আজ , ।   
Home Blog Page 601

ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়রের শ্যালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার যত অপকর্ম ও নারী কেলেঙ্কারি

স্টাফ রিপোর্টার : ছাত্র-জনতার হাতে নারী সহকর্মীসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দফা-রফার মাধ্যমে ছাড়া পান তারা। এ ধরনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে শহরের চাঁন্দা সিনেমা হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাক আহমেদ তার কার্যালয়ের এক নারী কর্মীকে নিয়ে শহরের চাঁন্দা হল এলাকার একটি বাসায় অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল। সেসময় স্থানীয় ছাত্র-জনতা তাদের আটক করে। তখন নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাক মোটা অংকের টাকা দিয়ে দফারফা করে।ঝিনাইদহ পৌরসভায় কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তাক আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।পৌর প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়র কাইয়ুম শাহরিয়ার হিজলের আমলে ঝিনাইদহ পৌরসভা পরিচালনা করতেন যে ত্রিরত্ন। সাবেক মেয়র সাহেবের অগচরে এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। এখনো তাদের অপকর্ম চলমান। ধরা পড়ছে টাকার বিনিময়ে রক্ষাও পাচ্ছে। ঝিনাইদহ শহীদ মশিউর রহমান সড়কে জাহেদী ফাউন্ডেশনের জবেদা খাতুন একাডেমি নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অল্প দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যরতদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে বেশ সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে রুপ নিয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের অবিভাবকগণ তাদের সন্তানদেরকে নিয়ে চিন্তামুক্ত হয়েছেন।
কিন্তু সাবেক মেয়রের শ্যালক জবেদা খাতুন একাডেমির একজন শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি যত দ্রুত সুনাম অর্জন করেছে তার থেকে বেশি দ্রুত দূর্নামের তালিকায় নাম উঠছে বলে অভিভাবকেরা মনে করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মহিলা অবিভাবক বলেন, ” আমি আমার শ্বাশুড়িকে মেডিপ্লাস পেথলজিতে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে দেখি জবেদা খাতুন একাডেমির একজন শিক্ষিকা নাঈমকে এমন ভাবে সেবা করছে, যা সাধারনত স্ত্রী স্বামীকে করে।
এই অবস্থা দেখে একজন ভদ্রলোক শিক্ষিকাকে জিজ্ঞেস করলেন, “উনি কি আপনার বাড়িওয়ালা?” শিক্ষিকা উত্তর দিলেন, “না, উনি আমার পরিচিত।” এই কথা শুনে কয়েকজন ছেলে যে মন্তব্য করল তা বলা যায় না। তখন রাত ৯টা বাজে। অবিবাহিত মেয়ে শুধুমাত্র পরিচিত মানুষের সেবা করতে রাত ৯টায় আসা কতটা সমীচীন।” গত ১৬/১০/২৪ তারিখে ধরা পড়লে নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয় একজন মানুষের একধিক স্ত্রী থাকতেই পারে তাহলে আপনি কেন তাকে বিয়ে করছেন না , ” জবাবে নাঈন বলেন আমার স্ত্রী সন্তান আছে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানের আরেকজন অবিভাবকের বলেন, “চরিত্রহীন পুরুষ কিংবা মহিলা অন্য যেকোনো পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারে।
কিন্তু শিক্ষা পেশায় থাকাটা আমি মনে করি ঠিক না।”
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইলে জেলা আ.লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়ে,  নেতাদের বাসাও ভেঙে ফেলার ঘোষণা

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে তারা ভেকু মেশিন নিয়ে এসে শহরের মেইনরোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙা শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়। এতে ওই সড়‌কে যানচলাচল বন্ধ হ‌য়ে যায়।
জানা গেছে, বিপুল সংখ্যক ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসহকারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন। পরে ভেকু দিয়ে দলীয় কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেন। এ সময় ছাত্র প্রতিনিধি মারিয়ান মুকাদ্দাস মিষ্টিকে ভেকুর ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলের পাশেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইলের অন্যতম সমন্বয়কারী আল আমিনকে দেখা গেছে।
এদিকে, কার্যালয়টি ভাঙার পর একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি প্রয়াত ফজলুর রহমান খান ফারুকের বাসাও ভাঙচুর করে।
ছাত্র প্রতিনিধি মারিয়ান মুকাদ্দাস মিষ্টি বলেন, আমরা টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের কোনও অফিস রাখবো না। এখন আওয়ামী লীগ অফিস ভেঙেছি। আওয়ামী লীগের যত নেতা আছে, তাদের বাসাও ভাঙবো।’
ছাত্র প্রতিনিধি মেহেদি হাসান রিফাত বলেন, ‘যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ছিল। এই টাঙ্গাইলকে শাসন করে গেছে তাদের এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অফিসও ভেঙে ফেলবো। ফ্যাসিবাদের কোনও আস্তানাই বাংলায় রাখবো না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অন্যতম সমন্বয়ক আল আমিন কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানবীর আহমেদ জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
প্রসঙ্গত, এর আগে ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গাইবান্ধায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে উধাও এসিসিএফ ব্যাংক: দিশেহারা গ্রাহকগণ

রানা ইস্কান্দার রহমান:
মুনাফার আশায় তিন শতাধিক গ্রাহক আমানত হিসেবে ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন প্রায় তিন কোটি টাকা। শুরুতে মুনাফা পেলেও হঠাৎ করে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে ব্যাংকের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাাপকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স (এসিসিএফ) ব্যাংক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী তিন শতাধিক গ্রাহক।
জেলা সমবায় কার্যালয় সূত্র জানায়, আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক লিমিটেড সমবায় প্রতিষ্ঠান হলেও তারা ব্যাংকের মতো কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ কার্যক্রম বন্ধে সমবায় অফিস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আমানতকারীদের অভিযোগ, বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে আমানতকারীদের কাছ থেকে নলডাঙ্গা শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল বারি, একাউন্টেন্ট তাজুল ইসলাম ও সিনিয়র অফিসার বেলামিন হোসেন মিলে আমানত সংগ্রহ করেন। শুরুর দিকে মুনাফা দিলেও প্রায় মাস ছয়েক আগে থেকে তা বন্ধ করে দেন। মূলধনও ফেরত দিচ্ছেন না। সেসময় গ্রাহকদের দিনের পর দিন ঘোরানো হতো। এর পর গত তিনমাস ধরে শাখাটি তালা বদ্ধ। ব্যবস্থাপকসহ ওই শাখা সহযোগীরা এলাকা ছাড়া। উধাও হওয়ার পর কিছুদিন ফোনে কথা হলেও এখন আর ফোনই ধরছেন না। উল্টো আমনত কারীদেরকে নানা রকম হুমকি-হয়রানি করা হচ্ছে। গত ছয়মাস ধরে এ অবস্থা চলছে।
সরেজমিনে, সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গার ১নং রেলগেট এলাকায় সৌদিয়া মার্কেটের ২য় তলায় আজিজ কো-অপারেটিভকমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক লিমিটেডের ওই শাখায় গিয়ে দেখা যায় মূল ফটকে তালা ঝুলছে। কলাপ্সিবল তালাবদ্ধ গেটের ভেতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে টেবিল চেয়ার ও কাচে ঘেরা ব্যবস্থাপকের কক্ষ। নেই ভেতরে-বাহিরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটি থেকে আমানত ফেরত নেওয়ার জন্য শাখা কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সর্বানন্দ গ্রামের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী অমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বছর পাঁচেক আগে ৫ লাখ টাকা আমানত রেখেছিলাম। পরে কিছু কিছু করে কিসিত্ম ভিত্তিক টাকা তোলার পরে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা তারা আটকে দেয়। এই টাকা চাইলে তারা দেয় দিচ্ছি বলে তালবাহানা করে। একপর্যায়ে ব্যাংক বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।
শুধু আমিনুলই নয়। এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন পূর্বপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক ফকরুল ইসলাম, বিজিবি সদস্য দিদারম্নল আলম ও ব্যবসায়ী নাজমুল আলমসহ অনেক আমানতকারী। তারা বলেন, গত তিনমাস থেকে ব্যাংক বন্ধ রেখে ব্যবস্থাপক গা ঢাকা দিয়েছেন। এখন আর ফোনেও কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউকে পাচ্ছি না।
ভবনের মালিক মোত্তালেব হোসেন বলেন, ২০১৬ সালে মাসিক ৭ হাজার টাকায় ভবনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছি। ভাড়া ১০ মাসের বাকি আছে। বকেয়া টাকা ও ফ্ল্যাট বুঝে না দিয়ে তালাবদ্ধ করে তারা উধাও হয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক আব্দুল বারি ২০১৬ সাল থেকে ওই শাখায় কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে কথা বলতে তাঁর দশলিয়া গ্রামের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় অফিসার ফরিদ উদ্দিন সরকার বলেন, আজিজ কো-অপারেটিভ গাইবান্ধা জেলায় শাখা খুলে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে গ্রাহকদের এ ব্যাংকে লেনদেনের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম  

মুরাদনগরে অবৈধ ইটভাটা ভেঙে দিল এসিল্যান্ড

নাজমুল হাসান:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ৬ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার এ,বি সি নামের একটি ইট ভাটায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান।

উপজেলার ১৪ নং পূর্ব ইউনিয়ন বাখর নগর এলাকায় ইট প্রস্তুত, ও পরিবেশ আইন অমান্য করে অবৈধ উপায়ে  ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত করার অনুমোদনহীন এ,বি সি নামের একটি ইটভাটা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় এক লাখ টাকা জরিমানা ও ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়।

জানা যায়, ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন ২০১৯ এর আলোকে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত করার অপরাধে বাখরনগর এম.বি সি ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনা করেন মুরাদনগর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান। ইট ভাটার ৭০ ফুট লম্বা চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়। এসময় মালিকপক্ষকে নগদ ১ লক্ষ  টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) সাকিব হাসান খান। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে উপস্থিত ছিলেন সেনা সদস্যের একটি টিম ও মুরাদনগর থানা পুলিশ। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ফায়ার সার্ভিস ও কুমিল্লা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

এবিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান বলেন, অবৈধ ব্রিকস,কৃষি জমির মাটি এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে ।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধভাবে স্থাপিত এই ইটভাটার কারণে আমাদের এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। ধুলাবালি ও ইটভাটার ধোঁয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। যে কারণে অত্র এলাকার মানুষ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং শারীরিকভাবে জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম  

ফের ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা।
৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটির দ্বিতল ভবন ভাঙা শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করেন ছাত্রজনতা। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও ভাঙচুর করা হয়। এর আগে, গত ৫ আগস্ট বিকেলে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর ও দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা এমরান হোসেন জানান, ৫ আগস্টের পর কিছু দিন কাদের মির্জা ভবনটি পুনরায় সংস্কার করেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে এ অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। তবে হামলা ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলনা। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছে।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা কোম্পানীগঞ্জের অসংখ্য মানুষ ওবায়দুল কাদের এবং তার ভাই আব্দুল কাদের মির্জার ও তার বাহিনীর লোকদের দ্বারা অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব কারণে তাদের প্রতি যে ক্ষোভ জমেছিল, আজকের হামলা ভাঙচুর ওই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই হামলা ভাঙচুরে সর্বস্তরের ছাত্র জনতা অংশগ্রহণ করেছে।’ তিনি বলেন ভবিষ্যতেও যদি কোন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে ফ্যাসিস্টের আচারণ করেন, তাদের পরিণতিও একই রকম হবে।
যোগাযোগ করা হলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিমের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম  

ফটিকছড়িতে ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত বাড়ছে বিপর্যয়ের ঝুঁকি

মোঃ অলিউল্লাহ রহমানী: চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার অন্তর্গত ৪ নং ভূজপুর  ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডে দেখা দিয়েছে পানির সংকট
ভূগর্ভস্থ পানি হচ্ছে অদৃশ্য সম্পদের দৃশ্যমান প্রভাব।পানির প্রথমিক ও সহজলভ্য মূল্যবান উৎস হচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ পানি।ফটিকছড়িতে ভূ-গর্বস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের  শন্কা।মূলত নাগরিক চাহিদা পূরণ ও সেচ প্রকল্পে গভীর অগভীর নলকূপে মাএাতিরিক্ত ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে  প্রতি নিয়ত নাম নিচে নামছে পানির এ স্তর। জাতীয় পানি নীতি ১৯৯৯ সহ সরকারের অন্যান্য নীতিমালা উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত ভাবে শিল্পায়নের প্রভাব আর  ভূ-উপরিভাগের নদ নদী,খাল -বিল ও পুকুর ভরাট সহ উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পৌরএলাকায় ও গ্রামে গঞ্জে  নলকূপ  প্রায় অকেজো হয়ে পড়ছে।
আর গভীর নলকূপ গুলোতে উটছেনা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি।এমতাবস্থায় এবার উপজেলায় আগে ভাগে  খরা পরিস্থিতি সৃষ্টির হয়েছে।ফটিকছড়ি উপজেলার ৪নং-ভূজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যনাব শাহজান চৌধুরী শিপন বলেন, ফটিকছড়িতে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় নদী -নালা- খাল বিল পুকুর গুলো শুকিয়ে যাওয়ার।ফলে অনেক এলাকায় চাষাবাদে ভূ-উপরিভাগের পর্যাপ্ত স্বাভাবিক পানি মিলছে না।এমন পরিস্থিতিতে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের উপর নির্ভরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানির স্তর ইতিমধ্যে ১৫ থেকে ২০ফুট নিচে নেমে গেছে।তিনি প্রাকৃতিক পানির সংরক্ষণ সহ পুকুর দিঘীগুলোর পানি জনসাধারণের ব্যাবহার উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন। ভূজপুর পাবলিক হায় স্কুলের পরিচালক এম নিজাম উদ্দিন বলেন, শত শত নলকূপে উঠছেনা পানি, তাই সংশ্লিষ্টদের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছে।
এবিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার  নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন এমনিতেই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩৫  ফুটের নিচে নেমলে নলকূপে চাহিদা মত পানি উঠে না ।তাতে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক আবার পানির স্তর কোন কোন এলাকায় এখন ৪০ থেকে ৫০ ফুট নিচে নেমে গেছে। তাতে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দূর্যোগের শঙ্কা। সূত্র জানাই ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের দিক দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বর্তমানে চলছে বোরো মৌসুম।বোরো আবাদ পুরোটাই সেচনির্ভর।নদী- নালা- খাল -বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাওয়ার পাম্পে নাদী- নালার পানিতে সেচ এখন নেই বল্লেই চলে।ফলে নদী- নালায় ও খাল বিলের পাড়েও বসছে গভীর নলকূপ।খাবার পানি উঠছে গভীর নলকূপে।সেচযন্ত্র দিয়ে পানি উত্তোলনের ফলে মাটির নিছে পানির স্তরে মারাত্মক চাপ পড়ছে।ফলে সুপেয় পানির উৎসহ যেমন কমছে,তেমনি বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে কৃষিখাত। ভূ-গর্ভস্থ পানি স্তর  নিচে নেমে যাওয়ার ফলে বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়সহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি।ভূ-গর্ভস্থ পানিতে অশনিসংকেত দেখছেন গবেষকরা।
এমন এক শঙ্কা উদ্বেগের  এর মধ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও  ২২ মার্চ পালিত হবে বিশ্ব  পানি দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহিত এক প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতিবছর ২২ মার্চ পানি দিবস পালন করা  হয়ে থাকে।  দিবসটি পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।খাবার পানি সহ রান্না, গোসলও চাষাবাদের  পানির চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে।১৯৬৮সালে বাংলাদেশে গভীর নলকূপ বসানো শুরু হয় । তখন মাত্র ৩০থেকে ৪০ফুট নিচে নলকূপ  বসিয়েই পানি পাওয়া যেতো। আর এখন ১৮০ ফুট নিচেও পাওয়া যাচ্ছে না  পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি।
অথচ আগে এক যুগে থেকে ৬০- ৭০- ফুট নিচে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেতো। উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রেজানা যায়,স্বাভাবিক  নিয়মে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরটুকু খালি হয়, তা পরবর্তী সময়ে প্রাকৃতিক ভাবে পূরণ হয়ে যাওয়ার কতা। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত পানি উত্তোলণ ও অনাবৃষ্টির কারণে তা আর হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে প্রাকৃতিক দূর্যোগজনিত ঝুঁকি। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোলন ভূ- গর্ভস্থ ও উপরিস্থ   পানির মাত্রাতিরিক্ত,ব্যবহার জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ পানির প্রাকৃতিক উৎস সংরক্ষণ  করতে হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাগেরহাট প্রেসক্লাবে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

মাহমুদ কাজী : বাগেরহাটে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডাঃ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ নিয়ে ভোটার করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি প্রার্থী শেখ আসাদুজ্জামান।

বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সমন্বয়করা ৮৮ সদস্যর ভোটার তালিকা করে জমা দেন, কোন এক অজানা কারণে ৮৮ স্থলে ১৮৬ করে চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর শেখ আব্দুলা আল মামুন রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি সেজেছেন এখন ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। সে এলাকায় বলে বেড়াচ্ছেন টাকা থাকলে সব কেনা যায় আমি মামুন টাকা খরচ করে উপজেলা বিএনপির আহবায় ডাঃ হাবিবুর রহমান ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে এই ওয়ার্ডে বিএনপি সদস্য হয়েছি ও ৮৮ ভোটারের স্থলে আমার লোক ঢুকিয়ে ১৮৬ করিয়েছি। আমি এই ওয়ার্ডে বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হব। প্রয়োজন হলে ১০ লক্ষ টাকাও ব্যয় করতে হলেও করব। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, আমি এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ রহমান অমিত ও জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিঃ এটিএম আকরাম হোসেন নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি। এসময় ইপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ার বিএনপির সভাপতি কাজী হায়াত আলী, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সহ সাধারন সম্পাদক লোকমান হোসেন,সদর উপজেলা শ্যমিক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাদের, মোঃ আলতাফ হোসেন, মোঃ মুজিবর হোসেনসহ ওয়ার্ড বিএনপির ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দরা।

মোজাফ্ফর রহমান আলোম বলেন, আমি দীর্ঘদিন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম এবং কাড়াপাড়া ইউনিয়নে আমার নিজ বাড়ি আমি জানি এই ইউনিয়নে কারা বিএনপি করে আর কারা আওয়ামীলীগ করে। এই ১৮৬ জন ভোটারের বিরুদ্ধে যদি কেউ এক জনকেও আওয়ামীলীগের সদস্য প্রমান করতে পারে তাহলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সুধাসদনের আগুন আজও জ্বলছে

আলোকিত ডেস্ক:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গতকাল রাতে সুধাসদনে আগুন দেয়।  বৃহস্পতিবার দুপুরেও সুধাসদনে সেই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

দুপুরে ধানমন্ডিতে ৫/এ তে গিয়ে দেখা যায়— সুধাসদনের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলায় এখনও আগুন জ্বলছে। তৃতীয় তলায় আগুন নেই, তবে আগুনে পুরো ভবনটি উত্তপ্ত বয়লারে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মতো সুধাসদন থেকেও আসবাবপত্র, লোহা জাতীয় জিনিসপত্র ভেঙে নিয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নিচ্ছেন পানির পাইপ, আবার কেউ নিচ্ছেন এসির জিনিস। সুধাসদনের মধ্যে যা পাচ্ছেন তাই নিচ্ছেন ছিন্নমূল মানুষেরা। তবে সকাল থেকে সুধাসদনে ছাত্র বা শিক্ষার্থীদের কারো দেখা যায়নি। শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল রাতে শেখ হাসিনার বাসভবন সুধাসদনে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতেও।  নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনে যোগদানের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টার দিকে ‘লং মার্চ টু ধানমন্ডি-৩২’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স।

এ ছাড়া সন্ধ্যায় ‘ছাত্র-জনতা আন্দোলন’ নামে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

হাসিনার বিচারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। অভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার এবং নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে  ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন। আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’ এ সময় কয়েকজনের হাতে নিহতদের ছবি এবং ন্যায়বিচারের আহ্বান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। কেউ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতা এবং অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তারা শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করারও আহ্বান জানান।

অবরোধকারীরা বলেন, আমরা গণহত্যার বিচার এবং সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে অনেকের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছি, কিন্তু সহানুভূতির পরিবর্তে পেয়েছি অবহেলা ও অসম্মান।

ছবি২

জুলাই গণহত্যায় চলমান বিচারিক কার্যক্রমের সমালোচনা করে নিহতদের পরিবার বিষয়টিকে ‘সার্কাস’ বলেও অভিহিত করেন। তারা বলেন, মারাত্মক ক্র্যাকডাউনের আদেশ দানকারী এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী অনেকেই এখনও বিচারের সম্মুখীন হয়নি। অধিকাংশ অপরাধী প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এটা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অপমান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ মোড় না ছাড়ারও ঘোষণ দেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের দাবিগুলো হলো– প্রতিটা হত্যার বিচারের লক্ষ্যে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, ১০ দিনের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করতে হবে; শহীদ এবং আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে; শহীদ পরিবারের দ্রুত পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; শহীদ পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায্য সম্মানী দিতে হবে; শহীদ পরিবারের জন্য দ্রুত মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং শহীদদের বীরের মর্যাদা দিতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬ফেব্রুয়ারি-২৫/মওম

বহুদলীয় গণতন্ত্রই বর্তমান সমস্যার সমাধান

কলাম..
ড. এস.এম. শাহান শাহ্ শাহীন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সেই সময়কার যাবতীয় রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় ও গণতন্ত্রের প্রতি এই জনগোষ্ঠীর স্পৃহা ফুটে উঠেছিল।
মত প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা সভ্য সমাজের মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। যার প্রমাণ আমরা পাই ইতিহাসের পরতে পরতে বিভিন্ন যুদ্ধ, অভ্যুত্থান আর বিপ্লব গাঁথায়। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যে মতামত প্রতিফলিত হয়েছিল তার বাস্তবতা যখন তৎকালীন পাকিস্তানী শাষকগোষ্ঠী বুঝতে ব্যর্থ হয় তখনই পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তীব্র আকার ধারণ করে।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত সেই সময়কার যাবতীয় রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় ও গণতন্ত্রের প্রতি এই জনগোষ্ঠীর স্পৃহা ফুটে উঠেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তৎকালীন পাকিস্তানী ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী যদি নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারতো, তাহলে হয়তো স্বাধীনতার ইতিহাস ভিন্নভাবে, ভিন্ন সময়ে বিনির্মাণ হতো।এই ভুখণ্ডের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার তাগিদ অত্যন্ত প্রবল। এই ব্যাপারটি ১৯৫৪ এর নির্বাচন লক্ষ্য করলে স্বতস্ফুর্ততা বুঝা যায়। আবার ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মৌলিক গণতন্ত্রের প্রতিও মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ ছিলো লক্ষ্যণীয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল নীতি গণতন্ত্র থাকলেও তা ১৯৭৩ এর নির্বাচন থেকেই গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো শুরু করেছিল। ১৯৭৩ সালে ডাকসু নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাইও ছিল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। যে গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সেই গণতন্ত্র মানুষ কোথাও খুঁজে পেল না। রিবোধী দলের কোন স্পেস ছিলো না। ১৯৭৩ সালে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব আতাউর রহমান খানকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার মর্যাদা দেয়া হয়নি। ১৯৭৩ এর নির্বাচন ছিলো মারাত্নকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ভোলার ডা. আজহার উদ্দিন আহমেদ সহ অনেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি। কুমিল্লায় ইঞ্জি. রশিদ, ঢাকায় মেজর জলিল সহ সারাদেশে শতাধিক জাসদ প্রার্থীকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছিল। ভাসানী ন্যাপ, মোজাফফর ন্যাপের কোন প্রার্থীকে জিততে দেয়া হয়নি।১৯৭৩ এর সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন সরকারী দল আওয়ামী লীগ অহেতুক মেরে কেটে জিতেছিল ২৯৩টি আসন, জাসদ-১টি, জাতীয় লীগ- ১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ ৫টি। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সকল দল বাতিল করে বাকশাল কায়েম এবং ৪টি বাদে সকল সংবাদপত্র বাতিলের মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও বাকশাল প্রধান শেখ মুজিবর রহমানের স্ব-নির্ধারিত নির্মম পরিণতি ঘটে। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ এর বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট হলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহ সহ, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধান রেডিও ভাষণে খন্দকার মোশতাক এবং তার সরকারকে সমর্থন প্রদান করেন। বঙ্গভবনে সেদিন সন্ধ্যায় যারা মন্ত্রী হলেন প্রায় সবাই ছিলেন বাকশালের সদস্য। খন্দকার মোশতাকের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক ৭৮ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। এক পর্যায়ে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর তৎকালীন সিজিএস ব্রিগ্রেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এর নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে দেয়া হয় এবং প্রধান বিচারপতি সায়েম এর নেতৃত্বে সামরিকশাসন জারী করা হয়। ক্যান্টনমেন্টে নিজ বাসভবনে বন্দী হন তৎকালীন নবনিযুক্ত সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান।
স্বঘোষিত সেনাপ্রধান খালেদ মোশাররফ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন, সরকার গঠন নিয়ে বিলম্ব করছিলেন। চারিদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, খালেদ মোশাররফ ভারতীয় মদদে ক্ষমতা দখল করেছেন। অপরদিকে ক্যান্টনমেন্টগুলোতে এমন একটি ধারণা হয় যে বারবার সামরিক কর্মকর্তাগণ বিপ্লব, প্রতি বিল্পবের মাধ্যমে ক্ষমতা বদল করেছেন, সিপাহীদের ভাগ্য পরিবর্তন এর কোন উদ্যোগ নেই। ৬ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে সিপাহীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। তারা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান মিছিল শুরু করে, ঢাকার রাজপথে, তখন সিপাহী জনতা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর ট্রাকে গাড়ীতে করে শহরে আনন্দ উল্লাস করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিপ্লবী সৈনিকদের হাতে খালেদ মোশাররফ নিহত হন।বন্দী সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করেন একদল সিপাহী, জেনারেল জিয়া ক্ষমতার পাদপ্রদীপে চলে আসেন। মুক্ত জিয়া ডিসিএমএল. এর দায়িত্ব নিয়ে দেশ রক্ষায় আত্ননিয়োগ করেন, জাতীয় জীবনে বিভিন্ন সংকটে এগিয়ে আসেন। ১৯৭৬ সালে ২৯ নভেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ১৯৭৭ সালে ২১শে এপ্রিল বিচারপতি সায়েম এর পদত্যাগ এর প্রেক্ষিতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বির্নিমানে তাঁর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় রাজনৈতিক দল গঠন এবং সীমিত রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি প্রদান করা হয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জনসাধারণের সুখ ও সমৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় সংহতি সুদৃঢ়করণ ও সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিকে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যা ছিল সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূলমন্ত্র।গণতন্ত্র উত্তোরণের একটি পর্যায় ছিলো ১৯৭৮ এর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান জাগদল সহ ৬টি রাজনৈতিক দল যেমন ভাসানী ন্যাপ, ইউ পি.পি, মুসলীম লীগ, লেবার পার্টি, তফসিলী ফেডারেশন, মূল প্রতিদ্বন্ধী গণতান্ত্রিক ঐক্য জোটের প্রার্থী হিসেবে জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী, আওয়ামী লীগ, জাতীয় জনতা পার্টি, মোজাফফর ন্যাপ, পিপলস লীগ, গণ আজাদী লীগ, সিপিবি ও নাগরিক কমিটির সমর্থন পেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমানের মার্কা ছিলো ধানের শীষ, জেনারেল এম.এ.জি ওসমানীর মার্কা ছিলো নৌকা। জিয়াউর রহমান বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণ তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় যথার্থভাবে। তিনি প্রায়ই উচ্চারণ করতেন “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস”। তাই রাষ্ট্রপতির আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে জিয়াউর রহমান বিলুপ্ত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা চালু করেন।১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ২য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার সমর্থিত দল, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৭ টি আসন লাভ করেছিলো। বাকী ৯৩ (তিরানব্বইটি) আসন লাভ করেছিলো তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীগণ। আওয়ামী লীগ মালেক ৩৯টি, আওয়ামী লীগ মিজান ২টি, জাসদ ৮টি, মুসলিমলীগ ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি, মোজাফফর ন্যাপ ১টি, গণফ্রন্ট ২ টি, জাতীয় লীগ ২টি, মার্কসবাদী কমিউনিষ্ট পাটি ১টি, জাতীয় একতাপার্টি ১টি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ১টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৬টি আসনে জয়লাভ করেছিলো।
১৯৭৯ এর জাতীয় সংসদে সরকারী দল সহ বিভিন্ন দলের অনেক অভিজ্ঞ, গুনী রাজনীতিবিদ, পেশাজীবি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হয়েও জিতে ছিলেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের উল্লেখযোগ্য সংসদ সদস্য ছিলেন সর্বজনাব মশিউর রহমান যাদুু মিয়া, শাহ আজিজুর রহমান, কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, খান. এ. সবর, আতাউর রহমান খান, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, সংবাদ সম্পাদক আহ্মেদুল কবির, প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ লেখক আবুল মনসুর আহমেদ, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, মীর্জা গোলাম হাফিজ, এসএ বারী এটি, ড. আর. এ. গনি, এমরান আলী সরকার, মীর্জা আব্দুল হালিম, মিয়া মোহাম্মদ মনসুর আলী, তরিকুল ইসলাম, মেজর জেনারেল (অবঃ) মাজেদুল হক, শেখ রাজাক আলী, মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, সুনীল গুপ্ত, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, শাহজাহান সিরাজ, বিচারপতি টি. এইচ খান, শামসুল হুদা চৌধুরী, ফনি ভূষণ মজুমদার, কে.এম, ওবায়দুর রহমান, এম. সাইফুর রহমান, নাজিম কামরান চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংবাদিক আহমদ নজির, ইঞ্জি. এল. কে সিদ্দিকী, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ প্রমুখ।সংরক্ষিত নারী আসনে ছিলেন মিসেস আমিনা রহমান, শাহিনা খান, খালেদা রব্বানী, ফরিদা রহমানদের মত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ভদ্র মহিলাগণ। প্রকৃতপক্ষে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য ২য় জাতীয় সংসদ ছিলো একটি তারকা খচিত পার্লামেন্ট। এটাই ছিলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বহুমত এবং পথে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদগণ তাদের হৃত মর্যাদা ফিরে পেয়েছিলেন। সহজেই অনুমেয় যেখানে ১৯৭৩ সালে বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলো মাত্র ৭টি আসন, সেখানে ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছিলো ৯৩টি আসন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হিসেবে বিদেশে এবং আন্তজার্তিক সংস্থাগুলোতে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাৎবরণ, ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ জেনারেল এরশাদ কর্তৃক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার ফলে বহুদলীয় গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে।দীর্ঘ প্রায় নয় বৎসর গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রামের ফলে ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থান ছিলো মূলত মানুষের ভোটের অধিকার করে প্রতিষ্ঠার জন্য। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার তৎকালীন জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৯২ সালে সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকার জনগণের দাবীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তভুর্ক্ত করে। ২০১১ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার সংবিধান থেকে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করে। যা ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ হাইকোর্টের রায়ে পুর্ণবহাল করা হয়।  রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা অবশ্যই বলবেন যদি নিয়মিত তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনভার পরিবর্তন হতো তাহলে গত ১৫ বৎসর দেশে এরকম একটি ফ্যাসিস্ট ও দানবীয় শাসন ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটতো না। ১৯৫৪ এর নির্বাচন, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭৮ এবং ১৯৭৯ এর নির্বাচন, ১৯৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯২ এর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রণয়ন, ১৯৯৬ এর তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রনয়ন, সর্বশেষ ২০২৪ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সব কিছুর মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাষ্ট্রপরিচালনায় জনমতের অংশগ্রহনের আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান ছিলো। বিএনপি সহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী, দলগুলোর শীষর্যায় থেকে শুরু করে সকলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নির্যাতন ভোগ করেছে, জীবন দিয়েছে মামলা, হামলা ও আর্থনৈাতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অন্তরের তীব্র স্পৃহা ও প্রতিশ্রুতি থেকে। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এবং শুভাকাংখী রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র মেরামত এর ৩১ দফা প্রস্তাব প্রণয়ন করেছেন এবং সমর্থনে জনমত তৈরী করছেন।তার মর্মকথা কিন্তু মূলত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। লক্ষ্যনীয় যে জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের অংশগ্রহনকারী এবং নবাগত সকল রাজনৈতিক দল ও শক্তি সকলেই গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের ফসল শান্তিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. ইউনুস এর নেতৃত্বাধীন আন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দ্রুত জরুরী সংস্কার সম্পন্ন করে যথাশীঘ্র সম্ভব একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। রাজনৈতিক বাগানে শতফুল ফুটতে দিতে হবে, জনগণ বাছাই করে নেবে কোনটি তাদের বেশী পছন্দ। আমরা বলতে পারি সবকিছুর পরে, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চর্চাতেই রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুসংহতকরণ এবং স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।
লেখক: গবেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক