আজ , ।   
Home Blog Page 400

বিএনপি কেন ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাচ্ছে, দাবি আদায়ে কতটা সফল হবে দলটি!

বিশেষ প্রতিনিধি, দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এবার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছে আলটিমেটামের সুরে। ঢাকার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

নির্বাচন প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে এখন বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হলো বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য কেন চাপ বাড়াতে চাইছে বিএনপি, কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে তারা?

 

নির্বাচনের সময়ের ব্যাপারে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে এগোতে গিয়ে রাজনীতিতে বিএনপি একা হয়ে পড়বে কিনা, এই প্রশ্নেও আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

কারণ বিএনপির এই অবস্থানের সঙ্গে নেই বর্তমানে রাজনীতিতে প্রভাবশালী অন্য দলগুলো, অর্থাৎ জুলাই গণ-অভ্যত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতি এই দলগুলোর সমর্থন রয়েছে বলা যায়। তবে বিএনপিও অভিযোগ করছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি এবং সেনাবাহিনীকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে  বলে তারা মনে করেন। যদিও সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বললে তারা এ ধরনের অভিযোগ মানতে রাজি নয়।

কিন্তু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল এখন সামনে এসেছে, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ডিসেম্বরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দেশের মানুষের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

দলটির নেতারা বলছেন, বাধ্য না হলে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে না। এমনকি সরকার ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে চায় না বলে তারা মনে করেন। সে কারণে সরকারকে বাধ্য করানোর চেষ্টা তাদের থাকবে।

বিএনপির বক্তব্য বা চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে সরকারের দিক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার জাপান সফরে গিয়ে দেশটির সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করার পুরানো অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।

রাজনীতিকদের অনেকে এবং বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপাতত উত্তেজনা থেমেছে। কিন্তু এই সরকারের অংশীজনদের মধ্যে বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমেনি; রয়ে গেছে অস্বস্তি।

কেন চাপ বাড়াতে চাইছে বিএনপি?

নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, এই ধারণা তৈরি হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এবং দেশের রাজনীতিতে। কারণ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে অন্য কোনো দলকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে না বিএনপি। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৈরি হওয়া সুযোগ বা সম্ভাবনা দ্রুত কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার একটা বিষয় রয়েছে তাদের মধ্যে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে–এমন চিন্তা থেকে রাজধানী থেকে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে আধিপত্য বিস্তার, দখল, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ ধরনের অপরাধে জড়িত নেতা-কর্মীদের অনেককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং এমনকি বহিষ্কার করাসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু থামানো যায়নি বিএনপির নেতা-কর্মীদের দখল, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ।

এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে বিএনপি সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে; অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। নেতা-কর্মীদের এ সব অপরাধের অভিযাগ নিয়ে চিন্তিত বিএনপির নেতৃত্ব। তারা মনে করছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে যত দেরি হবে, দলের নেতা-কর্মীদের সামলানো তত কঠিন হবে; দখল, চাঁদাবাজি ও অধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বা এ ধরনের অপরাধ বাড়তে থাকবে।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন দেরিতে হলে কতটা সহায়ক পরিস্থিতি থাকবে, সেটা দলটিকে ভাবাচ্ছে। হয়তো তারাই ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু সমালোচনা বাড়বে।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বও কাজ করছে বিএনপির ভেতরে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এনসিপির প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের দুর্বলতা বা পক্ষপাতিত্ব আছে। এই দলটি সংস্কার ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার শেষ করার পর নির্বাচন চায়।

আর জামায়াত সুবিধাবাদী একটা অবস্থান নিচ্ছে। এই দুটি দলের সঙ্গে ইসলামপন্থি আরও কিছু দলকে এক অবস্থানে এনে সরকার বিএনপিকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে। এমন ষড়যন্ত্রের অভিযোগও বিএনপি আনছে।

তবে জামায়াাত ও এনসিপি এমন অভিযোগ মানতে রাজি নয়। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিবিসিকে বলেন, আগামী বছর রোজার আগ বা পরে নির্বাচন চান তারা। তাদের এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখা ঠিক হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোট হলেই বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত, এই বাস্তবতা থাকার পরও বিএনপিকে ঠেকানো যায় কিনা- এ ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা রয়েছে বলেও বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ক্ষমতায় থাকার লোভ তৈরি হয়েছে, সেজন্য নির্বাচন প্রলম্বিত করার চেষ্টা রয়েছে, এমন ধারণা থেকে বিএনপি নেতারা এখন সরকারের সমালোচনা করছেন।

বুধবার ঢাকায় বিএনপির আয়াজনে তারুণ্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা তারেক রহমানও বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যত।

তিনি এ-ও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকাররে দুর্বলতার বিষয়কেও বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাওয়ার পেছনে যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছে।

বিএনপি কি একা হয়ে পড়ছে

ভোটের সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অন্য দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, তা এখন বাড়ছে। কারণ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে হবে, এই অবস্থানে নেই জামায়াত, এনসিপি এবং ইসলামপন্থি বেশিরভাগ দল। অন্তর্বর্তী সরকারও ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে চায় না।

যদিও সব দলই নির্বাচন ও এর রোডম্যাপ চায়। কিন্তু নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে বিএনপি ছাড়া অন্য এসব দল ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করার সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে।

বামপন্থি কিছু দল বিএনপির সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে রাজনীতিতে এখন বামপন্থি দলগুলোর তেমন প্রভাব নেই।

এনসিপি, জামায়াত ও ইসলামপন্থি দলগুলাকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপিকে কোণঠাসা করা বা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করনোর চেষ্টা রয়েছে বলে যে আলোচনা রাজনীতিতে চলছে, সেটি বিএনপিও বিবেচনায় নিচ্ছে।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা রাজনীতিতে একা হয়ে পড়লেও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য তারা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারবে বিএনপি?

অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীজনদের মধ্যে নিজেকে বড় শক্তি হিসেবে দেখে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, অংশীজনদের বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

তারা যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে সরকার চাপে পড়বে। কারণ সরকারের টিকে থাকার প্রশ্ন আসবে।

এ ধরনের চিন্তা থেকে গত কয়েকদিনে বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার একটা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে যে, সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে তাদের পক্ষে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ সহযোগিতা না করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। ফলে দলটি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সহযোগিতা না করার ঘোষণাও দিতে পারে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, তারা সমাবেশ-গণজমায়েতের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চান।

দলটির ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারর বাধ্য না হলে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে না। ফলে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টাও থাকবে বিএনপির।

জুনের মধ্যে নির্বাচনের পুরোনো অবস্থানেই সরকার

ডিসেম্বরেই নির্বাচন হতে হবে বলে বিএনপির শীর্ষ নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন করার পুরোনো অবস্থানই তুলে ধরেন।

তবে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তায় এটা মনে হয়েছে যে, সরকার আগামী বছরের আগে অর্থাৎ ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে চায় না। এই ধারণা বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও রয়েছে।

কারণ প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের ভাবনা নিয়ে যে সংকট হয়েছিল, সে পটভূমিতে গত শনি ও রোববার অধ্যাপক ইউনূস বিএনপিসহ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এসব বৈঠক সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও এ সরকার আগামী বছরের ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না।

এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন সরকার করবে না, প্রেস সচিবের ওই বক্তব্যে সেটা পরিষ্কার বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বুধবার যখন বিএনপির সমাবেশ থেকে আলটিমেটামের সুরে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাওয়া হয়েছে, সেদিনই জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আবারও ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের পুরোনো অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যত্থানের মাধ্যমে গঠিত এ সরকার যদি কিছু সংস্কার করতে না পারে, তাহলে সরকারের মুখ রক্ষা হবে না। সেকারণে সরকার হয়তো প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারের জন্য সময় হাতে রেখে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলছে।

সংকটের সমাধান হয়েছে কি?

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগের ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল গত ২২ শে মে।

এর আগের সপ্তাহে আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি তাদের একজন নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার দাবিতে রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে রাজধানী কার্যত অচল করে দিয়েছিল।

সে সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বৈঠকে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত।

এই দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে এনসিপির নাহিদ ইসলামকে ডেকে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার পদত্যাগের ভাবনা কথা জানানোর ক্ষেত্রে দলগুলোর অসহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেছিলেন। নাহিদ ইসলামের মাধ্যমে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি সামলাতে অধ্যাপক ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উপদেষ্টা পরিষদের অনির্ধারিত সভা করে এক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ওই সব পদক্ষেপে সরকার একটু শ্বাস নেওয়ার সময় পেয়েছে। আপতত উত্তেজনা কমেছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে অস্বস্তি রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে বিএনপি এবং সেনাবাহিনীর দূরত্ব কমেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান মনে করেন, সরকার তাদের অংশীজনদের মধ্যে বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীকে ধমক দিয়েছে। ফলে উত্তেজনা ও অস্বস্তি রয়ে গেছে।

এমন বক্তব্যের পেছনে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে থাকা বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সব কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বিবৃতিতে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এখতিয়ার–বহির্ভূত বক্তব্য এবং কর্মসূচি দিয়ে যেভাবে স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে তোলা হচ্ছে এবং জনমনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।

সরকারের এই দুই বক্তব্যে ধমক দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারাও মনে করেন।

বিএনপির মিত্র গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সংকট এখন থমকে আছে। যা আরও প্রকটভাবে দেখা দিতে পারে।

সন্দেহ, অবিশ্বাস বেড়েছে

ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম এবং এই দুজনের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।

কিন্তু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে রাখা হয়। এর মাধ্যমে বিএনপিকে কী বার্তা দেওয়া হলো, তা নিয়ে দলটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে এবং সরকারের প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস বেড়েছে।

দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে বৈঠকে উপস্থিত রাখার রাজনৈতিক অর্থ রয়েছে। সরকার বিএনপির দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এটি হতে পারে।

বিএনপি নেতারা ঘটনাটিকে সরকারের ঔদ্ধত্য বলে বর্ণনা করছেন। আসলে বিষয়টাকে সহজভাবে নিতে পারেনি দলটি। তারা মনে করেন, সরকার বিএনপি ও সেনাবাহিনীর ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছে। সেকারণে সাময়িক উত্তেজনা কমলেও দেশের মানুষকেও স্বস্তি দিতে পারছে না পরিস্থিতি।  যদিও এ ধরনের বক্তব্য মানতে রাজি নন সরকারের উপদেষ্টারা।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য মানবিক করিডরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার হাত দিচ্ছে, যেগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করছে। সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধন করায় সচিবালয়ে কর্মকর্তা কমচারীরা পর্যন্ত আন্দোলনে নেমেছেন। রাজনীতিকরা মনে করছেন, সব ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন একটা পরিস্থিতি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। এর মধ্যে যেহেতু সরকারের বড় অংশীজনদের মধ্যে সরকারকে ঘিরে সন্দেহ, অবিশ্বাস রয়ে গেছে। ফলে অস্থিরতা বা উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে নির্বাচন করতে হলে সরকার ও অংশীজনদের সব পক্ষের সমঝোতা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইশরাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি!

বিশেষ প্রতিনিধি, আজ (২৬ মে) সকাল ১০টার পর থেকে নগর ভবন প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন কর্মচারীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন—‘মেয়র ছাড়া নগর ভবন চলতে পারে না।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তার সমর্থকেরা।

আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে নগর ভবনের গেটে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ থেকে আন্দোলনরত ‘ঢাকাবাসী’র প্রধান সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান এই ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে চলবে। প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু থাকবে। জরুরি নাগরিকসেবা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে একই দাবিতে আজ সকাল ১০টা থেকে নগর ভবনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন—’মেয়র ছাড়া নগর ভবন চলতে পারে না।’

ইউনিয়নের সদস্য রহিম মিয়া বলেন, ‘ইতিমধ্যে আদালতের রায়ে ইশরাক হোসেন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তারপরও তাকে শপথ পড়াতে গড়িমসি করা হচ্ছে।’

সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মচারী নগর ভবনে উপস্থিত থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

মুরাদ হোসেন নামে একজন কর্মচারী বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে ঢাকাবাসীর কোন ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। ভোগান্তি তখনই হতো যখন আমরা ময়লা পরিষ্কার বন্ধ করে দিতাম। আমরা নিয়মিত ময়লা নিষ্কাশন করছি।’

গত ২২ মে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া গেজেটের বৈধতা নিয়ে এবং তাকে শপথ পড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট রিট খারিজ করার ফলে আগামী ২৬ মে-র মধ্যে ইশরাককে শপথ না পড়ালে আদালত অবমাননা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে, ইশরাককে মেয়রের শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা নগর ভবনের পাশাপাশি মৎস্য ভবন মোড় ও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইশরাক সমর্থক ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন। তাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ইশরাকের করা মামলায় রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ে তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায়ের পর ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত

আলোকিত  েডস্ক:

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। যে কারণে সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

২৯ মে বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিমি, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিমি পর্যন্ত বাড়ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এদিকে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে বাতাস। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায়। এতে লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অপরদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, শক্তিশালী পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টিবলয়ের আওতায় পড়েছে দেশ। এই বৃষ্টিবলয়ে দেশের সব এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি চলতি বছরের পঞ্চম বৃষ্টিবলয় এবং প্রথম মৌসুমি বৃষ্টিবলয়। যা আগামী ৩ জুন মঙ্গলবার রংপুর হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।

বৃষ্টিবলয়ের কারণে ঢাকায় ১৭০-২২০ মিলিমিটার, খুলনায় ১৬০-২৫০ মিলিমিটার, বরিশাল বিভাগে ১৬০-২৫০ মিলিমিটার, সিলেটে ২০০-৩৫০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫০-২২০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ৮০-১৪০ মিলিমিটার, রংপুর বিভাগে ১৭০-৩০০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯০-৪০০ মিলিমিটার গড়ে বৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

আগামী ১ জুনের মধ্যেই সৌদি আরবে পৌঁছে যাবেন সব হজযাত্রী : ধর্ম উপদেষ্টা 

২৯ মে সকাল ১১টা পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৩১৬ জন হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন। বাকি হজযাত্রীরা আগামী ১ জুনের মধ্যেই সৌদি আরবে পৌঁছে যাবেন বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

২৯ মে বৃহস্পতিবার রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্পে ২০২৫ সালে এ হজ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, গত ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয়। হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী পর্যায়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা বেশি থাকায় এবং হজ এজেন্সির বাড়িভাড়ার সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় হজযাত্রী পরিবহনে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেয়। সেটিও আমরা হজযাত্রী পরিবহনকারী তিনটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয় করে অনেক আগেই সমাধান করেছি।

তিনি বলেন, ৩১ মে’র মধ্যে হজযাত্রী পরিবহনের প্রাথমিক যে বাধ্যবাধকতা ছিল। সেখানে বিশেষ কারণে একদিন সময় বাড়াতে হয়েছে। ২৯ মে সকাল ১১টা পর্যন্ত ৭৪ হাজার ৩১৬ জন হজযাত্রী ইতোমধ্যে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়ে গেছেন। বাকি হজযাত্রীরা ০১ জুনের মধ্যেই সৌদি আরবে পৌঁছে যাবেন ইনশাল্লাহ।

উপদেষ্টা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মক্কা-মদিনায় আমাদের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়োজিত আছেন। তাদের জন্য আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছি। হজযাত্রীদের সেবায় মক্কা ও মদিনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হজকর্মী নিয়োজিত থাকবেন। হজযাত্রীদের যেকোনো অভিযোগ বা অনুযোগ খতিয়ে দেখে তাৎক্ষণিক সমাধানেরও চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় এ জার্নিতে আমরা সম্মানিত প্রত্যেক স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। সুষ্ঠু ও সুন্দর হজ ব্যবস্থাপনার জন্য আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। হজ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী যে কাজগুলো রয়েছে সেগুলো যাতে আমরা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারি সে বিষয়ে আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসির কাছে দোয়া চাই।

তিনি আরও বলেন, এ দেশ থেকে যেসব হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদিতে গমন করবেন তারা সবাই যেন সুস্থ শরীরে হজ পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন, সে বিষয়েও আমি দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করছি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

বিবদমান প্যারাসেল দ্বীপে সর্বাধুনিক চীনা বোম্বার মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে দুটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির বোমারু বিমান (বোম্বার) মোতায়েন করেছে বেইজিং। স্যাটেলাইট ইমেজ পর্যালোচনার তথ্য যাচাই করে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্যারাসেলের মালিকানা নিয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে বিবাদ রয়েছে চীনের। বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরতেই সম্ভবত বোম্বার মোতায়েন করেছে বেইজিং।

সিঙ্গাপুরের রাজারত্ম আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ কোলিন কোহ বলেছেন, দীর্ঘ পাল্লার বোম্বারগুলো প্যারাসেলে থাকার প্রয়োজন নেই। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপাইনসহ একাধিক পক্ষের প্রতি বেইজিংয়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সতর্ক বার্তা।

মার্চের শেষদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হেগসেথের ফিলিপাইন সফরে দুটি এইচ-৬ বিমান বিতর্কিত স্কারবোরা শোলের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে দেখা যায়। ওই সফরেই ফিলিপাইনের প্রতি ‘লৌহসম অঙ্গীকার’ ব্যক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে, ২০২০ সালে উডি দ্বীপে বোম্বার রেখে বিতর্ক তৈরি করেছিল বেইজিং। এবার ফিলিপাইনের সঙ্গে চলমান সম্পর্কের টানাপড়েন এবং তাইওয়ান নিয়ে অস্থিরতার মাঝে দীর্ঘপাল্লার এইচ-সিক্স বোম্বার মোতায়েন করলো বেইজিং।বিশ্লেষকরা বলছেন, এইচ-৬ বিমানগুলোর মোতায়েন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার বড় কারণ হলো, স্নায়ুযুদ্ধ আমলের এয়ারফ্রেমকে আধুনিকীকরণ করায় এখন এগুলো জাহাজ বিধ্বংসী ও ভূমি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। কিছু সংস্করণ আবার পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপেও সক্ষম।

এদিকে, কুটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, আগামী মাসে একটি ব্রিটিশ রণতরি দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েন করা হবে, যা খুবই বিরল একটি ঘটনা।

বোম্বার মোতায়েনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চীন, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল রয়টার্স। তবে কোনও পক্ষের সাথেই যোগাযো করা যায়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

নীলফামারীতে বিপুল পরিমান সিম ও মোবাইল সহ  অনলাইন জুয়ারী গ্রেফতার-১

উজ্জ্বল আহমেদ- বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারী পুলিশ সুপার এ.এফ.এম তারিক হোসেন খাঁনের দিক নির্দেশনা ও ডিবি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)  আকতার হোসেন এর নেতৃত্বে ০১ টি চৌকস টিম জলঢাকা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গত ২৭ মে রাত সারে এগারোটার দিকে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এ অভিযানে নীলফামারী জেলার জলঢাকা পৌরসভার ৮নং ওযার্ডের দক্ষিণ চেরেঙ্গা এলাকার দিনেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে আসামী মিঠু চন্দ্র রায় (২৭) এর কাছে বিভিন্ন অপারেটরের ১১২ টি সিম, ০২ টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ০১ টি বাটন ফোন, ০১ টি পেনড্রাইভ এবং ০১ টি হেড ফোনসহ জুয়া ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পিন নম্বর পাওয়া যায়।

পুলিশ সুত্রে  জানা যায়,  আসামী জব্দকৃত সিম এর সাহায্যে বিভিন্ন এ্যাপস এর মাধ্যমে তার সহযোগী আসামীদের সহায়তায় সহজ-সরল মানুষের নিকট হতে প্রতারনার মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ প্রভৃতি) এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে উক্ত টাকা দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহায়তায় অনলাইনে জুয়া খেলে থাকে। অনলাইনে জুয়া/ক্যাসিনো ও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানায় নীলফামারী জেলা পুলিশ ।

জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আরজু মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে জলঢাকা থানায় পেনাল কোড ৪০৬/৪২০/৩৪ তৎসহ সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ৩১/৩২/৩৩ ধারা মোতাবেক মামলা রুজু।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইশরাকের মেয়র পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ দেওয়া হবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২৯ মে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে এই পর্যবেক্ষণ দেন।

২৮ মে বুধবার ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট জারির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বক্তব্য শোনার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত। একইসঙ্গে ইশরাককে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির কথাও বলা হয়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে ইশরাকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন।

২৭ মে মঙ্গলবার ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন চেম্বার আদালত।

গত ২৬ মে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এ আবেদন করেন। তার আগে ২২ মে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, রিট আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সেদিন আদালতে ইশরাকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাদের সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন।

গত ২১ মে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষ হয়।

গত ১৪ মে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। সেই সঙ্গে বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও চাওয়া হয় রিটে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ। আবেদনকারীর আইনজীবী কাজী আকবর আলী।

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচন হয়। বিএনপির ইশরাক হোসেনকে পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র হন। গত ২৭ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২০২০ সালের নির্বাচনে ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে বিএনপি নেতা ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পেয়ে গত ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির নতুন মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন ইসি।

এদিকে, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন সংস্থাটির কর্মচারীদের একটি অংশ। মূল ফটক আটকানোর পাশাপাশি সব বিভাগের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

ড. ইউনূস বললেন ডিসেম্বর-জুনে নির্বাচন, তারেকের ঘোষণা ডিসেম্বরেই!

বিশেষ প্রতিনিধি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন। নির্বাচন প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন, নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দূরত্ব বাড়ছে অন্তর্বর্তী সরকারের। এ অবস্থায় দ্রুত নির্বাচনের তাগাদা দিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপির এ তাগাদা আমলে না নিয়ে নিজেদের পূর্বের কথাই অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার (২৮ মে) নির্বাচন ইস্যুতে আবারও পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধান উপদেষ্টা এ মুহূর্তে জাপানে অবস্থান করছেন তিনি। বুধবার জাপানের টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে এক বৈঠকে ড. ইউনূস বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

এদিকে ঢাকায় বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ ভার্চুয়ালি বক্তব্যে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটাই শেষ কথা।

তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।

তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যত। জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাংলাদেশে পবিত্র জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ৭ জুন উদযাপিত হবে

বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ৭ জুন (শনিবার) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

২৮ মে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে বৃহস্পতিবার থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।

এই হিসেবে, ৭ জুন শনিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে দেশজুড়ে।

dhakapost

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখা যাওয়ার তথ্য জানাতে টেলিফোন এবং ফ্যাক্স নম্বর খোলা রাখা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখা যাওয়ার তথ্য আসায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরাসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, এর আগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইন্দোনেশিয়ায় ২৮ মে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর আসে। এসব দেশে ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে আরাফাতের দিন এবং ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৮মে ২০২৫/মওম

কোম্পানীগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলমকে  সাধারণ সম্পাদক করার দাবী উঠেছে

মোঃ আবদুল ওয়াদুদ; চট্টগ্রাম: কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতা জাহাঙ্গীর আলম। যিনি বর্ষীয়ান বক্তা হিসেবেই এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। বিগত দুই যুগেরও বেশি সময় তিনি আন্দোলন- সংগ্রামে মাঠ কাঁপিয়েছেন। এজন্য রক্তাক্ত হয়েছেন বহুবার। ষড়যন্ত্রমূলক মামলাও হয়েছে কয়েক ডজন।  দলের উপজেলা পর্যায়ে তাঁর পক্ষে বিশাল একটি জন সমর্থনও তৈরী হয়েছে। এবার তাকে উপজেলার সাধারণ সম্পাদক করার জন্য অনেকেই চাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একাধিক নেতা-কর্মী তাকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য কেন্দ্রীয় এবং জেলার নেতাদের কাছে জোরালো দাবী তুলেছেন।

সরজমিনে জানাগেছে, নোয়াখালীর ভিআইপি উপজেলা কোম্পানীগঞ্জে জাহাঙ্গীর আলম একজন নির্যাতিত নেতা হিসেবে কর্মীদের কাছে বেশ খ্যাতি পেয়েছেন। তিনি বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে বেশকিছু ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আসামী হয়েছিলেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে একদিকে তিনি নিজ বাড়ীতে থাকতে পারেননি, আরেকদিকে মামলার ভারে ক্রান্ত হয়ে আদালতের বারান্দায় ছুটতে হয়েছে মাসের পর মাস। বসুরহাট পৌরসভার পলাতক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার হেলমেট বাহিনীর সদস্যরা একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ওই সময়গুলোতে গুরুতর আহত হয়েও অন্যত্র চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। তবে হামলা-মামলার যতই ভয় থাকুক; কোম্পানীগঞ্জে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলোতে ঠিকই অংশ নিয়েছেন। একইভাবে যারা হামলা কিংবা মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের পাশেও ছিলেন তিনি।

তাদেরকে বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাজনীতির কারণে তাকে অনেক কিছু হারাতে হয়েছে। কিন্তু সাহস নিয়ে কর্মীদের কখনো ছেড়ে যাননি। বরং তাদেরকে নিয়েই কঠিন সময়গুলো অতিক্রম করেছেন। এসব কারণে জাহাঙ্গীর আলমকে এবার উপজেলার সাধারণ সম্পাদক করার জন্য জোরালো দাবী উঠেছে। এরআগে উপজেলা পর্যায়ে তিনি ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপি’র গুরুত্বপুর্ণ পদেও ছিলেন। ওই সময়গুলোতে তিনি সফলভাবে দায়িত্বও পালন করেছিলেন। বর্তমানে নিজ এলাকা চরকাঁকড়া ইউনিয়নের একটি হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটি’র সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এখন উপজেলা বিএনপি’র কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। ওই কমিটিতে উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক করার দাবিতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে লেখালেখি করছেন।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, বসুরহাট পৌরসভা এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমকেই সাধারণ সম্পাদক করার বিষয়ে একযোগে দাবি তুলছেন। দলের বৃহৎ একটি অংশ মনে করেন, জাহাঙ্গীর আলম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার অনেকগুলো যোগ্যতা রয়েছে। ওই হিসেবে তাকে দল মূল্যায়ন করলে দলের অবস্থান আগের যে কোন সময়ের তুলনায় চাঙ্গা হবে। তার পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলমকে অবশ্যই সাধারণ সম্পাদক করতে হবে। অন্যথায় দলের মধ্যে ভাঙ্গন ধরবে; কর্মীরাও চরম হতাশ হবে। আশাকরি কেন্দ্রীয় এবং জেলার নেতারা তাকে ওই পদেই স্থান দিবেন। বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম এই প্রতিনিধিকে বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলন- সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তবুও দলের পাশে ছিলাম; মাঠ ছেড়ে কোথাও যাইনি। সবকিছু মিলিয়ে আমার দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। আমি দায়িত্ব পেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মাঠে সর্বাত্বক কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি