আজ , ।   
Home Blog Page 528

৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে

এছাড়া এ সময়ের শেষে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

৫ মে দেশে ফিরতে পারেন খালেদা জিয়া

আলোকিত প্রতিবেদক:

চার মাসের চিকিৎসা এবং বিশ্রাম শেষে আগামী ৫ মে সোমবার দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। লন্ডনের চিকিৎসা এবং পারিবারিক আবহে কাটানো এই সময়ের পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেই জানিয়েছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আগামী ৫ মে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ম্যাডামকে আগামী ৫ মে লন্ডন থেকে দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি এসব কথা জানান।আব্দুস সাত্তার বলেন, আসলে ম্যাডামকে নিয়ে আসতে হবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে। সেটা ঠিক করার বিষয় আছে। আবার ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আছে। ফলে সবকিছু বিবেচনা নিয়ে ম্যাডাম কবে দেশে ফিরবেন এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে, ৫ মে ধরে নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

নড়াইলে নিষিদ্ধঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গ্রেফতার

জাহিদুল হক রনি,নড়াইল : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদর এলাকা থেকে গত জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ৪ আগষ্ট লোহাগড়ায় ছাত্র জনতার আন্দোলনে সংগঠিত হামলার ঘটনায় জড়িত  সন্দেহে সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম (২৮)-কে আটক করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ আগষ্ট) বিকালে লোহাগড়া উপজেলা সদর  লক্ষ্মীপাশার ডাকবাংলো এলাকা থেকে এসআই আব্দুস সালাম চঞ্চল শাহরিয়ার মিমকে গ্রেফতার করে।তিনি  নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের সেলিম মন্ডলের পুত্র।
মুঠোফোনে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগড়া থানার এসআই আব্দুস সালাম বলেন, ‘গোপন সংবাদ মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নড়াইল জেলার সাবেক সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিম উপজেলার ডাকবাংলো মোড়ে অবস্থান করছে জানতে পেরে,লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্যারের তাৎক্ষণিক নির্দেশে আমি তার অবস্থানে পৌঁছে আটক করতে সক্ষম হই এবং সাথেসাথেই ওসি স্যারকে অবহিত করলে স্যার দ্রুতসময়ের মধ্যে অপর একটি দল পাঠালে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ৪ আগষ্টের সময় ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের লক্ষ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে লোহাগড়ার সিএন্ডবি চৌরাস্তায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়।পরবর্তীতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোহাগড়া থানায় বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পৃথক তিনটি নাশকতার মামলায় দায়ের করে।ঐ মামলার বাদীরা সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি চঞ্চল শাহরিয়ার মিমকে হামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন হিসাবে দাবি করে আসছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশিকুর রহমান বলেন,গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চঞ্চল শাহরিয়ার মিমকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। লোহাগড়া থানায় দায়ের হওয়া পৃথক তিনটি নাশকতার মামলা অন্যতম সন্দেহভাজনদের একজন। তার বিরুদ্ধে অন্য কোন অভিযোগ আছে কিনা সেগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়াগুলো শেষ করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি   

সুখবর দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এই অভিনেত্রীর ২য় সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’। সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমাটি দেশে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি সিনেমাটি  লন্ডন বাঙালি চলচ্চিত্র উৎসবের অষ্টম আসরে দর্শকসেরা পুরস্কার অর্জন করেছে এই ছবি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সে সুখবর জানান দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। এমন খবর পাওয়ার পর উচ্ছ্বাসিত মেহজাবীন। অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মেহজাবীন বলেন, ‘অনেক দুঃসময় পেরিয়ে আজ এখানে পৌঁছেছি। রাজীবের (নির্মাতা আদনান আল রাজীব) সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করছি। এ অনুভূতি সত্যি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’ আমার জন্য।

‘প্রিয় মালতী’ সিনেমাটি এর আগে ‘কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ ও ভারতের ‘গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ অফিসিয়ালি প্রদর্শিত হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি   

‘বাচ্চাটি যাবে না, ম্যাডাম’: ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ৯ মাসের সন্তানের সঙ্গে মায়ের বিচ্ছেদ!

আলোকিত ডেস্ক : সীমান্ত ক্রসিংটির নাম আত্তারি-ওয়াঘা। একদিকে ভারতের আত্তারি গ্রাম, অন্যদিকে পাকিস্তানের ওয়াঘা। এই সীমান্ত পথ বহু বছর ধরে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণের একটি গেটওয়ে ছিল। তবে আজ সেই আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত বিভাজনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভারত ও পাকিস্তানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশ তাদের নাগরিকদের সীমান্তের ওপারের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। হাজারো পরিবারের ওপর এর প্রভাব পড়ছে, যাদের কিছু সদস্য ভারতের, আবার কিছু সদস্য পাকিস্তানের।

ভারত সরকার গত মঙ্গলবারের মধ্যে প্রায় সব পাকিস্তানি নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর ৯ মাসের ছেলে আজলানকে নিয়ে সায়রা ও ফারহান নয়াদিল্লি থেকে সারা রাত ভ্রমণ করে সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছান। ভারতশাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীর হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

‘এক নির্বাসিত জীবন’

গত ২২ এপ্রিল অস্ত্রধারীরা পেহেলগামের এক পর্যটন শহরে গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে। তাঁদের বেশির ভাগই পর্যটক। ঘটনার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত এ হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। ইসলামাবাদ তা প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ঘটনার জেরে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া বহু বছরের পুরোনো সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করেছে। পাকিস্তানও অন্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পাল্টা হুমকি দিয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে এনেছে এবং কার্যত একে অপরের বেশির ভাগ নাগরিককেই বহিষ্কার করেছে। আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত এখন পুরোপুরি বন্ধ। সেখান দিয়ে মানুষের পারাপার ও পণ্য পরিবহন বন্ধ আছে।

২২ এপ্রিলের পর এ পর্যন্ত আনুমানিক ৭৫০ জন পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ফিরে গেছেন। আর পাকিস্তান থেকে ভারতে ফিরেছেন প্রায় ১ হাজার ভারতীয় নাগরিক।

এ সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষদের মধ্যে আছেন দুই দশক পর ভারতে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসা পাকিস্তানি নারী, ভারতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা দুই বোন—যাঁদের অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়েই ফিরতে হয়েছে এবং ভারতে চিকিৎসা নিতে আসা বয়স্ক পাকিস্তানি রোগীরাও।

৪৮ বছর বয়সী হালিমা বেগমও এ তালিকায় আছেন। ওডিশা থেকে দুই দিন ধরে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ (প্রায় ১ হাজার ২৫০ মাইল) পাড়ি দিয়ে আত্তারি সীমান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

সীমান্তের কাছে একটি ট্যাক্সিতে বেশ কিছু ব্যাগ নিয়ে বসে ছিলেন হালিমা। তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি ওনাদের বলেছিলাম, আমি তো এখানে এমনি এমনি আসিনি—আমার বিয়ে হয়েছে ভারতে। ভারত সরকার যে আমার এত বছরের গড়ে তোলা জীবনকে এক ঝটকায় ছিঁড়ে ফেলছে এবং আমাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, তা কি ন্যায্য হচ্ছে?’

২৫ বছর ভারতে কাটানো হালিমা বলেন, দেশটা তাঁরও দেশ হয়ে গেছে।

হালিমার সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই ছেলে—২২ বছর বয়সী মুসাইব আহমেদ ও ১৬ বছরের যুবায়ের আহমেদ। আট বছর আগে তাঁদের বাবা মারা গেছেন। দুই ভাই মিলে ঠিক করেছেন, যুবায়ের মায়ের সঙ্গে সীমান্ত পার হবে, যেন সে মায়ের দেখাশোনা করতে পারে।

দুই ছেলের পাসপোর্টই নীল (ভারতীয়)। আর হালিমার পাসপোর্ট সবুজ (পাকিস্তানি)। মুসাইব ও যুবায়ের শুরুতে সীমান্তরক্ষীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন, এমনকি শেষে তর্কেও জড়ান। কিন্তু কোনো কিছুতে কাজ হয়নি।

কাঁপা গলায় মুসাইব বলেন, ‘মা কখনো একা কোথাও যাননি। আমি জানি না, উনি কীভাবে এই ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে করাচি পৌঁছাবেন।’

করাচিতে হালিমার যাওয়ার মতো কোনো ঘর নেই। তাঁর মা–বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তাঁর একমাত্র ভাই নিজের ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মাত্র দুটি কক্ষে থাকেন।

চোখ মুছতে মুছতে হালিমা বলেন, ‘হাজারটা প্রশ্ন ঘুরছে মাথায়। কিন্তু একটারও উত্তর নেই। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি—আমার সন্তানদের যেন রক্ষা করেন। খুব শিগগির আবার এক হব আমরা।’

রাতারাতি টানা সীমান্তে ভাগ হয়ে যাওয়া মানুষের গল্প নিয়ে ২০২২ সালে প্রকাশিত হয় ‘মিডনাইটস বর্ডারস’ বইটি। এর লেখিকা সুচিত্রা বিজয়ন বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে এমন অসংখ্য হৃদয়বিদারক কাহিনি ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।

সুচিত্রার মতে, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকে যেসব মুসলিম নারী ভারত কিংবা পাকিস্তানে জন্ম নিয়ে অন্য দেশের পুরুষদের বিয়ে করে সেদিকে চলে গেছেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। বিশেষ করে যখন তাঁদের জোর করে ফেরত পাঠানো হয়, তখন তাঁদের অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়তে হয়।

‘(বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর) আপনি এমন এক জায়গায় বন্দী হয়ে পড়েন, যা আর আপনার ঘর নয়—অথবা এমন একটা ঘর, যেটাকে আপনি চিনতেও পারেন না। নির্বাসন হয়ে ওঠে আপনার জীবনের স্বাভাবিক অবস্থা’, বলেন সুচিত্রা।

সায়রা ও ফারহানের মতো করে বিগত কয়েক দশকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বহু পরিবার এ আশায় বুক বেঁধে থেকেছে যে অচিরেই তারা আবার মিলিত হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবে তা ঘটেনি।

সুচিত্রা বিজয়ন বলেন, ‘সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে কথা বারবার শুনবেন, সেটা হলো—অনেকে ভেবেছিলেন যে তাঁরা সাময়িকভাবে যাচ্ছেন।’

‘শুধু একজন মা-ই যন্ত্রণা বুঝতে পারেন’

আবারও আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্তে ফিরে যাওয়া যাক। সেখানে ফারহান তাঁর ছেলের ফিডারটি উড়োজাহাজের মতো করে বানিয়ে খেলা করার চেষ্টা করছিলেন। ৯ মাসের ছেলে আজলানকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে শিশুটি বিরক্ত হয়ে উঠছিল। ফারহানের বোন নুরিন বলেন, ‘সে ফিডার পছন্দ করে না, সে তার মায়ের স্পর্শ চেনে।’

নুরিন ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সায়রা, ফারহান ও আজলানের সঙ্গে সীমান্তে এসেছিলেন।

নুরিন বলেন, ‘দুটি বড় দেশ আর শক্তি একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, আর আমাদের নিষ্পাপ শিশুরা আটকা পড়ে আছে। ধিক তাদের। শুধু একজন মা-ই জানেন, তাঁর ৯ মাসের সন্তানকে ফেলে আসার কষ্ট কী।’

হঠাৎ ফারহানের চোখে একঝলক আশা দেখা গেল। একজন নিরাপত্তারক্ষী তাঁর নাম ধরে ডাকছিলেন। নেভি ব্লু রঙের কটন টি-শার্ট পরা ফারহান দৌড়ে গেলেন, হাতে আজলানের নীল পাসপোর্ট। দৌড়ে যাওয়ার সময় হাসি দিয়ে ফারহান বলেন, ‘অবশেষে, আমাদের পরিবারের ওপর দয়া দেখানো হয়েছে।’ ফারহান ধারণা করেছিলেন, হয়তো এবার সায়রা ও আজলান একসঙ্গে সীমান্ত পার হতে পারবে।

কিন্তু এক ঘণ্টা পর, ফারহান ফিরে এলেন। তাঁর চোখে অশ্রু। ছেলে আজলান তখনো তাঁর কোলে, গরমে সে বিরক্ত।

ফারহান বলেন, ‘সীমান্ত পার হওয়ার সময় ও (সায়রা) অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। কর্মকর্তারা আমাকে বললেন, ও জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর কান্না থামাতে পারছিল না।’

কাঁদতে কাঁদতে ফারহান বলেন, সায়রাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার আগে জীবন কতটাই না ভিন্ন ছিল।

ফারহান দিল্লির শতবর্ষ পুরোনো ওল্ড দিল্লির একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সায়রা করাচি থেকে স্নাতক করেছেন। ফারহানের বোন নুরিন বলেন, তাঁর ভাই-ভাবি এমন এক দম্পতি, যাদের কোনো কিছু আলাদা করতে পারত না।

ফারহান বলেন, বিয়ে করে সায়রা দিল্লিতে আসার পর তাঁর জীবন, দুনিয়া, সবকিছু বদলে গিয়েছিল।

আর এখন সবকিছু আবারও বদলে গেছে। এমনভাবে সবকিছু বদলেছে, যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। আজলানকে কোলে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ফারহান। পাশে তাঁর মা আয়েশা বেগম চুপচাপ ছেলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি পা ভাঙা অবস্থায়ও সীমান্তে এসেছিলেন।

কাম করে ভাত খাই, দিবস দিয়ে কী করমো!

আলোকিত ডেস্ক : মে দিবস এলে দিনটিতে শুধু দিবসই পালন হয়, মজুরি বাড়ে না। এমন অভিযোগ দিনমজুরদের। তাঁরা বলছেন, দিন–রাত সমানতালে কাজ করে যেমন ফুরসত মেলে না, ঠিক তেমনি বাড়ে না তাঁদের মজুরি। দ্রব্যমূল্য অনুযায়ী ন্যায্য মজুরি না পেয়ে তাঁদের সংসারে টানাটানি। দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন আয়োজনে পালন করছেন। তবে শ্রমিকদের গা থেকে ছোড়া ঘামের ন্যায্যমূল্য দিতে কেউ রাজি নন। সভা-সেমিনারে বক্তব্যে ন্যায্য মজুরির কথা গলা ফেঁটে বললেও কোনো দিন বাস্তবায়ন হয়নি। ন্যায্য মজুরি মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন নারী-পুরুষ উভয়। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও তাদের শ্রমের মূল্য আরও অনেক কম।

আজ মে দিবসেও ইট ভাঙা কাজ করছেন ৫০ বছর বয়সী খুশি বেওয়া। স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। তিন সদস্যের সংসার। ২০ বছর ধরে তিনি নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। কাজ করলে দিনে তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ টাকা আয় করেন। তাঁর আয়ের টাকা দিয়েই সংসার চলে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা শহরের গোডাউন এলাকায় ইট ভাঙার কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে। মে দিবস সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘হামরা দিবস দিয়ে কী করমো। কাম করলে ভাত জোটে, না করলে উপোস থাকতে হয়।’

অন্যদিকে ১৫ বছরের খায়রুল ইসলাম রিকশা চালাচ্ছেন। বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার অদূরে প্রধানের বাজার এলাকার হাজারি গ্রামে। বাবা আয়নাল হক একজন কৃষিশ্রমিক। ছোট দুই ভাই ও এক বোনকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। বাবার সামন্য আয়ে সংসার চলে না। সংসারের বড় ছেলে সে। পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে খায়রুল ইসলাম রিকশা চালায়। জেলা শহরেই রিকশা চালিয়ে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করে। মাসের ৩০ দিনই রিকশা চালাতে হয় তাকে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপাড়া করছে সে। খায়রুল বলে, ‘ছোট ভাই–বোন আছে, বাবার আয় দিয়ে সংসার চলে না। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিতাম। কিন্তু টাকার অভাবে বাকি লেখাপড়া করতে পারি নাই। পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে। আমি পরিবারের বড় ছেলে। দায়িত্ব আমার বেশি। ছোট ভাইরা তো আর কাজ করতে পারে না। কিস্তির ওপর টাকা নিয়ে রিকশা কিনেছি। প্রায় এক বছর থেকে রিকশা চালাই।’

এই উপজেলার ফারাজিপাড়ার রিফাদ মিয়া (১৪)। চার বছর ধরে ঝালাইয়ের দোকানে কাজ করে। গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। পরিবারে অভাবে পরে আর স্কুলে ভর্তি হয়নি। ঝালাইসহ রডের যাবতীয় কাজ করে সে। রিফাদ জানায়, সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করে সে।

খায়রুল ও রিফাদের মতো গাইবান্ধায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার বলে বেসরকারি সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। তবে গাইবান্ধা জেলায় কী পরিমাণ শিশু শ্রমিক রয়েছে, তার কোনো পরিসংখ্যান জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে নেই।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। কী আর করি। বেশি লেখাপড়া করানো আমাদের পক্ষে সম্ভাব না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ছেলেটাকে পাঠিয়েছি। বড় হয়ে কিছু একটা করে খেতে পারবে।’

শহরের গোরস্তান মোড়ে এলাকায় মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করে কবির হাসান (১৩)। বাড়ি শহরের পুলিশ লাইনস এলাকায়। কবির জানায়, ‘এক বছর লেখাপড়া করছি। পরে আর স্কুলে যাই নাই। পাঁচ বছর ধরে গ্যারেজে কাজ করছি। মোটরসাইকেলের অনেক কাজ শিখেছি। গ্যারেজে দৈনিক ২০০ টাকা পাই। এটি পরিবারের কাজে দেই।’

একই মার্কেটের ঝালাইয়ের দোকানে কাজ করছে রাজিব মিয়া (১৬)। বাড়ি পুটিমারি এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করে সে। তার কাজটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। মেশিন দিয়ে ঝালাইয়ের স্থানে পরিষ্কার করতে হয় তাকে। সে জন্যে সে অন্য শ্রমিকের চেয়ে বেশি টাকা পায়। তাই সে খোলা হাতে এ কাজ করে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা মো. মেহেদী বলেন, শিশুশ্রম বন্ধে জেলায় কোনো প্রতিষ্ঠানেরই তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। পারিবারিক অস্বছলতায় অল্পবয়সী এসব শিশু অমানবিক পরিশ্রম করছে। এতে জেলায় ক্রমেই শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব শিশু বিভিন্ন গ্যারেজ, ওয়েল্ডিং মেশিন, লেদ মেশিন ও ঝালাইয়ের দোকানে কাজ করছে। ফলে শিক্ষার আলো থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে এবং ঝুকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত হচ্ছে। একটি শিশু শ্রমিক গড়ে ১০-১১ ঘণ্টা কাজ করছে। শিশুশ্রম বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এ কে এম হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, দেশে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। শিশুশ্রম কমানোর জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি   

‘শ্রমিকের ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত ডেস্ক : শ্রমিকের ন্যায্য স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশাপাশি ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবার ঐক্য ও সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।Pause

আজ বৃহস্পতিবার ‘মহান মে দিবস’ ও ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. ইউনূস বলেন, ‘বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘‘মহান মে দিবস-২০২৫’’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। দৈনিক ৮ ঘণ্টা শ্রম, ন্যায্য মজুরি ও শ্রমের মর্যাদা আদায়ের লক্ষ্যে ১৮৮৬ সালের ১ মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিক ও শ্রমের মর্যাদা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করে। এই দিনটি শুধু সাধারণ দিবস নয়, বরং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামের অনুপ্রেরণার উৎস। শ্রমিক অধিকারের জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি আমি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক খাত, কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, পরিবহন ও প্রযুক্তি-প্রতিটি খাতের উন্নতির পেছনে রয়েছে শ্রমিক ও মালিকের মেধা ও প্রাণান্তকর পরিশ্রম। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্য ও সহযোগিতার ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’

মহান মে দিবসের পাশাপাশি ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৫’’ পালন করছেন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শ্রমিকের ন্যায্য স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকদের অধিকারই নয়, এটি শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়নেরও অন্যতম শর্ত। শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন ও কল্যাণ পুরো শিল্পখাত এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়।’

 তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন-যাত্রায় শ্রমিক ও মালিকের অংশীদারত্বে দেশের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’ বাণীতে ‘মহান মে দিবস-২০২৫’ এবং ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি   

নড়াইলে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী সবুজ মোল্লা গ্রেফতার

জাহিদুল হক রনি, নড়াইল : নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক  সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডজনখানেক মামলার এজাহারভূক্ত আসামি সবুজ মোল্লাকে (৩৫) দেশীয় অস্ত্র,মুজিব টি-শার্ট ও বহুমুখী হেলমেট সহ গ্রেফতার করেছে। সবুজ মোল্লা কালিয়া উপজেলা চাচুড়ী ইউনিয়নের পুরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফসিয়ার মোল্লার পুত্র।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) নড়াইল আর্মি ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়,  স্থানীয় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, নড়াইল সদর আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে,সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা কালিয়া উপজেলার চাচুড়ী ইউনিয়নের চাচুড়ী বাজার সংলগ্ন পুরুলিয়া গ্রামে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে প্রায় দুই ঘন্টারও অধিক  সময়ব্যাপী অভিযান চালিয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পলাতক সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তির  ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডজনখানেক মামলার আসামি সন্ত্রাসী সবুজ মোল্লাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় যৌথ বাহিনী তার বাড়ি ও দোকানে তল্লাশি চালিয়ে ০৭ টি দেশীয় অস্ত্র (রামদা), ১০টি বল্লম, হকিস্টিক,বহুমুখী হেলমেট ও বিপুল পরিমান ক্যাপসহ মুজিব টি-শার্ট উদ্ধার করে।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার সন্ত্রাসী সবুজ মোল্লা ১৩ টি মামলার এজাহারভূক্ত আসামি।এছাড়া সে বিভিন্ন সময় অবৈধ পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ মোটরসাইকেল বহর নিয়ে এলাকায় শক্তি প্রদর্শণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা মাধ্যমে জনমনে ভীতি সঞ্চার সৃষ্টি করে আসছিল বলে গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্র গুলো নিশ্চিত করে। পতিত আওয়ামী লীগের পলাতক সাবেক এমপি’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় ভয়ে এলাকার কেউ তার বিরুদ্ধে যেতে সাহস পায়নি।
গত ০৫ আগষ্ট ২৪ তারিখে ছাত্রজনতার অভ্যূত্থানে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও, সবুজ মোল্লা স্থানীয় কতিপয় নেতার যোগসাজশে রাতারাতি নিজের ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি’র নেতা বনে যায়। বর্তমানে এলাকায় সে বিএনপি নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ আছে।
যৌথ বাহিনীর অভিযান শেষে আটক সবুজ মোল্লা ও তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দেশীয় অস্ত্র ও মালামাল সামগ্রী সহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নিকট হস্তান্তর করা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি    

নীলফামারীতে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানে জরিমানা 

উজ্জ্বল আহমেদ -বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর সদর  উপজেলায়  নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করায় পাঁচ গাড়ী মালিককের কাছে ৪০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে নীলফামারী পরিবেশ অধিদপ্তর।
 বুধবার  (৩০এপ্রিল  ) নীলফামারী সদর উপজেলায়   অভিযান পরিচালনা করে নীলফামারী  জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ।
পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয় কর্তৃক ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’ এর আওতায় আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবসে-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে  নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার বাইপাস মোড় নামক স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নীলফামারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সায়ীদ মুহাম্মদ। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এসময় উক্ত অভিযানে  নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার করায় ০৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে ৪,০০০/- (চার হাজার) টাকা জরিমানা ধার্যপূর্বক আদায় করাসহ ১১ টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার না করার জন্য বিভিন্ন যানবাহনের চালকগণকে সতর্ক করাসহ লিফলেট বিতরণ ও স্টিকার লাগানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি    

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা ব্যবহার হচ্ছে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজে

মোঃ আমির হোসেন, বাউফল নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, তুমি আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিক জাতী উপহার দিবো।

শিক্ষাই জাতীর মেরুদন্ড। আর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রথম হাতেখড়ি হয় প্রাথমিকের শিক্ষকদের দ্বারা। আনন্দ বিনোদন ও মায়াবী আদরে শিশুদের সেই হাতে খড়ি দেওয়ার জন্য সরকার চালু করছে প্রাক প্রাথমিকের। রয়েছে সেখানে শিশু খেলনা সহ নানা উপকরণ। কিন্তু বাউফলের ৮১ নং দক্ষিণ শৌলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রাক প্রাথমিক সহ অন্যান্য ক্লাসে উপস্থিত থাকছেননা শিক্ষকরা। নাই কোন শিশুদের আনন্দ বিনোদনের খেলনা। শিক্ষকরা কোমলমতি শিশুদের পাঠদান রেখে, গ্রামের বাড়ীগুলোতে পাঠিয়ে সংগ্রহ করে আনেন দুধ, ডিম, কলা, পেপে, নানা ধরনের সবজি। পটুয়াখালীর বাউফলে ২৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলার সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে ৮১ নং দক্ষিন শৌলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় তার মধ্যে একটি।

 

মাত্র ৬জন শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে এক জনের বাচ্চা অসুস্থ্য থাকায় তিনি রয়েছেন অনুপস্থিত। অবশিষ্ট ৫জন শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষক শামীম জাহান লাইজু ও কণা বেগম নামে দুইজন অনুপস্থিত থাকেন প্রায়ই। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ উপস্থিত না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ছুটি নিতে হয়। কিন্তু এই বিদ্যালয়টির চিত্র সম্পূর্ন ভিন্ন। প্রধান শিক্ষক নিজের খেয়াল খুশিমতো স্কুলে আসেন। আবার সপ্তাহ অবদি স্কুলে না এসে একদিন এসে পিছনের উপস্থিতির হাজিরা টানেন।

 

অনেক সময় বগলদাবা করে হাজিরা খাতা নিয়ে যান তার বাসায়। যে কারণে অন্যান্য শিক্ষকরাও নানান অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবী, দুই একজন শিক্ষক ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষকরা বাচ্চাদের পড়াতে অনাগ্রহ। যারা ক্লাসে থাকানে মেয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাথার উকুন পরিস্কার করেন আবার কতেক শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে পাঠিয়ে দুধ, হাস, মুরগীর ডিম,থানকুনি পাতা, পেপে, সবজি, কাচা আম ও পানিতাল সংগ্রহ করেন। যে কারণে স্থানীয় অনেক অভিভাবক শিক্ষকদের উপর বিরক্ত হয়ে বাচ্চাদের অন্যত্র নিয়ে ভর্তী করেছেন। কেউ কেউ আবার মাদ্রাসা ও মক্তবে দিয়েছেন সন্তানদের।

 

বছর তিনেক আগে বিদ্যালয়টিতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালীপনার কারণে ছাত্র সংখ্যা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ৬৫ জনে। স্থানীয় অভিভাবক নিউটন সহ কতিপয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধান শিক্ষক দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ে আসেন আবার ঘন্টা দেড়েক থেকেই চলে যান। বিদ্যালয়ে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেওয়া তার নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার। বিদ্যালয়ে এসে অধিকাংশ সময় ফোনে টিকটক দেখে সময় পাড় করেন। সহকারী শিক্ষক কণা বেগম নিজে ক্লাস না করে মো. মাঈন উদ্দিন (দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী) কে দিয়ে তার ক্লাস নেন। স্থানীয় অভিভাবকরা এসব কথা প্রধান শিক্ষককে জানালে (তিনি) প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং তাদের সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে ভর্তী করতে বলেন। তিনি ইচ্ছেমত ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল তৈরী করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়া বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের সকল টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। বিদ্যালয়টিতে উন্নয়ন বা ক্ষুদ্র মেরামতের কোন চিহ্নই নাই। প্রাক প্রাথমিকের বাচ্চাদের যেসব উপকরণ থাকার কথা সেখানে প্রাকের ক্লাসরুমে একটি প্লাস্টিকের চাটাই ছাড়া কিছুই নেই। স্কুলের ব্যবহৃত ২টি ল্যাপটপ ও রাউটার প্রধান শিক্ষক তার মাধ্যমিকে পড়া ছেলের কাজে বাসায় নিয়ে ব্যবহার করছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বসার চেয়ার যেমন নেই তেমনি শিক্ষার্থীদের বসার বেঞ্চগুলোও ঝুকিপূর্ণ। সম্প্রতি সানজিদা নামক এক শিক্ষক ভাঙ্গা চেয়ার থেকে পরে গুরুতর আহত হয়েছেন। উন্নয়ন বঞ্চিত এক বিদ্যালয় এটি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকগণ ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিষয় কথা বলায় প্রধান শিক্ষকের ধারা বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয়।

 

বিষয়টি শিক্ষকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলামকে জানালে তিনি এ বিষয়ে নেননি কোন ব্যবস্থা। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বখতিয়ার ও বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারনে। একাধিক শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সাথে আলাপ করলে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষকদের হুমকী প্রদান করেন এবং চাকুরীর খাতায় লাল কালী বসিয়ে দিবেন বলেও হুমকী প্রদান করেন।

 

সৈরাচার সরকারের প্রভাবশালী সাবেক এমপি চীফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজের ভাতিজা পুলিশের তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চোখ উৎপাটন মামলার আসামী মনির হোসেন মোল্লাকে দিয়ে শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানী করেছিলেন এই শিক্ষক যার প্রভাব এখনও দেখাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক কণা বেগমকে অন্যত্র সরিয়ে দিলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ঘটবে এবং বিদ্যালয়টি মানসম্মত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা ক্যাচমেন্ট এড়িয়ার অভিভাবকদের।

 

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি আজ বিদ্যালয়ে নাই। আপনার সামনা সামনি কথা বলবো। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, আমার পদস্থ কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া ওই স্কুলের বিষয়ে কোন কথা বলতে পারবোনা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার জানান, আমি জানলাম, যদি সত্যতা পাওয়া যায় যেভাবে নীতিমালা আছে তদন্ত করে বিভাগীয় মামলা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, শীঘ্রই ওই স্কুল পরিদর্শনে যাবো। নিয়মের ভিতরে না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি