আজ সোমবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 53

‘মিনার-এ-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন রুনা লায়লা

বিনোদন ডেস্ক:

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা এবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-তে বিশেষ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। আসন্ন ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এ তাকে ‘মিনার-এ-দিল্লি’ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।

ভারতের চলচ্চিত্র ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন আয়োজিত এই উৎসবটি আগামী ৪ থেকে ৮ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনটি এবার ১৫ বছরে পদার্পণ করছে।

সম্মাননা প্রাপ্তির খবরে আনন্দ প্রকাশ করে রুনা লায়লা সামাজিক মাধ্যমে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, এই সম্মাননা গ্রহণের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন এবং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মুখিয়ে আছেন।

উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রাম কিশোর পরচা এক চিঠিতে রুনা লায়লার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার সুরেলা কণ্ঠ বহু দশক ধরে ভারত ও বাংলাদেশের শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে এবং দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।

এবারের আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য আর্টস এবং ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র-এ। উৎসবটির এবারের প্রতিপাদ্য নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক বিষয় এবং শিশুতোষ চলচ্চিত্র।

রুনা লায়লার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেবেন শর্মিলা ঠাকুর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রেভতী, শ্বেতা মেনন, ঊষা উত্থুপ, রাজপাল যাদব এবং রঘুবীর যাদবসহ উপমহাদেশের খ্যাতিমান তারকারা।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

বেকারত্বের চাপে শ্রমজীবী মানুষ. বিপন্ন মৌলিক অধিকার

আলমগীর মতিন চৌধুরী ঃ

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক মে দিবস আজ। শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনটি বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ‘মেডে’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশে মে দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘সুষ্ঠু শ্রমিক কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ১৮৮৬ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওইদিন তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে সারা বিশ্বে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রম অধিকার আদায়ের এ দিনটি বছরের পর বছর ধরে বিশ্বব্যাপী যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। শ্রমিকদের সম্মানে মে দিবস কিংবা পয়লা মে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করে বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ। কিন্তু যাঁদের নিয়ে এই দিবস, তাঁরা এ সম্পর্কে কতটা অবগত জানেন বুঝেন ? অনেক শ্রমিক জানেনই না এর ইতিহাস। উনিশ শতাব্দীর আগে কারখানার শ্রমিকদের দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চাইতেও বেশি। কিন্তু কাজ অনুপাতে পারিশ্রমিক ছিল খুবই কম। যা তাঁদের জীবনধারণের জন্য যথাযথ ছিল না। একসময়ে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ও আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে একদল শ্রমিক মালিক পক্ষকে দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মসময় নির্ধারণের দাবি জানায়। এ দাবি পূরণের সময় হিসেবে ১৮৮৬ সালের ১ মে নির্ধারণ করেন শ্রমিকেরা। কিন্তু কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের এ দাবি মেনে নেয়নি। ফলে ১৮৮৬ সালের ৪মে শিকাগোর হে মার্কেট নামক স্থানে ফের আন্দোলন গড়ে তোলেন শ্রমিকেরা। সেখানে পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর গুলি বর্ষণ করলে নিহত হন ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক। এ ঘটনার দুই বছর পর ১৮৮৯ সালে প্যারিসে ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেসে শিকাগো শ্রমিক আন্দোলনের দিনটিকে ১৮৯০ সাল থেকে পালনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। পরের বছর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে প্রস্তাবনাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হয়। পরে ১৯০৪ সালে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বব্যাপী মে মাসের প্রথম দিন মিছিল ও শোভাযাত্রার আয়োজন করতে সব সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল ও শ্রমিক সংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ আহ্বানের সাড়া হিসেবে বিশ্বের প্রায় সব শ্রমিক সংগঠন ১মে বাধ্যতামূলক কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অনেক দেশের শ্রমিকেরা মে মাসের ১ তারিখ সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানান। বিভিন্ন দেশে মে দিবস সরকারিভাবে ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। ধীরে ধীরে রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ দিনটির তাৎপর্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার দাবি। শ্রমিকদের অধিকার ও দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে মে দিবস পালিত হয়। স্বাধীনতার পর মে দিবস রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে গণমাধ্যমগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও লেখা প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে আজ জাতীয় ছুটির দিন। অন্যান্য অনেক দেশেও এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। ‘মহান মে দিবস’ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শ্রম ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ও শ্রমের মর্যাদা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করে। এই দিনটি শুধু সাধারণ দিবস নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণারউৎস। তিনি শ্রমিক অধিকারের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান। মে দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শ্রমিক শ্রেণির জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দিবসের তাৎপর্য সুদূর প্রসারী। এর ফলে শ্রমিকদের দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টায় নেমে আসে এবং তারা তাদের শ্রমের ন্যায্য মর্যাদা পেতে শুরু করেন। মে দিবসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়, তার প্রভাবে ধীরে ধীরে সামাজিক শ্রেণি-বৈষম্য হ্রাস পেতে শুরু করে। ইতোমধ্যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শ্রম অধিকার রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে শ্রম সংস্কারের কাজ করছেন বলে পিএমও অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছেন। অপ্রিয় হলেও সত্য, যে উদ্দেশ্যে আমরা মে দিবস পালন করি, সেটি কতটা সফল হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বারবার বেকার হচ্ছে শ্রমজীবী লাখ লাখ মানুষ। কেবল ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমজীবী মানুষ। করোনা মহামারির কারণে তিনবছরে ১শ ৪৩টি ছোটবড় শিল্প কারখানা বন্ধ হয়, এসময়ে বেকার হয়েছে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মচারি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ৩শ ৫৪ শিল্প বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে কাজ হারিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমজীবী। বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা কাজ হারাচ্ছেন, ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। বিগত নয় মাসে প্রায় একলাখ ২১ হাজার ৯শ বত্রিশ জন প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরেছেন, তারা আর প্রবাসে যাননি। কারণে অকারণে প্রবাস জীবনে প্রাণ হারাচ্ছে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা। কাতারে অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম প্রস্তুত কালে সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি দক্ষিণ এশীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মৃত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১ হাজার ১৮। অভিযোগ রয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশটির প্রশাসন লাশের ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি। মানা হয়নি শ্রমিক আইন। লক্ষ্য করলে দেখাযায়, বাংলাদেশে মে দিবসে সব সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় সত্য, পেটের তাগিদে অসংখ্য মানুষ রুটিরুজির সন্ধানে কাজে বেরিয়ে পড়ে। কারণ এক বেলা কাজ না করলে তাঁর পরিবারকে কাটাতে হবে অনাহারে। কারও কারও আবার মেলে না ছুটি। ছুটির দিনে কাজের জন্য জোটে না বাড়তি অর্থও। আট ঘণ্টা কাজের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়ম চোখে পড়ার মতো। কাজ করতে হচ্ছে আট ঘণ্টার অধিক। দেওয়া হচ্ছে না ওভারটাইম কিংবা অতিরিক্ত সময়ের পয়সা। তাতে মে দিবস পালন তো এসব মানুষের কাছে একপ্রকার বিলাসিতার মতো। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কর্মরত। প্রতিটি তৈরি পোশাক কারখানায় আট ঘণ্টার বেশি কাজ হয় প্রতিদিন। ওভারটাইম করতে আগ্রহী না থাকলেও বাধ্য হয়ে তা করতে হয়। সেই ওভারটাইমের টাকাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। দিতে নানা ছলচাতুরী করে মালিক কর্তৃপক্ষ। শুধু গার্মেন্ট শিল্প নয়, অধিকাংশ শ্রমখাতে এমন পরিস্থিতি দেখাযায়। ইপিজেড অথবা জোনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরির হার নির্ধারণ, মজুরি পরিশোধ, কর্মস্থলে দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকের জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে দেশে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন থাকার পরও দেশের রাজনৈতিক কারণে অসংখ্য শ্রমিক হারিয়েছেন তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। অফিসে চাকরি করেন, এমন ১৬ ভাগ মানুষ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে কাজ হারিয়েছে। চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই, এমন মানুষের সংখ্যা আরও বেশি। শালিকানাধীন ২৯ ভাগ চাকরিজীবীর বেতন কমে গেছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের হিসাবে রাজনৈতিক কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একদিনে ১৯ প্রতিষ্ঠান মধ্যে কর্মরত ১ লাখ ১৩ হাজার শ্রমজীবী চাকরি হারিয়েছে। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও আমাদের শ্রমিকদের করুণ অবস্থার চিত্র ফুটে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা কাজ হারাচ্ছেন, ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে তাঁরা। তা ছাড়া, বাংলাদেশেও রানা প্লাজা, তাজরীন গার্মেন্টস, রূপগঞ্জসহ অনেক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে, জীবন্ত পুড়ে কয়লা হয়েছে। সেই সঙ্গে হারিয়েছে বহু আশা ও স্বপ্ন। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সামান্য ক্ষতিপূরণে তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অনেক সময় সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলেও মালিক-শ্রমিক সমন্বয়হীনতায় বৃথা যায় সব। মে দিবসের গল্প কেবল বছরান্তে ঘটাকরে ভেসে আসে নজরে। ফলে শ্রমিকরা বুঝতেই পারে না আসলে শ্রমিক দিবস কি ? এতেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের শ্রমিকদের অবস্থা কতটা শোচনীয়। কিন্তু মে দিবস যায়, মে দিবস আসে। তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। ফলে পালনের জন্য মে দিবস পালিত না হোক। এর মুখ্য উদ্দেশ্যই হোক শ্রমিকের অধিকার আদায় ও শ্রমিকের নিরাপত্তা। আট ঘণ্টার অধিক কাজ নয়। এর বেশি কাজ করলে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে, সেটি সময়মতো। বাংলাদেশে অসংখ্য শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থে তাদের আরও বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। শ্রমিকদের সব দাবি মালিকপক্ষ, সরকারের কাছে তারা তুলে ধরতে পারে। তাতে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দূরত্ব অনেকখানি লাঘব হবে। শ্রম আইনগুলো কঠোরতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে তৈরি করতে হবে শ্রমিকবান্ধব আইন, যা শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে। গড়ে উঠবে বৈষম্যহীন শ্রমজীবী সমাজ। শ্রমজীবী মানুষের হাত দিয়ে গড়েছে সভ্যতা, শক্তিশালী হয়েছে জাতি। সমৃদ্ধশালী হোক বাংলাদেশ ও দেশের অর্থনীতি।

আলোকিত প্রতিদিন /৩০ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

শ্রমিক দিবসে নয়াপল্টনে সমাবেশ, লাখো মানুষের উপস্থিতির প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১ মে) দুপুর ২টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমাবেশ শুরু হবে। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সমাবেশ ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মঞ্চ নির্মাণ, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীদের যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের আশা, এতে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে।

সমাবেশের দিন ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল সীমিত রাখা হতে পারে। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে জরুরি সেবা—বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বদরুল আলম সবুজ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ইউনিটকে সক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের অধিকার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সূচনা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও শিল্পখাতে সংকট শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো হালনাগাদ না হওয়া, আউটসোর্সিং নির্ভর নিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কারণে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

মে মাসেই নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে চলমান হাম পরিস্থিতি আগামী মে মাসের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর শ্যামলীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, দেশের শতভাগ শিশুকে দ্রুত হামের টিকার আওতায় আনতে জোরালো কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬১ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক এলাকায় শতভাগ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।

তিনি জানান, টিকাদান কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু করা হয়েছে। যেখানে ৫ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে যেসব ৩০টি উপজেলায় টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে বর্তমানে নতুন কোনো রোগী নেই বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় হাম পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ, গ্যাভি, বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কতার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসা সেবার জন্য তাঁবু স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মশক নিধনে সিটি করপোরেশনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

মে দিবসে নয়াপল্টনে স*মাবেশ করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে ১মে শুক্রবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শ্রমিক সমাবেশ করবে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ সমাবেশের ঘোষণা দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজধানীতে প্রথম জনসভায় বক্তব্য রাখবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এরইমধ্যে শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে ব্যানার ফেস্টুন করা হয়েছে, মহান মে দিবস পালনের লক্ষ্যে শ্রমিক দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সমাবেশের বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি এবং সমসাময়িক জাতীয় রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন সমাবেশের প্রধান অতিথি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় নেতা এবং শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী শফু।

আলোকিত প্রতিদিন /৩০ এপ্রিল ২০২৬ /মওম

২৩ হাজার ৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার: আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা মোট ২৩,৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সাংসদ মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই তথ্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আইনমন্ত্রী জানান, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট আমলে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে, সেই তথ্য সরকারের কাছে নেই।

তিনি আরও জানান, যেসব রাজনৈতিক মামলা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি, সেগুলোর প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে, মামলার এজাহারে অভিযুক্তদের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকার কারণে দেশের সব এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা সংখ্যা সঠিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়, যা রাজনৈতিক কারণে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদনপত্র, এজাহার, চার্জশিট এবং পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে এই কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২৩,৮৬৫টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং যেসব মামলা এখনও প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলোর প্রক্রিয়া চলছে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন মঞ্জুর

বিশেষ প্রতিবেদক:

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী-কে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং অ্যাডভোকেট এস এম হৃদয়।

এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোররাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরে হাইকোর্ট পাঁচটি মামলায় তাকে জামিন দিলেও আপিল বিভাগ সেই জামিন স্থগিত করেন। এরপর ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যেগুলোতে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি জামিন পেলেও তা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে স্থগিত হয়ে যায়।

সর্বশেষ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুনের দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পৃথকভাবে ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এই প্রেক্ষাপটেই হাইকোর্ট আজ ওই দুই মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার পরিকল্পনা বিএসএফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদী ও জলাভূমি এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএসএফ কর্মকর্তারা মনে করছেন, যেসব সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা কঠিন, সেখানে এই ধরনের সরীসৃপ ‘প্রাকৃতিক বাধা’ হিসেবে কাজ করতে পারে এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে বিস্তৃত। এর বড় একটি অংশ নদী ও জলাভূমি এলাকায় হওয়ায় সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা কঠিন।

গত ২৬ মার্চ বিএসএফের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর বাহিনীর পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইউনিটগুলোকে সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে ‘সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা’ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। সীমান্ত ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অংশুমান চৌধুরী এটিকে ‘বিপজ্জনক ও অবাস্তব’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই প্রাণীগুলো কি বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে?

প্রাণিবিজ্ঞানীদেরও রয়েছে উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট-এর কর্মকর্তা রথীন বর্মণ বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সরীসৃপের জীবন ও স্থানীয় বাস্তুসংস্থানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি জানান, কুমির বা সাপকে নতুন পরিবেশে ছেড়ে দিলে তারা টিকে থাকতে নাও পারে। আর টিকে গেলেও তা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ইতিহাস বলছে, আধুনিক বিশ্বে সীমান্ত নিরাপত্তায় এ ধরনের পদ্ধতি বাস্তবায়নের নজির নেই। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সময় যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অনুরূপ একটি প্রস্তাব উঠলেও তা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দিয়ে বলেছিলেন, “আমি হয়তো সীমান্ত সুরক্ষা ইস্যুতে কঠিন, কিন্তু এতটা নিষ্ঠুর আমি নই।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তার পরিবর্তে এই ধরনের পরিকল্পনা মানবিক ও পরিবেশগত ঝুঁকিই বাড়াতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

শেয়ারবাজারে ১৫ বছরে ‘লুট’ ১ লাখ কোটি টাকা: সংসদে রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় সংসদে শেয়ারবাজার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেছেন, গত ১৫ বছরে দেশের পুঁজিবাজার থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’-এর ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রুমিন ফারহানা বলেন, এই বিপুল অর্থ মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়, যা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে। তিনি দাবি করেন, এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে অনিয়ম ও লুটপাট চলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজারকে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এ দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ জরুরি।

একই আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং অসংখ্য বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রস্তাবিত আইনে শাস্তির মাত্রা কম রাখার সমালোচনাও করেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে পুঁজিবাজারে যে অনিয়ম হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কমিশনকে পুনর্গঠন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কাজ করছে। যারা অনিয়মে জড়িত, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আশ্বাসও দেন তিনি। আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

আমরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। অতীতের মতো এখনও সরকার এই অবস্থানেই অটল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পৃথিবীতে নানা ধর্ম থাকলেও প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণের বার্তা দেয় এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর জীবনব্যবস্থা নির্ধারণ করে।

বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধের প্রদত্ত পঞ্চশীল নীতিতে প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা ও মাদক থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রেম, অহিংসা ও সর্বজীবে দয়ার শিক্ষা বৌদ্ধধর্মের মূল ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে একটি মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে সব নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। দল, মত, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে—এটাই সরকারের মূল নীতি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়ার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই চেতনা থেকেই বর্তমান সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ” এমন একটি ধারণা যা দেশের সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাই কাউকে নিজেকে সংখ্যালঘু মনে করার প্রয়োজন নেই—সবাই এই দেশের সমান নাগরিক।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম