আজ সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 331

জুলাই যোদ্ধাদের নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়

২০২৪ সালের জুলাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহ্বানে ‘কোটা সংস্কারের’ দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। প্রথমে ছিল ছোট পরিসরের বিক্ষোভ, পরে তা ‘আগুন’ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

তৎকালীন সরকার এই আন্দোলন দমন করতে কঠোর অবস্থান নেয়। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, নির্যাতন, গুম— সবই প্রয়োগ করে। কিন্তু দমনের সেই নীতি বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে। আন্দোলন পায় জনসমর্থন, ধীরে ধীরে রূপ নেয় গণআন্দোলনে। পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। ৫ আগস্ট পরিণত হয় ইতিহাসের মোড় ঘোরানোর এক জীবন্ত ইতিহাস।

স্বৈরাচার হাসিনার পতনের এক বছর পার হচ্ছে। আজও অনেকে বলেন– ‘স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে, শক্তি হয়ে আছে’। আন্দোলনের রাজপথ ছেড়ে মানুষ জীবনের পথে ফিরলেও সেই দিনগুলো স্মৃতিতে গেঁথে রয়েছে, স্লোগানের শব্দ এখনো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মাথার ভেতরে। রাজনীতি, রাষ্ট্র, সমাজ-সবকিছু প্রত্যাশা অনুযায়ী না বদলালেও বদলেছে এ দেশের তরুণদের আত্মপরিচয়!

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা বলছেন, ‘প্রজন্মের অনুভূতি, প্রত্যয় ও অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি হয়েছে এক নতুন বাস্তবতা। যেখানে স্বপ্ন ভেঙে না পড়ে শক্তি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে।’

সবচেয়ে মানবিক দিক ছিল নারীদের অংশগ্রহণ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক এবং বর্তমানে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার এ ঘটনাকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ফাইনাল আউটপুট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিছক রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার প্রচেষ্টা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি যুগান্তকারী গণঅভ্যুত্থান, যেখানে দেশের নাগরিক সমাজ ও তরুণ নেতৃত্ব একসঙ্গে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।

‘তরুণ প্রজন্ম এই আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছে। তারা জীবনবাজি রেখে, ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে দাঁড়িয়েছে। এই সাহসিকতা, এই আত্মত্যাগ কোনোদিন হারিয়ে যাবে না।

তার মতে, নেতৃত্বের ধারণাটাও এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাল্টে গেছে। কারণ, এখন আর নেতৃত্ব মানে শুধু বক্তৃতা দেওয়া নয়; নেতৃত্ব মানে মাঠে থাকা, ঝুঁকি নেওয়া, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই তরুণ নেতৃত্ব ইতিহাসে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এ সমন্বয়ক আরও বলেন, “এই আন্দোলনে নারী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ভিন্ন মতাবলম্বীসহ সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল অসাধারণ। এমন বৈচিত্র্য বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি। ফলে এটিকে আমরা নিছক ছাত্র আন্দোলন বলতে পারি না, এটি ছিল ‘জনগণের অভ্যুত্থান’।”

আন্দোলনের সময়কার কিছু স্মৃতি আজও আবু বাকের মজুমদারকে আলোড়িত করে। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই তখন একটা পরিবার হয়ে গিয়েছিলাম। ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ, এমনকি ক্যাম্পাসভিত্তিক পরিচয়— কিছুই আমাদের আলাদা করতে পারেনি। আমরা একে-অপরকে আগলে রেখেছি, একে-অপরের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা এমন একটি কমিউনিটিভিত্তিক আন্দোলন পরিচালনা করেছিলাম, যেখানে নেতৃত্ব কেবল বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পোস্টার হাতে, মিছিলের অগ্রভাগে, মাইক হাতে— সব জায়গাতেই নেতৃত্ব ছিল।

আন্দোলনে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তরুণ এই জুলাই যোদ্ধাকে সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ করে। বলেন, ‘অনেক মেয়ে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে পুলিশের চোখে চোখ রেখে প্রতিবাদ করেছে। পিছু হটেনি। তারা ইতিহাসে আলাদা সম্মান পাবে।’

শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের অবসান—বড় অর্জন। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী এক বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো— এই দেশ থেকে শেখ হাসিনার মতো একজন স্বৈরাচার, ভারত-অনুগত শাসনের অবসান ঘটানো। আমরা বহু বছর ধরে একটি দমন-পীড়নমূলক শাসনব্যবস্থার মধ্যে থেকেছি, যেখানে একটা পোস্টার টানানো, একটা প্রতিবাদ সমাবেশ করা মানেই ছিল রিমান্ড, গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়। সেই বাস্তবতা থেকে আজ অন্তত আমরা মুক্তভাবে নিশ্বাস নিতে পারছি।’

তবে, সব অর্জনের মধ্যেও সবচেয়ে বড় অপ্রাপ্তির জায়গা হলো– আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যার বিচার। এক বছর পার হতে চললেও কোনো মামলার বিচার শেষ হয়নি। কয়েকটি মামলার আদেশই আসেনি। ‘এটা ব্যথার’— বলেন নাজমুল। ‘আবার সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে, তাও বলা যাচ্ছে না। আমরা যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে রাজপথে নেমে ছিলাম, তার অনেকগুলো এখনো অপূর্ণ রয়েছে।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বারবার বলে এসেছি, ছাত্র রাজনীতির সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি। এ বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেটা ইতিবাচক দিক। তবে, এটা এখনো সর্বজনীন বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি। শুধু আলোচনা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই।’

‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা শঙ্কাও কাজ করে’— উল্লেখ করে নাজমুল হাসান বলেন, ‘ভারতে বসে শেখ হাসিনা এখনো রাজনৈতিক হুমকি দিচ্ছেন। গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের নতুন করে সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন মেজরের সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত। বিশেষ করে যারা গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন, শহীদ পরিবার— সবাই এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেজন্য আমি প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব, নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেষ্ট হবেন তারা।  এখন সেই অর্জন টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

‘এখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন, থেমে গেছেন। কিন্তু কিছু মানুষ এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি থামিনি, কারণ আমি তাদের দেখি। সেই সাহসই আমাদের স্বপ্নকে টিকিয়ে রেখেছে।’

নতুন বাংলাদেশের এক বছর পূর্তির বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মুনঈম বলেন, ‘আমার চোখে বাংলাদেশ বদলেছে। কিন্তু এটা শুধু চোখে দেখা কোনো দৃশ্য নয়, এটা মানসিক এক জাগরণ। যে প্রজন্ম একসময় নিঃশব্দ ছিল, তারা আজ প্রশ্ন তোলে, অধিকার চায়। তারা রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। হয়তো প্রশাসনিক কাঠামো এখনো একই আছে কিন্তু জনগণের মধ্যে একটা চেতনার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। এটাই ৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় অর্জন।

‘ভবিষ্যতে এই দিনটিকে শুধু প্রতিবাদের দিন হিসেবে নয় বরং জাতি-জাগরণের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হোক’— প্রত্যাশা এই এনসিপি নেতার। বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের মনে করিয়ে দিক— কোনো অন্যায় চিরকাল টিকে থাকে না আর কোনো স্বপ্ন একা থাকে না। যারা সাহস করে রাস্তায় নেমেছিল, তারা শুধু নিজ অধিকারের জন্য নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য আওয়াজ তুলেছিল। এই দিন একদিন জাতীয় ইতিহাসে আলোকবর্তিকার মতো বিবেচিত হবে।’

মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুঈনুল ইসলামের মতে, গত এক বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ‘গণমানুষের ঐক্য’। তার ভাষায়, ‘মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। আন্দোলনের সময় এত বড় উত্তেজনা, সহিংস পরিস্থিতির পরও দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটিই আমাদের বড় বিজয়।’

‘রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষ থেকে বিগত বছরগুলোতে যে মাত্রায় দমন-পীড়ন চলেছে, সেই তুলনায় গত এক বছরে তুলনামূলক সহনশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি না হলেও কিছুটা তৈরি হয়েছে– এটাই আমাদের লড়াইয়ের ইতিবাচক দিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষ এখন টেবিলে বসে আলোচনা করছেন, মতবিনিময় করছেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির বিচার আপেক্ষিক। সফলতা ও ব্যর্থতা— দুটোই আন্দোলনের অংশ। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে আমরা যেমন দেখতে চেয়েছিলাম, সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি, ঠিকই। তবে, রাষ্ট্রগঠনের একটি নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

‘আমরা কিন্তু হতাশ নই। কারণ আমরা জানি, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান এবং নতুন এক বন্দোবস্ত গঠনের জন্য সময় লাগে, নিষ্ঠা লাগে। আমরা সেই পথেই রয়েছি। পরিবর্তনের যে বীজ আমরা বপন করেছি, তার অঙ্কুর ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। মানুষ বিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে, প্রশ্ন করছে, যুক্তির দিকে ফিরছে— এটাই আমাদের শক্তি।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

নীলফামারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদ রুবেলের সমাধীতে শ্রদ্ধা

উজ্জ্বল আহমেদ- বিশেষ প্রতিনিধিঃ নীলফামারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ রুবেল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা অর্পন।
রাজধানীর আদাবর এলাকায় শহীদ হওয়া এই ছাত্রনেতার স্মরণে মঙ্গলবার সকালে নীলফামারী সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ধোবাডাঙ্গা আরজীপাড়াস্থ পারিবারিক কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ বছর ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ’ প্রস্তুত না হওয়ায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরাসরি শহীদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
সকাল সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এরপর শ্রদ্ধা জানান জেলা পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ রুবেলসহ জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গণমিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বড়বাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরঙ্গী মোড়ে সমাবেশে  হয়।
এসময় জেলা জামায়াতের আমীর অধ‍্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, জেলা নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ, জেলা সেক্রেটারী আনতাজুল ইসলামসহ অন্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই দিবস আমাদের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যোগায়।
গনমিছিলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন দিয়ে ‘ইতিহাস’ গড়েছিলেন যারা

গত বছরের জুলাই ও আগস্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন। ন্যায়ের প্রশ্নে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন ছিল রাষ্ট্রের রূঢ় বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে চলছিল আন্দোলন। ঠিক তখনই ক্ষমতাসীনদের নির্দেশে গুলি চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাণ হারায় অনেক তাজা প্রাণ। তারা কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কেউ স্কুল কিংবা কলেজপড়ুয়া।

এই মৃত্যুগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা ছিল না। বরং এরা এক একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল— প্রতিবাদী, অদম্য, সাহসী ও ইতিহাসের প্রতীক। তরুণদের হত্যার প্রতিবাদে শহরের দেয়ালজুড়ে প্রতিবাদী গ্রাফিতি, সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনের ঝড়—সবমিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক গণআত্মস্মরণ। অনেক জায়গায় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ রুখে দিয়েছিল দমন-পীড়নের কৌশল।

আন্দোলনের সেই স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহর, শহর থেকে গ্রাম; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।

আজ সেই দিন— ৫ আগস্ট। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগ দেওয়া সেই সব তরুণকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছে জাতি। নিহত হওয়া অগণিত তরুণের মধ্যে এই পাঁচ তরুণের স্মৃতি আবারও তুলে ধরা হলো বিশেষ দিনটি স্মরনে।

dhakapost

আবু সাঈদ: কোনো কোনো মৃত্যু কখনো কখনো জীবনের চেয়েও বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে। আবু সাঈদের মৃত্যু ঠিক তেমনই এক অধ্যায়। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্দোলনের একজন সাংগঠনিক সমন্বয়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। ১৬ জুলাই, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। যখন বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এলাকা ত্যাগ করেন, তখন আবু সাঈদ একা দাঁড়িয়ে থাকেন হাতে একটি লাঠি নিয়ে। বুক চিতিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে। তার এই দৃঢ় অবস্থান যেন হয়ে ওঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ চিৎকার। খুব কাছ থেকে পুলিশ তার ওপর গুলি ছোড়ে। অবস্থান ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে। কিন্তু তিনি তখনো সরে যাননি। একসময় গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ। আবু সাঈদকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে ঘোষণা করে আন্দোলনকারিরা। তার আত্মত্যাগ আন্দোলনের গতি পাল্টে দেয়, ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ। আজও তার নাম উচ্চারিত হয় সাহসের প্রতীক হিসেবে, যে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল রাষ্ট্রীয় শক্তির সামনে।

মীর মুগ্ধ :জমজ দুই ভাই, স্নিগ্ধ ও মুগ্ধ। আইডেন্টিকাল টুইন, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একই মুখাবয়ব, একই স্বপ্নের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটছিলেন দুজন। কিন্তু সেই পথ হঠাৎ থেমে যায় মীর মুগ্ধের জন্য। এক নির্মম গুলিতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই তরুণ। ভাই স্নিগ্ধ বেঁচে থাকলেও তার প্রতিচ্ছবি মুগ্ধ আর নেই।বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র ছিলেন মুগ্ধ। আন্দোলনের সময়, মৃত্যুর ঠিক আগে, তিনি হাতে পানির বোতল নিয়ে আন্দোলনকারীদের মাঝে ঘুরে ঘুরে পানি দিচ্ছিলেন। তার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল এক মানবিক প্রশ্ন— ‘পানি লাগবে, পানি?’ এই একটি বাক্য, যা ধরা পড়েছিল ভিডিও ক্লিপে, আর তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। সেই শব্দ কাঁদিয়েছিল কোটি মানুষকে, ছুঁয়ে গিয়েছিল দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে। মুগ্ধ শুধু একজন শহীদ নন, হয়ে উঠেছেন আন্দোলনের এক মানবিক মুখ— যিনি মৃত্যুর আগমুহূর্তেও অন্যদের তৃষ্ণা নিবারণে ব্যস্ত ছিলেন।

ফারহান ফাইয়াজ :‘One day you’ll leave this world behind. So live a life you will remember’— ফেসবুক প্রোফাইলে এই লাইনটি লিখেছিলেন ফারহান ফাইয়াজ। যেন নিজের ভবিতব্য আগেই জানতেন। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এই শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলনের মিছিলে শামিল হয়েছিলেন মুক্তির স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু ফিরে আসেননি।

১৮ জুলাই বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের এবং সরকার দলীয় কর্মীদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ফারহান। বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যায় তার তরুণ শরীর। আহত অবস্থায় তাকে মোহাম্মদপুর সিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ফারহানের মৃত্যু গোটা ছাত্রসমাজকে শোকাহত করে তোলে।

শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন: সাভারের রাস্তায় পড়ে ছিল এক নিথর তরুণের দেহ। পুলিশি সাঁজোয়া যান থেকে টেনে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। তারপর আবারও টেনে-হিঁচড়ে ফেলা হয় রাস্তার অপর পাশে। চরম নির্মমতার শিকার হন শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

১৮ জুলাই সাভারের পাকিজা মডেল মসজিদের কাছে ঘটে ঘটনাটি। পুলিশি হামলায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আর ফিরে দাঁড়াতে পারেননি। বর্বরোচিতভাবে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এই তরুণকে। যিনি ছিলেন এমআইএসটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। থাকতেন ওসমানী হলে, বাড়ি ছিল সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়।  তিনি পরিচিত ছিলেন simply ‘ইয়ামিন’ নামে। আজ তার নামটি শুধু এক তরুণ নয়, একটি বেদনার পতাকার মতো উড়ে চলে হাজারো প্রতিবাদী কণ্ঠে।

নাফিস: এক পাশে পতাকা মোড়ানো মাথা, অন্যপাশে ঝুলছে গুলিবিদ্ধ দুটো নিথর পা। রিকশায় করে কেউ নিয়ে যাচ্ছে এক তরুণের নিথর দেহ। সেই ছবি দেখে চোখের পানি আটকে রাখা ছিল অসম্ভব। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ভাইরাল হওয়া এই হৃদয়বিদারক ছবির তরুণটির নাম নাফিস। বয়স মাত্র ১৭। বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সদ্য এসএসসি পাস করেছিলেন।

৪ আগস্ট সকালে শাহবাগ হয়ে ফার্মগেটের আন্দোলনে যোগ দেন নাফিস। দুপুর দেড়টায় মাকে কল দিয়ে জানান, তিনি নিরাপদে আছেন। মা তাকে দ্রুত ফিরে আসতে বলেন। এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সন্ধ্যা পর্যন্ত খুঁজে না পেয়ে তার বাবা শাহবাগ থেকে ফার্মগেট, হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ছুটে বেড়ান, কিন্তু ছেলের কোনো খোঁজ মেলেনি।

dhakapost

রাত ১২টায় বাড়ি ফেরার পর ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি বড় ভাই দেখান বাবাকে। এরপর শুরু হয় মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা। বহু জায়গায় খোঁজার পর নাফিসের মরদেহ পাওয়া যায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে।

নাফিসের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান ছিল না— সেটি ছিল সমগ্র জাতির হৃদয় ফাটা মুহূর্ত। এক কিশোর, যে ন্যায়ের স্বপ্ন দেখতে শিখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়ে রয়ে গেল একটি ভাইরাল ছবি হয়ে।

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস আজ, হাসিনা সরকারের পতন, ছাত্র-জনতার বিজয়!

আলোকিত ডেস্ক, ১ জুলাই ২০২৪ সালে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ৩ আগস্টে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ৪ আগস্ট ঘটে নজিরবিহীন সহিংসতা। ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীরা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে আসলে, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পথে যায়।

সে দিন দুপুর আড়াইটার দিকে সামরিক বিমানে দেশ ত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। তাঁদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটে বড় পরিবর্তন।

 

সরকার পতনের আভাস: দুপুর সোয়া ১টায় আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। এরপরই স্পষ্ট হয়, সরকার পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে।

সেনাপ্রধানের ভাষণ ও অন্তর্বর্তী সরকার বিকেলে সেনাপ্রধান জানান, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব হত্যা-সহিংসতার বিচার হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

নতুন পথচলার ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বক্তব্য: রাত সোয়া ৯টায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সরকারের রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

বিএনপির অবস্থান: দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

সহিংসতা ও প্রাণহানি ৫ আগস্ট সহিংসতা: ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে নিহত হন অন্তত ১০৯ জন। আগের দিন ৪ আগস্ট প্রাণ হারান আরও ১১৪ জন।

যশোরে অগ্নিকাণ্ড: শাহীন চাকলাদারের হোটেলে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত হন ১৩ জন।

প্রতীকী স্থাপনাগুলোয় হামলা: ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন, প্রধানমন্ত্রীর সুধাসদন, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।

৪৪ জেলায় সহিংসতা: ৫ আগস্ট রাত পর্যন্ত অন্তত ৪৪ জেলায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হয়। ৯ মন্ত্রী ও ২৭ সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার খবর দেয় গণমাধ্যম।

নতুন সূচনার ঘোষণা কারফিউ প্রত্যাহার: আইএসপিআর জানায়, ৬ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে কারফিউ তুলে নেওয়া হবে। সব অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা খোলা থাকবে।

ইন্টারনেট চালু: দিনের বেলা মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পুনরায় চালু হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টানানো সেই প্রধান শিক্ষিকা বরখাস্ত!

আলোকিত ডেস্ক, অফিস কক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরাতে না চাওয়ায় পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ।

সোমবার (৪ আগস্ট) উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সাঁটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে বলে তিনি জানান।

প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিনের দাবি, বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো কোনো অন্যায় নয়, বরং এটি তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি দেখেন।

 

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এটিকে স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বলেও মন্তব্য করছেন।

আবার অনেকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর বলেও আখ্যায়িত করেছেন ওই প্রধান শিক্ষিকাকে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং শিক্ষক সমাজের একাংশ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ও অন্য একটি পক্ষ এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার মোবাইলে ফোন দিলে তার স্বামী মো. হাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ করে বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে বলেছে আপনার একটা চিঠি আছে। অফিসে এসে নিয়ে যাবেন। তবে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে আমাদের কিছু বলেনি।

উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট উপজেলার সোনারঘোপ রমেশচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামীমা ইয়াছমিন বিদ্যালয়ের দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাব্যাপী উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার বিরোধিতা করলে প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে আমার বাবা মইনউদ্দীন মাস্টার মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সেই যুদ্ধের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। তাই আমার বিদ্যালয় থেকে এই ছবি সরাতে পারব না। পরবর্তীতে জনগণের তোপের মুখে সেই ছবি নামাতে বাধ্য হন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্তে প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে: রাষ্ট্রপতি!

বিশেষ প্রতিনিধি, ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সোমবার (৪ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের এখন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস। বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে ২০২৪ সালের আজকের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’

ঐতিহাসিক এই অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদকে- যারা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

বাণীতে গণঅভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ববরণ করা ও দৃষ্টিশক্তি হারানো সব বীর জুলাই যোদ্ধার ত্যাগ ও অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র একটি ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংস্কারের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে।

এছাড়া প্রকৃত গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলেও আশা করেন রাষ্ট্রপতি।

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সফলতাও কামনা করেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ট্রাম্পের পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন প্রনঙ্গে মুখ খুলল রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পারমাণবিক ইস্যুতে যে কোনও মন্তব্যের ক্ষেত্রে সবাইকে ‘অত্যন্ত সতর্ক’ হওয়া উচিত বলে জানিয়েছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী দু’টি সাবমেরিন রাশিয়ার আরও কাছাকাছি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিন পর এই সতর্কবার্তা দিয়েছে রাশিয়া।

সোমবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্যকে তেমন গুরুত্বই দেয়নি ক্রেমলিন। তবে এই বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্য কোনও বিতর্কে জড়াতে চায় না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক অস্ত্রবাহী দুটি সাবমেরিনকে রাশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বাগবিতণ্ডায় অংশ নিয়েছেন ট্রাম্প।

রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে ৫০ দিনের সময়সীমা কমিয়ে দুই সপ্তাহেরও কমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নামিয়ে আনার পর মেদভেদেভ এক পোস্টে বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে চূড়ান্ত আল্টিমেটামের খেলা খেলছেন..ট্রাম্প। প্রত্যেক বারের নতুন আল্টিমেটাম একটি হুমকি এবং যুদ্ধের দিকে এক ধাপ অগ্রসর হওয়ার সামিল।

এর জবাবে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘মেদভেদেভকে বলেন তিনি একজন ব্যর্থ সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি এখনও ক্ষমতায় আছেন বলে মনে করেন। তাকে সাবধানে কথা বলতে বলেন। তিনি অত্যন্ত বিপজ্জনক এলাকায় প্রবেশ করছেন।’’

পরে আরেক পোস্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক আক্রমণ ব্যবস্থা ‘ডেড হ্যান্ড’র কথা উল্লেখ করেন মেদভেদেভ। হোয়াইট হাউসের প্রধান যে এই হুমকিকে ভালোভাবে নেননি, সেটা পরিষ্কার। এমন পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের জেরে চিরবৈরী পারমাণবিক অস্ত্রধারী বিশ্বের দুই পরাশক্তির মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় থাকে, এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এই বিতর্কে জড়াতে চাই না এবং এ বিষয়ে মন্তব্যও করতে চাই না। আমরা মনে করি, পারমাণবিক বক্তব্য নিয়ে সকলেরই অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত।’’

রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে এমন এক সময়ে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যখন ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে সাড়ে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ না করেন, তাহলে রাশিয়া এবং তার জ্বালানির ক্রেতা দেশগুলোর (যেমন ভারত ও চীন) ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন তিনি।

সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, শান্তি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধে রাশিয়ার হাতই এখন শক্তিশালী এবং তার অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি।

ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় পাঠাবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। অতীতে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসলেও তাকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে ব্যর্থ হন উইটকফ।

পেসকভ বলেছেন, আমরা উইটকফকে মস্কোতে স্বাগত জানাই। তার সঙ্গে যোগাযোগকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ বলে মনে করি।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুতিনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বোমা হামলা আরও বৃদ্ধি করেছে রাশিয়া। কয়েক দিন আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত শান্তি আলোচনার পরও তেমন কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।

রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশের কিছু নিরাপত্তা বিশ্লেষক ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে অনলাইন বিতর্ককে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন ট্রাম্প, যেখানে প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের বিষয়ও উঠে এসেছে।

পেসকভ বলেছেন, আমরা মনে করি না, এটা কোনও উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত। তিনি বলেন, এখানে অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয় আলোচনায় এসেছে; যা অনেকের কাছেই আবেগপ্রবণ মনে হয়েছে। মেদভেদেভকে অনলাইন বক্তব্যে সুর নরম করতে বলা হয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, মূল বিষয় হলো প্রেসিডেন্ট পুতিনের অবস্থান।

সূত্র: রয়টার্স।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত ঘাতক স্বামী আটক

রহমান উজ্জ্বল:
টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইসারদিঘী গ্রামে স্বামীর ছুরিকাঘাতে কাকলি (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ৩ আগস্ট রবিবার বেলা ১১ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। র‍্যাব-১৪,সিপিসি-৩,  টাঙ্গাইল ১০ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক স্বামী মেহেদী হাসান (৪০) কে গ্রেফতার করে।
র‍্যাব -১৪, সিপিসি -৩ ,টাংগাইল এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে । র‍্যাব জানায়-সখিপুর পৌর শহরের  জেলখানার মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পারিবারিক কলহের জের ধরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। মেহেদী হাসান- কাকলি দম্পতির দুটি সন্তান আছে । নিহত কাকলি আক্তারের বাড়ি উপজেলার ঈসারদিঘী গ্রামের আতিয়া পাড়া এলাকায়।
র‍্যাব আরো জানায়-স্ত্রী নিহত হওয়ার পর স্বামী মেহেদী হাসান তৎক্ষণাৎ গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরে র‍্যাব টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডার মেজর কাউসার বাঁধনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়িতে র‍্যাব একটি অভিযান পরিচালনা করে । এ সময় কোনাবাড়ী এলাকা হতে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত মেহেদী হাসান স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে ।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামি মেহেদী হাসানকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/০৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

জুলাই সনদ স্বাক্ষরে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহ উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি যেকোনো সময় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ হাতে পাওয়ার পর ৩০ জুলাই কিছু সংশোধনীসহ জবাব দিয়েছে বিএনপি। সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।

দলটির ঐকমত্য কমিশনের প্রতিনিধিদলের প্রধান সালাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, যেকোনও সময় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত বিএনপি। সবকিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে করার দাবি করেছেন তিনি।

৪ আগস্ট সোমবার গুলশানে নিজের বাসভবনে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সালাহ উদ্দিন। সম্প্রতি জুলাই সনদ নিয়ে তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সমালোচনা এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে খোলাসা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট মঙ্গলবার মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠেয় সরকারি আয়োজনে যোগ দিচ্ছেন বিএনপির তিন জন নেতা। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির আরও দুই সদস্য থাকতে পারেন অনুষ্ঠানে। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

জুলাই সনদ, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক, জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ নিয়ে মতবিনিময়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ছয়টি সংস্কার কমিশনের ১৯টি মৌলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে ঐকমত্য কমিশনে। ১৯টির মধ্যে সাতটিতে ডিসেন্ট দিয়েছে বিএনপি। ১২টিতে একমত হয়েছে দল।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া সব রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। ৩০ জুলাই কিছু সংশোধনসহ বিএনপির পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হয়।

সালাহ উদ্দিন বলেন, সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বিএনপি নাকি সহযোগিতা করছে না। নিশ্চয়তা না পেলে সনদে সই করবেন না বলছেন। বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখতে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি। সালাহ উদ্দিন বলেন, তাদের (সমালোচকারীরা) রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা থেকে অনেক কথা বলতে পারে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হলে অংশ নেবে বিএনপি। কিন্তু এগুলো নির্বাচন পেছানোর কৌশল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। শুধু সংবিধান সংশোধনের বিষয় বাদে বাকি সব বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন হচ্ছে। কোনও আইনি বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া, সংসদ ছাড়া কোন বৈধ প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করা যায়, সেটি তারা বলতে পারে। এটা বাঞ্ছনীয় নয়।

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, ঘোষণাপত্রের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক মূল্য আছে। আমাদের কাছে এই বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে এর জবাবও দিয়েছি। কিন্তু ৭ জুলাই পর্যন্ত আর কোনও আলোচনা হয়নি। ৭ তারিখ যে ড্রাফট দিয়েছে আমাদের, সেখানে তারা ২৬ মার্চকে উপস্থাপন করতে চাননি। এরসঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বিএনপি। আমরা বলেছি, রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেবো চতুর্থ তফসিলের মাধ্যমে। জুলাই ঘোষণাপত্রের ক্ষেত্রে বিএনপি যে সংশোধনী দিয়েছে তা মেনে না নেওয়া হলে ঘোষণাপত্র পাঠের পর পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি।

তবে সাংবাদিকদের সালাহ উদ্দিন জানান, সোমবার দুপুর নাগাদ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে দাওয়াত পায়নি বিএনপি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুনেছি ৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা জাতিকে নির্বাচনের সময় জানাবেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

৫ আগস্ট নিয়ে কোনও ধরনের আতঙ্কের কারণ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

৫ আগস্ট নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনও ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

৪ আগস্ট সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট নিয়ে কোনও ধরনের আতঙ্কের কারণ নেই। সবার সহযোগিতায় সব ধরনের অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতাও রয়েছে।তিনি বলেন, সবকিছুর বিষয়েই সতর্ক থাকতে হয় সরকারকে। এ জন্যই বিভিন্ন সভার আয়োজন এবং সংশ্লিষ্স বার সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সরকারের বিশেষ অভিযান নিয়ে এক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিশেষ অভিযান পুরো দেশব্যাপী চলছে। এটা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলবে। যেসব অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়নি, সেসব অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন,রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর অপরাধ প্রবণতা বেশি। এ বিষয়ে আমাদের পরিবারের পাশাপাশি জনগণের সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, মব সহিংসতা আগের থেকে কমেছে। আস্তে আস্তে আরও কমে যাবে। মবের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দিচ্ছি না।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ আগস্ট ২০২৫/মওম