আজ , ।   
Home Blog Page 637

মাদারীপুরে দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন: আনিসুর রহমান

ইব্রাহীম সবুজ: মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে অসহায় দরিদ্রের মাঝে ৩০০ (তিনশত) কম্বল বিতরণ করা হয় । ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সহ-গনশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক  আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।
এসময় ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা মোঃ গোলাম মাসুম প্রধান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডঃ জাফর আলী মিয়া, সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, মাদারীপুর জর্জকোর্টের অতিরিক্ত জিপি এ্যাডঃ মোঃ সাইফুর রহমান, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ উল হাসান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউনুছ সিকদার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আকতার হোসেন, কালকিনি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফজলুল হক বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধ কালীন কমান্ডার মোঃ হাকিম তালুকদার, ডাসার উপজেলা বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন তালুকদার, কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান মুন্সি, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম খানসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি, পণ্য খালাস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে জাহাজে সাত খুনের ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে দেশব্যাপী কর্মবিরতিতে গেছেন নৌযান শ্রমিকেরা। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। গত ২৬ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হওয়া নৌযানের শ্রমিকদের এই কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর থেকে সব ধরনের পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। কর্ণফুলী নদীর ১৭টি ঘাটসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত লাইটারেজ জাহাজ অলস বসে আছে।

এতে করে বন্দর বহির্নোঙরে ২০টি বড় জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় সাড়ে চার লাখ টন পণ্য। যার প্রভাব পড়ছে বাজারে।

এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও চলমান নৌযান কর্মবিরতিতে পতেঙ্গা থেকে রাসমণিঘাট পর্যন্ত এলাকায় নোঙর করে রাখা হয়েছে শত শত লাইটারেজ জাহাজসহ সব পণ্যবাহী নৌযান।

এছাড়া কর্ণফুলি নদীর ১৭টি ঘাটে পণ্যবোঝাই জাহাজ দাঁড়িয়ে আছে পণ্য খালাসের অপেক্ষায়। চট্টগ্রাম বন্দর এবং লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের তথ্যমতে, বন্দর বহির্নোঙরে ২০টি বড় জাহাজে খালাসের অপেক্ষায় আটকে আছে সয়াবিন বীজ, সার, গম, মসুর ডাল, মটর ডাল, কয়লা এবং সিমেন্টের কাঁচামালসহ প্রায় সাড়ে চার লাখ টন পণ্য।

শ্রমিকদের অভিযোগ, চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে জাহাজের ৭ শ্রমিক খুনের ঘটনাকে সাজানো এবং হাস্যকর মামলা দিয়ে শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এগুলো না করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের। সাত খুনের বিচারসহ নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কেন্দ্রে নির্দেশ মতো কর্মবিরতি চলমান রাখার ঘোষণা শ্রমিকদের।

বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশনের অফিস সচিব আতিকুল ইসলাম টিটু জানান, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এ কারণে লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৮ ডিসেম্বর-২৪/মওম

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কঠিন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ : রিজভী

আলোকিত প্রতিবেদক:

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কঠিন ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের অংশ। শেখ হাসিনা সরকারের একজন মূখ্য সচিব অনেক টাকা পাচার করেছেন। সচিবালয়ে যেসব ফাইল পুড়ে গেছে তার মধ্যে ওই মূখ্য সচিবের ফাইলটিও ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। পতিত আওয়ামী লীগ এবং তার দোসরদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও পাচার করা অর্থের নথিপত্র নষ্ট করতেই সচিবালয়ে আগুন লাগিয়েছে প্রেতাত্মারা।

২৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া গ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, দেশে পরাজিত স্বৈরাচারের অনেক দোসর রয়েছে। তারা কিন্তু আমলাতন্ত্র, পুলিশসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় এখনো রয়েছে। সর্বক্ষেত্রে তো পরিবর্তন হয়নি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা ঘাপটি মেরে আছেন। তারা কোথায় কি নাশকতা, কোথায় কি চক্রান্ত করছেন, তার কোনো ঠিক নেই। এসব ষড়যন্ত্র ঠেকাতে এবং দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে নয়নের মতো ছেলেদের। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরে জীবন দিয়েছে নয়ন। সেও রংপুরের ছেলে। শুধু একটি শোক জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মানুষের টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেছে তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তাদের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনা সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এটা তো একটিমাত্র ঘটনা। আরও এমন অনেক ঘটনা আছে সেগুলো চাপা দেওয়ার জন্য ৯তলা ভবনে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও দুর্নীতির অনেক অজানা তথ্য পুড়ে গেছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচারের ঘটনা যাতে আলোর মুখ দেখতে না পারে সেই কারণে এই চক্রান্ত।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ী রুপ দিতে স্বাধীনতা এবং সার্বভৗমত্ব রক্ষায় সামনে অনেক কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা পাবে না। গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশ এবং রাষ্ট্রনায়করা স্বৈরাচারের পতন ও নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন প্রত্যেকের প্রতি তারা সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু একটি দেশ সংহতি জানাতে দ্বিধা করছে সে দেশটি হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তারা শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য, টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন বয়ান তৈরি করছে যাতে শেখ হাসিনার অপকর্মগুলোকে ঢাকতে চায়।

সচিবালয়ে আগুন নিভাতে গিয়ে নিহত ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়নের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারানো অসহায় নিঃস্ব নয়নের মা-বাবা-বোনের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এসময় নয়নের মাস্টার্সপড়ুয়া বড় বোন সীমা আকতারকে আগামী এক মাসের মধ্যে চাকরি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান রিজভী। সকালে মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের আট পুনিয়া গ্রামে নিহত ফায়ার ফাইটার নয়নের বাড়িতে যান তিনি। পরে তার কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

এসময় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুসহ বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে যখন আগুন লাগে। প্রায় সোয়া ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিট। সেখানে আগুন নেভাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত হন ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়ন। তিনি ২০২২ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৮ ডিসেম্বর-২৪/মওম

সচিবালয়ের অস্থায়ী প্রবেশ পাশ বাতিল, সাংবাদিকরাও ঢুকতে পারবেন না!

আলোকিত প্রতিবেদক:সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূলে ইস্যুকৃত স্থায়ী প্রবেশ পাশ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ইস্যুকৃত অস্থায়ী প্রবেশ ব্যতীত বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের জন্য সব ধরনের অস্থায়ী সচিবালয় প্রবেশ পাশ বাতিল করা হয়েছে আজ। এমন কি অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের মাধ্যমে সচিবালয়ে প্রবেশাধিকারও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হলো।

শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ জারি করা হলো বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

 বাংলাদেশ সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির স্বার্থে সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূলে ইস্যুকৃত স্থায়ী প্রবেশ পাশ (ডিজিটাল এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম) এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ইস্যুকৃত অস্থায়ী প্রবেশ পাশ ব্যতীত সব ধরনের অস্থায়ী (বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের জন্য) সচিবালয় প্রবেশ পাশ বাতিল করা হলো। সাংবাদিকদের অনুকূলে ইস্যুকৃত অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দ্বারা সচিবালয়ে প্রবেশাধিকার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এতদ্বারা বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, বাতিলকৃত বিভিন্ন ক্যাটাগরির সচিবালয় প্রবেশ ধারীরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, ক্রাইম কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, ডিএমপি, ১৫ আব্দুল গণি রোড, ঢাকায় স্থাপনকৃত বিশেষ সেলের মাধ্যমে নতুন করে অস্থায়ী প্রবেশ পাশের জন্য আবেদন করতে পারবেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গোপালগঞ্জে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

মোঃ শিহাব উদ্দিন: গোপালগঞ্জে চলছে অবৈধ আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।

প্রতিদিন প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলন। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে চলে বালু কাটার মহোৎসব। কিছু কিছু ড্রেজার মালিকেরা রাত্রিবেলা আত্মঘাতী ড্রেজার চালাচ্ছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক আত্মঘাতী ড্রেজার দিয়ে কাটা হচ্ছে বালু। জিজ্ঞাসা করলে এড়িয়ে যান আত্মঘাতী ড্রেজার শ্রমিকেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, বালু আগে যারা কাটতেন এখনও তারাই কাটছেন শুধু পাল্টিয়েছেন বেশ, থাকছেন আড়ালে সেখান থেকেই নাড়ছেন কলকাঠি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মাহফিলে আজহারী উঠবেন রাতে, দুপুরেই ভরে গেছে ময়দান!

আলোকিত প্রতিবেদক: যেদিকেই চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। সূচি অনুযায়ী, বয়ান দেওয়ার জন্য রাত ৮টায় মঞ্চে ওঠার কথা মিজানুর রহমান আজহারীর। তবে দুপুর থেকেই কানায় কানায় ভরে গেছে গোটা মাহফিল এলাকা ভরে গেছে। যদিও সকাল থেকেই আসতে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরাও।

তাফসির ময়দানস্থলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আয়োজক কমিটি ও প্রশাসন। জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী আজ রাত ৮টার দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে পেকুয়া আসার কথা রয়েছে এবং তিনি রাত ১০টায় আলোচনা শুরু করবেন তিনি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার মিজানুর রহমান আজহারীকে মাহফিল করতে না দেওয়া ও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রথম ঢাকার বাইরে মাহফিল হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে পেকুয়ার ওয়াজ মাহফিলে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের জমায়েত হয়েছে আজ।

মাহফিল কমিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিজানুর রহমান আজহারী ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তারা বক্তব্য রাখবেন এখানে।

ইতোমধ্যে কক্সবাজারে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনে জেলা পুলিশের ১০০ সদস্যের বিশেষ টিম পেকুয়ায় অবস্থান করছে। মাহফিলে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের এ বিশেষ টিম কাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনী, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাদা পোশাকে বিশেষ নজরদারিতে রয়েছেন।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে পেকুয়া থানা পুলিশের বিশেষ টিম মাঠে রয়েছে। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ১০০ সদস্যের পুলিশের বিশেষ টিম পেকুয়ায় কাজে নেমে পড়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠে রয়েছে, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এদিকে ২৬ ডিসেম্বর ইসলামী স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী দেশে এসেই তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে স্ট্যাটাস শেয়ার করে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছলাম।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাঁচামালের আড়ত বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

মো. মিজানুর রহমান খান কুদরত :
 আওয়ামী সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের অবৈধ কাঁচামালের আড়ত বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায় সাটুরিয়া উপজেলার কামতা এলাকার কামতা-গোলড়া কাঁচামালের আড়তের সামনে এই মানববন্ধন করে মানিকগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার। এ সময় বক্তব্য রাখেন, কাজী কাওসার, মেহরাব খান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের লোকেরা এখনও আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন লোক দিয়ে এই আড়ত পরিচালনা করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই আড়ত বন্ধ করা উচিত।
আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ডিসেম্বর-২৪/মওম

মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে ভারতে ৭ দিনের শোক ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের জন্য সাত দিনের শোক এবং রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। সরকার ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, ১ জানুয়ারি পর্যন্ত শোক পালন করা হবে। এছাড়া প্রয়াত মনমোহন সিংকে সম্মান জানাতে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজন করা হবে। বৃহস্পতিবার দিল্লির একটি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

তবে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার নির্দিষ্ট তারিখ তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করা হয়নি। কংগ্রেস দলের একজন সিনিয়র সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শনিবার এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিন দেশজুড়ে সমস্ত সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনমোহন সিংকে দেশের ‘সবচেয়ে সম্মানিত নেতাদের একজন’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকা তার প্রথম পাতায় তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছে, ‘ভারতের স্বপ্নকে মুক্তি দেওয়া মানুষ’।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে খেলতে নামার সময় ভারতীয় ক্রিকেট দল কালো বাহুবন্ধনী পরে মনমোহন সিংয়ের প্রতি সম্মান জানায়। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে দেশের অর্থনৈতিক উদারীকরণের অন্যতম কারিগর হিসেবে প্রশংসিত হন তিনি।
১৯৩২ সালে বর্তমান পাকিস্তানের গাহ গ্রামের মাটির ঘরে জন্মগ্রহণ করা মনমোহন সিং, সাধারণ এক পরিবেশ থেকে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসেন।

দারিদ্র্য দূর করার উপায় খুঁজতে তিনি অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ব্রিটেনের দুটি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় – কেমব্রিজ থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণি এবং অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনি বৃত্তি পান।

মনমোহন সিং একাধিক শীর্ষ সরকারি পদে কাজ করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেছেন।

১৯৯১ সালে ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকট থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম মেয়াদে তিনি দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি তৈরি করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ডিসেম্বর-২৪/মওম

ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত : প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ যদি আমরা গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক হই, কিংবা অপারগ হই, তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কোনো প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এতে তিনি ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন। এই সংলাপের স্লোগান হচ্ছে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন।’

সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে চলতে থাকবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ মূলত নির্বাচন কমিশনের। নাগরিকদের নির্বাচনের তারিখ না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় সময় দিতে হয় না। কিন্তু সংস্কারের কাজে সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা ভোটার, তারা তো অংশগ্রহণ করবেনই, তার সঙ্গে যারা ভবিষ্যতে ভোটার হবেন, তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদের নিয়োজিত করুন।’

আগামী জানুয়ারি মাসে সংস্কারের জন্য গঠিত ১৫টি কমিশনের প্রতিবেদন জমা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রধান বিকল্পগুলো চিহ্নিত করে তার মধ্য থেকে একটি বিকল্পকে জাতির জন্য সুপারিশ করা। যার যার ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কীভাবে রচিত হবে, তা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করে দেওয়া, নাগরিকদের পক্ষে মতামত স্থির করা, সহজ করে দেওয়া।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেই আমাকে-আপনাকে তা মেনে নিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এ জন্য সর্বশেষ পর্যায়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত। নির্বাচন সংস্কার কমিশন কী সুপারিশ করবেন, তা আমার জানা নেই। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষ যদি কমিশনের সুপারিশ করা বয়স পছন্দ করে, ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য আমি তা মেনে নেব।’

সব কমিশন বহু সুপারিশ তুলে ধরবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি যে যার যাই মতামত হোক না কেন আমরা দ্রুত একটা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করে সংস্কারের কাজগুলো করে ফেলতে চাই। নির্বাচনের পথে যেন এগিয়ে যেতে পারি, সেই ব্যবস্থা করতে চাই।’

ন‍্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণ ছাড়া জুলাইয়ের শহীদদের আত্মদান অর্থবহ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশকে আদর্শভিত্তিক সব ধরনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে গভীর অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আবার প্রিয় বাংলাদেশকে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ন‍্যায়বিচারের পথে ফেরাবার লক্ষ্যে কাজ করছি।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হত্যাকাণ্ডের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছাত্র–জনতা অটুট সাহসে শিশু হত্যাকারী এবং পৈশাচিক ঘাতকদের মোকাবিলা করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’ বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নকে সাহসী করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাকহীন বাংলাদেশ জোরালো কণ্ঠে আবার কথা বলার শক্তি ফিরে পেয়েছে। এই দৃঢ় কণ্ঠ আবার ঐক্য গঠনে সোচ্চার হয়েছে।

ঐক্যই মূল শক্তি মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের ঐতিহাসিক মাত্রায় বলীয়ান করেছে। গত পাঁচ মাসে এই ঐক্য আরও শক্তিশালী হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি আমাদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টি করার প্রয়াস চালাতে থাকায় আমাদের ঐক্য আরও মজবুত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঐক্যের জোরেই এখন আমরা অসাধ্য সাধন করতে পারি। এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সুযোগ। এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে, যেটা সব নাগরিকের জন্য সম্পদের ও সুযোগের বৈষম্যহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করবে। এমন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ থাকবে যেখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু এই পরিচিতি অবান্তর হয়ে পড়বে। সবার একটিই পরিচয়—আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্র আমাকে আমার সব অধিকার প্রদান করতে বাধ্য। রাষ্ট্রের কাছে এবং অন্য নাগরিকের কাছে আমার অন্য কোনো পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। যেখানে ব্যক্তি বন্দনার কোনো সুযোগ থাকবে না। দেশের ভেতরে বা বাইরে প্রভু-ভৃত‍্যের কোনো সম্পর্কের সুযোগ থাকবে না। আজকের ‘সংলাপের’ মূল লক্ষ্য হলো সবার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়া যে আমরা এই সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া হতে দেব না। এই সুযোগের প্রতিটি মুহূর্ত সর্বোত্তম কাজে লাগাব।’

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ডিসেম্বর-২৪/মওম

দুর্ভাগ্য অনেকেই বলছে বিএনপি সংস্কার চায় না : মির্জা ফখরুল

আলোকিত প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই এখন বলছে, বিএনপি সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘ঐক্য, সংস্কার এবং নির্বাচন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলছি, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেটুকু (সংস্কার) দরকার তার শেষে নির্বাচনে যেতে চাই। আমরা নির্বাচনের কথা বলছি কেন? ড.আলী রীয়াজ বলছেন, সবাই বলছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার নির্বাচন হচ্ছে প্রধান ফটক, প্রধান দরজা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিন নির্বাচনের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এর মধ্যে একটা নির্বাচন কিন্তু আরেকটা নির্বাচন থেকে ভালো হয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানুষ গ্রহণ করেছে। মানুষ এটাকে অত্যন্ত জরুরি মনে করেছে। আমরা যদি তখন রাষ্ট্রপতি শাসনে চলে যেতাম, তখন সেটা মানুষ কিন্তু গ্রহণ করত না।

জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো কিছু করা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজকের যে প্রক্রিয়াটা চলছে সেটাকে আমি স্বাগত জানাই। কমিশনগুলোকে অনুরোধ করব আপনারা জনগণের সঙ্গে ইন্টারেকশন করার ব্যবস্থা রাখবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, কাঠামো যদি না থাকে শুধু চাপিয়ে দিয়ে কিছু করতে পারব না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি আমরা গণতান্ত্রিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তাহলেই গণতন্ত্রকে সফল করতে পারব। মাইন্ডসেট বড় জিনিস। সেই মাইন্ডসেটটা তৈরি করতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। ভুল হবে, ত্রুটি হবে এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিএনপি ২০১৬ সালে ডকুমেন্টারি বের করেছে, যেখানে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা, প্রধানমন্ত্রী যেন দুই বারের বেশি না হতে পারেন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছিলাম আমরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরে ২০২২ সালে প্রথমে ১২ দফা, এরপর সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে ৩১ দফা দিয়েছি। দীর্ঘ দুই বছর আলোচনা করেছি। অনেকের সঙ্গেই কথা বলে ৩১ দফা করেছি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে সবাই যেন মনে রাখেন সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যেন ’৭১ ভুলে না যাই।  গণতন্ত্রের ধারাবাহিক যে লড়াই সেটা আমাদের প্রত্যেকেরই মনে রাখার দরকার। আমরা এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে। তবে এও মনে রাখা দরকার, জনগণকে বাদ দিয়ে চাপিয়ে দিয়ে কোনো কিছু সম্ভব না।

এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৭ ডিসেম্বর-২৪/মওম