আজ , ।   
Home Blog Page 410

অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করছি, করে যাব: সেনাপ্রধান!

আলোকিত ডেস্ক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা আমরা করে যাব। তবে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই এবং এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি।

বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, নির্বাচন, সংস্কার, মানবিক করিডরসহ একাধিক বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না এবং কাউকে তেমন কিছু করতে দেবে না।

সেনাপ্রধান সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে একটি অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসন কাঙ্ক্ষিতভাবে পুনর্গঠিত হতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রস্তাবিত মানবিক করিডর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, “বিষয়টি স্পষ্ট নয়, ঝুঁকিপূর্ণ ও অসম্ভব। এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অবশ্যই একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে, যাতে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ থাকে। এখানে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।”

সামরিক বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং নিরাপত্তাগত বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্ধকারে রাখা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার পরিচালনায় সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। কাউকে অবজ্ঞা করলে রাষ্ট্রের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সেনাপ্রধানের দূরদর্শী ভূমিকা স্মরণীয়। আজও সেনাবাহিনী দুর্যোগ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু তাদের মতামত উপেক্ষা করে মানবিক করিডর বা ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।” তিনি বলেন, “সংস্কারেও সশস্ত্র বাহিনীর সম্পৃক্ততা দরকার, কারণ তারাও সংস্কারের আওতাভুক্ত।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জনতার মেয়র হয়ে ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে থাকার ঘোষণা ইশরাকের!

আলোকিত ডেস্ক, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, জনতার মেয়র হিসেবে কোরবানির ঈদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে আমি নিজেও থাকব।

শুক্রবার সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, শপথ কেবল একটা ফরমালিটি। জনতার মেয়র হিসেবে আমার দায়িত্ব বর্তায় আগামী কোরবানির ঈদের আগে যাতে বর্জ ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে। আমি ঢাকাবাসীকে নিশ্চিত করছি, উত্তরে মেয়র না আসা পর্যন্ত সেখানকার প্রশাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করব  আমি।

তিনি আরও লেখেন, দক্ষিণের সাবেক কাউন্সিলর ও বিগত নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি জোনভিত্তিক মনিটরিং টিমের অনুমোদন দেব। বিকেলের মধ্যে (১৬ ঘণ্টায়)! একটা স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করব আমরা। দক্ষিণ পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে আমি নিজেও থাকব বলে তিনি জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

নোয়াখালীতে চিকিৎসকের ছুরিকাঘাতে ছাত্রদল নেতা নিহত 

নোয়াখালী প্রতিনিধি, নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পল্লী চিকিৎসকের ছুরিকাঘাতে মো. আবুল হোসেন রাফি (১৮) নামে ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাত পৌনে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের চাঁন মিয়ার মোড় এলাকার বাইল্লা কোট্রার একটি চা দোকানে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
রাফি একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের অলিপুর গ্রামের মো.আজাদের ছেলে। অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মো.শাহীন (৬০) ওই এলাকার সুজাত উল্যার ছেলে।
নিহত রাফির বন্ধু সায়েম জানান, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের অশ্বদিয়া সোলেমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলার সময় আমার হাত লেগে আমার বন্ধু মো.রুমনের ঠোঁট ফেটে রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তীতে খেলার মাঠ থেকে রুমনকে অলিপুর চাঁনমিয়া মোড় এলাকায় পল্লী চিকিৎসক মো.শাহীনের কাছে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে শাহীন রুমনকে চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেসময় উপস্থিত থাকা তার সাথে একদল কিশোরের বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে রাফির সাথে পল্লী চিকিৎসক শাহীনের হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে শাহিন রাফিকে চা দোকানে থাকা ছুরি দিয়ে গলার নিচে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে ধমনি কেটে যায়। এতে রাফি গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা রাফিকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আল বারাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সশস্ত্র বাহিনীকে অন্ধকারে রাখা অনুচিত!

আলোকিত ডেস্ক, সশস্ত্রবাহিনীকে অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে  স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ অবিবেচনাপ্রসূত। রাষ্ট্রের সংস্কারের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্ধকারে রাখা হবে—এটাও কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে সেনাপ্রধান যে কনসার্ন ব্যক্ত করেছেন তা যথার্থ। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা দরকার।

যার যে দায়িত্ব তাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। কাউকে অবজ্ঞা করা উচিত না। দেশের অগ্রগতি চাইলে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীর সদস্যদের যা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে যা বলেছেন, তাও সঠিক।
তাঁর বক্তব্য ইতিবাচকভাবে নিয়ে সংকট নিরসনে সবাইকে  দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে হবে। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই দেশ পরিচালনা হওয়া দরকার। নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণে সংকট বাড়বে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সঠিক কথা বলেছেন। 

এসব মন্তব্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সামরিক বিশেষজ্ঞসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের। কালের কণ্ঠকে তাঁরা জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি অনেকে চায় সার্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যেন না হয়। এ ধরনের একটি অপচেষ্টা চলমান। সেই অপচেষ্টা যেন কোনোভাবেই সফল না হতে পারে সেভাবেই সবার কাজ করা দরকার।

গত বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁঁর বাহিনীর সদস্যদের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো যুক্ত হবে না। কাউকে তা করতেও দেওয়া হবে না। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যকে নিরপেক্ষ থাকার এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে ওই অনুষ্ঠানে নির্বাচন ছাড়াও মানবিক করিডর, বন্দর, সংস্কারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সেনাপ্রধান জাতীয় নির্বাচন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হওয়া উচিত বলে জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, সার্বিকভাবে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এই পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসনসহ সব সংস্থা প্রত্যাশা অনুসারে পুনর্গঠিত হতে পারছে না। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডরসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, এটি ক্রিস্টাল ক্লিয়ার না। বিষয়টি স্পর্শকাতর, ঝুঁকিপূর্ণ ও অসম্ভব।

তিনি বলেন, মানবিক করিডর বিষয়ে সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই হতে হবে। এখানে জাতীয় স্বার্থ দেখতে হবে, যা করার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই করতে হবে। যা-ই করা হোক না কেন, পলিটিক্যাল কনসেনসাসের (রাজনৈতিক ঐকমত্য) মাধ্যমে সেটা হতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, আগস্ট থেকে সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিছু মহল তাঁকে ও সেনাবাহিনীকে অন্যায্যভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

‘মব ভায়োলেন্স’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা বা আক্রমণের বিরুদ্ধেও কঠোর বার্তা দেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সংস্কার প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, কী সংস্কার হচ্ছে, কিভাবে হচ্ছে, এ বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো পরামর্শ বা আলোচনা করা হয়নি। পাশাপাশি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সহযোগিতা করছি। সহযোগিতা করে যাব।’

এর আগেও সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর সেনাপ্রধান বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, দেশ গঠনে, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে আসছেন। সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, আমি সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে হস্তক্ষেপ করতে দেব না—এটা আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে  দেশ সেবায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করেন। গত ৬ অক্টোবর সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ ২০২৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।’ কিন্তু তার পরও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাখতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তের অন্ত নেই। চলছে বিভেদ বাড়ানোর অপচেষ্টা।

বুধবারের অফিসার্স অ্যড্রেসে সেনাপ্রধানের বক্তব্য সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় বেশি। বিশিষ্টজনদের অনেকেরই ধারণা, সেনাপ্রধান সঠিক কথাই বলেছেন।  সামিরক বিশেষজ্ঞ মে. জে. (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী সংস্কার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্ধকারে রাখা সম্পর্কে গতকাল বৃহস্পতিবার  কালের কণ্ঠকে  বলেন, ‘সকল পর্যায়ে সবাইকে একটি লক্ষ্যে কাজ করা দরকার। সেটি হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা। নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যার যে দায়িত্ব সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যার যে দায়িত্ব তাকে সেই দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে। কাউকে অবজ্ঞা করা উচিত না। দেশের অগ্রগতি চাইলে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সবাইকে নিয়েই কাজ করা উচিত। আপনি প্রত্যেকটা কম্পোনেন্টকে কিভাবে হ্যান্ডেল করছেন, তার ওপর সফলতা নির্ভর করে। আমরা ন্যাশনাল পাওয়ার বলি। এর বিভিন্ন এলিমেন্ট থাকে। ন্যাশনাল পাওয়ারের সব এলিমেন্ট যখন পুরো কাজে লাগাতে পারবেন তখনই আপনি সফল। কাউকে বাদ দিয়ে, দমন করে, একজনের দায়িত্বে অন্যজনকে বসিয়ে যখন কিছু অর্জন করতে চাওয়া হয়, তখন ন্যাশনাল পাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশি ও বিদেশি অনেকে চায় সার্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যেন না হয়। এ ধরনের একটি অপচেষ্টা চলছে। সেই অপচেষ্টা যেন কোনোভাবেই সফল হতে না পারে সেভাবেই সবার কাজ করা দরকার। সবার বলতে সরকার ও সরকারের সব এলিমেন্টই শুধু নয়, জনসাধারণের কথাও বলছি। জনগণের মধ্য থেকে  কারো বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করতে হলে, লিখতে হলে এই চিন্তা-ভাবনা করা উচিত, এটি আমাদের দেশের পক্ষে যাচ্ছে কি না। এ বিষয়েও জনসচেতনতা তৈরি করা দরকার। জনগণ সচেতন হলে বিভাজনের ইঙ্গিত যেগুলো দেখতে পাচ্ছি তা থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে পারব।

সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খানের মূল্যায়ন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কার এবং যেসব স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করছে বলে আলোচনা হচ্ছে, সেসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত তেমনভাবে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হয় না। সরকারের  গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো এখানে অনেকটাই উপেক্ষিত। এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত গ্রহণ বাঞ্ছনীয় ছিল। সংস্কার কমিটিগুলোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা সবাই গণকর্মচারী। কিন্তু তাদের চাকরবাকর হিসেবে দেখা হবে, অবজ্ঞা করা হবে এটা হতে পারে না। তাঁরা শুধু অন্ধের মতো সরকারের নির্দেশ পালন করবেন তা নয়, দেশ গঠনে তাঁদেরও মতামত রাখার সুযোগ দিতে হবে। সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত এবং নির্বাচন শেষে সেনাবাহিনীকে দ্রুত সেনানিবাসে ফিরতে হবে বলেছেন। আগেও তিনি এ কথা বলেছেন। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। সেনাবাহিনীসহ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বেশি দিন বাইরে রাখলে তাতে বাহিনীর ক্ষতি হয়। ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া দরকার—এটা আমিও সমর্থন করি। এ বিষয়ে সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। তবে এ বিষয়ে সরকারের যে প্রচেষ্টা তাতে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। যদি বিশেষ একটি দলকে সংগঠিত করার এবং সে দলকে নানা সুযোগ ও সময় দেওয়ার পরিকল্পনা থাকে তাহলে ঐকমত্যে পৌঁছানোতে সমস্যা হবে।

রাষ্ট্রের সংস্কারে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করা যেত। কারণ সশস্ত্র বাহিনীরও সংস্কার প্রয়োজন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সেনাপ্রধান তাঁর বাহিনীর সদস্যদের যা জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে যা বলেছেন, তাও সঠিক। তাঁর বক্তব্য ইতিবাচকভাবে নিয়ে সংকট নিরসনে সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। নির্বাচন ডিসেম্বরেই হতে হবে। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই দেশ পরিচালনা হওয়া দরকার। নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণে সংকট বাড়বে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ড. ইউনূসের পদত্যাগ তার জন্য আত্মঘাতী হবে : ফরহাদ মজহার!

আলোকিত ডেস্ক, দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে উপদেষ্টা পদে থেকে কী লাভ, সে কথাও বলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গেকথা বলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।

পরে তার সঙ্গে দেখা করতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নাহিদ ইসলাম বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ‘পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন তিনি। 

এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ড. ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে ভুল করেছেন।

 

তিনি আরো লেখেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসকে নির্বাচিত করেছে। তাঁকে অবশ্যই খুনিদের বিচার করতে হবে, নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ণের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করবার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, কাছা খোলা বাজার ব্যবস্থার জবরদস্তি দ্বারা বৈশ্বিক কর্পোরেট দখলদারি কায়েমের বিপরীতে গণবান্ধব।

বাংলাদেশের সৈনিকেরা এই দেশের সন্তান বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সঙ্গে তারা অঙ্গাঙ্গী জড়িত। জনগণের স্বার্থ তাদেরও স্বার্থ। কারণ তারাও জনগণের অংশ–আমরা কেউই মঙ্গলগ্রহ থেকে আসিনি। 

ফরহান মজহার লেখেন, এই সকল লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণ চায় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ড. ইউনূসের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। নির্বাচন অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হতে হবে, কিন্তু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান তাঁর এখতিয়ারের বাইরে নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর যুক্তি।

গণ অভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারী জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশকে বিভিন্ন শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার ময়দান ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবার দায় তখন সেনাপ্রধানের ওপর বর্তাবে। সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করবেন, জনগণ সেই আশাই করে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

দুধ দিচ্ছে পাঁঠা, দেখতে মানুষের ভিড়!

আলোকিত ডেস্ক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নগর মোহাম্মদপুরের ক্যানেলপাড়া এলাকায় একটি পাঁঠা দুধ দিচ্ছে এমন ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ছড়িয়েছে তুমুল চাঞ্চল্য। খামারি আবুল কাশেমের খামারে থাকা তিন বছর বয়সী একটি পাঁঠা প্রতিদিন আধা কেজি করে দুধ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন সে । খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাঁঠাটিকে এক নজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।

পাঁঠাটিকে দেখতে গিয়ে দেখা গেছে, কালো রঙের ওই ছাগলটিকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। উপস্থিত জনতার অনুরোধে খামারির স্ত্রী সেলিনা বেগম দুধ সংগ্রহ করে দেখান তিনি।

তিনি জানান, প্রতিদিন নিয়মিতভাবে দুধ সংগ্রহ করছেন এবং অনেকেই কৌতূহলবশত সেই দুধ খাচ্ছেন বা বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।

খামারি আবুল কাশেম বলেন, আমার খামারে ৫০-৬০টি পাঁঠা আছে। এর মধ্যে একটিকে এক সপ্তাহ আগে দুধের ওলানসহ দেখতে পাই। হাত দিয়ে চাপ দিতেই দুধ বের হতে থাকে।

এ ঘটনা অলৌকিক মনে হলেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, এটি বিরল ঘটনা হলেও অলৌকিক নয়। আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছি। এটিকে জেনেটিক বা হরমোনজনিত বলে ধরা হয়। হরমোন ভারসাম্যের গোলযোগের কারণে পুরুষ ছাগলের শরীরে দুধ উৎপন্ন হতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

ঈশ্বরদীর পদ্মানদীর সাঁড়াঘাট এলাকায় শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা শতাধিক রাউন্ড গুলি-আহত-৭

মো:সজিব হোসেন পাবনা প্রতিনিধি ঈশ্বরদীর পদ্মানদীর সাঁড়াঘাট এলাকায় শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা
শতাধিক রাউন্ড গুলি চালিয়ে ও লাঠিপিটা করে ৭ যুবদলের সদস্য ও দিন মজুরকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদীর পদ্মানদীর সাঁড়াঘাট এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলনের সময় অজ্ঞাতনামা শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা আকর্স্মিকভাবে এলোপাতাড়ী গুলি চালিয়ে ও লাঠিপিটা করে তাদের আহত করা হয়। আহতরা হলো মেসার্স বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজের দিন মজুর ও যুবদল সদস্য ঈশ্বরদীর রুপপুরের মৃত আনার আলীর ছেলে চপল সরদার,লালু ও সানা উল্লাহ ওরফে ডেগার,ভেড়ামারা থানার গোলাপ নগরের হযরত আলীর ছেলে রিপন,একই এলাকার শাহীন আলমের ছেলে রাসেল,মৃত শুকুর আলীর ছেলে সৈকত এবং ভেড়ামারার জার্মানীর ছেলে সেলিম। এদের মধ্যে সেলিমকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বাকীদের ঈশ্বরদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শি ও আহতরা জানায়,নদীতে বালু উত্তোলনের সময় আকর্স্মিকভাবে একদল শসস্ত্র সন্ত্রাসীরা দিনমজুরদের লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এর আগে বুধবার বিকেলেও ঐ সন্ত্রাসীরা এলাকায় এসে তিন রাউন্ড ফাঁকা
গুলি করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এদিকে এঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে মেসার্স বিশ্বাস এন্টার প্রাইজের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে ঐ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত¡াধিকারী টনি বিশ্বাস সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন,আন্ডার ওয়াল্ডের ডন অস্ত্রধারী কাঁকন বাহিনীর প্রধান কাঁকন দীর্ঘ প্রায় বারো বছর ধরে নদীর চরে বাড়িঘর করে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে লুটপাট ও চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে লালপুর থেকে গড়াইনদী পর্যন্ত ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করেছে। সম্মেলনে তিনি পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

আন্দোলন স্থগিত করলেন ইশরাক

আলোকিত ডেস্ক:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন।

২২ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে এসে তিনি এ ঘোষণা করেন।

আন্দোলন স্থগিত করেছেন ইশরাকইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক দল; যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। হাইকোর্টের আদেশ শোনার পর দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আপাতত আমার আন্দোলন স্থগিত রাখব। সরকারকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে, তারা কী করে, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কার্যক্রমের নির্দেশনা আসবে।

তিনি বলেন, আমি আসার সময় আমাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। হাইকোর্টে একটি ভুয়া রিট, বলা যায় সেই রিট দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে মেয়র পথে শপথ করানো থেকে বাধাগ্রস্ত করানোর একটা অপচেষ্টা করা হয়েছিল। সব শেষে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমরা আশা রাখব বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার আর একদিনও কালক্ষেপণ না করে, অবিলম্বে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তাদের আগামী দিনের এজেন্ডা জনগণের কাছে ফুটিয়ে তুলে ধরবে। আজকে যেহেতু আমরা রায়টি পেয়েছি, যদি সরকার আবারও তালবাহানা করে, তাহলে কালকে সকালে আমরা আবার এখানে এসে ঘেরাও দেব।

তিনি বলেন, এই কর্মসূচির ফলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। জনগণ দুর্ভোগে পড়ে। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তারা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকে। নাগরিক বিভিন্ন সভা থেকে তারা বঞ্চিত হয়। সেটার জন্য আমাদের নেতা এবং আমি সাধারণ জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। শুরুতে কিন্তু আমাদের আন্দোলনের পরিকল্পনা ছিল না। আমরা বাধ্য হয়ে এ ধরনের কর্মসূচিতে আসার জন্য সিদ্ধান্ত নেই।

ইশরাক হোসেন বলেন, গতকাল আমি বলেছিলাম, বর্তমান সরকারের ভেতরে যে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছে, যারা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সরাসরি সংগঠক হিসেবে কাজ করছে। তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন শেষ হবে না, এই ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমি আমার ঘোষণাকে পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, রায় এবং শপথ আলাদা বিষয়, এটা হয়ে যাওয়া মানে প্রথম যে দাবিটি করেছিলাম, ছাত্র প্রতিনিধিসহ অন্যান্য প্রতিনিধিদের পদত্যাগ করতে হবে, সেটা কিন্তু পরিবর্তন হবে না।  সেই দাবি সেই দাবির জায়গায় থাকবে, হয়তোবা সরকারের সঙ্গে আমাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ আলাপ-আলোচনা করে এটি সমাধানের চেষ্টা করবেন।

যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা একটা একটা ধাপ পার হয়ে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। এই কাজ করতে গিয়ে যদি সম্পূর্ণ কৃতিত্ব  দিতে হয়, তাহলে তৃণমূলের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে এই কৃতিত্ব দিতে হয়। তারা কষ্ট করে আন্দোলনকে সংগঠিত করেছে। যে আন্দোলনে ঢাকাবাসী অংশগ্রহণ করে সরকারকে বাধ্য করেছে তাদের জায়গা থেকে সরে আসতে।

তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল এটা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তকর লেখা লেখছে। পোস্ট দিচ্ছে। ভুল আইনি ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, উনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। উনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা বলতে চাই, উনার আশপাশে যে কুলাঙ্গার রয়েছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের আপনি অপসারণ করে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।

বুধবার সকাল থেকে ইশরাককে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে কাকরাইলে অবস্থান নেন তার সমর্থকরা। তারা সারারাত সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপি নেতাকর্মীরা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। একই সঙ্গে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করছেন তারা।

যমুনারে যমুনা আমরা কিন্তু যাব না, এই মাত্র খবর এলো ইশরাক ভাই মেয়র হলো, এই মুহূর্তে দরকার নির্বাচিত সরকার, দফা এক দাবি এক নির্বাচিত সরকার, যমুনারে যমুনা শপথ ছাড়া যাব না এ সব স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/২২মে ২০২৫/মওম

চীনের মধ্যস্থতায় কাছাকাছি পাকিস্তান ও আফগানিস্তান,দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ঐকমত্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অবশেষে নিজেদের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করতেও সম্মত হয়েছে।

এটিকে উভয় দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ২২ মে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে এই ঐকমত্য আসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ত্রিপক্ষীয় এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে, যেখানে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠকটি ছিল চীনের বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি এবং সংযোগ নীতির অংশ, যা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, “আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে স্পষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব রাষ্ট্রদূত বিনিময়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। চীন এটিকে স্বাগত জানায় এবং এ সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

এদিকে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আর তা হচ্ছে—চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর (সিপিইসি) প্রকল্পটি আফগানিস্তানে সম্প্রসারণে তিন দেশই সম্মত হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত সংযোগ জোরদার হবে।

প্রসঙ্গত, তালেবান ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এখনো কোনো দেশ তাদের সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ কাবুলে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে এবং তালেবান নিয়োগকৃত রাষ্ট্রদূতদের নিজেদের দেশেও স্বাগত জানিয়েছে। বিপরীতে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান এখনও একে অপরের রাজধানীতে কেবল ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ (অস্থায়ী কূটনীতিক) নিয়োগেই সীমাবদ্ধ ছিল। এছাড়া বেইজিং বৈঠকে নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের অঙ্গীকারও উঠে আসে। বিশেষ করে আফগানিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ এই আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।পাকিস্তান বলছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা ৭০ শতাংশ বেড়েছে, যার জন্য আফগান ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা টিটিপি ঘাঁটিকে দায়ী করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে পাকিস্তানের আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ দূত মোহাম্মদ সাদিক এক বছর পর প্রথমবার কাবুল সফর করেন। এরপর ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আফগানিস্তানে যান এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণে একমত হন।

বেইজিং বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, চীন-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপ আবার শুরু হবে, যা ২০২৩ সাল থেকে স্থগিত ছিল। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ষষ্ঠ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংলাপটি কাবুলে অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য, ট্রানজিট, স্বাস্থ্য এবং সংযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

আলোকিত প্রতিদিন/২২মে ২০২৫/মওম

শাহবাগ মোড় অবরোধ, আন্দোলনে  স্থবির ঢাকা,দুর্ভোগ চরমে

আলােকিত ডেস্ক:

নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক ব্যক্তি বা সংগঠন আন্দোলন-বিক্ষোভ করছে। এতে যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানী। মানুষের দুর্ভোগের সীমা পৌঁছে চরমে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে কদিন ধরেই বিক্ষোভ করছে ছাত্রদল। ২২ মে বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শাহবাগ থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেছে তারা। ফলে ওই এলাকায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথের দাবিতে মৎস ভবন মোড় বুধবার থেকে টানা অবরোধ করে রেখেছিলেন তার অনুসারীরা। আজ হাইকোর্টের রায়ের পর এই ইস্যু থেকে সড়ে দাঁড়ান বিক্ষোভকারীরা। তবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবিতে আবারও মৎস ভবন মোড় থেকে যমুনা অবরোধ করেছেন তারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রেসক্লাব থেকে শাহবামুখী এবং শাহবাগ থেকে পল্টন-গুলিস্তানমুখী সম্পূর্ণ সড়কে বন্ধ আছে যান চলাচল। গণপরিবহনের চালকরা যানবাহন বন্ধ করে বসে আছেন। অধিকাংশ যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করছেন।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, প্রতিদিন এমন সড়ক অবরোধের কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি। কাজে আসলেও দিন শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

শাহবাগ থেকে মোহাম্মদপুরের দিকে রওনা করা এক ব্যক্তি বলেন, গাড়ি চলছে না সকাল থেকেই। হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। হেঁটেই যাচ্ছি, দেখি কতদূর যাওয়া যায়।

বাংলামটরে আটকা পড়া আরেক যাত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে যাবো। রিকশা নিয়েছিলাম উঠার পরই নেমে গেলাম। গলিতে ঢুকেই রিকশা আর সামনে যাচ্ছে না। এভাবে একটা দেশে চলা যায় না।

যানজটে আটকে আছেন সিএনজি অটোরিকশা চালক মি.হোসেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে মাত্র একটা ভাড়া পেরেছি। তারপর থেকেই যানজটে আটকে আছি। সারা দিন যদি এভাবে আটকা থাকতে হয় তাহলে মালিককে গাড়ির টাকা দেবো কেমন করে?

এ প্রসঙ্গে রমনা জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট নাফিস আহমেদ বলেন, অবরোধের কারণে সকাল থেকে সাতটি পয়েন্ট বন্ধ। কোনও দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। আমাদের কোনও উপায় নেই। অবরোধ ছেড়ে রাস্তা থেকে সড়ে না দাঁড়ালে যানজট কমবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/২২মে ২০২৫/মওম