আজ সোমবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 51

ঢাকা বার সমিতি নির্বাচনে ২৩ পদে বিএনপিপন্থিদের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২০২৭ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে একচেটিয়া জয় পেয়েছে বিএনপিপন্থিদের আইনজীবীদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা নীল প্যানেল। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদের প্রতিটিতেই বিপুল ভোটে জয় পেয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে তারা। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল অংশ নেয়নি। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের দাবি, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগই দেওয়া হয়নি। তাদেরকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচন করতে না পারায় তাদের সমর্থকেরা ভোটও দেননি এবারের নির্বাচনে।

নির্বাচনে নীল প্যানেলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ বা‘সবুজ প্যানেল’। নির্বাচনে গুরুতর জালিয়াতি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স। তবে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীরা এবার আলাদা প্যানেলে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে ছিল তাদের জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদ। আর জামায়াতের সঙ্গে ছিল তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি।

বিএনপিপন্থিদের ‘ক্লিন সুইপ’ : শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৩টি পদের প্রতিটিতেই নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। নির্বাচন বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি একটি ‘ক্লিন সুইপ’ বা সম্পূর্ণ একচেটিয়া বিজয়।

‘ক্লিন সুইপ’ বলার কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেল (জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত) একটি পদেও জয়ী হতে পারেনি। সব পদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে নীল প্যানেল। এতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অর্জন করেননি, পুরো কার্যনির্বাহী কমিটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছেন। আইনজীবীরা বলছেন, পুরো কমিটিতে বিরোধী প্যানেলের একজন প্রার্থীও জয় না পাওয়ায় এই ফলাফলকে ‘ক্লিন সুইপ’ হিসেবে চিহ্নিত করার মূল কারণ, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সম্পূর্ণভাবে ভোটের ম্যান্ডেট হারিয়েছে।

কে কত ভোট পেয়েছেন : নীল প্যানেলের প্রার্থীরা প্রতিটি পদেই বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন, যা নির্বাচনে তাদের একচেটিয়া আধিপত্যকে স্পষ্ট করে। নীল প্যানেলের বিজয়ী প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের আইনজীবীরা।

নির্বাচনে সভাপতি পদে নীল প্যানেলের মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ৪ হাজার ৪৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এস এম কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউনূস আলী বিশ্বাস পেয়েছেন ১৪৬ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আবুল কালাম খান ৪ হাজার ৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে সবুজ প্যানেলের মো. আবু বক্কর সিদ্দিক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৬১ ভোট। এই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল্লাহ ৪২৪ ভোট ও বলাই চন্দ্র দেব ৩৫৫ ভোট পেয়েছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে নীল প্যানেলের মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ৪ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৫৪ ভোট। সহ-সভাপতি পদে নীল প্যানেলের মো. আবুল কালাম আজাদ ৪ হাজার ৪৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. লুৎফর রহমান আজাদ পেয়েছেন ২ হাজার ১১৩ ভোট।

কোষাধ্যক্ষ পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস) ৩ হাজার ৯৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. আজমত হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৫০৫ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২১১ ভোট। সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি) ৪ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. শাহীন আক্তার পেয়েছেন ২ হাজার ২২৪ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মো. মাহাদী হাসান জুয়েল ৩ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া পেয়েছেন ২ হাজার ২৮৬ ভোট। এই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান আবুল হোসেন পেয়েছেন ৬২৫ ভোট। গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ) ৪ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, বিপরীতে নীল প্যানেলের মো. শাহাদাত হোসাইন পেয়েছেন ২২৫৫ ভোট।

সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মারজিয়া হীরা ৩ হাজার ৮৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের বিলকিস আক্তার পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ওলিদা বেগম পেয়েছেন ৫৯৭ ভোট। অফিস সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মো. আফজাল হোসেন মৃধা ৩ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুর রাজ্জাক পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন পেয়েছেন ৫৭৮ ভোট। ক্রীড়া সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মো. সোহেল খান ৪ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের মো. বাবুল আক্তার বাবু পেয়েছেন ২ হাজার ৫১০ ভোট।

সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের এ. এস. এম ফিরোজ ৪ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের শাহজাহান মোল্লা পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৩ ভোট। তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের শফিকুল ইসলাম শফিক ৪ হাজার ৫৯৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, যেখানে সবুজ প্যানেলের মুস্তাফিজুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৭৯ ভোট।

সদস্য পদেও নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় : সদস্য পদেও নীল প্যানেলের প্রার্থীরা আধিপত্য বজায় রেখেছেন। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪২৩ ভোট পেয়ে প্রথম হয়েছেন ফারজানা ইয়াসমিন। এছাড়া নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন নীল প্যানেলের মো. নজরুল ইসলাম (মামুন) ৪ হাজার ৩০৩ ভোট, মো. আদনান রহমান ৪ হাজার ২৭৫ ভোট, সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান) ৪ হাজার ৯ ভোট, মামুন মিয়া ৩ হাজার ৯৫১ ভোট, মো. নিজাম উদ্দিন ৩ হাজার ৮৯৪ ভোট, মো. সানাউল ৩ হাজার ৮৮৪ ভোট, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম) ৩ হাজার ৭৪০ ভোট, এ. এইচ. এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও) ৩ হাজার ৫০৪ ভোট ও শেখ শওকত হোসেন ৩ হাজার ৪১১ ভোট।

অন্যদিকে, পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে মো. জহিরুল ইসলাম ২ হাজার ৬৩৫ ভোট, মো. কাইয়ুম হোসেন নয়ন ২ হাজার ৪২৭ ভোট, বেলাল হোসেন ২ হাজার ৩৭২ ভোট, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা) ২ হাজার ৩০৯ ভোট, মো. শাহ আলম ১,৯৫৮ ভোট, কাওসার আহমেদ ১ হাজার ৯৫৪ ভোট, মো. মহসিন (রেজা) ১ হাজার ৯৩৪ ভোট, মো. ওমর ফারুক ১ হাজার ৯১৭ ভোট, মোশাররফ হোসাইন ১ হাজার ৮৬৯ ভোট, মো. ইউনুস ১ হাজার ৮২৯ ভোট এবং মৌসুমী বেগম (ঢাকাইয়া) ১ হাজার ১২২ ভোট পেয়েছেন। সব মিলিয়ে, প্রতিটি পদে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে এবারের ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল।

ভোট দেওয়ার হার মাত্র ৩৪ শতাংশ : দুইদিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয় গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল। প্রথম দিন ২৯ এপ্রিল ২ হাজার ৭৫৯ জন ভোট দেন, দ্বিতীয় দিন ৩০ এপ্রিল ভোট দেন ৪ হাজার ৩১০ জন। ফলে দুই দিনে মোট ৭ হাজার ৬৯ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার হার প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০ হাজার ৭৮৫ জন ভোটারের মধ্যে ১৩ হাজার ৭১৬ জনই ভোট দেননি।

গত আটটি নির্বাচনের তুলনায় এটি অন্যতম সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ২০১৮-১৯ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২৪-২৫ সালে ৪৬ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা আরও কমেছে।

গত কয়েক বছরের নির্বাচনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ২১ হাজার ২০৮ ভোটারের মধ্যে ৯ হাজার ৬৯০ জন বা ৪৬ শতাংশ ভোট দেন। ২০২৩-২৪ সালে ভোটার ছিল ১৯ হাজার ৬১৮ জন, ভোট দেন ৯ হাজার ২৪৩ জন বা ৪৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ সালে ৫৭ শতাংশ, ২০২১-২২ সালে ৪৯ শতাংশ, ২০২০-২১ সালে ৫১ শতাংশ এবং ২০১৯-২০ সালে ৫২ শতাংশ ভোট পড়ে।

আলোকিত প্রতিদিন /০২ মে ২০২৬ /এমআরএম

দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা,যার ৮০ শতাংশ হবে নারী: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহরকেন্দ্রিক কিছুটা স্বাস্থ্যসেবা থাকলেও এখনো আমরা সেভাবে গ্রামে তা পৌঁছে দিতে পারিনি। আমরা চাই, নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে। তাই মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগে তাকে যদি স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতন করতে পারি, তাহলে সেই মানুষটি পরবর্তী সময়ে ডাক্তারের কাছে গেলে বেটার সার্ভিস পাবে।

২ মে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা করছি, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে ঘরে ঘরে মানুষের কাছে যাওয়া, শহরেও তারা থাকবে। ঘরে ঘরে গিয়ে তারা মানুষকে সচেতন করবে, বিশেষ করে নারীদের। তারা সচেতন করবে কোন খাবার খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনি রোগ হবে না, তারা সবাইকে সচেতন করবে। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সুস্থ রাখা,তাদের সচেতন করা।

তারেক রহমান বলেন, অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যখন কম হবে তখন মেডিকেলে আমাদের সার্ভিস দিতে, টেক-কেয়ার করতে সুবিধা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশের অনেক জায়গায় কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে, আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দ্রুত এসব চালু করব। প্রয়োজনে প্রাইভেটাইজ করা হবে, যারা এ বিষয়ে আগ্রহী আছেন তাদের দিয়ে। এটা করতে পারলে সারাদেশে কিছু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এছাড়া আমরা চেষ্টা করছি দেশে এবং বিদেশে যেসব বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন তাদের সম্পৃক্ত করতে। এছাড়া আমাদের যেসব ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট রয়েছে সেগুলোকে আমরা আরও কার্যকর করতে চেষ্টা করব। যাতে এখানে যারা রয়েছে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, দেশে ও দেশের বাইরে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। পরে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি প্লেনে করে রওয়া হয়ে সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ স্থানীয় নেতারা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আলোকিত প্রতিদিন /০২ মে ২০২৬ /মওম

মানিকগঞ্জে বিনা মূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত

মো: মহিদ:

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ৭নং ওয়ার্ড পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার জাদুঘর প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চক্ষু শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাদুঘরে রহিমুন্নেছা-এনায়েত ফাউন্ডেশন, মেহের-আজিজ ফাউন্ডেশন, মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ (ঢাকা)-এর উদ্যোগে এবং ঢাকা লায়ন্স ক্লাবের তত্ত্বাবধানে আজ সকাল ৯টা থেকে এই জনসেবামূলক কার্যক্রম শুরু হয়।
মানিকগঞ্জ জাদুঘরের সভাপতি অধ্যাপক আবুল ইসলাম শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মানিকগঞ্জ নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মানিকগঞ্জ মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, প্রশাসক মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, সিভিল সার্জন মানিকগঞ্জ এ.কে.এম. মোফাখখারুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, চিকিৎসক এবং সমাজসেবীরা। শিবিরে অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয় এবং জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোকিত প্রতিদিন /০২ মে ২০২৬ /মওম

সরাইলে নিয়োগ-বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

শওকত আলী: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেনের ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​জানা যায়, ​২০২৩ সালে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নোয়াগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। উক্ত পদে তায়বুর রহমানসহ মোট চারজন প্রার্থী আবেদন করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী তায়বুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়।

​ভাইরাল ভিডিও ও ঘুষের দাবি ​ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেনকে অর্থ সংক্রান্ত দরদাম করতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন ​“১০ হাজার টাকা পেয়েছি, আরও ২০ হাজার টাকা দিও।”

​ভুক্তভোগী তায়বুর রহমান জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর বিদ্যালয়ে নিয়োগপত্র নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার কাছে ‘খরচ বাবদ’ ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তায়বুর তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু বাকি ২০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক তার ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেন।

​প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেন নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন খরচ মেটানোর জন্য ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী তিনি টাকা চেয়েছিলেন। তায়বুর বাকি টাকা দিতে না পারায় কমিটির মাধ্যমেই তাকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা ​উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (জীবন ভট্টাচার্য): তিনি জানান, আমি নতুন এসেছি অতিরিক্ত দায়িত্বে, আসার পর থেকে শুধু ঝামেলা শুনিতেছি, যে লোক চলতে পারে না সে লোক দিয়ে স্কুল কেমনে চালাব জোর করে।

নবাগত ​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি, এ বিষয়ে কোন কিছু জানি না।

​জনমনে ক্ষোভ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নারী ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে পেছনে ফেললো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক:

আইসিসি সর্বশেষ বার্ষিক হালনাগাদ ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে, যেখানে পুরুষদের টেস্ট এবং নারীদের ওয়ানডে—দুই ফরম্যাটেই অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে নারীদের ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে, যেখানে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে সাত নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

নারীদের ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং
বাংলাদেশের জন্য সুখবর এসেছে, কারণ তারা পাকিস্তানকে এক পয়েন্টের ব্যবধানে (৭৩ পয়েন্ট) পেছনে ফেলে সাত নম্বরে স্থান পায়। পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট বর্তমানে ৭২। এর ফলে বাংলাদেশের এই উন্নতি পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দেওয়া ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অস্ট্রেলিয়া (১৬৩ পয়েন্ট) এখনও শীর্ষে, তবে তাদের লিড কিছুটা কমেছে। ইংল্যান্ড (১২৮) দ্বিতীয় স্থানে, ভারতের (১২৪) সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে গেছে ৪ পয়েন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৯) যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

অন্য দলগুলোর অবস্থান
৭৩ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে উঠেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৭১ পয়েন্ট) নবম স্থানে এবং আইরিশ নারী দল (৫০ পয়েন্ট) দশ নম্বরে রয়েছে। এছাড়া, থাইল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ম্যাচ সংখ্যা পূরণ করতে না পারায় আপাতত তালিকার বাইরে রয়েছে।

পুরুষদের টেস্ট র‍্যাঙ্কিং
পুরুষদের টেস্ট র‍্যাঙ্কিং আপডেটেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। অস্ট্রেলিয়া (১৩১ পয়েন্ট) শীর্ষে, দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯ পয়েন্ট) দ্বিতীয়, এবং ভারত (১০৪ পয়েন্ট) তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ইংল্যান্ড (১০২ পয়েন্ট) চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে, আর নিউজিল্যান্ড (১০১ পয়েন্ট) পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

আইসিসি আগামী ৫ মে পুরুষ ও নারীদের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং এবং ৭ মে পুরুষদের ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করবে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল : তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “স্বৈরাচাররা শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের পথে একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করেছে।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে, নয়াপল্টনে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শ্রমিকদের জন্য তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “শ্রমিকদের স্ত্রীরা এখন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের জন্য নতুন কার্ডের ব্যবস্থা চলছে।” তিনি আরও বলেন, “গ্রামের মানুষ পানির অভাবে ভুগছে, সেজন্য আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি। শ্রমিক ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন হলে দেশের ভাগ্যও পরিবর্তিত হবে।”

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শ্রমিক দলের ৭২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আজকের এই দিনে আমি তাঁদের স্মরণ করছি।”

স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
তারেক রহমান বিগত সরকারের দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আজ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছি, কিন্তু কয়েক বছর আগে এই রাজপথে ছিল আতঙ্ক। স্বৈরাচারের বাহিনী আমাদের হামলার ভয় দেখিয়ে প্রতিবাদ স্তব্ধ করার চেষ্টা করেছিল।” তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে।”

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, “গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রতিটি খেটে খাওয়া মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এই স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে।”

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য উৎসবের মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার(১ মে) ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত- আসবে এবার নব প্রভাত’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

এদিন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশ-বিদেশের শ্রমিকদের কল্যাণে মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

আলোচনা সভায় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্তের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক আহমেদ বেলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ) মো. রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও সেইফটি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তারা শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং শ্রম আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। টাঙ্গাইলের পরিবহন খাত, তাঁত শিল্প, বিড়ি শিল্প এবং কৃষি খাতের শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও সভায় উল্লেখ করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন এবং নির্মাণ শ্রমিক সংগঠনগুলো পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। অনেক সংগঠনের পক্ষ থেকে দুপুরে দুস্থ শ্রমিকদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়গুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে জীবন উৎসর্গকারী শ্রমিকদের স্মরণে প্রতিবছর ১ মে বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

ই*রান যু*দ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খরচ বেড়ে দ্বিগুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের খরচ গত প্রাথমিক হিসেবের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পেন্টাগন যখন “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু করার পরিকল্পনা করছিল, তখন তারা জানায় যে এই অভিযানে মোট খরচ হবে প্রায় ২৫০ কোটি ডলার। তবে বাস্তবে গত দু’মাসে এই অভিযানের জন্য ব্যয় ইতোমধ্যেই ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তা জুলস হার্স্ট সিবিএসকে জানান, যেহেতু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে, তাই অতিরিক্ত কোনো খরচ এখন না হলেও যুদ্ধ আবার শুরু হলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

হার্স্ট বলেন, “যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পরও ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ ইরান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেনা-ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। এসব ঘাঁটি পুনরায় চালু করতে হলে অনেক টাকা ব্যয় হবে।”

এছাড়া, যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষয়ক্ষতিও খরচ বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ। “এখন পর্যন্ত আমরা ২৪টি এমকিউ-৯ ড্রোন হারিয়েছি, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ডলার। এছাড়া বিমান, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক যানগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে,” বলেন হার্স্ট।

গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, এবং এখনও পর্যন্ত দুই দেশ সেই বিরতি মেনে চললেও যেকোনো সময় তা ভেঙে যেতে পারে।

সূত্র: সিবিএস, আনাদোলু এজেন্সি

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

গোপালগঞ্জে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত

মোঃ শিহাব উদ্দিন:

গোপালগঞ্জে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস’। শুক্রবার (১ মে) জেলা প্রশাসন ও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো র‌্যালিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তারেক সুলতান। সভায় বক্তারা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. দিবাকর বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদুর রহমান মাসুদ, সাংবাদিক বাদল সাহা ও ফরিদ আহমেদ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাপরিদর্শক এইচ. এম. শাহাদাত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম পরিদর্শক ইখতেখারুল কবীর।

আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি, নিরাপত্তা ঘাটতি ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, টেকসই শিল্পায়নের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি, আর সে লক্ষ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগই পারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম

নাগরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত

প্রতিনিধি নাগরপুর:

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়েছে। “শ্রমিকের অধিকার আদায়ের গৌরবময় ঐতিহ্যের দিন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং নানা পেশাজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সদর এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠে সমবেত হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। কয়েক হাজার শ্রমিকের উপস্থিতিতে মাঠটি এক বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাভলু। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত সকলকে নামাজ আদায়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
তাঁর বক্তব্যের পর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি নাগরপুর সরকারি কলেজ মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী রানা, সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান হবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, নির্মাণ শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিক প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলার বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচি ঘিরে দিনব্যাপী ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। র‍্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা মহান মে দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন / এম আর এম