শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ‘এনাফ’ ক্যাম্পেইন শুরু
নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট
বাংলাদেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় ৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন।
৪ ডিসেম্বর বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কথিত “নিষ্ক্রিয়তা”র অভিযোগের ব্যাপারটি যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে দেখছে, ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার করা এ প্রশ্নের জবাবে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো এক ইমেইলে সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানানোর কথা বলা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র জানান, “আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর সহিংসতা ও তাদের প্রতি অসহিষ্ণুতার যেকোনও ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বাংলাদেশের সব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া অব্যাহত পদক্ষেপগুলোকে স্বাগত জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত নিপীড়নের যে ঘটনাগুলো ঘটছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, “যুক্তরাষ্ট্র ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন (করার স্বাধীনতাকে) মৌলিক স্বাধীনতা হিসেবে সমর্থন করে। আমরা নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারসহ আমাদের সকল অংশীদারদের কাছে সেই সমর্থনের কথা জানাই।”
বাংলাদেশে ইসকনকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করার দাবি ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জানান, “বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ও সংবিধানে (নাগরিকদের) যে অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তার আলোকে এ ইস্যুগুলো সমাধান করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।
তিনি আরও জানান, আমরা বাংলাদেশসহ সকল দেশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে প্রশ্ন করা হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওই মুখপাত্র জানান, “আমরা বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের সাথেই আমাদের সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্য দিই। তাদের একে অপরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারটি আমরা বাংলাদেশ এবং ভারতের সরকারের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।”
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা সংক্রান্ত ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম
আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে লড়াই করে দিল্লির দাসত্বকে খান-খান করে দেব : রিজভী
আলোকিত ডেস্ক:
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আমরা ছোট-বড় সব দেশের স্বাধীনতার মর্যাদা দেই। একইসঙ্গে আমরা আমাদের স্বাধীনতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু ভারতের শাসকগোষ্ঠী যদি মনে করেন- বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও অন্যান্য দেশ কব্জা করে নেবেন তাহলে আপনারা ‘বোকার স্বর্গে’ বাস করছেন।
৪ ডিসেম্বর বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ এবং পদযাত্রায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ জাগরিত। তাদের মনের জাগরণ দেশ মাতৃকা রক্ষার জন্য। এই মাতৃকায় যাদের জন্ম—হিন্দু-মুসলমান, তারা এই মাটির সন্তান। এখানে আমাদের সবার জন্ম। তারা এই দেশকে অন্যের গোলামির কাছে বিক্রি করবে কেন? দেশের মুক্তির জন্য সিরাজ-উদ-দৌলা, মোহনলাল যদি একসঙ্গে লড়াই করতে পারেন। দেশ রক্ষার জন্য ঠিক একইভাবে আমরা হিন্দু-মুসলমান কেন পারবো না। আমরাও একসঙ্গে লড়াই করবো। দিল্লির দাসত্বকে খান-খান করে দেব।
রিজভী বলেন, আপনারা (ভারত) আগরতলায় হাইকমিশনে আমাদের পতাকা ছিঁড়েছেন। এটা তো প্রচণ্ড আঘাত। এটা আমরা কোনো দিনও ভুলে যাবো না।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিজেপি সরকার গোড়া হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করে ক্ষমতায় এসেছে। এদের আর কোনো পুঁজি নেই। সুতরাং ক্ষমতায় থাকতে হলে হিংসা এবং ঘৃণা ছড়াতে হবে। এছাড়া নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় থাকা অনেক মুশকিল হবে। কারণ ভারতের স্বাধীনতায় তাদের উত্তরসূরিদের কোনো অবদান নেই।
রিজভী বলেন, আমার কাছে অবাক লাগে, যে ভদ্র মহিলার (কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ছিল। অসাম্প্রদায়িক, সেক্যুলার হিসেবে যে রাজনীতিবিদকে চিনতাম। অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলতেন। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলতেন কিন্তু তার গভীরে ছিলো কট্টর হিন্দুত্ববাদ। এই সিনিয়র নেতা বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের হার ২৫ শতাংশ অথচ সরকারি চাকরিতে সুযোগ পায় মাত্র ১ শতাংশ। তাহলে মমতা তো কখনোই ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী ছিল না।
তিনি বলেন, এই দেশে যারা ইসলামি রাজনীতি করেন তারাও কিন্তু সাম্প্রদায়িক কথা বলেন না। অন্য ধর্মের প্রতি আক্রমণ করে কোনো কথা বলেন না। এটাই আমাদের ঐতিহ্য। আমরা এখানে যারা আছি তারা তো সিরাজ উদ দৌলা, মোহনলাল, মীর মদনের উত্তরসূরি। তাই ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়বো। এটা আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যে আছে। বাংলাদেশের মানুষের দেশরক্ষার অন্তর্নিহিত শক্তি, প্রাণের উন্মাদনা এটা ভারত কখনোই টের পায়নি৷ আপনাদের যদি অশুভ ইচ্ছা থাকে তাহলে আমরাও বলবো- আমাদের নবাবের এলাকা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা। যদি আপনারা একের পর এক আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন- তাহলে এগুলো আমরা দাবি করবো।
সংগঠনের সভাপতি অর্পনা রায় দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খান প্রমুখ।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম
১৫ বছর পর বাংলাদেশের টেস্ট জয় উইন্ডিজের মাঠে
ক্রীড়া ডেস্ক:
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না। আন্টিগাতে প্রথম ম্যাচে না পারলেও জ্যামাইকায় কিংস্টন টেস্টে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ক্যারিবিয়ানদের ১০১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রটাও তাতে বাংলাদেশ জয় দিয়েই শেষ করেছে। এই জয়ে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করলো বাংলাদেশ।
কিংসটনে ১০১ রানের জয়ের মাধ্যমে ১৫ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে জয় পেলো টাইগাররা। সবশেষ ২০০৯ সালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ থেকে টেস্টে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এমন জয়ে তাই উচ্ছ্বসিত হওয়াটাই বেশ স্বাভাবিক।
কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এই মাঠে ২১২ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। এবার উইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল ২৮৭ রানের। টপ-অর্ডারের শুরুটা নেহাত মন্দ ছিল না। তবে অভিজ্ঞ তাইজুলের ঘূর্ণি আরও একবার পথ দেখাল বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।জ্যামাইকায় কিংস্টন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে নাহিদ রানার ৫ উইকেট শিকারে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ছিল সর্বনিম্ন রানের স্কোর। ১৮ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। দলের হয়ে চতুর্থ দিনে অনেকটা একাই লড়াই করেছেন জাকের আলি। তবে ৯ রানের জন্য মিস করেছেন সেঞ্চুরি। ৫ ছক্কা ও ৮ চারে ৯১ রান করেন জাকের। তার ব্যাটে ভর করে ২৬৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ক্যারিবিয়ানদের টার্গেট দাঁড়ায় ২৮৭ রানের।
২৮৭ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫৭ রানের মধ্যে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান তাইজুল এবং তাসকিন আহমেদ। মিকাইল লুইস ৬ ও কাসি কার্টি ১৪ রান করে আউট হন। তবে কেভাম হজ ও ক্রেইগ ব্রাফেটের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই দুই ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাইজুল। ব্রাফেট ৪৩ ও হজ ৫৫ রান করে আউট হন।
তাদের বিদায়ের পর আর কেউ থিতু হতে পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৫০ ওভারে ১৮৫ রানে অলআউট হয় ক্যারিবিয়ানরা। তাইজুল নেন ৫টি উইকেট। এ ছাড়া তাসকিন ও হাসান মাহমুদ নেন ২টি করে উইকেট।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ডিসেম্বর-২৪/মওম
ডিবির অভিযানে দেশীয় এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজসহ আটক-২
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজার সদর থানার আওতাধীন খুরুশকুল ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর কাশেমের মাছের প্রজেক্টের সম্মুখে দাঁড়ানো থাকা সিএনজির পেছনের সিট থেকে ২ টি দেশীয় অস্ত্র, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ সহ ২ জনকে আটক করেছে ডিবি।
২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম ও পরিদর্শক প্রতুল কুমার শীল ও উপ পরিদর্শক সমীরের নেতৃত্বে কক্সবাজার সদর থানার আওতাধীন খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ০৯ নং ওয়ার্ডস্থ ছনখোলা বাজার রোড হতে সাম্পানঘাট জাহাঙ্গীর কাশেমের মাছের প্রজেক্টের সম্মুখে দাঁড়ানো থাকা সিএনজির পেছনের সিট তল্লাশি করে অস্ত্র ও কার্তুজসহ ২ জনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, সদরের লিংক রোড় মুহুরী পাড়া ০৪ নং ওয়ার্ড ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দা বজল কবিরের ছেলে সিএনজি চালক আব্দু রহিম প্রঃ ইলিয়াস এবং একই এলাকার মৃতঃ মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ ওসমান। গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন,অভিযানে সিএনজি চালক আঃ রহিমকে গ্রেফতার করা হলে পরবর্তীতে তার দেখানো মতো মোঃ ওসমানকে লিংক রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরো বলেন,এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হবে। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম
২১ আগস্টের মিথ্যা মামলা থেকে তারেক রহমান এর মুক্তিতে সাভারে আনন্দ র্যালী
ভালো নেই মানিকগঞ্জের সংবাদপত্র হকাররা, জীবনমান উন্নয়নে কল্যাণ ট্রাস্টটের দাবি
আদালতের রায়ের মারপ্যাচে হাতিয়ায় খোলা আকাশের নিচে অসহায় পরিবার
কিংস্টনে ক্যারিবীয়ানদের ইতিহাসের সামনে দাঁড় করালো বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক:
বাংলাদেশ কিংস্টনে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকছে তা অনেকাংশে নিশ্চিত। বেশ অনেকটা দিন পরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাদা পোশাকে দেখা গেল আগ্রাসী এক দিন। ৫ উইকেটে ১৯৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ডে লিড এখনই ২১১।
দিনশেষ করেছিলেন জাকের আলী অনিক এবং তাইজুল ইসলাম। ২৯ রানে ক্রিজে অপরাজিত জাকের আলী। ৯ রানে অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছেন তাইজুল ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ৪৭ বলে ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন।
দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত ব্যাট করতে নামেননি মুমিনুল হক। অসুস্থ বোধ করায় তাকে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। চেহারাই বলে দিচ্ছিল শারীরিকভাবে খুব একটা স্বস্তিতে নেই তিনি। কিন্তু চতুর্থ দিনে প্রয়োজন হলে মাঠে দেখাও যেতে পারে তাকে। বাংলাদেশের লিড আরও বাড়বে সেটা সহজেই বলা চলে।
যদিও লিডের এই সংখ্যাটাই বাংলাদেশকে কিছুটা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে তৃতীয় দিনের শেষেই। বার্বাডোজের এই স্টেডিয়ামে যে চতুর্থ ইনিংসে ২১২ রানের বেশি লক্ষ্য নিয়ে কেউ কখনো টেস্টই জেতেনি। সর্বোচ্চ ২১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের নজির আছে। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই লক্ষ্য তাড়া করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই মাঠে ২০০ এর বেশি রান তাড়া করে জেতার নজিরই আছে কেবল ২টি। ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৬ রানের লক্ষ্য পার করেছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া ১৫০ এর বেশি রানতাড়া করে জেতার নজির আছে দুইটি। ১৯৮৩ সালে ভারত এবং ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।জ্যামাইকার এই টেস্টেও রান ওঠেনি খুব একটা। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করতে পেরেছিল ১৬৪ রান। বিপরীতে ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। বাংলাদেশ লিড পায় ১৮ রানে। সেটাই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইনিংসে ছিল লিড নেয়ার পথে বড় সহায়ক।
আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ৩ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত, আটক ৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ৭ ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
এছাড়া হাইকমিশনে হামলার সময় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এনই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন প্রাঙ্গনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা ও প্রতিবেশী দেশের জাতীয় পতাকা অপমানের ঘটনায় ত্রিপুরা পুলিশ তাদের তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন উপ-পুলিশ সুপারকে (ডিওয়াইএসপি) প্রত্যাহার করেছে।
এছাড়া হামলার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন ভারতীয়কে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মূলত সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ ব্যাপক বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথিত নিপীড়নের নিন্দা এবং ইসকন সদস্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তি দাবির নামে সেখানে তাণ্ডব চালায়।

আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের ব্যানারেই সেখানে হামলা এবং তাণ্ডবের সময় এই ভাঙচুর ও হাইকমিশন অফিসের পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা ঘটে।
ইন্ডিয়া টুডে এনই বলেছে, বিক্ষোভের নামে হাইকমিশনের সামনে জড়ো হওয়ার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে একটি দল বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তবে একপর্যায়ে ওই গ্রুপের কিছু সদস্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে, হাইকমিশন চত্বরে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর এবং তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অপমান করে।
এই ঘটনায় সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আগরতলার ঘটনাটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং বিক্ষোভকারীদের হাইকমিশন প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে বলতে গিয়ে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কিরণ কুমার ইন্ডিয়া টুডে এনইকে বলেছেন, বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।
সপি কিরণ কুমার বলেছেন, “আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছি এবং একজন ডিওয়াইএসপিকে পুলিশ সদর দপ্তরে স্থানান্তর করার পাশাপাশি তিনজন সাব-ইন্সপেক্টরকে বরখাস্ত করেছি। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে।”

এদিকে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “আগরতলা সার্কিট হাউসে গান্ধী মূর্তির সামনে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিল এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। দুর্ভাগ্যবশত, কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বা প্রতিবাদ গ্রহণযোগ্য, কিন্তু এ ধরনের আচরণ একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়।”
আলোকিত প্রতিদিন/ ০৩ ডিসেম্বর-২৪/মওম

