আজ , ।   
Home Blog Page 547

ঢাকায় বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

আলোকিত প্রতিবেদক:

দুপুরের মধ্যে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে সামান্য কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা।

১৮ এপ্রিল শুক্রবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা এবং আশপাশের এলাকার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। এ সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময়ের মধ্যে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার আকারে ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমার আভাসও দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে আরও বলা হয়েছে, আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলেও পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ এপ্রিল ২০২৫/মওম

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে কাতারে যাচ্ছেন ৪ নারী ক্রীড়াবিদ!

স্পোর্টস ডেস্ক: আসন্ন কাতার সফরে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন বাংলাদেশের চার জাতীয় নারী ক্রীড়াবিদ। তারা হলেন- ফুটবলার আফিদা খন্দকার ও শাহেদা আক্তার রিপা, ক্রিকেটার সুমাইয়া আক্তার ও শারমিন সুলতানা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এবারই প্রথম কোনো সরকারপ্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গী হতে যাচ্ছেন নারী ক্রীড়বিদদের একটি দল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তার সফরসঙ্গী হতে যাওয়া এই চার ক্রীড়াবিদ। বাংলাদেশের এই নারী ক্রীড়াবিদদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কাতার ফাউন্ডেশন।

 

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চার নারী ক্রীড়াবিদ। তারা বলেন, ‘আমরা এ সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এবং আমাদের টিমমেটরাও আমাদের এ আমন্ত্রণে উচ্ছ্বসিত হয়েছে।’

নারী ফুটবলাররা জানান, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এশিয়ার অন্য দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলার খুব একটা সুযোগ আমাদের হয় না। আমরা কাতার নারী টিমকে আমাদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানাতে চাই। এ সফরে আমরা তাদের স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিসগুলো ঘুরে দেখতে চাই। তাদের প্রফেশনাল চিন্তাভাবনাগুলো জানতে চাই।’

নারী ক্রিকেটাররা প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ‘কাতারে ক্রিকেট তেমনটা জনপ্রিয় নয়। আমরা এ সফরে ক্রিকেট নিয়ে তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করব। আমাদের পুরুষ ক্রিকেট দল ও নারী ক্রিকেট দলের গল্পগুলো তুলে ধরব। আমরা একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে নিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই, তোমরা তোমাদের জীবনের সত্যিকারের কথাগুলো তাদের কাছে তুলে ধরবে। তোমরাই এদেশের স্পোর্টস অ্যাম্বাসেডর। সেখানে তোমরা এদেশের স্পোর্টসকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমাদের এ রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে আমিও ভীষণ আনন্দিত।’

নারী ক্রীড়াবিদদের এ সফর সফল করতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আর্থনা সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী সোমবার চারদিনের সফরে কাতার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মেয়ের হবু স্বামীর সঙ্গে পালালেন শাশুড়ি, বললেন ‘আমি তাকেই বিয়ে করব’

আলোকিত ডেস্ক : বিয়ের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। সবই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। কিন্তু শেষ সময়ে ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মেয়ের হবু স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছেন এক মা। এ ঘটনায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের উত্তপ্রদেশের আলিগড়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়ের বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগেই মা এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এতে দুই পরিবারই ক্ষুদ্ধ ও বিস্মিত হয়েছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার পর তারা পুলিশে আত্মসমার্পণ করেছেন তারা।

পালিয়ে যাওয়া ওই নারীর নাম স্বপ্না আর মেয়ের হবু স্বামীর নাম রাহুল। পুলিশি হস্তক্ষেপের পরই তারা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। স্বপ্না বলেন, আমি রাহুলের সাথেই থাকব, যাই হোক না কেন। আমি ওকে বিয়ে করব এখন।

ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী মদ্যপান করে তাকে মারধর করত এবং মেয়ের সাথেও তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।

তবে মেয়ের অভিযোগ, তার মা সাড়ে তিন লাখ টাকা ও পাঁচ লাখ টাকার গহনা নিয়ে পালিয়েছেন। অন্যদিকে ওই নারী বলেন, আমি শুধু মোবাইল আর ২০০ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলাম।

রাহুল জানান, যদি সে দেখা না করে তাহলে ওই নারী তাকে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি আমি আলিগড় বাসস্ট্যান্ডে না যাই, সে মরে যাবে। তাই আমি গিয়েছিলাম। প্রথমে আমরা লক্ষ্ণৌ, তারপর মুজাফফরপুর গিয়েছিলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুলকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রথমে দ্বিধায় পড়েন। তিনি বলেন, তেমন কিছু না। পরে অবশ্য তিনি বিয়ে করার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে স্বপ্নার পরিবার জানিয়েছে, তারা আর তাকে ঘরে ফিরতে দেবেন না। তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের দাবি, তাকে নিয়ে যাওয়া অর্থ ও গয়না ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই নারীর সাবেক স্বামীর ভাই বলেন, আমার ভাইয়ের সংসার ভেঙে দিয়েছে ও। আমরা শুধু আমাদের জিনিসগুলো ফেরত চাই।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ পেলেন মুহাম্মদ আবু আবিদ

বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু আবিদ ‘কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র (গনমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়া) হিসেবে নিয়োগ করেছে সরকার। গত ১৫ ই এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর প্রশাসন-১ শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ সাইফ উদ্দিন গিয়াস স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মুহাম্মদ আবু আবিদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সরকারের কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা এবং অস্তিত্বহীন তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা/উদ্যোগ গ্রহন করবেন। এই নিয়োগের শর্তসমূহ উক্ত নিয়োগপত্র দ্বারা নির্ধারিত বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

মুহাম্মদ আবু আবিদ বর্তমানে একজন জনপ্রিয় সমাজকর্মী, তরুণ সাংবাদিক এবং তারুণ্যের অনুপ্রেরণা। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে মুহাম্মদ আবু আবিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন সামাজিক সংগঠন “দূর্বার তারুণ্য ফাউন্ডেশন”। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অল্প সময়েই তিনি তার সামাজিক কাজগুলো জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এছাড়াও সমাজের অনিয়ম-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সাংবাদিকতাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেন মুহাম্মদ আবু আবিদ। দীর্ঘ ৮ বছর সাংবাদিকতার জীবনে জাতীয় ও আঞ্চলিক বহু গণমাধ্যমে তিনি কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত মিডিয়াভুক্ত একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও অনলাইন চীফ, টেলিভিশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ট্র্যাব)-এর মুখপাত্র ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।

মুহাম্মদ আবু আবিদ এর জন্ম চট্টগ্রাম হলেও তার পৈত্রিক নিবাস পটুয়াখালীতে। ইতিমধ্যেই তার সামাজিক কাজ অনলাইন জগৎ এ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। এছাড়াও সামাজিক কাজে ইউনিক আইডিয়া গ্রহন ও বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নানা সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিয়োগে তার এই সংগ্রামী ও মানবিক পথচলা এবং তারুণ্যে উদ্দীপ্ত অনলাইন সম্পর্কিত জ্ঞান ও গণমাধ্যম সমন্বয়ের গুন, সব মিলিয়ে যুগান্তকারী এক পরিবর্তন আনবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

নীলফামারী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে জেলা জামায়াতের মতবিনিময়

উজ্জ্বল আহমেদ -বিশেষ প্রতিনিধিঃ ”বস্তু নিষ্ঠার জন্য চাই সত্য নিষ্ঠা”প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৭ ই এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নীলফামারী প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরাহ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরাহ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু,নায়েবে আমির ড: মো: খায়রুল আনাম, সদর উপজেলা শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুস সাত্তার সহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।
মতবিনিময় সভায় নীলফামারী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার রহমান বলেন, সাংবাদিকদের উপর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। এছাড়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় জেলা জামায়াতের আমির বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় নাই। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সাংবাদিকের প্রতি যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন করেছিল তা বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তুলে ধরবো। এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালো কে কালো তুলে ধরার আহবান জানান।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড:খায়রুল আনাম বলেন, দীর্ঘদিন পর নিজেকে মানুষ বলে মনে হচ্ছে এর কারণ আমি মনে খুলে কথা বলছি, তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠার লেখনি তুলে ধরেন যদি কোন সাংবাদিক কে কোন ব্যাক্তি বা দল ক্ষতি করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংঘটন তাদের পাশে থাকবে। এছাড়া আগামী ১৮ই এপ্রিল কেন্দ্রীয় জামায়াতের আমির ড:শফিকুর রহমানের সভায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মানিকগঞ্জে চিত্রশিল্পীর বাড়িতে আগুনের ঘটনায় রিমান্ড চেয়ে ৮ আসামিকে আদালতে প্রেরণ

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জে পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফ নির্মাণকারী চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ৪ টার দিকে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, খান মোঃ রাফি সৃজন ওরফে রাফু (১৮), মোঃ আল আমিন খান তমাল (২২), মঈন উদ্দিন আহমেদ পিয়াস (২২) মোঃ বাবুল হোসেন (৬০), মোঃ মীর মারুফ (২১), মীর আমিনুর (২৬), মোঃ মোশারফ হোসেন (৪৮) ও সঞ্জিব ঘোষ (৪০)। এই ঘটনার বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমুল হাসান খানকে প্রধান করে ছয় সদস্যবিশিষ্টি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে।জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত তিনটার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষের বাজার এলাকায় ভাস্কর্য শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের গ্রামের বাড়ির একটি ঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে আগুনের বিষয়ে মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘন্টার চেষ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও একটি ঘরের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র, ভাস্কর্যসহ একটি মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনার পরে গতকাল ১৬ এপ্রিল বুধবার বিকেলে চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র বাদি হয়ে সদর থানায় একটি মামলা করেন। এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, চিত্রশিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজকে বিকেলে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন চেয়ে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০২৫/মওম

ফরিদগঞ্জে যৌথবাহিনীর অভিযানে গাঁজা এবং ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রতিনিধি,ফরিদগঞ্জ:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ মোঃ সোহেল গাজী (৩০), মোঃ খালেক গাজী (৫০) এবং মোশাররফ হোসেন পিঠু (৩৫) নামে চিহ্নিত তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সদর আর্মি ক্যাম্পের অপারেশনাল অফিসার লেফটেন্যান্ট জাবিদ হাসান।
তিনি বলেন, স্থানীয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জ আর্মি ক্যাম্প এবং ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ কর্তৃক তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত যৌথ অভিযানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা থেকে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল গাজী (৩০), মোঃ খালেক গাজী (৫০) এবং মোশাররফ হোসেন পিঠু (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের কাছে ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উদ্ধারকৃত দ্রব্যসামগ্রী এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যাক্তিদের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা,স্বর্ণালংকার লুট

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের সখীপুরে আমিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা।
১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঘোনারচালা গ্রামে বাড়ীর পাশে ধানক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই গৃহবধু আমেনা বেগম উপজেলার ঘোনারচালা গ্রামের সৌদি প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে গৃহবধু আমেনা বেগম পরিবারের অন্যদের সাথে ঘুমিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আমেনা বেগম তার স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে ঘরে থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর রাতে অনেক খোজাখুজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সকালে স্থানীয়রা তার মরদেহ বাড়ীর পাশে ধানক্ষেতে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, মরদেহের গলায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। রাতের কোন এক সময় তাকে গলায় ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর দূর্বৃত্তরা পরনে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নিহত আমেনা বেগমের মেয়ে লিতু আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মমলা দায়ের করেছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০২৫/মওম

পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী আরাভ খানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 

 অনলাইন ডেস্ক:
সাত বছর আগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলায় দুবাইয়ে পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানসহ ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

১৭ এপ্রিল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন (গালিব) এ রায় ঘোষণা করেন। আরাভ খান ছাড়া এ মামলার আসামিরা হলেন- আরাভ খানের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার কেয়া, রহমত উল্লাহ, স্বপন সরকার, মিজান শেখ, আতিক হাসান, সারোয়ার হাসান ও দিদার পাঠান। এদের মধ্যে আরাভ ও কেয়া পলাতক রয়েছেন। এছাড়া বাকি ছয় আসামিকে রায় ঘোষণার আগে আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালের ৭ জুলাই রাজধানীর বনানীতে খুন হন পুলিশ পরিদর্শক মামুন। দুই দিন পর ৯ জুলাই গাজীপুরের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তিন দিন পরে মামুনের ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ এ মামলায় রহমত উল্লাহ, রবিউল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে সোহাগ ওরফে হৃদয় ওরফে হৃদিসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলাটিতে ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০২৫/মওম

সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করেই নির্বাচন করতে হবে: ডা.শফিকুর রহমান

আলোকিত ডেস্ক:

সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করেই নির্বাচন দিতে হবে, তবে অতিরিক্ত সময় যেন না নেয় এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচন এমনভাবে করতে হবে, যেন কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে।

১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের ইইউ সফর উপলক্ষ্যে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।জামায়াত আমির সফরের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, সম্প্রতি বেলজিয়ামে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ইউরোপিয়ান কমিশন, ইউরোপিয়ান কাউন্সিল এবং বেলজিয়াম সরকারের বিভিন্ন কোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জামায়েতের একটি টিম সাক্ষাৎ করেছেন। গত ৪ এপ্রিল এই সফর শুরু হয়। ব্রাসেলসে এই সফর আমরা শেষ করেছিলাম গত ১০ এপ্রিল। এরপর সেখান থেকে আমরা ইউকে(ইংল্যান্ড) যাই। ১৩ তারিখ আমি দেশে ফিরে আসি। এ সফরে আমার সঙ্গে ছিলেন দলের নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। লন্ডন থেকে আরও দুজন সহকর্মী আমাদের টিমে যোগদান করেন। তারা হলেন, আইনজীবী ও ইউরোপে আমাদের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক মোল্লা ও ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম। এই সফরে সঙ্গী হয়েছিলেন জামায়াত আমিরের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড.মাহমুদুল হাসান চৌধুরী।

জামায়াত আমির বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল, সভ্য, আধুনিক এই বিশ্বের অন্যতম উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র ইউরোপের সঙ্গে আমাদের দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ করা। নতুন বাংলাদেশের এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়া। অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে বিরামহীন চেষ্টা চালানো। আমি মনে করি এই সফর শুধু আমাদের জন্যই নয়, জাতির জন্য দেশের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল ইসলামী রাজনীতির দল হিসেবে মূল উপপাদ্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখা। এ সফরে আমরা ছয়টি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অন্য আলোচনা করেছি। প্রথমত : ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার মিস ভেরুনিকা মুসিলভার সঙ্গে। দ্বিতীয়ত : বৈঠক হয় বেলজিয়াম সরকারি প্রতিনিধি ফ্রান্সিস দেলহের সঙ্গে। তৃতীয়ত : বৈঠক হয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মাইগ্রেশন অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টর জেনারেল মাইকেল সটারের সঙ্গে। চতুর্থত : বৈঠক ছিল ইউরোপিয়ান কমিশনের সঙ্গে। পঞ্চমত : বেলজিয়াম ইকোনমিকস মিশনস ও স্টেটস ফিজিট অ্যাফেয়ার্সের ডিরেক্টরের সঙ্গে। এর বাইরেও আমরা কিছু বিভিন্ন অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

প্রথম বিষয় ছিল, গণতন্ত্রকে সংহত ও টেকসই করা। এ ব্যাপারে আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ ও অংশীজন দেশগুলো আছে তারা তাদের দেশের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের কী সহযোগিতা করতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের ব্যাবসা-বাণিজ্য, বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, লেবার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম নিয়ে আমাদের সঙ্গে জড়িত। এক্ষেত্রে আমরা তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছি। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো পিআর পদ্ধতি নির্বাচন করে থাকেন, নির্বাচনের সেই সিস্টেমগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের দেশ জাতি যাতে লাভবান হতে পারে, আমাদের আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় সেজন্য কথাবার্তা বলেছি। পাশাপাশি তাদের দেশগুলো কীভাবে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল, সেগুলো আমরা বোঝার চেষ্টা করেছি। একটি দেশের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা, সার্বভৌম এবং টেকসই উন্নয়নে অবশ্যই কিছু মৌলিক বিষয়ক গুরুত্ব দিতে হবে। এরমধ্যে প্রধান হচ্ছে জাতীয় স্বার্থের জায়গায় দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে এক থাকা।

তারা তাদের দেশের অবস্থান থেকে আমাদের দেশের অবস্থা জানতে চেয়েছেন, সেগুলো আমরা শেয়ার করেছি। অর্থনৈতিক কোঅপারেশনের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। আমরা জানি, আমাদের প্রধান রপ্তানি সেক্টর হচ্ছে গার্মেন্টস। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রগুলো হচ্ছে বড় বায়ার। এখানে তারা কিছু কমপ্লায়েন্স চায়। আমাদের কিছু শ্রমিক অধিকার তারা চায়। আমরা বলেছি, শিল্প বাঁচলে শ্রমিকরা বাঁচবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। কিন্তু আমাদের বিপুলসংখ্যক জনশক্তি রয়েছে। তাদের আমরা আহ্বান করেছি তারা যেন আমাদের দেশে ইনভেস্ট করে। বিশ্বের ১৫ শক্তিশালী ইকোনোমিক দেশের মধ্যে সাতটিই কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের। আমরা বলেছি আপনারা যদি আসেন তাহলে এখানে উভয় লাভবান হবো। আসলে আপনারা ব্যাবসায়িকভাবে লাভবান হবেন কারণ আমাদের দেশের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক পাওয়া খুবই সহজ এবং এটা তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্ভব। এতে করে আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আমাদের ম্যানপাওয়ার স্কিল ডেভেলপ হবে। শিল্পে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে দেশে তখন অস্থির পরিস্থিতি তৈরির সংখ্যা থাকবে না।

জামায়াত আমির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য দেশে একটি ইকোনমিক জোন তৈরি করা হয়। তাতে করে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। এটা আলোচনার মাধ্যমে সেটেল করা সম্ভব, এটা চলমান প্রক্রিয়া। অবশ্যই, এ ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যাপক উৎসাহ প্রকাশ করেছে।তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে মাত্র একজন অ্যাম্বাসেডর আছেন। এ বিষয়গুলো গতিশীল করার জন্য সবগুলো দেশের এম্বাসি আমাদের দেশে নেই, এই মিশনগুলো চালু করা। এগুলো না থাকার কারণে আমরা যেমন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের এসেছি, কিন্তু আমাদের ভিসা নিয়ে আসতে হয়েছে সুইডেনের।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সফরে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন কখন হবে, কীভাবে হবে। আমরা বলেছি, অনেক ত্যাগ এবং চেষ্টার বিনিময়ে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের দাবি, তিনটা ম্যান্ডেটরি পরিবর্তন। প্রথমত : দৃশ্যমান গ্রহণযোগ্য মৌলিক সংস্কার। এই সংস্কার কীভাবে হবে তা আমরা কিছু বিষয় পরিষ্কার করেছি। আমাদের সুনির্দিষ্ট উপস্থাপনা আমরা সংশ্লিষ্ট কমিশনে জমা দিয়েছি। আমরা বলেছি, এই মৌলিক সংস্কারগুলো না করে নির্বাচন হলে এই এই নির্বাচন গণতন্ত্রে কোনো ভিত্তি রচনা করতে পারবে না। কারণ অতীতে দেশ জাতির কাছে বিশ্বের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য হয়নি, সেরকম হয়ত আরেকটি খারাপ নির্বাচন হবে, আমরা ওই খারাপ নির্বাচন চাই না।

হাজার প্রাণের বিনিময়ে, হাজার মানুষের পঙ্গুত্ব, আহত ও রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনের দাবি অবশ্যই সংস্কারাপন্ন করতে হবে। এই সংস্কার কারা করবে? এই সংস্কারের প্রধান অংশীদার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক দলগুলো যত তাড়াতাড়ি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে, ততো তাড়াতাড়ি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। এ সংস্কারের যদি সহযোগিতার ঘাটতি থাকে বা সহযোগিতা না করা হয় তাহলে দেশের মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা, দাবি; তাহলে সংস্কারের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা হোক, সেটি না হলে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং এর দায় নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে।

দ্বিতীয়ত, যারা নিহত আহত হয়েছে। খুনের দায় যাদের, তাদের বিচারের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচার জাতিকে দেখাতে হবে। তাতে করে আস্থা ফিরে আসে যে খুনিদের বিচার হয়, অপরাধীদের বিচার হয়। শহীদ পরিবারগুলো যেন অন্তত স্বস্তি পায়, শহীদের আত্মা যেন প্রশান্তি পায় যে, এ দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। এজন্য আমরা দৃশ্যমান ন্যায়বিচার দেখতে চাই।

তৃতীয়ত, যেটা হতেই হবে, সেটা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলোকে পরস্পর শ্রদ্ধা করা সম্মান করা পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমি জিতে গেলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আর হেরে গেলে দুষ্ট  এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তবে নির্বাচনটা এমন হতে হবে, যাতে কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে। এজন্য এখন এখানে অনেক ডায়ালগ এর প্রয়োজন আছে। এটি সরকারের তরফ থেকে হতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব উদ্যোগে করতে পারে। সিভিল সোসাইটির অনেক দায়িত্ব আছে তারাও দেশ জাতির স্বার্থে করতে পারে। মাল্টিপল জায়গা থেকে এই চেষ্টা হলে তখন একটা পরিবেশ তৈরি হবে।

জামায়াত আমির বলেন, এ সফরে তারা বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, প্রধান উপদেষ্টা জাতির সামনে বারবার বলেছেন, ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এই সময়টাকে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির জন্য, সংস্কার এবং বিচারের জন্য আমরা মনে করি এই সময়টা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এই সময়ের সীমা যেন অতিক্রম না করে। সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখবো।

গতকাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ডেপুটি এসিস্ট্যান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জামায়াত। সেটার রেশ টেনেই জামায়াত আমির বলেন, আগামী রোজা শুরু হওয়ার আগে নির্বাচন হতে পারে ফেব্রুয়ারিতে। আমি আবারও বলছি, এটা তখনই হতে পারে যখনই শর্তগুলো পূরণ হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কিন্তু ওই মার্চ বা ফেব্রুয়ারি ঠিক থাকবে কিনা আল্লাহই জানে।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা যারা খুব সিনসিয়ারলি, চাচ্ছি দেশে জনগণের গণতন্ত্র ফিরে আসুক, তাদের সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা এগিয়ে আসতে হবে আমরা প্রস্তুত।

বন্ধু সংগঠনগুলোকে আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চলেন এগিয়ে যাই। আমাদের কর্মকাণ্ডই বলে দেবে আমরা কতটা আন্তরিক এ নির্বাচনের বিষয়ে। জনগণ দেখবে বিবেচনা করবে। আগামী নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হবে তা জনগণের ওপর নির্ভর করবে, জনগণই বিবেচনা করুক। জনগণ অতীত দেখবে দলের মেনুফেস্টো দেখবে বর্তমান কর্মকাণ্ড দেখবে। ভবিষ্যতে কার কাছ থেকে কি পেতে পারে, সেই আশা নিয়ে তারা যে প্রত্যাশা, স্বপ্ন দেখে সেটি বাস্তবায়নে ন্যায় বিচারের সমাজে কারা উপহার দিতে সক্ষম দলকে নির্বাচিত করবে।

তিনি বলেন, জনগণ যাদের উপরে আস্থা রাখবে, বিশ্বাস করবে, ভোট দেবে, সেই দল দেশ শাসন করবে। আমরা এটা বলবো না, আমরাই ক্ষমতায় যাবো। বরং বাকিরা বিরোধী দলে বসবে তারা সরকারি দলকে ন্যায় সংগত কাজে সহযোগিতা করবে অন্যায় ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন কাজের প্রতিবাদ করবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন দলটির সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দলের নায়েবে আমির অধ্যপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটি এম মাসুম, রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, অধ্যাপক ইজ্জত উল্লাহ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০২৫/মওম