আজ , ।   
Home Blog Page 579

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করবে জনগণ: ফখরুল

আলোকিত প্রডিতবেদক:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য কেবল তার জনগণই নির্ধারণ করবে আর বিএনপি এটাই নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মানে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় ফখরুল বলেন, আজ আমরা যখন এই পবিত্র রমজান মাসে, করুণা এবং শান্তির মাসে মিলিত হচ্ছি তখন আমি আপনাদের সব বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ও তাদের নাগরিকদের তাদের সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।তিনি বলেন, রমজান আমাদের ধৈর্য, ত্যাগ এবং ন্যায়বিচারের নীতিগুলির কথা মনে করিয়ে দেয় যা প্রতিটি জাতির মূলে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিন পর্যন্ত, রমজানের আশীর্বাদ বিশ্বজুড়ে শান্তি এবং সম্প্রীতি বয়ে আনুক।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যিনি দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফ্যাসিবাদী মুক্ত বাংলাদেশে আমাদের স্বাধীনভাবে শ্বাস নেওয়ার এবং একসাথে বসার সুযোগ দিয়েছেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গত ১৫ বছরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই। যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছিলেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের আঘাত সহ্য করেছিলেন তাদের প্রতি আমি আমার পরম সমবেদনা জানাই।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভের বিস্ফোরণ ছিল। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন হঠাৎ করে আবির্ভূত হয়নি; বরং এটি ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী জনগণের দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের অংশ। বিএনপি এবং অন্যান্য গণতন্ত্রপন্থী দলগুলি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। এই বিদ্রোহ সমগ্র জাতির সামগ্রিক স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি যৌথ স্থিতিস্থাপকতার বিজয় এবং বাংলাদেশি জনগণের অদম্য চেতনার প্রমাণ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা জানেন যে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তে জানা গেছে যে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পতনশীল ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা নারী এবং ১১৮ শিশুসহ প্রায় ১,৪০০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির কমপক্ষে ৫২৩ জন কর্মী তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও গত দেড় দশকে হাজার হাজার বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন, হাজার হাজার জোরপূর্বক গুম এবং ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন এবং ৬০ লক্ষেরও বেশি বিএনপি নেতাকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে গণতন্ত্রে একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবতা সমুন্নত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র এবং উদার বাণিজ্য অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলের সম্মিলিত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চাই এবং আগামী দিনে আমরা আরও বেশি করে জনগণের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য উন্মুখ।

তিনি বলেন, আমরা আরও নিশ্চিত করতে চাই যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য কেবল তার জনগণই নির্ধারণ করবে। আমরা আশা করি যে আমাদের বিশ্বব্যাপী বন্ধু এবং অংশীদাররা আমাদের সম্মিলিত বিকাশের জন্য অ-হস্তক্ষেপ, সার্বভৌমত্ব এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এর বিশ্বব্যাপী নিয়মগুলিকে সম্মান করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এই ইফতার ভাগ করে নেওয়ার সময়, আমাদের ন্যায়বিচার, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঐক্যের মূল্যবোধের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ ভয়, নিপীড়ন এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তামুক্ত একটি ভবিষ্যতের যোগ্য। সামনের পথ স্পষ্ট – একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রে দ্রুত প্রত্যাবর্তন।

তিনি বলেন, ঐক্যের এই উদযাপনে আপনার উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণের জন্য আমি আবারও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। রমজানের শিক্ষা আমাদের প্রচেষ্টায় পরিচালিত করুক এবং এই পবিত্র মাসের চেতনা সারা বছর ধরে আমাদের কর্মে প্রতিফলিত হোক।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা সবাই একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং করুণাময় বিশ্বের জন্য কাজ করি যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুখে বসবাস করতে পারবে।

মিডিয়া সেলের সূত্র জানায়, ইফতার মাহফিলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী,ভাইস চেয়ারম্যান, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ,জহির উদ্দিন স্বপন, আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য মীর হেলাল উদ্দিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, তাবিথ আউয়ালসহ অনেকে অংশ নেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭মার্চ-২৫/মওম

বায়তুল মোকাররমে বাড়তি নিরাপত্তা,মুসল্লিদের তল্লাশি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের ‘মার্চ ফর খিলাফাহ’ কর্মসূচি ঘিরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ মার্চ শুক্রবার সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কড়া অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

প্রতি দিনের মতো আজও জুমার নামাজ শুরুর আগেই অনেকে বায়তুল মোকাররমে পৌঁছেছেন। তবে আজ পরিস্থিতি অন্যান্য সাধারণ জুমাবারের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। হিযবুত তাহরীরের কর্মসূচি এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বায়তুল মোকাররমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকটি ইউনিট সকাল থেকেই মসজিদে প্রবেশ করা মুসল্লিদের তল্লাশি করছেন। তাদের শরীর এবং ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে, যাতে কোনও ধরনের নাশকতামূলক বস্তু বা সন্দেহজনক উপাদান না আসে।

হিযবুত তাহরীর দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি সরকারবিরোধী কার্যক্রমে প্রকাশ্যভাবে অংশ নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে সংগঠনটি সরকারের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি শুরু করে। এর মধ্যে মিছিল, গোলটেবিল বৈঠক এবং বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংগঠনটি চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচিও পালন করেছে।

আজ হিযবুত তাহরীর তাদের ‘মার্চ ফর খিলাফাহ’ কর্মসূচি ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজনের ডাক দেয়। এর জন্য সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে এবং লিফলেট বিতরণ করেছে। তবে যেহেতু হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই তাদের কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সেই সময় থেকে তাদের কোনও ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, পোস্টার বা লিফলেট বিতরণসহ অন্য কোনও প্রচারণামূলক কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি সফল হতে দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে, পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যে বায়তুল মোকাররম এলাকায় কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৭মার্চ-২৫/মওম

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কর্মচারীকে হত্যা করে ৭টি গরু নিয়ে গেলো দুর্বৃত্তরা 

শহীদুল ইসলাম রুবেল:  
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মোঃ জয়নাল মিয়া (৬৫) নামে এক ফার্মের কর্মচারীকে (পাহারাদার) ঘরের খুটির সাথে বেঁধে হত্যা করে সাতটি গরু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের গোদারিয়া চৌরাস্তা নামক এলাকার মাহবুবুল হকের ফার্মে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নাল মিয়া উপজেলার একই ইউনিয়নের পুকুরিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে এই ফার্মে কাজ করছিলেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম,সহকারী পুলিশ সুপার (দুর্গাপুর সার্কেল) আল-ইমরানুল আলম ও দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জয়নাল মিয়া এই ফার্মে পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। সে ছাড়াও আরও দুইজন কর্মচারী এখানে কাজ করেন। গতকাল রাত দশটার দিকে হেলাল নামের একজন পাহারাদার দিনের ডিউটি শেষ করে জয়নালকে রাতের ডিউটি বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে যান।
পরে আজ সকালে হেলাল আবারও ডিউটিতে ফিরে জয়নালের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিতে তাকে খোঁজ করলে একপর্যায়ে গরুর খড়ের ঘরের পালার সাথে বাঁধা মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ফার্মের মালিকসহ সবাই জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। ফার্মের মালিক মাহবুবুল হক জানান, ১১টির গরুর মধ্যে ৭টি গরু নিয়ে গেছে এবং কর্মচারী জয়নালকে কে বা কারা মেরে ফেলেছে। এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (দুর্গাপুর সার্কেল) আল-ইমরানুল আলম বলেন, সর্বশেষ গত রাত দশ ঘটিকায় যখন বদলি পাহারাদার এখানে আসেন তখন জয়নালকে কাজ বুঝিয়ে দেয় সে সময় পর্যন্ত ঠিক ছিল। পরবর্তীতে ওই পাহারাদার আবারও সকালে কাজে এসে জয়নালের কাছ থেকে কাজ বুঝে নিবেন সে-সময় ওই পাহারাদার তখনি দেখতে পান গরু রাখার ঘরের দরজা খোলা ও সাতটি গরু নাই। পরবর্তীতে সে জয়নালের খোঁজ করলে কোথাও না পেয়ে এক পর্যায়ে খড়ের ঘরে মুখ বাঁধা অবস্থায় মৃত অবস্থা পান। তিনি আরও বলেন, ধারনা করা হচ্ছে গত রাত দশটার পর হতে যে কোনো সময়ে এ ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত ও রহস্য উদঘাটনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

‘ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে’ ইউরোপ, ফরাসি প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা সম্মেলনে একত্রিত হচ্ছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপ এখন ‘ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে আছে।

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তিনি ইউক্রেনের জন্য অর্থ সহায়তা স্থগিত রাখবেন। এই বিষয়টি নিয়েও নেতারা আলোচনা করবেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি সহায়তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে আর কীভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করা যায়। ইউক্রেনকে পুনরায় অস্ত্র সরবরাহ করার প্রসঙ্গটিও আলোচনায় থাকবে। আর এই সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর থেকেই ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাই বৃহস্পতিবারের সম্মেলনকে ইউরোপীয় নেতারা খুব গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তাদের বক্তব্য থেকেও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালানোর তিন বছর পর ট্রাম্প প্রশাসনের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ইউরোপের অনেক দেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা ভাবছে, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর আগের মতো নির্ভর করা যাবে না।

গত বুধবার যখন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তারপর থেকে ইউরোপের এই উদ্বেগ আরও বেশি বেড়ে গেছে। চলমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সুরক্ষার ব্যাপারে ইউরোপের অন্যান্য দেশের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসও পারমাণবিক সুরক্ষা অন্যান্য দেশের সাথে ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, “ইউরোপ স্পষ্টতই একটি হুমকির সম্মুখীন। আমাদের জীবদ্দশায় যা আগে কখনও দেখা যায়নি।”

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা বলেছেন, “এটি ইউক্রেন এবং ইউরোপিয়ানদের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।”

ইউরোপিয়ান নেতাদের কাছে লেখা একটি চিঠিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন এও বলেছেন, “এই মুহূর্তটাকে কাজে লাগাতে হবে” এবং “আমাদের শিল্প ও উৎপাদনশীল শক্তিকে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজে লাগাতে হবে।”

গত সোমবার উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবিহীন প্রস্তাব ঘোষণা করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিআর্ম ইউরোপ’। তিনি বলেছেন, ইউরোপ এখন প্রতিরক্ষা খাতে “ব্যাপকভাবে” ব্যয় বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত এবং এটি করতে হবে “দ্রুত ও প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের উদ্দেশ্যে”।রিআর্ম ইউরোপ পরিকল্পনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা রয়েছে, যা ইউক্রেনকে সহায়তা করার পাশাপাশি ইউরোপের প্রতিরক্ষার দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে। প্রস্তাবগুলো হলো:

প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দেশগুলোকে তাদের জাতীয় বাজেট ঘাটতির সীমা বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া। প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের জন্য ১৫০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ প্রদান-যা গোটা ইউরোপের বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাসহ নানা কাজে ব্যবহার করা হবে এবং কম উন্নত এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্য অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া।

এছাড়া, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংককে সামরিক প্রকল্পে অর্থায়নের অনুমতি দেওয়া হবে। ভন ডার লিয়েনের মতে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে মোট ৮০০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হবে।

এই পরিকল্পনা দ্রুত কার্যকর করার পক্ষে অনেক ইউরোপীয় নেতা মত দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, কমিশনের পরিকল্পনা একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা বলেছেন, “এই সম্মেলন থেকে প্রমাণ হয়ে যাবে যে ইউরোপ শুধু কথার ফুলঝুরিই ছড়ায়, নাকি আসলেই তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”

তবে এখানে রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু ইউরোপীয় নেতার বিরোধিতার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” প্রতিষ্ঠার যে নীতি, তা “বাস্তবসম্মত” নয়।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অর্বান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টকে লেখা এক চিঠিতে দাবি করেছেন, সম্মেলনে কোনও নথিতে লিখিতভাবে ইউক্রেনের নাম না থাকাই উচিত। বিবিসি বাংলা

আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

টাঙ্গাইলে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর বীরতারা ইউনিয়নের কদমতলী বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র লীগের ঝটিকা মোটরসাইকেল শোডাউনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো। ৫ মার্চ বুধবার বিকালে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে কদমতলী-ধনবাড়ী-কেন্দুয়া সড়ক সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বীরতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমির হোসেন (তাঁরা মিলিটারি), সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বাদশা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরীফ হোসেন(মেম্বার), ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মাহমুদুল কবীর পলাশ প্রমুখ।
বক্তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মোটরসাইকেল শোডাউনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বক্তারা বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মীরা গত মঙ্গলবার বীরতারা ইউনিয়নের হঠাৎ মোটরসাইকেল শোডাউন দেয়। তারা ছাত্রলীগ নেতা আখতারুজ্জামান শুভ, শাকিল রানা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
এসময় বীরতারা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ফারুক হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আ. রাজ্জাক ছুতু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাহিদ আলম শামীম, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক মিজানুর রহমান, ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, ইউনিয়ন যুবদলের নেতা ফজলুল হক, আব্দুল হাই ফটিক, সোহেল তালুকদার, সাগর, মিলন আহম্মেদ সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

কুমিল্লার মুরাদনগরে বাজার মনিটরিং করছেন ইউএনও

নাজমুল হাসান:

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজার পরিদর্শন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মো. আবদুর রহমান। এমনকি দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বাজার মূল্য  যাচাই করে ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিজেই বাজার তদারকিসহ মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ২ ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে নগদ আদায় করেন।

০৫ মার্চ বুধবার বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টে এর ধারাবাহিকতায় বিকালে উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয় মূল্য সঠিক এবং স্থানীয় রাখা,অবৈধভাবে পণ্য মজুদ না রাখা এবং ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এছাড়া কোম্পানীগঞ্জ বাজার ও মুরাদনগর বাজারের রমজান উপলক্ষে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে যানজট নিরসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে  আনসার সদস্য মোতায়ন করা হয়। কোম্পানিগঞ্জ বাজারে কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কে বাস-স্টেশনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে জ্যাম সৃষ্টি হয়। সেই সুবাদে জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। জ্যামের কথাটি মাথায় রেখে উপজেলা প্রশাসন ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে  আনসার সদস্য মোতায়ন করেন।

অভিযানকালে ব্যবসায়িক লাইসেন্স না থাকা, মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও বীজ বিক্রি, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের অভিযোগে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেন। এ সময় বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের দোকানে মূল্য তালিকা টানানো এবং অতিরিক্ত দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ । জনস্বার্থে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেন জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার  মো. আবদুর রহমান।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

মির্জা ফখরুল হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন

আলোকিত প্রতিবেদক:

চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, হাসপাতাল থেকে দুপুর ১টার দিকে বাসায় এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিকেলে কূটনীতিকদের সন্মানে বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন।

গত ৩ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মির্জা ফখরুল। তখন বলা হয়েছিল- সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলায় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি ধুলাবালির কারণে অসুস্থতা অনুভব করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

এনআইডি সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখতে আন্দোলনে যেতে পারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। এনআইডি নিয়ে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের দপ্তরের সামনে জড়ো হয়েছেন এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা।

৬ মার্চ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) দপ্তরের সামনে এ দাবি নিয়ে অবস্থান করছেন এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা।

এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশন থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে পরিকল্পনা হচ্ছে তা রুখে দিতে আমাদের এ পদক্ষেপ। এতে যদি কাজ না হয় আমরা প্রথমে অর্ধবেলা কর্মকর্তা বিরতিতে যাবো, এরপর পূর্ণ বেলা। তাও না হলে সারা দেশে নির্বাচন কমিশনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেব।

জানা যায়, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দুর্ভোগ-জটিলতা নিরসনে স্বতন্ত্র কমিশন প্রতিষ্ঠায় ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন (কমিশন), ২০২৫’ নামে একটি অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতও গ্রহণ করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের এ বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির প্রথম সভা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে আইন করা হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলে আবার তা বাতিল চেয়ে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। তাদের দাবি অনুযায়ী আইনটি বাতিল হলে এনআইডি সেবা বরাবরের মতই নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে। এ প্রস্তাব অনুমোদনের পর সরকারকে এখন অধ্যাদেশ জারি করে আইনটি বাতিল এবং আগের আইন বহাল করতে হবে।

এ ধারাবাহিকতায় সবশেষ গত ১৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নিজেদের কাছে রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। এটা সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এরই মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংস্থা নামে একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা গঠন করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে সরকারের কাছে।

অবশ্য এ নিয়ে বেশ আপত্তি জানিয়ে ২৬ জানুয়ারি সিইসি বলেছেন, নাসির উদ্দিন বলেন, ভোটার এনআইডি কার্ড, ভোটার রেজিস্ট্রেশন যেটা ওনারা বলেছেন পরবর্তী পর্যায়ে একটা আবার স্বাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তরে হ্যান্ডওভার করার জন্য সাজেস্ট করছেন। আরেকটা কর্তৃপক্ষকে দিলে আমার কি তার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে? ইটস ইমপসিবল ।”

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‌‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন সময়োপযোগী। তবে, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন না রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা করা সমীচীন।সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্মনিবন্ধন সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে এনআইডি এবং এনআইডি’র ভিত্তিতে পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায় অনাবশ্যক জটিলতা এবং জনদুর্ভোগ পরিহার করা আবশ্যক।এই উদ্দেশ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ পরিমার্জন করে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৬মার্চ-২৫/মওম

 নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে  সম্মাননা স্মারক প্রদান

বরাত ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে আমরা সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশের ফুলের শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক করা হয়েছে।
স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে আমরা সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ডিমলা নীলফামারী এর প্রধান কাযলয়ে আগমন ও পরিদর্শন উপলক্ষে নীলফামারী জেলা পরিষদের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) দীপঙ্কর রায় কে ফুলের শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রধান করে সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম,ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ জাহিদ হাসান, সাবেক সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল, সদস্য মোঃ জাহিদুল ইসলাম, মো:আন্জারুল ইসলাম, মো:আবু কালাম আজাদ, এলাহি, শুমন, কাওছার, নুর আমিনসহ এলাকার অনেকে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, উক্ত সংগঠনটি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কাজগুলো দীঘদিন ধরে করে আসতেছে। সংগঠটি অসহায় মানুষের জন্য সব সময়ে কাজ করবেন এই প্রত্যাশা। জেলা পরিষদ নীলফামারী থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে৷
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মোবাইল কোর্ট অভিযান, ৮ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আনোয়ার হোসাইন জুয়েল, তাড়াইল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবক্কর সিদ্দিকী ও কিশোরগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
৫ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১ ঘটিকার সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় তাড়াইল সদর বাজারের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ফলের দোকান, কনফেকশনারী ও তেলের দোকানে ৮ ব্যবাসীকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণ ও বাজার সাভাবিক রাখার জন্য আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি। এসময় অনেক দোকানে বাজার মূল্য তালিকা পাওয়া যায়নি,  কয়েকটি রেস্টুরেন্টে ময়লা আবর্জনা পাওয়া যায়, কনফেকশনারী দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কেক পাওয়া যায় ও কয়েকটি ফলের দোকানে নষ্ট ফল বিক্রি ও মূল্য তালিকা পাওয়া যায়নি। আমরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭, ৩৮ ও ৪৩ ধারা লঙ্ঘনে প্রাথমিক ভাবে ৮ জন ব্যবসায়ীকে ১৬ টাকা জরিমানা করি। সাথে সকল ব্যবসায়ীকে ভেজাল মুক্ত খাবার বিক্রি ও সিন্ডিকেট মুক্ত তেল বিক্রি করার নির্দেশ প্রদান করি। জনস্বার্থে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি