আজ , ।   
Home Blog Page 409

রাজবাড়ীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৫ ডাকাত গ্রেফতার

সোহেল রান চৌধুরী:

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার সাওরাইল এলাকায় যৌথ বাহিনীর পরিচালিত এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং ডাকাতির সরঞ্জামসহ চিহ্নিত ডাকাত ও চাঁদাবাজ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২৪ মে শনিবার ভোর আনুমানিক ০৩:০০ টার দিকে , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাজবাড়ী আর্মি ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কালুখালী থানা পুলিশের সমন্বয়ে জামালপুর ইউনিয়নের সাওরাইল গ্রামে মজনু গ্রুপের সক্রিয় সদস্যদের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোঃ মজিবুর রহমান, সাজেদা বেগম, আবু সায়েম, মোঃ সুলতান আলী মোল্লা এবং জসিম মণ্ডল এদের কে গ্রেফতার করে।

এদের মধ্যে মোঃ মজিবুর রহমানের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়: ১টি ৯ মি.মি. পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), ১টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩টি ওয়ান শুটার বন্দুক, ১টি ব্যাটন, ২টি ছুরি, ১টি হকি স্টিক, ৩টি স্মার্টফোন, ৩টি বাটন ফোন, ৩টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ২টি চেকবই, ২টি মদের বোতল, ২টি এটিএম কার্ড, ৩টি পাসপোর্ট, ১টি লেজার পয়েন্টার ও ১টি ড্রাইভিং লাইসেন্স।

যৌথ  বাহিনী  সুত্রে জানা গেছে  প্রাথমিক  জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা মজনু গ্রুপের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাংশা ও কালুখালী উপজেলায় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। অভিযান শেষে গ্রেফতারকৃত আসামিদের এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালুখালী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় ওপেন হাউস ডে ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের মধুপুর এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের আয়োজনে মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, যানজট এবং সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে ওপেন হাউস ডে ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৪ মে শনিবার সকাল ১১ টায় এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শরিফ ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি এবং এলেঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাফি খান।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুব রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, এলেঙ্গা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ফকির, এলেঙ্গা পৌর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আল আমীন মিয়া, কালিহাতী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মো. আমিনুর ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শরিফ মোল্লা প্রমূখ।
সভায় বক্তারা সড়কে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং ছিনতাই প্রতিরোধে হাইওয়ে থানা পুলিশকে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে ২০২৫/মওম

বিএনপি উৎপাদন ও উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী: নজরুল ইসলাম

আলোকিত ডেস্ক:

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘বিএনপি উৎপাদন ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। কোনোকিছু বন্ধ করা বিএনপির রাজনীতি নয়। দেশে উন্নয়ন ছিল, কিন্তু সবার জন্য ছিল না; গণতন্ত্র থাকলেও সবার গণতন্ত্র ছিল না। গত ১৫ বছরে দেশের সকল স্তর ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এসব স্তর মেরামতের জন্য বিএনপির ৩১ দফা ঘোষণা করেছে। সবার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

২৩ মে শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের একটি কনভেনশন হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের আয়োজনে ‘কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা ও নাগরিক সমস্যা নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দল অনেক কথাই বলবে। তাদের অতীত ইতিহাস দেখে তাদের বিশ্বাস করবেন। এ ক্ষেত্রে দেশের অধিকতর উন্নয়নের স্বার্থে সবার প্রথমে বিএনপিকে সবাই বেছে নিবে।’

সেমিনারে এক শিক্ষার্থীর পাটকল বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি উৎপাদন ও উন্নয়নে বিশ্বাসী। কোনোকিছু বন্ধ করা বিএনপির রাজনীতি নয়। তাই সরকার গঠন করলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২৫টি পাটকল আবারও চালু করতে কাজ করবে বিএনপি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়াও পরিশোধ করবে।’

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে ২০২৫/মওম

অস্ট্রেলিয়ায় বন্যায় হাজার হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সাউথ (এনএসডব্লিউ) ওয়েলসে বন্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও হাজার হাজার মানুষ এখনো বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমে এলেও এখনো ২০টির বেশি জরুরি সতর্কতা কার্যকর রয়েছে। এখন মূলত বন্যাক্রান্ত এলাকায় সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

এনএসডব্লিউ রাজ্যের জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ (এসইএস) জানিয়েছে, মধ্য উত্তর অংশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

এসইএসের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট পল ম্যাককুইন বলেন, আমরা ভূমি,পানি এবং আকাশপথে সেই বিচ্ছিন্ন বাসিন্দাদের কাছে পুনরায় ত্রাণ পৌঁছে দেবো, এটি আমাদের বহুমাত্রিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ।

তিনি অনুরোধ করে বলেন, দয়া করে ধৈর্য ধরুন, নিরাপদ স্থানে থাকুন এবং বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো বা কৌতূহলবশত ঘুরে দেখার চেষ্টা করবেন না।

বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। একজন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফরের পরিকল্পনা করলেও বিপজ্জনক সড়ক পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি এখনো সংকটাপন্ন। বন্যা এবং সরিয়ে নেওয়ার সতর্কতা এখনও জারি আছে। আমরা ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি।

গত তিন দিনে ছয় শতাধিক বন্যা উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এনএসডব্লিউ প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস জরুরি সেবা কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, গত ৭২ ঘণ্টায় জরুরি বাহিনীর সাহসিকতা এবং তৎপরতা না থাকলে শত শত প্রাণহানি হতো।ড্যানিয়েল অস্টিন বলেন, সপ্তাহের শেষ দিকে সতর্কতার সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে তিনি সবাইকে বন্যার পানিতে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেন।

তিনি আরও বলেন, জমে থাকা পানি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এতে ইঁদুর ও সাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

দেশটির সরকারি আবহাওয়া দপ্তর জানায়, গত তিনদিনে কিছু এলাকায় ছয় মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, যা অনেক স্থানে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

সূত্র: এএফপি

আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে ২০২৫/মওম

শাহরুখ খান নাকি শাকিব খান!

বিনোদন, চলতি বছরে মেট গালায় শাহরুখ খানের উপস্থিতি ছিল ঐতিহাসিক। প্রথম ভারতীয় পুরুষ হিসেবে কিছুদিন আগে বিশ্বমানের এই ফ্যাশন ইভেন্টে ইতিহাস গড়েন তিনি। ‘সুপারফাইন: টেলরিং ব্ল্যাক স্টাইল’ থিমে মেট গালা ২০২৫-এর লালগালিচায় পা রেখে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বলিউড এই বাদশা।

এসময় খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের ডিজাইন করা কালো স্যুটে নজর কাড়েন শাহরুখ।

তাঁর পরনে ছিল সিল্কের শার্ট, প্যান্ট ও তাসমানিয়ান সুপারফাইন উল দিয়ে তৈরি লম্বা কোট। গলায় হীরা, পান্না ও সোনার গয়না; বিশেষ নজর কাড়ে হীরাখচিত ইংরেজি ‘K’ অক্ষরের লকেট। হাতে আংটি, ঘড়ি, কালো চশমা আর ছড়িও ছিল লুকের অংশ। সব মিলিয়ে ঝলমলে রাজকীয়তায় মুগ্ধ করেছেন ফ্যাশনপ্রেমীদের।
এবার যেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান দেখা দিলেন সেই একই রকম লুকে! শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন এই নায়ক। যেখানে তাকে দেখা গেলে ‘ব্ল্যাক স্টাইল’ থিমে।

হঠাৎ শাকিব খানের এমন লুকের কারণ কী! আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন  সুপার স্টার সাকিব খান।

সেখানে এমন লুকেই ধরা দেন সুপারস্টার। শুধু তাই নয়, এদিন নিজের অভিনীত সিনেমার গানে স্টেজ পারফরমও করেন শাকিব খান।

তবে কেউ কেউ ধারণা করছেন, মেট গালার লাল গালিচায় শাহরুখ খানের লুক রিক্রিয়েট করছেন শাকিব খান। যেহেতু তিনি নিজেও এই বলিউড অভিনেতার একজন ফ্যান। আবার অনেকেই বলছেন, কে সেরা? শাহরুখ খান নাকি শাকিব খান!

এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহায় ‘তাণ্ডব’ নিয়ে আসছেন শাকিব খান। রায়হান রাফী পরিচালিত এই সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন সাবিলা নূর, জয়া আহসান, ডা. এজাজ প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সন্ধ্যায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুমট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দলের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে আজ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন ড. ইউনূস।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপিকে সাক্ষাতের সময় দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হতে যাওয়া এই বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠক রয়েছে।তবে, বৈঠকে কারা কারা অংশ নেবেন শায়রুল কবির বলেন, এই বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, রাত সাড়ে ৮টায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার। জামায়তের পক্ষ থেকে দলটির আমির ড. শফিকুর রহমান। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, দেশে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে আলাপ করতে আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে সময় চেয়েছিলাম। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আমাদের রাতে সাক্ষাতের সময়সূচি জানানো হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে ২০২৫/মওম

আনোয়ারার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ আওয়ামী ফ্যাসিবাদীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম, ছাত্র জনতার রক্তে রঞ্জিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া এবং অন্তবর্তী সরকারের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে ও নগরে এখনও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও ফ্যাসিবাদের দোসররা। তাদের বিরুদ্ধে অনেকের নামে এবং অজ্ঞাত নামে আনোয়ারা থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হলেও মাত্র গুটিকয়েক ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও অর্থ পাচারকারী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ঘনিষ্ঠ অনেকেই এখনো গ্রামে ও নগরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এমনকি তারা পুনর্বাসিত হতে বিএনপির রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের সাথে গোপনে লিয়াজো করছেন। আবার অনেকে অন্তবর্তী সরকারের বর্তমান অবস্থার অবনতি ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ এবং তাদের দোসরদের এসকল আলোচিত নেতা কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বরুমছড়া গ্রামের তৌহিদুল হক চৌধুরী, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বটতলী গ্রামের আবদুল মান্নান চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিলপুর গ্রামের আবুল কালাম প্রকাশ কালাম চেয়ারম্যান, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিলপুর গ্রামের জাফর উদ্দিন প্রকাশ জাফর কোম্পানী, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি বারখাইন গ্রামের এস এম আলমগীর চৌধুরী, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির পাট ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক দক্ষিণ শোলকাটা গ্রামের আশীষ কুমার সিংহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক বরুমছড়া গ্রামের আজিজুল হক নসু, আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক গুয়াপঞ্চক গ্রামের শওকত ওসমান, আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রাসেল, আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি বরুমছড়া গ্রামের আলী আকবর, আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি পশ্চিম বারখাইন গ্রামের আবু জাফর, আনোয়ারা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সমিতির (বিআরডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান চাতরী গ্রামের ইয়াকুব আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মুরাদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরৈকোড়া ইউনিয়নের জাফর ইকবাল তালুকদার প্রকাশ ইন্সুরেন্স জাফর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শিলাইগড়া গ্রামের রিদুয়ানুল হক রহিম। এছাড়াও উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

তাছাড়াও আত্মগোপনে রয়েছে আনোয়ারা উপজেলার ১১ ইউপি চেয়ারম্যান। উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, বিলপুর গ্রামের আবুল কালাম প্রকাশ কালাম চেয়ারম্যান, বিলপুর গ্রামের জাফর উদ্দিন প্রকাশ জাফর কোম্পানি, শিলাইগড়া গ্রামের বোরহান উদ্দিন মুরাদ, শিলাইগড়া গ্রামের রিদুয়ানুল হক রহিম, কৈখাইন গ্রামের নাজিম উদ্দীন সুজন।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির হোসেন বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে যেসকল নেতা-কর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যাওয়ার কারণে আসামীদের গ্রেফতার করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। ওসি মনির হোসেন বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের গ্রেফতার করতে প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা- বাঁশখালি ও চন্দনাইশে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সোহানুর রহমান সোহান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে দুর্নীতিবাজ- অত্যাচারী নেতা-কর্মীদের তালিকা আছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

 

গাজীপুরে এনসিপি নেতার মামলায় হয়রানি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা খন্দকার আল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, চাঁদাবাজি ও মাদকসেবনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও এলাকাবাসী। শুক্রবার (২৩ মে) বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
আলামিন খন্দকার সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের স্থানীয় মৃত ইন্নছআলীর ছেলে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৫ মে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় খন্দকার আল আমিন বাদী হয়ে বাসন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে অনেক নিরীহ মানুষও রয়েছেন। বক্তাদের দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই মামলায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঘটনার জের ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে নতুন করে আরও ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ জনে।
পুলিশ জানায়, মামলায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, হামলার ঘটনার খবর প্রথম ছড়িয়ে পড়ে এনসিপি’র অপর মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে। তিনি জানান, গত ৪ মে সন্ধ্যায় গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ১০-১২ জন সন্ত্রাসী হাসনাতের গাড়িতে হামলা চালায়। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায় এবং হাসনাত আহত হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, অভ্যুত্থানকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন, গাজীপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন, মুখ্য সংগঠক রবিউল হাসান ও গাজীপুর সদর উপজেলা ছাত্র প্রতিনিধি সম্রাট।
এছাড়াও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা খন্দকার আল আমিনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুয়া মামলায় নিরীহ মানুষদের অব্যাহতির দাবি জানান।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গ্রামীণের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সমালোচনায় ড. ইউনূস!

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও ছিল কোণঠাসা। তবে ৫ আগস্টের পর সে চিত্র বদলে যেতে থাকে। একে একে নানা ‘সুযোগসুবিধা’ পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলো।

বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্র ঋণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশংসিত শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এ নিয়ে কিছুটা সমালোচিতও হচ্ছেন তিনি।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের গত কয়েক মাসে নিবন্ধন, অনুমোদন, করছাড়সহ বেশকিছু সুবিধা পেয়েছে গ্রামীণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে ঢাকায় ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পেয়েছে।

সেই সঙ্গে রয়েছে গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স, গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমতি পেয়েছেন। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ ও সরকারিভাবে ব্যাংকে শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। 

ড. ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলা দ্রুত খারিজ হয়ে যাওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এর মধ্যে।

গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি নামে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে চলবে এখন।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনুমোদিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এটি। 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (জিইএসএল) বিএমইটি থেকে একটি লাভজনক জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (RL No. 2806) পায় এবং এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যপদ লাভ করে।

২০০৯ সালে জিইএসএলের লাইসেন্সের জন্য প্রথম আবেদন করা হয়। তবে রাজনৈতিক কারণে পূর্ববর্তী সরকার অনুমোদন দেয়নি।

এই কম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ সেন্টারের এবং ১০ শতাংশ শেয়ার গ্রামীণ শিক্ষার মালিকানায় রয়েছে।

ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই গ্রামীণ টেলিকমের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কাজ করার জন্য অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘অনাপত্তি সনদ’ (এনওসি) পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি পিএসপি লাইসেন্স পায়।

২০২১ সালের নভেম্বরে পিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো অনুমোদন দেয়নি।

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ বাতিল করে নতুন করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ পাস করে।

২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে সরকারের মালিকানা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন অধ্যাদেশে শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয় এবং বোর্ডে নির্বাচিত ৯ জন সদস্যের মধ্য থেকে ৩ জন পরিচালক মনোনীত হবেন, যাদের মধ্য থেকে একজনকে বোর্ড চেয়ার হিসেবে নির্বাচন করা হবে। এতে সরকারের চেয়ার নিয়োগের ভূমিকা বাতিল হয়।

ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি করে দেয়।

যদিও এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রামীণ ব্যাংক কর অব্যাহতি পেয়ে আসছিল, তবে ২০২০ সালে তা বাতিল করে আগের সরকার।

এই কর অব্যাহতির জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ এনবিআর বরাবর আবেদনপত্র জমা দেন।

অন্যদিকে, ড. ইউনূস গত বছরের ৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পরই অর্থপাচার মামলায় ঢাকার একটি আদালত তাঁকে খালাস দেয়।

এ ছাড়া, শপথ নেওয়ার আগের দিনই শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালকদের যে ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল, সেই মামলাতেও আদালত তাঁদের খালাস দেয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সংবাদমাধ্যমকে এসব বিষয়ে বলেন, ‘যেহেতু সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো এমন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে প্রধান উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তিনি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার দিকে রূপান্তরের দায়িত্বে রয়েছেন, তাই এটা প্রত্যাশিত যে কোনো সিদ্ধান্ত যেন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয় এবং স্বার্থের সংঘাত না থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে যদি স্বার্থের সংঘাত না থেকে থাকে, তাহলে যেসব যৌক্তিক ভিত্তিতে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়েছে তা জনগণের সামনে প্রকাশ করাই হবে শ্রেয়।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘গ্রামীণের যেসব প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন, সেইগুলোতে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কিছু আছে কি না? এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তাঁর কোনো শেয়ার আছে? এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনো সুবিধা পান? আসলে কি এ গুলো ড. ইউনূসের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান? গ্রামীণ নামটা না হয় ড. ইউনূস দিয়েছেন। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের একটা শেয়ারের মালিক কি না? উনার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি আছে কোথায়? কেউ দেখাতে পারবে?’

এসব বিষয় নিয়ে চলতি মাসে একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘আপনারা বের করে দেখান যে এসব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বা সরকার কোনো ভূমিকা রেখেছে কিনা। আমি সবাইকে এসব বিষয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাই।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব উল্লেখ করেন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ২০০৯ সালে আবেদন করেছিল। ওই সময়ে ড. ইউনূস সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে সৌদি ও জার্মানের একটা হাসপাতালের চেইন তাঁকে বলেছেন, ‘আপনি নার্স ও হাসপাতালের স্টাফ পাঠান।’ তারা বাংলাদেশের নিয়মিত কর্মী পাঠানো এজেন্সির মাধ্যমে নেবে না। কারণ ড. ইউনূসের মাধ্যমে নিলে খরচ একদম সীমিত পর্যায়ে থাকবে। সেই আলোকে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারা অনুমোদন দেয়নি। এখন ২০২৪ সালের পর যদি লাইসেন্সের অনুমোদন পায়, তাহলে দোষ কি? বাংলাদেশে এই রকম সাড়ে ৩ হাজার এজেন্সি আছে।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় করতে চেয়েছিলেন ২০১২ সালের দিকে। ২০১৪ সালে পূর্বাচলে ২-৩ শ বিঘা জমি ক্রয় করেছিলেন। তখন যতবারই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন, ততবারই তারা বলেছিল, ‘আবেদন জমা দিয়েন না। আমরা অনুমতি দিতে পারব না।’ এখন গত ৬ মাস অডিট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গুনটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গুনটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিরুদ্ধে কু-চক্রী মহলের মিথ্যা অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা।

শুক্রবার (২৩ মে) জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষে মসজিদ কমিটির সহ- সভাপতি মো. আনিছুর রহমান তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গুনটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকার একটি অন্যতম বড় মসজিদ। মসজিদ প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে গ্রামের সর্বস্থরের লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে মসজিদের যাবতীয় কাজ করে আসছেন কমিটির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু আগের কমিটির সাবেক সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মসজিদের আইপিএস’র ব্যাটারি নিজ বাসভবনে ব্যবহারের কারনে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেন। পরে কমিটির শোকজ এড়ানোর লক্ষ্যে অসুস্থতা দেখিয়ে সেক্রেটারির পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। তার চাচাতো ভাই রফিকুল হুদাকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি করা হলে টাকার বিনিময়ে এলাকার দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের দিয়ে তাকে রাতে পদত্যাগের হুমকি প্রদান করেন। ভয়ে রফিকুল হুদাও পদত্যাগ করলে আলমগীর হোসেনের চাচা হিরু দারোগাকে কমিটি সেক্রেটারি নিযুক্ত করেন। এ কারনে আলমগীর হোসেন নিজের পদচ্যুতির অপমান সইতে না পেরে বিভিন্ন ভাবে সামাজিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবের মাধ্যমে বর্তমান কমিটির সভাপতিসহ অনান্যদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মিমাংসার লক্ষ্যে তাকে একাধিকবার ডাকা হলে বিভিন্ন অজুহাতে তিনি এরিয়ে যান। সেই সাথে তিনি নানাভাবে মসজিদ কমিটির নামে বিভিন্ন মন্তব্য করে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গুনটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ এলাকাবাসী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি