আজ রবিবার, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ২১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 41

প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গিয়েছেন তারেক রহমান।  ১২ মে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। মূলত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কর্মশালা উদ্বোধন করতে ঢাবিতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ ইউজিসির উদ্যোগে ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফরমিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’-শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন।

মেধাভিত্তিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই।

ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর হাজারও প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়তে চায়।

অনুষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, উদ্বোধনী পর্বের পর পাঁচটি টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালার অংশ নেওয়াদের মতামতের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা উন্নয়নে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিগত নকশা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১২ মে ২০২৬ /মওম

আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজের বিষা*ক্ত বর্জ্যের ভয়াল সাম্রাজ্য

পরিবেশ দূষণ, নদী দখল ও ভূমি কেলেঙ্কারি…

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার ধামরাইয়ে শিল্পায়নের আড়ালে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর পরিবেশ বিপর্যয়ের চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লি: (Akij Food & Beverage Ltd.) বছরের পর বছর ধরে বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানো, পানি দূষণ, খাল-নদী দখল এবং সরকারি ভূমি আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িয়ে পড়লেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সবুজে ঘেরা জনপদ আজ ধোঁয়া, দুর্গন্ধ আর বিষাক্ত বর্জ্যের আতঙ্কে বিপর্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে কারখানার বর্জ্য পোড়ানো হয় পরিকল্পিতভাবে। রাতভর জ্বলতে থাকা শিল্পবর্জ্যের বিষাক্ত ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শিশু-বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, এলার্জি, চোখ জ্বালা ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দিনের আলোতে প্রশাসন বা গণমাধ্যমের নজর এড়াতে রাতকে বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কারখানার ভেতরে শুরু হয় বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানোর মহোৎসব। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।

শুধু বায়ুদূষণ নয়, অভিযোগ রয়েছে কারখানার দূষিত রাসায়নিক বর্জ্য আশপাশের খাল, জলাশয় ও কৃষিজমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে মাছ মারা যাচ্ছে, জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আগের মতো ফসল ফলছে না, অনেক জমিতে উৎপাদন কমে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়তে হয়।”

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ‘দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন’-এর অনুসন্ধানী টিম সরেজমিনে গিয়ে রাতের আঁধারে বর্জ্য পোড়ানোর একাধিক দৃশ্য, দূষিত কালো পানি নির্গমন এবং ভরাট হওয়া জলাশয়ের চিত্র দেখতে পায়। প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, “পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন দৃশ্যমান নয়? স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকেই চলছে এসব কর্মকাণ্ড।

এ বিষয়ে আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজ লি: এর চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সরাসরি কথা না বলে স্টাফের মাধ্যমে ফোন রিসিভ করান। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ নদী ও পরিবেশ দূষণ , হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ১০ একর সরকারি ভূমি আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও করফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হঠাৎ করেই ফোন কেটে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ধামরাইজুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে যদি পরিবেশ ধ্বংস, কৃষিজমি নষ্ট, নদী দূষণ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন করা হয়, তবে সেটি শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বড় অপরাধ।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষাক্ত বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখল হওয়া সরকারি ভূমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের ১০ একর সরকারি ভূমি আত্মসাৎ নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এগ্রো ফার্ম সম্প্রসারণের নামে আশপাশের সরকারি জায়গা, খালের অংশবিশেষ ও জনসাধারণের ব্যবহৃত জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্য ফেলে নদীর পানি চলাচলের পথ সংকুচিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

চলমান…

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাভারে নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদকে ধ*র্ষ*ণ ও ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অ*ভি*যোগে প্রেমিক গ্রে*ফ*তার 

শহিদুল্লাহ সরকার:

সাভারে নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদকে ধর্ষণের অভিযোগে ও প্রতারণা করে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রেমিক বিপ্লব হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভোররাতে রাজশাহীর বাঘা থানার বানিয়াপাড়া নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী ফিরোজ আহমেদ সাভার শিশু একাডেমী ও শিল্পকলার নৃত্য শিল্পী।

ভুক্তভোগী ফিরোজ আহমেদ জানান, বিপ্লব হোসেন এর সাথে তার ১৭ বছরের সম্পর্ক ছিল সেই সম্পর্ক থেকে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভারত থেকে জেন্ডার সমতা পরিবর্তন করে আনান প্রেমিক বিপ্লব হোসেন। পরে তিনি দীর্ঘদিন ভারতে চিকিৎসা শেষে জেন্ডার পরিবর্তন করে ঢাকায় ফিরে শোনেন তার প্রেমিক প্রতারণা করেছে তার সাথে এবং নতুন করে বিয়ে করেছেন। এসময় জেন্ডার পরিবর্তন করার আগে তার কাছ থেকে এগ্রিমেন্ট করে ৩০ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নেন বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি। পরে এঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে ভুক্তভোগী ফিরোজ আহমেদ সাভারের গেন্ডা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরে গত ৬ ই মে ফিরোজ আহমেদের বাসায় বিপ্লব জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে বলাৎকার করেন ও হত্যার হুমকি দেন। পরে তিনি সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে বিপ্লব হোসেনকে প্রধান আসামি, ও শান্ত পান্ডেকে দ্বিতীয় আসামি করে অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েকজনের নামে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ রবিবার ভোররাতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

তাকে ১১মে সোমবার দুপুরে সাভার মডেল থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী ফিরোজ আহমেদ তার প্রেমিকের কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন।

এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলি বলেন, আসামিকে দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বিপ্লব হোসেন রাজশাহী জেলার বাঘা থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

 

৯০ লাখ ভোটার ছাঁটাই করেছে বিজেপি, সুপ্রিম কোর্টে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) মাধ্যমে ৯০ লাখের নাম বাদ দেওয়ার টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে ওই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি অন্তত ৩১টি আসনের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল এসব আসনে জয়ী হলেও এবারের নির্বাচনে সেগুলোতে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

তৃণমূল কংগ্রেস দলীয় সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেছেন, ওই ৩১টি আসনের প্রতিটিতে যত সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় সমান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেন, যদি জয়ের ব্যবধান এত কম হয়; যা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের ঝুলে থাকা আপিলের মাধ্যমে বদলে যাওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ চাইলে আদালতে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করতে পারেন। এর আগে, দেশটির নির্বাচন কমিশনও বলেছিল, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ ধরনের পিটিশন করার সুযোগ রয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উদাহরণ হিসেবে একটি আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে হেরেছেন। অথচ ওই একই আসনে ভোটার তালিকা থেকে ৫ হাজারেরও বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আদালতকে বলেন, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৩২ লাখ। কিন্তু তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় ৩৫ লাখ আবেদন এখনও নিষ্পত্তি করেনি কমিশন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে গতিতে আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাতে এই জট কাটতে চার বছর লেগে যেতে পারে।

বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশ করে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছিল, নির্বাচন কমিশন তা নিজস্ব তথ্য দিয়ে খণ্ডন করার চেষ্টা করেছে। কমিশন বলেছে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের যেসব আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম কাটা গেছে, সেগুলোতে উল্টো তৃণমূলই জয়লাভ করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুজাপুর, রঘুনাথগঞ্জ, শামসেরগঞ্জ, রতুয়া ও সুতি এই পাঁচটি আসনেই এক লাখের বেশি করে নাম বাদ দেওয়া হলেও সব আসনেই জিতেছে তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টানা ১৫ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি জিতে রাজ্যে গেরুয়া শাসন শুরু করেছে দলটি। এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে মূল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গ। বিজেপি অভিযোগ করে বলেছিল, ভোটের রাজনীতির স্বার্থে রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল। অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

গরু চোর সন্দেহে গ*ণপি*টু*নিতে নি*হত-৩, ট্রাকে আ*গুন,থানায় মা*মলা

শাহআলম সিকদার:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাগচালা এলাকায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন।
১০ মে রবিবার সকালে ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে একটি ট্রাকে করে কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় প্রবেশ করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে গরু চুরির অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ জনতা তিন জনকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।এদিকে উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে থাকা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিলে ট্রাকটি আংশিক পুড়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনায় জরিত সন্দেহে এলাকার ২০০ জনের নামে মামলা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

পিএইচডি গবেষকদের ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদান করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পিএইচডি গবেষকদের জন্য ফেলোশিপ ও বৃত্তি দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ ফেলোশিপ ও বৃত্তির আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ১১ জুন পর্যন্ত অনলাইনে এর জন্য আবেদন করা যাবে।

ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট পিএইচডি ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদান নির্দেশিকা, ২০২২’ অনুযায়ী অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে। ১০ মে থেকে ১১ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হবে ট্রাস্টের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর সারা শিক্ষাজীবনে অন্তত দুটি প্রথম বিভাগ বা সমমানের ফল থাকতে হবে। সিজিপিএ পদ্ধতিতে ৫ স্কেলে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ এবং ৪ স্কেলে ৩ দশমিক ০০ থাকতে হবে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন জমাদানের তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪৫ বছর হতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও মার্কশিট, পিএইচডি কোর্সে ভর্তি বা রেজিস্ট্রেশনের কপি, বাংলা বা ইংরেজিতে গবেষণা প্রস্তাবনা (সিনোপসিস), বিভাগীয় প্রধান ও তত্ত্বাবধায়কের প্রত্যয়নপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কপিও সংযুক্ত করতে হবে।

এ ছাড়া অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ দুই সেট আবেদন আবেদনের শেষ তারিখ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে সরাসরি বা ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, বাড়ি নম্বর-৪৪, সড়ক নম্বর-১২/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ ছাড়া বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

মাদক ও হানিট্র্যাপে নারীর সম্পৃক্ততা বেড়েছে

আলোকিত ডেস্ক

বরিশালে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও জেলা প্রশাসনের অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে , গত মঙ্গলবার (৭ মে) হিজলা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৫২ পিস ইয়াবাসহ তাসলিমা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিন সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীতে ৯৮৩ অ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ হানিফুর রহমান হৃদয় রিদু (৩২) ও তার স্ত্রী ফাবিহা মিনহা রেখাকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গত ৩ মে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের কলসগ্রাম এলাকা থেকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা তরুণী জাহিদা বেগমকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।

গত শনিবার (৯ মে) নগরীর রসুলপুর এলাকায় অভিযানে ১ হাজার ৫৮ পিস ইয়াবা, ১.৫৮০ কেজি গাঁজা এবং নগদ ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৮৩০ টাকাসহ সোহাগী বেগমকে (২৮) গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, নারী সদস্যদের ক্ষেত্রে তল্লাশিতে তুলনামূলক শিথিলতা থাকায় মাদকচক্রগুলো তাদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করছে।

নারীদের ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চক্রও বরিশালে সক্রিয়। গত ৭ মার্চ নগরীর গির্জা মহল্লার একটি আবাসিক হোটেল থেকে মিলিতা দত্ত ওরফে ম্যালাইসা (২১) ও হোটেল কর্মচারী সান্টু হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা সংঘবদ্ধ হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা সভার তথ্যে দেখা যায়, শুধু জানুয়ারি মাসেই বরিশাল মহানগরে ৩১টি এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৫০টি মাদকসংক্রান্ত মামলা রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, কিশোর অপরাধ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের ঘটনাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সহিংসতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও প্রলোভনের কারণে নারীরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

অপরাধীরা যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় নয়: মানিকগঞ্জে বিমানমন্ত্রী

মো: মহিদ:

মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তারা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সোমবার (১১ মে) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ দমনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম খান লোদী, জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, মহিলা নেত্রী সাবিবা হাবিব, এনসিপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর ইসলাম, এনসিপির নেতা মো. আরিফ হোসেন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন / ১১ মে ২০২৬ /মওম

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে কর্মচারীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আলোকিত প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতাল আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং জনবল সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রী প্রথমে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল (সদর হাসপাতাল) পরিদর্শনে যান। হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার ও বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের ডায়ালাইসিস টেকনিশিয়ান জসিম মাতুব্বরকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থার মান সন্তোষজনক নয়। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে সার্বক্ষণিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসকরা দেড়িতে আসে বলেও অভিযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, রোগীদের অভিযোগ রয়েছে-হাসপাতালে দালালদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এবং তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব দালালের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর ও বাইরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

হামের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর হামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পর পর হামের টিকা কার্যক্রম পরিচালনার কথা থাকলেও ২০২০ সালের পর ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকারের হাতে শুরুতে পর্যাপ্ত হামের টিকা ছিল না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে রোগীর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে।

জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং জুলাই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হাসপাতালটির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ বা জনবল নিয়োগ দেয়নি। ফলে বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। পরে তিনি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে ছিলেন তারা স্থানীয়ভাবে অবস্থান না করে ঢাকায় থাকতেন। ফলে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রীকে সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সদস্য করে শিগগিরই নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া, তিনি ঢাকায় ফেরার পথে কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম

ঘরে বসেই মিলছে ব্যাংক ঋণ, সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা

আলোকিত প্রতিবেদক

দেশে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও গতিশীল ও সহজলভ্য করতে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ‘ই-লোন’ বা ই-ঋণ সেবা চালুর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থায় গ্রাহকরা এখন ব্যাংকে না গিয়েই মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন, অনুমোদন এবং অর্থ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে ব্যাংকগুলোকে ই-লোন কার্যক্রম চালু করতে হবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন এ ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন। তবে এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা গৃহীত হলে গ্রাহক পর্যায় সর্বোচ্চ সুদ হবে ৯ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ, কিস্তি পরিশোধ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে ব্যাংকগুলোকে জাতীয় পরিচয়পত্র, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করতে হবে। খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এই সুবিধা পাবেন না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ই-লোনের ক্ষেত্রে সুদ, ফি, চার্জ, বিলম্ব মাশুল বা আগাম ঋণ পরিশোধ ফি-সব তথ্য গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) এবং ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেও এ সেবা চালু করতে হবে।

ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণ বিতরণ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর গ্রাহকরা দ্রুত ঋণ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবায় সময় ও খরচ কমবে এবং নগদনির্ভরতা হ্রাস পাবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এম আর এম