আজ , ।   
Home Blog Page 399

একটি লোক নির্বাচন চায় না, তিনি হলেন ড. ইউনূস: মির্জা আব্বাস!

আলেকিত ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, খুব দুঃখের সঙ্গে এই কথা বলতে হচ্ছে এখন, আজকে ড. ইউনূস সাহেব জাপানে বসে বিএনপির বিরুদ্ধে বদনাম করছেন। লজ্জা লাগলো না বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে বদনাম করতে। তিনি বলেছেন—একটি দল শুধু নির্বাচন চায়। আর আমরা বলতে চাই, একটি লোক নির্বাচন চায় না, সেটা হচ্ছে ড. ইউনূস।

আজ (শুক্রবার) শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

 

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের কথা বিএনপির আগে ড. ইউনূসই বলেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটা তারই (ড. ইউনূস) প্রস্তাব। পরবর্তীতে  শিফট করে জুনে গেলেন ইউনূস। সুতরাং নির্বাচন করতে হলে ডিসেম্বরের মধ্যে করতে হবে। আর ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে দায়-দায়িত্ব সব ড. ইউনূসকে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। না হয় বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন আদায় করবে। নির্বাচন না হলে এ দেশের ভৌগলিক অবস্থান ঠিক থাকবে না।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

উপদেষ্টারা ক্ষমতার লোভে পরে গেছে: আমিনুল হক 

ইমরান হোসেন : বিশেষ প্রতিনিধি। 
প্রকাশ,২৯ মে রোজ বৃহস্পতিবার ২০২৫ ইং
অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা ক্ষমতার লোভে পরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হক।  তিনি বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার সংষ্কার বলছে মুখে মুখে কিন্তু বাস্তবে তারা সংষ্কার চান না, তারা স্বৈরাচারের বিচারের কথা বলছে মুখে মুখে কিন্তু বাস্তবে তারা বিচার করতে চান না। কারন অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টারা ক্ষমতার লোভে পরে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও ইসলামি ফাউন্ডেশনে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন এর আয়োজনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের স্হপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আমিনুল হক বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসে আমরা দেখেছি অন্তবর্তীকালীন সরকার সংষ্কার ও স্বৈরাচারের বিচারের অজুহাতে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদী করে রাখার পাঁয়তারা করছে। তারা সংষ্কারের কথা বললেও নূন্যতম কোনো সংষ্কার আমরা দেখছি না। স্বৈরাচারের বিচারের কথা বললেও উল্টো তারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বৈরাচারের দোসরদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। গণমাধ্যমে স্বৈরাচারের পক্ষে যারা বড় বড় কথা ও গলাবাজি করেছে, তারা এখনও পর্যন্ত বহাল তবিয়তে বসে আছে। তাদেরকে রেখে কিভাবে সংষ্কার করা সম্ভব। কারন তারা (অন্তবর্তীকালীন) নিজেরাই ক্ষমতার লোভে পরে গেছে।
অন্তবর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে অভিযোগ করে এসময় তিনি বলেন-
গত ১৭ বছরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার যে আচরণ করেছে। গত ৯ মাসের ভিতরে এই অন্তবর্তীকালীন সরকারের কিছু উপদেষ্টাদের মধ্যে আমরা সেই ধরনের আচরণ দেখেছি।
এসময় অন্তবর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে আমিনুল হক আরও বলেন, আপনারা ভূলে যাচ্ছেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যেভাবে পালিয়েছে; হয়তোবা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ১৭ বছর লাগছে। আপনাদের এতো বেশী সময় লাগবে না।
এসময় তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারকে ব্যর্থ করতে বহু দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী কাজ করে চলেছে। যেহেতু আমরা আপনাদেরকে সমর্থন দিয়েছি, আমরা দৃঢ় ভাবে বলতে চাই, বিএনপি সবসময় এই সরকারের সাথে রয়েছে বলে- কোনো ষড়যন্ত্র অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করতে পারবে না।
সংষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে অন্তবর্তী সরকারকে আমিনুল হক আরও বলেন, আপনারা সংষ্কারের কথা বলেন আমরাও বলি। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার রুপরেখা দিয়েছেন। সেখানে ৩১ দফার ভিতরে বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সংষ্কারের কথা বলা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখায় তারেক রহমান যেই বিষয়টি উল্লেখ যোগ্য করেছেন- যার জন্য আমরা গত ১৭ বছর আন্দোলন করেছি সংগ্রাম করেছি একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে। জনগণের সেই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
এসময় তিনি সকলকে ঐকবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনাদের ভিতরে ষড়যন্ত্রকারী ঢুকে গেছে। আপনাদেরকে বিভ্রান্ত ও বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। কোনো ধরনের বিভ্রান্ত ও বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কোনো ষড়যন্ত্রকারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিএনপিতে স্হান নেই। রাষ্ট্রীয় ভাবেও তাদের রাখা যাবে না।
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও শ্রমিকদল জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ বারী’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, শ্রমিকদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু, শ্রমিকদল ঢাকা মহানগর উত্তর এর সদস্য সচিব কামরুল জামান, শ্রমিকদল ঢাকা মহানগর উত্তর যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ফরিদ আহমেদ প্রমুখ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গণতন্ত্রের নিরবিচ্ছিন্ন যাত্রা আজও পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে : খালেদা জিয়া!

বিশেষ প্রতিনিধি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করেছেন। সেই গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা আজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতি পদে পদে।’

খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত দেখতে পাব।’ এজন্য নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনাস্থ আইইবি মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অবিচ্ছেদ্য নাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা করে তিনি এ দেশের সঙ্গে তার নাম অবিচ্ছেদ্য করেছিলেন। সেই চট্টগ্রামেই এক সফল, সৎ, দূরদর্শী ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এ দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্বনির্ভরতা ও উন্নয়ন এবং নিজস্ব জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির অনন্য রূপকার শহীদ জিয়া। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন— সেই গণতন্ত্রের নিরবিচ্ছিন্ন যাত্রা আজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতি পদে পদে।

তিনি আরো বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত দেখতে পাব। এই হোক শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার। এই লক্ষ্যে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলার জন্য আমি বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে জানাচ্ছি।’তিনি এ-ও বলেন, ‘মনে রাখবেন, সবার জন্য গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধানের যে রাজনীতি শহীদ জিয়া রেখে গেছেন তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

গাজীপুর সদরে তাওহিদী জনতার স্বারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ সমাবেশ

কামাল হোসেন, গাজীপুর সদর প্রতিনিধিঃ একদিন আগে ঈদ ও রোজা পালন করার প্রতিবাদে গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়ায় হক্কানী ওলামায়ে কেরাম ও ইমানদার তাওহিদি জনতার ব্যানারে স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের খতিব, ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এত অংশ গ্রহন করেন। প্রতিবাদ সমাবেশ বানিয়ারচালা মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোবারক হোসেনের সভাপত্বি করেন।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ডগরী এলাকার সিরাজম মুনিরা দারুল ইরফান দরবার শরীফে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের একদিন পূর্বে রোজা ও ঈদ উদযাপন করা হয়ে থাকে। এ কর্মকান্ড আঞ্জুমানে সিরাজাম মুনীরা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মুফতি মাওলানা এ.কে.এম মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে হয়ে থাকে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসলামের সুপ্রতিষ্ঠিত আকিদা ও শরয়ী বিধান এবং রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করছেন। যা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট, ধর্মীয় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রায়ের কপি হাতে পেলেই আমাদের সিদ্ধান্ত: ইশরাক ইস্যুতে সিইসি!

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন শপথ নিতে পারবেন কিনা নির্বাচন কমিশন (ইসি) সে সিদ্ধান্ত নেবে- আপিল বিভাগের এমন পর্যবেক্ষণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আপিল বিভাগের রায় হাতে পেলেই ইসি ব্যবস্থা নেবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের শপথ ঘোষণার বিষয়ে ইসি সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এ বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘অ্যাপিলেট ডিভিশনের রায় এখনো পাইনি। এটা পাওয়ার পরে কী রায় আসে, কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে তার আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের যা করণীয় তাই করব। মিডিয়ার হেডলাইন দেখে তো কোনো মন্তব্য করা যায় না।’

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যবেক্ষণ দেন।

আদালতে ইশরাকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন।

ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন গত ২২ মে হাইকোর্ট সরাসরি খারিজ করে দেন। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালত বলেন, রিটকারী আইনজীবী মামুনুর রশিদের এ ধরনের রিট করার এখতিয়ার নেই, এই যুক্তিতে আবেদনটি খারিজ করা হয়। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে গত সোমবার আপিল বিভাগে আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী মামুনুর রশিদ। যেখানে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পেয়ে গত ২২ এপ্রিল গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চায় সাংবিধানিক সংস্থাটি। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির নতুন মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন ইসি।

এদিকে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন সংস্থাটির কর্মচারীদের একটি অংশ। মূল ফটক আটকানোর পাশাপাশি সব বিভাগের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বগুড়ায় রাতভর সেনাবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১০

মাজেদুর রহমানঃ
বগুড়া শহরের অন্যতম মাদকের স্পট চকসূত্রাপুর হরিজন কলোনীতে মাদকবিরোধী ব্লক রেইড অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। রাত পৌনে ২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে নিয়ে শতাধিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা। অভিযানে একজন মহিলা মাদক ব্যবসায়ীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বগুড়া সদর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন জানে আলম সাদিফ ও লেফটেন্যান্ট আল ফাহাদ সানির তত্ত্বাবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক সেনাসদস্য রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কয়েকধাপে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দেখা যায় ওই এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকেই কমবেশি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে । সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে বড় ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ নিজ বাড়িতে তালা দিয়ে সটকে পড়লেও সেনাসদস্যরা তালা ভেঙ্গেই উদ্ধার করেন মাদকদ্রব্য।
প্রাথমিক গণনা অনুযায়ী অভিযানে ৩ হাজার বোতল বাংলা চোলাই মদ, দেড়শো গ্রাম হেরোইন, ১৫ কেজি গাঁজা, চাপাতি, চাকু, কুড়াল, ধারালো দা সহ ছোট বড় ৩০ টি দেশীয় অস্ত্র ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়৷অভিযানে এক নারী মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যসহ ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও আটককৃতদের বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন সেনাবাহিনীর আভিযানিক দল।
এলাকাভিত্তিক মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর এই অভিযান চলমান থাকবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

বৈরী আবহাওয়ায় খুন হওয়া নারীর লাশ নিয়ে বিপাকে পুলিশ

প্রতিনিধি,নোয়াখালী:
নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে আমেনা বেগম (৫০) নামে খুন হওয়া এক নারীর লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
২৯ মে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা এ কথা জানান। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার ২৮ মে রাতে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের শতফুল গ্রামের এমরান উদ্দিনের বাড়িতে আমেনা বেগম  (৫০) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় কে বা কাহারা। বৃষ্টি উপেক্ষা করে একই দিন দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নিঝুমদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনে রাখে।
ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা ছিল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীতে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বিতীয় দিনের মত হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে লাশ থানায় কফিন করে বরফ দিয়ে রাখা হচ্ছে। যাতে করে লাশ পচে না যায়।
নিহত আমেনা বেগম উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের শতফুল গ্রামের মো.এমরান উদ্দিনের স্ত্রী। তিনি ৪ মেয়ে এবং দুই ছেলের জনক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল মোমিন বাবলু জানান, আমেনা বেগমের স্বামী স্থানীয় নিঝুমদ্বীপ বাজারে শুঁটকির ব্যবসা করেন। তার ৪ মেয়ে,দুই ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলেরা জেলা শহর মাইজদীতে থেকে লেখাপড়া করছে। একা বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজন বসবাস করে আসছেন। বুধবার সন্ধ্যায় এমরান বাড়িতে এসে দেখেন স্ত্রী নামাজ পড়ছে।  এরপর তিনি বাজারে চলে যান। এরপর স্ত্রী ঘরে একাই ছিলেন।
বাবলু আরো জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে এমরান বাড়ি ফিরে দেখেন বসত ঘরের দরজা খোলা, ঘরে স্ত্রী নেই।  ঘরের মাঝের কক্ষে রক্ত পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি আমিসহ স্থানীয় কয়েকজনকে মুঠোফোনে জানান। এরপর তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে দেখতে পাই আমেনার রক্তাক্ত মরদেহ পুকুরে ভাসছে। ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কাহারা তাকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ বসত ঘরের পাশে পুকুরে ফেলে দেয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, নিহতের স্বজনেরা থানায় রয়েছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। নৌ-চলাচল চালু হলে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

টাঙ্গাইলে ইয়াবাসহ সাবেক যুবলীগ নেতার স্ত্রী ও ২ সহযোগী গ্রেপ্তার

সাইফুল ইসলাম সবুজ:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ইয়াবাসহ উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক জিএস সেলিম সিকদারের স্ত্রী রুবি আক্তার কণাকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁর দুই সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গতকাল ২৮ মে বুধবার রাতে উপজেলা সদরের কলেজ রোডের মনসুর টাওয়ারের ভাড়া বাসা থেকে ৭০পিস ইয়াবাসহ রুবিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার অন্য দুই সহযোগী হলেন, পৌর সদরের পুষ্টকামুরী খালপাড়ার স্বপন মিয়া (৪৮) এবং পাশের সখীপুর উপজেলার হাতিয়া রাজাবাড়ি গ্রামের সজীব দেওয়ান (৩১)।
মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘নারীসহ তিনজনের নামে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
আলোকিত প্রতিদিন/২৯মে ২০২৫/মওম

বিএনপি কেন ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাচ্ছে, দাবি আদায়ে কতটা সফল হবে দলটি!

বিশেষ প্রতিনিধি, দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এবার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছে আলটিমেটামের সুরে। ঢাকার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

নির্বাচন প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে এখন বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য দেওয়া হলো বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের জন্য কেন চাপ বাড়াতে চাইছে বিএনপি, কতটা চাপ তৈরি করতে পারবে তারা?

 

নির্বাচনের সময়ের ব্যাপারে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে এগোতে গিয়ে রাজনীতিতে বিএনপি একা হয়ে পড়বে কিনা, এই প্রশ্নেও আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

কারণ বিএনপির এই অবস্থানের সঙ্গে নেই বর্তমানে রাজনীতিতে প্রভাবশালী অন্য দলগুলো, অর্থাৎ জুলাই গণ-অভ্যত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামী।

নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতি এই দলগুলোর সমর্থন রয়েছে বলা যায়। তবে বিএনপিও অভিযোগ করছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপি এবং সেনাবাহিনীকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে  বলে তারা মনে করেন। যদিও সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বললে তারা এ ধরনের অভিযোগ মানতে রাজি নয়।

কিন্তু বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল এখন সামনে এসেছে, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব ডিসেম্বরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দেশের মানুষের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন।

দলটির নেতারা বলছেন, বাধ্য না হলে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে না। এমনকি সরকার ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে চায় না বলে তারা মনে করেন। সে কারণে সরকারকে বাধ্য করানোর চেষ্টা তাদের থাকবে।

বিএনপির বক্তব্য বা চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে সরকারের দিক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার জাপান সফরে গিয়ে দেশটির সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করার পুরানো অবস্থানই তুলে ধরেছেন তিনি।

রাজনীতিকদের অনেকে এবং বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপাতত উত্তেজনা থেমেছে। কিন্তু এই সরকারের অংশীজনদের মধ্যে বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব কমেনি; রয়ে গেছে অস্বস্তি।

কেন চাপ বাড়াতে চাইছে বিএনপি?

নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, এই ধারণা তৈরি হয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এবং দেশের রাজনীতিতে। কারণ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে অন্য কোনো দলকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে না বিএনপি। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে তৈরি হওয়া সুযোগ বা সম্ভাবনা দ্রুত কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার একটা বিষয় রয়েছে তাদের মধ্যে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে–এমন চিন্তা থেকে রাজধানী থেকে একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দলটির নেতা-কর্মীদের অনেকে আধিপত্য বিস্তার, দখল, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

এ ধরনের অপরাধে জড়িত নেতা-কর্মীদের অনেককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং এমনকি বহিষ্কার করাসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু থামানো যায়নি বিএনপির নেতা-কর্মীদের দখল, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ।

এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে বিএনপি সম্পর্কে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিয়েছে; অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। নেতা-কর্মীদের এ সব অপরাধের অভিযাগ নিয়ে চিন্তিত বিএনপির নেতৃত্ব। তারা মনে করছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে যত দেরি হবে, দলের নেতা-কর্মীদের সামলানো তত কঠিন হবে; দখল, চাঁদাবাজি ও অধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা বা এ ধরনের অপরাধ বাড়তে থাকবে।

এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন দেরিতে হলে কতটা সহায়ক পরিস্থিতি থাকবে, সেটা দলটিকে ভাবাচ্ছে। হয়তো তারাই ক্ষমতায় যাবে, কিন্তু সমালোচনা বাড়বে।

ষড়যন্ত্র তত্ত্বও কাজ করছে বিএনপির ভেতরে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এনসিপির প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের দুর্বলতা বা পক্ষপাতিত্ব আছে। এই দলটি সংস্কার ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার শেষ করার পর নির্বাচন চায়।

আর জামায়াত সুবিধাবাদী একটা অবস্থান নিচ্ছে। এই দুটি দলের সঙ্গে ইসলামপন্থি আরও কিছু দলকে এক অবস্থানে এনে সরকার বিএনপিকে প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা করছে। এমন ষড়যন্ত্রের অভিযোগও বিএনপি আনছে।

তবে জামায়াাত ও এনসিপি এমন অভিযোগ মানতে রাজি নয়। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিবিসিকে বলেন, আগামী বছর রোজার আগ বা পরে নির্বাচন চান তারা। তাদের এই অবস্থানকে ভিন্নভাবে দেখা ঠিক হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোট হলেই বিএনপির ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত, এই বাস্তবতা থাকার পরও বিএনপিকে ঠেকানো যায় কিনা- এ ধরনের ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা রয়েছে বলেও বিএনপি নেতারা বিশ্বাস করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ক্ষমতায় থাকার লোভ তৈরি হয়েছে, সেজন্য নির্বাচন প্রলম্বিত করার চেষ্টা রয়েছে, এমন ধারণা থেকে বিএনপি নেতারা এখন সরকারের সমালোচনা করছেন।

বুধবার ঢাকায় বিএনপির আয়াজনে তারুণ্যের সমাবেশে বিএনপি নেতা তারেক রহমানও বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মনে হয় এরই ভেতরে টালবাহানা শুরু হয়েছে বা চলছে। কথিত অল্প সংস্কার আর বেশি সংস্কারের অভিনব শর্তের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে আগামী জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যত।

তিনি এ-ও বলেন, জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে সংস্কার নিয়ে সময়ক্ষেপণের আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে কারও কারও মনে হয় ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকাররে দুর্বলতার বিষয়কেও বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাওয়ার পেছনে যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছে।

বিএনপি কি একা হয়ে পড়ছে

ভোটের সময় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে অন্য দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, তা এখন বাড়ছে। কারণ ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে হবে, এই অবস্থানে নেই জামায়াত, এনসিপি এবং ইসলামপন্থি বেশিরভাগ দল। অন্তর্বর্তী সরকারও ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে চায় না।

যদিও সব দলই নির্বাচন ও এর রোডম্যাপ চায়। কিন্তু নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে বিএনপি ছাড়া অন্য এসব দল ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন করার সরকারের অবস্থানের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে।

বামপন্থি কিছু দল বিএনপির সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়। তবে রাজনীতিতে এখন বামপন্থি দলগুলোর তেমন প্রভাব নেই।

এনসিপি, জামায়াত ও ইসলামপন্থি দলগুলাকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপিকে কোণঠাসা করা বা তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করনোর চেষ্টা রয়েছে বলে যে আলোচনা রাজনীতিতে চলছে, সেটি বিএনপিও বিবেচনায় নিচ্ছে।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা রাজনীতিতে একা হয়ে পড়লেও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য তারা সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারবে বিএনপি?

অন্তর্বর্তী সরকারের অংশীজনদের মধ্যে নিজেকে বড় শক্তি হিসেবে দেখে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, অংশীজনদের বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

তারা যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে সরকার চাপে পড়বে। কারণ সরকারের টিকে থাকার প্রশ্ন আসবে।

এ ধরনের চিন্তা থেকে গত কয়েকদিনে বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার একটা বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে যে, সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ না দিলে তাদের পক্ষে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। অর্থাৎ সহযোগিতা না করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। ফলে দলটি সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সহযোগিতা না করার ঘোষণাও দিতে পারে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, তারা সমাবেশ-গণজমায়েতের মতো গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চান।

দলটির ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকারর বাধ্য না হলে নির্বাচনের রোডম্যাপ দেবে না। ফলে সরকারকে বাধ্য করার চেষ্টাও থাকবে বিএনপির।

জুনের মধ্যে নির্বাচনের পুরোনো অবস্থানেই সরকার

ডিসেম্বরেই নির্বাচন হতে হবে বলে বিএনপির শীর্ষ নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারের একাধিক উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন করার পুরোনো অবস্থানই তুলে ধরেন।

তবে তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তায় এটা মনে হয়েছে যে, সরকার আগামী বছরের আগে অর্থাৎ ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে চায় না। এই ধারণা বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও রয়েছে।

কারণ প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের ভাবনা নিয়ে যে সংকট হয়েছিল, সে পটভূমিতে গত শনি ও রোববার অধ্যাপক ইউনূস বিএনপিসহ দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এসব বৈঠক সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও এ সরকার আগামী বছরের ৩০ জুনের পর একদিনও ক্ষমতায় থাকবেন না।

এ বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন সরকার করবে না, প্রেস সচিবের ওই বক্তব্যে সেটা পরিষ্কার বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বুধবার যখন বিএনপির সমাবেশ থেকে আলটিমেটামের সুরে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাওয়া হয়েছে, সেদিনই জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আবারও ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের পুরোনো অবস্থানই তুলে ধরেছেন।

লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যত্থানের মাধ্যমে গঠিত এ সরকার যদি কিছু সংস্কার করতে না পারে, তাহলে সরকারের মুখ রক্ষা হবে না। সেকারণে সরকার হয়তো প্রয়োজনীয় কিছু সংস্কারের জন্য সময় হাতে রেখে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলছে।

সংকটের সমাধান হয়েছে কি?

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের পদত্যাগের ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল গত ২২ শে মে।

এর আগের সপ্তাহে আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপি তাদের একজন নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণার দাবিতে রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে রাজধানী কার্যত অচল করে দিয়েছিল।

সে সময় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বৈঠকে বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়া উচিত।

এই দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে এনসিপির নাহিদ ইসলামকে ডেকে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা তার পদত্যাগের ভাবনা কথা জানানোর ক্ষেত্রে দলগুলোর অসহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেছিলেন। নাহিদ ইসলামের মাধ্যমে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

এরপর অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি সামলাতে অধ্যাপক ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। উপদেষ্টা পরিষদের অনির্ধারিত সভা করে এক বিবৃতিও দেওয়া হয়েছিল।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ওই সব পদক্ষেপে সরকার একটু শ্বাস নেওয়ার সময় পেয়েছে। আপতত উত্তেজনা কমেছে। কিন্তু পর্দার আড়ালে অস্বস্তি রয়েছে। কারণ সরকারের সঙ্গে বিএনপি এবং সেনাবাহিনীর দূরত্ব কমেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান মনে করেন, সরকার তাদের অংশীজনদের মধ্যে বড় দুই শক্তি বিএনপি ও সেনাবাহিনীকে ধমক দিয়েছে। ফলে উত্তেজনা ও অস্বস্তি রয়ে গেছে।

এমন বক্তব্যের পেছনে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বিবৃতিতে থাকা বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের ওপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সব কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বিবৃতিতে এটাও উল্লেখ করা হয় যে, বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এখতিয়ার–বহির্ভূত বক্তব্য এবং কর্মসূচি দিয়ে যেভাবে স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে তোলা হচ্ছে এবং জনমনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।

সরকারের এই দুই বক্তব্যে ধমক দেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি নেতারাও মনে করেন।

বিএনপির মিত্র গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সংকট এখন থমকে আছে। যা আরও প্রকটভাবে দেখা দিতে পারে।

সন্দেহ, অবিশ্বাস বেড়েছে

ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম এবং এই দুজনের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।

কিন্তু বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে রাখা হয়। এর মাধ্যমে বিএনপিকে কী বার্তা দেওয়া হলো, তা নিয়ে দলটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে এবং সরকারের প্রতি সন্দেহ, অবিশ্বাস বেড়েছে।

দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে বৈঠকে উপস্থিত রাখার রাজনৈতিক অর্থ রয়েছে। সরকার বিএনপির দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, এটি হতে পারে।

বিএনপি নেতারা ঘটনাটিকে সরকারের ঔদ্ধত্য বলে বর্ণনা করছেন। আসলে বিষয়টাকে সহজভাবে নিতে পারেনি দলটি। তারা মনে করেন, সরকার বিএনপি ও সেনাবাহিনীর ব্যাপারে নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে এগোচ্ছে। সেকারণে সাময়িক উত্তেজনা কমলেও দেশের মানুষকেও স্বস্তি দিতে পারছে না পরিস্থিতি।  যদিও এ ধরনের বক্তব্য মানতে রাজি নন সরকারের উপদেষ্টারা।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য মানবিক করিডরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকার হাত দিচ্ছে, যেগুলো বিতর্কের সৃষ্টি করছে। সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধন করায় সচিবালয়ে কর্মকর্তা কমচারীরা পর্যন্ত আন্দোলনে নেমেছেন। রাজনীতিকরা মনে করছেন, সব ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন একটা পরিস্থিতি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে। এর মধ্যে যেহেতু সরকারের বড় অংশীজনদের মধ্যে সরকারকে ঘিরে সন্দেহ, অবিশ্বাস রয়ে গেছে। ফলে অস্থিরতা বা উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়িয়ে নির্বাচন করতে হলে সরকার ও অংশীজনদের সব পক্ষের সমঝোতা প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইশরাককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি!

বিশেষ প্রতিনিধি, আজ (২৬ মে) সকাল ১০টার পর থেকে নগর ভবন প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন কর্মচারীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন—‘মেয়র ছাড়া নগর ভবন চলতে পারে না।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তার সমর্থকেরা।

আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে নগর ভবনের গেটে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ থেকে আন্দোলনরত ‘ঢাকাবাসী’র প্রধান সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান এই ঘোষণা দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে চলবে। প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু থাকবে। জরুরি নাগরিকসেবা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে একই দাবিতে আজ সকাল ১০টা থেকে নগর ভবনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা স্লোগান দিতে থাকেন—’মেয়র ছাড়া নগর ভবন চলতে পারে না।’

ইউনিয়নের সদস্য রহিম মিয়া বলেন, ‘ইতিমধ্যে আদালতের রায়ে ইশরাক হোসেন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তারপরও তাকে শপথ পড়াতে গড়িমসি করা হচ্ছে।’

সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিটে সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মচারী নগর ভবনে উপস্থিত থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

মুরাদ হোসেন নামে একজন কর্মচারী বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনে ঢাকাবাসীর কোন ধরনের ভোগান্তি হচ্ছে না। ভোগান্তি তখনই হতো যখন আমরা ময়লা পরিষ্কার বন্ধ করে দিতাম। আমরা নিয়মিত ময়লা নিষ্কাশন করছি।’

গত ২২ মে ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া গেজেটের বৈধতা নিয়ে এবং তাকে শপথ পড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট রিট খারিজ করার ফলে আগামী ২৬ মে-র মধ্যে ইশরাককে শপথ না পড়ালে আদালত অবমাননা হবে বলে উল্লেখ করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এর আগে, ইশরাককে মেয়রের শপথ পড়ানোর দাবিতে টানা নগর ভবনের পাশাপাশি মৎস্য ভবন মোড় ও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইশরাক সমর্থক ও বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন। তাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করা হয়। এরপর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া।

এর মধ্যে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ইশরাকের করা মামলায় রায় দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ে তাপসকে বিজয়ী ঘোষণার ফল বাতিল করে ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায়ের পর ২৭ এপ্রিল গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি