আজ , ।   
Home Blog Page 337

হাসিনার গুলি চালানোর নি#র্দেশ নিয়ে আল জাজিরা*র ‘বিস্ফোরক’ প্রতিবেদন

আলোকিত ডেস্ক, গত বছর সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রকাশ্য নির্দেশ’ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। তার এমন গোপন ফোনালাপের একাধিক কল রেকর্ডিং পেয়েছে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য গুলি করার নির্দেশ ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, টানা ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যান। হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ও সরকারের দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।

তিনি বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে আমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে এখন থেকে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে। এটা নির্দেশ দিয়েছি। এ পর্যন্ত আমি তাদের থামিয়ে রেখেছিলাম.. আমি শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলাম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আত্মীয় শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ওই ফোনালাপে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘যেখানেই জমায়েত দেখা যাবে, ওপর থেকে, এখন তো ওপর থেকেই হচ্ছে—কয়েক জায়গায় শুরু হয়ে গেছে। কিছু বিক্ষোভকারী সরে গেছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর আকাশ থেকে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করলেও রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ আল জাজিরার আই ইউনিটকে বলেন, হেলিকপ্টার থেকে আমাদের হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারী আহত শিক্ষার্থীদের শরীরে গুলির অস্বাভাবিক ক্ষত দেখা গেছে। শাবির শরীফ বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলি বিক্ষোভকারীদের কাঁধে অথবা বুকে ঢুকে যায় এবং সেগুলো শরীরেই থেকে গেছে। সেই সময় আমরা এই ধরনের অনেক রোগী পেয়েছিলাম। এক্স-রে করে আমরা হতবাক হয়েছি যে, শিক্ষার্থীদের শরীরে অনেক গুলি ছিল।

তবে শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হতে পারেনি আল জাজিরা।

আন্দোলনের সময় এসব ফোনালাপ রেকর্ড করেছে শেখ হাসিনার নজরদারি সংস্থা এনটিএমসি। এই সংস্থাটি এর আগেও কেবল বিরোধী নেতাদের নয়, বরং হাসিনার রাজনৈতিক মিত্রদের ওপরও নজরদারি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা জানতেন তার কথোপকথন রেকর্ড হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময় অপর পক্ষ বলত, এই বিষয়ে ফোনে না বলাই ভালো। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলতেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি জানি, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনও সমস্যা নেই।’’

প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গভীর গর্ত খুঁড়েছিলেন। এখন সেই গর্তে তিনি নিজেই পড়ে গেছেন।’’

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। হাইকোর্ট পুরোনো কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এই কোটা ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক এবং যোগ্যতার চেয়ে পারিবারিক পরিচয়ই চাকরির ভিত্তি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন।

১৬ জুলাই দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রংপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। জুলাই অভ্যুত্থানে তার মৃত্যুই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আল জাজিরার হাতে আসা আরেকটি গোপন ফোনালাপে শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে রংপুরে নিহত আবু সাঈদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে চাপ দিতে শোনা যায়। ফোনে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেতে এত দেরি কেন হচ্ছে? কে লুকোচুরি খেলছে? রংপুর মেডিকেল?’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজিবুল ইসলাম আল জাজিরাকে বলেন, পুলিশ তাকে পাঁচবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করে, যাতে একাধিক গুলির ক্ষত থাকার তথ্য না থাকে।

আবু সাঈদের মৃত্যুর ১২ দিন পর তার পরিবারকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির করা হয়। প্রায় ৪০টি পরিবার সেখানে উপস্থিত ছিল। আর এসব পরিবারের কেউ না কেউ বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের গণভবনে আসতে বাধ্য করেছিলেন হাসিনা। আমাদের আসতে বাধ্য করা হয়েছে। না এলে অন্যভাবে নির্যাতন করত।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা প্রত্যেক পরিবারের হাতে অর্থ তুলে দেন। আবু সাঈদের বোন সুমি খাতুনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দেব। শেখ হাসিনার এমন আশ্বাসের জবাবে সুমি বলেন, ‘‘ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ গুলি করেছে। এখানে তদন্তের কী আছে? আমাদের এখানে আসাটাই ভুল হয়েছে।’’

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, শেখ হাসিনা কখনও ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের কথা বলেননি এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশও দেননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিমান দুর্ঘটনা আহতদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সিঙ্গাপুরের দ্বিতীয় মেডিক্যাল টিম ঢাকায় 

আলোকিত প্রতিবেদক:

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় বিমান বিধ্বস্তে আহতদের উন্নত চিকিৎসা দিতে সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম  ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছে।

রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে টিমটি। সিঙ্গাপুর থেকে আগত এই দ্বিতীয় মেডিক্যাল টিমে রয়েছেন চৌ উইং কিট চেস্টার (জৌ ইয়ংজি), ওয়েই গুইরু, তান কুই ইউয়েন, ওয়াং জোলিন এবং আইরিন ওয়াং মেই জিন।

বিশেষজ্ঞ এই দলটি ঢাকার জাতীয় বার্ন এবং প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। তারা প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত সহায়তা প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য এবং পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন।

আগে, দুর্ঘটনার পরপরই প্রথম দফায় সিঙ্গাপুর থেকে একটি মেডিক্যাল টিম বাংলাদেশে আসে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

মাইলস্টোন ট্রাজেডি, আইমান নামে আরও এক শিক্ষার্থীর মৃ*ত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ আইমান (১০) নামে আরও এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে আজ।

আজ শুক্রবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিফেন্সিভ ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জাতীয় বার্নের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শিশুটির শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল তার।

এ নিয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ১৪ জন ও ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে একজনের মৃত্যু হলো।

গত সোমবার উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আছড়ে পড়ে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান। বিধ্বস্তের পরই আগুন ধরে যাওয়ায় দগ্ধ হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের প্রাণ গেছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু ছিল।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে জানানো হয়, আজ শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজ শুক্রবার সকাল ১০টার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মারা গেছে ৩২ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে আরো ৫১ জন।

যদিও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল। এরপর সেদিন রাতে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান সখোনে। যে কারণে তখন গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ৩২ উল্লেখ করা হয়েছিল।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ছেলেকে আনতে গিয়ে নি*খোঁজ সেই মায়ের লা*শ মিলল ডিএনএ পরীক্ষায়!

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ছেলেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া মা আফসানা প্রিয়ার (৩০) লাশ পাওয়া গেছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর বৃহস্পতিবার বিকালে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আফসান ওহী (৯) অক্ষত অবস্থায় ফিরে এলেও আফসানা প্রিয়া ওই দিন থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিহত আফসানা প্রিয়া গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদীআশুলাই এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল ওহাব মৃধার স্ত্রী ছিলেন তিনি।

নিহত আফসানার স্বজনরা বলেন, আফসান ওহী উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার মা আফসানা প্রিয়া প্রতিদিনের মতো ছেলেকে নিয়ে গত সোমবার সকালে স্কুলে যান। শ্রেণিকক্ষে দিয়ে তিনি অভিভাবকদের কক্ষে অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় সেখানে।

বিধ্বস্ত বিমানের আগুনে মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে আগুন লেগে যায়। তখন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বাঁচাতে ছোটাছুটি করেন। একপর্যায়ে আফসান ওহীকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তার মাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

আফসানার চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাতিজি আফসানার ওপরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এ জন্য লাশটি কার, তা বোঝা যায়নি তখন।

গত মঙ্গলবার আফসানার বাবা আব্বাস উদ্দিন ও মা মিনু বেগমকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষা করে লাশ শনাক্ত করা হয়। লাশ শনাক্তের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে তারা লাশ আনতে যান হসপিটালে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বাংলা একাডেমির “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতা” সংকলন নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘বাংলা একাডেমি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হলেও জনগণের টাকায় চলে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতা’ নামে যে সংকলনটি প্রকাশ পেয়েছে তাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কবি-লেখকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।’ তীব্র সমালোচনার মুখে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতা’ সংকলন। বাংলা একাডেমি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতা’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করেছে। সংকলনটির সূচিপত্র বুধবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর লেখক ও পাঠক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবিষয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সংক্ষুব্ধ লেখক সমাজ আজকে বাংলা একাডেমির সামনে মানব বন্ধন করেছে। প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ আজম এবং হাসান রোবায়েত ও রওশন আরা মুক্তার সম্পাদনায় প্রকাশিত সংকলনটিতে স্বৈরাচারের দোসরদের যুক্ত করা হয়েছে বলে সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন। সূচিতে থাকা গুটিকয়েক লেখক বাদে অধিকাংশই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত অথবা সমর্থক বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে উঠেপড়ে লেগেছিল। লেখক ও পাঠক মহল থেকে আরো অভিযোগ করছে, বাংলা একাডেমির মতো একটি প্রতিষ্ঠান থেকে যে মানের সংকলন প্রকাশ করেছে তাতে উপেক্ষা করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের মূলধারার কবিদের। একাডেমির মহাপরিচালক এবং সংকলনের সম্পাদকরা এই দায় এড়াতে পারেন না। এ ব্যাপারে জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘বাংলা একাডেমি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এটি জনগণের টাকায় চলে। সম্প্রতি বাংলা একাডেমি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতা’ নামে যে সংকলনটি প্রকাশ পেয়েছে তাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কবি-লেখকদের বঞ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দেখতে পেয়েছি, এ সংকলনটিতে স্বৈরাচারের দোসরদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সংকলনটি বাতিল করে নতুন করে আরেকটি সংকলন করা দরকার আর তার দায়িত্ব এমন একজনকে দেয়া দরকার যিনি কবিতার খোঁজখবর রাখেন ও জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারণ করেন।’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ না করা এই সংকলনের প্রকাশের দায়ভার বাংলা একাডেমিকে নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সভাপতি কবি শাহীন রেজা বাংলা একাডেমি মহাপরিচালকের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি পয়সা নষ্ট করে জুলাই আন্দোলন এবং দেশের কবি সমাজকে নিয়ে এমন রসিকতার জবাব কিন্তু আপনাকেই দিতে হবে। প্রস্তুত হন।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই সংকলনটির প্রথম কবিতাটি একজন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসরের। যিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ২৭ জুলাই বাংলা একাডেমি ঘেরাও করা হবে এবং জুলাই চেতনার নামে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।’ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সংকলনটির সম্পাদকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের ব্যানারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কবিতার নামে ফ্যাসিস্ট লালন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে আগামী রোববার (২৭ জুলাই) লাল জুলাইয়ের কবিতা পাঠ ও বাংলা একাডেমি ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের লেখক-কবিরা বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংকলনটি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে কবি ও সাংবাদিক শান্তা মারিয়াকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন – বাংলা একাডেমি একটি অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে বাংলা একাডেমি আবারও প্রমাণ করলো এটি বরাহ নন্দনের মতো অকাল প্রসবী একটি প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমি জুলাই বিপ্লব নিয়ে লেখা একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছে। সেখানে কবি তালিকার দিকে যদি তাকান তাহলে দেখতে পাবেন যারা জুলাই বিপ্লব চলমান অবস্থায় সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন এবং কবিতা লিখেছিলেন তাদের অধিকাংশ কবির কবিতাই এখানে নেই। এখানে কবি আবদুল হাই শিকদার, ড. মাহবুব হাসান, আবিদ আজম, আবু জুবায়ের, শাকিল রিয়াজ, সাজ্জাদ বিপ্লব, শাহীন রেজা, শাহিন রিজভি, মনসুর আজিজ, আবদুল বাতেন, রাজু আলাউদ্দিন, ফাতিমা তামান্না, সৈয়দ রনো, জামিল জাহাঙ্গীর, মুহিবুর রহিমসহ অনেক প্রতিষ্ঠিত ও বিখ্যাত কবিরই নাম নেই। অথচ তারা জুলাই বিপ্লবে কবিতার মাধ্যমে এবং রাজপথেও সাহসী প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন। আমি পুরো তালিকাটি দেখলাম। কয়েকজন বিখ্যাত কবি (যেমন জাহাঙ্গীর ফিরোজ, জাকির আবু জাফর) ছাড়া আর কোন কবি পদবাচ্য ব্যক্তির নাম খুঁজে পাইনি। আবার এমন কোন কোন কবির নাম দেখলাম যারা জুলাই বিপ্লবের বিরোধিতা করেছিল এবং এখনও পতিত স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করছে। এরূপ অশ্বডিম্ব প্রকাশ করার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে আলোকিত প্রতিদিন এর সম্পাদক – সৈয়দ রনো বলেন – বাংলা একাডেমির জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংকলন নিয়ে আমার কয়েকটি জিজ্ঞাসা রয়েছে কর্তৃপক্ষের নিকট ১) কেন সংকলনে হাসান রোবায়েত ও রওশন আরা মুক্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেন, তাঁরা কি বাংলা একাডেমির কোন কর্মকর্তা? ২) তাঁরা কি বাংলা সাহিত্যের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুলধারার কবিদের প্রতিনিধিত্ব করেন? ৩) কেন হাসান রোবায়াত তাঁর স্ত্রীর সহ নিজের কবিতা বিভিন্ন বিশেষ ক্রোড়পত্রে প্রকাশ করে থাকেন? লজ্জা শরম কি নেই? ৪) সে কতো বড় কবি তাঁর কবিতা ৭ম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে কেন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে?৫) কেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংকলনে জুলাই – আগষ্ট ৩৬ দিনের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কোন কবিতা লিখেননি তাদের লেখা এখানে ছাপানো হলো?৬) কেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্বপক্ষের লেখক, কবি, কম করে হলেও ২০০ জনের মান সম্পুর্ন লেখা ছাপানো হলো না ?৭) কেন বাংলা একাডেমিতে এখনো ফ্যাসিববাদের দোসরদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে? এমতাবস্থায় করনীয় সম্পর্কে তিনি বলেন – এই সংকলন বাতিল করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের কবি, সাহিত্যকদের লেখা নিয়ে পুনরায় সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের মুলধারার কবিদের নিয়ে একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা যেতে পারে। যেমন ১) কবি আল মুজাহিদী ২) ছড়াকার আবু সালেহ ৩) কবি আবদুল হাই শিকদার ৪) কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন ৫) কবি শাহীন রেজা ৬) কবি ড. মাহবুব হাসান ৭) কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ ৮) কবি জাকির আবু জাফর ৯) কবি শান্তা মারিয়া প্রমুখ। যাঁরা কবিতা বুঝেন এবং প্রকৃত কবিদের চিনেন। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন – ফ্যাসিস্টদের যাঁরা পুনর্বাসন করতে চায়, তাঁদের বিচার করতে হবে। আজকে যাঁরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আসুন সবাই মিলে ( জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের কলম সৈ*নিক) আগামী ২৭ জুলাই ২০২৫, রবিবার, সকাল ১১ টায় বাংলা একাডেমি ঘে*রাও করি। দোষীদের পদত্যাগের দা*বীতে সত্য উচ্চারণ করি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের কবিতা পাঠ করি। সকলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সবিনয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মনোনয়ন না দিলে খালেদা-তারেক-ফখরুলকে ঘেরাও করার ঘোষণা বিএনপি নেতার!

আলোকিত ডেস্ক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফর রহমান খোকা। গতকাল বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সোনালি সংসদ মাঠে বিএনপির সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি ।

ইতিমধ্যে এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নিজ পছন্দের নেতার জন্য দলের প্রধানদের ঘেরাও করে রাখার ঘোষণায় সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে।

লুৎফর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘শাহ আলমের (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী) জন্য আমরা নমিনেশন আনব। প্রয়োজনে আমরা আত্মাহুতি দেব কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে। তারেক রহমান, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বিএনপির মহাসচিবকে ঘেরাও করব। বিএনপির সর্বোচ্চ মহলকে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, ফতুল্লাকে নিয়ে যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে কাউকে ছাড়া হবে না।’

তাঁর এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয় বিভিন্ন স্থানে। অনেকেই মন্তব্য করেন এই বার্তা দিয়ে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে না মানার প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। সেই সঙ্গে পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন নেতা-কর্মীরা সেই বার্তাও পরিষ্কার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘এইটা কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য হয়নি। এই ধরনের বক্তব্য অনভিপ্রেত। কী আর বলব, একে পাগলের প্রলাপ বলা হয়। নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে, তাঁরা যেন সংযত ও সতর্ক হয়ে কথাবার্তা বলেন। দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যা নিয়ে দলের ভেতর বিতর্ক তৈরি হয়।’

নিজের মন্তব্যটি সঠিক হয়নি স্বীকার করে লুৎফর রহমান খোকা বলেন, ‘মন্তব্যটি স্লিপ অব টাং বলতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রায় ৮০ ভাগ ভোটার বিএনপির। এখানে যদি জোটের অন্য কাউকে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা ভোটারদের জন্য কষ্টদায়ক। বিষয়টি কেন্দ্রকে বোঝাতে গিয়ে একটু বেশি বলে ফেলেছি। এটা আমার ঠিক হয়নি। দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য আমার আছে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন আমার থাকবে। যেটা বলে ফেলেছি, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আশা করছি আমাদের নেতা-কর্মীরা এবং দলের কেন্দ্র বিষয়টি সহজভাবে দেখবেন।’

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর কাছে পরাজিত হন শাহ আলম। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসন ছেড়ে দেওয়া হয় জোটের অংশীদার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাশেমীর কাছে। তিনিও পাস করতে পারেননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

টাঙ্গাইল এলজিইডির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত!

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৪ জুলাই) টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের আঙিনায় প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে টাঙ্গাইল এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন, সহকারী প্রকৌশলী ইফতেখার আহমেদ, সহকারী প্রকৌশলী সাকিব-উল-হাফিজ, সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার অনিমেষ চন্দ্র রায়, সহকারী প্রকৌশলী আজিম সর্দার, ইসমাইল হোসেন, আশিকুর রহমান প্রত্যয়, ইউসুফ মিয়া, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল শাকের, মো. বাবুল হোসেন, সুজন চন্দ্র বর্মন, শামীম হোসেন, হিসাব রক্ষক মো. আব্দুল জব্বার, উচ্চমান সহকারী মো. জাহিদ লতিফ, মেকানিক্যাল ফোরম্যান মো. বিপ্লব হোসেন সহ নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন টাঙ্গাইল এলজিইডি ভবনের আঙিনায় নানা প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

‘জিয়া নন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘো*ষক’ বিতর্কিত রায় দেন খায়রুল!

বিশেষ প্রতিনিধি, ২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করেন। এই খণ্ডটি দেশবিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন খায়রুল হক।

 

 

রায়ে বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। দেশের সব মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধ্যতামূলকভাবে সন্নিবেশ করার জন্যও সরকারকে নির্দেশ দেন এই বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি হিসাবে তার দেওয়া অনেক বিতর্কিত রায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মিলে একটি আগাম জামিনের আপিলের রায়ের মাধ্যমে এখতিয়ার কেড়ে নেন হাইকোর্ট বিভাগের।

খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুলখালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।

 

 

তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিচারাঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির আচরণের চেয়েও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার কয়েকটি রায়, যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক বা এর সমর্থনসূচক ছিল। এসব রায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন।

অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন; যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। নিজেরই দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশ থেকে বিতর্কিতভাবে সরে এসে রায় দেন, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি করে।

 

 

এসব ছাড়াও খায়রুল হক নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি। ওই রায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশকে যেমন খুশি করেছিল, অন্য অংশকে তেমনই ক্ষুব্ধ করেছিল। রাজনৈতিক বিষয়ে ওই রায়ের সঙ্গে তার প্রতি সরকারের বিশেষ সুদৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ তিনি উসকে দেন অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করে। মূলত দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর একাধিক মামলা দায়েরের পর গা ঢাকা দেন। ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইউনিয়ন পর্যায়ে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন

এম জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও গ্রামীণ স্থানীয় সরকার কাঠামোতে ইউনিয়ন পরিষদ সর্বনিম্ন স্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। তৃণমূল পর্যায়ের হলেও গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নিরলস প্রচেষ্টায় লিপ্ত। স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এটি একটি স্বীকৃত মাধ্যম। এই মাধ্যমকে ‘আদর্শ কর’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে সরকার। শুধুমাত্র আনোয়ারা নয়, সারা দেশে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের উদ্দ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম পর্যায়ে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রক্রিয়া শুরু করবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ এসেছে ইউনিয়ন পর্যায়ে ঘর-বাড়িসহ প্রতিটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান থেকে আদর্শ কর আদায় করা। ইউএনও বলেন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করছে সরকার।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

এইচএসসির স্থগিত দুই পরীক্ষা ১৭ ও ১৯ আগস্ট

আলোকিত ডেস্ক:

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২২ ও ২৪ জুলাই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ দুই দিনের পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। শিক্ষকরাও এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের ক্ষোভের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।

দ্রুত পরিবর্তিত সময়সূচি প্রকাশ করেছে। এ সূচি অনুযায়ী- ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে হচ্ছে না। পৃথক দুই দিনে স্থগিত দুই দিনের পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।

২২ জুলাইয়ের পরীক্ষা ১৭ আগস্ট এবং ২৪ জুলাইয়ের পরীক্ষা ১৯ আগস্ট নেওয়া হবে। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত ১০ জুলাই কুমিল্লা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো ১২ আগস্ট নেওয়া হবে। অন্যদিকে গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে ঘটনায় গত ১৭ জুলাই শুধু গোপালগঞ্জ জেলায় স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেওয়া হবে ১৪ আগস্ট।

এদিকে, লিখিত পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় ব্যবহারিক পরীক্ষাও পেছানো হয়েছে। প্রকাশিত সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী- ২১ আগস্ট থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে, যা চলবে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পরিবর্তিত সময়সূচি প্রকাশের পর ঢাকা মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘শিক্ষা উপদেষ্টা কোথায়, কার সিদ্ধান্তে দুইদিনের পরীক্ষা একদিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা আমরা জানতাম না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর দ্রুত আমাদের স্থগিত পরীক্ষার সূচি ঠিক করে প্রকাশের কথা বলা হয়।’

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জুলাই ২০২৫/মওম