আজ মঙ্গলবার, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২৩ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 56

উপবন ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না চালকরা, রাতে ড্রামে পাচারের অভিযোগ

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকায় অবস্থিত মেসার্স উপবন ফিলিং স্টেশনে শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না চালকরা। অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ—রাত গভীর হলেই ড্রামে ভরে তেল পাচার করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে বাইরের দোকানগুলোতে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ড্রামে তেল বিক্রি করছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। তাদের প্রশ্ন—এটি কি শুধুই সরবরাহ সংকট, নাকি এর আড়ালে রয়েছে কোনো সিন্ডিকেট?

রোববার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘেরবাজারে অবস্থিত মেসার্স উপবন ফিলিং স্টেশন। সন্ধ্যার পর ডিজেল আসবে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন যানবাহন তেল নেওয়ার জন্য মহাসড়কের একপাশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সন্ধ্যায় তেল দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় রাত ১২টার পর। তবে অভিযোগ উঠেছে, লাইনে থাকা গাড়িগুলোকে তেল না দিয়ে বড় বড় ড্রামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কয়েক দিনের তেল মাত্র ৩–৪ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক চালক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কৃষকরাও বিপাকে পড়ছেন।

পরের দিন নতুন বাজার থেকে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে প্রকাশ্যে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, সেখানে এসব দোকানে অতিরিক্ত মূল্য দিলেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে তেল।

কাভার্ড ভ্যান চালক রহিম বলেন, সন্ধ্যার পর তেল আসবে শুনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রাত ১২টার পর তেল ছাড়লেও কোনো গাড়িতে না দিয়ে বড় ড্রামে বিক্রি করা হয়। কেউ কেউ পাঁচশ থেকে এক হাজার লিটার পর্যন্ত তেল নিয়ে যাচ্ছে। এতে তেল চলে যাচ্ছে কালোবাজারিদের হাতে।

এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি সেবার যানবাহনের জন্য কোনো আলাদা ব্যবস্থা নেই। লাইনে দাঁড়িয়েও ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে রোগী পরিবহন কঠিন হয়ে পড়বে।

মেসার্স উপবন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আহসান হাবিব জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঠিক মতো সরবরাহ থাকলে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, রাত ১২টার পর ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রামে তেল বের করা হয়, যা পরে মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, দিনে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পায় না, কিন্তু রাতে ড্রামে তেল চলে যায়। এটি নিয়মিত ঘটনা।

আরেক বাসিন্দা জানান, কিছু অসাধু কর্মচারী ও বাইরের লোকজন মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে লাভবান হচ্ছে। শুধু এই একটি স্টেশন নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও এমন অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সত্যিই রাতে তেল পাচার হয়ে থাকে, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি কোথায়? নিয়মিত তদারকি থাকলে এমন অভিযোগ ওঠার কথা নয়। দীর্ঘ লাইনের কারণে শুধু চালকরাই নয়, পথচারী, শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছেন। এতে জরুরি সেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে কড়া নজরদারি প্রয়োজন।

গাজীপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাত হোসেন জানান, যেসব শিল্পকারখানায় জেনারেটর চালাতে জ্বালানি তেল প্রয়োজন, তাদের জন্য সরকার ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে তারা তেল সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া ড্রামের মাধ্যমে বা খোলা তেল বিক্রি কিংবা পাচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপবন ফিলিং স্টেশনের বিষয়েও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ১৬ বছরের রেকর্ড ছুঁয়েছে

ইউরোপ-এশিয়ার উত্থানে বাড়ছে অস্ত্র প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয় পৌঁছেছে গত ১৬ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিরক্ষা বাজেট দ্রুত বাড়ায় বৈশ্বিক ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি ত্বরান্বিত হয়েছে।

সুইডেনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় প্রায় ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২.৯ শতাংশ বেশি। এই ব্যয় বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশ—২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ।

অঞ্চলভিত্তিক ব্যয়ের চিত্র
ইউরোপে সামরিক ব্যয় এক বছরে ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে ৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৮১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

🇺🇸 শীর্ষ ব্যয়কারী দেশগুলো
বিশ্বে সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র—৯৫৪ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে চীন (৩৩৬ বিলিয়ন), রাশিয়া (প্রায় ১৯০ বিলিয়ন), জার্মানি এবং ভারত। এই পাঁচ দেশ মিলেই বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের প্রায় ৫৮ শতাংশ বহন করছে। ন্যাটো ও ইউরোপের দ্রুত উত্থান ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক ব্যয় ১৯৫৩ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে। জার্মানি ১১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বেলজিয়াম, স্পেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এশিয়ায় প্রতিরক্ষা জোরদার
এশিয়ায় জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপাইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে। জাপানের ব্যয় ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চীন টানা ৩১ বছর ধরে সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে যাচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার অংশ।

যুদ্ধক্ষেত্রের প্রভাব
ইউক্রেন তাদের জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করছে—যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। বিপরীতে রাশিয়া জিডিপির ৭.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করেছে।মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরব সর্বোচ্চ ব্যয়কারী, এরপর রয়েছে ইসরায়েল। তবে গাজায় সংঘাত কমায় ইসরায়েলের ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার চিত্র
দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ৯২.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এগিয়ে রয়েছে, যা পাকিস্তান থেকে অনেক বেশি। আফ্রিকায় মোট সামরিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৫৮.২ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আলজেরিয়া সবচেয়ে বেশি ব্যয়কারী দেশ।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার কারণে সামরিক ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের জন্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে।

বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে অস্ত্র প্রতিযোগিতা। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় একটি অংশ ক্রমেই সামরিক খাতে ব্যয় হচ্ছে—যা ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

নোয়াখালী সদর সাব-রেজিস্টারের নতুন নিয়ম,দলিল প্রতি অতিরিক্ত ঘু*স ২হাজার টাকা

  এ কে এম ফারুক হোসেন:

নোয়াখালী সদর সাব-রেজিস্টার বুলবুল আহমেদের বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য ও নানান অনিয়মের কারণে সেবা প্রত্যাশীদের ফের হয়রানির অভিযোগ ওঠেছে।

জানা যায়, সদর সাব-রেজিস্টার কতিপয় দলিল লেখকের যোগসাজশে প্রতি দলিল থেকে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করছেন।আর এ অতিরিক্ত টাকা থেকে সাব-রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ ১ হাজার টাকা ও বাকি ১হাজার কতিপয় দলিল লেখকের সিন্ডিকেট ভাগাভাগি করে নিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া সরকারি আদেশ অমান্য করে সকাল ৯টার অফিস দুপুর ১টায় করছেন বলে অভিযোগ আছে । তাঁর এমন নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্ষোভে ফুঁসছে স্হানীয় সেবা প্রত্যাশী ও দলিল লেখকরা।

নতুন করে চালু হওয়া অতিরিক্ত টাকা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক জানান,স্বাভাবিক দলিল ভেদে একজন সাব- রেজিস্ট্রারের ঘুষের রেট নির্ধারন হয়।এটা প্রকার ভেদে লাখ টাকাও ছাড়ায়।অতি সম্প্রতি তিনি নতুন করে দলিল প্রতি বর্ধিত ২হাজার টাকা নির্ধারন করেন।প্রথমে এটা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে এখন সবাই চুপ।

এছাড়া তিনি কর্মস্হলে যথাসময়ে উপস্থিত থাকেনা বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।এমন অভিযোগে প্রতিবেদকদ্বয় সরেজমিনে ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১১.৩০টায় ও ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১১:৪০ টায় তার রেজিস্ট্রি কার্যালয় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায় নি।

অভিযোগে প্রকাশ দুপুর ১টায় তিনি অফিসে আসেন।এরপর বিকাল গড়িয়ে রাত হয়ে যায়।অফিসের একজন কর্মচারী জানান,স্যার গতকাল সোমবার (২৭এপ্রিল) দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেছেন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মচারী আরো জানান,তিনি প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে অফিসে আসেন।

মুঠোফোনে এসব বিষয় জানতে চাইলে সাব-রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ বেশ উদ্ধত্য স্টাইলে বলেন,”এসব ফালতু বিষয়ের জবাব ফোনে দেওয়ার সময় নাই”।যা বলবেন অফিসে এসে বলেন।

জেলা রেজিস্ট্রার আনোয়ারুল হক চৌধুরীর মন্তব্য নিতে তার ব্যবহৃত ০১৭১১৫৬৭৪৩৩ ফোনে বক্তব্য নিতে গেলে ভুল নাম্বারে কল করেছেন বলে লাইনটি কেটে দেন।
পরে আবারও একাধিকবার ফোন দিলে তিনি আর রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, জ্বালানি সংকটে সরকারের অফিস সূচী পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, ‘যেখানে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস আদেশ রয়েছে’।
সাব-রেজিস্টার বুলবুল আহমেদ সরকারের সেই আদেশটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে নিজের মনগড়া অনুযায়ী অফিস করছেন।

আলোকিত প্রতিদিন /২৮ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

 

ধামরাইয়ে ৫ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: ৩০ লাখ টাকা জরি#মানা!

মামুন আহমেদ জয় : -ঢাকা জেলা প্রতিনিধি , ঢাকার ধামরাইয়ে পরিবেশ দূষণবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫টি ইটভাটাকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। আজ সোমবার উপজেলার সুতিপাড়া এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
**জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ:**
অভিযানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিটি ইটভাটায় ৬ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. মেসার্স মোহাম্মদ আলী ব্রিক্স
২. মেসার্স জে এন ব্রিক্স
৩. মেসার্স আই এন সি ব্রিক্স-০১
৪. মেসার্স আর এস ব্রিক্স
৫. মেসার্স এস এন বি ব্রিক্স
**অভিযান পরিচালনা:**
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট **জনাব ফয়জুন্নেছা আক্তার**-এর নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক **জনাব মোছাঃ জেসমিন আক্তার**। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জনাব এস, এম, মনজুর-উল-আলম।
**আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশগ্রহণ:**
অভিযান চলাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনগত সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের একটি বহর, এক প্লাটুন র‍্যাব এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়ুদূষণ রোধে এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এ ধরণের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাভারের সাংবাদিককে অ*পহরণ চেষ্টার প্র*তিবাদে মা*নববন্ধন

শহিদুল্লাহ সরকার:

সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রচারের জেরে দেশ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি দেওয়ান ইমনের ওপর হামলা এবং অপহরণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সাভার মডেল থানার সামনে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে কর্মরত শতাধিক সাংবাদিক। পরে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এক ঘণ্টার ‘কলম বিরতি’ পালন করেন তারা। মানববন্ধনে থেকে বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে দেশ টিভির প্রতিবেদক দেওয়ান ইমনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন ও তার লোকজন। এই ঘটনা শুধু ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়। বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর সরাসরি আঘাত। বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের হামলা বা অপহরণের চেষ্টা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। সেইসাথে সকল সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে অপসারণ, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংবাদিক নেতারা। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবেও জানান তারা। সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তোফায়েল হোসেন তোফাসানির সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, সাভার উপজেলা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোজাফফর হোসেন জয়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান নিপু, ধামরাই রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আদনান হোসাইন, সাভার প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ইমদাদুল হক, এখন টিভির প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক ও শ্রমিক নেতা আহমেদ জীবন। অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার ক্রাইম রির্পোটার শহিদুল্লাহ সরকার, কালের কন্ঠের সাভার প্রতিনিধি ওমর ফারুক, চ্যানেল ওয়ানের সাভার প্রতিনিধি মাহিদুল ইসলাম মাহি, ৭১ টিভির সাভার প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন, স্টার টিভির সাভার প্রতিনিধি আহমেদ সোহান সিরাজী, নাগরিক টিভির আশুলিয়া প্রতিনিধি রাকিব হাসান, চ্যানেল এস এর সাভার প্রতিনিধি রাজিব মাহমুদ, আশুলিয়া প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন মানিক, ধামরাই প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, মানবকন্ঠের সাভার প্রতিনিধি ওমর ফারুক, দৈনিক সংগ্রামের সাভার প্রতিনিধি শামীম হোসেন, ডেইলী সানের সাভার প্রতিনিধি মেহেদী হাসান মানিক, ভোরের ডাকের সাভার প্রতিনিধি মো. সাইফুল্লাহ, জনকন্ঠের আশুলিয়া প্রতিনিধি আল-মামুন, বাংলা নিউজের রাশেদুল ইসলাম সোহাগ, বিডি ২৪ লাইভে শাকিল হাসান, গ্লোবাল টিভির আশুলিয়া প্রতিনিধি শাহীন আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও সাভারের সাব-রেজিস্টার জাকির হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রচার করেন দেশ টিভির প্রতিনিধি দেওয়ান ইমন। সোমবার দুপুরে দেওয়ান ইমন সহ কয়েকজন সংবাদকর্মী দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনের প্রস্তুতির সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। এ সময় সাব-রেজিস্টার জাকির তার লোকজন নিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালান ও দেওয়ান ইমনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন /২৮ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ, যা দেশের জ্বালানি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশগুলোর তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধি এবং রুশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। এর আগে সকালে রোসাটমের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং পরে হেলিকপ্টারে রূপপুরে গিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রথম ইউনিট পরিচালনার লাইসেন্স প্রদান করে এবং ৫২ জন বিশেষজ্ঞকে অনুমোদন দেয়। কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন এই মেগাপ্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

টাঙ্গাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

“সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।
র‌্যালিটি শহরের গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা জজ আদালতের সভাকক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আবদুল মজিদ, ল্যান্ড সার্ভের আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ মোশারফ হোসাইন, পারিবারিক আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা জাহান স্বর্ণা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন এফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, জেলা লিগাল এইড অফিসার মিনহাজ উদ্দিন ফরাজি, আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম এবং আদালতের সরকারি কৌশলী শফিকুল ইসলাম রিপন প্রমুখ ।
আলোচনা সভায় গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়, দুস্থ ও সাধারণ মানুষের সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন /২৮ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

ন্যায়ের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই নয়: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক:

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুসংহত করতে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরশাসনের পর দেশ আবার গণতান্ত্রিক পথে এগোচ্ছে। এই অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করতে হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো নাগরিক বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়—এ লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে।

তিনি আরও জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের জন্য সহজে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ন্যায়বিচারকে কেবল আদালতকেন্দ্রিক বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে প্রতিফলিত হওয়া একটি মূল্যবোধ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিচার বিলম্ব মানেই বিচার অস্বীকার”—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সময় ও খরচ উভয়ই কমছে এবং আদালতের ওপর চাপও হ্রাস পাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাসকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক-কে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে অবদানের জন্য মনোনীত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রাপ্তি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সেই অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি অতীতে কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনেক মানুষ শুধুমাত্র আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বছরের পর বছর বিচার না পেয়ে কারাগারে থাকেন—যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সমতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত জরুরি। ন্যায়বিচার কেবল আইনের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান বিমানমন্ত্রীর

সৈয়দ এনামুল হুদা, মানিকগঞ্জ:

​বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের আস্থার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
২৮ এপ্রিল ​মঙ্গলবার সকালে মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত
‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, অসহায় মানুষের যেন এমন কোনো অভিযোগ না থাকে যে তারা ন্যায্য আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আইন পেশাজীবীদের আরও মানবিক, আন্তরিক ও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বিচারবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে আইনি সহায়তা পেতে পারে।”

রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জেলার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “বিভেদ ও দ্বন্দ্ব নয়—ঐক্যই পারে মানিকগঞ্জকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে। কে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, সেটা বড় বিষয় নয়; আমি সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই।”

জেলা ও দায়রা জজ এসকে এম তোফায়েল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন -চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আসাদ মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সামছ জগলুল হোসেন, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। এছাড়াও জেলার বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ সভায় অংশ নেন।

আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী মানিকগঞ্জ সদর ডাকবাংলোর আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি সেখানে ছয় তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট চারতলা আধুনিক ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।

আলোকিত প্রতিদিন /২৮ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

অতিবৃষ্টিতে হাওরের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে, বিপাকে কৃষক

আলোকিত প্রতিবেদক:

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও টানা অতিবৃষ্টিতে সেই আনন্দে নেমে এসেছে ভাটা। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে পাকা ধানক্ষেত ডুবে যেতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত তলিয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্নের সোনালি ফসল এখন পানির নিচে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অতিবৃষ্টির প্রভাব শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই—ধান শুকানোর খলাতেও পানি জমে যাওয়ায় মাড়াই ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। আগামীকালও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুর উপজেলাতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে যন্ত্রের মাধ্যমে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন চাল। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

অষ্টগ্রামের কৃষক ফুল মিয়া জানান, “অতিবৃষ্টিতে শত শত একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হচ্ছে, আমরা অসহায়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং দ্রুত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে খোয়াই নদীর পানি ঢুকে কিছু এলাকায় পাকা ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। আগাম বন্যা এড়াতে আগে থেকেই কৃষকদের ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম