়তো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসায় থাকার স্বপ্ন দেখে না তবে একটু ভালো করে বাঁচবে। তিন বেলায় ডাল-ভাত খাবে এমন আশা করতেই পারে।
মানিকগঞ্জ শহর এলাকার সংবাদপত্র হকার শ্রী নগেন সরকার বলেন, ৫০ বছর ধরে এই হকারি পেশায় আছি। সংবাদ পত্রে আসে না হকারদের কষ্টের জীবনের কথা। ‘সরকার, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সবাই কম বেশি সহযোগিতা পাচ্ছে। কিন্তু আমরা সাংবাদপত্রের হকারদের কথা যেন কারো মাথায় নেই। অথচ প্রতিটি নাগরিক জীবনের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমরা। আমরাই মানুষের দ্বারে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আজ আমরা যে কষ্টে আছি এদিকে কারোই খেয়াল নেই।
সংবাদপত্র বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, কাজ নেই, কিন্তু পেটতো আর বুঝে না। সংসারে ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা ও স্ত্রী রয়েছে। তাদেরতো খাওয়াতে হয়। তার উপরে বাড়ি ভাড়া আছে। এছাড়া দেশের এমন পরিস্থিতিতে চার দিকে নানারকম রোগব্যাধি লেগে রয়েছে। সবার জন্যই ওষুধপত্রও লাগে, আবার সমনে রমজান মাস। সবরকম দ্রব্যমূল্যের দামও আকাশ চুম্বী। কিভাবে যে আমরা চলছি এক মাত্র আল্লাই ভালো জানে। আমাদের জন্যও ভাবা উচিৎ সরকারের। তাহলে আমরাও পরিবার নিয়ে খেয়ে বাঁচতে পারবো। তাই আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সবার মত আমাদেরও একটি তালিকা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হোক।
ঘিওর উপজেলার সার ডিলার- সংবাদপত্র পাঠক মো. আব্দুল খালেক বলেন, তেমন ভালো নেই সংবাদপত্র হকাররা। সূর্যের আলো ফোটার আগেই মানুষের বাসা-বাড়ি, সরকারি- বেসরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যায় খবরের কাগজ। রোদ, ঝড়-বৃষ্টি সবরকম পরিবেশেই নিরলস পরিশ্রম করে হকাররা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় খবরের কাগজ।
মানিকগঞ্জের বহুল প্রচারিত স্থানীয় আল-আযান পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এড. আমিনুল হক আকবর বলেন, হকারদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। হকারদের কল্যাণে সরকারি ভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে কল্যাণ ট্রাস্টটের আওতায় আনা হলেই তারা সুদিনের আলো দেখতে পারবে। পাশাপাশি তাদের পত্রিকার হকার সমিতির মাধ্যমে দুরর্দিন  পরিবর্তন করতে হবে।
জেলা ও উপজেলার অবহেলিত পত্রিকার হকাররা তাদের জীবন মান উন্নয়নে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

আদালতের রায়ের মারপ্যাচে হাতিয়ায় খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবার

একেএম ফারুক হোসেন:
আদালতের রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় বসতভিটা দখল করার চক্রান্তে একটি অসহায় পরিবারকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের(৪০) দেবর ফখরুল ইসলাম পাশার বিরুদ্ধে। ১২ দিন ধরে বাড়ির উঠোনে কুয়াশাচ্ছন্ন খোলা আকাশের নিচে তাবু টাঙিয়ে কোন মতে রাত্রি যাপন করছে পরিবারটি।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার ১ ডিসেম্বর বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়,পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির উঠোনে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবার। আগে  ২০ নভেম্বর বুধবার নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার লক্ষীদিয়া গ্রামের এমপির পোল সংলগ্ন ফখরুদ্দিনের বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার(৪০) একই বাড়ির মৃত ফখরুদ্দিনের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তান-সন্ততি নিয়ে স্বামীর ভিটে মাটিতে বসবাস শাহেনা আক্তারের। সেই স্বামীর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তারই ছোট ভাই ফখরুল ইসলাম পাশা(৪৮)। যে কারণে আজ সন্তান-সন্ততি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনিরাপদ বসবাস এই অসহায় পরিবারের।
অমানবিক এই নিষ্ঠুরতার বর্ণনা শুনে ঘটনাস্থলে প্রতিবেদকের সন্ধ্যা অবধি সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার ও তার ছেলেমেয়েরা মিলে বাড়ির উঠোনে তাবু টাঙ্গিয়ে বসে আছে । শীতের রাতে ঘন কুয়াশায় আবৃত তাবুর চারিদিক। তাবুর নিচে চোখ যেতেই দেখা যায় যেনো- শরণার্থী শিবিরে আশ্রিতরা শীতে কাঁপছে। আসবাবপত্রসহ সবকিছু চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
দুর্বিষহ এমন হৃদয়বিদারক ঘটনাচিত্র সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া, আমজাদ, সাজ্জাদ, হুলারা বেগম, নুর ইসলাম, স্বপন ও আশরাফ সহ অসংখ্য মানুষের সাথে কথা হয়। তারা জানান, এই বাড়ির জমি কেনার সময় ফখরুদ্দীন মিয়া ব্যবসা করতেন। বিক্রেতাকে অল্প অল্প করে টাকা দিয়েছে। পরে নিজের নামে জমি কবলা করে বাড়ি তৈরি করেন। ঐ সময় ফখরুদ্দীন মিয়ার বাবা আজিজুল হক বাবর অসুস্থ ছিলেন, বাকি সবাই বেকার ছিল। ফখরুদ্দীন মিয়াকে ভাই- বোনেরা বহু কষ্ট দিয়েছে। অবশেষে তিনি মারাও যান। এখন তার স্ত্রী-সন্তানদেরও  কষ্ট দিচ্ছেন ভাই-বোনেরা।
“এই বাড়িটি আমার স্বামীর। বিশ বাইশ বছর এই বাড়িতে বসবাস করেছি। বাড়িতে দু’টি ঘর ছিল। টিনের ঘরটি দেবর’রা ভেঙে নিয়ে গেছে আর আমি বিল্ডিংটিতে থাকি। আমার স্বামীকে তার ভাইয়েরা তিনবার পিটিয়েছে, পরে আমার স্বামী মারা যায়। এখন আমার দেবর, ননদেরা আর শ্বাশুড়ি মিলে চক্রান্ত করে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা মেরে রেখেছে। গত ১২দিন ধরে আমি উঠানে তাবু টাঙ্গিয়ে থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এখন কোথায় যাব ? কোথায় থাকবো ? কার কাছে বিচার চাইবো ? তারা বলছে আমার ছেলে আর মেয়ে জামাইকে মেরে ফেলবে। এখানে তারা আমাকে থাকতে দিবে না। মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের বিরুদ্ধে জিডি করেছে। এর আগে তিন-চারটা মামলা দিয়ে আমাদেরকে শুধু হয়রানি করে যাচ্ছে। আমরা অসহায়। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।” এভাবেই করুন আকুতিতে ভয় আর উৎকণ্ঠায় অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তার।
তিনি আরও বলেন, ২০০২ সাল থেকে বিক্রেতাকে এই বাড়ির ২৮ শতাংশ জমি কেনার টাকা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরিশোধ করে থাকে তার স্বামী ফখরুদ্দীন। পরে ২০১৭ সালে বাড়িটি তার স্বামীর নামে রেজিস্ট্রি হয়। বিক্রেতা প্রয়াত দিদার মিয়ার স্ত্রী ও ছেলেরা এখনো জীবিত আছে। অথচ তারা হিংসাত্মক ভাবে আমার শাশুড়িকে জিম্মি করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করে যাচ্ছে। এলাকার সব মানুষ জানেন তারা আমাদেরকে কীভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। এমন নির্মমতায় পাড়া-প্রতিবেশীদের সমবেদনা করা ছাড়া তাদের ভয়ে আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করার মতো কোন সুযোগ নেই। অভাব-অনটন, দুঃখকষ্ট আর নিরাপত্তাহীনতায় নির্ঘুম রাত কাটে আমাদের। আমার দেবর ফখরুল ইসলাম পাশার চক্রান্তে ও তার বোনেদের সহযোগিতায় তাদের মাকে (আমার শ্বাশুড়ি)কে দিয়ে কলাকৌশলে এবং চাপপ্রয়োগ করে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তারা নির্যাতন ও হামলা করে যাচ্ছে বলে জানান এ ভুক্তভোগী নারী।
বাড়ির দলিলপত্র ও মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের স্বামীর নামে বাড়ি রেজিস্ট্রীর বিরুদ্ধে মামলা দেয় মা হাসনা আরা বেগম। ফখরুদ্দীন ও তার স্ত্রী-সন্তানদের বিরুদ্ধে সিনিয়র সহকারী জজ, হাতিয়া আদালতে ২৬/২০২২ নং দেওয়ানী মোকদ্দমা শুনানীকালে ফখরুদ্দীনের মৃত্যু হয়।
হাতিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ২৬/২০২২ এর ৫ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন এক আদেশে বলা হয়- ১সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষ( ভুক্তভোগীর শ্বাশুড়ি পক্ষ) আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে বিবাদীপক্ষের অনুপস্থিতিতে শুনানি করেন আদালত। আদালতের আদেশে বলা হয় বাদীনী হাসনা আরা বেগমকে পূর্বের অবস্থায় বসতবাড়িতে বসবাসের অবস্থান ঠিক করে দেওয়ার জন্য কিন্তু মৃত ফখরুদ্দিনের পরিবারকে উচ্ছেদ করে দেওয়ার কোন নির্দেশনা দেননি আদালত। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন শুধুমাত্র বাদিনী হাসনা আরা বেগমকে তার বসবাসের জন্য পূর্বের অবস্থায় বাসস্থান ফিরিয়ে দিতে। প্রসঙ্গত: এর আগে বাদিনী হাসনা আরা বেগম ও তার ছেলে বিবাদী মৃত ফখরুদ্দিনের স্ত্রী ও পরিবারসহ একই সাথে একই ঘরে বসবাস করতেন।
অপরদিকে মৃত ফখরুদ্দিনের ক্রয়-কৃত জমির দলিল এখনো আদালত কর্তৃক বাতিল করা হয়নি বা ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়নি। সেহেতু এটি একটি অমীমাংসিত বিষয়। তাছাড়া যদি এই ভিটেবাড়ি তাদের পৈত্রিক ভিটে হয় তাহলে মৃত ফখরুদ্দিন তাদের বড় সন্তান হিসেবেও তার অংশীদার।
এদিকে ভুক্তভোগী শাহেনা আক্তারের মেয়ের জামাই মোহাম্মদ বাবুল জানান, আমার শ্বশুর কষ্ট করে বাড়ির জমি কিনছে। আমি এক প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করার সুবাদে প্রায়ই চট্টগ্রাম থাকি। অথচ আমার চাচাশ্বশুর ফখরুল ইসলাম পাশা অকারণেই আমাকেও মামলাতে জড়ায়।
এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের ফখরুল ইসলাম পাশার সাথে কথা হলে তিনি জানান-আমরা অন্যায় ভাবে তাদেরকে ঘর থেকে বাহির করিনি। এটা আদালতের নির্দেশ ছিল।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সহকারী কমিশনার ভূমি এর তত্ত্বাবধানে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

কিংস্টনে ক্যারিবীয়ানদের ইতিহাসের সামনে দাঁড় করালো বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক:

বাংলাদেশ কিংস্টনে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকছে তা অনেকাংশে নিশ্চিত। বেশ অনেকটা দিন পরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাদা পোশাকে দেখা গেল আগ্রাসী এক দিন। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে লিড এখনই ২১১।

দিনশেষ করেছিলেন জাকের আলী অনিক এবং তাইজুল ইসলাম।  ২৯ রানে ক্রিজে অপরাজিত জাকের আলী। ৯ রানে অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ৪৭ বলে ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন।

দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ব্যাট করতে নামেননি মুমিনুল হক। অসুস্থ বোধ করায় তাকে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। চেহারাই বলে দিচ্ছিল শারীরিকভাবে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তিনি। কিন্তু চতুর্থ দিনে প্রয়োজন হলে মাঠে দেখাও যেতে পারে তাকে। বাংলাদেশের লিড আরও বাড়বে সেটা সহজেই বলা চলে।

যদিও লিডের এই সংখ্যাটাই বাংলাদেশকে কিছুটা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে তৃতীয় দিনের শেষেই। বার্বাডোজের এই স্টেডিয়ামে যে চতুর্থ ইনিংসে ২১২ রানের বেশি লক্ষ্য নিয়ে কেউ কখনো টেস্টই জেতেনি। সর্বোচ্চ ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের নজির আছে। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই লক্ষ্য তাড়া করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই মাঠে ২০০ এর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজিরই আছে কেবল ২টি। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য পার করেছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া ১৫০ এর বেশি রানতাড়া করে জেতার নজির আছে দুইটি। ১৯৮৩ সালে ভারত এবং ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।জ্যামাইকার এই টেস্টেও রান ওঠেনি খুব একটা। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করতে পেরেছিল ১৬৪ রান। বিপরীতে ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। বাংলাদেশ লিড পায় ১৮ রানে। সেটাই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল লিড নেয়ার পথে বড় সহায়ক।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত, আটক ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ৭ ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

এছাড়া হাইকমিশনে হামলার সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

 ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এনই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা ও প্রতিবেশী দেশের জাতীয় পতাকা অপমানের ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ তাদের তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন উপ-পুলিশ সুপারকে (ডিওয়াইএসপি) প্রত্যাহার করেছে।

এছাড়া হামলার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন ভারতীয়কে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মূলত সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত নিপীড়নের নিন্দা এবং ইসকন সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি দাবির নামে সেখানে তাণ্ডব চালায়।

আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের ব্যানারেই সেখানে হামলা এবং তাণ্ডবের সময় এই ভাঙচুর ও হাইকমিশন অফিসের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে।

ইন্ডিয়া টুডে এনই বলেছে, বিক্ষোভের নামে হাইকমিশনের সামনে জড়ো হওয়ার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একটি দল বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তবে একপর্যায়ে ওই গ্রুপের কিছু সদস্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, হাইকমিশন চত্বরে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অপমান করে।

এই ঘটনায় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আগরতলার ঘটনাটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে বলতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কিরণ কুমার ইন্ডিয়া টুডে এনইকে বলেছেন, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।

সপি কিরণ কুমার বলেছেন, “আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছি এবং একজন ডিওয়াইএসপিকে পুলিশ সদর দপ্তরে স্থানান্তর করার পাশাপাশি তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছি। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে।”

দ্বিতীয়বারের মতো ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন মানিক সাহা

এদিকে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিন্দা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আগরতলা সার্কিট হাউসে গান্ধী মূর্তির সামনে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এ ধরনের আচরণ একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়।”

আলোকিত প্রতিদিন/ ০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম