আজ রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 304

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ডাকসুতে ছাত্রদল বিজয়ী হবে: রিজভী

আলোকিত প্রতিবেদক:

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলই বিজয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আন্দোলন, সংগ্রাম এবং নীতি-আদর্শের দল হলো ছাত্রদল। ঢাবির শিক্ষার্থীরা যদি অবাধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তাহলে ছাত্রদলের প্যানেলই জয়ী হবে।

 ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা জেলা বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভা এবং র‌্যালি পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমানে আলোচনায় থাকা পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে রিজভী বলেন, এখন হঠাৎ করে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অনেক কথা বলছে। ভাই, পিআর পদ্ধতি কী? কোনো জনগণ বলতে পারবে? গ্রামের মানুষ, এ দেশের সাধারণ মানুষ কি বলতে পারবে? এটা তো কখনো ব্যবহার করা হয়নি। এটি তো জনগণ চায় না।আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খোন্দকার আবু আশফাক এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নিপূণ রায়।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু, তমিজ উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল কবির প্রমুখ।

চীনের অগ্রযাত্রা ও পুনর্জাগরণ থামানো যাবে না: শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজে বিশ্বকে শান্তি এবং সংলাপের পথে হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

অনুষ্ঠানে তার পাশে ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওউত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এসময় চীনের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং।

৩ সেপ্টেম্বর বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

তবে পশ্চিমা কোনও দেশের নেতা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমাদের চোখে একঘরে হয়ে পড়া পুতিন এবং পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য সমালোচিত কিম।

শি জিনপিং বলেন, “আজ মানবজাতি শান্তি নাকি যুদ্ধ, সংলাপ নাকি সংঘাত, পারস্পরিক লাভ নাকি শূন্য-সমীকরণের মধ্যে একটির পথ বেছে নেবে। চীনা জনগণ ইতিহাসের সঠিক পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”

এর আগে খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে শি জিনপিং সেনাদের সালাম গ্রহণ করেন এবং মিসাইল, ট্যাংক, ড্রোনসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন। আকাশে হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমানের মহড়া চলে। ৭০ মিনিটের এই শোভাযাত্রার শেষে আকাশে উড়ানো হয় ৮০ হাজার শান্তির কবুতর ও রঙিন বেলুন।

মাও সেতুং-এর ধাঁচে তৈরি পোশাক পরে প্রেসিডেন্ট জিনপিং লাল কার্পেটে ২০টিরও বেশি দেশের নেতাদের স্বাগত জানান। এর মধ্যে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও। নিজের দেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যেও হঠাৎ অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি।

মঞ্চে শি জিনপিংয়ের দুই পাশে বসেন পুতিন ও কিম। একাধিকবার তাদের সঙ্গে আলাপও করেন তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কড়া মন্তব্য করে লেখেন, “ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনকে আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিও, যখন তোমরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে আছো।”

যদিও পরে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, এই প্যারেডকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন না। জাপান এ বিষয়ে মন্তব্য করা এড়িয়ে গিয়ে জানায়, তারা চীনের সঙ্গে “গঠনমূলক সম্পর্ক” গড়ে তুলছে।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এ উপলক্ষ্যে দেওয়া বার্তায় চীনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ৩ সেপ্টেম্বর দিনটি চীনা জনগণের ত্যাগ ও সাহসিকতার স্মারক, যা বৈশ্বিক শান্তি ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে অনুপ্রেরণা দেয়।

শি জিনপিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে চীনের “মহান পুনর্জাগরণের বাঁক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি আগ্রাসন থেকে উঠে এসে চীন এখন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি। তিনি আবারও ‘শক্তির রাজনীতি এবং আধিপত্যবাদ’-এর বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরোক্ষভাবে তিনি এই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং ঘরে-বাইরে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার কৌশলও। একই সঙ্গে এটি রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনারও ইঙ্গিত বহন করে।

রয়টার্স বলছে, গত দুই বছরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনীর এক ডজনেরও বেশি জেনারেলকে সরিয়েছেন শি জিনপিং। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্যারেডে আধুনিক সামরিক অগ্রগতি দেখানো হলেও ভেতরের সংকটগুলো আড়াল করার চেষ্টা ছিল।

শি জিনপিং তার ভাষণে বলেন, “চীনা জাতির পুনর্জাগরণ এখন আর ঠেকানো যাবে না”। অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে সরকারি কর্মচারীদের কুচকাওয়াজ দেখার ও অভিজ্ঞতা লিখে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়।

চিতলমারীর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী নেতা, নিজাম উদ্দিন শেখের অবৈধ সম্পদের পাহাড়

বিশেষ প্রতিবেদক: বাগেরহাট জেলার চিতলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নিজাম উদ্দিন শেখ আওয়ামীলীগ আমলে নেতা শেখ হেলালের আর্শিবাদে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। শেখ হেলালের প্রভাব দেখিয়ে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বরাদ্দ টি আর, কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপি, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল, অতিদরিদ্রের কর্মসূচি, ইজিপিপি প্রকল্পের কাজে অনিয়ম দুর্নীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। জমাজমি দখলদারি মাছের ঘের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন রকমের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতে শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে চিতলমারী সদর ইউনিয়নের শাজাহান, কেরামত আলী আকবর নামীয় কয়েক জন অভিযোগ করে জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলের প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানদের সাথে আত্মগোপনে যায় নিজাম উদ্দিন শেখ। চিতলমারী সদর ইউনিয়নে গত ১৫ বছর ধরে সন্ত্রাস ও মাদকের নৈরাজ্য গড়ে তুলে ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শেখ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন নিজাম চেয়ারম্যান। এলাকার হতদরিদ্র আবদুর রাজ্জাক সুফিয়া বেগম দম্পতির ছেলে নিজাম উদ্দিন শেখ। গ্রামের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় মেম্বার হয়ে বদলে যায় নিজামের দিন। এরপর নজরে আসে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হেলালের, রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায় নিজাম উদ্দিনের। সাধারণ মানুষ ভোট না দিলেও হয়ে যায় চেয়ারম্যান। নিজাম উদ্দিন শেখ নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সদর রোডে প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে একটি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। নিজের বাড়িতেও গড়ে তুলেছেন কোটি টাকা দিয়ে তিন তলা একটি বাসভবন। তিন জায়গায় রয়েছে দুইশো ১৯ বিঘার মাছের ঘের। ক্রয় করেছেন ৪০ বিঘা আবাদি জমি। অভিযোগ রয়েছে, ভোটার কার্ড জালিয়াতি, ওয়ারিশ সনদ ভুয়া বানিয়ে চিতলমারী উপজেলার পাশে ৪৭ শতাংশ জমি জোরদখলে নিজ নামে কবলা করে নিয়েছেন নিজাম চেয়ারম্যান। খুলনার জিরো পয়েন্টের দক্ষিণ দিকে রাস্তার পাশে ৪ কাঠা, ৩ কাঠা ও ৫ কাঠার জমির প্লট ক্রয় করেছেন। চিতলমারী উপজেলা সদরে জমি ক্রয় করে একটি বহুতল আলিশান বাড়ি নির্মান করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকা ভূক্ত একটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিজাম উদ্দিন শেখ রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামীতে জমা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ইউনিয়নে অতিদরিদ্র কর্মসংস্থান কর্মসূচি ইজিপিপির কাজে অনিয়ম করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন। চল্লিশ দিনের প্রকল্পে ৩০-৩৫ জন লোক কাজ করার নিয়ম থাকলেও কয়েক বছর যাবত ১০-১২ জন লোক দিয়ে নামে মাত্র কাজ করিয়ে শ্রমিকদের অনেকের মোবাইল একাউন্ট চেয়ারম্যান বাদ দিয়ে তাদের নিজস্ব নাম্বারে একাউন্ট করে দিয়েছে। একাউন্ট পরিবর্তন করে চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাৎ করেছে। যার সত্যতা ব্যাংকে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগে আরো জানা যায়, সরকারি সেবা দিতেও নিজাম চেয়ারম্যান অবৈধভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উত্তরাধিকার সনদ দিতে তার নির্দেশে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয়। জন্মনিবন্ধন করতে সরকারি ফি ২৫/৫০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। গ্রাম আদালতে বিচার পেতে ১০ থেকে ২০ টাকা সরকার নির্ধারিত ফির পরিবর্তে হাজার টাকা আদায় করেন। এসব অনিয়ম করে নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হেলালের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তখন টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গোপন করে জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়িয়ে কমিয়ে চাকরির তদবির বানিজ্য করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতিক সময়ে নিজাম উদ্দিনের অভিযোগের বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। এমনকি একাধিকবার লাঞ্ছিত ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সরকারি অনুদানের টাকা ও বিভিন্ন গ্রামে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেওয়ার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। অপর দিকে ভিজিডি তালিকা প্রণয়নে ঘুষ গ্রহণসহ ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি চেয়ারম্যন নিজস্ব বাহিনী তৈরি করে ভিজিডি তালিকায় নাম উঠানোর কথা বলে অসহায় দুস্থদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণ করছেন। বাদ পড়েনি বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাও। এ ব্যাপারে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। চিতলমারী ইউপির সচিব বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন হোয়াটসআপে ফোন করলে তিনি ধরবেন। সেখানেও সাংবাদিকের কথা শুনে চেয়ারম্যান নিজাম ফোন রিসিভ করেননি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে, কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না: প্রেস সচিব

আলোকিত ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রত্যাশা উৎসবমুখর পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার যমুনায় সাতটি রাজনৈতিক দল এবং একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, যারা জীবনে কখনও ভোট দিতে পারেনি, তাদের জন্য এই নির্বাচনে ভালো অভিজ্ঞতা দিতে হবে। যারা ভোট দিতে গিয়ে পূর্বে তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদেরও ভালো অভিজ্ঞতা দিতে হবে। কেউ যেন বলতে না পারে যে আমাকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে দিতে চায় না, তারা যত রকম পারবে তত রকমভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিছু কিছু লক্ষণ এখন দেখা যাচ্ছে। সামনে আরও আসবে। এজন্য আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে। আমাদের চেষ্টা হবে নির্বাচন করার এবং নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত সরকারের হাতে আমরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।’

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এবারের নির্বাচন হবে অনন্য। এটি কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচন নয়, এটি দেশের সব মানুষের, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচন। এই নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা হলো ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নির্মাণের। এই নির্বাচন হবে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর, সাহস অর্জনের, নিজের ভঙ্গিতে দেশ পরিচালনার নির্বাচন। সবাই যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোট দিতে যেতে পারেন এবং এই উৎসবটা সারা জীবন মনে রাখে। আমরা এই নির্বাচন আয়োজনে আপনাদের সর্বাত্মক সমর্থন চাই।

তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সহধর্মিনী মারিয়া আক্তার, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সুচিকিৎসার জন্য নুরকে বিদেশে পাঠাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশগ্রহণ করে এবি পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

৭২ ঘণ্টাও জ্ঞা#ন ফেরেনি সায়েমের, মামুনের খুলি*র ঠাঁই ফ্রিজে!

বিশেষ প্রতিনিধি, মুখে অক্সিজেন মাস্ক, মাথায় মোটা ব্যান্ডেজ। পাশে মনিটরের টুকটাক শব্দ। হাসপাতালের নিঃসঙ্গ শয্যায় নিথর পড়ে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম। গত রবিবার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর মধ্যকার ঘটে যাওয়া এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। মাথায় পড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও।

চিকিৎসকরা তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর কেটে গেছে তিন দিন তথা ৭২ ঘণ্টার কাছাকাছি সময়। তবুও চোখ মেলেনি সায়েম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে। তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তার বাবা মোহাম্মদ আমির হোসেন, যিনি ছেলের খবর শুনে বগুড়া থেকে ছুটে এসেছেন চট্টগ্রামে। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘ওকে নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম, মারামারিতে যাস না। কিন্তু সে বলল, আহত বন্ধুদের হাসপাতালে নিতে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর শুনি আমার ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে সন্ত্রাসীরা। মানুষ কিভাবে পারে একজনকে এভাবে কোপাতে?’

ফ্রিজে সংরক্ষিত মামুনের খুলি:

সায়েমের সঙ্গে একই সংঘাতে আহত হয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মামুন মিয়া। তার মাথার খুলি ফেটে গেলে, অস্ত্রোপচারে খুলির একটি অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। তবে মামুনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে।

তার বড় ভাই টাঙ্গাইলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘মামুন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছে।’ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আজ তাকে কেবিনে নেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসকের ভাষ্যে সায়েম-মামুনের বর্তমান অবস্থা:

পার্কভিউ হাসপাতালের স্পেশালাইজড ইউনিটের ইনচার্জ ডা. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, সায়েমের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। খুলির ভেতরের অংশ ও রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি। শুধু ব্লাড প্রেসারে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। রোগীর অবস্থা খুব বেশি উন্নত নয়।

মামুনের বিষয়ে তিনি জানান, তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। খুলি ফ্রিজে রাখা হয়েছে। যদি সুস্থ থাকে, দুই থেকে আড়াই মাস পর তা পুনঃস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার একটি ঘটনা থেকে সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একজন ছাত্রী ভাড়া বাসায় দেরিতে ঢুকতে চাইলে দারোয়ান তার গায়ে হাত তোলেন। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং তা গ্রামবাসীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ আহত হন প্রায় ৫০০ জন। এখনো তিন শিক্ষার্থী মৃত্যু সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

মাদক সম্রাজ্ঞী-চাঁদাবাজি থেকে খুন, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো ঢাকার ‘লেডি ডন’ আটক

আলোকিত ডেস্ক

মাদক সম্রাজ্ঞী ও জুলাই আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলার আসামি স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।

১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা এলাকার ৫৯৭ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতেই গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক লতিফ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জুলাই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি স্বপ্না আক্তারকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, গুলশান থানার একটি জুলাই হত্যা মামলার ৬২ নম্বর আসামি স্বপ্না। আওয়ামী লীগের পতনের পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতেন স্বপ্না।

স্বপ্না আক্তার ক্যান্টনমেন্ট থানার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় সে মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে বহুল পরিচিত। আওয়ামী লীগ আমলে অবৈধ পথে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নারী ও পুরুষদের নিয়ে তার দুটি বাহিনী রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে শিল্পপতিদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক এমপি আওয়ামী লীগ নেতা রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে পরিচিত এই স্বপ্না আক্তার। রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় ফখরুলের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ফখরুলের মালিকানাধীন জায়গায় একটি হোটেলও বানিয়েছেন স্বপ্না। গত ১৬ বছরে ফখরুলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে লেডি ডন হয়ে ওঠে স্বপ্না আক্তার। জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে মাটিকাটা এলাকায় স্বপ্নার আছে নিজস্ব অস্ত্রধারী গ্যাং।

সাংবাদিক নির্যাতনে*র মামলায় কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি কারাগা#রে!

আলোকিত ডেস্ক, সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তার আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি।

এর আগে বেলা ১১টায় সুলতানা পারভীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনি। এ সময় উৎসুক জনতা সাবেক জেলা প্রশাসককে একনজর দেখার জন্য আদালতে ভিড় জমায় জনগণ।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বজলুর রশিদ ও অ্যাডভোকেট আজিজার রহমান দুলু। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও নানা অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান করায় ২০২০ সালের ১৩ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাসায় অভিযান চালানো হয়। তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। ডিসি অফিসে এনে নির্মম নির্যাতন করেন জেলা প্রশাসনের তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা।

 আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয় তখন। সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও সাজা দেওয়ার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় হয়।

কারামুক্ত হয়ে এ ঘটনায় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। সম্প্রতি সাবেক ডিসি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। স্থায়ী জামিন পাওয়ার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি, বুকে রড ঢুকিয়ে বন্ধুকে হ#ত্যা!

আলোকিত ডেস্ক, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে অটোরিকশার ভাড়াকে কেন্দ্র করে বুকে রড ঢুকিয়ে ফরহাদ হোসেন (২০) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে তার বন্ধু। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার লক্ষণপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

একইদিন রাত ১০টার দিকে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

নিহত ফরহাদ হোসেন উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের বানঘর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত মাহফুজ আলম (২০) সাইকচাইল গ্রামের রবিউল হোসেনের ছেলে।

 স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ফরহাদ ও মাহফুজ দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন তারা। সোমবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে অটোরিকশায় করে তারা লক্ষণপুর বাজারে পৌঁছান। এ সময় ভাড়া দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

 

মনোহরগঞ্জ থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহতের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

হাসিনাকে ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার পরামর্শ দেন জাবেদ পাটোয়ারী: মামুন!

বিশেষ প্রতিনিধি, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে আগাম ভোট ভরার পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মো. জাবেদ পাটোয়ারী। এই তথ্য দিয়েছেন এক সময়ের আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি এই সব জবানবন্দি দেন।

এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন জুলাই আন্দোলনের সময়ে পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে থাকা মামুন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখতে হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই সময়ের জাবেদ পাটোয়ারী। পুলিশে গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেট নিয়েও জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

সাবেক আইজিপি ট্রাইব্যুনালে আরও বলেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ও ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত হয় রাজনৈতিকভাবে।

তিনি জানান, লেথাল উইপেন ব্যবহারের নির্দেশনা এসেছিল শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আর সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব, ডিবির হারুন ছিলেন মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী।

মামুন জবানবন্দিতে বলেন, র‌্যাব-১ এ টিআইএফ নামে গোপন বন্দিশালা ছিল। অন্যান্য র‌্যাবের ইউনিটে ছিল এমন বন্দিশালা। রাজনৈতিক ভিন্নমত ও সরকারের জন্য হুমকি হয় এমন মানুষদের ধরে আনা হতো এখানে।

এবছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচন করতে চান তিনি।

এর আগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত, শহীদ পরিবারের সদস্য, চিকিৎসকসহ ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মাসেই এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছে প্রসিকিউশন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি

সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার নিয়ে বিস্ফোর*ক তথ্য দিলেন রা#জসাক্ষী মামুন!

বিশেষ প্রতিনিধি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে সমন্বয়কদের আটক করে মানসিক নির্যাতন করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয় বলে জানিয়েছেন রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

মঙ্গলবার (০২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে ক্যামেরা ট্রায়ালে জবানবন্দি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে সেনা মোতায়েনের পর ১৯ জুলাই থেকে প্রতিরাতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় প্রতিরাতে কোর কমিটির বৈঠক হতো। সেখানে আন্দোলন দমনসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও নির্দেশনা দেওয়া হতো। কোর কমিটির বৈঠকে তিনিসহ সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব টিপু সুলতান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রেজা মুস্তাফা, সাবেক ডিবিপ্রধান, সাবেক এসবিপ্রধান, তৎকালীন র‌্যাব ডিজি, তৎকালীন আনসার ডিজি, তৎকালীন বিজিবি ডিজি, তৎকালীন ইন্টিলিজেন্স প্রধান এবং তৎকালন ডিজিএফআই ও এনএসআই প্রধান উপস্থিত থাকতেন।

রাজসাক্ষী মামুন বলেন, এমন একটি কোর কমিটির বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সমন্বয়কদের আটকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ডিজিএফআই এ প্রস্তাব করে। তবে এ প্রস্তাবে বিরোধিতা করেন তিনি। এরপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ডিজিএফআই ও ডিবি তাদের আটক করে নিয়ে আসে। আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আপোষ করতে তাদের মানসিক নির্যাতনসহ চাপ প্রদান করা হয়। এমনকি তাদের আত্মীয়স্বজনকেও নিয়ে আসা হয়। এরপর সমন্বয়কদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে টেলিভিশনে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। এতে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

এর আগে গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনালে নিজের দায় স্বীকার করেন শেখ হাসিনার এ মামলায় স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজসাক্ষী হতে চান চৌধুরী মামুন। সেই সময় তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলাম, সব রহস্য উন্মোচন করব। এই মামলায় আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজসাক্ষী হতে চাই। এই গণহত্যার ব্যাপারে যত সত্য আছে, তা আমি জানাতে চাই আদালতকে।

পরে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিদ আমজাদ বলেন, কোর্টে এই মর্মে একটি আবেদন দেওয়া আছে যে, আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হতে চান তিনি। তখন ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে জানিয়েছেন, তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত সময়সীমা বর্ধিত করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন করতে নিরস্ত্র ছাত্র ও জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমনে গণহত্যা চালায়, যেখানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি