নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
গাইবান্ধায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫ উদ্বোধন
বাঘায় বন্যা দুর্গত এলাকায় বিএনপি নেতা চাঁদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ!
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে থমকে আছে সচিব পদে পদায়ন!
বিশেষ প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটি ও প্রশাসনে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী আমলাদের সমন্বয়হীনতায় শূন্য থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদায়ন প্রক্রিয়া থমকে আছে। এতে মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আবার প্রভাবশালী আমলাদের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের সুবাদে কোনো কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পদায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। আবার পছন্দের কর্মকর্তা না হওয়ায় সেই কর্মকর্তার যোগদানে আপত্তি জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা।
এমন ঘটনায় গোটা প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব বিরাজ করছে। যে কারণে দলনিরপেক্ষ মেধাবী এবং দক্ষ কর্মকর্তারা যোগ্য হয়েও সচিব পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না তারা। এখানে যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনে চাউর আছে। অথচ ছাত্রজনতার-গণভ্যুত্থানের পর বিগত শেখ হাসিনার সরকারের ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ রীতি থেকে বেরিয়ে এসে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দক্ষ, যোগ্য, অভিজ্ঞদের পদায়ন করার কথা। কঠিন সময়ে সমস্যা মোকাবিলায় পারদর্শী ও নেতৃত্বদানের গুণসম্পন্ন ব্যক্তিদের পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। সেই আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো শীর্ষ পদগুলোয় পদায়নে ব্যক্তিগত পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার পরিণতি ভোগ করছে সমগ্র জনপ্রশাসন। জনপ্রশাসনকে সুসংগঠিত করার মতো যোগ্যতা ও দক্ষতা তারা দেখাতে পারেনি বলে বঞ্চিত কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তী সরকারে শীর্ষ মহলে অভিযোগ করেছেন।
গত কয়েক মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নবম ব্যাচের বঞ্চিত এক কর্মকর্তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতিসহ পদায়নের সারসংক্ষেপ অনুমোদিত হলেও সেই কর্মকর্তাকে সচিব পদায়ন করা হয়নি। রহস্যজনক কারণে জনপ্রশাসনে ফাইল আটকে থাকায় অবসর নিয়ে চাকরি থেকে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। অথচ ওই কর্মকর্তাকে ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রফেসর ইউনূসের পরামর্শে রাষ্ট্রপতির আদেশে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয় তখন। পরবর্তীতে তাকে সিনিয়র সচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশনা দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ এই কর্মকর্তা প্রশাসনে মেধাবী ও বঞ্চিত কর্মকর্তা হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগ এনে পদে পদে বঞ্চিত করা হয়েছে তাকে।
ন্যায্যতা ফিরে পেতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন বিষয়ক কমিটির প্রধানসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবদের দ্বারে দ্বারে তিনি ঘুরেছেন। তারপরও তার পদোন্নতির আদেশ কার্যকর হয়নি। শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সখ্য না থাকায় সচিব হতে পারছেন না এখনো। বরং বিগত সরকারের সুবিধাভোগীদের সচিব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন এমন কর্মকর্তাকে তার মন্ত্রণালয়ে সচিব নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আধাসরকারি পত্র (ডিও লেটার) লিখেছিলেন। কিন্তু ডিও লেটারের উল্লিখিত কর্মকর্তার বদলে অন্য কর্মকর্তাকে সচিব পদায়ন করায় সচিব হয়েও তিনি এখনও যোগদান করতে পারেননি। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখনও সুরাহা করতে পারেনি। এক্ষেত্রে সমস্যা নিরসন করতে হলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বঞ্চিত ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা। সেটি না হলে কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
সূত্রগুলো বলছে, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সচিব পদে নিয়োগ দিতে সারসংক্ষেপ অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বদলি-পদায়ন ও পদোন্নতি বিষয়ক কমিটির উপদেষ্টাদের পছন্দ না হলে সে সচিবের নিয়োগ হচ্ছে না। আবার প্রভাবশালী আমলাদের পছন্দের কর্মকর্তা না হলেও একই ঘটনা ঘটছে। যে কারণে গুরত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে মাসের পর মাস সচিব না থাকলেও সচিব পদায়ন বা নিয়োগ হচ্ছে না। পদায়ন নিয়ে রেষারেষি অব্যাহত রয়েছে । সেই বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলের মতোই চলছে প্রশাসন। আগের সিন্ডিকেটের কব্জায় জনপ্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। বিগত সময়ে অতিমাত্রায় দলীয়করণ এবং জনপ্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতির লাগামহীন বিস্তারের কারণে জনপ্রশাসন পরিণত হয়েছিল একটি অকার্যকর জনপ্রশাসনে। এর প্রভাব এখনও বিরাজ করছে বলে বিগত সময়ে বঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার ফারুক দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনকে বলেন, জনআকাঙ্ক্ষার রাষ্ট্র গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজই হওয়া উচিত ছিল সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ভঙ্গুর ও অস্থির জনপ্রশাসন সুসংগঠিত করা। এরপর বিরাজমান অস্থিরতা দূর করে জনস্বার্থে জনপ্রশাসনকে কাজে লাগানো। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর জন্য যে রকম দূরদর্শিতা ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল, তাতে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। প্রয়োজন ছিল দূরদর্শিতা ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে জনপ্রশাসনকে সাজানোর।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে বেরিয়ে এসে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দক্ষ, যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং ক্রাইসিস মোকাবিলায় পারদর্শী ও নেতৃত্বদানের গুণসম্পন্ন ব্যক্তিদের পদায়ন করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। শীর্ষ পদগুলোয় পদায়নে ব্যক্তিগত পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিণতি ভোগ করছে এখন সমগ্র জনপ্রশাসন। জনপ্রশাসনকে সুসংগঠিত করার মতো যোগ্যতা ও দক্ষতা তারা দেখাতে পারেননি। তাদের অনেকের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলিরও অভাব।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সচিব, সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদ রয়েছে ৮৪টি। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে ১৭ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে রয়েছেন। এর আগে শীর্ষ পদে একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাননি। অন্যদিক সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে মোট ওএসডি আছেন ১২ জন। তবে বর্তমানে অন্যান্য পদে প্রশাসনে সব মিলিয়ে ৫ শতাধিকের ওপরে ওএসডি কর্মকর্তা রয়েছেন।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
কোন অপশক্তি এই নির্বাচনকে প্রতিহত করতে পারবে না, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল : পরিবেশ উপদেষ্টা
আলোকিত প্রতিবেদক:
সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনের যোগসাজশ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, এবার সর্বদলীয় ঐক্যের কারণে প্রশাসনের নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল। তা না হলে এখন তারা কীভাবে বের করতে পারে যে পাথরগুলো কোথায়? আবার নীরবতাও ছিল, তারা হয়তো অতটা ঝুঁকি নিতে পারছিল না।
১৭ আগস্ট রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রিজওয়ানা হাসান বলেন, পাথর কতটুকু তুললো, লুট হলো, নিয়ে গেলো- এটি আমার মন্ত্রণালয়ের দেখার কথা নয়। যেহেতু আমি একজন পরিবেশ কর্মী এবং সরকারে আছি। আমি দায়িত্ব নেবো কিন্তু পাথর লুট হয়ে যাওয়ার দায়টা আমাকে দিয়েন না।
রিজওয়ানা বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে তারা মামলা করছে, সেখানে আদৌ যারা দোষী তাদের কতটুকু তালিকাভুক্ত করছেন সেটা আমাদের দেখতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, যখন আমরা দুই উপদেষ্টা সেখানে গেলাম এবং আক্রান্ত হলাম। তারপর আমরা চলে আসলাম, তারপরে কিন্তু তিন দিনব্যাপী ব্যাপক অভিযান হলো। সব পাথর ভাঙার মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো। কিন্তু, তার চার-পাঁচ দিন পর সব রাজনৈতিক দল এক হয়ে চাপ প্রয়োগ করা হলো, তারা সেখানে ঘোষণা দিলেন যে পাথর তুলতে দিতে হবে। পরিবহন মালিকরা বললেন যে তারা ধর্মঘট করবেন। এই ধর্মঘট কিন্তু তাদের নতুন নয়।
যখন ২০২০ সালে পাথর তোলা বন্ধ করে দেওয়া হলো, সেই সময় করোনার মধ্যে তারা দুই দুইবার পরিবহন ধর্মঘট করেছেন। তাদের যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের জন্য বিন্দুমাত্র মায়া থাকতো করোনার এমন সংকটের মুহূর্তে নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য ধর্মঘট ডাকতে পারতেন?
সেই সময় আমরাও সোচ্চার ছিলাম, প্রশাসনকে আমাদের সঙ্গে আনতে পেরেছিলাম। এবার হলো কী- সর্বদলীয় ঐক্যের কথা যে আমি বলেছিলাম, সর্বদলীয় ঐক্যের কারণে প্রশাসনে নিশ্চয়ই যোগসাজশ ছিল। তাহলে তারা এখন বের করতে পারে পাথরগুলো কোথায়? আবার নীরবতাও ছিল। তারা হয়তো অতটা ঝুঁকি নিতে পারছিলেন না।
উপদেষ্টা বলেন, আজ মানুষ তার শক্তি দেখিয়েছে। লুটেরা চক্রের বিরুদ্ধে যখন মানুষ দাঁড়িয়ে যায়, তখন যতই রাজনৈতিক শক্তি ওটাকে সাপোর্ট করুক না কেন, মানুষের শক্তিটাই আসলে জয়ী হয়ে আসবে।
তিনি বলেন, আমি জনগণকে ধন্যবাদ জানাই তারা তীব্র প্রতিবাদটা করেছে। ফলে যে অবস্থাটা সৃষ্টি হয়েছে এতে ভবিষ্যতে পাথর লুটবার আগে দুবার চিন্তা করবে।
আলোকিত প্রতিদিন/১৭আগস্ট ২০২৫/মওম
যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভকারীরা, অচল ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও বন্দি থাকা জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ করছেন সাধারণ মানুষ। তারা রাস্তায় নেমে এসেছেন। ইসরায়েলের অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীরা যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে পুরো ইসরায়েলজুড়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই জিম্মিদের মুক্তির দাবি করে আসছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। এজন্য প্রয়োজনে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধও করতে বলছেন তারা। কিন্তু তাদের দাবিকে তোয়াক্কা না করে চলতি মাসের শুরুতে গাজার গাজা সিটি দখল করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার।
সাধারণ ইসরায়েলিরা ১৭ আগস্ট বিক্ষোভের ডাক দেন। সেই অনুযায়ী শত শত ইসরায়েলি বিক্ষোভ করছেন।সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। রাস্তা আটকে যান চলাচল বন্ধ করে চলাচল বাধাগ্রস্ত করায় তাদের আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং চলাচলের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করায় বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিব থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ দাবি করেছে, তারা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে মহাসড়কের দিকে যাওয়া বেশিরভাগ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পেরেছে। তবে জেরুজালেমের রুট ১৬ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা তারা এখনো আটকে রেখেছে। এই রাস্তাটি জেরুজালেমের দিকে গেছে।
সাধারণ ইসরয়েলিদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলি বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি জেরুজালেমের জিম্মি স্কোয়াডে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এসেছেন। লাপিদ বলেছেন, জিম্মিরা কোনো বন্ধকী জিনিস নয় যে, তাদের পরিত্যাগ করে ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
আলোকিত প্রতিদিন/১৭আগস্ট ২০২৫/মওম
তারাগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত!
বস্তুনিষ্ঠ ও সময়মতো সংবাদ পরিবেশনায় আমি সন্তুষ্ট
মোঃজহির উদ্দিন বাবর : ১৭ আগস্ট আলোকিত প্রতিদিন ৯ম বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আলোকিত প্রতিদিন পরিবারকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে সংবাদপত্রটি ইতিমধ্যে পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অর্জন করেছে জনপ্রিয়তা। সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা, সততা তথা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচন করেছে। আগামীতেও আলোকিত প্রতিদিন ও জাতির অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সুশাসন, বাকস্বাধীনতায় উদার মানসিকতা, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার, তথ্য অধিকার, ন্যায়বিচার, শান্তি-সমঝোতা, দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তথা সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে- এমনটি প্রত্যাশা করছি। পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি। মোঃজহির উদ্দিন বাবর দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন বিশেষ প্রতিনিধি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি
ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক,স্বস্তিতে ইউক্রেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠকে যে ধরনের ফলাফলের কথা ধারণা করা হচ্ছিল তা হয়নি। ফলে এই বিষয়টি সাময়িকভাবে কিয়েভকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করেন বিবিসি মনিটরিংয়ের রাশিয়ান সম্পাদক ভিটালি শেভচেঙ্কো।
ইউক্রেনের মানুষ জানবে যে, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ভেস্তে গেছে সেটা যদি আঙ্কোরেজের বৈঠকে ঘোষণা করা হতো সেটা সন্দেহের চোখেই দেখা হতো। যদিও তেমনটি হয়নি।
ইউক্রেনের মানুষ আতঙ্কিত, কারণ পুতিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংঘাতের মূল কারণ উল্লেখ করেছেন এবং এই সংকট সমাধান করেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।
ক্রেমলিনের ভাষায় এর অর্থ দাঁড়ায়–– ইউক্রেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ধ্বংস করার ব্যাপারে এখনো দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাশিয়া। যে কারণে তিন বছর ধরেও এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। এমনকি আলাস্কার বৈঠকও পুতিনের মন পরিবর্তনে ব্যর্থ হয়েছে।
আগামীতে কী হবে? রাশিয়া হামলা অব্যাহত রাখবে? গত কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলো নির্ধারিত সময়সীমা দিয়ে হুমকি দিলেও কোনো ফল হয়নি। ইউক্রেনের জনগণ মনে করছেন ভবিষ্যতেও চলবে এই হামলা। তাছাড়া কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বহুল আলোচিত আলাস্কা বৈঠক শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শুক্রবার প্রায় তিন ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক শেষে পুতিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। খবর বিবিসির।
পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তাদের বৈঠকে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি তারা। তবে তিনি এটাও বলেছেন যে, পরবর্তীতে এ নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য খুব ভালো সুযোগ রয়েছে।
যৌথ এই সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হোক তা তিনিও আন্তরিকভাবে চান। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই যুদ্ধের মূল কারণগুলোও নিরসন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতাই বক্তব্য দিলেও তারা সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি। বৈঠকের পর মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠককে ১০-এ ১০ দিয়েছেন।
বহুল আলোচিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা শেষে তিনি জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন।
এদিকে ক্রেমলিনও এই বৈঠক নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকটি ছিল খুবই ইতিবাচক।
উত্তর আমেরিকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ বিশ্লেষণ করেছেন। এই বৈঠকের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য কী অর্থ বহন করে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে সেটিও বিশ্লেষণ করেছেন তারা।
আলোকিত প্রতিদিন/১৬ আগস্ট ২০২৫/মওম

