আজ , ।   
Home Blog Page 614

শিল্পী সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হলেন, নিপুণ আক্তার

বিনোদন প্রতিবেদক: জালিয়াতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার (২১ জানুয়ারি) শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নিপুণ আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সমিতির অফিসিয়াল প্যাড ব্যবহার করে কোটাবিরোধী আন্দোলন নিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেন, যেখানে নিজেকে ‘সাবেক সাধারণ সম্পাদক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পরদিন তিনি ফেসবুকে সেটি পোস্ট করেন, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এই অনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে ৩০ জুলাই সমিতির ষষ্ঠ সভায় আলোচনা করা হয় এবং নিপুণকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু নিপুণ তা অগ্রাহ্য করে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন তিনি ডিপজলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া, নিপুণের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। প্রথমত, তিনি যখন ‘সাবেক সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করেন, তখন তার এই অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্বিতীয়ত, তার বিবৃতিটি টেলিভিশন অভিনয়শিল্পী সংঘের বিবৃতির হুবহু কপি ছিল এবং তৃতীয়ত, সহিংসতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার জন্যও তাকে সমালোচনার শিকার হতে হয়।

এই বিতর্কের মধ্যে নিপুণের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়। হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল ফজল পলাশ জানিয়ে ছিলেন, নিপুণ আক্তারের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পেনাল কোডের ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়া, নিপুণের বহিষ্কার নিয়ে এফডিসির অনেক সিনিয়র শিল্পী সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিপুণের কর্মকাণ্ড শিল্পী সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং তার জন্য এই শাস্তি অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল।

এদিকে, গত জানুয়ারির ১০ তারিখে সিলেট বিমানবন্দরে তাকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়, তবে পরে পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তিনি ছেড়ে দেয়া হয়। নিপুণ দাবি করেন যে, বিমানবন্দরের আটকের খবর মিথ্যা, কিন্তু এ ব্যাপারে বিভিন্ন ফুটেজে তার উপস্থিতি স্পষ্ট দেখা যায়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সেনা সদস্য পরিবারের নির্যাতনের স্বীকার, কামাল উদ্দিন ও আব্দুল আলিম!

নাজসুল হাসান, দেবিদ্বার প্রতিনিধি : জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সেনা সদস্য মনিরুল ইসলাম ও তার ভাই আবু হানিফ এর নির্যাতনের স্বীকার একই গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন ও আব্দুল আলিম। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড বড় আলমপুর গ্রামে এই ঘটনা।

গত ১২ জানুয়ারী (রবিবার) রাত ১২টায় দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্পে চোরাকারবারী, সন্ত্রাসসহ মিথ্যা বানোয়াট তথ্যের অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষকে সেনা সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বেধরক মারধর ও লাঞ্ছিত করান তিনি।

ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন (৪৭) বড় আলমপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমান এর ছেলে। কামাল উদ্দিন তার পাশ্ববর্তী চাচাতো ফুফু সাফিয়া খাতুনের কাছ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা মূল্যে ১০-০২-২০১৩ ইং তারিখে ৫ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন তিনি।  যার দলিল নং- ১২৩৭,  এস.এ নং- ৯০২, বি.এস- ৩১৯৮ ( ১০ শতাংশের মধ্যে ৮.৮৩ শতাংশ হতে ৫ শতাংশ । সাফিয়া খাতুন একই গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর মেয়ে। সাফিয়া খাতুনে ভাই ফজলুল হক তার বোন ৫ শতাংশ  জমি বিক্রিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে আদালতে একটি দেওয়ানী-মামলা করেন যার মামলা নং- ১৬৩। ফজলুল হকের ছেলে মনিরুল ইসলাম ও আবু হানিফ এর আপন ফুফু। তারা বলেন সম্পত্তির হার অনুপাতে তার ফুফু ২ শতাংশ জায়গার মালিক কিন্তু সাফিয়া খাতুন এস.এ- ৯০২ এবং ফরায়েয আইন অনুযায়ী ৮.৮৩ শতাংশ জায়গা পান। সেই ৮.৮৩ শতাংশ জায়গা থেকে সাফিয়া খাতুন তার চাচাতো ভাই কামাল উদ্দিন এর কাছে বিক্রি করেন। মামলাটি দীর্ঘ ১৪ বছর চললাম থাকার পর গত ০৩-১০-২০২৩ ইং তারিখে কুমিল্লা দায়রা সিনিয়র সহকারী জজ লাকসাম আদালতে আয়েশা বেগম রায় দেন কামাল উদ্দিনের পক্ষে। সেই রায় মানতে অস্বীকৃতি জানান ফজলুল হক ও তার ছেলে সেনা সদস্য মনিরুল ইসলাম এবং আবু হানিফ। এই রায়ের বিরুদ্ধে সেনা সদস্যের পরিবার আপিল করেন এবং মামলা চলমান আছে।

একই ভাবে আব্দুল আলিম (৫৫), মৃত বক্স আলীর ছেলে সেনা সদস্য মনিরুল ইসলামের আপন চাচাতো ভাই। সি.এস ১০০, এস.এ ১৩২ এবং বি.এস ৬২৪,৬২৬ নং খতিয়ানে সাবেক ৮৯৭ হালে ৩১৮২ দাগে ২৫ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৫ শতাংশ এবং ৮৯৭/৯০২ হালে ৩১৯৮ দাগে ৮ শতাংশের মধ্যে দের শতাংশ মিলে মোট ৭ শতাংশ জায়গা। সেই ৭ শতাংশ জায়গা ফজলুল হকের নামে বি.এস রেকর্ড ভুক্ত হয়। এই নিয়ে আপন চাচা ফজলুল হকের  পরিবারের সঙ্গে দন্ড হয়। ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম জায়গা ফেরত পেতে আদালতে দেওয়ানিমামলা করে, যারা মামলা নং- ৪৩/২০২১। পরবর্তীতে আদালত পর্যন্ত যায় তাদের পারিবারিক  জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি। আদালত উভয় পক্ষকে নির্দেশনা দেয় যে মিমাংসা না হওয়ার আগপর্যন্ত কেউ যেন ঝগড়া কিংবা ঝামেলায় না করে। পরে আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সেনা সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে বেধরক মারধর ও লাঞ্ছিত করান।

এই বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসী জানতে পেরে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কের দেবিদ্বার আলহাজ্ব জোবেদা খাতুন মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে অভিযোগকারী সেনা সদস্য ও তার ভাইয়ের শাস্তির দাবীতে মানবন্ধন ও প্রশাসনের কাছে গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগ করেছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ’বিষয়টি জানতে পেরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার পক্ষ থেকে আপনাদের ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে যতটুকু সহযোগীতা লাগে আমি তা করবো। আপনারা এখন বিক্ষোভ বন্ধ করে বাড়ি চলে যাওয়ার অনুরোধ করলে বিক্ষোভ কারীরা বাড়ি ফিরে যান।

এলাকাবাসী বলেন, দেবিদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের মো. ফজলুল হকের ছেলে সেনা সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম(৩৮) ও তার ভাই আবু হানিফ এর সাথে একই বাড়ির মৃত: ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. কামাল উদ্দিন (৫০) ও আব্দুল আলিম (৫৫)’র প্রায় ১৪ বছর ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। ওই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারী রাত ১২টায় দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সেনা সদস্য এসে কামাল উদ্দিন ও আব্দুল হাকিম কে ডেকে নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত অমানবিকভাবে পিটিয়ে নির্যাতন করে ছেড়ে দেন। তিনি আরো বলেন, এসময় কামাল উদ্দিনের প্রতিবন্দী শিশুকণ্যা সুমাইয়া আক্তারও নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেনা সদস্য মনিরুল ইসলাম ফোনে জানান, আমি বাড়িতে এসে, ঘরের সংস্কার কাজ করতে গেলে প্রতিপক্ষ আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেই ক্ষান্ত হয়নি, ওরা আমার পোষাক ছিড়ে ফেললে আমি এ ঘটনার বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করি। সেনা ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা এসে মো. কামাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগী কামাল উদ্দিন বলেন, আমি সাফিয়া খাতুনের নিকট থেকে জায়গাটি টাকার বিনিময়ে ক্রয় করি। আমি জায়গাটি ক্রয় করার পর এখানে আমি বসতঘর নির্মাণ করি এবং এখানে আজও বসবাস করছি। আমার প্রতিপক্ষ ফজলুল হক ও তার ছেলে সেনা সদস্য মনিরুল ইসলাম এবং আবু হানিফ মিলে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে এবং নির্যাতন করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই এবং ওরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে।  আমি প্রশাসনের কাছে আমার পরিবার ও আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নোয়াখালীতে দেশমাতা ফাউন্ডেশনের উপহার সামগ্রী বিতরণ

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশমাতা ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন নোয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপি।
২০ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের হলরুমে এই উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও দেশমাতা ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার আবু সায়েম এর পক্ষ থেকে এ উপহার সামগ্রী  বিতরণ করা হয়েছে।
নোয়াখালী সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও নোয়াখালী পৌরসভার সকল ওয়ার্ডের শীতার্তদের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন ও পৌরসভা বিএনপির প্রতিনিধিদের কাছে এ কম্বল হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সলিম উল্ল্যাহ বাহার হিরণ চেয়ারম্যান, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সহিলুদ ইসলাম কিরণ, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম উদ্দিন, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাফর উল্লাহ রাসেল, সদর উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি আলমগীর হোসেন, দেশমাতা ফাউন্ডেশনের নোয়াখালী জেলা সমন্বয়ক ওমর ফারুক খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফাহাদসহ বিএনপি অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

পলাশবাড়ীতে শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

রানা ইস্কান্দার রহমান:
গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং- রাজ ৪৯৪ এর উদ্যোগে সংগঠনের ও উপজেলার  দুঃস্থ ও অসহায় শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
২০ জানুয়ারী সোমবার বিকালে পলাশবাড়ী পৌর শহরের টাউন হল হতে এসব শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আহবায়ক ও বগুড়া মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিঠুল।
গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ এবং মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুশফিকুর রহমান রিপন এর সভাপতিত্বে ও অত্র সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালিব সরকার বকুলের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে হিসাবে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ জুলফিকার আলী ভুট্ট , পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা জেলা ট্রাক, ট্যাংকলড়ী অভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল আলম। আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লিয়াকত, পলাশবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান নিক্সন , সদস্য সচিব রাজু আহমেদ , গাইবান্ধা জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সড়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।
আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

কৃষকদের লোভ দেখিয়ে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলে বাড়ছে বিষাক্ত তামাকের চাষ

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
দেশি-বিদেশি সিগারেট-বিড়ি কোম্পানিগুলো বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে তামাক চাষে আগ্রহী করছে প্রান্তিক চাষিদের। এই তামাক চাষে অগ্রিম টাকা দেওয়ায় টাঙ্গাইলের কৃষকরাও তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ব্যাপকহারে বাড়ছে বিষাক্ত তামাকের চাষ। ফলে একদিকে পরিবেশের ওপর যেমন পড়ছে বিরূপ প্রভাব, অন্যদিকে এসব এক বা দো ফসলি জমিগুলোর মাটির গুণাগুণও নষ্ট হচ্ছে।
তামাক ও তামাকজাত পণ্য চাষের ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন নেওয়ার আইনগত বিধান থাকলেও তার তোয়াক্কা না করেই অধিক লাভজনক হওয়ায়  প্রতিবছর নতুন নতুন ফসলি জমি তামাক চাষে যুক্ত হচ্ছে। এই সব কৃষকরা দীর্ঘ মেয়াদে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বেশি লাভ এবং বহুজাতিক কোম্পানির অর্থায়ন ও প্রলোভনে প্রতিবছর যুক্ত  হচ্ছে তামাক চাষে । তামাক চাষে ‘কারগিল’ নামক সার প্রয়োগের ফলে চাষি ও তার পরিবারের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে, ফসলি জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এ ছাড়া জেলায় কমছে ফসলি জমির পরিমাণ।
এদিকে তামাক চাষ নিয়ে উদাসীন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তাঁদের কাছে জেলার তামাক চাষের কোন ধরনের তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশেক পারভেজ।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, জগৎপুরা, বামনহাটা, চর নিকলা, নিকরাইল, পালিমা, আমুলা, কালিহাতী উপজেলার সল্লা, দেউপুর, চর হামজানী, কদিম হামজানী, পটল, বেরী পটল, জোকারচর, গোহালিয়াবাড়ী, কুর্শাবেনু, গোবিন্দপুর, ধলাটেঙ্গর,টাঙ্গাইল সদরের কাকুয়া, হুগড়া, কাতুলী, মামুদ নগর, চর পৌলী, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন, দেউলী, লাউহাটি, নাগরপুরের পাকুটিয়া, ভাদ্রা, বেকরা, আটাপাড়া, সলিমাবাদ, ধুবুরিয়া, মোকনা, বনগ্রাম, শাহজানী প্রভৃতি অঞ্চলে দিগন্তজুড়ে তামাক চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে ভূঞাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নাগরপুর উপজেলায় তামাক চাষের পরিমান সবচেয়ে বেশি।
বহুজাতিক কোম্পানি  ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড, জাপান টোব্যাকো কোম্পানী লিমিটেড, আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানীসহ বিভিন্ন বিড়ি, সিগারেট ও জর্দা তৈরির প্রতিষ্ঠান  সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। সরকারি কোনরূপ তৎপরতা না থাকার ফলে কৃষকদের চাষে উৎসাহ জোগাচ্ছে টোব্যাকো কোম্পানীগুলো।
সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার চরাঞ্চল দুর্গাপুর ইউনিয়নের চরহামজানী, কদিমহামজানী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ কৃষকই তামাক চাষ করেন।
তামাক চাষি আমির আলী, হারেছ মিয়া, শুকুর মামুদসহ অনেকেই জানান, কোম্পানি (তামাক ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান) থেকে তাদের বীজ, সার, কীটনাশক, ত্রিপল ও কাগজসহ উৎপাদনের যাবতীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আবার তারাই তামাক পাতা কিনে নেয়। টাঙ্গাইল জেলায় মূলত ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ও জাপান টোব্যাকো কোম্পানি তামাক চাষে কৃষকদের সহযোগিতা দিয়ে থাকে বলে জানান তারা।
তামাক চাষি জব্বার মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তামাক চাষ করছেন। তামাক চাষে অন্য ফসলের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ হয়। তার মতে, এতে শরীরের ও পরিবেশের ক্ষতি হলেও লাভের অংক অনেক বেশি। তাই তামাক চাষ করেন। পাতার আকার ও সংরক্ষণের প্রকারভেদে কোম্পানি দাম কমবেশি নির্ধারণ করে। কোম্পানির লোক ছাড়া বাইরের কেউ তামাক কিনে না- বিক্রি করারও সুযোগ নেই।
টাঙ্গাইল জেলায় তামাক চাষে লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ-অ্যামেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ও জাপান টোব্যাকো কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা কোম্পানির দেওয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে থাকেন বলে জানান।
টাঙ্গাইলের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মী সোমনাথ লাহিড়ী জানান, তামাক চাষে জড়িত চাষী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তামাক মারাত্মক নিউরো-টক্সিক ইফেক্ট তৈরি করে। শরীরের দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকে। এ ছাড়া তামাক চাষ পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তামাক চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সার ও কীটনাশক জমির উর্বরতা হ্রাস করে। বাংলাদেশ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তামাক চাষের পূর্বে অনুমতি নিতে হয়, আমি যতদূর জানি, টাঙ্গাইলে তামাক চাষের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয় না।
তিনি আরো জানান,ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান দাদন দিয়ে কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে। গ্রামের অসহায় কৃষক না বুঝে তাদের জমি ও জীবনের চরম ক্ষতি করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে গণসচেতনতা এবং তামাকজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা দরকার।
তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ডাঃ জিল্লুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন তামাক চাষে যুক্ত থাকলে ক্যানসার, পেটের পীড়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, চর্ম, বুক ও ঘাড়ে ব্যথাসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া তামাক চাষিদের সন্তানদের ‘গ্রিন টোবাকো সিন্ড্রম’ নামে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরো বলেন,তামাকজাত দ্রব্য এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আশেক পারভেজ জানান, তামাক চাষের বিষয়ে সরকারিভাবে তাদের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে তারা কোনো মতামত ও তামাক চাষে হস্তক্ষেপ করেন না। তবে তামাক চাষ রোধে গণসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারেরও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

ভারত থেকে হাসিনাকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি শিবসেনা নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর হামলার ঘটনা দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এদিকে, মুম্বাইয়ে বাংলাদেশিদের অবস্থান ও এই হামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ভারত থেকে সব বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) শিবিরের নেতা সঞ্জয় রাউত। আর এই কাজ তিনি শুরু করতে বলেছেন ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেছেন শিবসেনার এই নেতা। ২০ জানুয়ারি সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই।

রাউত বলেন, সমস্ত বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত এবং এই কাজ শেখ হাসিনাকে দিয়ে শুরু করা উচিত; যিনি গত বছর গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগও দাবি করেছে শিবসেনা।

সংবাদমাধ্যম বলছে, সঞ্জয় রাউতের কাছে প্রশ্ন ছিল সাইফ আলি খানের ওপর হামলায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজন বাংলাদেশি কি না, তা নিয়ে। জবাবে সঞ্জয় রাউত বলেন, “…কে বলেছে তিনি বাংলাদেশি? বিজেপির লোকজন? বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাইফ আলি খানের ওপর যে হামলা হয়েছে তা একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কী? এক অভিনেতার ওপর হামলা হয়েছে। ছুরি দিয়ে হামলা হয়েছে। তার নেপথ্যের রহস্য কী, তা জানাতে বলুন। তিনি (অভিযুক্ত) কে, কী? যদি তিনি বাংলাদেশি হন.. তাহলে তার দায়িত্ব কার? কেন্দ্রীয় সরকারের। যদি বাংলাদেশি এখানে এসে থাকে, রোহিঙ্গারা এসে থাকে, তাহলে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দায়িত্ব। পদত্যাগ করুক উনি, তার পদত্যাগ চাওয়া হোক।”

একইসঙ্গে উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের এই নেতা বলেন, “যদি বাংলাদেশিদের হঠাতে হয় আপনাকে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিনিধি দল নিয়ে যান আমি আহ্বান জানাচ্ছি মুম্বাইয়ের বিজেপির নেতাদের…যান মোদি সাহেবের সঙ্গে দেখা করুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করুন। আর বলুন, সব বাংলাদেশিকে হঠিয়ে দিন, আর তা শুরু করুন শেখ হাসিনাকে দিয়ে; যাকে এদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিজেপি নাটক করছে। মুম্বাই মহানগর নির্বাচন আছে তাই লোকজনকে ভয় দেখানো হচ্ছে। মানুষের মনে ভয় তৈরি করছে। বাংলাদেশিদের মোকাবিলা করতে আমরাই যথেষ্ট আমরা যখন সংসদে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই, তখনই বিজেপি আমাদের বাধা দেয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অজুহাত দিয়ে  বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক খারাপ হবে।”

বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে সঞ্জয় বলেন, “কারিনা কাপুর আর সাইফ আলি খানের বিয়েকে লাভ জিহাদ বলা হয়েছিল আর এখন হামলার পর খুব ভালোবাসা দেখানো হচ্ছে, তাদের ছেলে আছে, নিরীহ ছোট ছেলেটার নাম তৈমুর, তা নিয়েও আপনাদের লোক (বিজেপি) অনেক কিছু বলেছে।”

গত ১৬ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসভবনে সাইফ আলি খানের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। হামলায় বলিউডের এই অভিনেতার মেরুদণ্ডে ছুরির ক্ষত-সহ গুরুতর জখম হয়েছে। এই ঘটনায় মুম্বাই পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ। তিনি বাংলাদেশের ঝালকাটি জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করেছে মুম্বাই পুলিশ।

যদিও অভিযুক্ত যুবকের আইনজীবী রোববার দাবি করেছেন, ‘‘তার মক্কেল বাংলাদেশের নাগরিক, এমন যুক্তির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেনি পুলিশ। গত সাত বছরের বেশি সময় ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি মুম্বাইয়ে বসবাস করছেন।’’

আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

পোশাক পরিবর্তন হচ্ছে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর

আলোকিত প্রতিবেদক:

৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশের সংস্কারসহ তাদের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে চলছিল নানা আলোচনা। শেষ পর্যন্ত র‍্যাব, পুলিশ এবং আনসারের পোশাক পরিবর্তন হচ্ছে।

২০ জানুয়ারি সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন পোশাকের অনুমোদন হতে পারে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১৮টি পোশাক পরিহিত পুলিশ, আনসার ও র‍্যাবের প্রতিনিধি দল বৈঠকে প্রবেশ করেছে। সেখান থেকে পোশাক নির্বাচন হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

প্রধান উপদেষ্টাকে বেইজিং নিতে আগ্রহী চীন, পাঠাতে চায় বিশেষ বিমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেইজিংয়ে বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বেইজিং সফর নিয়ে আলোচনা হবে। চীন চায়, আগামী মার্চে প্রধান উপদেষ্টা বেইজিংয়ে বাও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দিক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আগামী ২৭ ও ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় বাও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দিতে ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন। দুই দেশের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে বহুপাক্ষিক ফোরামে ড. ইউনূস যোগ দেবেন ধারণা চীনের। ঢাকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, যদি বহুপাক্ষিক ফোরামে যোগ দিতে মার্চে প্রধান উপদেষ্টা বেইজিং সফর করেন সেক্ষেত্রে একসঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সফর সেরে ফেলার সুযোগ রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএফএ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি বেইজিং সফরের সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক আয়োজন করতে আগ্রহী চীন। যদি ড. ইউনূস যেতে চান ভাড়া করা উড়োজাহাজ পাঠাতে চায় চীন। আগামী ২৫ থেকে ২৮ মার্চ বেইজিংয়ে ২৫ দেশের জোট বিএফএর সম্মেলনে যোগ দিতে সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। চীন ওই ফোরামের বৈঠকে যোগ দেওয়ার ফাঁকে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতার আলোচনা আয়োজন করতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, মার্চে প্রধান উপদেষ্টা চীন সফর করবেন কিনা-সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বেইজিং সফরে প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফর নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কারণে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন কিংবা এতো কম সময়ে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি সম্ভব হবে কিনা-সেটা নিয়েও ঢাকা সন্দিহান। এক্ষেত্রে এখনই বলা যাবে না সফরটি হবে কি হবে না।

এদিকে তিন দিনের সফরে আজ সোমবার চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। উপদেষ্টার আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ জানুয়ারি-২৫/মওম

ভারতের সহযোগিতায় জিয়াউর রহমানকে হত্যা, এস এ কবীর জিন্নাহ

মিজানুর রহমান খান কুদরত: মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ কবীর জিন্নাহ বলেছেন , শেখ হাসিনা হচ্ছে বিশ্বের একনম্বর স্বৈরাচার ও তার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছে দেশের প্রথম স্বৈরাচার। শেখ মুজিবুর রহমান নিজের ক্ষমতায় পাকাপুক্ত করার জন্য দেশের বাকস্বাধীনতা বন্ধ করে দিয়েছিলো।
জিয়াউর রহমান দেশের ক্লান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর দেশের ক্লান্তিকালে তিনি আবার দেশের দায়িত্বভার গ্রহন করেন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাসহ মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।
কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সহযোগিতায় এদেশের সেনাবাহিনীর কিছু কুলাঙ্গার বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। রোববার বিকেলে মানিকগঞ্জ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানে ৮৯তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ডাক্তার জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এ জিন্নাহ কবীর, সহসভাপতি আজাদ হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরতাজ  আলম বাহার, জেলা যুবদলের আহবায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক আহবায়ক জিন্নাহ খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, শিক্ষক প্রতিনিধি মজিবুর রহমান কনক প্রমূখ।
পরে কেক কেটে উদযাপন করা হয় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের ১২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।  অপর দিকে শিশু একাডেমীতে রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী অংশ নেয় চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, জিয়াউর রহমানের উপর কুইজ প্রতিযোগিতা, বিএনপির দলীয় সংগীত দেশাত্ববোধক গান ও হামদ নাত পাঠ করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

পুনাকের উদ্যোগে বাগেরহাটে দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন

মাহমুদ কাজী: বাগেরহাট সদরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)। শনিবার (১৮ জানুয়ারী) সকালে পুনাকের আয়োজনে সদর উপজেলার ফতেপুর শিমুলতলা জামিয়া মাদানিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও দুঃস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরন করা হয়। মানবতা বোধ, জাগ্রত হোক, বিবেকের তাড়নায় এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে পুনাক দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম  করে আসছে । ব্যতিক্রম হয়নি এবারো। পুনাকের আয়োজন ছিল একই কিন্তু বদলেছে গ্রাহক। অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুনাক এর সভানেত্রী মিসেস শোভা আরিফ, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম, মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ জবেদ আলীসহ পুনাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, পুনাক সারা বছর বিভিন্ন সময়ে গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষকে সহায়তা প্রদান করে আসছে। এবারই প্রথম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পুনাকের  সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরে প্রধান অতিথি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, দুঃস্থ ও  শীতার্থদের হাতে শীতবস্ত্র ও কম্বল তুলে দেন। অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক  কম্বল প্রদান করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি