ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারীর শ্লীলতাহানীর মামলায় তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি-উত্তর)। ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের মো. বদর উদ্দিন শেখের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল ওরফে মুহিত(২৯), শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. ইসমাইল মোল্লার ছেলে মো. সবুজ(৩০) এবং ঢাকা জেলার সাভার থানার টানগেন্ডা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. শরীফুজ্জামান ওরফে শরীফ(২৮)।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি-উত্তর) অফিসার ইনচার্জ মো. এবিএমএস দোহা, ডিবি-দক্ষিণের অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আহসানুজ্জামান, এসআই নাফিউল ইসলাম ও এসআই সুদীপ বাছাড়সহ একদল চৌকষ গোয়েন্দা সদস্য গুপ্তচরের সদস্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে শুক্রবার রাতে ঢাকা জেলার সাভার মডেল থানার গেন্ডা এলাকা থেকে উল্লেখিত তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ছুরি, মোবাইল ফোন ও নগদ ২৯ হাজার ৩৭০ টাকা জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে ইউনিক রোড রয়েলসের ‘আমরি ট্রাভেলস’ নামক একটি বাসে ডাকাতি ও নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় মির্জাপুর থানায় এমটি মামলা(নং-১৭(০২)২৫) দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা পুলিশ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলামকে পাঁচ দিন করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের(রিমান্ড) আবেদন করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। অন্য দুজন আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানায় একটি ও ঢাকার সাভার মডেল থানায় একটি বাস ডাকাতির মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আহসানুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের মধ্যে সবুজ ও শরীফুজ্জামান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অপর আসামি শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের অধিকতর জিজ্ঞাসাবের(রিমান্ড) আবেদন করা হবে।
ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতির সময় কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তিনি জানান, নারীদের কাছ থেকে কিছু স্বর্ণ-রূপা লুণ্ঠিত হয়েছে। দুষ্কৃতকারী ডাকাত দল নাকফুল কানের দুল নেওয়ার সময় নারীদের টাচে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এটা আমরা জানতে পেরেছি। শ্লীলতাহানি বলা যেতে পরে। ২২ ফেব্রুয়ারি শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব কথা জানান।
প্রকাশ, এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিনগত মধ্যরাতে আমরি ট্রাভেস নামক বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসের যাত্রীরা জানায়, সোমবার রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসটিতে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কয়েকজনকে রক্তাক্ত করে ডাকাতি শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাসটিকে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে ডাকাতি ও নারীর শ্লীলতাহানি করার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে ডাকাতদল নেমে যায়। ডাকাতরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে যাত্রীদের চাপের মুখে চালক বাস নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর যাত্রীরা বাসটি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় নিয়ে যান। এসময় ডাকাতিতে জড়িত সন্দেহে বাসের চালক বাবলু আলী (৩০), সুপারভাইজার সুমন ইসলাম (৩৩) ও হেলপার মাহবুব আলমকে (২৮) আটক করে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে নাটোর আদালতে পাঠায় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। বুধবার(১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অবশেষে ঘটনার তিনদিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে মির্জাপুর থানায় ওমর আলী নামে এক যাত্রী মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে থানার দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হতে বলা হয়েছে।
অদ্য ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ইং তারিখে সারাদিন ব্যাপী কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে তারুণ্যের উৎসব উদ্যোক্তা মেলা, বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব-২০২৫ ইং আয়োজন করা হয়েছে সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে । উক্ত অনুষ্ঠানে কলেজ মাঠেই বিভিন্ন পিঠা ঘর, বইয়ের স্টল এবং কনসার্টের আয়োজন করা হয়, শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাসে করে উক্ত অনুষ্ঠানকে বরণ করে নেয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ ফারুক হোসেন ও সদস্য সচিব মোঃ সোহাগ হোসেন এর নিমন্ত্রণে কুমিল্লা সরকারি কলেজ ছাত্রদল এর সাবেক সভাপতি এবং কুমিল্লা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা রায়হান চৌধুরী সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম রাজীব কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের প্রথম কমিটির যুগ্ন আহবায়ক কানাই রবি দাস কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মামুন হাসান, আতিকুর রহমান ভূঁইয়া প্রচার সম্পাদক আল-আমিন হোসেন অন্তর সহ বর্তমান যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ রিয়াদ, যুগ্ন আহবায়ক সাইদুল ইসলাম রিমন সহ কুমিল্লা সরকারি কলেজের সাবেক কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব ২০২৫ পরিদর্শন করেন এবং কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দদের সাথে আলোচনা করেন এবং নতুন কর্মীদের উদ্দেশ্যে রায়হান চৌধুরী (সাবেক সভাপতি) সবার উদ্দেশ্যে বলেন শিক্ষার কোন বিকল্প নাই শিক্ষার মাধ্যমে আমাদেরকে সুন্দর করে চলতে হবে, ভালো আচার ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মন যোগাইতে হবে। তিনি আরো বলেন শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মনোরঞ্জন করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময় শিক্ষামূলক কর্মকান্ড চালাতে হবে, শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে কোন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকবে তেমন কাউকে রাখা যাবে না শিক্ষাঙ্গনে এবং কাউকে অপরাধ করতে দেওয়া যাবে না শিক্ষাঙ্গনে।
পরিশেষে তিনি এ আয়োজনকে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার জন্য শিক্ষার্থীদের সাধুবাদ ও শুভকামনা জানান।
অর্ণব দাশ, ভারতঃ দিন-পঞ্জিকার পাতায় আজ ২১শে ফেব্রুয়ারী।মস্তিষ্ক জানান দেয় আজ মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।১৯৫২ সালের আজকের এই দিনে পাক-হানাদার বাহিনীর বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন,যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পেয়েছে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার,সেসব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,আমি কি ভুলিতে পারি / ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু,গড়ায়ে ফেব্রুয়ারি / আমার সোনার দেশের,রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ এই গানটি যেন আমাদের অস্তিত্বের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।দিনের প্রথম প্রহরে সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচিত এই গানটি গেয়ে প্রভাতফেরীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ণাঢ্য আয়োজন।
বিশ্বের ১৮৮টি দেশে নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে এই গৌরবময় দিনটি।তবে ১৯৫২ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয় কেবলমাত্র বাংলাদেশে।পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের চন্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৫২’র ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজন করা নানান কর্মসূচির।দিনের শুরুতে প্রভাতফেরী ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনে ছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একক ও দলীয় নৃত্য পরিবেশনা,গান,আবৃত্তি।পরবর্তীতে সচেতনতামূলক মঞ্চ নাটক ও বাংলা ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এই আয়োজনের।উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর (ড.) বিনয় কুমার মিত্তল,ই-গভর্নেন্সের সহকারী পরিচালক ড. জগদীপ সিং সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
দেশের বাইরে থেকেও এমন আয়োজনের অনুভূতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিতা চক্রবর্তী ও পূজা চক্রবর্তী বলেন,এবছরের মাতৃভাষা দিবসটা একটু অন্যরকম কেটেছে।আমরা চণ্ডীগড় ইউনিভার্সিটিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছি।প্রভাতফেরী শেষে আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।এরপর সমবেতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করি,যা মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বাঙালি শিক্ষার্থী মিলে গান ও নৃত্য পরিবেশন করি, যা অনুষ্ঠানে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে।নিজের দেশ থেকে দূরে থাকলেও,এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেন স্বদেশের আবহ অনুভব করেছি। এটি ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা,যা আমাদের হৃদয়ে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে।
অর্ণব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন,আমাদের এই মাতৃভাষা দিবসের মতো গৌরবময় দিনের এমন আয়োজনের জন্য আমি প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই চন্ডীগড় ইউনিভার্সিটি কতৃপক্ষ কে।পরবর্তী কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই জাবেদ ভাই,প্রিন্স ভাই এবং আবদুল্লাহ ভাই সহ যাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফলে আমরা আজ সফল একটা আয়োজন করতে পেরেছি।এই আয়োজন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশের জন্য আসলে বলে শেষ করা যাবে না।দেশের বাইরে থেকেও আমরা উপলব্ধি করেছি এবং অন্যান্য দেশ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের কাছে আমাদের মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নানান কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
সাংবাদিক মুহাম্মদ সেলিমের বহুল প্রতীক্ষিত বই ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার গভীরে এক অনুসন্ধিৎসু যাত্রা নিয়ে লেখা এই বইটি অমর একুশে বইমেলায় এসেছে।
বইটি সম্পর্কে জানতে সরাসরি মুহাম্মদ সেলিম এর সাথে দেখা করেছেন দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও অনলাইন চীপ মুহাম্মদ আবু আবিদ। সৌজন্য সাক্ষাৎ এর এক পর্যায়ে মুহাম্মদ আবু আবিদ বলেন, ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল জায়গাটা নিয়ে আগ্রহের জায়গা ছিল। জায়গাটি নিয়ে আমার কৌতূহল ছিল অনস্বীকার্য। এক কপি আমি সংগ্রহ করেছি। আজ রাতেই এটি পড়ার ইচ্ছা আছে। এই সম্পূর্ণ বইটিই রহস্যে ঘেরা। অদ্ভুত একটা জায়গার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এক কথায় অসাধারণ একটি বই “ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল” বলে আমি বিশ্বাস করি।
‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ বইটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক পাচার এবং মানবিক বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের ত্রিদেশীয় সীমান্তের রহস্যময় অঞ্চল, যা ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ নামে কুখ্যাত, সেই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার স্বরূপ উম্মোচন করবে।
১০টি অধ্যায়ের এই গবেষণাধর্মী বইটিতে লেখক ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ নামক ত্রিদেশীয় সীমান্তে বিরাজমান অপরাধ জগৎ, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠন, মাদক উৎপাদন ও পাচার, অস্ত্র ব্যবসা, এবং সর্বোপরি এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার সংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন।
সাংবাদিক মুহাম্মদ সেলিমের বই “ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল”
বইটিতে লেখক দক্ষ সাংবাদিকতার নিরিখে তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ অঞ্চলটি কেবল ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ নয়, এটি অপরাধ ও অস্থিতিশীলতার এক জটিল কেন্দ্র।
‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেলের বাংলাদেশ অংশ’, ‘রাখাইন রাজ্যে নতুন সমীকরণ’, ‘রোহিঙ্গা কারা’, ‘রাখাইনে যত সংগঠন’, ‘আরাকান আর্মি (এএ)’, ‘স্যাম গর’ – ‘দ্যা কোম্পানী’, ‘হরকাতুল ইয়াকিন থেকে আরসা’ এবং ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন’- অধ্যায়গুলোতে লেখক এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার পেছনের কারণগুলো উম্মোচন করেছেন এবং এই জটিল সমস্যার সমাধানে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
বইটিতে সংযোজিত বিশেষজ্ঞ সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন বাংলাদেশের মাদকের বাজারের ভয়াবহ চিত্র এবং ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল থেকে আসা মাদকের প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে।
লেখক মুহাম্মদ সেলিম, পেশাদার সাংবাদিক, লেখক এবং গবেষক। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে দেশের শীর্ষ জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার ও চট্টগ্রাম ব্যুরোর ডেপুটি চিফের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তাঁর তিনটি গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর গ্রন্থনা ও পরিচালনায় ৪০টি প্রামাণ্যচিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রসহ একাধিক টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়েছে।
অনুসন্ধানী এবং ভিন্নধর্মী প্রতিবেদনের জন্য দেশজুড়ে খ্যাতিমান এই সাংবাদিক, ভ্রমণ ও বই পড়তে পছন্দ করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশ সেরা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বর্ষসেরা রিপোর্টার নির্বাচিত হয়েছেন একাধিকবার। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য জাপান থেকে পেয়েছেন ‘ফেস অব দ্যা ইয়ার-২০২৩ পুরস্কার।
‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ বইটি কেবল একটি তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থই নয়, এটি এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার পেছনের কারণগুলো উম্মোচন করার এক সাহসী প্রয়াস। বইটি গবেষক, সাংবাদিক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য এক অপরিহার্য পাঠ।
একেএম ফারুক হোসেন : নোয়াখালী সদর উপজেলায় কালাধরাপে হযরত শাহ সুফি আইউব আলী (রা:)দরবেশের মাজারে বাৎসরিক ওরস শরীফকে কেন্দ্র করে মাজার শরিফ বিরোধী সন্ত্রাসী হামলা ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, সদর উপজেলার ৯নং কালাদরাপ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মুন্সীতালুকে শাহ সুফি আইউব আলী দরবেশ (রহঃ) মাজার শরিফে দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে বাৎসরিক ওরস শরীফ উদযাপন হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০.২১ ও ২২শে ফেব্রুয়ারি ৬৬৬ তম বাৎসরিক পবিত্র ওরস শরীফ উদযাপনকে কেন্দ্র করে মাজার শরিফ পরিচালনা কমিটির পক্ষে জিকির মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় স্থানীয় মাজারের নিকটস্থ মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েক হাজার লোকজন জোড়ো হয়ে প্রকাশ্যে হযরত শাহ সুফি আইউব আলী দরবেশের মাজারে হামলা,অগ্নিসংযোগ ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর আগে মাজার কমিটির লোকজন হামলা ও ভাংচুর থেকে বাঁচতে নোয়াখালী আর্মি ক্যাম্পে খবর দিলে তাৎক্ষণিক সুধারাম থানা পুলিশ ও প্রায় ৩০ সদস্য বিশিষ্ট সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা ভাংচুর ঠেকানোর চেষ্টা করেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
মাজার শরিফের প্রধান মোতাওয়াল্লী মোঃ জামাল উদ্দিন আল মাইজভান্ডারি সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মোজাম্মেল হোসাইন, তারেকুল ইসলাম তারেক, এসকে সুজন, মোঃ নোমান, মুন্সীতালুক জামে মসজিদের সভাপতি মোস্তাফা মাষ্টার ও শায়েস্তা মিয়া,কালাদরাফ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক আরাফাত হোসেন, মান্দারতলী হেদায়েত নূর জামে মসজিদের সভাপতি মোজ্জামেল হোসেনসহ কতিপয় উগ্রবাদী মতবাদের ব্যাক্তিদ্বয় সোসাল মিডিয়াতে মাজার শরিফ ভাংচুরের পূর্ব ঘোষণা দিয়েই মাজারের ওরসে আতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।হামলায় মাজারের মোতোয়াল্লি জামাল উদ্দিনের গর্ভবতী স্ত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়।এসময় হামলাকারীরা মাজার শরীফে শায়িত সূফী সাধক আইয়ুব আলী (রা:) দরবেশের রওজা ভেঙে দেয়।মাজারের পাশে ভক্তদের জন্য নির্মিত একটি টিনের ঘরও ব্যপক ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।
হামলাকারীরা ওরশ উপলক্ষে আনা গরু, ছাগলসহ মূল্যবান টাকা পয়সা লুটপাট চালাতে থাকে।স্হানীয়রা কেউ কেউ এসময় বাঁধা দিতে আসলে তাদেরও হামলার শিকার হতে হয়।স্হানীয়রা আরো অভিযোগ করে জানান,মাজারের ওরশ শরীফে হামলার হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছিল গ্রুপটি।ওরশে আমরা,আমাদের পিতা,এবং তাদের বংশধরেরা বহু আগে থেকে পালন করে আসছে।ওরশ উপলক্ষে এখানে আল্লাহর জিকির,মিলাদকিয়াম ও গরীব মানুষকে গরুর মাংস দিয়ে তোবারক বিতরণ করা হয়।কিন্তু এই হামলার মধ্যে দিয়ে সব কিছু শেষ করে দেওয়া হয়েছে।হামলাকারীদের কঠোর বিচার দাবী করছে স্হানীয়রা।
হামলার ঘটনায় সুধারাম মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা শিক্ষা অফিসের মিলনায়তনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় শিশুদের চিত্রাংকন বিষয়ে অংশ নেয়। এসময় উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা সায়মা সাবরিন,শিক্ষা অফিসের মো.মহিউদ্দিন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহরীমা সুলতানা, সাংবাদিক মোঃ শফিকুর রহমান,সরাইল রিপোর্টার্স ইউনিটি সাধারন সম্পাদক মো. তাসলিম উদ্দিন, উপজেলা মৎস্য অফিসের মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্হিত ছিলেন।
২১ শে ফেব্রুয়ারী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর জেলা ত্রান গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্য কেন্দ্রে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন এবং জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় এই দোয়া এবং মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন সহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে ভাষা আন্দোলনে সকল শহীদদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন কালেক্টর মসজিদের ইমাম মাওলানা মোস্তাকিন বিল্লাহ।
পড়ার সবচেয়ে প্রাচীন, জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে বই। বই জ্ঞানের আধার। পৃথিবীর সকল জ্ঞান বইয়ের পাতায় ঘুমিয়ে থাকে। কোনো পাঠক যখন বইয়ের পাতা খোলে তখন ঘুমন্ত জ্ঞান জেগে ওঠে, কথা বলতে শুরু করে পাঠকের সাথে।
২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে জমকালো আয়োজনে শুরু হলো দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনদিন ব্যাপী ‘দেবিদ্বার স্টুডেন্ট ফেস্ট’ চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই প্রথম দেবিদ্বারে ব্যাতিক্রম ধর্মী বই মেলা চমৎকার এবং নান্দনিকভাবে আয়োজন করছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। বই মেলায় থাকছে সায়েন্স ফেস্ট এবং অ্যাক্টিভিটি জোন, গুণীজন সংবর্ধনা, বিয়ন্ড দ্যা ক্লাসরুম ব্যাটেল, উদ্যোক্তা মেলা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন। দেবিদ্বার স্টুডেন্ট ফেস্ট মোট ৩৯ টি স্টল রয়েছে। স্টুডেন্ট ফেস্ট উপলক্ষে বইমেলার পাশাপাশি মেডিকেলে পড়ুয়া দেবিদ্বারের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা স্টল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এ মেলায় অংশ গ্রহণ করছে। এই মেলা থেকে দেবিদ্বারের বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন সম্পর্কে নানাবিধ দিকনির্দেশনা নিতে পারবেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন। যে স্বপ্নে তোমাকে ঘুমাতে দিবে না। অভিভাবকদের বলছি, আপনরা আপনাদের সন্তানদের এ মেলায় নিয়ে আসুন সবগুলো স্টল ঘুরিয়ে দেখান। এবং মেলা থেকে বের হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করুন আপনারা সন্তান এই ফেস্ট থেকে কি শিখতে পেরেছে। আমি বলব আপনারা স্বপ্নটাকে বড় করে দেখুন, ওই স্বপ্নে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আমরা তোমাদের সহযোগিতা করব।’
আরো বক্তব্য দেন, ফ্রিল্যান্স ইনভেস্টগেটিভ সাংবাদিক সাইদ আবদুল্লাহ, এসিএস ফাউন্ডার নুমেরী সাত্তার অপার। ফেস্টের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবুল হাসনাত খাঁন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, দেবিদ্বার (সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামদুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াস।
স্টুডেন্ট ফেস্ট’-এর প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন, সাঈদ আব্দুল্লাহ ও নুমেরী সাত্তার অপার এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আসিফ আকবর। দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত থাকবেন আয়মান সাদিক ও সালমান মুক্তাদির এবং সর্বশেষ দিনে উপস্থিত থাকবেন ড. তাসনিম জারা, ড. নাদিম চৌধুরী ও সাবিত রায়হান।
বইমেলার কেন্দ্রবিন্দু হলো বই। যুগ যুগ ধরে যা জ্ঞান বিতরণের মহাদায়িত্ব পালন করে আসছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসের সঙ্গে বদল হয়ে বইয়ের ধরন। কিন্তু বদলায়নি বইয়ের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। নতুন-পুরোনো লেখক-কবি-প্রকাশক, মেলার দর্শক সবাই উপস্থিত হয়। বইমেলায় আসা থেকে শুরু করে বই বিক্রি করাই শেষ কথা নয় অথবা মেলার সার্থকতা নয়। মিলনমেলায় সবাই একত্র হওয়াটাই উদ্দেশ্য।
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের অবিস্মরণীয় একটি অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমি এই দিনে সব শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। রক্ত রাঙা ২১শে ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। এ দিনেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, তাদের এই মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে রচিত হয়েছে আমাদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রথম সোপান। ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এখন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। বায়ান্ন সালের ২১শের রক্তাক্ত পথ ধরেই এ দেশের গণতান্ত্রিক এবং স্বাধিকারের সংগ্রামে অর্জিত হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় স্বাধীনতা।
দেশ স্বাধীন হলেও নতুন করে নানাভাবে আধিপত্যবাদী শক্তি আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালানোর ষড়যন্ত্র করে আসছে বলে উল্লেখ তরে তারেক রহমান বলেন, মহল বিশেষের তাবেদারির জন্য আমরা বিশ্ব সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি না। কিন্তু এ দেশের মানুষ সবসময় স্বৈরাচার এবং দেশি-বিদেশি কুচক্রীদের অদম্য সাহসে প্রতিহত করে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষকে আটকিয়ে রাখতে না পারে এজন্য ন্যায়বিচার, মানবিক সাম্য তথা প্রকৃত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী এবং চিরস্থায়ী করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রকে যাতে আর কেউ কঠিন শৃঙ্খলে বন্দী করতে না পারে সেজন্য স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শক্তিকে সার্বক্ষণিক সজাগ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে একুশের অম্লান চেতনা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি ৫২’র ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জানাচ্ছি সমবেদনা। তাদের পরিবারের সুখ, শান্তি এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, উদ্যমী এবং সৃজনশীল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন অতীতের যে কোনো প্রজন্মের স্বপ্নের চাইতে দুঃসাহসী। তারা যেমন নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করতে চায়, তেমনি একই আত্মবিশ্বাসে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করতে চায়।
২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২৫’ অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন পৃথিবী সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিতে চায়। সে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। ছেলেরাও প্রস্তুত, মেয়েরাও প্রস্তুত। তারা ঘুণে ধরা, আত্মবিনাশী সভ্যতার বন্ধনমুক্ত হয়ে তাদের স্বপ্নের নতুন সভ্যতা গড়তে চায়। যে সভ্যতার মূল লক্ষ্য থাকবে পৃথিবীর সকল সম্পদের উপর প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন দেখার এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের সকল সুযোগ নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রাকে এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে করে পৃথিবীর অস্তিত্ব কোনোরকমে বিঘ্নিত না হয় এবং পৃথিবীর উপর বসবাসরত সব প্রাণীর সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যারা আজ একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন তাদের দেশবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের অবদানের জন্য জাতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা জাতির পথ প্রদর্শক। আপনাদের অবদানে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতি দৃঢ় বিশ্বাসে জাতিপুঞ্জের মজলিসে ক্রমাগতভাবে উন্নততর অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুযোগ এসেছে নতুন এক বাংলাদেশ নির্মাণের। আজ এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি দেশমাতৃকার জন্য বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রাম,বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে যে সকল সাহসী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন তাদের সকলকে।
এবারের অমর একুশে নতুন তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। আমরা জানি, একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের অবিনাশী স্মারক। আমাদের স্বাধিকার চেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই ফেব্রুয়ারি মাসেই রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে পাকিস্তানি শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রুখে দাঁড়িয়েছিল ছাত্রসমাজ। ঢাকার রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। এই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধিকার চেতনার এক অবিশ্বাস্য জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ এই মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৫ উদযাপনের স্মরণীয় দিনে আমরা তরুণদের এই স্বপ্নের আশু বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এই কামনা করছি। দেশের ভবিষ্যৎ রচনায় পথ দেখিয়ে যারা আজ জাতির পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পেলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন জানাচ্ছি।