আজ , ।   
Home Blog Page 395

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আদর্শ স্থান: প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত ডেস্ক:

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানকে দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমাদের ডাইনামিক জনশক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ গন্তব্য হিসেবে উপনীত হয়েছে। তারপরও আমরা যুগ যুগ ধরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছি।

১ জুন রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে চীন-বাংলাদেশ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেশকিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হলেও সেগুলো খালি পড়ে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে গবাদি পশু চড়ানোর কাজ হতো। ব্যাপক আকারে দুর্নীতি, স্বৈরচারতন্ত্র বিনিয়োগকারীদের বিমুখ করেছে। লাখ লাখ তরুণের নেতৃত্বে হওয়া জুলাই গণঅভভ্যুত্থান সেই দিনগুলোর ইতি টেনেছে। তারা নতুন বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইতিহাসে আমরা এই সুযোগ পেয়েছি, সুতরাং অনুগ্রহ করে আপনারা এই ইতিহাসের অংশ হন। আমাদের সঙ্গে এই দেশের ইতিহাসের অংশ হন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি বেইজিং সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্টকে চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কারণ, আমরা এই দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং অর্থনীতির একটা হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। চীনের প্রেসিডেন্ট তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমি সম্মানিত বোধ করছি। আমি আশা করি নাই, এতো দ্রুত এতো বড় একটা প্রতিনিধিদল দেশে আসবে। চীনা কোম্পানিরা বিশ্বের প্রধান ম্যানুফেকচারিং প্রতিষ্ঠান এবং আমরা আপনাদের অংশীদার হতে চাই। আপনাদের বড় আকারে বিনিয়োগ আমাদের অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন করতে পারে। আমাদের লাখ লাখ তরুণের দক্ষতা কাজে লাগাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ একটি রূপান্তরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে আমাদের সরকার প্রথমেই সংস্কার কাজ শুরু করেছে। আমাদের নীতিগত সংস্কার বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্য সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, পাট নিয়ে আলাপ বাংলাদেশের জন্য অনেক আবেগি বিষয়। এই দেশ প্রাকৃতিক এই আঁশ বিপুল আকারে উৎপাদন করে। যখন আপনারা পাট এবং পাটজাত পণ্য নিয়ে কথা বলেন তখন এটি এই দেশের জন্য অনেক বড় বিষয়। আমরা পাটের মধ্যে একটা ভবিষ্যৎ দেখতে পারি কারণ পাট দিয়ে এতদিন শুধু বস্তা তৈরি করা হতো। বিশ্বের একটি প্রাকৃতিক আঁশকে আমরা সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা একসঙ্গে পাট নিয়ে একটি নতুন সূচনা করতে পারি এটিকে অর্থনীতিতে তার সঠিক জায়গায় স্থাপন করে। পাটের মতো আরও অনেক পণ্য আছে যেগুলো বাংলাদেশে উৎপন্ন হয়। জামদানির মতো আরও অনেক পণ্য আছে যেগুলো থেকে আরও অনেক ভিন্ন পণ্য তৈরি করা যায়। কিন্তু এটি শুধু শাড়ি বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য মসলিনকেও এভাবে ফিরিয়ে আনা যায়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের আকাশ ছুঁতে পারার মতো একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে। এই সক্ষমতা আমাদের আছে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১০ মাস আগে গঠন হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের কাজের ফল ইতোমধ্যে পাওয়া শুরু হয়েছে। এপ্রিলে আমরা একটি সফল বিজনেস সামিত আয়োজন করেছি। পাঁচ দিনের এই মিলনমেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানি এখানে এসেছিল। এখন আবার পুনরায় চীন থেকে একটি বড় ব্যবসায়ী দল এসেছে। বিনিয়োগ সম্মেলনে একটি চীনা টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান একাই ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভভ্যুথানের পরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পুনর্গঠন করেছে। এখানে আমরা প্রাইভেট সেক্টর থেকে মেধাবিদের নিয়ে এসেছি। নতুন এই সংস্থা আপনাদের বিনিয়োগের যাত্রায় সহযোগিতা করবে। আমি চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানাই বাংলাদেশকে নিজেদের ঘর হিসেবে তৈরি করুন।

আলোকিত প্রতিদিন/০১জুন ২০২৫/মওম

নোয়াখালীতে বিশ্ব  দুগ্ধ দিবস উদযাপন 

নোয়াখালী প্রতিনিধি: “দুধের অপার শক্তিতে মেতে ওঠি একসাথে “প্রতিপাদ্যের মধ্যে দিয়ে নোয়াখালীতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নোয়াখালী প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যেগে  র‍্যালি,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও সুবর্ণচর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: ফখরুল ইসলামের সঞ্চালনায়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ।এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: মরিয়ম সিমি,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ফয়েজ উদ্দিন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মুহাম্মদ ইসমাইল, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মনির হোসেন,  সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঁখি নুর জাহান নীলা প্রমুখ।এছাড়াও নোয়াখালী ডেইরী ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, জেলার কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: শ্রাবণী মজুমদার।
আলোচনায় অংশগ্রহন করে  প্রফেসর আবদুল মালেক বলেন, আমরা খামারীরা আমাদের দুধ তিন ঘন্টার বেশি রাখতে পারিনা, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল দুধ সারাদিন ধরে মানুষের ঘরে ঘরে বিক্রি করছে।আমরা ওই সকল সিন্ডিকেটের  বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে প্রকৃত খামারিদের রক্ষায় জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: মরিয়ম সিমি নিরাপদ ভেজালমুক্ত দুধ ও খামার গড়ে তোলার উপর জোর দেন।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দুধ একটি আদর্শ খাদ্য হিসেবে মানব শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।গোখামারীদের দুগ্ধ উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলার জন্য উদ্যেক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।পরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে চিত্রাঙ্কন, রচনা ক্যাটাগরিতে প্রথম ও দ্বিতীয়  স্হান অর্জনকারীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ছয় দিনের রিমান্ড শেষে মমতাজকে কারাগারে প্রেরণ!

আলোকিত ডেস্ক, দুই মামলায় ছয়দিনের রিমান্ড শেষে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে আজ।

আজ রবিবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আইভি আক্তার তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত একটি হত্যা মামলায় সিংগাইর থানা পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

সিংগাইর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হত্যা মামলায় মমতাজ বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৩ সালে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের ডাকা হরতাল চলাকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের গোবিন্দল এলাকায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন তখন।

 

অন্যদিকে, হরিরামপুর উপজেলার এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, ভাংচুর ও মারধরের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আরেকটি নাশকতার মামলা দায়ের করেন, যেখানে মমতাজ বেগম অন্যতম আসামি করা এই মামলায়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বৃষ্টি, বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত উত্তর-পূর্ব ভারত, নিহত অন্তত ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশ। আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরামের মতো রাজ্যগুলোতে গত দু’দিনে বৃষ্টি, বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১ জুন রবিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ভারী বর্ষণ, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার জেরে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনে এসব কারণে কমপক্ষে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু শনিবার ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মণিপুর এবং মিজোরাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আসামে ১২টি জেলায় অন্তত ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আসামের কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভূমিধসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে গোয়াহাটির উপকণ্ঠে বন্ডা এলাকায় ভূমিধসে ৩ নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া।

অরুণাচল প্রদেশে ভূমিধস এবং হঠাৎ বন্যায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ইস্ট কামেং জেলায়, যেখানে দুই পরিবারের সাত সদস্য একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রবল ভূমিধসের সময় তাদের গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং পানির তোড়ে ভেসে যায়।

এমন অবস্থায় আবহাওয়া দপ্তর আসামের কিছু অংশে রেড ও অরেঞ্জ এলার্ট এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে অরেঞ্জ ও ইয়েলো এলার্ট জারি করেছে। এখানে আরও ভূমিধস ও বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আসামের গৌহাটিতে ৬৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে গত শুক্রবার। সেদিন সেখানে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে শহরের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কিছু নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

এছাড়া শনিবার রাতে সিকিমেও মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগের কারণে উত্তর সিকিমে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিপজ্জনক ভাবে বেড়ে গেছে তিস্তার পানি। লাচুং এবং লাচেনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

সিকিমে দেড় হাজার পর্যটক আটকে পড়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০১জুন ২০২৫/মওম

রফিকুল আলম মজনুর চিকিৎসার খোজ খবর নিতে স্কয়ার হাসপাতালে: আমিনুল হক 

ইমরান হোসেন : বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ,১ লা জুন রোজ রবিবার ২০২৫ ইং
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক রফিকুল আলম মজনুকে দেখতে গিয়েছিলেন দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক সাবেক সাফজয়ী ফুটবলার আমিনুল হক।
আজ রবিবার (১লা জুন) দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মজনু’কে  দেখতে যান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম।  বিএনপি নেতা আমিনুল হক অসুস্থ রফিকুল আলম মজনু’র শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে নয়াপল্টনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশ চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রফিকুল আলম মজনু। পরে বুকের ব্যথা বাড়লে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সরকার কিছু দলকে পোষ্য দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে : রুমিন ফারহানা!

বিশেষ প্রতিনিধি, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, এ সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি কমন প্লাটফর্মে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার কিছু দলকে তাদের পোষ্য দল হিসেবে অলিখিতভাবে এক ধরনের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর অন্য দলগুলোকে বৈরী অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, বিশেষ করে যে দলটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এবং যারা লাগাতার ১৭ বছর নানা রকমের নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যেও শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনা করে এসেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে এসেছে এই দলটিকে এই সরকার মুখোমুখি দাঁড়া করানোর এক ধরনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা দেখলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমে বললেন, এই সরকার আমাদের সরকার, কোনোভাবেই এ সরকারকে আমরা ব্যর্থ হতে দেব না। কিন্তু সরকার যদি নিজেই নিজেকে ব্যর্থ করে আমরা কী করতে পারি? আমার মনে হয় সরকার যেন নিজেই নিজেকে ব্যর্থ করার দিকে যাচ্ছে।

প্রত্যাশা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্তিটা কম মন্তব্য করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আমাদের এবং দেশের মানুষের বিরাট প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু আমরা দেখছি অন্তর্বর্তী সরকারের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তিটা খুবই সামান্য। হাসিনার পতনের পর মানুষ আশা করেছিল আওয়ামী লীগের মূল আসামিরা বিচারের মুখোমুখি হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সরকার কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি, বরং তারা নিরাপদে দেশ ছেড়ে চলে গেছে।

করিডর প্রসঙ্গ টেনে সরকারের সমালোচনা করে রুমিন বলেন, যে সরকারের কাজ কেবল প্রতিদিনের নির্বাহী কাজগুলো সম্পাদন করা, তারা কীভাবে করিডর দেওয়ার মতো একটি ভীষণ রকমের রাজনৈতিক ও দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় তিনি বলেন, সরকার এই সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে রয়েছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা কোনো ব্যক্তি কোনোভাবেই এমপি-মন্ত্রী হতে পারবেন না। আপনাকে কেবল বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। অথচ এই সরকারের বেশিরভাগ উপদেষ্টার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। সুতরাং তাদের হাতে দেশ কতটা নিরাপদ; আমি সেই প্রশ্ন রাখতে চাই।

সরকার এখনো রোডম্যাপ দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সরকার ৯ মাসে কোনো নির্বাচনী রোডম্যাপ দেয়নি। এমনকি ডিসেম্বর থেকে জুন—এই অর্ধবছরের মতো বিশাল সময়ের মধ্যে নির্বাচন যে কোনো সময় হতে পারে, এটা বলে মানুষকে এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হয়েছে। সুতরাং এই সরকারের খুব দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে অন্তত আমি মনে করি না।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

পাকিস্তান কখনোই ভারতের ঔদ্ধত্য সহ্য করবে না: শাহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সামরিক এবং অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই পাকিস্তান এখন উড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, আমাদের শত্রুদের পরাজিত করেছি।

যদিও তাদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা অনেকের চোখেই ছিল কল্পনার বাইরে। এছাড়া পাকিস্তান কখনোই ভারতের ঔদ্ধত্য সহ্য করবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ৩১ মে শনিবার রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সামরিক এবং অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই পাকিস্তান এখন উড়ছে বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন। শনিবার কোয়েটার কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন সম্প্রতি কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলাসহ সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছিল।ভারতের অভিযোগ, কাশ্মিরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পেছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে, যদিও ভারত কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। মে মাসের শুরুতে ভারত পাকিস্তানে একাধিক বিমান হামলা চালায়, যাতে বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হন।

জবাবে পাকিস্তান ৫টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে নানা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে গত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় পাকিস্তান এবং ভারত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, “আমাদের শত্রু-যাদের বিরুদ্ধে জয় অনেকের চোখে ছিল কল্পনার বাইরে-তাদের আমরা পরাজিত করেছি। এটি আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় মুহূর্ত।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এখন “উড়ছে”, কারণ একদিকে সামরিক সাফল্য, অন্যদিকে সরকারে আসার পর অর্থনৈতিক উন্নয়ন—এই দুই মিলে দেশের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে শেহবাজ বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ভারত “বিস্মিত ও স্তম্ভিত” হয়েছে। তিনি বলেন, “অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস” শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের “সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের মিথ” ধ্বংস করেছে।

শেহবাজ বলেন, পাকিস্তানের প্রতি হুমকি এখন আর শুধু সামরিক নয়—“এগুলো এখন সাইবার আক্রমণ, অর্থনৈতিক চাপে ফেলা, ভুয়া প্রচার এবং হাইব্রিড যুদ্ধের মতো বহুস্তরীয়”।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পাকিস্তান শুধু উপযুক্ত জবাবই দেয়নি, বরং পাল্টা কৌশল দিয়ে ভারতকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।

শেহবাজ সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন্দ্র করে ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানকেও কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেন। ভারত এই পানি বণ্টন চুক্তিকে “স্থগিত” করার ঘোষণা দিয়েছে। শেহবাজ নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপকে “লাল রেখা” হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দেন, পাকিস্তান কখনোই ভারতের ঔদ্ধত্য সহ্য করবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/০১জুন ২০২৫/মওম

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ

আলোকিত প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

০১ জুন রবিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।  হাইকোর্টের আগের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন এবং প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/০১জুন ২০২৫/মওম

নাঈম আজিজের জুলাই বিপ্লবের কবিতা এখন ইতালির পাঠ্যবইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের একজন শিক্ষক ও কবির লেখা একটি ইংরেজি কবিতা এখন স্থান করে নিয়েছে ইউরোপের পাঠ্যক্রমে। “Rule Over Ashes” শিরোনামে এই কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ইতালির উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ্যবইয়ে, যা বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহস ও ন্যায়ের বার্তা বহন করে বিশ্বমঞ্চে।

কবিতাটির রচয়িতা মোঃ নাঈম আজিজ, যিনি পেশায় একজন শিক্ষক এবং প্রকৌশলী হলেও নিজের আরেক পরিচয়কে বেশি আপন মনে করেন—তিনি একজন কবি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী এই কবি বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল আবেগের প্রকাশ নয়, এটি একটি সময়ের দলিল, প্রতিবাদের ভাষা। সম্পাদক হিসেবে তাঁর দুটি যৌথ কাব্যগ্রন্থ- “বেলা শেষে” ও “বাংলার কবি ও কবিতা” ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মুখে দাঁড়িয়ে তরুণরা যেভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলে, সেই মুহূর্তেই জন্ম নেয় ‘জুলাই বিপ্লব’ নামের এক সামাজিক-রাজনৈতিক অভ্যুত্থান। সেই সময়, দেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা পৃথিবীকে জানাতে, মোঃ নাঈম আজিজ লেখেন একটি কবিতা- “Rule Over Ashes”।

> They sacrificed their lives,
Answering the call.
They accepted martyrdom.
To bring justice for all.

 

কবিতাটি লেখা হয়, জুলাই মাসের শেষভাগে এবং ২৪ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেই এটি প্রকাশিত হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন কবিতা প্ল্যাটফর্মে। এটি খুব দ্রুতই পাঠকের দৃষ্টি কাড়ে এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যমহলে আলোচিত হয়।

২০২৫ সালের মার্চে, ইতালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা Sanoma Italia কবির সঙ্গে যোগাযোগ করে কবিতাটি তাদের ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে সংযোজনের আগ্রহ প্রকাশ করে। পরবর্তীতে কবির সম্মতি নিয়ে Sanoma Italia এটি তাদের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখ্য, Sanoma Italia দেশটির প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে পাঠ্যবই, ডিজিটাল রিসোর্স, এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম সরবরাহে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে Paravia ও Bruno Mondadori। তারা চার মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেয় এবং শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গাইডেন্সেও কাজ করে।

এই কবিতার আরেকটি চরণ:

> Justice leads the way,
When darkness falls.
We’ll light the night,
With patience and hope-
We’ll set things right.

শুধু সাহিত্য নয়, এই কবিতায় রয়েছে একটি গভীর নৈতিক বার্তা। ইউরোপের শিক্ষার্থীরা এখন জানছে, একটি দেশের তরুণেরা কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, কীভাবে সাহসিকতা হয়ে ওঠে ইতিহাসের মুখপাত্র।

নাঈম আজিজ জানান, “যারা ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সময় সাহস দেখিয়েছেন, আমি তাদের কণ্ঠস্বর হয়েছি এই কবিতায়। আমি কখনও ভাবিনি আমার লেখা একটি কবিতা ইউরোপের পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। কিন্তু আজ যখন জানি, বাংলাদেশের ইতিহাস এখন ইউরোপের ছাত্রদের পাঠ্য, তখন মনে হয়- শব্দ কখনও ছোট নয়, কবিতা কখনও নীরব নয়।”

তিনি আরও বলেন, “কেউই চায় না পুরোনো কালো ইতিহাস ফিরে আসুক। কিন্তু বাংলাদেশের সাহসী তরুণেরা যা করেছে, তা ইউরোপের অনেক জায়গায় নেই। তাই তাদের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাও এই তরুণদের গল্পকে মূল্যায়ন করেছে।”

শেষে কবি একটি বিশ্বাস নিয়ে উচ্চারণ করেন:

> কবিতায় ইতিহাস লেখা যায়।
ছাত্রদের হাতেই আগামীর আলো।
আর যখন দেশ নিঃশব্দ হয়, তখন কবিরাই শব্দ করে।

তিনি আরো বলেন, “এই সাফল্য শুধু একজন কবির নয়, এটি বাংলাদেশের সাহসী তরুণদের জন্য এক আন্তর্জাতিক সম্মান।আমার সাহিত্যচর্চা সেই জায়গা থেকে, যেখানে শব্দ হয়ে ওঠে প্রতিবাদ, ছন্দ হয়ে ওঠে প্রতিরোধের ভাষা।”

চবিতে থেরাপিউটিক থিয়েটার বিষয়ক কর্মশালা উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) থেরাপিউটিক থিয়েটার বিষয়ক তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা শুরু হয়েছে। ‘Heal Through Performance: Theory & Practice in Therapeutic Theater’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করেছে চবি নাট্যকলা বিভাগ।

শনিবার (৩১ মে) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়স্থ নাট্যকলা বিভাগের জিয়া হায়দার থিয়েটার স্টুডিওতে কর্মশালাটি শুরু হয়।

এই কর্মশালা উদ্বোধন করেন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থা উৎস (UTSA) এর নির্বাহী পরিচালক নাট্য শিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা। নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরাফাতুল আলম এর সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এম. এ. শেষ বর্ষের ছাত্র ইয়াকিন হায়দার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কর্মশালার “পরিচালক বাংলাদেশ থেরাপিউটিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BTTI) ” এর অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষক মনোবিশ্লেষক নাট্যবিজ্ঞানী ওবায়দুল ইসলাম মুন্না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে থেরাপিউটিক থিয়েটার এর বিদ্যায়তনীক পাঠের পালকে এই কর্মশালাকে একটি বিশেষ সংযোজন হিসাবে আমি বিবেচনা করি। BTTI এই ধরনের নাট্যশিক্ষা পদক্ষেপ এ আরো সংযুক্ত হতে আগ্রহী, নাট্যকলা বিভাগ এই সুযোগ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য যে, নাট্যকলা বিভাগের পাঠ্যক্রমের অংশ হিসাবে প্রতিবছর অনুরূপ কর্মশালা আয়োজন করা হয়ে থাকে। কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে ২ জুন’ ২৫ বিকেল ৩ টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদ বিতরণ করবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার এবং সমাপনী পর্বে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (সহযোগী অধ্যাপক) ফাহমিদা সুলতানা তানজী।

এম. এ. পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. কুন্তল বড়ুয়া এবং বি. এ. (৪র্থ বর্ষ) পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক অসীম দাশ সংশিষ্ট সকলকে কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।