আজ , ।   
Home Blog Page 574

রাশিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাশিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইউক্রেন। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটি বলেছে, তারা রাশিয়ার সাথে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত।

সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১২ মার্চ বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সৌদি আরবে একদিনের মার্কিন-ইউক্রেন আলোচনার পর, ইউক্রেন জানিয়েছে- তারা রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে তাৎক্ষণিকভাবে যেতে রাজি আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, তিনি রাশিয়ার কাছে এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করবেন এবং “বল এখন তাদের কোর্টে”। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, “ইতিবাচক” প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার জন্য রাশিয়াকে রাজি করানোর কাজটা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।

সম্প্রতি ওভাল অফিসে জেলেনস্কি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নজিরবিহীন বাক্যবিনিময়ের পর সৌদি আরবের লোহিত সাগরের তীরবর্তী শহর জেদ্দায় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনা ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরও বলেছে, তারা অবিলম্বে ইউক্রেনে সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং নিরাপত্তা সহায়তা পুনরায় চালু করবে। ট্রাম্প-জেলেনস্কির বাকবিতণ্ডায় পূর্ণ অভূতপূর্ব  বৈঠকের পর এগুলো স্থগিত করেছিল ওয়াশিংটন।

মার্কিন-ইউক্রেন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “উভয় প্রতিনিধিদল তাদের আলোচনাকারী দলের নাম ঘোষণা করতে এবং ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন একটি স্থায়ী শান্তির জন্য অবিলম্বে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।”

বৈঠকের পর মঙ্গলবার গভীর রাতে জেদ্দায় এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও আশা প্রকাশ করেন, রাশিয়া এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, ইউক্রেন “গুলিবর্ষণ বন্ধ করে আলোচনা করতে প্রস্তুত” এবং যদি রাশিয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে “তাহলে আমরা দুর্ভাগ্যবশত জানতে পারব এখানে শান্তির পথে বাধা কী”।

তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি যা ইউক্রেনীয়রা গ্রহণ করেছে, আর তা হলো— যুদ্ধবিরতিতে প্রবেশ করা এবং তাৎক্ষণিক আলোচনায় অংশ নেওয়া। আমরা এখন রাশিয়ানদের কাছে এই প্রস্তাবটি নিয়ে যাব এবং আমরা আশা করি তারা শান্তি অর্জনের বিষয়ে হ্যাঁ বলবে। বল এখন তাদের কোর্টে।”

এদিকে জেদ্দায় “গঠনমূলক” আলোচনার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়াকে হয় “যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে বা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তার ইচ্ছা প্রকাশ করতে হবে। এখন পূর্ণ সত্য প্রকাশের সময় এসেছে।”

অবশ্য এই বিষয়ে রাশিয়া এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে মঙ্গলবার ক্রেমলিন বলেছিল, আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ব্রিফ পাওয়ার পর তারা এই বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করে। মস্কো বর্তমানে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১২মার্চ-২৫/মওম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ওষুধের কার্টনে মিলল নবজাতকের মরদেহ

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পলিথিনে মোড়ানো একটি ওষুধের কার্টন থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১১ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দক্ষিণ পশ্চিমে রিয়াজুল জান্নাহ মাদরাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়,বিকেল পৌনে চারটার দিকে স্থানীয়রা পুলিশকে ফোন করে জানায় উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াখালী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দক্ষিণ পশ্চিমে রিয়াজুল জান্নাহ মাদরাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে একটি ওষুধের কার্টন পড়ে আছে। কার্টুনের ভেতর এক নবজাতকের মরদেহ রয়েছে। পুলিশ সদস্যরা গিয়ে কার্টনের ভেতর থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থান একটি মেয়ে শিশুর মরদেহ দেখতে পান। পরে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ বেগমগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে একদিন বয়সী এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়।  এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১২মার্চ-২৫/মওম

মালয়েশিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় রাজবাড়ীর যুবক নিহত

সোহেল রানা চৌধুরী:
উন্নত জীবনের আশায় ৯ মাস আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্ৰামের আব্দুল মাজেদ খাঁন (২৯)। তবে নিজের আশা পূরণ করতে পারেনি এ প্রবাসী। সড়ক দুর্ঘটনায় মালয়েশিয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার সকালে মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাজেদ মারা যায় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। মাজেদ মহেন্দ্রপুর গ্ৰামের মোয়াজ্জেম খাঁনের ছেলে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ মাস আগে মালয়েশিয়ায় যান মাজেদ। মালয়েশিয়ায় পেনাং শহরের একটি কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গত ১০ মার্চ সকালে রাস্তা পারাপারের সময় গাড়িচাপায় তিনি প্রাণ হারান।

মাজেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারে চলছে শোকের মাতম। আদরের সন্তানের শোকে বারান্দায় শুয়ে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। বাড়ির উঠানে আহাজারি করছে স্বজনরা।

নিহত মাজেদের বাবা মোয়াজ্জেম খাঁন বলেন, ‘আমার ছেলে মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আমার ছেলের লাশ দেশে আনতে চাই। সরকার যেন দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেয়।

আলোকিত প্রতিদিন/১২মার্চ-২৫/মওম

কুমিল্লার মুরাদনগরে সাংবাদিক সমিতির কমিটি গঠন

নাজমুল হাসান:

বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি মুরাদনগর  উপজেলা শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। ১০ মার্চ সোমবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ বাংলা রেস্তোরার কনফারেন্স রুমে  দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে এন এ মুরাদ সভাপতি ও জালাল আহমেদ’ কে সাধারণ সম্পাদক করে এ কমিটির ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা এমরান। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সাংবাদিক  সমিতির সভাপতি এন এ মুরাদের সভাপতিত্বে ও সিয়াম খানের সঞ্চালনায়  প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন যুগান্তর কুমিল্লা ব্যুরো ও আরটিভি কুমিল্লা উত্তর জেলা প্রতিনিধি আবুল খায়ের। তিনি বলেন, “ একটি রাষ্ট্রের চারটি খুঁটি। তার মধ্যে গণমাধ্যম হচ্ছে একটি । গণমাধ্য ছাড়া রাষ্ট্র কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। পৃথিবীর যেই দেশের গণমাধ্যম যতো বেশী স্বাধীন ওই দেশ ততো বেশি উন্নত। কিন্তু অতিব সত্য হচ্ছে এ দেশে গণমাধ্যম নিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায়  লক্ষ করা গেছে বিগত দিনে গণমাধ্যমকে নিয়ে নোংরা রাজনৈতি  করেছে কিছু অসাধু রাজনৈতিক। তাঁরা সাংবাদিকদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করে নীজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেন।  এদেরকে রুখে দিতে ঐক্যেবদ্ধ সাংবাদিকতার বিকল্প কিছু নেই। এই কাজটি করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা এমরান । যার একটি ডাল হচ্ছে মুরাদনগর উপজেলা সাংবাদিক সমিতি।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লা  জেলার  সহ-সভাপতি ও ইনকিলাবের নিজস্ব প্রতিবেদক সাদিক হোসেন মামুন,  সিটিভি নিউজের  সম্পাদক ও প্রকাশক ওমর ফারুক তাপস, কালের কন্ঠ পত্রিকার নারায়নগেঞ্জর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সুভাস সাহা , অধ্যাপক শাহআলম জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সমিতি মুরাদনগর উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও মুরাদনগর উপজেলা যুগান্তর প্রতিনিধি জালাল আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৈনিক সমকাল মুরাদনগর প্রতিনিধি বেলাল উদ্দিন কলামিষ্ট ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মমিনুল ইসলাম মোল্লা, সাংবাদিক  মোহাম্মদ আলী ও আবুল বাশার  প্রমুখ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি মমিনুল ইসলাম মোল্লা,  সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও আক্তার হোসেন।
এছাড়াও  চ্যানেল এসের মুরাদনগর প্রতিনিধি বিল্লাল হোসেন’কে যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের এম ফয়জুল ইসলাম  সাংগঠনিক সম্পাদক , এশিয়ান টিভি মুরাদনগর প্রতিনিধি আবুল বাশারকে অর্থ  সম্পাদক ও জাগো জনতার প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইনকে দপ্তর সম্পাদক, এশিয়ানটিভি কুমিল্লা উত্তর মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি শহীদুল্লাহ প্রচার সম্পাদক, আমাদের মাতৃভূমির মিজানুর রহমানকে সাহিত্য ও প্রকাশনা, জনবাণীর প্রিয়ন্ত মজুমদারকে তথ্য ও আইসিটি সম্পাদক  করা হয়েছে। কমিটির কার্যনিবাহী ও সাধারণ সদস্যরা হলেন- আবদুল্লাহ আল মেহেদী, গোলাম মোস্তফা, ইব্রাহীম মুন্সি ও জাকির হোসেন। সদস্য- আব্দুল আলীম, বশির আহমেদ ডালিম,  মো.নাজমুল হাসান, আজিজুল হক, এরশাদ মিয়া, মাহবুবুল আলম মামুন সরকার,  মো.নাঈম, মাইন উদ্দিন বাহাদুর, ইকবাল হোসেন, দেলোয়ার  হোসেন, হাবিবুর রহমান,  সিয়াম খান, মুশফিকুর রহমান ও নাদিমুল আলম তানভীর।

আলোকিত প্রতিদিন/১২মার্চ-২৫/মওম

এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না: হাইকোর্ট 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি লিখতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া আজ পর্যন্ত যারা ডাক্তার পদবি ব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
একইসঙ্গে আগামীকাল ১৩ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে আইন ভঙ্গ করে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন হয়। ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রিধারীদের (ডিপ্লোমাধারী হিসেবে নিবন্ধিত) ক্ষেত্রে আইনটির বৈষম্যমূলক প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন আহ্বায়ক শামসুল হুদাসহ অন্যরা ২০১৩ সালে একটি রিট দায়ের করেন। ওই আইনের ২৯ ধারার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিশনের সভাপতি এবং সেক্রেটারি গত বছর অপর একটি রিট করেন।
প্রথম রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। দ্বিতীয় রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে আইনের ২৯ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পরে উভয় রুলের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া প্রথম রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইদুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম শুনানি করেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম শুনানি করেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২৯(১) ধারা মতে, এই আইনের অধীন নিবন্ধন করা কোনও মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোনও নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না, যার ফলে তার কোনও অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে বলে কেউ মনে করতে পারে, যদি না তা কোনও স্বীকৃত মেডিক্যাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা হয়ে থাকে। ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তরা ব্যতীত অন্য কেউ তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।
২৯ (২) ধারা মতে, কোনও ব্যক্তি উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং সেজন্য তিনি ৩  বছর কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং ওই অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রতিবার এর পুনরাবৃত্তির জন্য কমপক্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বর্ণিত দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, দণ্ডনীয় হবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১২মার্চ-২৫/মওম

টাঙ্গাইলে পাঁচ দফা দাবিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শাট ডাউন

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
ম্যাটস শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে ‘শার্ট ডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইণ্টার্ন চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ চত্বর থেকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করা হয়।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন মেডিকেলে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের চিকিৎসক পদবি ব্যবহার নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এলেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে, কিন্তু এসএসসি পাস করে ম্যাটসের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক সেজে বসে রয়েছে- এসব নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একটি যৌক্তিক মৌলিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া চিকিৎসকের স্বীকৃতি দেওয়া বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবি স্বাস্থ্য খাতে একটি বিপ্লব ঘটাতে পারে। দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তা দূর হবে, তেমনি রোগী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। তাই সারা বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে শার্ট ডাউন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে-
১. এমবিবিএস/বিডিএস ব্যতীত কেউ চিকিৎসক লিখতে পারবে না। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। বিএমডিসি নিবন্ধন শুধু এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সাল থেকে হাসিনা সরকার ম্যাটসদের (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন দেওয়া শুরু করেছে। এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. উন্নত বিশ্বের চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওভার দ্যা কাউন্টার বা ওটিসি ড্রাগ লিস্ট আপডেট করতে হবে। এমবিবিএস বা বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি লিস্টের বাইরের ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি লিস্টের বাইরের কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
৩. স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে দ্রুত ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সব শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে আগের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর ৪-৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসকদের বিসিএসে বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
৪. সব মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল (ম্যাটস) ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করতে হবে। ইতিমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদবি রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১১মার্চ-২৫/মওম

নবীনগরে পৃথক স্থানে মানববন্ধন

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
দেশব্যাপী ধর্ষণ, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পৃথক স্থানে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ মার্চ সোমবার দুপুরে নবীনগর সরকারি কলেজ রোডে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবীনগর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এসময়, কলেজ ছত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক আরমান আহমেদ, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ইয়াসিন আহমেদ রিমন, জুনায়েদ আহমেদ প্রমুখ।
অপরদিকে ‘নবীনগরের সর্বস্তরের ছাত্র এবং বিপ্লবী জনতা’র ব্যানারে একদল শিক্ষর্থী আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি নবীনগর সদর বাজারের সমবায় মার্কেটের সামনে থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব চত্বরে এসে একটি সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাইফ ইসলাম মাহিম, মো. রিফাতুল ইসলাম, সিজার মাহমুদ, তানভীর, রনি খান, হৃদয়, রাহুল, শাহ্ পরান প্রমুখ।
বিক্ষোভ মিছিল এবং মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে তা দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানায়। এছাড়াও দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।
আলোকিত প্রতিদিন/১১মার্চ-২৫/মওম

নোয়াখালীতে ইটভাটায় জরিমানা,ভাংচুর,বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
দেশব্যাপী ইট ভাটায় ধারাবাহিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা, ভাংচুর, বন্ধের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ  অনুযায়ী নোয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১১ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি নোয়াখালী জেলা শাখার উদ্ধোগে এক বিক্ষোভ মিছিল নোয়াখালী শহিদ ভুলু স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসককের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এই সময় এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, সহ-সভাপতি একরাম উল্যা ডিপটিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতি মো: ইসমাইল বলেন, নোয়াখালীতে জিগজাগ পদ্ধতির ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে প্রশাসন। এই ইটভাটা শিল্পে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। সম্প্রতি ইট ভাটা বন্ধ হওয়ায় শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন মালিকরা পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
তাছাড়া আমরা প্রতিটি ভাটায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকি। সহ-সভাপতি একরাম উল্যা ডিপটি বলেন,আমরা আমাদের দেশের মানুষের কর্মসংস্হান সৃষ্টি করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ দিয়ে থাকি।প্রশাসন আমাদের এমন অবদান আমলে না নিয়ে একের পর এক ইট ভাটাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে। অবিলম্বে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে সংস্কার এনে ৫০০ মিটার করতে হবে।আমাদের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে হয়রানি মুক্ত স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। অচিরেই  ইটভাটায় হামলা, জরিমানা বন্ধ না করা হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য থাকবো। পরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা,পরিবেশ এবং জলবায়ু উপদেষ্টা বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। উক্ত সমাবেশ ও মানববন্ধনে নোয়াখালী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইট ভাটার শত শত শ্রমিক অংশগ্রহণ করে।
আলোকিত প্রতিদিন/১১মার্চ-২৫/মওম

দেবিদ্বারে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র উদ্যোগে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নাজমুল হাসান:

দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কুমিল্লার দেবিদ্বারে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ মিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।  ১১ই মার্চ মঙ্গলবার দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু করে  দেবিদ্বার নিউমার্কেট হয়ে উপজেলার সামনে এসে শেষ হয়। মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মী সহ শিক্ষার্থীরা ছাড়াও ধর্ষণবিরোধী এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বর্তমানে দেশে হত্যা, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বেড়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। দেবিদ্বার উপজেলা শাখার জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা জানান, ফ্যাসিবাদী প্রশাসনিক কাঠামো ভাঙতে না পেরায় রাষ্ট্র নারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বয়স, পেশা, ধর্ম নির্বিশেষে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। তাদের হত্যা করা হচ্ছে। নারীরা নিজের ঘরে নিরাপদ না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ না, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ না। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নারীর প্রতি সহিংসতাকারীদের শনাক্ত করতে প্রায়ই ব্যর্থ হয়। যা ২৪ এর বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে চলমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য চরম উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার প্রস্তত থাকলেও তাদের কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ধর্ষণের শাস্তি প্রকাশ্যে ফাঁসির এবং প্রতিটি ধর্ষণ মামলার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।’

এসময় উপস্থিত ছিলে-দেবিদ্বার উপজেলা শাখার জাতীয় নাগরিক পার্টির নাজমুল হাসান নাহিদ, মো: আরিফুল ইসলাম, নাছির উদ্দীন,  আব্দুল্লাহ সামি, জালাল আহমেদ খাঁন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার স্থানীয় নেতাকর্মীরা কয়েকটি দাবি জানান। দাবি গুলো হলো,  ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে—যে কোনো উপায়ে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে!
দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।  ফারজানা বাস নিষিদ্ধ করতে হবে—যদি তারা মেয়েদের নিরাপদ যাতায়াত ও যাত্রীদের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়।  দেবিদ্বারকে ইভটিজিং মুক্ত করতে হবে—এ বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশে একটি নামমাত্র আইন আছে—ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে একবারের জন্যও এই রাষ্ট্র সেই নজির স্থাপন করতে পারেনি। কেউ দেখাতে পারবে না একজন ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষ চায় ধর্ষকের ফাঁসি দিয়ে এই নজির বাংলাদেশে তৈরি করতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১১মার্চ-২৫/মওম

মস্কোতে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বৃহত্তম ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত ৯১টি ড্রোন ছুড়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। রাশিয়ার রাজধানী মস্কো এবং পাশ্ববর্তী অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে কমপক্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
এই হামলার জেরে বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগে যায়। এছাড়া রাজধানী মস্কোর চারটিসহ মোট ৬টি বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি বহু ফ্লাইট অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১১ মার্চ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।বার্তাসংস্থাটি বলছে, মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানীতে ইউক্রেন তাদের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মস্কোকে লক্ষ্য করে কমপক্ষে ৯১টি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগে যায়, বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং কয়েক ডজন ফ্লাইটের দিক পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয় বলে রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আকাশে মোট ৩৩৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯১টি মস্কো অঞ্চলে এবং ১২৬টি কুরস্ক অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয়েছে। রাশিয়ার এই কুরস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী পিছু হটছে।

রয়টার্স বলছে, তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জন্য সৌদি আরবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এবং রুশ বাহিনী পশ্চিম রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় সৈন্যকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করার সময় মঙ্গলবার ভোরের দিকে বিশাল এই ড্রোন হামলাটি শুরু হয়।

মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও শহরের ওপর আক্রমণ প্রতিহত করছে। রাশিয়ার এই রাজধানী শহরের আশপাশের অঞ্চলের জনসংখ্যা কমপক্ষে ২.১ কোটি এবং এটি ইউরোপের বৃহত্তম মহানগর অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “মস্কোর ওপর শত্রু বাহিনীর ইউএভি (মনুষ্যবিহীন বিমানবাহী যান) এর সবচেয়ে বড় আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে।”

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিভ বলেছেন, হামলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া তিনি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের ছবি পোস্ট করেছেন যার জানালা হামলার জেরে ভেঙে গেছে।

ভোরোবিভ বলেন, মস্কো অঞ্চলের রামেনস্কয় জেলার একটি বহুতল ভবন থেকে কিছু বাসিন্দাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি ক্রেমলিন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

অবশ্য ইউক্রেনের এই হামলার পরও মস্কোতে আতঙ্কের কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি এবং মস্কোর প্রাণকেন্দ্রের বাসিন্দা ও যাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজ-কর্ম করছেন।

রাশিয়ার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, হামলার পর বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মস্কোর চারটি বিমানবন্দরেই ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। মস্কোর পূর্বে অবস্থিত ইয়ারোস্লাভল এবং নিঝনি নভগোরড অঞ্চলে অবস্থিত আরও দুটি বিমানবন্দরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তবুও কুরস্কে রাশিয়ার বসন্তকালীন আক্রমণ এবং রাশিয়ার গভীরে ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাত আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

রয়টার্স বলছে, রাশিয়া মস্কো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর অসংখ্য ইলেকট্রনিক “ছাতা” তৈরি করেছে, কৌশলগত ভবনগুলোর ওপরও অতিরিক্ত উন্নত অভ্যন্তরীণ স্তর তৈরি করেছে এবং রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ক্রেমলিনে পৌঁছানোর আগে ড্রোনগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করার জন্য জটিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র:বার্তাসংস্থা রয়টার্স,বিবিসি

আলোকিত প্রতিদিন/১১মার্চ-২৫/মওম