আজ , ।   
Home Blog Page 549

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ জুলাইয়ে ঘোষণা

আলোকিত প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ আগামী জুলাই মাসে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

১৬ এপ্রিল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

আনোয়ারুল বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে যেসব তরুণের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে বিদ্যমান আইন দিয়ে হবে না। এজন্য আইন পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে। এমন উদ্যোগ প্রথমবারের মতো নেওয়া হচ্ছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচন সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বেশকিছু জেলায় ভিজিট করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলেছেন, তারা আরও ইম্প্রুভ করবেন। আইনশৃঙ্খলা প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। আপনারা দেখে থাকবেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং পরিশুদ্ধ ভোটার তালিকা অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ ঘরে ঘরে গিয়ে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছে, আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের টার্গেট ছিল ৬১ লাখ ৮৮ হাজার নতুন ভোটার নিবন্ধিত হবে। দেখা যাচ্ছে, ৪৩ লাখের ওপরে বাদ পড়া ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে, নতুন হয়েছে ১৯ লাখ ৬৬ হাজার। মোট ৬৩ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে। আমরা আশা করি জুনের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকাটি পেয়ে যাব।

প্রশ্ন হচ্ছে, তফসিল ঘোষণার আগে অনেকের বয়স ১৮ হবে। তারাও ভোট দিতে চায়, এবার এই তরুণরা নতুন ভোটার হবে। নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের যেন আমরা ভোটার তালিকায় যুক্ত করতে পারি এবং তারা যেন ভোট দিতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ এপ্রিল ২০২৫/মওম

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট ডেডলাইন দেননি:মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কোনো (নির্বাচনের) সুনির্দিষ্ট ডেডলাইন আমাদের দেননি। তিনি ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছেন।

১৬ এপ্রিল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বের হয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জানাননি। তিনি ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছেন। আমরা বলেছি ডিসেম্বর নির্বাচনের কাটঅফ সময়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।

দুপুর ১২টার দিকে যমুনায় প্রবেশ করে বিএনপির প্রতিনিধি দল। এরপর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নজরুল ইসলাম খান এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ এপ্রিল ২০২৫/মওম

১৫ বছর পর ঢাকায় এলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব

আলোকিত প্রতিবেদক:  

পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ। প্রায় ১৫ বছর পর পাকিস্তানের কোনো সচিব ঢাকায় এলেন।

১৫ এপ্রিল বুধবার দুপুরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক ইশরাত জাহান। বিষয়টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ের এক কর্মকর্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা জানিয়েছেন, আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ঢাকায় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সচিব বৈঠকে ইসলামাবাদের নেতৃত্ব দেবেন আমনা বালুচ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো.জসীম উদ্দিন ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।

সূচি অনুযায়ী,পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং মধ্যাহ্নভোজ শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সফরে সার্বিক দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হবে। এই প্ল্যাটফর্মে কোনো বিষয় বাদ থাকে না, সব আলোচনা হয়। অগ্রগতি কী আছে, কী করার আছে বা করা যায়; কী কী দেওয়ার আছে বা নেওয়া যায় সবই আলোচনায় টেবিলে থাকবে। মোটা দাগে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কানেক্টিভিটি; বিশেষ করে আকাশপথে যোগাযোগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো গুরত্ব পাবে। এছাড়া, সার্ক, ওআইসি, ডি-৮ এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আঞ্চলিক এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় পর দুই দেশের মধ্যে ৬ষ্ঠ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। ২০১০ সালে সর্বশেষ ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছিল দুই দেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব। এছাড়া,অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের অর্থনৈতিক কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক হয় ২০০৫ সালে। দীর্ঘদিনের জট খোলার পর আশা করা হচ্ছে,এবারের আলোচনায় পরবর্তী অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক নিয়ে কথা হবে।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দু’দেশের সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রস্তাব। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি যৌথ কমিশন পুনর্বহালের বিষয়টি তুলতে পারে পাকিস্তান। বাংলাদেশের দিক থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে পাকিস্তানকে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে আন্তরিক বাংলাদেশ। তবে সম্পর্কের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ভুলে যায়নি ঢাকা। বাংলাদেশ মনে করে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা, ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা জরুরি।

অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা না করে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী নয়। ঢাকার চাওয়া, পাকিস্তান এগিয়ে আসুক। কেননা, অমীমাংসিত বিষয়ে সুরাহা যতদিন হবে না ততদিন সামনে আসবে। আলোচনার টেবিলে থাকবে। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব বলেন বা মন্ত্রী বলেন তাদের সঙ্গে আলোচনায় অমীমাংসিত বিষয় থাকে। অমীমাংসিত ইস্যু যতদিন সুরাহা না হয়, ততদিন উঠতে থাকবে; এটাতো স্বাভাবিক। আমরা তো চাই এগুলোর সুরাহা বা মিটমাট হয়ে যাক। একটা অবস্থান নিক ওরা।

এই কূটনীতিক বলেন, ৫৪ বছর হয়ে গেল। কিন্তু সমস্যার সমাধানতো হচ্ছে না। এখন তারা কি চায় আলোচনা করে বলুক। নতুন কিছু তো বলুক। আনুষ্ঠানিক ক্ষমার বিষয়ে ওদের অস্বস্তি আছে, সেটাতো বোঝাই যায়। এ ছাড়া, আটকে পড়াদের নিয়ে যাওয়া বলেন, টাকা-পয়সা বুঝিয়ে দেওয়া বলেন তারা কমফোটেবল হলে আগেই সব মিটে যেত। সমস্যার সমাধান হয়ে যেত অনেক আগেই। তাদের নিশ্চই কোনো একটা কিছু আছে। দেখা যায়, আলোচনা কি আসে।

এ‌দি‌কে, চল‌তি মা‌সের শেষের দিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। পা‌কিস্তা‌নের পররাষ্ট্রস‌চি‌বের ঢাকা সফরকা‌লে দেশ‌টির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নি‌য়ে আলোচনা হ‌বে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ এপ্রিল ২০২৫/মওম

৮ মাসে আরও দিশেহারা আওয়ামী লীগ !

আলোকিত প্রতিবেদক : ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আট মাস পেরিয়ে গেলেও চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই দিনাতিপাত করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সহসা এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার কোনো আশাও তাদের সামনে নেই।

কত দিনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—তা নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত, দিশাহীন হয়ে পড়েছেন আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা।

বিদেশে পাড়ি জমানো আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তবে অধিকাংশ নেতাই রয়েছেন ভারতে। তারা দিল্লি, কলকাতা, শিলং, আগরতলা, শিলিগুড়িসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতে পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের লোকজনও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশে যারা আত্মগোপনে আছেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ হঠাৎ কোনো কোনো জায়গায় দুই-একটি ঝটিকা মিছিল বের করেছেন। সবশেষ গত ৬ এপ্রিল সকালে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ে (সাবেক বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেন। এর আগে ২১ মার্চ সন্ধ্যায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন। ওই মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত অসহায় ও নিরাপত্তাহীন এবং অধিকাংশ সময়ই পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি অনেকে ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত বাড়িতে আসতে পারেননি বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। ঈদের সময়েও অনেকে নিজ বাড়ি যেতে এবং স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেননি।

সরকার পতনের পর দলের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর হাজার হাজার নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেক নেতা, সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, এখনও অনেকের নামে মামলা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তার অব্যাহত আছে। শেখ হাসিনার নামে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ’ মামলা হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কারো কারো নামে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ের যেসব নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে, তাদের অর্ধিকাংশের একাধিক, কারো কারো নামে চার-পাঁচটি করে মামলা হয়েছে।

এদিকে কতজন নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, আওয়ামী লীগের কাছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য বা হিসাব নেই। দলটির একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, ১৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন। তবে নেতাদের কারো কারো মতে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। তবে সঠিক হিসাব নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তাই পরিস্থিতি যত করুণই হোক গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকতেই বাধ্য হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আরও কতদিন এভাবে চলবে, তা জানেন না তারা। সহসা সংকট কাটবে, এমন আশাও করতে পারছেন না। এমন কঠিন করুণ পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই-একজন নেতা কখনও কখনও হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারাও সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারছেন না। সংকট কত দিনে কাটবে, তারা সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেন না!

বিপদগ্রস্ত নেতার্মীদের অনেকে তাদের করুণ পরিস্থিতির জন্য দলের প্রভাবশালী নেতাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিদেশে চলে গেছেন এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আছেন বলে বিপদে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মনে করছেন। কোনো কোনো নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মাঝে মাঝে যোগাযোগ, খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করলেও অনেকেই কর্মীদের কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে অনেকেই নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।

আবার অনেকে নেতাদের ওপর পুরনো ক্ষোভও ঝাড়ছেন। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতায় থেকে অনেক নেতাই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিপদের সময় পাশে থাকেনি, সহযোগিতা চেয়েও পাওয়া যায়নি। ক্ষমতায় থাকাকালেই তাদের এই আচরণ লক্ষ্য করা গেছে আর এখন তো প্রতিকূল পরিস্থিতি! এ অবস্থায় তারা নিজেদের বিপদের কথাই বড় করে বলবেন। এখন তো সব পর্যায়ের নেতারাকর্মীরাই বিপদে আছেন। তাই কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার সহজ যুক্তি দেখাতে পারবেন নেতারা।

অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে থাকা তৃণমূল পর্যায়ের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক এমপির (তিনি একবার প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন) বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। টাকার অভাবে ঠিক মতো চিকিৎসা করাতে না পেরে তার অকাল মৃত্যু হয়। অথচ এমপিকে কত বার অনুরোধ করা হয়েছে ওই নেতার চিৎসার ব্যাপারে। কিন্তু তিনি কোনো খবরই নেননি। আর এখন তো নিজের সমস্যা সামলাতেই ব্যস্ত!

জানতে চাওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—কতজন দলীয় নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, জেলায় মোট কতগুলো মামলা হয়েছে—এর মধ্যে জিআর, সিআর ও আইসিটি মামলার সংখ্যা কত, কতজন নেতাকর্মী কারাগারে আছেন, আহত নেতাকর্মীর সংখ্যা কত, তারা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নিজ আসনের সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সর্বশেষ আপডেট কী ইত্যাদি বিষয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইরাকে ধূলিঝড়ে ৩ হাজার ৭শ মানুষ হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরাকে বিগত কয়েকদিন ধরে চলা ধুলিঝড়ে তিন হাজার ৭শ এর অধিক মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য দেওয়া হয়। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইফ আল-বদরকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, সোমবার থেকে বাগদাদ এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশের হাসপাতালগুলোতে অন্তত তিন হাজার ৭৪৭ জন মানুষকে ভর্তি করানো হয়েছে।

বাগদাদে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ১৪ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আল-বদর। এরপর সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুথান্নাতে। সেখানে ৮৭৪ জন রোগী হাসপাতালের ভর্তির খবর পাওয়া গেছে।

অধিকাংশ রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ইতোমধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আল-বদর। তিনি বলেছেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে ওষুধ, অক্সিজেন বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য সরঞ্জামের সংকট দেখা দেয়নি।

ইরাকে ধূলিঝড় একটি সাধারণ ঘটনা। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এগুলো এখন আরও ঘন ঘন ঘটছে।

জাতিসংঘের তালিকা অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি দেশের মধ্যে ইরাক একটি। দেশটিতে নিয়মিত ধূলিঝড়, প্রচণ্ড গরম এবং পানি সংকট দেখা দেয়।

ইরাকে সামনের দিনগুলোতে এমন ধূলিঝড় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

আলোকিত প্রতিদিন/১৬ এপ্রিল ২০২৫/মওম

আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফ নির্মাণকারী শিল্পীর বাড়িতে আগুন!

আলোকিত ডেস্ক : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার দিনগত রাতে দুর্বৃত্তের আগুনে চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

পহেলা বৈশাখে ঢাকায় আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য বানানো মোটিফের চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দিনগত রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকায় তাঁর বাড়িতে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আগুনে তার একটি ঘর পুড়ে  ছাই হয়ে গেছে।

মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘এখন আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই মুহূর্তে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমি।

এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমানউল্লাহকে মোবাইলফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ইয়াসমিন খাতুন বলেন, ‘ইতোমধ্যেই পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকাজ চলমান রয়েছে, কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

আমি আমার আসনে দাঁড়ালে, কেউ জিততে পারবে না, চ্যালেঞ্জ সাকিবের!

আলোকিত ডেস্ক : ২০২৩ সালে যখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিলেন সাকিব আল হাসান, তখন থেকেই তিনি ছিলেন আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে। একজন সক্রিয় খেলোয়াড় কী করে রাজনীতিতে যোগ দেন, প্রশ্ন ছিল তা নিয়ে। এরপর নির্বাচনের প্রকৃতি বিষয়টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আরও।

 

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। এ প্রশ্নের জবাবে সাকিব স্পষ্টভাবে বলেন, ‘যদি রাজনীতিতে যাওয়া ভুল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কেউ রাজনীতিতে গেলে সেটাও ভুল হবে। একজন ডাক্তার, আইনজীবী, ব্যবসায়ী—যেই হোক, রাজনীতিতে যাওয়া তার অধিকার। মানুষ চাইলে ভোট দেবে, না চাইলে দেবে না। এটা তাদের ব্যাপার।

এরপরই তিনি জানান তার বিশ্বাসটা, মাগুরা ১ আসনে আবারও নির্বাচন করলে, জিতবেন তিনিই। তার ভাষ্যমতে, ‘আমি মনে করি, আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, কারণ আমি মানুষের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করি, আমি আবার নির্বাচন করলে কেউ আমাকে হারাতে পারবে না।’

রাজনীতিতে আসার পেছনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে সাকিব বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, যদি আপনি সিস্টেমের বাইরে থাকেন, তাহলে আপনি পরিবর্তন আনবেন কীভাবে? যারা এখন দেশ চালাচ্ছে, তারা কি বাইরে থেকে পরিবর্তন এনেছে? আমি মনে করি, সিস্টেমের ভেতরে না গেলে পরিবর্তন সম্ভব না। তাই আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘ছয় মাসের মতো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। নির্বাচনের পরে মাত্র তিন দিনের মতো মাগুরায় গিয়েছিলাম। চার-পাঁচ মাস ক্রিকেট খেলেছি, দেশের বাইরে ছিলাম। সময় কোথায় ছিল পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার?’

সংসদ সদস্য হলেও রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়ার পরামর্শ তাকে দিয়েছিলেন পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে আমাকে বলেছিলেন, “তোমার রাজনীতি করতে হবে না, শুধু ক্রিকেট খেলো।” আমি সেই পরামর্শই মেনে নিয়েছি। আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’

সাকিব স্পষ্ট করে জানান, তিনি প্রথম থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত খেলবেন, তারপর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। ‘আমি রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়িনি, শুধু সিস্টেমের ভেতরে থাকতে চেয়েছি। মানুষ কী ভাবছে সেটা তাদের ব্যাপার। যদি আমার ভুল হয়ে থাকে, আমি দায় নিই। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য ভালো ছিল। আমি কিছু নিতে আসিনি, দিতে এসেছিলাম। আর যদি এটা ভুল হয়, আমি সেই ভুল স্বীকার করি এখন।

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন আনতে হলে চিন্তার পরিবর্তন দরকার। ভোট দেওয়া ও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একা কেউ কিছু করতে পারবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাভার ও আশুলিয়ায় ভিজিটিং কার্ডে চলছে গেস্ট হাউজের প্রচার

 খোরশেদ আলম,(আশুলিয়া,সাভার ঢাকা): আশুলিয়া ও সাভারের সড়ক-মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে গেলে চোখে পড়বে ছড়িয়ে-ছিটে পড়ে থাকা নানা রঙ্গের ভিজিটিং কার্ড। আবাসিক হোটেল কিংবা গেস্ট হাউজের নাম ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে এসব ভিজিটিং কার্ডে। এছাড়াও এ সকল রঙ্গিন কার্ডে রয়েছে হরেক রকম দাদা-ভাইদের নাম ও নাম্বার। দিন দিন যত্রতত্র পড়ে থাকা এই ভিজিটিং কার্ড নিয়ে রহস্যে বাড়ছে।

সড়কের পাশে ফুটপাত কিংবা ফুটওভার ব্রিজ, পাড়া-মহল্লার আঞ্চলিক সড়ক কিংবা অলিগলির রাস্তা এ সকল রঙ্গিন ভিজিটিং কার্ডে ছেয়ে গেছে। কখন, কারা এই রঙ্গিন কার্ড ছিটিয়ে দিচ্ছে এ সব নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েক দিনে সরেজমিনে আশুলিয়ার বাইপাইল, পল্লীবিদ্যুৎ, নবীনগর, ইউনিক, জামগড়া, নরসিংহপুর, ডিইপিজড, বলিভদ্র, শ্রীপুর এলাকা ঘুরে দেখা সড়ক-মহাসড়ক সহ ফুটপাত ও ওভারে ব্রিজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন নামের দাদা-ভাইদের রঙ্গিন ভিজিটিং কার্ড।

সড়কে পড়ে থাকা এসব কার্ডে লেখা রয়েছে রিপন দাদা, মামুন ভাই, আকাশ ভাই, বাদল ভাই, সূর্য ভাই, রাশেদ ভাই, সামি ভাই, জসিম ভাই ও জুয়েল ভাইয়ের নাম ও নাম্বার। এছাড়াও কিছু কিছু ভিজিটিং কার্ডে দুবাই গেস্ট হাউস, হোটেল হিমালয় আবাসিক ও পদ্মা গেস্ট হাউস সহ বিভিন্ন নামের গেস্ট হাউস ও আবাসিক হোটেলের নাম লেখা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যৌন কর্মী সরবরাহ কারী কিছু দালাল চক্র এসব ভিজিটিং কার্ড রাস্তা-ঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ সকল ভিজিটিং কার্ডে চক্রের নাম ও নাম্বার দেয়া রয়েছে। মূলত দ্রুত যৌন ব্যবসার প্রচারের লক্ষ্যে এমন কৌশল বেছে নিয়েছে চক্রটি। এরা রাতের আধারে অথবা ভোরের নিরিবিলি সময়ে এরা এ সকল রঙ্গিন ভিজিটিং কার্ড সড়কে ছড়িয়ে- ছিটিয়ে রেখে যায়। যাতে করে খুব সহজেই সকলের নজরে আসতে পারে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কের পাশে ফুটপাত কিংবা ফুটওভার ব্রিজ, পাড়া-মহল্লার আঞ্চলিক সড়ক কিংবা অলিগলির রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব ভিজিটিং কার্ডের নাম ও নাম্বার ব্যবহারকারীরা মূলত কয়েক ধাপে নারী যৌনকর্মী সরবরাহ করে থাকে।

প্রথমত ভিজিটরকে তাদের নিজস্ব আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউজে ডেকে নিয়ে যৌন কর্মী সরবরাহ করে। এছাড়াও যৌনকর্মীকে ভিজিটরের বাসার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া সহ যৌনকর্মীর বাসা কিংবা ফ্ল্যাট ভিজিটরকে পৌছে দেয়ার কাজটি করে থাকেন তারা। মূলত এরা যৌন কর্মীর দালাল হিসবে কাজ করে।

রাস্তায় পড়ে থাকা হোটেল হিমালয় আবাসিকের একটি ভিজিটিং কার্ডের নাম্বারে ফোন করা হলে, ফোনটি ধরেন মধ্য বয়সি একব্যক্তি।

তিনি জানান, হোটেল হিমালয় আবাসিকে মাত্র ১৩৫০ টাকায় রুম পাওয়া যাবে। যে কাউকে নিয়ে থাকা যাবে নির্ভয়ে। আর তারা যদি রাত্রিকালীন (অসামাজিক কাজের জন্য) সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে এক রাতের জন্য ৩৫০০ টাকা দিতে হবে।

পুলিশি ঝামেলা হবে কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের হোটেল ১০০% নিরাপদ। মেইন রোডের পাশে অবস্থিত। এখানে ঝামেলা টামেলা হবে না এটা পুরাতন হোটেল, যাদের নতুন হোটেল তাদের কাগজপত্র থাকেনা তাদের সমস্যা হয়। এটা ১০০% সিকিউর হোটেল।

আবাসিক হোটেলের আশপাশের বাসিন্দারা জানান, আশুলিয়া থানা থেকে আধাঁ থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যেই অন্তত ৫/৬ টি আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। অথেচ প্রতিনিয়ত এসব গেস্ট হাউজে চলছে অসামাজিক কার্যক্রম, কিন্তু পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আবাসিক হোটেলে চলা অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশ কি ধরনের ভুমিকা পালন করছে? জানতে চাইলে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনূর কবির জানান, খুব শিগ্রই এসব জায়গায় অভিযান চালনো হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বার্তা প্রেরক মোসলেহ উদ্দীন,  কয়েকটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সংগঠনগুলো হচ্ছে প্রিয়জন সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংস্থা, প্রাণের মেলা জাতীয় কবি পরিষদ, স্বাধীন বাংলা সাহিত্যে পরিষদ ও ইলোরা আন্তর্জাতিক সাহিত্য কানন।  কবি ও বিশিষ্ট অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ-এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট কবি ও সম্পাদক শাহীন রেজা।

কবি ও সংগঠক জাহিদ মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কবি ও ছড়াকার আতিক হেলাল, প্রিয়জন সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী মোসলেহ উদ্দিন, প্রাণের জাতীয় কবি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী, মো. বেল্লাল হাওলাদার, কবি ও সংগঠক জহিরুল ইসলাম, স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মুহতাদী, ইলোরা আন্তর্জাতিক সাহিত্য কাননের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইলোরা সোমা, কবি ও উপস্থাপক রবিউল মাশরাফি প্রমুখ।

প্রধান অতিথি কবি শাহীন রেজা বলেন, গাজায় ইসরায়েলি নির্মমতায় বিশ্ববিবেক জাগ্রত হলেও কতিপয় মুসলিম দেশ এবং কয়েকটি চিহ্নিত রাষ্ট্রশক্তি আজ নিশ্চুপ। আমরা এর নিন্দা জানাই। বক্তারা, ফিলিস্তিনের গাজা ও রাফায় ইসরায়েলি আগ্রাসী অভিযান ও গণহত্যা বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক মহল তথা জাতিসংঘ, পশ্চিমা বিশ্ব, ওআইসি এবং আরব দেশগুলোর নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নীলফামারীতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান

উজ্জ্বল আহমেদ -বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সদর  উপজেলায়  নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করায় তিন গাড়ী মালিককের কাছে জরিমানা আদায় করেছে নীলফামারী পরিবেশ অধিদপ্তর।
 মঙ্গলবার  (১৫ এপ্রিল  )  বিকেল এ নীলফামারী সদর উপজেলায়   অভিযান পরিচালনা করে নীলফামারী  জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ।
 পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয় কর্তৃক ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর আওতায় নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার বাইপাস মোড় নামক স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুন্না রানী চন্দ। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ।
এসময় উক্ত অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করায় ০৩ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ১,৫০০/- (এক হাজার পাঁচশত) টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করাসহ ০৩ (তিন) টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার না করার জন্য বিভিন্ন যানবাহনের চালকগণকে সতর্ক করাসহ লিফলেট বিতরণ ও স্টিকার লাগানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি