আজ , ।   
Home Blog Page 362

মুরাদনগরে দুই সন্তানসহ মাদক ব্যবসায়ী “রুবি” গণপিটুনিতে নিহত

নাজমুল হাসান:

কুমিল্লা মুরাদনগর বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় গণপিটুনিতে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মুরাদনগর ২নং আকুবপুর ইউনিয়নে কড়ইবাড়ি গ্রামের চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী রুবি আক্তার (৪৮) ও তার ছেলেমেয়েকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, কড়ইবাড়ি গ্রামের জুয়েল মিয়ার স্ত্রী রোকসানা আক্তার রুবি(৪৮),  তার পুত্র রাসেল মিয়া (২৮), মেয়ে জোনাকি আক্তার (২২)। রুবি  ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। আজ সকাল ৯ টার দিকে এলাকাবাসী ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাদেরকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়।  স্থানীয়দের অভিযোগ, রুবি পরিবার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী সহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মুরাদনগর এর আশপাশের থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

কড়ইবাড়ি গ্রামের সাঈদ বলেন,“রুবি এবং পরিবার  মানুষকে মাদক ব্যবসায়ের পাশাপাশি জিম্মি করে টাকা আদায় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলো। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল পুরো গ্রাম।” ।”
ঘটনার পরপরই কুমিল্লার পুলিশ সুপার নজির আহম্মেদ খান ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এছাড়াও গণপিটুনিতে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি।  পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুলাই ২০২৫/মওম 

বাংলাদেশকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ১৯ হাজার কিট দিল চীন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ১৯ হাজার কিট দিয়েছে চীন সরকার। এই কিট দিয়ে চিকুনগুনিয়াও শনাক্ত করা যাবে। ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্ত‌রে (ডিজিএইচএস) এক অনুষ্ঠা‌নে ঢাকার চীনা দূতাবাস এই উপকরণ হস্তান্তর করে।

স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের কাছে ১৯ হাজার কিট তুলে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন। এই সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, চীনের কাছে গবেষণা সহায়তা চাওয়া হয়েছে। কারণ, তারা গবেষণায় অনেক ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের কাছে কিট ছাড়াও কারিগরি ডিভাইস চাওয়া হয়েছে। চীনের কারিগরি ডিভাইসগুলো আসল রোগ শনাক্ত করতে পারে।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউইন বলেন, বাংলাদেশ চীনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতে চীন সহায়তা অবাহত রাখবে। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে গেছে। আগামীতে চীন বাংলাদেশকে আরো বেশি গুরুত্ব দেবে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের রোগী কুনমিং শহরে  চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। চীন বাংলাদেশে একটি হাসপাতাল করতে চায়। এটির কাজও এগিয়ে চলছে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুলাই ২০২৫/মওম 

মার্কিন হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে ২ বছর: পেন্টাগন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সম্প্রতি ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার ফলে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি অন্তত ১ থেকে ২ বছর পিছিয়ে গেছে। এমনটাই বলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এর আগেই দাবি করেছিলেন, এই হামলায় ইরানের পরমাণু সক্ষমতা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” হয়ে গেছে। ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বুধবার পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, “আমরা অন্তত এক থেকে দুই বছর তাদের কর্মসূচি থামিয়ে দিতে পেরেছি— গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এটাই দেখা যাচ্ছে”। তিনি ইরানে হওয়া ওই মার্কিন হামলাকে “সাহসী এবং কার্যকর অভিযান” বলেও অভিহিত করেন।

গত ২১ জুন যুক্তরাষ্ট্র যখন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ইরানে হামলা করতে পাঠায়, তখন থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম “কেউ কখনও যেমন ধ্বংস হতে দেখেনি, তেমনভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে”। তবে বেশ কিছু মার্কিন গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া এক প্রাথমিক গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মূল অবকাঠামো নষ্ট না হওয়ায় ইরানের কর্মসূচি কেবল কয়েক মাসের জন্য বিলম্বিত হয়েছে।

তেহরান এখন পর্যন্ত সরাসরি জানায়নি কতটা ক্ষতি হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অবশ্য বলেছেন, “হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ট্রাম্প অতিরঞ্জিত করেছেন”। তবে কিছু ইরানি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় পরমাণু স্থাপনায় “গুরুতর ক্ষতি” হয়েছে।

এদিকে হামলার প্রকৃত পরিণতি এখনো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারণ, ইরানের গোপন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর ক্ষতি উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা যায় না। বিশেষ করে ফোর্দো নামে পরিচিত বৃহত্তম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।

হামলার আগে ফোর্দো এলাকা থেকে ট্রাক বেরিয়ে যাওয়ার ছবি পাওয়া গেছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু ইউরেনিয়াম মজুদ হয়তো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, হামলার পরে তারা রেডিওধর্মী বিকিরণের তীব্রতা বাড়তে দেখেনি। তবে সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, “ইউরেনিয়াম ভর্তি কন্টেইনার হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হয়তো স্থানান্তর করা হয়েছে— এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই ফের সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।”

আল জাজিরা বলছে, হামলার আগে আইএইএ ইরানের ওই তিনটি স্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি করত। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানি পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে তথ্য পাচার করেছে— যদিও আইএইএ তা অস্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো “বিপজ্জনক স্থাপনায়” হামলা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুলাই ২০২৫/মওম 

জাপানে দুই সপ্তাহে ৯০০টির বেশি ভূমিকম্প, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের নির্জন এবং কম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ টোকারা দ্বীপপুঞ্জে টানা দুই সপ্তাহে ৯০০টিরও বেশি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

এমনকি আতঙ্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে রাতে তারা ঘুমাতেও পারছেন না।  ৩ জুলাই বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

জাপানের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, গত ২১ জুন থেকে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের সমুদ্রে ভূমিকম্পজনিত তৎপরতা অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রিখটার স্কেলে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

এসব কম্পনে এখনও পর্যন্ত কোনও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং সুনামিরও আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে, প্রশাসন স্থানীয়দের প্রস্তুত থাকতে বলেছে যাতে প্রয়োজনে যেন দ্রুত স্থানত্যাগ বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া যায়।

একজন বাসিন্দা স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল এমবিসি-কে বলেন, “ঘুমাতে গেলেই ভয় লাগে, মনে হয় সবসময় কাঁপছে”। চিজুকো আরিকাওয়া নামে অন্য আরেকজন বলেন, “ভূমিকম্পের আগে সমুদ্র থেকে এক অদ্ভুত গর্জনের শব্দ শোনা যায়, বিশেষ করে রাতে। পুরোটা ভৌতিক মনে হয়।”

এই ব্যক্তি আরও বলেন, “সবাই ক্লান্ত, আমরা চাই এগুলো বন্ধ হোক”। ৬০ বছর বয়সী ইসামু সাকামোতো আকুসেকিজিমায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, “নিচ থেকে প্রথমে একটা ধাক্কা লাগে, তারপর পুরো ঘর দুলে ওঠে। অসুস্থ বোধ করি তখন।”

বিবিসি বলছে, টোকারা দ্বীপপুঞ্জে মোট ১২টি দ্বীপ রয়েছে, এর মধ্যে সাতটিতে মানুষের বসবাস। মোট জনসংখ্যা মাত্র ৭০০ জনের মতো। অনেক দ্বীপে হাসপাতাল নেই, সবচেয়ে কাছে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ যেখানে আছে, সেখানে যেতে হলে ছয় ঘণ্টা ফেরিতে চড়ে কাগোশিমা শহরে যেতে হয়।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে টোকারা দ্বীপপুঞ্জের অনেক গেস্টহাউস নতুন করে পর্যটক নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ সেগুলো এখন জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করেছে যেন বাসিন্দাদের অতিরিক্ত ফোন দিয়ে বা সাক্ষাৎকার নিয়ে বিরক্ত না করা হয়।ধারাবাহিক এই ভূমিকম্পের মধ্যেই দেশজুড়ে গুজব ছড়িয়েছে, একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আসছে। এই গুজব আরও বাড়িয়েছে ১৯৯৯ সালের একটি জাপানি কমিক বই, যেখানে লেখক রিও তাতসুকি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই বছরের ৫ জুলাই ভয়াবহ ভূমিকম্প আসবে।

এই ভবিষ্যদ্বাণীকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে, অনেক পর্যটক তাদের ভ্রমণ বাতিল করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

বিবিসি বলছে, জাপানে বছরে গড়ে প্রায় ১৫০০ ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকে সবাই “দ্য বিগ ওয়ান” নামে পরিচিত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা করে আসছে।

সরকার আশঙ্কা করছে, এই ধরনের একটি ভূমিকম্পে ৩ লক্ষাধিক মানুষ মারা যেতে পারে। এই আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহেই সরকার নতুন বাধ নির্মাণ, আশ্রয় কেন্দ্র গঠনসহ আরও প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, “আরও অনেক কিছুই করা বাকি।”

আলোকিত প্রতিদিন/০৩ জুলাই ২০২৫/মওম 

স্ত্রীর কিডনিতে প্রাণ ফিরে পেয়ে ‘পরকীয়ায়’ জড়ালেন স্বামী!

আলোকিত ডেস্ক, ভালোবাসলে মানুষ অন্ধ হয়— যুগ যুগ ধরে সমাজে এ কথা প্রচলিত। ভালোবাসার মানুষের জন্য আত্মত্যাগের অসংখ্য গল্পও ছড়িয়ে আছে। ৩৫ বছর বয়সী নারী উম্মে সাহেদীনা টুনির গল্প যেন এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। যিনি নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন, সেই স্বামী সুস্থ হয়ে জড়িয়ে পড়লেন পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ায়। শুধু তা-ই নয়, স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বসবাস করছেন।

অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাভারের কলমা এলাকায়। অকৃতজ্ঞ স্বামী তারেকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছেন টুনি। তারেক গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন তিনি।

 

বিয়ের মাত্র দুই বছরের মাথায় টুনি জানতে পারেন— তার স্বামী মোহাম্মদ তারেকের দুটি কিডনি প্রায় অচল। তাকে বাঁচাতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অথচ এর মাত্র এক বছর আগে সন্তানের মা হয়েছেন টুনি, সংসার জীবনেরও সবে দুই বছর পার হয়েছে। এমন সময়ে এই দুঃসংবাদ তার জীবনের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয় তখন।

তবে, ভালোবাসার বাঁধন বড়ই শক্ত। টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে ধরেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পরিকল্পনামাফিক ভারতেই শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা। কয়েক বছর পর চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তখন স্ত্রী টুনিই এগিয়ে আসেন। নিজের কিডনি দিয়ে তিনি স্বামীকে প্রাণে বাঁচান। টুনি ভেবেছিলেন, এবার হয়তো তার কষ্টের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে। কিন্তু বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করেছে তারেকের কর্মকাণ্ড। সুস্থ হয়েই তারেক জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। ডিভোর্সি এক নারীর প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়েন। পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার নেশাও পেয়ে বসে তাকে।

যেই স্ত্রীর কারণে তিনি নতুন জীবন ফিরে পেলেন, একসময় তাকেই মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মারধর করে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে গিয়ে ওঠেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পারিবারিকভাবে কলেজেপড়ুয়া তরুণী উম্মে সাহেদীনা টুনির সঙ্গে মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবক তারেকের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তারেক ও টুনির সংসার আলো করে আসে একটি পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় আজমাইন দিব্য। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। তবে, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারেক। চিকিৎসকেরা জানান, তার দুটি কিডনিই প্রায় অচল। রোগীকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ডায়ালাইসিস শুরু করাতে হবে।

তবে, স্বামীর ডায়ালাইসিসে রাজি ছিলেন না টুনি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বামীকে ভারতে নিয়ে যাবেন। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। তামিলনাড়ুর বিখ্যাত সিএমসি হাসপাতালে শুরু হয় তারেকের চিকিৎসা।

চিকিৎসকেরা জানান, তারেকের দুই কিডনি মিলিয়ে ২৪ পারসেন্ট সচল রয়েছে। এক্ষেত্রে মেডিসিনের মাধ্যমে আরও ১০ বছর তিনি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু এরপর কিডনি প্রতিস্থাপন করতেই হবে।

এ অবস্থার মধ্যেও সদ্য সন্তানের মা হওয়া টুনি স্বামীর হাত শক্ত করে চেপে ধরেন। অভয় দেন, এই লড়াইয়ে কখনো হাত ছেড়ে দেবেন না। যেই কথা সেই কাজ। ঢাকায় ফিরে নিজ বাড়িতেই খোলেন হোম বিউটি পার্লার, পাশাপাশি বুটিকসের কাজ শুরু করেন। মাস শেষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। আর পুরো টাকাটা ব্যয় করতেন তারেকের চিকিৎসায়। এভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে যায়। নিজের জমানো টাকা, বিয়ের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে যান তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শমতে, টুনিকে বছরে তিনবার অসুস্থ তারেককে নিয়ে ভারতে যেতে হতো। প্রতিবার প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হতো। যা পুরোটাই আসত নিজের আয় ও স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকা থেকে।

অপরদিকে, অসুস্থ তারেক কোনো কাজকর্ম করতে পারতেন না। সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়ায় একটা সময় পরিবারও তার ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। কেবল স্ত্রী টুনি ও একমাত্র সন্তানই তার পাশে ছিল। একপর্যায়ে খরচ সামলাতে না পেরে নিজের মায়ের পেনশনের টাকাও স্বামীর চিকিৎসায় ব্যয় করেন টুনি। ২০০৮ থেকে ২০১৮— ১০ বছর ভারতেই চলল তারেকের চিকিৎসা। ২০১৯-এর শুরুতে চিকিৎসকরা জানালেন, এবার তারেককে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। নয়তো ডায়ালাইসিস করেই বাকিটা জীবন বাঁচতে হবে।

অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর কাছ থেকে কিডনি পেয়েই নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন তারেক। এরপর বের হয়ে আসতে থাকে তার ভয়ংকর রূপ। শুরু করেন টুনির ওপর নির্যাতন।

সুস্থ হয়ে অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন তারেক

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে টুনি বলেন, তারেককে কিডনি দেওয়ার পর আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে চলে যায়। সাতদিন আইসিইউতে রাখা হয়। আইসিইউ থেকে কেবিনে নিয়ে আসার পরই যেন অন্য এক তারেককে আবিষ্কার করলাম। যেই মানুষটার জন্য আমার সবকিছু ত্যাগ করেছি, নিজের জীবন দিয়ে হলেও তাকে বাঁচাতে চেয়েছি; সেই কিনা কিডনি পেয়ে সুস্থ হয়েই হাসপাতালে আমার সঙ্গে চিৎকার করতে শুরু করল, মারতে উদ্যত হলো। আমার এক খালা কেন অপারেশনের আগে টাকা পাঠাতে দেরি করেছিল— এমনটা বলে চিল্লাচিল্লি করল।

সেদিন তারেকের এমন কর্মকাণ্ড দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকরাও অবাক হন। টুনির কথায়, “এরপর আমাদের দুজনকে সেই চিকিৎসক তার চেম্বারে ডেকে নেন, যিনি অপারেশনটা করেছিলেন। সেখানে তারেককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যদি তোমার মা হয় তোমার জন্মদাতা, এই নারী তোমার জীবনদাতা। এর কারণে তুমি পুনরায় জীবন পেয়েছ, সুস্থতা ফিরে পেয়েছ। তার সঙ্গে কীভাবে এমন দুর্ব্যবহার করতে পারলে।’ এরপর চুপ হয়ে যান তারেক। পরে আমরা দেশে ফিরে আসি।”

ঢাকায় ফেরার পরই টুনির জীবনে নেমে আসে নরক। টুনির ভাষ্য অনুযায়ী— সুস্থ হয়ে তারেক নতুন কোনো চাকরি কিংবা ব্যবসা শুরু তো দূরের কথা উল্টো স্ত্রীকে চাপ দেন উপার্জনের সব টাকা তার হাতে তুলে দিতে এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও টাকা নিয়ে আসতে। একপর্যায়ে অনলাইন জুয়া ও পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে তারেক। যেই স্ত্রীর জন্য নিজের জীবন ফিরে পেলেন, তার গায়ে হাত তুলতে শুরু করেন।

টুনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কাজের অজুহাতে ঢাকায় গিয়ে সময় কাটাত তারেক। একসময় জানতে পারি, তাহমিনা নামের একজন ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় লিপ্ত সে। তারেকের মোবাইল ঘেঁটে এসবের প্রমাণও পাই। বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, সে নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে আমাকে পুরো বাড়ি তার নামে লিখে দিয়ে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দেয়।’

স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২ ফেব্রুয়ারি সাভার থানায় গিয়ে তারেকের নামে অভিযোগ দায়ের করেন টুনি। কিন্তু এরপরই আবারও নিজের খোলস পাল্টে ফেলেন ধূর্ত তারেক। টুনিকে বুঝিয়ে একদিন পরেই (৪ ফেব্রুয়ারি) থানায় মুচলেকা দিয়ে সেই অভিযোগ তুলে ফেলেন তিনি।

বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার পর এবার নির্যাতনের পরিমাণ আরও বেড়ে যায় তারেকের। একপর্যায়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে ওঠেন টুনি। এরপর ২২ এপ্রিল তারেকের বিরুদ্ধে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন তারেক। এক মাস কারাগারে থাকার পর গত ৪ জুন জামিনে মুক্ত হন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়েই পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তারেক। সেখান থেকেই স্ত্রীকে চাপ দেন ডিভোর্স দিয়ে বাড়িটা তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য।

‘আমি জানি, সুস্থভাবে হয়তো বেশিদিন আর বাঁচতে পারব না। তবুও যেই মানুষটার কষ্ট কখনো নিজের চোখে দেখতে পারতাম না, যার জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছি, সেই কিনা আমাকে এভাবে ঠকাল! আমার পেটে অপারেশনের জায়গাতে লাথি মারল…! আমি চাই না, আমার মতো পরিণতি আর কোনো মেয়ের হোক। আর কোনো মেয়ে যেন ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে নিজের জীবনকে এমন অন্ধকারে না ঠেলে দেয়।’

টুনির মা বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমাদের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল ছিল। তারেকের চিকিৎসায় প্রতি বছর গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা খরচ হতো। সেই টাকা টুনি কখনো আমাদের থেকেও নিয়ে যেত। আমার পেনশনের পুরো অর্থ তারেকের চিকিৎসায় খরচ করেছি। একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে টুনিদের থাকার জন্য বিল্ডিং তুলে দিয়েছিলাম। সেই বাড়ির অর্ধেক মেয়ের নামে আর বাকি অর্ধেক তারেকের নামে। অথচ আজ সেই বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য আমার মেয়েকে নির্যাতন করছে, পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে থাকছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তারেকের প্রতারণার কঠিন শাস্তি চাই। যেন আমার মেয়ের মতো কোনো মেয়ের জীবন এভাবে ধ্বংস না হয়।’

শুধু নারী নির্যাতন নয়, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনেও মামলার পরামর্শ

মামলা প্রসঙ্গে টুনির আইনজীবী নেহার ফারুক বলেন, ‘দিনের পর দিন আমার বাদীকে নির্যাতন করে গেছেন তারেক। একটা মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ হলে, যার দয়ায় আজ তিনি বেঁচে আছেন, তার সঙ্গেই এমন করতে পারেন? আমরা এখনো মামলার চার্জশিট হাতে পাইনি। চার্জশিট হাতে পেলেই তারেকের জামিন বাতিলের আবেদন করব। আমার বিশ্বাস, এই ঘটনায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন আদালত।’

ইশরাত হাসান বলেন, ‘কেবল নারী নির্যাতন নয়, টুনির উচিত মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনেও তারেকের বিরুদ্ধে মামলা করা। কারণ, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি স্ত্রীর কিডনি নিয়েছেন, পরে তার ওপর নির্যাতন শুরু করেছেন। এমনকি বিয়ের এত বছরেও স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাননি, সেই ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারেন। এসব ঘটনায় একজন আসামির দ্বারা বাদীর ক্ষতি সাধনেরও শঙ্কা থাকে। সেক্ষেত্রে টুনির উচিত হবে আদালতের কাছ থেকে সুরক্ষা আদেশ নেওয়া। যেন তিনি নিজ বাড়িতে সুরক্ষিত থাকতে পারেন।’

‘আমি মনে করি তারেক স্ত্রীর সঙ্গে যে অন্যায় করেছেন, তার এমন শাস্তি হওয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণার কথা দুঃস্বপ্নেও না ভাবতে পারেন।’

এদিকে, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তারেকের খোঁজ নেই। তিনি নিজের নম্বরও পরিবর্তন করে ফেলেছেন। ফলে তার সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তার আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকেও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, তারেকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তারা।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার আ. লীগের সাবেক এমপি নাঈমুর রহমান দুর্জয়!

বিশেষ প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার, ২ জুলাই রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন সাংবাদিকদের জানান, দুর্জয়ের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের রয়েছে এবং এসব মামলার তদন্ত চলমান আছে।

এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর আদালত দুর্জয় এবং তার স্ত্রী ফারহানা রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ-বাণিজ্যে জড়িত ছিলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি।

চলমান দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে রাজধানীর লালমাটিয়ায় দুর্জয়ের নামে থাকা ২,৫২৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, একাধিক জমি এবং তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, নাঈমুর রহমান দুর্জয় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়কের পরিচিতি পাওয়া দুর্জয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ঋতুপর্ণার জোড়া গোলে মিয়ানমারকে হারিয়ে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমার চোখ রাঙিয়েছিল বাংলাদেশকে। ৭ বছর আগে ইয়াঙ্গুনে অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে বাংলাদেশের জালে গুনেগুনে ৫ গোল দিয়েছিল মিয়ানমারের মেয়েরা। অতীত রেকর্ডে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে দলটি।

সেই মিয়ানমারকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। আজ বুধবার ইয়াঙ্গুনে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ঋতুপর্ণা চাকমারা ২-১ গোলে হারিয়েছে শক্তিশালী মিয়ানমারকে।

এই জয়ে গ্রুপ শীর্ষে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তুর্কমেনিস্তান এবং মিয়ানমারের প্রতিপক্ষ বাহরাইন। পরের ম্যাচ জিতলেই ইতিহাস রচনা হবে বাংলাদেশ নারী ফুটবলে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ খেলবে নারী ফুটবলে এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা এএফসি এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে।

‘সি’ গ্রুপ থেকে কারা আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছিল বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের ম্যাচের ফলাফলের ওপর। দুই দলই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিতেছে বড় ব্যবধানে। শক্তি, মাঠ, দর্শক মিলিয়ে এই ম্যাচে ফেবারিট ছিল মিয়ানমারই।

তবে সবকিছু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েরা। আগের দুইবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ৫ ম্যাচ খেলে সবগুলো হারা বাংলাদেশ এবার টানা দুই ম্যাচ জিতে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেলো সবার চেয়ে।

বাংলাদেশের দুটি গোলই করেছেন পাহাড়িকন্যা ঋতুপর্ণা চাকমা। ১৮ মিনিটে তার গোলে লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। ৭১ মিনিটে তার গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আফঈদারা।

এএফসি এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ উজ্জ্বল করতে মিয়ানমারের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই, এমন পরিসংখ্যান মাথায় রেখে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে খেলেছেনআফঈদা খন্দকাররা। ম্যাচের ১৮ মিনিটে বাংলাদেশ গোল করে এগিয়ে যায়।

তহুরা খাতুন বল নিয়ে ঢুকতে গেলে তাকে ফেলে দেন মিয়ানমারের ডিফেন্ডার। বক্সের কোনায় ফ্রিকিক পায় বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া ফ্রি কিক মানব দেয়ালে ফিরলে আবার বল পান তিনি। ঋতুপর্ণা বা পায়ের নিঁখুত শটে পোস্টের কোনা দিয়ে বল জালে পাঠান।

২৫ মিনিটে বাম দিক দিয়ে ঋতুপর্ণার ক্রসে দারুণ সুযোগ এসেছিল ব্যবধান বাড়ানোর। তবে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলের কাছাকাছি থাকলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

৭১ মিনিটে বাম দিকে ঢুকে ঋতুপর্ণা বাঁ পায়ে কোনাকুনি শটে যে গোল করেছেন, তা দর্শকদের চোখে লেগে থাকবে দীর্ঘদিন। বাংলাদেশ ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। তবে ৮৯ মিনিটে মিয়ানমারের উইন উইন গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জুলাই ২০২৫/মওম 

মিথ্যা তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান: জাতিসংঘকে প্রধান উপদেষ্টা

২ জুলাই বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর বাংলাদেশের প্রধান এবং প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ইউনেস্কোর ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড সেফটি অব জার্নালিস্টস সেকশনের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মেহদি বেনচেলাহ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

ইউনেস্কো এবং ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত অ্যান অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশ’স মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপ: ফোকাসিং অন ফ্রি, ইনডিপেনডেন্ট অ্যান্ড প্লুরালিস্টিক মিডিয়া— শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশের প্রাক্কালে তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রতিবেদনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা এই রিপোর্টটির জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছি। আমাদের প্রধান সমস্যা হলো বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া সংবাদ… এদের একটি বড় অংশ প্রবাসী ব্যক্তিদের দ্বারা ছড়ানো হয়; আবার কিছু স্থানীয় মানুষও এর সঙ্গে জড়িত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নয়, অনেক সময় প্রচলিত গণমাধ্যমও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা শুধু সরকারের সঙ্গে কথা বলবেন না, গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলবেন। স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কোনো গণমাধ্যম যদি বারবার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, তবে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন যে, তারা আর বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইউনেস্কো প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানান, বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনটিতে আত্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এই প্রতিবেদনটি দেখাবে কী কাজ করছে, কী কাজ করছে না এবং এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুপারিশ থাকবে। কর্মকর্তা, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হবে যাতে তারা এই মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

ইউনেস্কোর সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা মেহেদী বেনচেলাহ বলেন, প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ, যা এখন একটি বৈশ্বিক উদ্বেগের বিষয় এবং নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও সুপারিশ থাকবে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এই বিষয়ে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে।

আলোকিত প্রতিদিন/০২ জুলাই ২০২৫/মওম 

নবীনগরে ১৮ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার 

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার সলিমগঞ্জ  পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল (১/৭/২৫) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীঘর বাজারের নজরুল ইসলামের দোকানের সন্মুখ থেকে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ও গ্রেফতার করা হয়। নবীনগর থানা সূত্রে জানা যায়- সলিমগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ শ্রীঘর বাজারের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন কালে সন্দেহ জনক একটি সিএনজিকে থামিয়ে তল্লাশি করে। এ সময় সিএনজিতে থাকা মো. আক্কাছ মিয়া (৩২) এবং মো. ছিদ্দিকুর রহমান (২১) এর নিকট থেকে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া মো. আক্কাছ মিয়ার বাড়ি কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাঙ্গরা বাজার এলাকায়। তার পিতার নাম- মৃত শহিদ মিয়া এবং মো. ছিদ্দিকুর রহমান, পিতা- আতিকুর রহমান, তার বাড়ি নবীনগর উপজেলার বড়াইল গ্রামে। অভিযানে গাঁজা আটকের পাশাপাশি মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত সিএনজি ও জব্দ করা হয়। নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (অসি) শাহিনুর ইসলাম জানায়- এ ঘটনায় নবীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০২ জুলাই ২০২৫/মওম 

গাইবান্ধা থেকে শুরু হলো এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা 

রানা ইস্কান্দার রহমান:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষের কথা শুনতে জুলাইজুড়ে দেশের সব জেলায় মাসব্যাপী ‌‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অংশ হিসাবে প্রথম গাইবান্ধা জেলায় এ কর্মসূচী পালন করেছে এনসিপি।
গত ১ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধা পৌর পার্কের শহীদ মিনার চত্বরে এক সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আবু সাঈদ লিয়ন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জুলাই আন্দোলন হয়নি। একদলের পরিবর্তে আরেক দলের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার জন্য রাজপথে ছাত্র-জনতা রক্ত ঢেলে দেয়নি। জুলাই আন্দোলন ভয় ভেঙে দিয়ে আমাদের নির্ভয়ে কথা বলতে শিখিয়েছে। বৈষম্যের অবসান করতে সবাই আওয়াজ তুলুন। কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে নতুন দেশ হয়েছে, কিন্তু দেশ গঠন হয়নি। গাইবান্ধা থেকে সেই দেশ গঠনে যাত্রা শুরু হলো। আমরা নতুন দেশ গঠনের জন্য রাজপথে নেমেছি। নতুন দেশে মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নির্ভয়ে মতপ্রকাশ এবং অধিকারের কথা বলবে।
এসময় স্থানীয়দের পক্ষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গাইবান্ধায় ইপিজেড এবং শিল্প কারখানা স্থাপনের দাবি জানিয়ে সমাবেশে কেন্দ্রীয় সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস বলেন, গাইবান্ধা জেলা জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবী জানান।
এর আগে,১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে এনসিপি নেতারা রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরে এক পথসভায় অংশ নেন তারা। গাইবান্ধায় সমাবেশ শেষে তারা সড়ক পথে পলাশবাড়ীতে এসে পৌর শহরে গণসংযোগ করে রংপুরে অভিমুখি রওনা হয়।
আলোকিত প্রতিদিন/০২ জুলাই ২০২৫/মওম