আজ রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 312

চেক ডিজঅনার মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় মৃ*ত্যু

আব্দুল আলিম, বাঘা, চারটি চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী সাজেদুল ইসলাম ওরফে ইজদার (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) বিকেল ৩টা ১৮ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন।

কারা সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে অসুস্থ অবস্থায় তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হলেও অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (২৫ আগস্ট) ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান সোমবার রাত ১০টা ১৬ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সাজেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোট চারটি চেক ডিজঅনার মামলা ছিল। মামলাগুলোতে বিভিন্ন মেয়াদে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল—একটিতে ১ বছর, একটিতে ৬ মাস, একটিতে ৪ মাস এবং একটিতে ৫ মাস। সব মিলিয়ে তার মোট সাজা ছিল ২ বছর ৩ মাস। তিনি ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট কারাগারে প্রবেশ করেন। সাজার মেয়াদ শেষে আগামী ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।

নিহত সাজেদুল ইসলাম বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সাজদার রহমানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি আম ও কাঠের ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসায় লোকসানের কারণে সুদে টাকা নিয়ে দেনা শোধ করতে পারেননি। সেই সুবাদে তিনি ফাঁকা চেক জমা দেন এবং পরে ওই চেক ফেরত আসায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

তার ছোট ভাই রবিউল ইসলাম জানান, বড় ভাই ইজদারকে প্রথমে রামেকের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টা ১৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, নারী নি*র্যাতন-তৌহিদ আফ্রিদির কু*কীর্তি ফাঁস!

বিশেষ প্রতিনিধি, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবা নাসির উদ্দিন সাথীর বিরুদ্ধে নানা সময়ে প্রতারণা, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল নিয়ে ‘ক্রাইম এডিশন’ একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে ইউটিউবার ও ব্লগারদের আওয়ামী লীগের পক্ষে জোর করে কাজ করানোসহ তৌহিদ আফ্রিদির নানা কুর্কীতির তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ জুলাই ২০২৪—অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। ছাত্র-জনতার উপর চলে অবর্ণনীয় গণহত্যা।

সেই গণহত্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিশেষত ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ ছিলেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে থাকা ছয় সমন্বয়ককে আটকের পর আন্দোলন এক প্রকার স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন তার ইউটিউব চ্যানেলে ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদের এক নারীর সাথে করা আপত্তিকর একটি ভিডিও আপলোড করেন।
ওই ভিডিও প্রকাশের পর হারুন ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ করে নিজের উলঙ্গ ভিডিও সরানোর অভিযানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।ওইদিন বিকেলেই হারুনুর রশিদ ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদিকে তার কার্যালয়ে আসতে বলেন। যেভাবেই হোক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ওই ভিডিও সরাতে আফ্রিদিকে অনুরোধ করেন। হারুনের ভিডিও সরাতে আফ্রিদি বাসা থেকে তুলে আনেন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সপার্ট মোহাম্মদ জুবায়েরকে।

জুবায়ের জানান, রাতভর তাকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে বিভিন্ন পেজ থেকে হারুনের ভিডিও সরাতে বাধ্য করা হয়।আফ্রিদির কথা না শুনে উপায়ও ছিল না। কারণ, ডিবি, সিআইডি, এটিইউ কিংবা সিটিটিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। যে কারণে সোশ্যাল মিডিয়া সংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজে এসব গোয়েন্দা সংস্থা আফ্রিদিকে ব্যবহার করত।

৩০ জুলাই রাতে হারুনুর রশিদের ভিডিও প্রকাশের পর আব্দুল্লাহ আল ইমরান নামে আরেকজনকে তুলে আনা হয়। তাকেও জোরপূর্বক ওই ভিডিও সরানোর কাজে বাধ্য করা হয়।

তৌহিদ আফ্রিদির নির্যাতনের শিকার হন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্বপন আহমেদ। স্বপনের মূল ‘অপরাধ’ ছিল—তিনি আলেমদের পক্ষে এবং ভারতের বিপক্ষে কনটেন্ট তৈরি করতেন। এ কারণে আফ্রিদি তাকে এ ধরনের কনটেন্ট বানাতে নিষেধ করেন। কিন্তু স্বপন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতে রাজি না হওয়ায় তাকে আদালতের বারান্দায় পর্যন্ত যেতে হয়েছে।

হাসি-খুশির আবরণে ভয়ঙ্কর এক অন্ধকার জগৎ গড়ে তুলেছিলেন আফ্রিদি। সেই রহস্যময় জগতের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে আছে মানুষের দীর্ঘশ্বাস।

প্রতিবেদনে আফ্রিদির একটি আস্তানা দেখানো হয়। বলা হয়, নতুন কোনো কনটেন্ট ক্রিয়েটর আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতে রাজি হলে সেখানে তাকে বরণ করা হতো। তবে ওই আস্তানায় যখন কাউকে শাস্তি দেওয়া হতো, সেই ভিডিও ধারণ করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

তৌহিদ আফ্রিদির নির্মম নির্যাতনের শিকার ব্লগারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন সায়েম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পাশে একটি ভবনে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সায়েমকে ৩০ থেকে ৩৫টি থাপ্পড় মারা হয়। সরকারি বাহিনীর কর্মকর্তাদের সামনেই আফ্রিদি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন।

প্রতিবেদনে আফ্রিদির নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী একজন সেই ভয়াবহ দিনের কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগী জানান— “যেভাবেই হোক একটা ভিডিও করাবে। যদি কোনো ভিডিও ব্ল্যাকমেইলের জন্য যথেষ্ট না হয়, তখন কী করবে? একটা মেয়ে দিয়ে দেবে। কারণ ওই জিনিস মানুষকে সমাজে কলঙ্কিত করে। কোনদিন যদি ভুক্তভোগী আফ্রিদির বিপক্ষে যায়, তখন ওই ভিডিও দিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করে দেয়।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে আফ্রিদি দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুমকি দিয়ে সরকারের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। তাছাড়া, আফ্রিদির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকজন নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগও উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পর আফ্রিদি হঠাৎ করেই তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়। পরে তাকে ডিবি অফিসে ডেকে গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে সংসার করার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তার।

ওই নারী আরও বলেন— ‘আমার সাথে সম্পর্কের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে উল্টো আফ্রিদি আমাকে হুমকি দেয়, মুনিয়ার মতো আমাকেও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি জানতে পারি, তার একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি মুনিয়া নামের একটি মেয়ের সাথেও সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিবাদ করলে সে আমাকে খুব বাজেভাবে রিঅ্যাক্ট করে। সরাসরি না বললেও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়, মুনিয়ার মতো আমারও পরিণতি হবে।’

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই নারীর অভিযোগের সূত্র ধরে কিছু ফোন রেকর্ড হাতে আসে। যেখানে মুনিয়ার বাসায় আফ্রিদির যাতায়াত এবং ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ মেলে। মুনিয়ার সাথে আফ্রিদির সম্পর্ক এবং আরেক প্রেমিকার সাক্ষ্য মিলিয়ে দেখলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।

আফ্রিদির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুইটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে—জুলাই আন্দোলনে আসাদুল হক বাবু নামের এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি জড়িত। আরেকটি মামলা হয়েছে বাড্ডা থানায়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়—২০২৪ সালের ২০ জুলাই মধ্য বাড্ডা ফ্লাইওভারের নিচে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাতারি গুলি চালায় আফ্রিদি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মেলান্দহে পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন

প্রতিনিধি,মেলান্দহ: 
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নে ভাবকী এলাকায় ভাবকী বাজারের পূর্ব পাশে টেক্সটাইল কলেজের অপজিটে   নিজের জমি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের  কাছে আবেদন দিয়েছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বিএসসি।
২৫ আগস্ট সোমবার  দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনেউল্লেখ করা হয়, নিম্ন তফসিল বর্ণিত সিএস ও আরওআর রেকর্ডীয় প্রজা লিখন মন্ডলের পরবর্তী ওয়ারিশগনের নামে বিআরএস ১৭ নং খতিয়ানে ৯৫২, ৯৫৯ নং দাগে যথাক্রমে ১.৮৮ একর ও.৪২ একর একুনে ২.৩০ একর ভূমি স্বত্বলিপি হইয়া চূড়ান্তভাবে প্রচার ও প্রকাশ থাকে। বিআরএস ১৭ নং খতিয়ানে মহেজ মন্ডল ০৪৫ হিস্যায় ১০৭৫ একর ভূমি প্রাপ্ত হইয়া বিআরএস ৯৫২ নং দাগে স্বত্ব ভোগ দখলদার বিদ্যমান আছেন। উক্ত বিআরএস ১৭ নং খতিয়ানে সুজায়েত আলী (.০৩৬ হিস্যা), ছালেহা খাতুন (০১৮ হিস্যা) এবং রহিমা বেওয়া (০৩৮ হিস্যা) একত্রে (২.৩০০.০৯২) = ২১১৬ একর ভূমির বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক বটে। সুজায়েত আলী নালিশী ভূমি নিজ নামে জমাখারিজ করিয়া স্বত্ব ভোগ দখলদার বিদ্যমান আছেন।
মহেজ মন্ডলের মৃত্যুতে তিন পুত্র ১) মোঃ আবুল মনছুর ২) আমিনুল ইসলাম ৩) মিনহাজুল মোর্শেদ, দুই কন্যা ১) ফজিলা ২) হামিদা এবং এক স্ত্রী মালেহা বেগম ওয়ারিশ বিদ্যমান থাকিয়া ১০৭৫ একর ভূমি এজমালিতে স্বত্ব ভোগ দখলদার বিদ্যমান থাকেন।
পক্ষান্তরে বিআরএস রেকর্ডীয় মালিক আজিম উদ্দিন ৪১৫ হিস্যায় ৯৫৪৫ একর ভূমি স্বত্ব ভোগ দখলকার বিদ্যমান থাকেন। আজিম উদ্দিন বিআরএস অপরাপর প্রজার সহিত মৌখিক আপোষ ঘরোয়া বন্টন মূলে বিআরএস ৯৫২ নং দাগে ৭০ একর এবং ৯৫৯ নং দাগে ২৬ একর ভূমিতে স্বত্ব ভোগ দখলকার বিদ্যমান থাকেন। আজিম উদ্দিনের মৃত্যুতে তাহার ওয়ারিশগণ তাহাদের প্রাপ্ত হিস্যার ভূমি নিয়ে ৭১৮৬ নং বন্টন নামা মূলে নালিশী বিআরএস ৯৫২ নং দাগে সামছুল আলম (২য় পক্ষ) ১১ একর ভূমি প্রাপ্ত হন এবং ১ম পক্ষ সুরুজ্জামান, কলিম উদ্দিন ও দুলাল নালিশী বিআরএস ৯৫২ নং দাগে ৩৩ একর ভূমি প্রাপ্ত হন। উল্লেখিতভাবে কলিম উদ্দিন ৭১৮৬ নং রেজিঃ দলিলমূলে বিআরএস ৯৫২ নং দাগে ১১ একর ভূমি প্রাপ্ত হন। উক্ত কলিম উদ্দিন বিগত ২৬/১২/১৯৯৬ ইং তারিখের ৬২৭১ নং দলিলমূলে ১২৭৫ একর ভূমি বেগম বিবি বরাবর বিক্রয় হস্তান্তর করিয়া নিঃস্বত্ববান হন। কলিম উদ্দিন উল্লেখিত ৬২৭১ নং দলিলমূলে নালিশী দাগে নিঃস্বত্ববান হওয়া স্বত্বেও বিগত ০৮/০৯/১৯৯৭ ইং তারিখের ৪৭৭২ নং দলিলমূলে ০৯ একর ভূমি জনৈক খলিলুর রহমান বরাবর বিক্রয় হস্তান্তর করেন। ৪৭৭২ নং দলিলমূলে উল্লেখিত খলিলুর রহমান নালিশী দাগে কোন স্বত্ব স্বার্থ অর্জন করেন নাই। বিধায় উক্ত খলিলুর রহমানের ক্রেতা হিসেবে মতিউর রহমান গং নালিশী দাগে কোনরূপ স্বত্ব স্বার্থ বা দখল অর্জন করেন নাই। এছাড়াও উল্লেখিত খলিলুর রহমানের সহিত নালিশী দাগ খতিয়ানের ভূমির বিষয়ে অত্র দরখাস্তকারী পক্ষের মধ্যে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত, মেলান্দহ, জামালপুরে ২৩৬/২০২৪ অন্য প্রকার, ৫৯/২০২৫ অন্য প্রকার ও ৩১/২০২২ অন্য প্রকার মোকদ্দমা বিচারাধীন রহিয়াছে। নালিশী ভূমির বিষয়ে উল্লেখিত সিভিল মোকদ্দমা সমূহ বিচারাধীন থাকা সত্বেও খলিলুর রহমান নালিশী ভূমির বিষয়ে মতিউর রহমান গং এর বরাবর রেজিঃ দলিল সম্পাদন করিলেও সরেজমিনে কোন দখল অর্পন করেন নাই। যেহেতু নালিশী ভূমির বিষয়ে একাধিক সিভিল মোকদ্দমা বিচারাধীন রহিয়াছে বিধায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর ৫২ ধারার (Lis Pendense) বিধান মতে উল্লেখিত হস্তান্তর বারিত বটে।
উল্লেখিত মতিউর রহমান গং বর্তমানে তর্কিত হস্তান্তরকে পুঁজি করিয়া আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট মিথ্যা তথ্য সম্বলিত অভিযোগ দিয়া দরখাস্তকারী পক্ষকে তাহাদের স্বত্ব দখলীয় নালিশী দাগের ভূমি হইতে মব জাস্টিসের মাধ্যমে বেদখল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। এমতাবস্থায় সত্য ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে দরখাস্তকারী পক্ষ তাহাদের স্বত্ব দখলীয় নিম্ন তফসিল বর্ণিত ভূমি হইতে উল্লেখিত মতিউর রহমান গং যাহাতে মব জাস্টিসের মাধ্যমে বেদখল করিতে না পারে তৎমর্মে বিহীত আদেশের প্রার্থনায় অত্র দরখাস্তমূলে আবেদন করিতেছে।
এ বিষয়ে
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম আলমগীর বলেন, লিখিত আবেদন দিয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলবো।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

দেশ পরিচালনায় ১৮০ দিনের পরিকল্পনা নিচ্ছেন তারেক রহমান: এ্যানি

প্রতিনিধি,লক্ষ্মীপুর :

আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, দেশে ফেরার আগেই তারেক রহমান দুর্নীতি দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন।

২৪ আগস্ট রবিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ্যানি বলেন, তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার আগেই তিনি পরিকল্পনা করছেন কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে, কীভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, কীভাবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি ও অপরাধ দমন না করতে পারি, তাহলে জনগণ বলবে, শেখ হাসিনাই ভালো ছিল। এজন্যই তারেক রহমান ১৮০ দিনের এবং ৩৬৫ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন, যাতে বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ পায়।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম কাদেরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুনের রহমান শামীম এবং প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির সহ শিল্প এবং বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল হুদা চৌধুরী ও যুগ্ম আহবায়ক এম দিদার হোসেনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদল হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, যুগ্ম-আহবায়ক হাসিবুর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবুল হাশেম প্রমুখ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

সাভারের বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রামে ফুল ছেড়াকে কেন্দ্র করে প্রায় দশ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে দুর্বৃওরা

শহিদুল্লাহ সরকার: 
সাভারের বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রামে ফুল ছেড়াকে কেন্দ্র করে প্রায় দশ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে দুর্বৃওরা। গত ২৩ শে আগষ্ট শনিবার বিকেলে সাভার বিরুলিয়া ইউনিয়নের গোলাপ গ্রামে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে তিনটি পরিবারের বিশ সদস্য বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রামে গোলাপ ফুল দেখতে বেড়াতে আসেন। এসময় তাদের সাথে আসা একটি শিশু বাচ্ছা একটি গোলাপ ফুল ছেড়েন ও সবাই বাগানে ঢুকে ছবি তোলা শুরু করেন। এসময় ফুল বাগানের লোকজন এসে ফুল ছেড়ার কারণ জানতে চান ও বাগানে প্রবেশ করে ফুল ছেড়ার জন্য পাঁচ হাজার ও ছবি তোলার জন্য প্রত্যেকের কাছে এক হাজার করে টাকা দাবি করেন। এসময় টাকা দাবির এক পর্যায়ে তাদের সাথে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। এসময় একদল দুর্বৃও লাঠি সোটা নিয়ে ফুল কাটার কেচি ও লাঠি  দিয়ে প্রায় দশ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে আহতরা পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। এঘটনায় রাতে ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম? সোহরাব,শাহিন,শাকিল ও অজ্ঞাত দুই তিনজনকে আসামী করে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিঞা বলেন,অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি ৫ দিনের রি*মান্ডে

বিশেষ প্রতিনিধি, জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন তিনি।

‎আজ ‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।‎

গতকাল রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।

‎‎মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত বছরের ৫ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন আসাদুল। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

‎‎এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ অগাস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এতে শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয় এই মামালায়। মামলায় আসামির তালিকায় নাসির উদ্দিন ও তৌহিদ আফ্রিদির নামও রয়েছে।

‎‎গত ১৭ আগস্ট গুলশান থেকে নাসির উদ্দিন সাথীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৩ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানো হযয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

শান্তি চুক্তির জন্য অনেক ছাড় দিয়েছে রাশিয়া: যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

ইউক্রেন চলমান সংঘাত নিরসনে শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিয়েছে রাশিয়া। এমন মন্তব্যই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

তিনি বলেছেন, যদিও সংঘাত অবসানের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি, তবু তিনি বিশ্বাস করেন যে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে। ২৫ আগস্ট সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।এলএনবিসি’র “মিট দ্য প্রেস উইথ ক্রিস্টেন ওয়েকার” অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কয়েকটি ছাড় দিয়েছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো, ভবিষ্যতে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করা।

ভ্যান্স বলেন, “সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যে প্রথমবার রাশিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এতো গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে। তারা স্বীকার করেছে, কিয়েভে কোনো পুতুল সরকার বসানো সম্ভব হবে না, যা শুরুতে তাদের মূল দাবি ছিল। এবং গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা স্বীকার করেছে যে ইউক্রেনের ভূখণ্ডের অখণ্ডতার জন্য কিছু নিরাপত্তা গ্যারান্টি থাকবে।”

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। সাড়ে তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে রাশিয়ার আক্রমণ বন্ধের শর্তে পুতিন চেয়েছেন যে ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিক, ন্যাটো যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করুক, নিরপেক্ষ থাকুক এবং দেশের মধ্যে পশ্চিমা সেনা রাখার অনুমতি না দিক।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ কিছু দেশের উচিত ইউক্রেনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে রাশিয়ার ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের এক সপ্তাহ পর এ কথা বলেন তিনি।

ভ্যান্স বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদা করে নিষেধাজ্ঞাগুলো বিবেচনা করা হবে এবং নতুন শাস্তি দিয়ে রাশিয়াকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়াতে বাধ্য করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এই মাসে রাশিয়ার তেল ক্রয়ের কারণে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এই ধরনের পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক চাপ হিসেবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, “ট্রাম্প স্পষ্ট করতে চেয়েছেন, রাশিয়া যদি হত্যা বন্ধ করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় যোগ দিতে পারবে তারা। কিন্তু যদি তারা হত্যা বন্ধ না করে, তবে তারা (সারা বিশ্ব থেকে) বিচ্ছিন্ন থাকবে।”

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

অনুসন্ধানী সাহসী সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের স্মরণে চট্টগ্রামে শোকসভা

মোঃ জহির উদ্দিন বাবর : দেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র, দৈনিক বাংলা ভূমি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন–এর সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার এবং বাংলানিউজ২৪–এর খ্যাতিমান সাংবাদিক সাইদুর রহমান রিমনের স্মরণে চট্টগ্রামে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে নগরীর চেরাগী পাহাড়স্থ চট্টগ্রাম একাডেমীতে আয়োজিত এ শোকসভায় বক্তারা বলেন, সাইদুর রহমান রিমন ছিলেন আপোষহীন, নির্ভীক এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতীক। দেশের সংবাদ জগতে তিনি আজীবন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন। বক্তারা জানান, পেশাগত জীবনে নানা মামলা-মোকদ্দমা ও প্রশাসনিক চাপে থেকেও রিমন কখনো সত্যের পথ থেকে সরে যাননি। তিনি জানতেন সাংবাদিকতার এই পথ কণ্টকাকীর্ণ, কিন্তু তবুও পিছপা হননি। শোকসভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সিআরএ সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন–এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ আরেফিন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঈনুদ্দিন কাদের শওকত,বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক চীফ ইঞ্জিনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার এইচ কে নাথ,বাংলাদেশ সাংবাদিক কমিউনিটি (বিএসসি) মুখপাত্র ও যুগ্ম আহ্বায়ক, কালের কণ্ঠ সিনিয়র সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু,প্রাবন্ধিক খন রঞ্জন রায়,সময়ের কাগজ আঞ্চলিক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রানা,বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী আনিসুল হক রিপন, দৈনিক পূর্ব বাংলা সম্পাদক এম আলী হোসেন,ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রাইম রিপোর্টার্স সোসাইটি মুখপাত্র মুহাম্মদ আবু আবিদ,দৈনিক শাহ আমানত চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ূন কবির,মাই টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আলহাজ্ব মোঃ নুরুল কবির,সিআরএ প্রচার সম্পাদক রুমেন চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিআরএ সহ-অ্যাপায়ন সম্পাদক শাফায়েত মোরশেদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিআরএ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রুবেল, অর্থ সম্পাদক সাইফুদ্দিন রমিজ, দপ্তর সম্পাদক আশরাফ উদ্দীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাকিল, সদস্য জহির উদ্দিন বাবর সহ সিআরএ নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। বক্তারা বলেন, সাইদুর রহমান রিমন ছিলেন সংবাদ জগতের এক সত্যনিষ্ঠ সৈনিক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। সততা, সাহস এবং নির্ভীক সাংবাদিকতা তার জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনি হয়ে থাকবেন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ জুলাই গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্ট্রোক করে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শোকসভা শেষে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে: প্রধান উপদেষ্টা

আলোকিত প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে। সবাইকে এই সংকট নিরসনে কোনও বিলম্ব ছাড়াই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আপনাদের সোচ্চার হওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার আশা সঞ্চার করতে পারে।

২৫ আগস্ট সোমবার কক্সবাজারের হোটেল বে ওয়াচে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ২০১৭ সালের এই দিনে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে নিজের জীবন বাঁচাতে এ দেশে চলে আসে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এখনও আমরা নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন দেখতে পাচ্ছি প্রতিদিন। এ রকম একটা দিনে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ইতিহাসের সঠিক পথে অবস্থান নেওয়া এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীকে জাতিগত নিধন বন্ধ করানো।

তিনি বলেন, এটা সাংঘাতিকরকমের ভুল হয়ে যাবে যদি আমরা রাখাইন সম্প্রদায়ের শেষ চিহ্নটুকু দেখার জন্য অপেক্ষা করি। আমরা তা করতে দিতে পারি না। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতি আছে। যখন গত মার্চে জাতিসংঘ মহাসচিব এসেছিলেন এখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটাতে, তিনি অন্য সবার মতো উপবাস ছিলেন এবং প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করেন। এর মাধ্যমে তাদের একটা আশা দিয়েছিলেন যে, বিশ্ব তাদের পাশে আছে এবং তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করবে এবং ঈদুল ফিতরের মতো ধর্মীয় উৎসব নিজ দেশে উদযাপন করতে পারবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের চোখে এখনও ভীতি দেখি, যখন তারা তাদের ওপর হয়ে যাওয়া অবর্ণনীয় ঘটনাগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেন। ২০১৭ এবং তারও আগে বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের এমন পরিস্থিতিতে আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। আন্তর্জাতিক মহলের এখানে আগের চেয়েও বেশি প্রভাব বিস্তার করা প্রয়োজন। আমি আন্তর্জাতিক সংস্থা, অংশীজন, দাতাসংস্থাগুলোর অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রশংসা করি।

তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদকে আর ব্যবহার করার কোনও সুযোগ দেখছি না। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং টেকসই সমাধান বৈশ্বিক এজেন্ডায় জিইয়ে রাখতে হবে যতদিন না তারা নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এই সংলাপ রোহিঙ্গাদের আওয়াজ আরও জোরালো করছে এবং দ্রুত, টেকসই এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের রোডম্যাপ তৈরি করছে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু বাংলাদেশের একার কাজ নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও এখানে এগিয়ে আসতে হবে।

এ সময় অধ্যাপক ইউনূস সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথমত, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাবো, তাদের সেচ্ছায়, নিরাপদ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনে একটি বাস্তব রোডম্যাপ যত দ্রুত সম্ভব তৈরি করুন।

দ্বিতীয়ত, জীবন রক্ষাকারী কাজ চলমান রাখতে দাতাসংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের অপিরিমিত অবদান এখানে প্রয়োজন। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার। একই সময়ে আমরা অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ভবিষ্যতের জন্য পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন করার পদক্ষেপ নিতে।

তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের প্রতি সবধরণের নিপীড়ন এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে। আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এবং আরাকান আর্মির প্রতি আহ্বান জানাই রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং জীবিকা নিশ্চিত করার। আর কোনও রোহিঙ্গা যাতে বাংলাদেশে না আসে তা মিয়ানমারকে নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারের অভ্যন্তর বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজেদের বাড়িতে ফিরতে দিতে হবে।

চতুর্থত, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহিংসতা বন্ধে, জাতিগত নিপীড়ন রোধে পরামর্শ কিংবা সংলাপের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। আমরা মিয়ানমার সরকার এবং রাখাইন কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাই রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতে, সেচ্ছায় নিরাপদ প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার।

পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা বিশেষ করে আসিয়ানকে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা এই সংকটের সমাপ্তি টানতে পারে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সচল হওয়ার আহ্বান জানাই।

ষষ্ঠত, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের অবশ্যই জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

সপ্তমত, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাই ন্যায়বিচার, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে। এখনই সময় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার।

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ আগস্ট ২০২৫/মওম

পতেঙ্গায় ইকবাল হাসানের অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা হাজারো শ্রমজীবী মানুষ 

মুহাম্মদ জুবাইর: 
#‎ভয়ানক  প্রতারক চক্রের মোলহোতা ওরা চারজন
#অসহায় হতদরিদ্র শ্রমিকরা ভয়ে যাচ্ছে না আইনের আশ্রয় নিতে
#প্রতারক চক্র খুব ভয়ানক টাকা ফেরত চাইলেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছে মিথ্যা মামলায়
# আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় এখনো ইকবালের সব অপকর্ম চলমান
#এসব প্রতারকদের কারণে বর্তমানে অনেকেই পথ বেঁচে নিতে চাচ্ছে আত্মহত্যা
#প্রায় শত কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা প্রতারক চক্রের
#প্রতারক চক্রের সন্তানরা পরিচয় দেয় জুলাই যোদ্ধা দেখায় ক্ষমতা
‎চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারকের অভিনব প্রতারণায় দিশেহারা হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ভেঙ্গেছে অনেক গার্মেন্টস মহিলা শ্রমিকের সংসার। আবার শেষ সম্বল হারিয়ে মানবতের জীবন যাপন করেছেন বহু নিম্ন আয়ের মানুষ।
‎সূত্র বলছে  পতেঙ্গা এলাকায় ইকবাল হাসান নামের এক প্রতারক রেশন কার্ড প্রদানের নাম করে চালিয়ে যাচ্ছেন  প্রতারণা। কয়েক বছরে এই প্রতারক ইকবাল হাসান  সহজ সরল শ্রমজীবী মানুষকে টার্গেট করে চাউল তেলের রেশন কার্ডের কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায শত কোটি টাকা। এই প্রতারণায়   ইকবাল হাসানের   সহযোগী হিসেবে সহায়তা করেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার গলতাজ বেগমের স্বামী মান্নান । প্রতারক ইকবাল হাসানের পাশাপাশি বনেছেন গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বলেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের এই অভিনব প্রতারণায়  ঋণের বোঝাই নুয়ে পড়েপরিবার পরিজন নিয়ে ধুকছেন অনেকেই । মূলত প্রতারক চক্রের নিজেদের অধিক লোভ, বোকামী আর প্রতারক ইকবাল হাসান থেকে যথাযত ডকুমেন্টস না থাকায়  নিতে পারছেনা আইনী পদক্ষেপ।
‎আবার অনেকেই টাকায় পাওয়ার আশায় নিরব ভুমিকা পালন করছেন। বর্তমানে প্রতারক ইকবাল হাসান ঘা-ঢাকা দিলেও দিব্বি জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইকবালের সহযোগী গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার। আবার ভুক্তভোগী কেউ কেউ গুলতাজ বেগমের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে হয়েছেন হামলা ও মামলার স্বীকার।
‎‎সূত্র বলছে, ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসানের বেশ কিছু সহযোগী চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড থানাধীন যে সমস্ত এলাকায় শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস সে এলাগুলোকে টার্গেটে পরিণত করে। পরবর্তীতে তারা অধিক লাভ আর স্বল্প মূল্যে রেশনের নানা সামগ্রী প্রদান করবেন বলে কৌশল অবলম্বন করে প্রচারণা চালায় ঐসব এলাকায়। পরে এই চক্রের প্রধান ইকবাল হাসান সু-কৌশলে এলাকার আস্থাভাজন নারী পুরুষের নিয়ে গড়ে তুলেন একটি বলয়। যারা ইকবাল হাসানের পক্ষে শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সুমিষ্ট কথার মারপ্যাঁচে লোভ লালসা দেখিয়ে রেসন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন। সহজ সরল শ্রমজীবী, দরিদ্র শ্রেণীর ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো অল্প টাকার বিনিময়ে অধিক লাভের আশায় পা দেন ইকবাল হাসান, সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারদের প্রতারণায়। অনেকে আবার সমিতির, এনজিও বা লাভের আশায় চড়া সুদে টাকা নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন এই প্রতারক চক্রের হাতে।
‎‎অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজারের অধিক মানুষ ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ ইকবাল হাসান চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা।
‎‎সূত্র আরো বলছে, এ সমস্ত এলাকার মানুষগুলো শুধু নিজের নামে নয় পরিবারের সকল সদস্য এমনকি ২ বছরের শিশুদের নামেও অধিক লাভের আশায় ইনভেস্টমেন্ট করেছেন। এরিসাথে পরিবারের একজন ইনভেস্টমেন্ট করলে ইকবাল হাসান,  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার চক্র ভুলিয়ে ভালিয়ে ঐ পরিবারের নিকট আত্মীয় থেকে শুরু করে দুরবর্তী আত্মীয় স্বজনদের রেশন কার্ডে ইনভেস্টমেন্ট করিয়েছেন। এভাবে এইচক্রের প্রধান ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার বনেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
‎‎সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রতারক ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারের চাউল তেলের রেশন কার্ডের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করলে প্রতিমাসে রেশনের পাশাপাশি লভ্যাংশ দেওয়া হবে এমন প্রলোভনে পড়ে নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার ৫ হাজার অধিক লোকজন প্রতিটি রেশন কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে এ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন শতকোটি টাকা। প্রতারক লিডার ইকবাল হাসান প্রতারণা ভীত মজবুত করতে ও প্রতারণার শিকার লোকজনকে দিয়েছেন নিজের সাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও তার নিজের নামে থাকা ১০ টির অধিক বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টের চেক। আবার স্ট্যাম্প গুলোর বেশির ভাগেই স্বাক্ষীর জায়গায় স্বাক্ষর দিয়েছেন গুলতাজ ও নুরুল আবছার। তবে ইকবাল হাসানের দেওয়া ব্যাংক একাউন্টের চেকে গ্রহিতার নাম ও তারিখ বসাননি। মূলত প্রতারক ইকবাল হাসান নিজে অদৃশ্য থেকে সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছারসহ আরো বেশ কয়েকজনের সহায়তায় তার স্প্যাম্প ও চেক দিয়ে প্রতারণার ষোলকলা পূরণ করেছেন। উল্লেখ্য শুরুর দিকে তাদের প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য মাস দুই বেশ কয়েকজনকে রেশন প্রদান করে পরবর্তীতে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে প্রতারক ইকবাল হাসান ও  সহযোগী গুলতাজ বেগম, নুরুল আবছার। একপর্যায়ে শত কোটির টাকার বড় একটি অংশ নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান ইকবাল হাসান। এরিসাথে গুলতাজ বেগম পতেঙ্গা ছেড়ে বসতি গাড়েন আনোয়ার থানা এলাকায়।
‎‎প্রতারনার স্বীকার শাহাবুদ্দিন জানান, গত বছর আগস্টের পর নুরুল আবছারের জাদুকরী কথায় মুগ্ধ‌হয়ে অধিক লাভ ও রেশনের জিনিসপত্র পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন দিন ধরে তিলে তিলে জমানো নিজের দুই লক্ষ টাকা সাথে আমার ভাই বোন আত্মীয় স্বজন মিলে ৮ জনের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নুরুল আবছারের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার সময় নুরুল আবছার স্বাক্ষী হয়ে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত  একটি ১০০ স্ট্যাম্প ও কয়েকটি প্রাপকের নাম ও তারিখ ছাড়া ব্যাংক চেক প্রধান করেন। টাকা প্রদানের পর থেকে রেশন তো দুরের কথা এক টাকা ও লাভের টাকা পায়নি। এদিকে আপনার ভাই বোন আত্মীয় স্বজনরা টাকার জন্য ক্রমাগত পেশারে আমি একেবারে দিশেহারা। বেশ কয়েকবার নুরুল আবছারের কাছে দেওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি নানা রকম তার বাহানায় কালক্ষেপণ করতে থাকে এরিসাথে আমাদের নানা ধরনের হুমকি প্রদান করতে থাকেন।
‎প্রতারনার স্বীকার অপর এক গার্মেন্টস কর্মী শিরিন জানান, গুলতাজ বেগমের কথায় রেশন‌ কার্ডের জন্য আমি ৩ শক্ষ টাকা তুলে দিয়। পাশাপাশি আমার সাথে কাজ করা প্রায় ৩৫ জন মেয়ে ও আমার রিকশা চালক স্বামী ও শাশুড়ির কাছ থেকে   সব মিলে ৮০ লক্ষ টাকা গুলতাজ বেগমের কথায় তার স্বামীর হাতে তুলে দিয়। গুলতাজ বেগম ও তাঁর স্বামী হারুন সেই সময় আমাদের কয়েকটি ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক প্রদান করলেও গেল ৮ মাসে একটা টাকাও ফেরত পায়নি। এদিকে আমার ও আমার স্বামীর জমানো শেষ সম্বল টুকু হারিয়ে ছেলে সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। গেল কয়েক মাস আমার স্বামী দিশাহারা হয়ে আমাকে তালাক দেয়।
‎‎প্রতারনার স্বীকার অপর এক দিনমজুর নাছির উদ্দিন জানান গুলতাজ বেগমের কথার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে অতি লোভে রেশনের আশায় নিজেদের শেষ‌সম্বল ও বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন মিলে ৩০০ জনের কাজ থেকে প্রায় কোটি টাকা গুলতাজ বেগমের হাত দিয়ে ইকবাল হাসানের হাতে তুলে দিয়। টাকা দেওয়ার প্রায় ৮/৯ মাসে প্রথমে একবার শনের কিছু জিনিস ফেলেও বর্তমানে সবার ক্রমাগত চাপে একেবারে নুয়ে পড়েছি।‌ আমার কাছে ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত কয়েকটি স্ট্যাম ও চেক ছাড়া পারফেক্ট কোন ডকুমেন্ট না থাকায় নিতে পারছি না কোন আইনী পদক্ষেপ।
‎‎তিনি আরো জানান তিনি ও তার টিম ছাড়া পতেঙ্গা ও ইপিজেডের ৫ হাজারের বেশি লোকদের কাজ থেকে এই ইকবাল হাসান, গুলতাজ বেগম ও নুরুল আবছার হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
‎অপরদিকে সম্প্রতি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতারিত একজন    টাকার জন্য গুলতাজ বেগমের নতুন বসতি আনোয়ার এলাকায় গেলে গুলতাজ বেগম তার স্বামী হারুনের  মাধ্যমে এই লোকটিকে বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন ও তার নামে থানায় মামলা দিয়ে নানামুখী হয়রানি করেন।
‎এদিকে‌ প্রতারণার বিষয়ে মুঠোফোনে নুরুল আবছারের কথা বললে তিনি  পতেঙ্গা এলাকার প্রতারণার সব দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর চাপান। একি সাথে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজে প্রতারিত হয়ে ইকবাল হাসানের নামে থানায় প্রতারণা মামলা করেছেন বলে জানান।
‎প্রতারণার বিষয়ে গুলতাজ বেগমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে তিনিও‌ সব অভিযোগ অস্বীকার করে  দোষ চাপান ইকবাল হাসানের উপর। এরিসাথে তিনি নিজে প্রতারণা স্বীকার হয়েছেন বলে জানান। অপরদিকে অধিকাংশ লোকজনের টাকা বিকাশ ও নগদে গ্রহণকারী গুলতাজ বেগমের স্বামী হারুনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে নানা হুমকি দিতে থাকেন।
‎‎এদিকে প্রতারণার বিষয়ে প্রতারক দলের লিডার ইকবাল হাসানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ চেষ্টা চালিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আলোকিত প্রতিদিন/২৪ আগস্ট ২০২৫/মওম