আজ রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 313

পতেঙ্গায় ইকবাল হাসানের অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা হাজারো শ্রমজীবী মানুষ 

মুহাম্মদ জুবাইর: 
#‎ভয়ানক  প্রতারক চক্রের মোলহোতা ওরা চারজন
#অসহায় হতদরিদ্র শ্রমিকরা ভয়ে যাচ্ছে না আইনের আশ্রয় নিতে
#প্রতারক চক্র খুব ভয়ানক টাকা ফেরত চাইলেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছে মিথ্যা মামলায়
# আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় এখনো ইকবালের সব অপকর্ম চলমান
#এসব প্রতারকদের কারণে বর্তমানে অনেকেই পথ বেঁচে নিতে চাচ্ছে আত্মহত্যা
#প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক চক্রের
#প্রতারক চক্রের সন্তানরা পরিচয় দেয় জুলাই যোদ্ধা দেখায় ক্ষমতা
‎চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারকের অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ভেঙ্গেছে অনেক গার্মেন্টস মহিলা শ্রমিকের সংসার। আবার শেষ সম্বল হারিয়ে মানবতের জীবন যাপন করেছেন বহু নিম্ন আয়ের মানুষ।
‎সূত্র বলছে  পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারক রেশন কার্ড প্রদানের নাম করে চালিয়ে যাচ্ছেন  প্রতারণা। কয়েক বছরে এই প্রতারক ইকবাল হাসান  সহজ সরল শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করে চাউল তেলের রেশন কার্ডের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায শত কোটি টাকা। এই প্রতারণায়   ইকবাল হাসানের   সহযোগী হিসেবে সহায়তা করেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার গলতাজ বেগমের স্বামী মান্নান । প্রতারক ইকবাল হাসানের পাশাপাশি বনেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বলেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের এই অভিনব প্রতারণায়  ঋণের বোঝাই নুয়ে পড়েপরিবার পরিজন নিয়ে ধুকছেন অনেকেই । মূলত প্রতারক চক্রের নিজেদের অধিক লোভ, বোকামী আর প্রতারক ইকবাল হাসান থেকে যথাযত ডকুমেন্টস না থাকায়  নিতে পারছেনা আইনী পদক্ষেপ।
‎আবার অনেকেই টাকায় পাওয়ার আশায় নিরব ভুমিকা পালন করছেন। বর্তমানে প্রতারক ইকবাল হাসান ঘা-ঢাকা দিলেও দিব্বি জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইকবালের সহযোগী গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার। আবার ভুক্তভোগী কেউ কেউ গুলতাজ বেগমের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে হয়েছেন হামলা ও মামলার স্বীকার।
‎‎সূত্র বলছে, ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসানের বেশ কিছু সহযোগী চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড থানাধীন যে সমস্ত এলাকায় শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস সে এলাগুলোকে টার্গেটে পরিণত করে। পরবর্তীতে তারা অধিক লাভ আর স্বল্প মূল্যে রেশনের নানা সামগ্রী প্রদান করবেন বলে কৌশল অবলম্বন করে প্রচারণা চালায় ঐসব এলাকায়। পরে এই চক্রের প্রধান ইকবাল হাসান সু-কৌশলে এলাকার আস্থাভাজন নারী পুরুষের নিয়ে গড়ে তুলেন একটি বলয়। যারা ইকবাল হাসানের পক্ষে শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুমিষ্ট কথার মারপ্যাঁচে লোভ লালসা দেখিয়ে রেসন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন। সহজ সরল শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অল্প টাকার বিনিময়ে অধিক লাভের আশায় পা দেন ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারদের প্রতারণায়। অনেকে আবার সমিতির, এনজিও বা লাভের আশায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন এই প্রতারক চক্রের হাতে।
‎‎অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজারের অধিক মানুষ ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসান চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা।
‎‎সূত্র আরো বলছে, এ সমস্ত এলাকার মানুষগুলো শুধু নিজের নামে নয় পরিবারের সকল সদস্য এমনকি ২ বছরের শিশুদের নামেও অধিক লাভের আশায় ইনভেস্টমেন্ট করেছেন। এরিসাথে পরিবারের একজন ইনভেস্টমেন্ট করলে ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার চক্র ভুলিয়ে ভালিয়ে ঐ পরিবারের নিকট আত্মীয় থেকে শুরু করে দুরবর্তী আত্মীয় স্বজনদের রেশন কার্ডে ইনভেস্টমেন্ট করিয়েছেন। এভাবে এইচক্রের প্রধান ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বনেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
‎‎সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতারক ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারের চাউল তেলের রেশন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করলে প্রতিমাসে রেশনের পাশাপাশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে এমন প্রলোভনে পড়ে নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজার অধিক লোকজন প্রতিটি রেশন কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে এ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা। প্রতারক লিডার ইকবাল হাসান প্রতারণা ভীত মজবুত করতে ও প্রতারণার শিকার লোকজনকে দিয়েছেন নিজের সাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও তার নিজের নামে থাকা ১০ টির অধিক বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের চেক। আবার স্ট্যাম্প গুলোর বেশির ভাগেই স্বাক্ষীর জায়গায় স্বাক্ষর দিয়েছেন গুলতাজ ও নুরুল আবছার। তবে ইকবাল হাসানের দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের চেকে গ্রহিতার নাম ও তারিখ বসাননি। মূলত প্রতারক ইকবাল হাসান নিজে অদৃশ্য থেকে সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ আরো বেশ কয়েকজনের সহায়তায় তার স্প্যাম্প ও চেক দিয়ে প্রতারণার ষোলকলা পূরণ করেছেন। উল্লেখ্য শুরুর দিকে তাদের প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য মাস দুই বেশ কয়েকজনকে রেশন প্রদান করে পরবর্তীতে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে প্রতারক ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার। একপর্যায়ে শত কোটির টাকার বড় একটি অংশ নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান ইকবাল হাসান। এরিসাথে গুলতাজ বেগম পতেঙ্গা ছেড়ে বসতি গাড়েন আনোয়ার থানা এলাকায়।
‎‎প্রতারনার স্বীকার শাহাবুদ্দিন জানান, গত বছর আগস্টের পর নুরুল আবছারের জাদুকরী কথায় মুগ্ধ‌হয়ে অধিক লাভ ও রেশনের জিনিসপত্র পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন দিন ধরে তিলে তিলে জমানো নিজের দুই লক্ষ টাকা সাথে আমার ভাই বোন আত্মীয় স্বজন মিলে ৮ জনের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নুরুল আবছারের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার সময় নুরুল আবছার স্বাক্ষী হয়ে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত  একটি ১০০ স্ট্যাম্প ও কয়েকটি প্রাপকের নাম ও তারিখ ছাড়া ব্যাংক চেক প্রধান করেন। টাকা প্রদানের পর থেকে রেশন তো দুরের কথা এক টাকা ও লাভের টাকা পায়নি। এদিকে আপনার ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা টাকার জন্য ক্রমাগত পেশারে আমি একেবারে দিশেহারা। বেশ কয়েকবার নুরুল আবছারের কাছে দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি নানা রকম তার বাহানায় কালক্ষেপণ করতে থাকে এরিসাথে আমাদের নানা ধরনের হুমকি প্রদান করতে থাকেন।
‎প্রতারনার স্বীকার অপর এক গার্মেন্টস কর্মী শিরিন জানান, গুলতাজ বেগমের কথায় রেশন‌ কার্ডের জন্য আমি ৩ শক্ষ টাকা তুলে দিয়। পাশাপাশি আমার সাথে কাজ করা প্রায় ৩৫ জন মেয়ে ও আমার রিকশা চালক স্বামী ও শাশুড়ির কাছ থেকে   সব মিলে ৮০ লক্ষ টাকা গুলতাজ বেগমের কথায় তার স্বামীর হাতে তুলে দিয়। গুলতাজ বেগম ও তাঁর স্বামী হারুন সেই সময় আমাদের কয়েকটি ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক প্রদান করলেও গেল ৮ মাসে একটা টাকাও ফেরত পায়নি। এদিকে আমার ও আমার স্বামীর জমানো শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে ছেলে সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। গেল কয়েক মাস আমার স্বামী দিশাহারা হয়ে আমাকে তালাক দেয়।
‎‎প্রতারনার স্বীকার অপর এক দিনমজুর নাছির উদ্দিন জানান গুলতাজ বেগমের কথার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে অতি লোভে রেশনের আশায় নিজেদের শেষ‌সম্বল ও বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন মিলে ৩০০ জনের কাজ থেকে প্রায় কোটি টাকা গুলতাজ বেগমের হাত দিয়ে ইকবাল হাসানের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার প্রায় ৮/৯ মাসে প্রথমে একবার শনের কিছু জিনিস ফেলেও বর্তমানে সবার ক্রমাগত চাপে একেবারে নুয়ে পড়েছি।‌ আমার কাছে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক ছাড়া পারফেক্ট কোন ডকুমেন্ট না থাকায় নিতে পারছি না কোন আইনী পদক্ষেপ।
‎‎তিনি আরো জানান তিনি ও তার টিম ছাড়া পতেঙ্গা ও ইপিজেডের ৫ হাজারের বেশি লোকদের কাজ থেকে এই ইকবাল হাসান, গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
‎অপরদিকে সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারিত একজন    টাকার জন্য গুলতাজ বেগমের নতুন বসতি আনোয়ার এলাকায় গেলে গুলতাজ বেগম তার স্বামী হারুনের  মাধ্যমে এই লোকটিকে বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন ও তার নামে থানায় মামলা দিয়ে নানামুখী হয়রানি করেন।
‎এদিকে‌ প্রতারণার বিষয়ে মুঠোফোনে নুরুল আবছারের কথা বললে তিনি  পতেঙ্গা এলাকার প্রতারণার সব দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর চাপান। একি সাথে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজে প্রতারিত হয়ে ইকবাল হাসানের নামে থানায় প্রতারণা মামলা করেছেন বলে জানান।
‎প্রতারণার বিষয়ে গুলতাজ বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে তিনিও‌ সব অভিযোগ অস্বীকার করে  দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর। এরিসাথে তিনি নিজে প্রতারণা স্বীকার হয়েছেন বলে জানান। অপরদিকে অধিকাংশ লোকজনের টাকা বিকাশ ও নগদে গ্রহণকারী গুলতাজ বেগমের স্বামী হারুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে নানা হুমকি দিতে থাকেন।
‎‎এদিকে প্রতারণার বিষয়ে প্রতারক দলের লিডার ইকবাল হাসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ চেষ্টা চালিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

ভারতের স*ঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে : পিসিবি সভাপতি!

খেলাধুলা ডেস্ক,  দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতায় এক যুগেরও বেশি সময় কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না ভারত-পাকিস্তান। সেটি হওয়ার সব সম্ভাবনাও শেষ করে দিয়েছে ভারত। এক বিবৃতিতে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে না তারা। সেটি যেকোনো ইভেন্টে। শুধু বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত।

ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পর কঠোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তার বার্তা স্পষ্ট, এখন ভারতের সঙ্গে কোনো অনুরোধ ভিত্তিক আলোচনা হবে না। যা হবে, তা দুই দেশের সমান অধিকার নিশ্চিত করে। চোখে চোখ রেখে আলোচনা হবে।

গত কয়েক বছরে দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতার ছায়া খেলার মাঠ থেকে সরানোর প্রচেষ্টা চলছিল। বাস্তবিক অর্থে অবশ্য কোনো ফলাফল দেখা যায়নি। দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে মুখোমুখি হয়নি ভারত-পাকিস্তান। তবে সম্পর্ক যতটা ভালো হয়েছিল, তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি খারাপ হয় চলতি বছরে ভারতের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পরে।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা দাবি তোলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ধরনের ক্রিকেট খেলা বয়কট করতে। গত মাসে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নস অব লিজেন্ড টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করে ভারত। এরপর গত ২১ আগস্ট ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা নিয়ে এক বিৃতিতে সবকিছু স্পষ্ট করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিসলিৎসা বলেন, “আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছেন যে তিনি ইউক্রেনের বিবাদপূর্ণ অঞ্চলগুলো নিয়ে তিনি পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং বৈঠক করতে প্রস্তুত।”

ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়েও পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কি আলোচনা করতে চান বলে এনবিসিকে জানিয়েছেন কিসিলিৎসা। এনবিসিকে তিনি বলেছেন, “আমরা রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি করতে চাই। চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং ইউক্রেনের রাজনীতিবিদরা এই খসড়া প্রস্তুতের জন্য রাত দিন কাজ করছেন।”

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার কয়েক বছর পর কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় রাশিয়ার। টানা প্রায় ২ যুগ দ্বন্দ্ব চলার পর ২০১৪ সালে ইউক্রেনে বসবাসরত রুশভাষী গোষ্ঠীর সহায়তায় ক্রিমিয়া দখল করে গণভোটের আয়োজন করে রাশিয়া। সেই গণভোটে ক্রিমিয়ার অধিকাংশ মানুষ রাশিয়ার পক্ষে ভোট দেয়।

পরের বছর ২০১৫ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয় মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে। সেই চুক্তিতে ইউক্রেন ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি ইউক্রেন; উপরন্তু ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করে কিয়েভ। এই নিয়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এদিকে অভিযান শুরুর ৭ মাসের মাথায় দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন এবং ঝাপোরিজ্জিয়া— ইউক্রেনের মূল ভূখণ্ডের এই চার প্রদেশের অধিকাংশ এলাকা দখল করতে সক্ষম হয় রুশ সেনারা। দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে রুশ মানচিত্রেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র এবং অর্থ সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বাঁধার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জো বাইডেন। যতদিন তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, ক্রিমিয়া ও ইউক্রেনের চার প্রদেশ নিয়ে অনড় অবস্থানে ছিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জিতে ’২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হওয়ার পর দৃশ্যপটে বদল আসে। ইউক্রেনকে ‘মুক্ত হাতে সহায়তা’য় লাগাম টানেন ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি বলেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চান এবং এজন্য যদি ইউক্রেনকে তার নিজের ভূখণ্ডের ‘কিছু অংশ’ ছাড় দিতে হয়, তাহলে কিয়েভকে তা দিতে হবে।

গত ১৫ আগস্ট পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় এবং ১৮ আগস্ট জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এসব বৈঠক বেশ সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন জেলেনস্কি।

সূত্র : আরটি

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

নবীনগরে পাওনা টাকা চাওয়ায় এসিডে ঝলসে দিল আবিরের মুখ

মোঃ আনোয়ার হোসেন 
 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পাওনা টাকা (সাতশত টাকা) ফেরত চাওয়ায় আবির মিয়া (২৬) নামের এক অটোরিক্সা চালকের গায়ে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। চোর অপবাদ দিয়ে তার মাথাও ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। আজ রাতে নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের কনিকাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসিডদগ্ধ আবির মিয়াকে (২৬) স্থানীয়রা উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তিনি নবীনগর পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর গ্রামের আরাফাত আলীর ছেলে।
আবির জানান- নবীনগরের আলিয়াবাদ গ্রামের অটোরিক্সা চালক ওবায়দুল মিয়ার কাছে তিনি ৭০০ টাকা পাবেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেখা হওয়ার পর আবির ওই টাকা চাইলে ওবায়দুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি  ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ আবিরের গায়ে অটোরিক্সার ব্যাটারির এসিড নিক্ষেপ করেন। এরপর আবিরকে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন- বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে আদালত,সেখানে ন্যায় বিচার পাবে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিঃসন্দেহে একটি নিরপেক্ষ সরকার বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

২৪ আগস্ট রবিবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রিকশা এবং ভ্যান চালকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ করে জিয়া পরিষদ।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাওয়া নিয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা কতখানি দ্বিচারী হতে পারেন, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালাও-পুড়াও ও ধ্বংসাত্মক আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসে নিজেই সেই ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছেন। এই হচ্ছে শেখ হাসিনা, যার কোনো ওয়াদা, অঙ্গীকার নেই।

বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের অনেক দাবি-দাওয়া। আমাদের প্রত্যাশা শান্তি, স্বস্তি থাকবো। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হচ্ছে আদালত, সেখানে ন্যায় বিচার পাবে। সরকারের আন্তরিকতা কম সেটা বলবো না। আজকে আর্থিক ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি অনেক কমে আসছে। জিনিসপত্রের দাম এখনো কমছে না, কর্মসংস্থান হচ্ছে না। একের পর এক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান না থাকলে দুর্ভিক্ষের আলামত তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের উপদেষ্টা হাঁসের মাংস যে কোনো জায়গায় খেতে পারবে, কিন্তু জনগণ তো হাঁসের মাংস খেতে পারবে না।

কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রচেষ্টা সরকারকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তিনি বলেন, মানুষ বেকার থাকলে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাবে।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, জুলাই সদনের জন্য সুপারিশ আসবে, কিন্তু সেটার জন্য আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হয় তা নির্বাচিত সংসদ করবে। একটি রাজনৈতিক দল বলছেন, আগেই গণভোট দিতে হবে, কেন? যদি মূল নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন করতে হয়, মূল নীতিমালা অখণ্ড বিষয়, সেটা সংশোধন করা যায়, তবে সেটা করবে সংসদ। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো যদি হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার মতের মিল হয়নি, তাই তাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোক পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। ওই ধরনের বৈশিষ্ট্য এবং আলামত এখন কেন থাকবে? যেই নিয়ম শেখ হাসিনা ভেঙেছে, সেটা তো আবার চালু করতে পারি না।

রিজভী আরও বলেন, অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন, তারা দেশের এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে সংবিধান সংশোধন করতে হলে করবে। সেটা তাদের দায়িত্ব। কিন্তু আগে সেটা মানতে হবে, করতে হবে? যেসব সংস্কারে সব ঐকমত্য হয়েছে তার একটা সুপারিশ থাকবে, সেটা নির্বাচিত সংসদ সংশোধন করবে, আইনি ভিত্তি দেবে। সেটা না করে আগেই তালগাছ আমার বলে চিৎকার করতে থাকি..।

ফ্যাসিবাদী শক্তি প্রশাসনে এখনও ঘাপটি মেরে বসে আছে, তারা সুযোগ পেলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করবে। ফ্যাসিবাদী শক্তি সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় বসে আছে, তারা বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য কাজ করছেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল লতিফ, মহাসচিব এমতাজ হোসেন প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু আগে দুইবার সমাধান হয়েছে: ইসহাক দার

আলোকিত,প্রতিবেদক:

২৪ আগস্ট রবিবার রাজধানীর এক‌টি হো‌টে‌লে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো.তৌহিদ হোসেনের স‌ঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শে‌ষে সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে এসব কথা ব‌লেন তি‌নি।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যাসহ অমীমাংসিত ইস্যুর বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃ‌ষ্টি আকর্ষণ ক‌রেন সাংবা‌দিকরা। জবা‌বে ইসহাক দার ব‌লেন,১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মোশাররফের সফরে দুঃখ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে এর সমাধান হয়।

তি‌নি বলেন, আপনারা আপনাদের হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।তৌহিদ হোসেন এবং ইসহাক দারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শে‌ষে বাংলা‌দেশ এবং পা‌কিস্তান এক‌টি চু‌ক্তি ও ৫টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই ক‌রে‌ছে।

চুক্তি : দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি।

এমওইউ : দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদের (আইএসএসআই) সহযোগিতা।

দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একযুগ পর এটি ছিল পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। সফরের শুরুর দিনে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন ইসহাক দার। শুরুর দিনে তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

গত ২৭ এপ্রিল ইসহাক দারের ঢাকা আসার কথা ছিল। তবে ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে দারের সফর স্থগিত করে ইসলামাবাদ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম

পেস্ট কন্ট্রোল টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অপরিহার্যতা ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত

বিশেষ প্রতিনিধি, বাংলাদেশ একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে কৃষি, শিল্প এবং আবাসন খাতে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কলকারখানা, হাসপাতাল, খাদ্যগুদাম, হোটেল এবং আবাসিক ভবনের সংখ্যা। এসব স্থানে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য কীটপতঙ্গ দমন বা পেস্ট কন্ট্রোল একটি অপরিহার্য সেবা। যদিও এই খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, তবুও দেশে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাবে দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ঘটছে অর্থনৈতিক ক্ষতি।

কেন দক্ষ জনবল অপরিহার্য? পেস্ট কন্ট্রোলকে অনেকেই একটি সাধারণ কাজ মনে করলেও, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কারিগরি জ্ঞান-নির্ভর একটি পেশা। সঠিক কীটনাশক নির্বাচন, প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ এবং নিরাপত্তার নিয়মাবলী মেনে চলা এর জন্য অপরিহার্য। পেস্ট কন্ট্রোল খাতে দক্ষ জনবল কেন জরুরি, তা কয়েকটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যায়:

শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ: গার্মেন্টস শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, ঔষধ ফ্যাক্টরি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মান বজায় রাখতে নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্যও এই কার্যক্রম অপরিহার্য। বর্তমানে প্রায় ১৫০টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এই সেবা দিচ্ছে, পাশাপাশি আরও ৫০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৭,৫০০ দক্ষ টেকনিশিয়ানের চাহিদা রয়েছে। অথচ, অদক্ষ জনবল অনেক সময় ভুল কীটনাশক প্রয়োগ করে পণ্যের মান নষ্ট করছে কিংবা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা: হাসপাতাল, রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল এবং বাসাবাড়িতে কীটপতঙ্গের উপদ্রব জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি। ইঁদুর, তেলাপোকা, মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ নানা ধরনের রোগ ছড়ায়। অন্যদিকে, পেস্ট কন্ট্রোলের সময় রাসায়নিক পদার্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে তা মানুষের জীবনকেও বিপন্ন করে তোলে। অদক্ষ টেকনিশিয়ানের কারণে বিষক্রিয়া, অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট কিংবা মৃত্যুর মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। এর ভয়াবহ উদাহরণ হলো ২০২৩ সালের ৫ জুন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের পর দুই শিশুর মৃত্যু। একই ভাবে, ২০২৫ সালের ৪ জুন ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ছারপোকা দমনের ওষুধে বিষক্রিয়ায় ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শ্রমিক মারা যান।

সরকারি ও বেসরকারি খাতে চাহিদা: দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মশক দমন কর্মসূচি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিভিন্ন সরকারি দফতর, বিমানবন্দর, পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং অসংখ্য সরকারি ভবনে নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব খাতে হাজার হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ানের চাহিদা রয়েছে। একই ভাবে, প্রায় এক হাজারেরও বেশি শিল্পগোষ্ঠী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পেস্ট কন্ট্রোল পরিচালনা করছে, যেখানে প্রায় ১৫,০০০ টেকনিশিয়ানের প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ: মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ পেস্ট কন্ট্রোল টেকনিশিয়ানের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তি বিদেশে রপ্তানি হলেও প্রশিক্ষণের অভাবে এই বিশেষ খাতে জনবল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি সুসংগঠিত ও আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এ খাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা: উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধানে বাংলাদেশে একটি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক পেস্ট কন্ট্রোল টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। এই কেন্দ্র কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অথবা লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেস্ট কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত হতে পারে। এখানে কীটতত্ত্ববিদ (Entomologist) ও কৃষিবিদদের (Agriculturist) নেতৃত্বে পাঠ্যক্রম তৈরি ও বাস্তবায়ন করা উচিত।

প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু হতে পারে:
• কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ: মশা, তেলাপোকা, ইঁদুর, উইপোকা, সাপ প্রভৃতির জীবনচক্র, আচরণ ও ক্ষতির ধরন।
• কীটনাশকের প্রকারভেদ: কীটনাশকের রাসায়নিক গঠন, কার্যকারিতা ও পরিবেশগত প্রভাব।
• নিরাপত্তা ও সুরক্ষা: কীটনাশক প্রয়োগের সময় PPE (Personal Protective Equipment) ব্যবহারের নিয়মাবলী এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয়।
• আধুনিক কৌশল: ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (IPM) এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি।
• আইন ও নীতিমালা: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে ধারণা।

পেস্ট কন্ট্রোল টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শুধুমাত্র দক্ষ জনবলই তৈরি করবে না, বরং এই খাতে একটি মানসম্পন্ন পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করবে। এর ফলে অদক্ষতার কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কমে আসবে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।

অতএব, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা জাতীয় অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
মোঃ মাহমুদূল হাসান সোহেল সহকারী অধ্যাপক এন্টোমোলজি বিভাগ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা-১২০৭

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সভায় আদর্শিক ঐক্য বৃদ্ধিসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সভায় আদর্শিক ঐক্য বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সংগঠনটিকে নিজস্ব স্বকীয়তা অর্থাৎ জাতীয়তাবাদী চেতনায় এগিয়ে নেয়া, দেশব্যাপী সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি , পাক্ষিক সাহিত্য সভা ও শরতকালীণ কবিতা উৎসব আয়োজন, মাসিক সাহিত্য সাময়িকী এবং অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ।
ফোরামের সভাপতি কবি শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন প্রবাসী কবি ও সম্পাদক রাজ মাসুদ ফরহাদ। সাধারণ সম্পাদক কবি ও শিক্ষাবিদ ড. শহীদ আজাদের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবি সৈয়দ রনোর পরিচালনায় মোট ৩৮ জন কবি ও লেখক বক্তব্য রাখেন। যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সংগঠনের সহসভাপতি বিশিষ্ট লেখক জামাল উদ্দিন জামাল, সহসভাপতি বিশিষ্ট ছড়াকার আতিক হেলাল, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক জামাল উদ্দিন বারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. আলো আরজুমান্দ বানু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কবি শান্তা মারিয়া, দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ জাহিদ হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক মঈন মুরসালিন, সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য শাওন আজগর, জেসমিন দীপা, আবুল খায়ের, হাসান কামরুল, মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন, শাহিন রিজভী, রি হোসাইন , দিপাশ আনোয়ার, শাওন আশরাফ, জালাল খান ইউসুফী, রবিউল মাশরাফি , আলম বাঙ্গালী, এটিএম ফারুক আহমেদ, এম এম শাহানুর, জোসেফ জাহাঙ্গীর, আলমগীর সরকার লিটন, নুরুল হোসেন কাইয়ুম, খালেদা সরদার, নিয়াজ আহম্মেদ, সরকার হুমায়ুন, আতিকুজ্জামান খান, পায়সার আলী, সালাহউদ্দিন তুহিন, পরিমল বন্ধু বসাক, জাবেদ পাটোয়ারী, মতিউর রহমান, শোভা চৌধুরী, আবিদ আনোয়ার খান, ইসলাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আজিম প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে কবি শাহীন রেজা বলেন, লেখক ফোরামের যাত্রা একটি আদর্শের যাত্রা। এ যাত্রায় যারা সাথী হবেন তারা নিশ্চিত ভাবে একটি পরিবারে পরিণত হবেন। যে পরিবারের বন্ধন আমৃত্যু অটুট থাকবে।
সাধারণ সম্পাদক কবি ড. শহিদ আজাদ বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে।
বিশেষ অতিথি কবি রাজ মাসুদ ফরহাদ লেখক ফোরামের সাথে যুক্ত থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, লন্ডনে সংগঠনের দায়িত্ব তিনি নিজ কাঁধে তুলে নেবেন। তিনি বলেন, আগামী একমাসের মধ্যে জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের ইউকে শাখা গঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কবি রাজ মাসুদ জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সদস্য ফরম ক্রয়ের মাধ্যমে সদস্য ফরম বিক্রয়ের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
বার্তা প্রেরক
সৈয়দ জাহিদ হোসেন
দপ্তর সম্পাদক
আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সাদাপাথর ফেরত দিতে ডিসি সারওয়ারের ৩ দিনের আলটি*মেটাম!

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া পাথর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে নিজ উদ্যোগে, নিজে খরচে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ সময়ের পর কারো কাছে সাদাপাথর পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।

এই পাথর উদ্ধার ও প্রতিস্থাপনের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডিসি সারওয়ার জানান, এখনো কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলায় কিছু পাথর অনেকে লুকিয়ে রেখেছেন। এসব পাথর উদ্ধারে শনিবার এ দুই উপজেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সভাশেষে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আজ।

যার মধ্যে রয়েছে- মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে যাদের কাছে এখনো সাদাপাথর আছে তারা নিজ খরচে, নিজ উদ্যোগে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকায় পৌঁছে দেবেন। যেহেতু জনপ্রতিনিধিরা সরকারের অংশ তাই এ পাথর উদ্ধারে তাদেরও দায় রয়েছে। যার যার এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে পাথর ভোলাগঞ্জে পৌঁছানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন তারা।

ইতোমধ্যে এ দুই উপজেলায় মাইকিং করে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এই সময়ের পর যার কাছে সাদা পাথর পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এমনকি নির্ধারিত সময়ের পর যে এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাথর পাওয়া যাবে ওই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সারওয়ার আলম।

তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই পাথর লুটের মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার কাজও চলবে বলে জানান ডিসি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সরকারি খালের বালু অবাধে উত্তোলনে হুমকির মুখে শতাধিক পরিবার 

একেএম ফারুক হোসেন : নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের মৃধ্যারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের স্বেচ্ছাচারী হটকারি সিদ্ধান্তে ও প্রশাসনের যোগসাজশে  বিদ্যালয়ের পাশে বয়ে যাওয়া সরকারি বগাদিয়া খাল থেকে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট ভিটি বালু উত্তোলন করার অভিযোগ ওঠেছে। আর এতে শতাধিক পরিবারের দিন কাটছে ভয়ে ও আতঙ্কে।বিপুল পরিমানে ভুগর্ভস্হ বালু উত্তোলনের ফলে যেকোনো মুহুর্তে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে মানুষজন দিন পার করছেন বলে জানান এ প্রতিবেদকে।
জানা যায়,গত ২২ আগস্ট শুক্রবার সকাল থেকে দ্রুত বালু উত্তোলন করার উদ্দেশ্য একাধিক মেশিন ব্যবহার করছে। যার ফলে মেশিনের উচ্চ শব্দে ঘুম হারাম অলিপুর ও ধর্মপুর গ্রামের কয়েকশত পরিবারের। স্হানীয় এলাকাবাসী জানায়, মেশিনের উচ্চ শব্দে ঘরে থাকা বৃদ্ধ অসুস্থ রোগী ও শিশুদের সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছে।শনিবার (২৩ আগস্ট) এমন জনভোগান্তির সংবাদ পেয়ে  ঘটনাস্হলে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদকদ্বয় বগাদিয়া খাল থেকে ডাবল মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে মৃধ্যারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করতে দেখতে পায়।এসময় মেশিনের দায়িত্ব থাকা অশ্বদিয়ার স্হানীয় যুবক রাকিবের কাছে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়,বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিকের সাথে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু মৌখিক চুক্তিতে উত্তোলন করছি।এখানে পরিশ্রম বেশি, লাভ কম।সরকারি খালের বালু কিভাবে তুলছেন এমন প্রশ্নে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার জন্য বলেন।এর আগে স্হানীয় মানুষেরা ঘটনাটি উল্লেখ করে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আঁখি নুর জাহান নীলার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান,গত ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার মৃধ্যারহাট তহসিল অফিস থেকে একজন অফিস সহকারি এসে বালু উত্তোলন বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন,আমাকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি স্যার পাঠিয়েছেন।আপনি কাজ বন্ধ করেন তা-না হলে মেশিন নিয়ে চলে যাবো।
এরপর প্রধান শিক্ষক ওই অফিস সহকারিকে সামনে রেখে কার সাথে যেনো মুঠোফোনে যোগাযোগ করে শুক্রবার থেকে বালু উত্তোলন করাচ্ছেন।তিনি দাবি করেন ফোনটি সহকারী কমিশনারের ভূমির সাথে বলেছিলেন।
প্রধান শিক্ষক হিরন্ময় ভৌমিক বলেন,বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফাণ্ড থেকে ৫টাকা হারে প্রতি ঘনফুট বালু তুলে ভরাট করছি।সহকারী কমিশনার ভূমির নিষেধাজ্ঞার পরও কিভাবে বালু তুলছেন এমন প্রশ্নে তিনি কোনো কথা বলেনি।প্রথমে বালু উত্তোলন বন্ধ ও পরে পূণরায় চালু প্রসঙ্গে জানতে সহকারী কমিশনার ভূমি শাহনেওয়াজ তানভীরকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে বিস্তারিত জানতে চেয়ে ম্যাসেজ করলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।সদ্য যোগদাকৃত সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) হুমায়রা ইসলামকে পুরো বিষয় জানিয়ে তাঁর মন্তব্য চাইলে তিনি বলেন,আজ আমরা সবাই সচিব স্যারকে নিয়ে ব্যস্ত আছি।তবে আমি বিষয়টি দেখবো বলে এ প্রতিবেদককে আশ্বস্ত করেন। এ রিপোর্ট সন্ধ্যা ছ’টায় পাঠানোর সময়েও প্রশাসন থেকে কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/এপি