আজ , ।   
Home Blog Page 527

জোবাইদা রহমানের ৪ ধরনের নিরাপত্তা চেয়ে আইজিপিকে চিঠি!

আলোকিত ডেস্ক : উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে চার মাস অবস্থানের পর সোমবার (৫ মে) দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় দুই পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চিঠিতে তার বাসভবনের পাশাপাশি বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রেও গাড়িসহ পুলিশি নিরাপত্তা’ চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, “বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী ৪ মে (পরে দল থেকে ৫ মে বলা হয়েছে) দেশে ফিরবেন। জোবাইদা রহমান তার সফরসঙ্গী হিসেবে দেশে আসবেন।

জোবাইদা রহমান ধানমন্ডিতে তার বাবার বাড়িতে উঠবেন জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, “জিয়া পরিবারের সদস্য ও তারেক রহমানের স্ত্রী হিসেবে তার জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সে কারণে তার ঢাকার বাসায় অবস্থানের সময় এবং যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

চিঠিতে সই রয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারের; তারিখ দেওয়া ৩০ এপ্রিল।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবদুস সাত্তার। তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “উনার (জোবাইদা রহমান) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে চার ধরনের নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সশস্ত্র গানম্যান, গাড়িসহ পুলিশ প্রটেকশন, বাসায় পুলিশি পাহারা এবং বাসায় আর্চওয়ে স্থাপন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি 

ফুলবাড়ীতে হাতের মেহেদি না শুকাতেই বিধবা হলেন নববধূ

মোস্তাফিজার রহমান(জাহাঙ্গীর) কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফুলশয্যার রাতেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন নববধূ লাভলী আক্তার (২০)। বরের মৃত্যুর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এ নববধূ। ভাগ্যের নিমর্ম পরিহাস ! শেষ পর্যন্ত বাকরুদ্ধ হয়ে মরদেহের পাশে বসেই নববধূ তার জীবনের স্মরণীয় রাত কাটিয়ে দেন।

শুক্রবার (০২ এপ্রিল)বিকেলে মেহেদী মাখা হাত, পরনে লাল শাড়ি ও অশ্রু ভেজা চোখের অপলক দৃষ্টিতে শেষবারের মতো মৃত বর (স্বামী)কে বিদায় জানালেন নববধূ লাভলী আক্তার।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ মে) দুপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কবিরমামুদ গ্রামের শাহ জামালের মেয়ে লাভলীর সঙ্গে একই ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের আছিয়ার বাজার এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে খালেকুজ্জামান ডিউকের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার সারাদিন দুই পরিবারের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে আপ্যায়নসহ নানা আনন্দ ও উৎসব চলছিল। বরের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুবান্ধব এবং পাড়া প্রতিবেশীদের খাওয়া-দাওয়া শেষে আত্মীয় স্বজনরাও অনেকেই বিদায় নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নববধূ মেহেদী মাখা হাত, লাল শাড়ি পরে বাসর (ফুলশয্যা) রাতে বিছানায় বসে বরের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বর খালেকুজ্জামান ডিউট বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে কথা শেষে রাত ১২টার দিকে বাসর ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় নববধূর কাছে এক গ্লাস পানি চান এবং পানি চাওয়া মুহূর্তে চিৎকার দিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে নববধূর আত্মচিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে বর ডিউটকে ডাকা ডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে বাড়ির লোকজন নিশ্চিত হন হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে।

নববধূর চাচা সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, ‘জামাই খালেকুজ্জামান ডিউট প্রায় ১৮ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেছেন। তার পূর্বের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার মুক্তা। তার ঘরে ১ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ায় বৃহস্পতিবার আমার ভাতিজির সাথে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। কে জানতো বিয়ের রাতেই আমার জামাইয়ের মৃত্যু হবে। অল্প বয়সে আমার ভাতিজি বিধবা হলো। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। সবই নিয়তির খেলা।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম মিয়া শোহেল জানান, প্রধান শিক্ষক খালেকুজ্জামান ডিউটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিয়তির ওপরে তো কারো হাত নেই। তবে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা খুবই কম দেখা যায়। বাসর রাতেই স্ত্রী বিধবা! খুবই কষ্টদায়ক ঘটনা। শুক্রবার বিকেল ৩টায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন  হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি 

নীলফামারী রিপোর্টার্স ক্লাবের নব নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা 

উজ্জ্বল আহমেদ – বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারী রিপোর্টার্স ক্লাবের নব নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে নীলফামারী শহরের আশা কমিউনিটি সেন্টারে নীলফামারী রিপোর্টার্স ক্লাবের ২১ সদস্য বিশিষ্ট নব নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা করেন নীলফামারী প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও চ‍্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি আনোয়ারুল আলম প্রধান।
এতে মাই টিভির জেলা প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম বুলুর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন নীলফামারী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চ‍্যানেল 24 জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ, নীলফামারী প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক এম আবুল হোসেন, নীলফামারী রিপোর্টার্স ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি ও দৈনিক তৃতীয় মাত্রার জেলা প্রতিনিধি মোঃ তৈয়বুর রহমান (মানিক), নীলফামারী রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনতার জেলা প্রতিনিধি এন.এম হামিদী বাবু,  সহ সভাপতি সুজা মৃধা।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি 

এখন আসুন রাষ্ট্র গঠন করি : বগুড়ায় ফরহাদ মজহার

মাজেদুর রহমান, ব্যুরো চীফঃ
কবি লেখক গবেষক মানবাধিকার কর্মী বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার বলেছেন, গণ অভ্যুত্থান মানে জনগণ যখন বিদ্যমান আইন আর স্বীকার করে না, বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে যে ব্যবস্থাটা আছে এটাকে সে আর মানে না। এই বিদ্যমান আইনটাকে সে উৎখাত করে, সেই উৎখাতের সঙ্গে সঙ্গে এই বিদ্যমান আইনে যারা ক্ষমতাসীন, যারা ক্ষমতা নিয়ে বসে আছে তাদেরকে উৎখাত করা। আমরা সেটা করেছি। এখন আসুন রাষ্ট্র গঠন করি। রাষ্ট্র গঠন করে নির্বাচন নিয়ে কথা বলি। আমাদের আমুল সংস্কার করতে হবে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। যে নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনো দেশে বিদ্যামান রয়েছে সেটি শেখ হাসিনার। এই ফ্যাসিস্ট এর নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাতিল করেই তো নির্বাচনে যেতে হবে। রাষ্ট্র গঠন এবং নির্বাচন করা দুটি দুই বিষয়।
এই গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রত্যেকটি তরুণকে সেনাবাহিনীর অšর্Íভুক্ত করা দরকার ছিলো। একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা আমাদের প্রথম কাজ ছিলো। বাংলাদেশকে রক্ষা করা আমাদের সকলের কাজ। আগে দেশকে ভাবেন। আপাতত নির্বাচন বাদ দিন। প্রথমে দেশ গঠন, তারপর নির্বাচন নিয়ে ভাবুন। তাছাড়া গঠনতন্ত্র সংস্কার করতে হবে। সেইজন্য জনগণের অধিকার অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার, নতুন গঠনতন্ত্র করে নির্বাচন হোক। শেখ হাসিনার প্রেতাত্ত্বারা এখনো সজাগ আছে। আমাদেরও সজাগ থাকতে হবে বাংলাদেশের জন্য। এই গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রত্যেকটি তরুণকে সেনাবাহিনীর অšর্Íভুক্ত করা দরকার ছিলো। একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা আমাদের প্রথম কাজ ছিলো। বাংলাদেশকে রক্ষা করা আমাদের সকলের কাজ। আগে দেশকে ভাবেন। আপাতত নির্বাচন বাদ দিন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, আমরা কাকে রাজনৈতিক দল বলবো, যদি সে দল জনগণের গঠনতান্ত্রিক পক্রিয়ার মধ্যে থাকে. তাকে রাজনৈতিক দল বলবো। এছাড়া রাজনৈতিক দল বলা যাবে না। এবার কিছু বিষয় নিয়ে জনগণকে আগামীতে সচেতন করতে হবে, আমরা যে নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, সেইখানে কোন ব্যক্তির অধিকার বা মর্যাদা হরণ করা যাবে না। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের কথা বলিনি, জনগেণের সার্বভৌমত্বের কথা বলেছি। রাষ্ট্রের এমন কোন অধিকার নেই যখন তখন যাকে তাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে।
রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার আরো বলেন, গণ অভ্যুত্থানের পর পরই আমরা যেই সরকারকে কায়েম করেছি, এই সরকার জনগণের কাছে যাবে। কিন্তু তারা এটা করলেন না। তারা করলেন কি উপর থেকে অনেকগুলো কমিশন বসিয়ে দিলেন। এবার আসুন আগে বাংলাদেশ গঠন করি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নদী গবেষক মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, কবি ও সংগঠক মো: রুমেল, বগুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব সবুর শাহ লোটাস, বাংলাভিশন বগুড়া ব্যুরো প্রধান ও গবেষক সাংবাদিক আব্দুর রহীম বগড়া, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপদি গনেশ দাশ, রেজাউল বারী দিপন, কবি তালাশ তালুকদার, আব্দুর রশীদ প্রবালসহ জেলার ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলে মাওলানা রহিস উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় মানববন্ধন

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
গাজীপুরে মব সৃষ্টি করে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এর কর্মী মাওলানা রইস উদ্দিন এর উপর নির্যাতন এবং কারা হেফাজতে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তর দাবীতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২মে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় টাঙ্গাইল শহরের প্যারাডাইসপাড়া দরবার শরীফের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে নেছবতে শাহ এনায়েতপুরী রঃ এর জাকেরবৃন্দ।

এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মাওলানা সাইফুদ্দিন,মাওলানা বুলবুল ইসলাম, মো.ঈসমাইল হোসেন,নজরুল ইসলাম প্রমূখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,বলাৎকারের অভিযোগে যেভাবে মাওলানা রহিস উদ্দিনের উপর হামলা করেছে তা এই নতুন বাংলাদেশে সম্ভব কিনা জানিনা। আমরা রইস উদ্দিনের উপর হামলা কারীদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে দাবী জানাচ্ছি সরকারকে। আমরা এই হত্যার বিচার নাহলে কঠিন আন্দোলনের ডাক দিব।
এসময় নেছবতে শাহ এনায়েতপুরী রঃ এর প্রায় ৫শতাধিক এর অধিক জাকেরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

সিরাজগঞ্জে মিনি আয়নাঘরের সন্ধান মিলেছে

ওয়াসিম সেখ:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামে একটি মিনি ‘আয়নাঘর’ এর সন্ধান মিলেছে। এ ঘরে সাধারণ মানুষকে বন্দি করে চাঁদা আদায়, কিডনি বিক্রি এবং জমি লিখে নেওয়াসহ নানা অপকর্ম পরিচালনা করা হতো বলে অভিযোগ ওঠেছে।
২ মে শুক্রবার সকাল ৯টায় উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ জহিরুল (৪৫) এর বাড়ির বিল্ডিং এর নিচে একটি মিনি ‘আয়নাঘর’ এর সন্ধান পাওয়া যায়। এটি দেখতে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১:৩০ মিনিটের সময় দীর্ঘ ছয় মাস বন্দি থাকা একই ইউনিয়নের পূর্ব পাইকড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল জব্বার (৭৫) এবং লক্ষ্মী বিষ্ণু প্রসাদ গ্রামের মুনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৪৮) মুক্ত হন। তারা টানা চার-পাঁচদিন ধারালো কাঁচি দিয়ে মেঝে খুঁড়ে একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে বের হন। এরপর তারা পরিবার-পরিজনকে এ লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে এসে  ‘আয়নাঘর’ এর সত্যতা পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
কথিত এই আয়নাঘর থেকে মুক্ত হওয়া ভুক্তভোগী শিল্পী খাতুন বলেন, পাঁচ মাস ধরে বন্দি। একমাস অন্য জায়গায় রেখেছিল। তবে কোথায় রেখেছিল জানি না। মাঝে মধ্যে শরীরে ইনজেকশন দিতো তারা।
তবে কারা তাকে বন্দি করেছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পল্লি চিকিৎসক আরাফাত, শরীফ মেম্বার, কামরুল ইসলাম, হাফিজুল, পান্নাসহ আরও তিনজন। তারা মুখোশপরা ছিলেন। বন্দিঘরে তিনি ছাড়াও আব্দুল জব্বার নামের একজন ছিলেন।
আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা গত বছরের ৮ নভেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজ হন। পরে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ১২ নভেম্বর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। তাতেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু গভীর রাতে বাবা ওই আয়নাঘর থেকে কৌশলে বের হয়েছে। তিনি খুব অসুস্থ, আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই ভবনের মালিক জহুরুল ইসলামের ছেলে সুমন সেখ। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ভবনের নিচে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট কক্ষ করে আয়নাঘর বানিয়েছেন পশ্চিম লক্ষ্মীকোলা গ্রামের রেজাউল করিম তালুকদারের ছেলে পল্লি চিকিৎসক নাজমুল হোসেন আরাফাত। তিনি এবং তার কিছু লোকজন গভীর রাতে এ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমি এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছি। অনেক মানুষের সমাগম হয়েছে। এখন আর কিছু বলতে পারছি না।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক হোসেন বলেন, ওটা আসলে আয়নাঘর কি না । এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে আরাফাত নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

ফাঁসির দড়ি ছাড়া হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই : এনসিপি নেতা মাহিন

আলোকিত ডেস্ক:

ফাঁসির দড়ি ছাড়া হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার।

তিনি বলেন, যারা মনে করছেন শেখ হাসিনা দ্রুতই দেশে ফিরবে, তাদের জন্য বলতে চাই- শেখ হাসিনা শুধু একটি কারণেই বাংলাদেশে ফিরতে পারেন তা হলো ফাঁসির দড়ি গলায় ঝোলাতে।

২ মে শুক্রবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মাহিন বলেন, যাদের হাতে হাজারো সাধারণ মানুষের রক্ত, তাদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। আওয়ামী লীগ গণহত্যা এবং স্বৈরশাসনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনার বিচার এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, যেদিন শেখ হাসিনা আমাদের ‘রাজাকার’বলেছিলেন, সেদিন থেকেই অভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল। জাতিকে অপমান করার পরিণতি ইতিহাসে কখনো ভালো হয়নি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সংবিধানের নামে যদি বাঙালি জাতীয়তাবাদকে মুছে ফেলা হয়, তবে মানবিক অধিকার বলে কিছু থাকবে না।

মাহিন সরকার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিক বিপ্লব’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই বিপ্লব কেবল বাংলাদেশের নয়, কাশ্মীর এবং ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষদের প্রতিও এক ধরনের আশার বার্তা।

অতীত ইতিহাসের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, ইতিহাস বলে—ইব্রাহিম (আ.) এর কাছে নমরুদের, মুসা (আ.)-এর কাছে ফেরাউনের পতন হয়েছিল। এবার ছাত্র-জনতার হাতেই পতন হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার। একই দিন বেলা ৩টায় বায়তুল মোকাররম গেটে আওয়ামী লীগের বিচার এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে এনসিপি। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা জয়নাল আবেদিন শিশির বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা রায় দিয়েছেন—আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না। দলটির নেতাদের মাঠে নামতে দেওয়া হবে না, প্রতিহত করা হবে।

বিক্ষোভে অংশ নিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। উত্তরের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে বিক্ষোভকারীরা এতে যোগদান করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাইলেন তারেক রহমান

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২ মে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে এবি পার্টির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবারও বলতে চাই, সুনির্দিষ্টভাবে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণের আদালতের মুখোমুখি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার গঠিত হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত থাকবে। রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিবর্তনে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যস্ত হয়ে উঠলে আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে আর কেউ তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে সক্ষম হবে না।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। রাজনীতির ময়দানে আমরা তাদের স্বাগত জানাই। গণতন্ত্রের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি দেশের স্বার্থের প্রশ্নে বাংলাদেশের পক্ষের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান এক ও অভিন্ন। উদ্দেশ্য এবং গন্তব্য এক ও অভিন্ন। কী সেটি? সেটি হচ্ছে দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং অবশ্যই জনগণের কল্যাণ সাধন। তবে যে রাজনৈতিক দলটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে, গণতন্ত্র হারিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম দিয়েছিল, সংবিধান, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছিল, গুম-খুন-অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল, বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের জনগণ মেনে নেবেনা।

তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে পলাতক স্বৈরাচার জনগণের ভোট ছাড়াই তিনবার অবৈধ সরকার গঠন করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আজ জানতে চায় সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের আগামী দিনের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক করে দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বা নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আগামী দিনে অবশ্যই সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছেন তাদের আমি বলতে চাই, লুটপাট এবং দুর্নীতির শত শত কোটি টাকা হাতে নিয়ে সারা দেশে স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার অপেক্ষায়। স্থানীয় নির্বাচন পলাতক স্বৈরাচারের জন্য পুনর্বাসিত হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। যারা বলেছেন তারা হয়ত এই বিষয়টি বিবেচনা করেননি।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের স্বাধীনতার বার্তা উপেক্ষা করে পতিত পলাতক স্বৈরাচার দীর্ঘ দেড় দশক স্বাধীন বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার দুঃসাহস না দেখায়, পরাজিত তাঁবেদার অপশক্তি এবং তাদের দোসররা আর যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেটিই হোক বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।

তিনি বলেন, জনগণকে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায় নিশ্চিত করা না গেলে শেষ পর্যন্ত কোনো সংস্কারই হয়ত টেকসই হবে না। এ কারণেই রাষ্ট্র-রাজনীতির গুণগত সংস্কার এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নির্বাচিত জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক দল নির্বাচনের দাবি জানাবে এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রীতি। অথচ আমরা খেয়াল করছি গত কিছুদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে দেশে এমন একটি আবহ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানানোই যেন এক অপরাধ। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অবজ্ঞা সূচক বক্তব্য-মন্তব্য কিন্তু পলাতক স্বৈরাচারকে আনন্দ দেয়। অপরপক্ষে এটি গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য অপমানজনক। রাষ্ট্র-রাজনীতি মেরামতের জন্য সংস্কারের কর্মযজ্ঞ চলছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি দল সংস্কারের পক্ষে। তারপরও সংস্কার নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কেন এত সময়ক্ষেপণ করছে। এই নিয়েও জনগণের মনে ধীরে ধীরে প্রশ্ন বেড়ে চলেছে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ এবি পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

ভারতে স্কুলের খাবারে মরা সাপ, অসুস্থ শতাধিক

ভারতের একটি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবার গ্রহণ করে শতাধিক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থা। তাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, খাবারের মধ্যে মরা সাপ থাকার পরও তা সরবরাহ করা হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ।

জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের (ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন বা এনএইচআরসি) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিহার অঙ্গরাজ্যে মোকামা শহরের একটি বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। অন্তত পাঁচশ শিশুকে ওই খাবার সরবরাহ করা হয়। সরবরাহ করার আগেই খাবারের মধ্যে মরা সাপ পেলেও তা সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে বাবুর্চির বিরুদ্ধে।

ওই খাবার গ্রহণের পর অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানিয়ে একটি সড়ক অবরোধ করেন। এনএইচআরসি জানিয়েছে,বিষয়বস্তু যদি সত্য হয়, তাহলে এটি শিক্ষার্থীদের মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। বিহারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিশদ রিপোর্ট চেয়েছে এনএইচআরসি, যাতে আক্রান্ত শিশুদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কেও তথ্য থাকতে হবে।

ভারতের মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ১৯২৫ সালে মিড-ডে মিল কর্মসূচির সূচনা। দেশের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ক্ষুধা নিবারণের উদ্দেশে সরকারি উদ্যোগে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়ে আসছে। তবে খাদ্যের পুষ্টিমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বিহার অঙ্গরাজ্যেই ২০১৩ সালে মিড-ডে মিলের খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ২৩ জন স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, খাবার পরীক্ষা করে তাতে মারাত্মক বিষাক্ত কীটনাশকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২মে ২০২৫/মওম

প্রবাসীর রেমিট্যান্সের অর্থ আত্মসাত করে ব্যাংক কর্মকর্তা কা*রাগারে!

আলোকিত ডেস্ক : রেমিট্যান্সের অর্থ জালিয়াতি মামলায় আফসানা শাহিন মুন্নী (৩৬) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ মে) রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। পরে তাকে খুলনার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আফসানা শাহিন মুন্নী সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার। তিনি মহানগরীর ইস্পাহানি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ওসি হাওলাদার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসাইন মাসুম।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল আল হাদিস বাট্রি নামক এক মালয়েশিয়াপ্রবাসীর অ্যাকাউন্টে প্রেরিত রেমিট্যান্সের ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার স্ত্রী বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আফসানা শাহিন মুন্নীসহ ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়।

ওসি হাওলাদার মোহাম্ম দ সানোয়ার হোসাইন মাসুম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোল্লা জুয়েল রানার নেতৃত্বে একটি দল ঢাকা থেকে মুন্নীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, বাদীর স্বামী আল হাদিস বাট্রি মালয়েশিয়ায় প্রবাসজীবন যাপন করেন। তিনি প্রবাসে থেকেই ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর অনলাইনে নিজ নামে খুলনা মহানগরীর আপার যশোর রোডের সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক খুলনা শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলেন।

পরে ওই অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সময় মোট ১০ লাখ ২ হাজার টাকা জমা করা হয়। তাঁর স্বামী চলতি বছরের ১৮ মার্চ দেশে ফিরে অর্থ উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁর অ্যাকাউন্টে মাত্র ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রয়েছে এবং বাকি ৭ লাখ টাকা নেই বলে জানান।

তাৎক্ষণিক তিনি ব্যাংক স্টেটমেন্ট বের করে দেখতে পান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আরটিজিএসের মাধ্যমে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে আসামিদের একজনের ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৭ লাখ টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আরটিজিএসের মাধ্যমে অর্থ ট্রান্সফার করতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের দাতা বা হিসাবধারীর উপস্থিত থাকতে হয়। কিন্তু তাঁর স্বামী তৎকালীন সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া লোক সাজিয়ে ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো সমাধান দেয়নি আমাদের।

খুলনা শাখা সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ম্যানেজার হাফিজ আহমেদ বলেন, তিনি নতুন যোগদান করায় বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি