কৃষকদেরকে হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না: ডিজি
ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নোটিশ জারি করলো পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক একদম তলানিতে ঠেকেছে। উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যে পাকিস্তান করাচি উপকূল থেকে সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল উৎক্ষেপণের নোটিশ জারি করেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪-২৫ এপ্রিল পাকিস্তান এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে। এএনআই বলছে, ভারতীয় সংস্থাগুলো এসব পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।
এদিকে কাশ্মীরে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটি পাকিস্তান-ভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা। ধারণা করা হয়, এদের পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর সমর্থন আছে।
কাশ্মীরে হামলার ঘটনার পর গতকাল বুধবার ভারতের নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটি- ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিওরিটি বা সিসিএস বৈঠকে বসে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ওই বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, বৈঠকে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সীমান্ত পারের যোগসাজস তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে সাফল্যের সঙ্গে নির্বাচন হওয়ার পরেই এই আক্রমণ হলো। এমন একটা সময়ে হামলা হলো যখন সেখানে ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
বুধবার রাতে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে মিশ্রি ঘোষণা করেন, সন্ত্রাসী হামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে নিচের সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে:
১. ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি অবিলম্বে স্থগিত করা হচ্ছে যতক্ষণ না পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্যভাবে এবং পাকাপাকিভাবে সীমান্ত পারের সন্ত্রাসের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে।
২. (পাঞ্জাবে অবস্থিত) সমন্বিত আটারি চেকপোস্ট অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ওই পথ দিয়ে যারা বৈধভাবে পারাপার করেছেন তারা পয়লা মে-র আগেই ফিরতে পারবেন।
৩. সার্ক দেশগুলোর জন্য ‘বিনা ভিসা প্রকল্প’-এর অধীন বিশেষ ভিসা নিয়ে পাকিস্তানের নাগরিকরা ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। যে পাকিস্তানি নাগরিকদের আগেই ওই ভিসা দেওয়া হয়েছে, তা বাতিল করা হলো। ওই বিশেষ ভিসা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে রয়েছেন যে পাকিস্তানের নাগরিকরা, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে।
৪. দিল্লিতে পাকিস্তানি দূতাবাসে সেদেশের প্রতিরক্ষা, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীর যে ‘পরামর্শদাতারা’ রয়েছেন, তাদের ‘পার্সোনা নন গ্রাটা’, বলে ঘোষণা করছে ভারত। তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত ছাড়তে হবে।
ভারতও ইসলামাবাদে তাদের দূতাবাস থেকে সেনা, বিমান এবং নৌবাহিনীর পরামর্শদাতাদের ফিরিয়ে আনবে। দুই দেশের দূতাবাসগুলোতে এই পদগুলো বিলুপ্ত করা হলো। দুই দেশের দূতাবাসেরই সামরিক পরামর্শদাতাদের পাঁচজন করে কর্মীকেও নিজের দেশে চলে যেতে হবে।
৫. দুই দেশের রাজধানীতে অবস্থিত কর্মী সংখ্যা বর্তমানের ৫৫ থেকে কমিয়ে পয়লা মের মধ্যে ৩০ এ নিয়ে আসতে হবে।
এদিকে ভারতের এমন কড়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠক ডেকেছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইসলামাবাদ।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ এপ্রিল ২০২৫/মওম
কাশ্মিরে হামলা,কোন পথে যাবে ভারত,সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাবে কি পাকিস্তানে:বিবিসির বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতশাসিত কাশ্মিরের পেহেলগামে গত মঙ্গলবারের রক্তাক্ত হামলা–যেখানে অন্তত ২৬ জন পর্যটক নিহত হন–২০১৯ সালের পর কাশ্মিরে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নিহতরা কেউ সেনা বা সরকারি কর্মচারী ছিলেন না বরং তারা ছিলেন ছুটি কাটাতে আসা “সাধারণ মানুষ”। এটিই এই হামলাকে আরও নিষ্ঠুর এবং প্রতীকী করে তোলে— এই হামলা কেবল প্রাণহানির জন্য নয়, বরং এমন এক সময়ে ঘটল যখন ভারত সরকার কাশ্মিরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে করছ যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মির সংকট মূলত দীর্ঘদিন ধরে চলছে—যেখানে এই অঞ্চলটি পুরোপুরি দাবি করে ভারত এবং পাকিস্তান, কিন্তু উভয় দেশই কেবল কিছু অংশ শাসন করে—তাতে ভারতের প্রতিক্রিয়া হবে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান চাপের ভিত্তিতে। মূলত পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার ঠিক একদিন পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ভারত । এর মধ্যে রয়েছে—ভারত-পাকিস্তানের প্রধান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করা, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার এবং ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের কিছু ভিসা বাতিল এবং দুই দিনের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ।
এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ যে— ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, হামলার “জোরালো জবাব” দেওয়া হবে। আর সেটা শুধু যারা হামলা চালিয়েছে তাদের নয় বরং যারা এই “নিন্দনীয় কাজের” পেছনে আছে তাদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নটা এটা নয় যে- সামরিক জবাব আসবে কিনা—বরং কখন আসবে, কীভাবে দেওয়া হবে, আর তার মূল্যই বা কতটা হবে।
সামরিক ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন বলছেন, “আমরা সম্ভবত এমন একটি জবাব দেখতে যাচ্ছি যা দেশীয় জনতার কাছে সংকেত দেবে, আবার পাকিস্তানকেও বার্তা দেবে। ২০১৬ সাল থেকে, বিশেষ করে ২০১৯ সালের পর, ভারতের জবাব দেওয়ার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান বা বিমান হামলা।”
তার মতে, “এখন সরকারের পক্ষে সেই ধরনের প্রতিক্রিয়ার নিচে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। পাকিস্তানও আগের মতোই প্রতিক্রিয়া জানাবে। সবসময়ই ভুল হিসাবের ঝুঁকি থাকে—উভয় পক্ষের জন্যই।” তিনি এখানে ২০১৬ ও ২০১৯ সালের ভারতের বড় দুটি জবাবের কথা উল্লেখ করছেন।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উরি হামলায় ১৯ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর ভারত “সার্জিকাল স্ট্রাইক” চালিয়েছিল। যেখানে দাবি করা হয়েছিল, পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে “জঙ্গি ঘাঁটি” লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আর ২০১৯ সালে, পুলওয়ামা হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে “বিমান হামলা” চালায়—যা ছিল ১৯৭১ সালের পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের প্রথম হামলা। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা ভারতে বিমান হামলা চালায়, যার ফলে দুই দেশের যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, ভারতীয় যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হাতে এক ভারতীয় পাইলট ধরা পড়েন। তখন উভয়পক্ষ শক্তি প্রদর্শন করলেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয়।
২০২১ সালে ভারত এবং পাকিস্তান কাশ্মির সীমান্তে তথা নিয়ন্ত্রণরেখাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা এখনও পর্যন্ত অনেকটাই কার্যকর আছে—যদিও মাঝেমধ্যে কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, এই হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেশি এবং সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করায় “যদি দিল্লি মনে করে বা ধরে নেয় পাকিস্তানের কোনও সম্পৃক্ততা আছে, তাহলে ভারতের সামরিকভাবে জবাব দেওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।”
তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক লাভ হলো দেশের জনগণের জোরালো চাপ মেটানো। আর যদি এর মাধ্যমে সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা যায়, তাহলে সেটা হুমকি কমানোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর বিপদ হলো, এটা একটি বড় সংকট বা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।”
ভারতের সামনে কী কোন বিকল্প আছে:
ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানি’র ক্রিস্টোফার ক্ল্যারি বলছে, গোপন অভিযান চালানো হলে তার দায় অস্বীকার করা যায়, কিন্তু তাতে দৃশ্যমান প্রতিশোধের রাজনৈতিক চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে।
তিনি মনে করেন, ভারতের সামনে দুটি পথ রয়েছে। আর তা হলো—প্রথমত, ২০২১ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি দুর্বল হয়ে আসছে, ফলে নরেন্দ্র মোদি আবার সীমান্তে গুলি বিনিময় শুরু করার অনুমোদন দিতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, ২০১৯ সালের মতো বিমান হামলা বা এমনকি কনভেনশনাল ক্রুজ মিসাইল হামলা চালাতে পারে ভারত। তবে এই ধরনের প্রত্যেকটি হামলার পাল্টা হামলা বা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে, ঠিক যেমনটা ২০১৯ সালে হয়েছিল।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য সংকটে ব্যস্ত, তাই তারা হয়তো সংকট সমাধানে সহায়তা করতে পারবে না।”
পারমাণবিক বাস্তবতা:
যেহেতু ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী, তাই প্রতিটি পদক্ষেপে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ‘ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে নয়াদিল্লির পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ১৮০। সেখানে পাক সেনার কাছে আছে ১৭০টি আণবিক অস্ত্র। এটা শুধু সামরিক কৌশল নয়,রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলে।
সামরিক ইতিহাসবিদ শ্রীনাথ রাঘবন বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্র যেমন একটি ভয়াবহতা, তেমনি এটি একধরনের নিয়ন্ত্রণও তৈরি করে—উভয় পক্ষই বাধ্য হয় আরও সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে। প্রতিক্রিয়াটি সম্ভবত ‘নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। পাকিস্তান হয়তো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে, তারপর উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এই প্যাটার্ন অন্যান্য সংঘাতেও দেখেছি, যেমন ইসরায়েল এবং ইরান-সাবধানী হামলা, তারপর উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা। তবে সবসময়ই আশঙ্কা থাকে যে-পরিস্থিতি পরিকল্পনামাফিক না-ও এগোতে পারে।”
অন্যদিকে কুগেলম্যান বলেন, পুলওয়ামা সংকটের অন্যতম শিক্ষা হলো— “উভয় দেশই সীমিত প্রতিক্রিয়ায় স্বস্তি বোধ করে”। তার মতে, “ভারতের এখন প্রতিক্রিয়ার রাজনৈতিক এবং সামরিক লাভ বিবেচনা করতে হবে, পাশাপাশি সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ঝুঁকিও বুঝতে হবে।”
পযুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, এবার উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে এবং ভারত ২০১৬ সালের মতো সীমিত “সার্জিকাল স্ট্রাইক” বিবেচনায় রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “এই ধরনের হামলা ভারতের জন্য সীমিত এবং রাজনৈতিকভাবে কার্যকর—কারণ এতে পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নাও আসতে পারে। তবে পাকিস্তানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, কারণ তারা অভিযোগ করতে পারে যে— তদন্ত বা প্রমাণ ছাড়াই তাদের দায়ী করা হচ্ছে।”
তবে ভারত যে পথই বেছে নিক এবং পাকিস্তান সেটার যে প্রতিক্রিয়াই দিক, প্রতিটি ধাপেই বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তেজনা যে কোনও সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, আর এর ফলে কাশ্মিরের শান্তি প্রতিষ্ঠার নাজুক যে সম্ভাবনা এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তা আরও দূরে সরে যেতে পারে।
একইসঙ্গে ভারতকে এই হামলা ঘটার পেছনে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যর্থতার দিকেও নজর দিতে হবে। রাঘবন বলেন, “এমন একটা হামলা পর্যটন মৌসুমের শিখরে ঘটেছে—এটা বড় ধরনের নিরাপত্তার ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যখন কাশ্মির একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে।”
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ এপ্রিল ২০২৫/মওম
সোনারগাঁয়ে সাড়ে ১৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
নাফ নদী থেকে ২ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদী থেকে বাংলাদেশি দুই জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) সদস্যরা। অপহৃত দুজন হলেন- হোয়াইক্যংয়ের বালুখালীর আব্দুল হাকিমের ছেলে বাদশা আলম (৪৫) ও একই এলাকার রশিদ আহমেদ ছেলে আবুল কালাম (৪০)।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে নাফ নদী বগার দ্বীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সিরাজুল মোস্তফা। ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘বুধবার প্রতিদিনের মতো নৌকা নিয়ে দুই জেলে ওই এলাকায় মাছ ধরতে যান। এসময় মিয়ানমার থেকে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনায় জেলেদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ‘আরাকান আর্মির কারনে জেলেরা খুব আতঙ্কের মধ্য আছেন।
প্রায় সময় নাফনদী থেকে জেলে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে।’ টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
দুই উপদেষ্টার এপিএস-পিও হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা
জানা যায়, উপদেষ্টা নিয়োগের কিছুদিনের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেনকে সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) নিয়োগ দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিয়োগ পেয়েই তদবির বাণিজ্যে নেমে পড়েন মোয়াজ্জেম। গণমাধ্যমের দৃষ্টি এড়াতে তারা বিকাল চারটার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সচিবালয় এবং সরকারি দপ্তরে অবস্থান করে তদবির করতেন। তাদের ভয়ে তটস্থ থাকতেন বিগত সরকারের আমল থেকে কর্মরত কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত দুই কর্মকর্তা (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবি ও মো. মাহমুদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তারা চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, পরিচালক, উপপরিচালক, সিভিল সার্জন নিয়োগ-বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুজন মিলে মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, পরিচালক, উপপরিচালক, সিভিল সার্জন নিয়োগ-বদলিতে ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করতেন। এরপর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে সিনিয়র সচিব হিসাবে নিয়োগ পান এক কর্মকর্তা। তাকেও নয়ছয় বুঝিয়ে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি করেন তারা। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ বদলিতে তারা দুই লাখ টাকা করে আদায় করতেন। এমনকি হজ টিমে নার্স ও ডাক্তারদের নাম ঢুকানোর জন্য টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ৮ আগস্টের পর সাবেক স্বাস্থ্য সচিবকে দিয়ে বেশ কিছু চিকিৎসক বদলি করান তুহিন ফারাবী ও ডা. মাহমুদুল হাসান। প্রতিটি বদলিতে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন তারা।
এছাড়া ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া ঠিকাদারদের স্থলে নতুন ঠিকাদার নিয়োগে তারা কমিশন বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে তুহিন ফারাবীকে অপসারণ করা হলেও মাহমুদুল হাসান এখনো বহাল তবিয়তে। সেসব টাকা রাশিয়ায় পাচার করেছেন বলে খোদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে, মাহমুদ আগে থেকেই রাশিয়ায় বসবাস করতেন। গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশে ফেরেন। তখন ফারাবী তাকে মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ পাইয়ে দেন। তিনি রাশিয়া থেকে দেশে আর নাও ফিরতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমাকে অপসারণ করা হয়নি। আমি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। আগামী মাসে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) আমার মৌখিক পরীক্ষা আছে। এছাড়া আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরীক্ষায় ভাইভা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এসব কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে ৪শ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি এক টাকার দুর্নীতি করেছি কেউ তা প্রমাণ করতে পারবেন না।
এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক পার্সনাল অফিসার (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবী এবং বর্তমান ব্যক্তিগত মো. মাহমুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জানা গেছে, তারা অফিসে নেই। তুহিন ফারাবীকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। অপর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বর্তমানে একজন রোগীর সঙ্গে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। দুজনের হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
ফুলবাড়ীর চরাঅঞ্চল গুলোগুলো সবুজের সমাহার
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, ফুলবাড়ী কিছুদিন আগের কথা, ধারণা নদী দিয়ে কিনারায় কিনারায় ঢেউ খেলে বয়ে যেত খরস্রোত পানি আর এখন নদীর বুকে সবুজের সমারোহ। নদীটির বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে চাষিরা বোরো, ভুট্টা,সূর্যমুখী ফুল, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হচ্ছে আর এগুলো চাষাবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন অনেক কৃষক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলার বুকে জেগে ওঠা চরাঞ্চলের চারদিকে সবুজ ফসলেই ভরে গেছে। অথচ ১০/১২ বছর পূর্বে পানি প্রবাহ এতই তীব্র ছিল যে রাতে ধরলার তীরবর্তি বসবাসকারীরা ভয়ে রাত কাটাতো কখন তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে চলে যাবে। সে সময় ছিল প্রাণের স্পন্দন। এখন আর নেই ধরলার সেই উদ্ভাবদনা।
এখন পানি না থাকায় ধরলা সৃষ্টি করেছে প্রায় ছোট-বড় চার শতাধিক চরের। বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। এরই মধ্যে ধরলায় পানি না থাকায় হেঁটে কৃষক ধরলা বুকে জেগে ওঠা চরে পলিমাটিতে বোরো ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। ধরলার জেগে ওঠা চরের শত শত বিঘা জমিতে কৃষকরা প্রায় ১০/১২ বছর ধরে বোরো ধান ও ভুট্টার চাষাবাদ করে আসছেন।
ধরলা পাড়ের কৃষক শাহীন আলম, বাদশা মিয়া, মকছেদুলসহ আরো অনেক জানান, এক সময় এই ধরলা নদী পানি দিয়ে ভরপুর ছিল আর নদী দিয়ে সব সময় স্রোত যেত এখন সেই ধরলা নদীর উপর বালু ও পলি মাটি পড়ে আবাদের উপযোগী হয়েছ, আমরা সেখানে বিভিন্ন ধরনের আবাদ করছি ফসল ফলাচ্ছি যা পুরোনো আবাদি জমি থেকে এখানে ফলন ভালো হচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান,উপজেলায় মোট আবাদি জমি ১২ হাজার ৪ শত ৪৫ হেক্টর। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর। এ উপজেলায় ২০ টি চরের মধ্যে ধরলাসহ অন্যান্য নদীর অববাহিকায় চাষাবাদ হয়েছে ১৬ শত ৫০ হেক্টর।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
মুম্বাই মহাসমুদ্র,বহু বড় বড় মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে :দেবযানী
বিনোদন ডেস্ক:
ধারাবাহিক নাটক থেকে সিনেমাতে অভিনয়। টলিউডে প্রায় ২২ বছর থেকে অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার অভিনেত্রী দেবযানী চ্যাটার্জি। এদিকে নতুন অভিজ্ঞতার সন্ধানে বছর দেড়েক আগে মুম্বাই গিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি সিনেমার জন্য আবারও কলকাতায় ফিরেছেন তিনি।
তবে শহরে ফিরে এবার কিছুটা আশাহত হয়েছেন। ছবির শুটিং বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘২২ বছর হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। ভাবলেও অবাক লাগে এমন কোনও ঘটনার সম্মুখীন কখনও হইনি।’
এদিকে অনেকদিন তো দেখা যাচ্ছে না টলিপাড়ায়। তবে কি মুম্বাইয়েই এখন বেশি থাকছেন তিনি? এ বিষয়ে অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘দু’জায়গা মিলিয়েই থাকি। যেহেতু ওখানে একটু অন্যরকম কাজের চেষ্টা করছি, তাই বেশি সময় থাকতে হচ্ছে।’
যদিও মুম্বাইয়ে যে খুব বেশিদিন তিনি থাকছেন, তা নয়। তবে তারমধ্যেই দুই ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু পার্থক্য তিনি লক্ষ্য করেছেন। দেবযানীর কথায়, ‘এই ইন্ডাস্ট্রি আমায় সবটা দিয়েছে। তবে মুম্বাইয়ের বিষয়ে যদি আলাদা করে বলতে হয়, তবে প্রফেশনালিজম থেকে কিছু ক্ষেত্রে কাজের প্রতি কমিটমেন্ট এবং দায়িত্ববোধ ভীষণ চোখে পড়ে।’ ‘ভালো কিছুর জন্য অনেকটা সময় দিতে হবে। আমি নিজেও সেটা বুঝি। এবং ছেলেকেও সেটা বোঝাই প্রতি মুহূর্তে। মুম্বাই মহাসমুদ্র। বহু বড় বড় মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন কত মানুষ দু’চোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন মুম্বাইয়ে।’
তার কথায়, ‘তাই এই কম্পিটিশনটা খুব প্রয়োজন সকলের জীবনেই। আমি ছেলেকেও বলি এই প্রতিযোগিতার মধ্যে যাও। নিজেকে পরখ করা প্রয়োজন।’
আলোকিত প্রতিদিন/২৩ এপ্রিল ২০২৫/মওম
তাড়াইলে বাতাসে দোলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩ শত ৩০ হেক্টর এবং অর্জন ১০ হাজার ৩ শত ৩৫ হেক্টর। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার, কীটনাশক সহায়তা, সুবিধা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ফসলের মাঠে বোরো ধানের শীষ দোল খাচ্ছে। এবছর নতুন জাতের ধান ব্রি-৮৯, ব্রি-৯২, উফসি-২৯ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও ব্রি-২৮, ২৯ জাতের ধানও মাঠে দেখা গেছে। অনেক জায়গায় ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। ধান কাটার জন্য শ্রমিকের পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ২৪টি ধান কাটার মেশিন। মেশিনে খরচ অনেক কম হওয়ায় বেশিরভাগ কৃষক মেশিন দিয়েই ধান কাটাচ্ছে।
বোরগাও গ্রামের হারু মিয়া জানান, আমাদের মাঠে সব ধান ফুলে ঝারা দিয়েছে, আর মাত্র ক‘দিন পরেই মাঠের অধিকাংশ ধান পাকতে শুরু করবে। এই ধানের শীষ দেখে মনে হয় এবার ফসলের বাম্পার ফলন হবে। একই গ্রামের আরেক কৃষক আঃ কদ্দুস বলেন, আমাদের মাঠে প্রচুর পরিমাণ ধান চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বড় বড় ধানের শীষ দেখা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো সমস্যা না হলে এবছর আশা করছি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি ফলন হবে।
বেলংকা গ্রামের জোবায়ের আহমাদ জানান, আমি ১৫ কাটা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রত্যেকটি খেতে আমার প্রচুর ধানের শীষ দেখা যাচ্ছে। এবছর বাম্পার ফলনের আশা করছি আমি। আশরাফুল ইসলাম জানান, আমার ধান অনেক ভাল হয়েছে। যদি কোন ক্ষতি না হয় তাহলে আমি কাটায় প্রতি ৩৮ হতে ৪০ মন ধান পওয়ার আশা করছি।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত ফসল উৎপাদন হবে। উপজেলার ১০ হাজার ১’শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। বড় ধরনের ঝড়, বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাজেই কৃষক সঠিক সময় ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছি।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ২৮% বোরো ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। তাছাড়াও এ উপজেলায় সরকারি ভর্তুকি ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে তাদের প্রায় ২৪টি মেশিন বর্তমানে ধান কাটায় নিয়জিত আছে। একেকটি মেশিন ১ ঘন্টায় প্রায় ২ একর ধান কাটতে পারে। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ২০-২৪ একর ধান কাটতে পারছে। যেখানে শ্রমিক লাগবে ৮-১০ জন ও সময় লাগবে ৩-৪ দিন। মেশিনে ধান কাটার ফলে কৃষকেরা এক দিনেই ধান কেটে মাড়াই করে পরিস্কার অবস্থায় ঘরে তুলতে পারছে। তাছাড়াও শ্রমিক দিয়ে ১ একর ধান কাটতে যেখানে ৯০০০ টাকা লাগে সেখানে মেশিনে কাটলে ৩-৪ হাজার টাকার মধ্যেই সম্পন্ন করতে পারছে। এতে কৃষকের খরচের হার অনেক কমে যাচ্ছে। ১৫-১৭ মে’র মধ্যেই উপজেলার সকল ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করেন তিনি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

