আজ , ।   
Home Blog Page 612

ছাত্রদের প্রতিনিধি সরকারে রেখে নির্বাচনে এলে রাজনৈতিক দলগুলো মানবে না: মির্জা ফখরুল

আলোকিত প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে ছাত্ররা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নির্বাচন করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন এই নেতা। মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

ছাত্রদের রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি মেনে নেবে না বলে তিনি জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের ব্যাপারে তিনি বলেন, যদি সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা নির্বাচন পরিচালনা করা পর্যন্ত থাকবে। তা না হলে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুললে ছাত্রনেতারা বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজনের জন্য গণঅভ্যুত্থান হয়নি। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, ভাই! আমরা আন্দোলন করছি, রাজনৈতিক দল করছি, দেশে একটা ডেমোক্রেটিক সেটআপের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠান জন্য।

আর গণতন্ত্রে ঢোকার প্রথম ধাপটিই হচ্ছে নির্বাচন। যেহেতু তিন তিনটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকার নষ্ট করে দিয়েছে, জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আমার ভোটের অধিকারটা তো প্রথম অধিকার নাগরিক হিসেবে। আমি এই দেশের মালিক।
আমার একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে আমার ভোটটা। সেটাই তো আমরা দিতে পারিনি। সুতরাং নির্বাচন চায় না বা নির্বাচন প্রধান নয়— এ কথা চিন্তা করাও তো ভুল। নির্বাচনটা আমরা মনে করি প্রধান। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমেই আমি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারবো।
আমি গণতান্ত্রিক সংবিধানের পরিবর্তনগুলো আনতে পারবো। গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্র আবার পুনর্নির্মাণ করতে পারবো। এ ছাড়া আমার বিকল্প কিছু নেই।নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা তো চাই আর্লি ইলেকশন। আগেও বলেছি আমরা। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার, যেটা ন্যূনতম সংস্কার, সেগুলো করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। এটা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের যে অভিজ্ঞতা দেখেছি, আমরা অতীতের কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টগুলোতে, তাতে করে এটা অসম্ভব কিছু না। এটা পসিবল যদি গভর্নমেন্ট চায় যে ইলেকশন তারা করবে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বা আগস্টের মধ্যে, তারা করতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলছে তা নির্বাচিত সরকার ছাড়া পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে যুক্তি দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেকোনো সংস্কারের অনুমোদন নেওয়ার জন্য নির্বাচিত সংসদের প্রয়োজন হবে। এ কারণেই দ্রুত নির্বাচন দেওয়া প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘উনি (অধ্যাপক ইউনূস) যতগুলো সংস্কারের মধ্যে হাত দিয়েছেন, অতগুলো সংস্কার করতে গেলে ১০ বছরের মধ্যেও শেষ হবে না। আর সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। দুই বছর আগে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। তার মধ্যে এই বিষয়গুলো তো রয়েছে।’

সংবিধান সংস্কারের বিষয় রয়েছে, জুডিশিয়াল কমিশনের কথা আমরা বলেছি, আমরা ইলেকশন কমিশনের কথা বলেছি, আমরা ব্যুরোক্রেসি সংস্কারের কথা বলেছি ৩১ দফায়, আমরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছি— এগুলো আমাদের সব বলা আছে।

এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, সংসদ ছাড়া সাংবিধানিক সংস্কার কঠিন হবে। সংবিধানে কিছু কিছু পরিবর্তন আনার দরকার আছে। কিন্তু সেগুলো সংসদ ছাড়া সম্ভব না। সে জন্যই আমরা মনে করি, নির্বাচন যত দ্রুত হবে ততই ভালো বলে ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : ইসি মাছউদ

প্রতিনিধি,পটুয়াখালী :

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটগ্রহণ হবে ব্যালটের মাধ্যমে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৫ উপলক্ষে ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি মাছউদ বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে দেশজুড়ে ৩৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করছেন। এ বিষয়ে যারা তথ্য সংগ্রহ করছেন, তাদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় ভুল হচ্ছে, এতে মানুষ সেবা নিতে পারছে না। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা দরকার।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভায় পটুয়াখালী জেলার সব উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি-২৫/মওম

টাঙ্গাইলে লেবু বাগান থেকে ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় লেবু বাগান থেকে এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চকচকিয়া শ্রীপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুস সালাম (৪৮) ওই এলাকার মৃত আমির আলীর ছেলে। তিনি পেশায় মুদির দোকানদার ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গতকাল বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেনি আমির। পরে স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় তাকে খোঁজাখুজি করেন। আজ সকালে বাড়ি থেকে ২০০ মিটার দূরের একটি লেবু বাগানে তার গলা কাটা মরদেহ দেখতে পায় স্বজনরা।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি-২৫/মওম

পুতিন যুদ্ধ বন্ধ না করলে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা,বাড়তি কর এবং শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে বলেন, ভ্লাদিমির এই যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে। তা না হলে আমি ব্যবস্থা নেবো। এখনই মীমাংসা করুন। এই হাস্যকর যুদ্ধ বন্ধ করুন। না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবার পুতিনের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, আপনি যদি চুক্তি না করেন, তাহলে রাশিয়া এবং যুদ্ধে অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে চড়া কর, শুল্ক এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, আমি প্রেসিডেন্ট থাকলে এই যুদ্ধ শুরুই হতো না। এখন এটি বন্ধ করা প্রয়োজন। আমরা সহজ বা কঠিন পথ নিতে পারি। তবে সহজ পথই সেরা। তাই চুক্তি করার জন্য এটি উপযুক্ত সময়। ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধ থামাবেন। তবে কীভাবে সেটি করবেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

এদিকে, জাতিসংঘে রাশিয়ার সহকারী রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ কী, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধের কথা বলছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের প্রশ্নের পাশাপাশি ইউক্রেন সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করতে হবে। ট্রাম্প রাশিয়াবিরোধী মনোভাব তৈরি করেননি বা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতিও নেননি। তবে ওই নীতি বদলানোর সুযোগ তার সামনে রয়েছে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি-২৫/মওম

সরকার নিরপেক্ষ না থাকলে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে: মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক:

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নির্বাচন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা নতুন রাজনৈতিক গঠন করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বলে জানা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব।সাক্ষাৎকারে আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে ভাবনা, আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সংস্কার প্রস্তাবে প্রতিক্রিয়াসহ আরও অনেক বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন মির্জা ফখরুল।

দুই পর্বে বিএনপি মহাসচিবের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির।

বিবিসি বাংলা: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে যোগ দেওয়ার জন্য। কেমন আছেন আপনি?

বিএনপি মহাসচিব: ভালো, ভালো। অনেক ভালো।

বিবিসি বাংলা: প্রথমে একটু নির্বাচন দিয়ে শুরু করতে চাই। সম্প্রতি আপনি একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, এই বছরের (২০২৫) জুলাই-অগাস্টের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব। এটা কি একটা সম্ভাবনার কথা বলছেন, নাকি আপনারা চান যে, জুলাই-অগাস্টে নির্বাচন হোক?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা তো চাই আর্লি ইলেকশন। আগেও বলেছি আমরা। যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার, যেটা ন্যূনতম সংস্কার, সেগুলো করে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। এটা আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের যে অভিজ্ঞতা দেখেছি আমরা অতীতের কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টগুলোতে, তাতে করে এটা অসম্ভব কিছু না। এটা পসিবল যদি গভর্নমেন্ট চায় যে, ইলেকশন তারা করবে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বা অগাস্টের মধ্যে, তারা করতে পারে।

বিবিসি বাংলা: আপনারা কোনো সুনির্দিষ্ট কি বলবেন যে, আপনারা এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন চান?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা সুনির্দিষ্ট সময় ওইভাবে বলতে চাই না এজন্য যে, তাতে তো লাভ হবে না। কারণ গভর্নমেন্টকেও চাইতে হবে। আলাদা পলিটিক্যাল পার্টিদেরকেও চাইতে হবে, সবাই মিলে একসঙ্গে চাইতে হবে। তবে আমাদের দিক থেকে আমরা মনে করি, এটা কোনো অসম্ভব কিছু না। এটা খুবই সম্ভব এবং যতদ্রুত হয় ততই দেশের জন্য মঙ্গল।

বিবিসি বাংলা: কিন্তু আপনাদের কোনো ডেডলাইন বা সময়সীমা নেই?

বিএনপি মহাসচিব: ডেডলাইন আমরা দেইনি এখনো।

বিবিসি বাংলা: যদি আপনারা দেখেন যে, নির্বাচনটা আপনারা যে সময়ের মধ্যে আশা করছেন, সেটা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে আপনাদের পদক্ষেপটা কী হবে?

বিএনপি মহাসচিব: সেক্ষেত্রে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের পার্টিতে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো এবং আমাদের সঙ্গে যারা আন্দোলনে ছিলেন-আছেন, তাদের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করবো। আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নেব।

বিবিসি বাংলা: অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন যে, তারা কিছু সংস্কার কাজ করতে চান এবং সেই সংস্কার কাজগুলো শেষ হলে তখন তারা একটা নির্বাচনে যাবেন। তো আপনারা কি অপেক্ষা করতে রাজি আছেন সংস্কার কাজ শেষ করা পর্যন্ত?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা আমাদের কথাগুলো স্পষ্ট করে বলে আসছি। বলেছি যে, উনি যতগুলো সংস্কারের মধ্যে হাত দিয়েছেন, অতগুলো সংস্কার করতে গেলে আপনার দশ বছরের মধ্যেও শেষ হবে না। আর সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। দুবছর আগে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা দিয়েছি আমরা। তার মধ্যে এই বিষয়গুলি তো রয়েছে। সংবিধান সংস্কারের বিষয় রয়েছে, জুডিশিয়াল কমিশনের কথা আমরা বলেছি, আমরা ইলেকশন কমিশনের কথা বলেছি, আমরা ব্যুরোক্রেসি সংস্কারের কথা বলেছি ৩১ দফায়, আমরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছি -এগুলো আমাদের সমস্ত বলা আছে। এখন সেক্ষেত্রে তারা যেটা করেছেন, সেটা কী রিপোর্ট নিয়ে আসছে আমরা জানি না।

যদি রিপোর্টগুলোয় দেখা যায় যে, আমাদের সঙ্গে মিলে গেছে, তাহলে তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেগুলো মিলবে না, সেগুলো তো একটা ন্যূনতম কনসেনসাস হতে হবে। তারপরে সেটা হতে হবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আপনি সংস্কার দিলেন, কিন্তু সেটাকে আপনার অ্যাপ্রুভ করবে কে? তার জন্য তো আইনগত যাদের অধিকার আছে, তারাই করতে পারবে। দ্যাট ইজ পার্লামেন্ট।

পার্লামেন্ট ছাড়া কিন্তু কোনো সাংবিধানিক সংস্কার কঠিন হবে। এমনকি অন্যান্য বিষয় কতগুলা আছে, যেগুলা আপনার সংবিধানে কিছু কিছু পরিবর্তন আনার দরকার আছে। কিন্তু সেগুলা পার্লামেন্ট ছাড়া সম্ভব না। সেজন্যই আমরা মনে করি, দ্য সুনার দ্য ইলেকশন ইজ বেটার।

বিবিসি বাংলা: আপনি কি মনে করেন যে, নির্বাচিত সরকার আসার আগ পর্যন্ত এ ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের যাওয়া উচিৎ হবে না বা তারা যেতে পারে না?

বিএনপি মহাসচিব: যাওয়া উচিৎ হবে না আমরা বলছি না। কিন্তু যেতে তারা পারবেন না এজন্যে যে, সব দলের কনসেনসাস না হলে কোনোটাই যাওয়া তাদের ঠিক হবে না।

বিবিসি বাংলা: এই সরকারের মেয়াদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে এবং নির্বাচন পর্যন্ত তো এই সরকারের মেয়াদ থাকবে, এটাই সবার ধারণা।

বিএনপি মহাসচিব: যদি সরকার পূর্ণ নিরপেক্ষতা পালন করে, তাহলেই তারা নির্বাচন কনডাক্ট করা পর্যন্ত থাকবেন। তা না হলে তো নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।

বিবিসি বাংলা: আপনার কি ধারণা যে, এই সরকারের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে?

বিএনপি মহাসচিব: নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আসতে পারে। কেননা, এখানে আমরা জিনিসটা লক্ষ্য করছি যে, আপনার ছাত্ররা তারা একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করার কথা চিন্তা করছেন। সেখানে যদি ছাত্রদের প্রতিনিধি এই সরকারে থাকে, তাহলে তো নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। ওইটা হচ্ছে, সম্ভাব্য কথা। কিন্তু যদি তারা মনে করে যে, (সরকারে) থেকেই তারা নির্বাচন করবেন, তাহলে তো রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।

বিবিসি বাংলা: আপনার কি মনে হয়, সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে এখন কোনো প্রশ্ন তৈরি হয়েছে?

বিএনপি মহাসচিব: এখন কোনো প্রশ্ন নেই। আমাদের কাছে কোনো প্রশ্ন নেই।

বিবিসি বাংলা: পাঁচই অগাস্টের পর যখন অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা হচ্ছিল, সে আলোচনায় আপনারাও ছিলেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতে পরে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। যথন এই অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকাল কী হবে, সেটা নিয়ে আপনাদের সাথে কোনো কথা হয়নি?

বিএনপি মহাসচিব: না। তখন তো ইলেকশন দ্রুত করার কথাই হয়েছে। দ্রুত ইলেকশন করার কথাই হয়েছে।

বিবিসি বাংলা: দ্রুত বলতে কত সময়? কোনো ধারণা, সময়সীমা- এ ধরনের কিছু নিয়ে কথা হয়নি?

বিএনপি মহাসচিব: না, সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তখন তো সেই সুযোগ ছিল না।

বিবিসি বাংলা: তো অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের পর আপনি নিজেই বলেছিলেন যে, এই সরকারকে আপনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

বিএনপি মহাসচিব: করছি।

বিবিসি বাংলা: এটা এখনও অব্যাহত আছে?

বিএনপি মহাসচিব: অব্যাহত আছে। উনারা যখনই ডাকেন, তখনই আমরা যাই, কথা বলি। না ডাকলে তো যাওয়া যায় না, তারপরও আগ বাড়িয়েও কথা বলি। আমরা যেগুলো মনে করি যে, এগুলো করা উচিৎ, সেগুলো তাদেরকে আমরা জানাই। অ্যান্ড উই আর কোঅপারেটিভ। এখন পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে কিন্তু কোনো আন্দোলনও করিনি, কথাও বলি না কোথাও। তবে দু-একটা ভুল-ত্রুটি তো দেখিয়ে দিতেই হয়।

বিবিসি বাংলা: শুরু থেকে আপনাদের সাথে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের যে সম্পর্কটা ছিল, এখনও কি তাই আছে? নাকি এখানে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা মনে করি যে, তাই আছে।

বিবিসি বাংলা: সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রায়ই সময় একটা বিষয় বলা হয় যে, তারা যে সংস্কার কাজগুলো করছেন বা করতে চাচ্ছেন, তার একটা উদ্দেশ্য হচ্ছে- যে ধরনের একনায়কতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারী সরকার তৈরি হয়েছিল, সে ধরনের একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা যাতে বাংলাদেশে আর তৈরি না হয়। আপনার কি মনে হয়, এর দ্বারা আপনাদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়?

বিএনপি মহাসচিব: কোনোমতেই না। কারণ আমরা কখনই স্বৈরতান্ত্রিক ছিলাম না। আমরা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলাম। এখানে মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেসি আমরাই নিয়ে আসছি। একদলীয় শাসনব্যবস্থা শেখ মুজিবের, সেখান থেকে ট্রানজিশন টু মাল্টিপার্টি সিস্টেম তো জিয়াউর রহমান সাহেব করেছেন। গণমাধ্যমকে মুক্ত করা, আমরাই করেছি। আপনার পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি তো আমরাই নিয়ে আসছি। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট সিস্টেম আমরাই চালু করেছি। আপনি প্রত্যেকটাই দেখেন। সুতরাই প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমাদেরকে কেউ স্বৈরাচারী আঙুল তুলবে এ কথা আমরা কখনই মেনে নিতে পারবো না।

বিবিসি বাংলা: বা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সুযোগ তৈরি না হয়।

বিএনপি মহাসচিব: প্রশ্নই আসে না। দলটিই তো আমাদের ওইরকম না। আমাদের দলটিই তো গণতান্ত্রিক দল। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। ইউ হ্যাভ অলওয়েজ ট্রাইড টু প্রাকটিস ডেমোক্রেসি। আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। ১৫ বছর আমরা লড়াই করলাম এই গণতন্ত্রের জন্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। খালেদা জিয়া প্রায় ছয়টা বছর কারা অন্তরীণ ছিলেন এই মামলার জন্যে, এই গণতন্ত্রের জন্যে। এবং আমাদের তারেক রহমান সাহেব এখনও বিদেশে আছেন। আমাদের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমাদের প্রায় সাতশত মানুষ গুম হয়ে গেছে। আমাদের হাজার হাজার লোক খুন হয়েছে- গণতন্ত্রের জন্যে। এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিল গণতন্ত্রের জন্যে। সুতরাং আমাদের দলে সেই প্রশ্নই উঠতে পারে না। ডেমোক্রেসির চ্যাম্পিয়ন বলতে পারেন আমাদেরকে আপনি।

বিবিসি বাংলা : আপনি সংস্কার কমিশনের কথা বলছিলেন। যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠন হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি এরই মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন, আপনি এটার কথা বলছিলেন। সেই প্রস্তাবে কয়েকটি বিষয় এসেছে, তার মধ্যে একটি বড় বিষয় যদি বলি যে, মূলনীতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব আছে। সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, বহুত্ববাদ আনার কথা বলা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনার মতামত কী?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা এ বিষয়ে এখনই কথা বলবো না। আমাদের পার্টিতে একটা কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটি অ্যানালিসিস করছে। এটা করার পরে আমাদের বক্তব্যটা আমরা পাবলিকলিই নিয়ে আসবো।

বিবিসি বাংলা: সেটা কবে?

বিএনপি মহাসচিব: দ্রুত, খুব দ্রুত। আর এটা তো খসড়া।

বিবিসি বাংলা: দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের একটা প্রস্তাব এসেছে।

বিএনপি মহাসচিব: এই প্রস্তাব তো দিয়েছি আমরাও।

বিবিসি বাংলা: প্রস্তাবে যেভাবে দ্বিকক্ষের কথা হলা হয়েছে যে, নিম্নকক্ষ থাকবে নির্বাচনের ভিত্তিতে যেটি হয় এবং উচ্চকক্ষ আনুপাতিক ভোটের হিসেবে। আপনারা এটার সাথে একমত?

বিএনপি মহাসচিব: না, আমরা সেখানে একমত না। আমাদের ভিন্ন প্রস্তাব আছে, সেটা আমরা আলোচনার মাধ্যমে দেখবো।

বিবিসি বাংলা: আমরা এর মধ্যে দেখেছি যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের বেশকিছু দাবি বিভিন্ন সময় তুলেছিল, যেগুলো আপনারা বিরোধিতা করেছেন বা বাধার মুখে হয়নি। যদি কয়েকটি উদাহরণ দিই, যেমন- রাষ্ট্রপতি অপসারণের কথা, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র দেওয়ার কথা এবং সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটা ইস্যু এসেছে, যেটা আপনারা বিরোধিতা করেছেন। এ বিষয়গুলোতে আপনাদের আপত্তির কারণ কী?

বিএনপি মহাসচিব: (হাসি) আপত্তির কারণ খুব সঙ্গত কারণ। আমরা তো একটা সংবিধানের অধীনে আছি। রাষ্ট্রের যে সংবিধান, সেই সংবিধানের অধীনে আমরা আছি। এই সরকারও শপথ নিয়েছে সেই সংবিধানের অধীনে। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে যে অপসারণ করবে, সেটা কে করবে? এটা এক। দুই নম্বর হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি আনবেন কাকে? তিন নম্বর হচ্ছে, এটার লেজিটেমেসি কার হাতে থাকবে? পার্লামেন্ট নাই। সুতরাং ওই প্রশ্নটাকে আমরা মনে করি যে, অবাস্তব প্রশ্ন। আর যেখানে ওটা কোনো ক্রাইসিস ছিল না। ওই ধরনের কোনো ক্রাইসিস তৈরি হয়নি। সেটা আমরা মনে করেছি, এটা ক্রাইসিস তৈরি করা নতুন করে। আমাদের সামনে এখন একটাই মূল সমস্যা, সেটা হচ্ছে যে, আপনি নির্বাচন অতিদ্রুত করে ফেলা, একটা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া। এটা তো আপনার এসেন্স অব ডেমোক্রেসি।

এটা গেল এক। আপনার আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে, জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র। এটা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি আগে, আমরা জানিও না এটা। আর (অভ্যুত্থানের) পাঁচমাস পরে এই ডিক্লারেশনের কোনো যুক্তি আছে কি-না? এটা কি আপনার সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেবার মত ব্যাপারটা? যেটা হয়েছে-হচ্ছে যে, যাদেরকে অপসারণ করা হয়েছিল ওই সরকারের আমলে, এখন আবার তারা ফেরত পাচ্ছে? এটা তা না। এটা একটা অভ্যুত্থান, একটা আন্দোলন। সেই আন্দোলনের ডিক্লারেশন তখনই হওয়া উচিৎ ছিল। এটা ছাত্ররা তারা দিতেই পারে। কিন্তু আমরা ওটার পার্ট তখনই হবো, যখন গোটা জাতির প্রশ্নটা আসবে তার মধ্যে, টোটাল জিনিসটা। কোনো আলোচনা না করেই তো আমরা এটা করতে পারি না। প্রশ্নই উঠতে পারে না।

বিবিসি বাংলা: তো যে বিষয়টা তারা বলছেন যে, এটা একটা অভ্যুত্থান হয়েছে, একটা বিপ্লব হয়েছে এবং তারা সেখানে নেতৃত্বে ছিলেন। তারা এখন সেটি (ঘোষণা) দিতে চান।

বিএনপি মহাসচিব: দিতেই পারেন। ছাত্র হিসেবে তারা দিতেই পারেন। জাতি হিসেবে এবং পার্টি হিসেবে তো আমরা সেটার মধ্যে থাকতে পারি না। আমাদের ন্যারেটিভ আছে। ১৫ বছর আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি। আমাদের এসব বিষয়গুলো এখানে থাকবে। এর আগে, সাতই নভেম্বরের বিষয়গুলো সেখানে আসতে হবে, নব্বইয়ের গণআন্দোলন সেখানে থাকতে হবে-এগুলো তো থাকতে হবে। আর একাত্তর হচ্ছে আমাদের অস্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধ। সেই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে চব্বিশকে একমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার কথা আসতে পারে না।

বিবিসি বাংলা: আপনি বলছিলেন যে, একাত্তরের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব: আমি এর আগেও বলেছি। আমার কাছে কেন জানি মনে হয় যে, একটা পক্ষ একাত্তরকে একটু পেছনে রাখতে চায়।

বিবিসি বাংলা: কারা?

বিএনপি মহাসচিব: আছে কিছু হয়তো। তারা চেষ্টা করছেন। এটা আমার মনে হচ্ছে। আমি এক্সাক্টলি আপনাকে ঠিক বলবো না, বলতে পারবো না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, একাত্তরকে পেছনে ফেলার একটা চিন্তা-ভাবনা কারো কারো মধ্যে থাকতে পারে।

বিবিসি বাংলা: এতে কী সুবিধা হবে, একাত্তরকে যদি পেছনে ফেলা হয়?

বিএনপি মহাসচিব: যাদের সুবিধা হবে, সেটা আপনারা জানেন সবাই। আমি রিপিট করেতে চাই না।

বিবিসি বাংলা: জুলাই অভ্যুত্থানের বিষয়ে বলি। যখন নির্বাচনে কথা আসে, তখন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে যে, নির্বাচনের জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়নি। আপনাদের নির্বাচনের দাবির বিপরীতে জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের কথাও প্রায়সময় বলা হয়। তো এই বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখেন?

বিএনপি মহাসচিব: আমাদের খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, ভাই। আমরা আন্দোলন করছি, রাজনৈতিক দল করছি, দেশে একটা ডেমোক্রেটিক সেটআপের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠান জন্যে। আর গণতন্ত্রে ঢোকার প্রথম ধাপটিই হচ্ছে, নির্বাচন। যেহেতু তিন তিনটি নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকার নষ্ট করে দিয়েছে, জনগণ ভোট দিতে পারেনি। আমার ভোটের অধিকারটা তো প্রথম অধিকার নাগরিক হিসেবে। আমি এই দেশের মালিক। আমার একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে, আমার ভোটটা। সেটাই তো আমরা দিতে পারিনি। সুতরাং নির্বাচন চায় না বা নির্বাচন প্রধান নয়- এ কথা চিন্তা করাও তো ভুল। নির্বাচনটা আমরা মনে করি প্রধান। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমেই আমি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারবো। আমি গণতান্ত্রিক সংবিধানের পরিবর্তনগুলো আনতে পারবো। গণতান্ত্রিক একটা রাষ্ট্র আবার পুনঃনির্মাণ করতে পারবো। এছাড়া আমার বিকল্প কিছু নেই।

বিবিসি বাংলা: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে আপনাদের একটা দ্বিমত দেখা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব: না, এটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। মিডিয়া এটাকে একুট ভুলভাবে প্রচার করছে।

বিবিসি বাংলা: কোন জায়গাটায় ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে?

বিএনপি মহাসচিব: আমরা কিন্তু পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটা পুরোপুরি জনগণের ব্যাপার। জনগণ যদি চায় যে, তারা কোনো দলকে নিষিদ্ধ করবে, তাহলে তারা করতেই পারে। সেটা কীভাবে হবে? সেটা পার্লামেন্টে হতে পারে বা অন্য কোনো মাধ্যমে হতে পারে।

বিবিসি বাংলা: কিন্তু কীভাবে আপনি জানবেন যে, জনগণ চাইছে কি চাইছে না?

বিএনপি মহাসচিব: ভোটের মাধ্যমে সেটা জানা যাবে। ইলেকশনের মাধ্যমেই সেটা জানা যাবে। আমি একটা পলিটিক্যাল পার্টি। আমি তো আরেকটা পলিটিক্যাল পার্টিকে নীতিগতভাবে, জামায়াতে ইসলামীকে যখন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, আমরা প্রতিবাদ করেছি। আমরা নীতিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক দলকে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে রাজনীতি করে, তাদেরকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারটাতে আমরা কখনোই একমত হইনি। এটা আমরা বলেছি যে, জনগণ ডিসাইড করবে যে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে-কি হবে না। এটা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে অনেক আমি জানি। কিন্তু এই বিতর্কের কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না।

বিবিসি বাংলা: আপনি বলছিলেন ভোটের মাধ্যমে সেটা জানা যাবে। তো আগামী নির্বাচনে কি তাহলে আওয়ামী লীগ…

বিএনপি মহাসচিব: সেটা আওয়ামী লীগ আসতে পারলে আসবে, না আসতে পারলে আসবে না। দ্যাটস নট মাই পয়েন্ট। এক্ষেত্রে আমাদের কোনো কথা নেই। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোন দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, সেটা তো দলগুলো নিজেরাই ঠিক করবে। তখনকার সেটআপ ঠিক করবে, ইলেকশন কমিশন ঠিক করবে। আমরা কথাটা খুব পরিষ্কার করেই বলছি যে, আমরা মনে করি কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদের না। আমরা চাই যে, জনগণের মাধ্যমে সবকিছু নির্ধারিত হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একান্ত সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্বটি প্রকাশিত হবে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৫)

সূত্র- বিবিসি বাংলা

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি-২৫/মওম

দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারিতে

আলোকিত প্রতিবেদক:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিএসএফ প্রধান দলজিৎ সিং চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ১৬ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারত সফর করবেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফ এবং বিজিবি প্রধানদের আসন্ন বৈঠকে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে রয়েছে সীমান্তে সিঙ্গেল রো ফেন্স (এসআরএফ) বাস্তবায়ন। ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়াবিহীন এলাকায় যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করতে চায়।

তবে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উভয় পক্ষ কোনো প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণ করবে না মর্মে বেড়া নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছে বিজিবি।

বৈঠকে মাদক এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান মোকাবিলাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

সীমান্ত আইন অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের ভেতরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা যায় না। তবুও আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বেশ কিছু সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করছে ভারত। বিজিবির বাধার মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি-২৫/মওম

মানিকগঞ্জে অবৈধ হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছে প্যারামেডিক

মিজানুর রহমান খান কুদরত, মানিকগঞ্জ :স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে ডাক্তারবিহীন চোখের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলায় উখুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের চক্ষু চিকিৎসার জন্য ২০০৭ সালে উথুলী ইউনিয়নের কাতরাসিন গ্রামে এই হাসপাতালটি তৈরী করে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন নজরদারি না থাকায় চলছে নানা অনিয়ম। প্রতিদিন শতাধিক রোগী সকাল ৯ টায় এসে ১৫০ ও বর্হিবিভাগে ২০০ টাকা টিকিট কেটে ডাক্তারের অপেক্ষায় থেকে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। দুপুর হলেই রোগীদের চিকিৎসা শুরু করে ডাক্তার পরিচয় দানকারী প্যারামেডিক এনামুল হক।
তিনি চোখের সব ধরনের সমস্যাসহ সকল জটিল রোগের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে পাঠান অন্য কক্ষে। সেখানে বসা বিএ পাশ করা সাকিলা সুলতানা। তিনি কম্পিউটার দিয়ে রোগীদের  চোখের রোগ ও পাওয়ার নির্নয় করেন। এরপর তারা অভিনব কায়দায় চশমা বিক্রি করেন রোগীদের কাছে। এ ছাড়াও পরে অতিরিক্ত দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করানো হয় এমন অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।
এই হাসপাতালটির লাইসেন্স ২০২২-২৩ অর্থ বছর পর্যন্ত নবায়ন থাকলেও ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করেনি। এই হাসপাতালে নেই, কোন ডাক্তার, ডিপ্লোমা নার্স, অপটো মেট্রিস ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ ফার্মাসিষ্ট লাইসেন্স। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে ১০ বেডের অনুমোদন নিয়ে ৩০ বেডে রোগী রাখেন, যা সম্পূর্ন নিয়ম বহি:ভূত। এভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন জেলার দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সার্টিফিকেট বিহীন ভুয়া ডাক্তার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা বানিজ্য করে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চললেও কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকায়।
চিকিৎসা নিতে আসা মাধবী ঘোষ,আবু বক্কর,হাসনা বেগম ও রংমালাসহ আরো একাধিক রোগীদের সাথে কখা বললে তারা বলেন, এই ডাক্তার এখানে অনেক আগের থেকেই চোখের চিকিৎসা করে। এই হাসপাতালে কোন দিন অন্য কোন ডাক্তার দেখি নাই। উনি ডাক্তার কিনা আমরাতো জানিনা,উনি কাগজে যা লিখে দেয়, হেই ঔষুধ খাই।
হাসপাতালের ইনচার্জ লোকমান হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে, মেডিকেল এসিন্ট্যান্ট রোগী দেখে এই কথা স্বীকার করে বলেন, আমি হাসপাতালের কাগজপত্র নিয়ে সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলে এসেছি। তিনি মেডিকেল এসিন্ট্যান্ট দ্বারা রোগী দেখাতে না করেছে। পরে তারা এসে আমাদের হাসপাতাল দেখবে।
মেডিকেল এসিন্ট্যান্ট এনামুলহকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র দেওয়া রাইট নাই। আজকে ডাক্তার নেই তাই আমি চিকিৎসা দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে জেলার সিভিল সার্জন ডা: মো: মকছেদুল মোমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন,কাতরাসিন চক্ষু হাসপাতালের বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে কোন অনিয়ম থাকলে আমরা ব্যবস্থা নিব।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শিশুদেরও গোপন কারাগারে রাখতেন হাসিনা, দেওয়া হতো না মায়ের বুকের দুধ

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন!

আলোকিত প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই একের পর এক প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে ফ্যাসিস্ট এই প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নানা অপকর্ম।তার আমলে ঘটা ভয়ংকর এক অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এতে বলা হচ্ছে, পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার গোপন কারাগারে আটকে রাখতেন শিশুদেরও। এমনকি তাদের পান করতে দেওয়া হতো না মায়ের দুধ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মা-বাবার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হতো এসব শিশুদেরও।

গুমের তদন্তকারী একটি কমিশনের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, অন্তত অর্ধডজন (ছয়জন) শিশু তাদের মায়েদের সঙ্গে মাসের পর মাস কারাগারে বন্দী ছিল। আটক মা-বাবাদের মানসিক চাপ দেওয়ার জন্য শিশুদের ব্যবহার করা হতো; যার মধ্যে শিশুদের দুধ পান করতে না দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও রয়েছে।

কমিশন আরও বলেছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী তদন্তকারীদের গোপন কারাগারের এমন একটি কক্ষ দেখিয়েছেন যেখানে তাকে শিশুকালে তার মায়ের সঙ্গে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। আর এই আটক কেন্দ্রটি পরিচালনা করত আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তার মা আর কখনোই ফিরে আসেননি।

অন্য একটি ঘটনায়, এক দম্পতি এবং তাদের শিশুকে আটক করা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাবাকে চাপ দেওয়ার জন্য ‘মানসিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে’ শিশুটিকে মায়ের দুধ খাওয়ানো থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।

ক্ষমতায় থাকাকালীন হাসিনা সরকার জোরপূর্বক এসব গুমের ঘটনা অস্বীকার করত। সাবেক এই সরকার দাবি করেছিল, নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজন ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন।

কমিশন বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অপহরণ করা প্রায় ২০০ বাংলাদেশি এখনো নিখোঁজ।

কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসেন টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে বলেন, ‘কিছু ভুক্তভোগী তাদের নির্যাতনকারী অফিসারদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারলেও, তাদের সাক্ষ্য ব্যবহার করে জড়িত বাহিনীকে শনাক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কমান্ডারকে জবাবদিহি করার সুপারিশ করব।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইতোমধ্যেই হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের শত শত নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং আরও শত শত মানুষকে বেআইনিভাবে অপহরণ ও গুমসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

প্রস্তুত হলো গাইবান্ধা পৌরসভার সার্বিক স্যানিটেশন

রানা ইস্কান্দার রহমান : গাইবান্ধা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের গণশৌচাগার, কমিউনিটিভিত্তিক এবং পারিবারিক টয়লেটগুলোর অবস্থা সরেজমিন পর্যবেক্ষণের তথ্য সমাবেশীকরণের মাধ্যমে প্রস্তুত হলো পৌরসভার সার্বিক স্যানিটেশন চিত্র।গত  ২১ জানুয়ারি ২০২৫, গাইবান্ধার এসকেএস ইন-এ FANSA-Bangladesh এর Rising for Rights প্রকল্পের আওতায় FANSA-Bangladesh সচিবালয় এসকেএস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক কর্মশালায় সংগৃহীত মনিটরিং তথ্যের সমাবেশীকরণ এবং সার্বিক তথ্যের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পৌরসভার স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে যথাপথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবীতে পৌরসভাকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়।
মনিটরিং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শহরের পাবলিক, কমিউনিটি ও পারিবারিক টয়লেটগুলোর নাজুক অবস্থা। এতে টয়লেটগুলোর অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সামগ্রিক প্রতিবেদন তৈরির এই কাজে অংশ নেন Rising for Rights প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত  নারী ফোরাম এবং কমিউনিটিভিত্তিক মনিটরিং দলের ৩০ জন সদস্য। সমাবেশীকরণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণে নেতৃত্ব দেন নারী ফোরামের সভাপতি সুলতানা ই নূর শাহী।
আলোচনা পর্বে টয়লেট ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কার্যকর ও দ্রুত পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে পৌরসভার কাছে দাবী জানান। তারা মনে করেন, সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে টয়লেট ব্যবস্থার উন্নতি করে পৌরবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব এবং সে লক্ষ্যে পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরের সার্বিক স্যানিটেশন চিত্রভিত্তিক প্রতিবেদনট প্রস্তুত করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঘিওরে নারী উদ্যোক্তা মেলা উদযাপন 

 মিজানুর রহমান খান কুদরত : মানিকগঞ্জে ঘিওর উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের নারী উদ্যোক্তা মেলা-২০২৫ উদযাপন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি)  দুপুর ১২ টার সময় উপজেলা পরিষদ মাঠ চত্বরে ৫ দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় মহিলা সংস্থার আয়োজনে এ  মেলার আয়োজন করা হয়।

মেলার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,বড়টিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল হোসাইন।

উক্ত মেলায় জেলা প্রশাসক ডক্টর মানোয়ার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রভাষ চন্দ্র রায়, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)। আরো উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরিন,সহকারি কমিশনার (ভূমি) নুরজাহান আক্তার সাথী,তৃণমূল পর্যায়ে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা গোবিন্দ পাল এবং  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী ও কর্মকর্তাসহ নারী উদ্যোক্তাগণ।

প্রধান অতিথি প্রভাষ চন্দ্র রায় মেলাটি উদ্বোধন শেষে উদ্যোক্তাদের নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

এ সময় তিনি নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়গের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী অর্জনে পরামর্শ প্রদান করেন। প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা এবং অধ্যাবসায় থাকলে যে কোন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারাও জীবনে সফল হতে পারবেন। তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, দেশে- বিদেশের সফল ব্যক্তিদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা এভাবেই ছোট ছোট উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

তিনি তার বক্তব্য শেষে, ৫ জন নারী উদ্যোক্তাকে ভাতার চেক ও ১৫ জন সফল উদ্যোক্তাদের সম্মান সূচক স্মারক প্রদান করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি