আজ , ।   
Home Blog Page 551

ভারত,নেপাল ও ভুটান থেকে কিছু পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভারত, নেপাল এবং ভুটান থেকে আমদানিযোগ্য বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সুতা, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো, নিউজপ্রিন্ট, বিভিন্ন ধরনের পেপার এবং পেপার বোর্ডসহ একাধিক পণ্য আমদানিতে সীমাবদ্ধতা জারি করা হয়েছে।

১৩ এপ্রিল রবিবার প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করে এনবিআরের কাস্টমস উইং। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ এর উপ-ধারা (১) এর ক্ষমতাবলে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী,নেপাল ও ভুটানে উৎপাদিত এবং প্রক্রিয়াজাত সুতা ও আলু ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানি করা যাবে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ডুপ্লেক্স বোর্ড, নিউজপ্রিন্ট, ক্রাফট পেপার, সিগারেট পেপার, মাছ, সুতা, আলু, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো, রেডিও-টিভি পার্টস, সাইকেল এবং মোটর পার্টস, ফরমিকা শিট, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিলওয়্যার, মার্বেল স্ল্যাব ও টাইলস এবং মিক্সড ফেব্রিক্স—এই পণ্যগুলো ভারত থেকে আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে মূসক নিবন্ধিত বিড়ি উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল হিসেবে তামাক ডাঁটা আমদানি করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে।

একই সঙ্গে পূর্বে জারি করা এস.আর.ও নং ২৯৭-আইন/২০২৪/৮৯/কাস্টমস প্রজ্ঞাপনটির কয়েকটি ক্রমিক নম্বর সংশোধন করা হয়েছে। এতে পণ্য তালিকার হালনাগাদ করা হয় এবং ‘সকল রফতানিযোগ্য পণ্য’ আগের মতোই অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা এবং অবৈধ রি-এক্সপোর্ট বা রিরাউটিং রোধ করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, কাগজ ও সিরামিক পণ্য খাতে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা রক্ষা করাই মূল উদ্দেশ্য। তবে কিছু ব্যবসায়ী মহল থেকে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, বিকল্প উৎস থেকে পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও, ধারণা করা হচ্ছে বাজেটপূর্ব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল ২০২৫/মওম

মেলায় নাগরদোলায় চড়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর গলা কাটলেন স্বামী

নোয়াখালী প্রতিনিধি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নাগরদোলায় উঠিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে স্বামী। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘাতক স্বামীকে আটক করে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের হাফেজ মহিন উদ্দিনের ওরসের মেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লাকী বেগম (১৯) একই উপজেলার কালাপোল এলাকার বেদে পল্লীর মনছুর আলীর মেয়ে এবং আটক স্বামী মো.শাকিব সদর উপজেলার মান্নান নগর বেদে পল্লী পাড়ার মঙ্গলের ছেলে।
নিহতের মা শেফালী বেগম জানান, এক বছর আগে পারিবারিক জেলার সদর উপজেলার মান্নান নগরের বেদে পাড়ার মঙ্গলের ছেলে শাকিবের সাথে লাকীর বিয়ে হয়। লাকী বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত পনের দিন আসে সে শশুর বাড়ি থেকে স্বামীসহ বাবার বাড়িতে আসে। গতকাল রোববার তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শাকিব তার স্ত্রীকে মারধর করে জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। পরে নিজের ব্যবহৃত একটি মুঠোফোনে ভেঙ্গে ফেলে এবং নিজের মাথা নিজে পাঠিয়ে ফেলে। সোমবার সন্ধ্যার দিকে লাকীর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা একলাশপুর ইউনিয়নের মহিন উদ্দিন হাফেজের ওরসের মেলায় ঘুরতে যায়। সেখানে স্বামী-স্ত্রী এক সাথে নাগরদোলায় উঠে।
শেফালী বেগম নাগরদোলায় থাকা প্রত্যক্ষদর্শী এক নারীর বরাতে আরো জানায়, একপর্যায়ে নাগরদোলায় শাকিব তার স্ত্রী গলায় ছুরিকাঘাত করে গুরুতত্বর আহত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.হাবীবুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হওয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ  রপ্তানি বন্ধ করল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হওয়ার মধ্যে এবার বেইজিং বিরল কয়েকটি খনিজ পদার্থ এবং চুম্বক রপ্তানি বন্ধ করেছে। এতে করে এই বাণিজ্যযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে পড়েছে অটোনির্মাতারা থেকে শুরু করে অ্যারোস্পেস নির্মাতা, সেমিকন্ডাকটর কোম্পানি এবং সামরিক কন্ট্রাক্টাররাও।

নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স জানায়, বাণিজ্যযুদ্ধ মোকাবিলা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনা করে এসেছে চীন সরকার। চীন থেকে কোন কোন জিনিস রপ্তানি করা হবে তার একটি  বিধিমালা ব্যবস্থার খসড়া তৈরি করেছে চীন প্রশাসন। সেই খসড়া তালিকাতেই আছে বিরল খনিজ এবং চুম্বকের কথা। একবার এই নতুন ব্যবস্থা চালু হয়ে গেলে কয়েকটি কোম্পানিসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কনট্রাক্টরদের জন্যও স্থায়ীভাবে এই খনিজ এবং চুম্বক রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর ফলে বিপদে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, গাড়ি থেকে শুরু করে ড্রোন, রোবোট এবং ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত অনেককিছু তৈরিতেই চুম্বক অপরিহার্য। চীন প্রশাসন ইতোমধ্যেই বিভিন্ন চীনা বন্দরে চুম্বকের চালান পাঠানো বন্ধ করেছে।

সেইসঙ্গে বিরল খনিজ পদার্থও রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই খনিজ বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সরঞ্জাম তৈরিতে কাজে লাগে।

যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বিরল খনিজ এবং চুম্বক আমদানি করে, যার বেশির ভাগটাই আসে চীন থেকে।

অনেকের ধারণা, চীন এই দুই জিনিস রপ্তানি না করলে চাপে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ২ এপ্রিল থেকে চীনের পণ্যে যে শুল্ক কার্যকর করেছেন তার জবাবেই চীনের এমন পদক্ষেপ। চীন এই সিদ্ধান্ত দুই মাস বহাল রাখলেই কাস্টমারদের গুদাম খালি হয়ে যেতে পারে।

চীন সরকার গত ৪ এপ্রিলেই ছয়টি বিরল ভারী ক্ষারমৃত্তিকা-সহ বিরল চুম্বক রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। ওই বিরল ক্ষারমৃত্তিকাগুলো কেবল চীনেই পরিশোধন করা হয়। আর বিরল চুম্বকগুলোর ৯০ শতাংশই কেবল মাত্র  চীনে উৎপাদিত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল ২০২৫/মওম

৫ বছর সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে আমি কিছু বলিনি, জনগণ বলেছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা!

বিশেষ প্রতিনিধি : পাঁচ বছর সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ কথা জনগণ বলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আগামী নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কবে হতে পারে তা বলে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এর বাইরে আমার কিছু আর বলার নেই।

এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ডিসি হিলে বৈশাখের অনুষ্ঠানের আগেরদিন হামলার ঘটনা ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, সরকার সেই ব্যবস্থা নেবে এখন।

ডিবিপ্রধানকে সরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশে চাকরির ক্ষেত্রে যাবে আসবে এটাই তো নিয়ম। মডেল মেঘনা আলমকে আটকের ঘটনায় ডিবিপ্রধানকে সরানো হয়নি। এটি একটি নরমাল প্রসেস।

এর আগে, সুনামগঞ্জে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, সাধারণ মানুষ বলছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের থেকে ভালো হয়েছে। রাস্তা থেকে আমাকে বলতেছে আপনারা আরও ৫ বছর থাকেন। যা নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নের সবার লক্ষ্য এক। তবে সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিয়ে সামান্য ভিন্নতা আছে। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- দ্রুততার সঙ্গে একটি জাতীয় সনদের জায়গায় পৌঁছানো। এই কমিশনের মেয়াদ যেহেতু জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত। তাই আমরা আশা করি, প্রাথমিক আলোচনা মে মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে শেষ করতে পারব। পরে আমরা পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হব।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ গুলশান আরা আহমেদ আর নেই

বিনোদন প্রতিবেদক : শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী গুলশান আরা আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না ইলাইহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক কাজল আরেফিন অমি। তিনি লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমাদের গুলশান আরা আহমেদ আপা আজ সকাল ৬টা ৪০-এ ইন্তেকাল করেছেন তিনি।

অমি আরও লিখেছেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্টে উনি কাবিলার আম্মা, নোয়াখালীর চেয়ারম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আপনাকে আমরা মিস করব আপা। আল্লাহ পাক ওনাকে জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক। আমিন।’

অভিনেত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগরও।এদিন সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গুলশান আরা আহমেদ আপা একজন ভালো মানুষ, ভালো অভিনেত্রী। আজ সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

পরবর্তী সময়ে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি গুলশান আরা আহমেদকে। দর্শকদের ‘চরিত্র’, ‘ডনগিরি’, ‘ভালোবাসা আজকাল’, ‘পোড়ামন’ এর মতো জনপ্রিয় সব সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

এ অভিনেত্রীর এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ছেলে আসিফ আহমেদ হৃদয় এবং মেয়ে জাকিয়া রেজওয়ানা আহমেদ জ্যোতি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শেখ হাসিনা ও জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

আলোকিত প্রতিবেদক:

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা পৃথক দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের দেওয়া চার্জশিট আমলে গ্রহণ করেন। এর মধ্যে এক মামলায় ১২ জন এবং অন্য মামলায় ১৭ জন আসামি। আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। একইসঙ্গে আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছে। এ নিয়ে দুদকের করা ছয় মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো।

আদালতে দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া অন্য আসামিরা হলেন-গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো.আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক সদস্য শফি উল হক, পরিচালক মো: কামরুল ইসলাম, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক গৃহায়ন এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা, পূরবী গোলদার, আনিছুর রহমান, নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন, নায়েব আলী, খুরশীদ আলম, শরীফ আহমেদ, শহীদ উল্লা, ওয়াছি উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম দুই মামলাতেই রয়েছেন। সে হিসেবে দুই মামলায় মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলো।

গত ১৪ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এস.এম রাশেদুল হাসান বাদী হয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রধান এবং শেখ হাসিনাকে সহযোগী আসামি করে মামলা করেন। এ মামলায় আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

গত ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক মো.সালাউদ্দিন বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শেখ হাসিনা নিজের মালিকানায় ও তার ছেলে, মেয়ে, বোন এবং বোনের দুই ছেলে-মেয়ের নামে ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরেও সেই তথ্য গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন এবং নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরসহ প্রকল্পের বরাদ্দ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউকের কর্মচারীদের প্রভাবিত করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। পূর্বাচলে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানার পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১২, ১৩  ও ১৪ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারী এবং পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে বহাল থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নং সেক্টরের ২০৩ নং রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

দেড় দশক দেশ শাসনের পর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল ২০২৫/মওম

এমন দমবন্ধ করা পহেলা বৈশাখ দেখিনি, কখনও দেখব বলেও আশা করিনি শাওন!

আলোকিত ডেস্ক : প্রয়াত নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দ্বিতীয় স্ত্রী ও বিতর্কিত অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন মন্তব্য করেছেন, এমন দমবন্ধ করা, সব কিছু অবরুদ্ধ করা পহেলা বৈশাখ দেখিনি। কখনও দেখব বলেও আশা করিনি।

এ বারের পহেলা বৈশাখটা অন্য বারের তুলনায় যেন একবারে আলাদা। প্রতি বছর আমার দেশে যে ভাবে এই উৎসবটা পালিত হত, সে ভাবে আর হবে না, খুবই অপ্রত্যাশিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষে ঢাকায় যে শোভাযাত্রা বার হয়, সেটারও নাম বদল হয়েছে। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র সঙ্গেই পরিচিত আমরা। যদিও এ বছর সেটা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বলেই পরিচিত হবে। নামবদলের নেপথ্যে যে রাজনীতির ভূমিকা আছে, তা আঁচ করতে পারি। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে নামবদল হলেই যে আনন্দ নষ্ট হবে, সেটা কিন্তু মনে করতাম না। কিন্তু যখনই দেখলাম, প্রতি বছর আমাদের যে শোভাযাত্রা হয় সেটা চারুকলা বিভাগের ছাত্রেরা আয়োজন করে। কিন্তু এ বার ব্যাপারটা ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর মধ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি। আসলে সংস্কৃতি কিংবা ঐতিহ্য উদ্‌যাপনে সরকারের হস্তক্ষেপ আমরা আশা করি না। সরকারের এই হস্তক্ষেপের কারণে প্রতি বার যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হয়, সেটা এ বার হবে না বলেই আমার ধারণা। আমি প্রতি বছর সশরীরে শোভযাত্রায় থাকতে না পারলেও অন্তত টেলিভিশনের পর্দায়, কিংবা সমাজমাধ্যমে সবটা দেখতাম। জানি না, এ বার তেমন কিছু হবে কি না! তবে এ বছর উদ্‌যাপন স্বতঃস্ফূর্ত না হলে বিষয়টা একজন বাঙালি হিসেবে ও শিল্পী হিসেবে দুঃখজনক। আমি নিজে শিল্পী। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের শিল্পীজগৎ ও সংস্কৃতিমনস্কদের নিয়ে নিজেই কেমন সন্দিহান হয়ে গিয়েছি।

 

 

এমন দমবন্ধ করা, সব কিছু অবরুদ্ধ করা পহেলা বৈশাখ দেখিনি। কখনও দেখব বলেও আশা করিনি। আসলে ছোটবেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রমনা বটমূল, ছায়ানটের গান। ছোটবেলায় সব সময় যেতাম সেখানে। ছায়ানটের গান দিয়ে শুরু হত দিন। সকলে মিলে রাস্তায় বেড়াতাম, রংবেরঙের মুখোশ কিনতাম, যে দিকে তাকাতাম সে দিকেই লাল-সাদা। মনে হত গোটা বাংলাদেশটা ঝলমল করছে। তেমন একটা ঝলমলে শহরে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনটা এমন হয়ে যাবে, সেটা ভাবিনি।

 

 

চারপাশে নামবদল নিয়ে এখন নানা কথা শুনছি। তবে এর বীজটা মনে হয় আগে থেকেই রোপণ করা হয়ে গিয়েছিল। আসলে এখন নামের মধ্যেও ধর্ম খুঁজে বার করা হচ্ছে। ‘আনন্দ’ শব্দটার মধ্যেও চাইলে অনেক কিছু খুঁজতে পারেন। আমার ধারণা, একটা বিশেষ শ্রেণিকে তুষ্ট করতেই এই নামবদল। কারণ তাঁরা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটা পছন্দ করে না। তাঁরা অনেক দিন ধরেই চাইছিলেন, এই বদলটা হোক। রাজনৈতিক পটভূমি বদলালে কিছু না কিছু রদবদল হয়ই। কিন্তু আমরা যা ভেবেছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি পরিবর্তন হয়েছে।

অনেকেই হয়তো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটা বিভাজন লক্ষ করতে পারবেন। আগে এখানে বাঙালি সত্তা প্রবল পরিমাণে ছিল, কিন্তু এখন অবশ্য একটা বিভাজন খুবই স্পষ্ট।

 

তবে মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা যে বাঙালিয়ানা দেখে বড় হয়েছি, সেটা হয়তো আমার সন্তানেরা দেখতে পাচ্ছে না। তবে আমার দুই ছেলে অনেকটা বড়। একজনের বয়স ১৮, ছোটটার ১৪ হল। মানুষ হিসেবে ওরাও খুব সচেতন। ওরা বাংলাদেশের ইতিহাস পড়ত। এখন আমি আরও বেশি করে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়তে উৎসাহিত করি। ওদের একটা নিজস্ব মনন তৈরি হচ্ছে। আসলে আমি আশা ছাড়িনি। আমার মনে হয়, আমি যে বাংলাদেশ দেখে বড় হয়েছি, তেমন বাঙালিয়ানা আমার সন্তানেরাও আবার দেখতে পাবে। আর চাই, আমার সন্তানেরা যাতে বাঙালির সংস্কৃতির গুরুত্বটা বোঝে।

 

 

 

তবে যে কোনও প্রসঙ্গে একজন কথায় কথায় চলেই আসেন। তিনি হুমায়ূন আহমেদ। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এমন সময় তিনি থাকলে তাঁর কেমন লাগত? আমি নিশ্চিত করে উত্তর দিতে পারব না, তাঁর কী অনুভূতি হত। তবে এটা জানি, তিনি প্রবল ভাবে বাঙালি ছিলেন। যাঁরা ওঁর লেখা পড়েছেন, তাঁরা জানেন। তিনি বাঙালির সংস্কৃতি থেকে রান্নাবান্নার কতটা অনুরাগী ছিলেন। একটা কথা হলফ করে বলতে পারি। পরিবর্তিত এই সময়ে যেখানে নাটক মঞ্চস্থ করা বন্ধ হচ্ছে, গান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের উপর বাধা আসছে, সেটা হুমায়ূন আহমেদ পছন্দ করতেন না বলেই ধারণা।

মাঝেমধ্যে হতাশ লাগে। তবে তার পরেও দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ছাড়ি না। ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখি। তবে একটা জিনিস বড্ড ভাবায়। বাংলাদেশে ‘মব সংস্কৃতির’ চল শুরু হয়েছে, যাকে বলা হয় ‘উত্তেজিত জনতা’। তবে এটাও ঠিক, জনতা নিজে নিজে উত্তেজিত হয় না। পিছনে কোনও না কোনও ইন্ধন থাকে। আমি চাই এই ‘মব সংস্কৃতি’ বন্ধ করতে আশু পদক্ষেপ করুক এই সরকার।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টেকনাফে নিখোঁজের ১০ দিন পর ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার!

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফে নিখোঁজের ১০ দিন পর গহীন পাহাড় থেকে ইজিবাইক টমটম চালক মাহবুর রহমানের অর্ধগলিত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মাহবুর রহমান( ১৯) টেকনাফের হ্নীলা ৬ নম্বর ওয়ার্ড হামজারছড়ার উলু চামারির মৃত সৈয়দ হোসনের ছেলে। হ্নীলার স্থানীয় নুর কামাল জানান, গত ১০ দিন আগে মাহবুর রহমান তার টমটম ( ইজিবাইক) সহ নিখোঁজ ছিল।এর পরে আজ সোমবার দুপুরের দিকে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়ার সময় লোকজন একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তবে তার সঙ্গে থাকা ইজিবাইক টমটমের খোঁজ পাননি। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আজ সোমবার দুপুর ২ টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা উলু চামারি গহীন পাহাড় থেকে বস্তাবন্দি অর্ধগলিত একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার মরদেহ ব্যক্তির নাম মাহবুর রহমান বলে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার মরদেহ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পরে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

কারাগারে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ খেলেন বন্দিরাও!

আলোকিত ডেস্ক : বাংলা বর্ষবরণে আনন্দের ভাগিদার হয়েছেন কারাবন্দিরাও। পান্তা-ইলিশে সকাল শুরুর পর দিনভর তাদের জন্য রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। দুপুরে ও রাতে উন্নত খাবারের পাশাপাশি বন্দিদের অংশগ্রহণে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শোভাযাত্রা, ছোট পরিসরে বৈশাখী মেলাসহ বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের আপ্যায়নসহ নানা আয়োজনে বর্ষবরণ করছে দেশের কারাগারগুলো।

ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, বন্দিদের জন্য সকালেই পান্তা-ইলিশসহ নানান পদের ভর্তা ছিল। দুপুরে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়েছে, রাতেও উন্নত খাবার দেওয়া হবে। বিকেল ৩টায় তাদের অংশগ্রহণে কারাগারের অভ্যন্তরে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

তিনি বলেন, এর বাইরে বন্দির আত্মীয়স্বজন ও আমাদের স্টাফদের অংশগ্রহণে র‌্যালি ছিল। বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জিনিস যেমন হাতপাখা, বাচ্চাদের জন্য চরকি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া হাওয়াই মিঠাই, বায়োস্কোপসহ কারাগারগুলোতে ছোট পরিসরে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

স্টাফদের জন্যও সকালে ছিল পান্তা-ইলিশ, দুপুরে ও রাতে বিশেষ খাবার এবং সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‍্যাফেল ড্রর আয়োজনের কথা জানান এই কারা কর্মকর্তা।

এদিন সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় কারাগারের আবাসিক এলাকার মাঠ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়ে কারাগারের সামনে হয়ে কারারক্ষী ব্যারাক হয়ে আবার আবাসিক এলাকার মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এতে ঘোড়ার গাড়িসহ গ্রামীণ ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে শাড়ি-লুঙ্গি পরে নানান সাজে অংশ নেন কারারক্ষীরা।

কারা অধিপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে দেশের সব কারাগারেই আনন্দ-উৎসবসহ বন্দি ও স্টাফদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি কারাগারগুলোতে দুপুরে ও রাতের খাবারে রয়েছে মুরগির রোস্ট, পোলাও, মিষ্টি, পান-সুপারি। কোথাও কোথাও গরুর মাংসও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, এছাড়া বন্দি ও স্টাফদের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে। দেশের সব কারাগারেই বৈশাখী উৎসবের নানান আয়োজন চলছে।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, দেশের সব কারাগারেই পহেলা বৈশাখ উৎসবে মেতেছেন বন্দিরা। তাদের জন্য রয়েছে উন্নত মানের খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সিরাজগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি

মো: আতিকুর রহমান,  সিরাজগঞ্জ রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে পৌর ভাসানী মিলায়তন চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই র‍্যালি শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। নববর্ষ উদযাপনের এই আয়োজনে ছিল উৎসবের আমেজ, সুর, ছন্দ আর রঙের মেলবন্ধন।
আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ খান হাসান, জিসাস জেলা সভাপতি মো. শফি মাহমুদ, সহ-সভাপতি মো. আতিকুর রহমান খন্দকার (তুহিন) ও মো. আ. মমিন খান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক, প্রচার সম্পাদক মো. ইয়ামিন হোসাইন (বিপ্লব), সাংস্কৃতিক সম্পাদক আপন ও পলাশসহ বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতারা বাংলা নববর্ষকে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতির একটি গৌরবময় ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই উৎসব শুধু বিনোদন নয়, জাতির সংস্কৃতি, ঐক্য ও সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ।”
তারা নতুন বছরে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুরো আয়োজনে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ, রঙিন সাজসজ্জা ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার প্রাণবন্ত আয়োজন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি