আজ সোমবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২২ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 42

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৮ হাজার মরদেহ, উদ্ধারে ইসরায়েলের বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে রয়েছে। তবে উদ্ধার সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল বলেন, বর্তমানে যে সরঞ্জাম রয়েছে তা অত্যন্ত পুরোনো এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দুই বছরের সামরিক অভিযানে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ মোকাবিলা তথা সরানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মৃতদেহের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রতিদিনই নতুন নতুন নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সামনে আসছে। বাসসাল আরও জানান, উপত্যকাজুড়ে ইঁদুর ও উইজাত প্রাণীর বিস্তার ঘটেছে যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। তবে ধ্বংসস্তূপ সরাতে উপযোগী ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না ইসরায়েল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী কেবল ইঁদুরনাশক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো ৬ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ রয়ে গেছে যার মাত্র ১ শতাংশ এখন পর্যন্ত অপসারণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি বিমান হামলা, স্থলযুদ্ধ এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের ফলে গাজায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৭৫ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি গাজা উপত্যকার মোট স্থাপনার প্রায় ৮১ শতাংশ। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক হিসাব অনুযায়ী, পুরো গাজা পরিষ্কার করতে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে।

২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মিশর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্থতায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। পরদিন ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা গাজা থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আকস্মিক হামলা চালায়। এতে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলোর বাসিন্দারা নিহত হন এবং বহু মানুষকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর এসব হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

বাংলাদেশে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করবে সরকার

আলোকিত ডেস্ক

সরকার বাংলাদেশে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করতে চায় বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশের তরুণ সমাজ তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের অংশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবে।

সোমবার (১১ মে) মন্ত্রণালয়ে তার সভাকক্ষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ কোম্পানির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী একথা বলেন। বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় চীনের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। বাংলাদেশ সব সময় বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে বিশ্বাস করে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, গত তিন থেকে চার দশক ধরে চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধার আওতায় এসেছে। এছাড়া এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দশ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা স্থাপিত হয়েছে। প্রতিবছর প্রায় আট মিলিয়নের বেশি মোবাইল ডিভাইস বাজারজাত হচ্ছে। জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, জাতীয় ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্প বাস্তবায়নেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড রেডিওকমিউনিকেশন কনফারেন্স ২০২৭ সাংহাইয়ে আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন কাউন্সিল ও রেডিও রেগুলেশন বোর্ডে চীনের প্রার্থিতার বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, দূতাবাসের কর্মকর্তা, হুয়াওয়ে ও জেডটিইর প্রতিনিধি সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

গোপালগঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের সভা

মোঃ আশরাফুজ্জামান:

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জকে দেশের অন্যান্য জেলার মতো সমান গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে।

গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গোপালগঞ্জ এখন আর কোনো বিশেষ জেলা নয়। অতীতে কে কী করেছেন, সেই কারণে যেন সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জকে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। জেলার চলমান অসম্পূর্ণ উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। সভায় গোপালগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, কে এম বাবর এবং এস এম জিলানী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, গোপালগঞ্জের অধিকাংশ উন্নয়নমূলক কাজ বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম এবং লুটপাট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এতে জেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কখনোই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। রাজনৈতিক ভিন্নমত বা অতীতের কারণে কোনো জেলার উন্নয়ন থেমে থাকতে পারে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, গোপালগঞ্জের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই প্রধানমন্ত্রী জেলার চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে গোপালগঞ্জকে আবারও উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং জেলার মানুষ শিগগিরই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব মো. আবদুল আউয়াল, গোপালগঞ্জ জেলার নির্বাহী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক এবং গোপালগঞ্জ জেলায় চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ১১ মে দুপুরে স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট (এএফএডি)’র উদ্যোগে শহরের খলিলগঞ্জ এলাকায় কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিন, নারী নেত্রী রেশমা সুলতানা, রোজিনা আক্তার, রফিকুল ইসলাম, ফারজানা ফৌজিয়া প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বন্ধ এবং দেশজুড়ে নারী ও শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে সংগঠনের কর্মকর্তারাসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

ঘোড়ার মাংস বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টে রিট করলেন জয়া আহসান

আলোকিত প্রতিদিন

দেশে ঘোড়ার মাংস বিক্রি ও বাণিজ্য বন্ধ এবং নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘোড়াকে গরুর মাংস বলে বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। জনস্বার্থে সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান এই রিট দায়ের করেন।

রিটকারী ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা হলেন, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।

রিটে বিশেষত অসুস্থ প্রাণীগুলোকে মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করার বিষয়টিতে তারা উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। পূর্ববর্তী অনুরোধ সত্ত্বেও কার্যকর আইনগত কার্যকারিতার অভাব থাকায় পিটিশনকারীরা উচ্চ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা এবং গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যের বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্তের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

পিটিশনকারীরা আরও অনুরোধ করেছেন যেন কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের চর্চা নির্মূলে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত ও অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম অবিলম্বে বন্ধ করা এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য যথাযথ সুবিধা বা অভয়ারণ্য- বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পিটিশনকারীরা জোর দিয়ে বলছেন, তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ কার্যক্রম জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে থাকবে এবং প্রাণীদের প্রতি চরম নিষ্ঠুরতা অব্যাহত থাকবে।

আইনজীবীরা বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন (তুলা) কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া ও ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাণীগুলো প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমার এবং অন্যান্য গুরুতর আঘাতে ভুগছিল। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ভেটেরিনারি পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ এবং সন্দেহজনক যক্ষ্মা সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে এমন একটি সংক্রামক রোগ। এই মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবেপ্রতারণামূলকভাবে বাজারজাতকরণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি এই মাংসকে গরুর মাংস নাম দিয়েও মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শোভনদেব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় এসেছে রাজ্য সরকারে সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা এবং রাজ্য সরকারের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীতি হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন কর্মী হিসেবে পরিচিত। এবারের বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ায় এবার আর বিধানসভায় প্রবেশের টিকিট পাননি।

অন্যদিকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তার নিজ কেন্দ্র বালিগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী শতরূপা চট্টোপাধ্যায়কে ৬১ হাজার ৪৭৬ ভোটে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ১০ বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শোভনদেবের আগে কোনো প্রার্থী টানা এতবার বিজয়ী হতে পারেননি।

১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যৌবনে মুষ্টিযুদ্ধ (বক্সিং) অনুশীলন করতেন। রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। তার আগে তৎকালীন কলকাতা পৌরসভায় চাকরি করতেন তিনি। কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর থেকে নির্বাচন করেন। কিন্তু কলকাতা কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতান্তরের জেরে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেন।

তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে দলটির সঙ্গে আছেন শোভনদেব। তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্যের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন এবং বর্তমানে কলকাতা অটো-রিকশা চালক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি তার নিজ হাতে গড়া।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার বিশ্বস্ততার সবচেয়ে উজ্জল নজির দেখা গেছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সেবার কলকাতার ভবানিপুর আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন শোভনদেব, জয়ীও হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও তৃণমূল সভানেত্রীর আহ্বনে সাড়া দিয়ে সেই আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। পরে খড়দহ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ফের বিধানসভায় ফিরে আসেন শোভনদেব।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।

১১ মে সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে টাঙ্গাইলে টিসিবির ‘ট্রাকসেল’ কার্যক্রম শুরু

সাইফুল ইসলাম সবুজ:

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও টিসিবি’র ‘ট্রাকসেল’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১১ মে সোমবার সকালে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে।

এ সময় ক্রেতারা জানান, বাজারের চেয়ে কম দামে কেনা যাবে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডাল । এসব পণ্যের দাম কম থাকায় লাইনে দাড়িয়ে পন্য সংগ্রহ করতে এসেছি। তবে আমাদের দাবি পন্য দিতে ব্যবস্থাপনা যেন সঠিক থাকে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১১ মে হতে ২১ মে পর্যন্ত শুক্রবার ব্যতীত মোট ১০ দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার মোট ১০০ টি স্থানে প্রতিদিন ১০টি করে ট্রাকে ৪০০০ (চার হাজার) নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে ০২ কেজি মশুর ডাল,প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ০২ লিটার সয়াবিন তেল, ও প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে ০১ কেজি চিনি সরবরাহ করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

ওয়ালটন ফ্রিজ, এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন আরও ৩ ক্রেতা

  বিশেষ প্রতিনিধি:

গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় দুটি ফ্রিজ এবং একটি এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন তিন জেলার আরও তিন ক্রেতা। তারা হলেন বান্দরবানের সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর গৃহবধূ স্কুল শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার। সুপ্রকাশ চাকমা ও কুদ্দুস হাওলাদার কিনেছিলেন একটি করে ফ্রিজ। অন্যদিকে এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন তাহমিনা।

গত  ৬ মে, ২০২৬ বুধবার দুপুরে বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে সুপ্রকাশ চাকমার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার (৪ মে) নরসিংদীর কাউড়িয়া পাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে তাহমিনার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া গত ২৬ এপ্রিল ফকিরহাট বাজারে ওয়ালটন প্লাজার সামনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুদ্দুস হাওলাদারের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দেয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিত্রনায়ক আমিন খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে চলমান ওয়ালটনের ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় তারা এই সুবিধা লাভকরেন। এর আগের সিজনগুলোতে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে আরও ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন।

পৃথকভাবে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান ফিরোজ আলম, ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার তানভীর রহমান, ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জানা গেছে, সুপ্রকাশ চাকমা গত ১৬ এপ্রিল বান্দরবান শহরের ভিআইপি সড়কে কামাল চেয়ারম্যান মার্কেটের ওয়ালটনের পরিবেশক শোরুম ইস্টার্ন এজেন্সি থেকে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ১৪৫ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন। কেনার পর পণ্যের বারকোড, তার নাম ও মোবাইল নাম্বার ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করার পরপরই তার মোবাইলে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায়। একই ভাবে তাহমিনা আক্তার গত ২১ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাজির মোড়স্থ ওয়ালটন প্লাজা থেকে ১.৫ টনের একটি এসি কেনেন। যার মূল্য ৬৬ হাজার ৩০০ টাকা। এসি কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করার পর তার মোবাইলেও ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায়। এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল ফকিরহাট ওয়ালটন প্লাজা থেকে ৬ মাসের কিস্তিতে ১৮ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৪২ হাজার ৬৯০ টাকা মুল্যের ফ্রিজ কেনেন কুদ্দুস হাওলাদার। তিনিও পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা।

সুপ্রকাশ চাকমা বলেন, জীবনে অনেক লটারি কিনেছি, প্রাইজ বন্ড কিনেছি। কখনো পুরস্কার পাইনি। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে! আমি কখনো ভাবিনি একটি ফ্রিজ কিনে এত বড় পুরস্কার জিতব। এ টাকা পারিবারিক ভরণপোষণে খরচ করবো।

তাহমিনা আক্তার তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি একটি এসি কিনে এত বড় পুরস্কার পাবো। এটি আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক আনন্দের মুহূর্ত। এই অর্থ আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকারে আসবে। ওয়ালটনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”

ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান মো. ফিরোজ আলম বলেন, ওয়ালটনের পণ্য কিনে গত ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন সিজনে প্রায় ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। এ ধরনের অফার প্রান্তিক মানুষকে সুবিধা দিতেই চলমান রয়েছে। ওয়ালটনের অফার দেখে নয়, পণ্যের মান দেখে ক্রেতারা পণ্য কেনেন। বিশ্বের ৫৫ টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ওয়ালটন কথা দিলে কথা রাখে তার প্রমাণ এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানগুলো। সাধারণ ক্রেতাদের দেশীয় পণ্য কিনে দেশের টাকা দেশেই রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ফ্রিজ ও এসি কিনে পাওয়া ১০ লাখ টাকা ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন চিত্রনায়ক আমিন খান, জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার তাসকিন আহমেদসহ ওয়ালটনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

যশোরে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গবাদিপশু লালন-পালনে ব্যস্ত খামারিরা

যশোর প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গবাদিপশু পালনকারীরা। জেলার বিভিন্ন খামারে কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। একদিকে বাড়তি উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে বাজারে দালাল ও সিন্ডিকেটের প্রভাব। সব মিলিয়ে লাভ-লোকসানের হিসাব কষতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে খামারিদের।
কোরবানি নিয়েএখন খামারে খামারে চলছে নিবিড় তদারকি ও বাড়তি পরিচর্যা। গরু সুস্থ ও আকর্ষণীয় রাখতে নিয়মিত দানাদার খাবার, ঘাস ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন খামারিরা। যাতে কোরবানির আগে কোনো ধরনের রোগব্যাধি গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রতিনিয়ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারে পরিবারের সদস্যরাও গরুর পরিচর্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। কেউ গরুর খাবার দিচ্ছেন, কেউ গোসল করাচ্ছেন, আবার কেউ খামারের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

তবে এই ব্যস্ততার আড়ালেও রয়েছে খামারিদের দীর্ঘশ্বাস। গত বছরের কোরবানির হাটে লোকসান, শেষ মুহূর্তে কম দামে পশু বিক্রি, অবিক্রীত গরু বাড়ি ফিরিয়ে আনা এবং বাজারে দালাল ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিজ্ঞতা এখনো ভুলতে পারেননি অনেক খামারি। এসব কারণে এবারও তারা শঙ্কিত—চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।

খামারিদের দাবি, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং দালালমুক্ত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তারা সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পশু বিক্রি করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি গরু প্রবেশ বন্ধ রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করা গেলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং হাজারো খামারি পরিবার অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, যশোর জেলায় ১৩ হাজার ৬৪০টি গবাদিপশুর খামারে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু রয়েছে। এখানে গরুর সংখ্যা মোট ৩৬ হাজার ২৫৯টি। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ২৮ হাজার ৮৪৪টি, বলদ ৯৫৭টি এবং গাভী ৬ হাজার ৪৫৮টি। এদিকে ছাগল রয়েছে ৮১ হাজার ২৭৬টি এবং ভেড়া ৪৪২টি। যশোর জেলায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত ১৪ হাজার ৮৪৯টি গবাদিপশু লালন-পালন করছেন খামারিরা।

সদর উপজেলার নওয়াপাড়ার ফিরোজ হাসান জানান, “কোরবানিকে সামনে রেখে আমি ১২টি গরু লালন-পালন করেছি। এর মধ্যে দুটি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তবে এ বছর গরু নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ সব জিনিসেরই দাম অনেক বেশি। একই সঙ্গে গরুর খাবারের দামও অনেক বেড়েছে। তাই আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, সরকার যেন আমাদের দিকে নজর রাখে। যদি ভারতীয় গরু আসে, তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। কারণ প্রতিটি গরুর পেছনে অনেক খরচ হয়। এদিকে বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা চাই সংকটকালীন সময়ে সরকার যেন আমাদের পাশে থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সময়ে কয়েকবার গরু নিয়ে লোকসান হয়েছে। আমি বাজারে গরু বিক্রি করতে পারিনি। তাই আমি সরকারকে বলবো আমাদের জন্য স্বল্প মুনাফায় ঋণের ব্যবস্থা করতে।”

যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের খামারি মেহেদী হাসান জানান, “আমি বর্তমানে ১০টি গরু মোটাতাজা করছি। তবে আশা করি আমার গরুতে লোকসান হবে না। কারণ আমার গরুগুলো সবই মাঝারি সাইজের। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তবে ভারতীয় গরু ঢুকলে লোকসানের সম্ভাবনা বেশি।”

কেশবপুর উপজেলার দশকাউনিয়া গ্রামের খামারি কামরুল ইসলাম জানান, “কোরবানির আগে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এজন্য তাদের খাবার খরচও এ সময় বেশি হয়ে যায়। একটি গরু লালন-পালন করে যে খরচ হয়, সেই তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। এদিকে বাজারের সিন্ডিকেট যদি প্রশাসন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তাহলেও আমরা ভালো দাম পাবো। কারণ অনেক সময় আমাদের থেকে দালালরাই বেশি লাভবান হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে গরুর খাবারের দাম বেশি হওয়ায় গ্রামের অনেকেই গরু লালন-পালন বন্ধ করে দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “যশোর জেলা একটি প্রাণিসম্পদ সমৃদ্ধ জেলা। প্রাণিসম্পদ যশোর জেলার ঐতিহ্যের একটি অংশ। ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এ বছর যশোর জেলায় ১৩ হাজার ৬০০’র বেশি খামারি ১ লাখ ১৭ হাজারের বেশি গরু লালন-পালন করেছেন। এই গরু যশোর জেলার চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে সরবরাহ করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এসব খামারিকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গরু সুস্থ রাখার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমরা খামারগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছি। আমার জানামতে, কোনো রাসায়নিক ছাড়াই যশোরে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। তাই আমি সবাইকে আহ্বান করবো, যারা এ বছর কোরবানি দেবেন তারা যেন যশোরের গরুকে প্রাধান্য দেন।”

খাদ্যের উচ্চমূল্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু খামারি অভিযোগ করেছেন বর্তমানে খাবারের দাম অনেক বেশি। আমরা সেখানে পরামর্শ দিয়েছি, তারা যেন দানাদার খাবারের পাশাপাশি ঘাসের ব্যবহার বেশি করেন। এতে খরচ কমবে এবং লাভের পরিমাণও বাড়বে।”

ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বছর আমরা খামারিদের বিশেষভাবে আশ্বস্ত করছি, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের গরু আসার সম্ভাবনা নেই। আমরা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা সবাই লাভবান হতে পারেন।”

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম