আজ , ।   
Home Blog Page 336

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে ইচ্ছুক ব্রা‌জিল

আলোকিত প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গালিপোলো।

ব্রাজিলে নবনিযুক্ত বাংলা‌দেশের রাষ্ট্রদূত মো. তৌহিদুল ইসলামের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট এ আগ্রহের কথা জানান। ২৬ জুলাই শনিবার ব্রাজিলের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তিতে এ তথ্য জানায়।বিজ্ঞ‌প্তিতে বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বর্তমান বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ চার বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের ওপর যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে চলেছে, এ কারণে এমন প্রেক্ষাপটে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সমঝোতার প্রয়োজনীতা রাষ্ট্রদূত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

তিনি উভয় দেশের পারস্পারিক আরোপিত ট্যারিফ কমিয়ে আনা, এলসি খোলার সমস্যা সমাধানসহ দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সম্ভাব্য একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা প্রণয়নে একটি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।

প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল শিগ‌গিরই ব্রাজিলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি বাণিজ্য চুক্তির সমঝোতা স্মারকের খসড়া পাঠাবেন বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধারণাপত্রে সন্নিবিষ্ট তথ্যের পাশাপাশি দেওয়া অন্যান্য বিষয়াবলী অর্ন্তভুক্ত থাকবে।

দূতাবাস বল‌ছে, এটি বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য সংকোচনের প্রেক্ষাপটে এলডিসি পরবর্তী বাংলাদেশের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ব্রাজিলের এগিয়ে আসা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অনন্য সুযোগ এবং সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

সব  ঠিকঠাক থাকলে এ বছরের শেষের দিকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিল-বাংলাদেশ বাৎসরিক দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৬ জুলাই ২০২৫/মওম 

সরকারি অধিগ্রহণের জায়গা দখল করে বালুর ব্যবসা

মোঃ আনোয়ার হোসেন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর ইউনিয়নের ভিটি বিশাড়া গ্রামে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জায়গা বালু দৃবারা ভরাট করে বালু ব্যবসা চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। এর  বিরুদ্ধে গত (২৩/০৭/২৫) এলাকার প্রায় অর্ধশত মানুষের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দাখিল করা হয়।
অভিযোগ  সূত্রে জানা যায়- ভিটিবিশাড়া গ্রামের দ.পাড়ার বায়তুল মামুন মসজিদের সামনে ও যমুনা নদীর পাড়ে  সরকারি অধিগ্রহণকৃত ভূমি সোহাগ মিয়া ও জয়নাল মিয়া দখল করে বালি দিয়ে ভরাট করে  বালু ব্যবসার চালিয়ে আসছে। নদীর পাড়ে দখলকৃত সরকারি জায়গায় একটি সরকারি  গণঘাটলা রয়েছে। ওই ঘাটলা দিয়ে এলাকার নারী পুরুষরা নদীতে গোসল ও নিত্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করে।
বালু ব্যবসা করার ফলে লোক সমাগম থাকায় নারীদের মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন- জায়গাটি ভরাটের ফলে ভারী ট্রাক চলাচল করায় ঘাটলার পাশেই নির্মিত কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নতুন ব্রিজ ও রাস্তা ভেঙে পড়বে।
বায়তুল মামুন জামে মসজিদের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান বলেন- “মসজিদের সামনে এমন অবৈধ কার্যক্রম ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করছে। নারীদের চলাফেরাতেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি”। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সোহাগ ও জয়নাল মিয়া বলেন- আমরা এখানকার কৃষকের জমি কট রেখে বালু  ভরাট করে বালু ব্যবসা করছি, এখানে সরকারি খাস ভূমি আছে কিনা আমি জানিনা? যদি সরকারের কোন জায়গা থাকে আমরা ছেড়ে দেব। কৃষি জমি ভরাটে শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- না শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব চৌধুরী অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন- বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সরকারি কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত পূর্বক  অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

নিম্নচাপটির অবস্থান ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে কখন অতিক্রম করবে জানা গেল

আলোকিত ডেস্ক:

উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি এখন নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর ফলে ১৫ জেলায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা করা হয়েছে।২৫ জুলাই শুক্রবার আবহাওয়াবিদ ড.মো.ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং পরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।

 আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আজ সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিমি পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ বিকাল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

জানা গেল নিম্নচাপটি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে কখন অতিক্রম করবেবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ০৩ (তিন) নম্বর (পুনঃ) ০৩ (তিন) নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, অমাবস্যা এবং নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ এবং চরগুলো ১-৩ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা এবং ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

শহীদুল ইসলাম রুবেল:
দীর্ঘ ১৪ বছর পর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা এবং উৎসব মুখর পরিবেশে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলা পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মোহনগঞ্জ মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম হল রুমে মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক সেলিম কার্ণায়েন এর সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু’র সঞ্চালনায় সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করেন নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থোপেডিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শরীফুল আলম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ্ ওয়ারেছ আলী মামুন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম হিলালী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সন্মানিত সদস্য চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক এম পি বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান খান, তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, বজলুর রহমান পাঠান।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ ক ম শফিকুল হক, টিপু সুলতান, গোলাম এরশাদুর রহমান, ফজলুল হক মাসুম, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম রব্বানী পুতুল, হাবিবুর রহমান দোহা সহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব বিকালে কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে সেলিম কার্ণায়েন, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে গোলাম এরশাদুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে ভিপি জাহাঙ্গীর আলম  এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম রব্বানী পুতুল  নির্বাচিত হন।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সংঘাতে নিহত ১৫,বাস্তুচ্যুত ১ লাখ ৪০ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সীমান্ত এবং বিরোধপূর্ণ অঞ্চল এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের মধ্যকার সংঘাতের প্রথম দিন বৃহস্পতিবারে থাইল্যান্ডে নিহত হয়েছেন ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৬ জন। আহতদের মধ্যে থাই সেনাবাহিনীর ১৫ জন সদস্য আছেন।
পাশাপাশি কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন থাই গ্রামে লোকজন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছেন। সংঘাতের প্রথম দিনেই থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকায় বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। শুক্রবার থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এসব তথ্য।

গত শতকের শুরু থেকে সীমান্ত এবং বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড ইমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল নিয়ে বিরোধ চলছে থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে। বেশ কয়েক দশক ধরে বিরোধ-সংঘাতের পর গত ১৫ বছর ধরে যুদ্ধবিরতিতে ছিল দুই প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু বুধবার থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের কাছে স্থল মাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা গুরুতর আহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তবর্তী কম্বোডিয়ার দুই সেনা স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় থাইল্যান্ডের যুদ্ধবিমান।

সেই বিমান অভিযানের জবাব দিতে থাইল্যান্ডের দুই সীমান্তবর্তী প্রদেশে রকেট হামলা চালায় কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী। সেই রকেট হামলার জেরেই নিহত, আহত এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে থাইল্যান্ডে।

শুক্রবার রাজধানী ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বলেন, “আমরা সবসময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে আপস ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছি, কিন্তু বর্তমান অবস্থায় আমরা থাই সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যে তারা যেন পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়।”

“এখনও এটা সীমিত মাত্রার সংঘাতের মধ্যে আছে, কিন্তু উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে— তাহলে যে কোনো সময় এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতই যুদ্ধের রূপ নেবে,” সংবাদ সম্মেলনে বলেন ওয়েচায়াচাই।

বৃহস্পতিবারের সংঘাতে কম্বোডিয়া থেকে নিহতের কোনো সংবাদ আসেনি, তবে সেই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতেও লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে বাড়িঘর ছেড়ে ছুটছেন। থাই সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কম্বোডীয় গ্রাম সামরাওং-এর বাসিন্দা প্রো বাক (৪১) তাদেরই একজন। এএফপিকে প্রো বাক বলেন, “আমার বাড়ি সীমান্তের খুব কাছে এবং আমি সত্যিকার অর্থেই ভয় পাচ্ছি, কারণ আজ শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সীমান্তে গোলাগুলি শুরু হয়েছে।”

“আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি না কবে ফিরতে পারব”, এএফপিকে বলেন প্রো বাক।

সূত্র : এএফপি

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

গাজায় ক্ষুধার জ্বালায় অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে মানুষ!

আলোকিত ডেস্ক, জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারটুকুও পাচ্ছেন না ফিলিস্তিনের গাজাবাসী। না খেতে পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন তারা, অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। আজ শুক্রবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভ্যালের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খুব কম পরিমাণে ত্রাণ ঢুকছে। যা লাখ লাখ মানুষের জন্য অপর্যাপ্ত। এ ছাড়া বোমারু বিমানের হামলা বন্ধ হয়নি। প্রতিদিন গাজাজুড়ে কোথাও না কোথাও হামলা চালাচ্ছে তারা। বহু মানুষ হতাহত হচ্ছেন সেখানে।

কিন্তু এর চেয়েও বড় সংকট এখন ক্ষুধা। রাইদ আল-আথামনা নামে গাজার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ‘সারাদিন একটি কথা ভাবতে ভাবতেই কেটে যায়, আজ কী খাবো, কী খাওয়াবো পরিবারকে?’

এক সময় বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য গাজায় গাড়ি চালাতেন তিনি। ইসরায়েল বিদেশি সাংবাদিকদের আর গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে না, ফলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজ নেই আথামনার। ফোনে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের এখানে কোনো খাবার নেই। রুটি নেই, সামান্য আটাটুকুও কিনতে পারছি না। যদি বা আটা পাওয়া যায়, তার ভয়ংকর দাম। আজ স্ত্রী এবং বাচ্চাদের জন্য একটু ডাল কিনতে পেরেছি। কিন্তু কাল ওরা কী খাবে, জানি না।’

আথামনার কথায়, ‘আমি নিজে দেখেছি, কীভাবে মানুষ রাস্তার ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাচ্ছে।’

গত মে মাসে শেষবার আথামনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল ডিডাব্লিউয়ের। সে সময় তিন মাসের ব্লকেড শেষ করে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণের ট্রাক ঢুকতে দিয়েছিল। গাজার ২০ লাখ মানুষ এর ফলে বেঁচে যাবেন বলে সে সময় মনে হয়েছিল আথামনার। কিন্তু মাসদুয়েক পর সেই ধারণা বদলে গেছে তার। তিনি জানিয়েছেন, ‘পরিস্থিতি সত্যিই শোচনীয়। এক টুকরো রুটির জন্যও লড়াই করতে হচ্ছে। আমি আমার নাতি-নাতনিদের নিয়ে থাকছি। তারা সারাক্ষণ কাঁদছে খিদের জ্বালায়। কীভাবে ওদের মুখে একটু খাবার তুলে দেবো, সেই চিন্তাতেই প্রতিটি দিন কাটছে।’

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য এবং ত্রাণবিষয়ক সংস্থাগুলো নিয়মিত গাজা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করছে। তারা জানিয়েছে, গাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত চিন্তার। সেখানে খাবার, ওষুধ পৌছাচ্ছে না।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত

আলোকিত ডেস্ক:

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বাদ জুমা বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে।

২৫ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশের সব মসজিদে এ দোয়া-মোনজাত পরিচালনা করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।  ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই সোমবার দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান প্রতিষ্ঠানটির হায়দার আলী নামে দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় ভবনটিতে থাকা প্রাইমারি এবং মাধ্যমিকের  শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, স্টাফ ও অভিভাবক মিলে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ  দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

সূত্র: বাসস

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দেশজুড়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়েছে।

আজ জুমার নামাজের পর বাংলাদেশের সব মসজিদে এ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে আজ।

এর আগে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন 30 জন। এদের মধ্যে ২২ জনের মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আজ বুধবার রাতে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২২ জনের পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি সাতজনের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এবং একজনের মরদেহ লুবানা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি মরদেহ গুলোর পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে এখনো জানিয়েছেন স্বাস্থ্যঅধিদপ্তর।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত মাসে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধকে সফল বলে মনে করছে ইসরায়েলের নেতৃত্ব। এই যুদ্ধে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পরমাণু স্থাপনা ‘ফোর্দো’তে হামলায় অংশ নিতে রাজি করানো গিয়েছিল।

যুদ্ধের পর দ্রুত বিজয়ের দাবি করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আবারও হামলার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, “আমি গ্যাসের প্যাডাল চাপা বন্ধ করার কোনো চিন্তাই করছি না।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এরই মধ্যে সুযোগ খুঁজছে— ইরানে আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করার, যার লক্ষ্য হবে পশ্চিম এশিয়ার ইসলামী এই প্রজাতন্ত্রটিকে নতজানু করা। তবে এ ধরনের যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন, যা পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইসরায়েলের এক আকস্মিক হামলা থেকেই শুরু হয়েছিল যুদ্ধ, যাতে এক হাজারের বেশি ইরানি এবং ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হন।

ইসরায়েল যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল, তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে “আত্মরক্ষার” অংশ হিসেবে আগেভাগেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। যদিও তেহরান শুরু থেকেই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এ সপ্তাহে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমানে অস্ত্রবিরতি চললেও সেটি কত দিন থাকবে, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি বলেন, “ইসরায়েল আবার কোনো হামলা চালালে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমাদের সেনাবাহিনী আবারও ইসরায়েলের গভীরে আঘাত হানতে পারবে।”

যুদ্ধের কারণ:

ইসরায়েল কেবল ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে  দাবি করলেও বাস্তবে তারা মূলত ইরানের উচ্চপর্যায়ের সরকারি এবং সামরিক নেতাদের টার্গেট করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বোঝা যায় ইসরায়েল শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চায়।

ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং মার্কিন থিংকট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পার্সি বলেন, “ইসরায়েল চায় ইরানকে সিরিয়া বা লেবাননের মতো একটা দেশে পরিণত করতে-যাকে যখন খুশি আঘাত হানা যায়।”

ইউরোপীয় দেশগুলো যদি আবার ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে ইসরায়েলের সামনে আবার যুদ্ধের সুযোগ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়, আগস্টের মধ্যে কোনো নতুন পরমাণু চুক্তি না হলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো আবার কার্যকর হবে।

২০১৫ সালে ইরান এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি হলে এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপও এখন যদি সেই পথ অনুসরণ করে, তাহলে ইরান পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি থেকেও বেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এটাই ইসরায়েলের জন্য আবার হামলার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইসরায়েলের রাইখমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানবিষয়ক অধ্যাপক মেইর জাভেদানফার বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধ করতে চাইলে এমন প্রমাণ দিতে হবে, যাতে বোঝা যায় ইরান আবার পরমাণু কর্মসূচি চালু করছে। তবে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমতি ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করা কঠিন হবে।

যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা ততটা ঘনিভূত না হলেও নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই ইরানে গোপন অভিযান চালাচ্ছে। যার ফলে সেখানে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।

তিনজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং এক ইউরোপীয় কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্ল্যাট, রিফাইনারি, বিমানবন্দরের পাশে ও জুতার কারখানায় আগুন বা বিস্ফোরণের পেছনে ইসরায়েলেরই হাত রয়েছে।

ওয়াশিংটনের থিংকট্যাংক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক নেগার মরতাজাভি বলেন, “নেতানিয়াহু এমন একটা কৌশল বের করেছেন যাতে ট্রাম্পের আপত্তি সত্ত্বেও ইরানে নির্বিঘ্নে হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে যেভাবে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, তাতে তারা স্থানীয় এজেন্ট এবং ড্রোন ব্যবহার করে সহজেই অভিযান চালাতে পারছে।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, “ইসরায়েল ইরানে একটি সুসংগঠিত নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এ ধরনের নেটওয়ার্ক মাঝেমধ্যে কিছু করে দেখাতে চায়— এটা কৌশলগত না হলেও কাজটা করা জরুরি হয়ে পড়ে।”

ফের যুদ্ধের আশঙ্কা:

নেতানিয়াহু একসময় সংঘাত এড়িয়ে চলার পক্ষপাতী ছিলেন বলে ধরা হলেও, এখন তিনি সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরানসহ আশপাশের দেশগুলোতে বারবার হামলা চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি গাজায় চালানো নিপীড়নের মাত্রাও বাড়ছে।

গাজা নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ থাকলেও ইরান বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে। ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, “নেতানিয়াহু যদি মনে করেন, তার অবস্থান বিপদের মুখে, তাহলে তিনি ইরানকে আঘাত করে জনগণকে আবার নিজের পক্ষে একত্রিত করার চেষ্টা করবেন।”

অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান দ্বিতীয়বার আর প্রস্তুতিহীন থাকবে না। নেগার মরতাজাভি বলেন, “ইরান জানে যে একটি কূটনৈতিক চুক্তি হলে ইসরায়েল হামলার সুযোগ হারাবে। তাই তারা চায় আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে।”

সূত্র: আল জাজিরা

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ জুলাই ২০২৫/মওম 

হাসিনার গুলি চালানোর নি#র্দেশ নিয়ে আল জাজিরা*র ‘বিস্ফোরক’ প্রতিবেদন

আলোকিত ডেস্ক, গত বছর সরকারের নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রকাশ্য নির্দেশ’ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা। তার এমন গোপন ফোনালাপের একাধিক কল রেকর্ডিং পেয়েছে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্য গুলি করার নির্দেশ ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, টানা ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যান। হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ও সরকারের দমন-পীড়নে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)।

তিনি বলেন, ‘‘ইতোমধ্যে আমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ্যে আদেশ দিয়েছি। এখন তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে এখন থেকে, যেখানেই পাবে গুলি চালাবে। এটা নির্দেশ দিয়েছি। এ পর্যন্ত আমি তাদের থামিয়ে রেখেছিলাম.. আমি শিক্ষার্থী নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছিলাম।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আত্মীয় শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ওই ফোনালাপে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কথাও বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘‘যেখানেই জমায়েত দেখা যাবে, ওপর থেকে, এখন তো ওপর থেকেই হচ্ছে—কয়েক জায়গায় শুরু হয়ে গেছে। কিছু বিক্ষোভকারী সরে গেছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর আকাশ থেকে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করলেও রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাবির শরীফ আল জাজিরার আই ইউনিটকে বলেন, হেলিকপ্টার থেকে আমাদের হাসপাতালের প্রবেশপথ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

তিনি বলেন, আন্দোলনকারী আহত শিক্ষার্থীদের শরীরে গুলির অস্বাভাবিক ক্ষত দেখা গেছে। শাবির শরীফ বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলি বিক্ষোভকারীদের কাঁধে অথবা বুকে ঢুকে যায় এবং সেগুলো শরীরেই থেকে গেছে। সেই সময় আমরা এই ধরনের অনেক রোগী পেয়েছিলাম। এক্স-রে করে আমরা হতবাক হয়েছি যে, শিক্ষার্থীদের শরীরে অনেক গুলি ছিল।

তবে শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হতে পারেনি আল জাজিরা।

আন্দোলনের সময় এসব ফোনালাপ রেকর্ড করেছে শেখ হাসিনার নজরদারি সংস্থা এনটিএমসি। এই সংস্থাটি এর আগেও কেবল বিরোধী নেতাদের নয়, বরং হাসিনার রাজনৈতিক মিত্রদের ওপরও নজরদারি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা জানতেন তার কথোপকথন রেকর্ড হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময় অপর পক্ষ বলত, এই বিষয়ে ফোনে না বলাই ভালো। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলতেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি জানি, আমি জানি, রেকর্ড হচ্ছে। কোনও সমস্যা নেই।’’

প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘তিনি (হাসিনা) অন্যদের জন্য গভীর গর্ত খুঁড়েছিলেন। এখন সেই গর্তে তিনি নিজেই পড়ে গেছেন।’’

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ কোটার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। হাইকোর্ট পুরোনো কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেই সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এই কোটা ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক এবং যোগ্যতার চেয়ে পারিবারিক পরিচয়ই চাকরির ভিত্তি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন।

১৬ জুলাই দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রংপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। জুলাই অভ্যুত্থানে তার মৃত্যুই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

আল জাজিরার হাতে আসা আরেকটি গোপন ফোনালাপে শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে রংপুরে নিহত আবু সাঈদের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে চাপ দিতে শোনা যায়। ফোনে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেতে এত দেরি কেন হচ্ছে? কে লুকোচুরি খেলছে? রংপুর মেডিকেল?’

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাজিবুল ইসলাম আল জাজিরাকে বলেন, পুলিশ তাকে পাঁচবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বদলাতে বাধ্য করে, যাতে একাধিক গুলির ক্ষত থাকার তথ্য না থাকে।

আবু সাঈদের মৃত্যুর ১২ দিন পর তার পরিবারকে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে হাজির করা হয়। প্রায় ৪০টি পরিবার সেখানে উপস্থিত ছিল। আর এসব পরিবারের কেউ না কেউ বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমাদের গণভবনে আসতে বাধ্য করেছিলেন হাসিনা। আমাদের আসতে বাধ্য করা হয়েছে। না এলে অন্যভাবে নির্যাতন করত।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা প্রত্যেক পরিবারের হাতে অর্থ তুলে দেন। আবু সাঈদের বোন সুমি খাতুনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দেব। শেখ হাসিনার এমন আশ্বাসের জবাবে সুমি বলেন, ‘‘ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ গুলি করেছে। এখানে তদন্তের কী আছে? আমাদের এখানে আসাটাই ভুল হয়েছে।’’

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের একজন মুখপাত্র বলেছেন, শেখ হাসিনা কখনও ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের কথা বলেননি এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি চালানোর নির্দেশও দেননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি