আজ রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ।   ৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 297

নুরকে দেখতে হাসপাতালে ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি-জিএস

বিশেষ প্রতিনিথি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন নবনির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নুরকে দেখতে যান তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান।

 

গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বিজয়নগরে দলটির কার্যালয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মারধর ও লাঠিপেটায় আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি কেবিনে ভর্তি রয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

বাংলাদেশের এশিয়া কাপের লড়াই শুরু হচ্ছে আজ, প্রথম ম্যাচে খেলতে পারে যে একাদশ

হংকং ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের মাঠের লড়াই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। আজ বৃহস্পতিবার আবুধাবির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

এবারের আসর ঘিরে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা-সিলেটে দুই দফায় হয়েছে ট্রেনিং ক্যাম্প। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের কাছ থেকে তালিম নিয়েছে লিটন-শান্তরা। এ ছাড়া টানা তিন সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই দুবাইয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। এবার মাঠের ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করার পালা।

নিজেদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ‘খর্বশক্তির’ হংকং হলেও বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত একবারই মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-হংকং। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ২ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামবে টাইগাররা।

উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকেরের একাদশে থাকা একপ্রকার নিশ্চিত। মিডল অর্ডারে বিবেচনায় থাকবেন শামীম পাটোয়ারীও। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও দলের প্রয়োজনে তার ডাক পড়ে। এ ছাড়া শেখ মেহেদীও থাকবেন ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিবেচনা। পেস ইউনিটে মুস্তাফিজ ও তাসকিনের সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিবের খেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বোলিংয়ে দুই স্পিনার আর তিন পেসার নিয়েই দল সাজাতে পারে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস (অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক), সাইফ হাসান, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, শেখ মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান।

আলোকিত প্রতিদিন/১১সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

হঠাৎ বৃষ্টিতে ডুবল মিরপুর, জলাবদ্ধতায় যান চলাচলে ধীরগতি

জাহিদ হাসান হৃদয়, ‎‎বৃষ্টি হলেই মিরপুর সড়কে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ‎আজ সকাল থেকে মুসুলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দেখা যায়, মিরপুর ১ থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সকালে বৃষ্টির কারণে গণপরিবহন সংকটে পড়ে কর্মজীবী মানুষ। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় মিরপুর সড়কে গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও গলির পানি সড়কে এসে নামছে। মূল ড্রেন ময়লা ও পলিথিন আটকে ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে ফলে সড়কে উল্টো পানি উঠছে। ‎এদিকে কথা হচ্ছিল এক শিক্ষার্থীর সাথে, তিনি জানান একটু বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতা দেখা দেয় আমাদের এই সড়কে, ফলে আমাদের যাতায়াতের অনেক সমস্যা হয়।

সেই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা এই জলবদ্ধতার সমাধান চাই। ‎ ‎সড়কে পানি থাকায় হেঁটে চলাচলে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। মিরপুর-১ সড়কে কথা হচ্ছিল রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে গলিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, রিকশা পাচ্ছি না। কীভাবে যে অফিসে যাব, তাই ভাবছি এখন। ‎সরেজমিনে আরও দেখা যায়, মিরপুর-১, চাইনিজ ও আনসার ক্যাম্পের সামনের সড়কে হাঁটু পানি জমে গেছে। অতি বৃষ্টির কারণে সড়কের পানি পাশের বেশ কিছু দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে।

নগরবাসীর দাবি, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই শহর হয়ে উঠবে হাঁটুপানির নগরী।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাচারিতা: অনিয়মের মাধ্যমে সার আমদানির অনুমতি পেলো দেশ ট্রেডিং

বিশেষ প্রতিবেদক, বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা কৃষির ওপর নির্ভরশীল, অথচ কৃষকদের জন্য এই সার আমদানিতে আহুত দরপত্রের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে দেশ টেডিং করপোর্রেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সৎ উপদেষ্টার সরলতার সুযোগ নিয়ে সচিবসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই নজিরবিহীন অনিয়ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে- জানা যায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের টেন্ডার নোটিশের কপি ও কার্যাদেশ পর্যালোচনাসহ একাধিক সূত্র ও বেসরকারি খাতের আমদানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরকার নন-ইউরিয়া সার হিসেবে পরিচিত টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি আমদানির জন্য প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে কৃষি মন্ত্রণালয়। কিন্তু এবার এ প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়েছে ঠিক তিন মাসেরও বেশি সময় পর। যেখানে এ সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে নন-ইউরিয়া সারের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি করা হয়।

এদিকে-সাড়ে নয় লাখ টন নন-ইউরিয়া সার আমদানির জন্য গত ২৪ জুলাই একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। যেখানে টেন্ডার দাখিলের সময় দেওয়া হয় ৬ আগস্ট পর্যন্ত। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেই নিয়ম বদলে ফেলা হয়েছে। উল্টো কৃষি মন্ত্রণালয় আমদানিকারকদের একটি দর প্রস্তাব করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত দামে সার আমদানির জন্য রাজি থাকলে গত ২১ আগস্টের মধ্যে টেন্ডারে অংশ নেওয়া জন্য আমদানিকারকদের সম্মতিপত্র চাই কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম।

পরবর্তীতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে প্রস্তাবিত দামে সার আমদানির জন্য আমদানিকারকরা রাজি হলে গত ২১ আগস্টের মধ্যে টেন্ডারে অংশ নেওয়া আমদানিকারকদের কাছে সম্মতিপত্র চায় মন্ত্রনালয়।  আমদানিকারকদের নিকট থেকে সম্মতিপত্র গ্রহণ করার পর ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোন প্রকার নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে এমনকি সার আমদানি সংক্রান্ত পরিপত্র (ধারা ৮-গ) অনুযায়ী প্রাপ্ত দরের মধ্যে সর্ব নিম্ন দরের ক্রমানুসারে কার্যাদেশ প্রদান করার বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গালী দেখিয়ে দরপত্রের প্রাপ্ত দরের বাইরে গিয়ে মনগড়াভাবে নেগাশিয়েশনের মাধ্যমে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে সার আমদানির কার্যাদেশ প্রদান করেন মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম ও যুগ্ম সচিব মোঃ খোরশেদ আলম।

শুধু তাই নয়, একজন ব্যক্তির মালিকানাধীন তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মনগড়াভাবে একাধিক দরে সার সরবরাহ করার অনুমতি প্রদান করেন তিনি। এর মধ্যে দেশ ট্রেডিং কপোরেশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং আর আর হোল্ডিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে  ৪০হাজার মেট্রিক টন সার দুই ধরণের দরে (প্রতি টন ৮৪৮ ডলার এবং ৮৭৪ ডলার) আমদানির অনুমতি দেয়। অথচ এই কোম্পানী মন্ত্রণালয়কে এই দরে কোন প্রাইজ অফার করেনি। বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং আর আর হোডিং মন্ত্রণালয়কে যে প্রাইজ দিয়েছে তার থেকে অনেক বেশী দরে তাদের কে আমদানির অনুমতি প্রদান করে।

ওই মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন- মন্ত্রণালয়েরে একজন সৎ উপদেষ্টার সরলতার সুযোগ নিয়ে সচিবসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজিরবিহীন এই অনিয়ম করছেন। তিনি আরো বলেন- এ ধরনের অপকর্মে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার বলে আমি মনে করি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আমদানী উয়িং কর্তৃপক্ষ পুরোপুরো স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে একটিমাত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়ে এবং একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান এবং তার অঙ্গ প্রতিষ্ঠানকেই সার আমদানির জন্য অনুমতি প্রদান করে।

অভিযোগে দেখাগেছে, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সারা দিয়ে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সার আমদানির অনুমোদন না দিয়ে বলির পাঠা বানিয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব চক্র তাদের নিজেদের ফায়দা হাসিল করেছেন।

অভিযোগ-অনুযোগের এতকিছুর পরেও ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইং’ পূনঃ আমদানির জন্য ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখ পুণরায় আরেকটি দরপত্র আহবান করে। অভিযোগ রয়েছে এখানো মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে এবং অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন এই কাজ করেছে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত নজিরবিহীন দুর্নীতির মাধ্যমে টেন্ডারের সর্বনিম্ন দরদাতার দরের বাইরে গিয়ে নেগোসিশশেনর মাধ্যমে বিধি লংঘন করে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের এজেন্ডা বাস্তবায়ন তথাপি দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে সংকটে ফেলে বাজারে অব্যবস্থাপনা সৃষ্টির গভীর চক্রান্ত করা হচ্ছে।

অনিময়, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে আমদানির অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সৎ উপদেষ্টার সরলতার সুযোগ নিয়ে সচিবসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজিরবিহীন এই অনিয়মের ঘটনা ঘটিয়েছে তা খুবই  উদ্বেগজনক। যদি এমনটি হয়ে থাকে, একই স্টিমেট দিয়ে রাতের আঁধারে একটি কোম্পানিকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার ঘটনা ঘটে তবে সেটা  তদন্ত করা উচিত আমরা মনে করি। প্রয়োজনে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা উচিত। পরিবর্তন দরকার। আগের সিস্টেমে যদি অনিয়ম হয় তা দু:খজনক। সবকিছুতে জবাবদিহি থাকা উচিত। লটারিং সিস্টেম থাকা সত্বেও তা না মানার বিষয়টিও আমাদের ভাবায় যে সেখানে কি পরিমান আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশ ট্রেডিং কর্পোরেশনের প্রোপাইটর মোঃ মামুনুর রশীদের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে চাইলে- তিনি বলেন টেন্ডারের বিষয়ে আপনার কিছু জানার থাকলে মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলেন, আমার সাথে নয়। তারা জানাবে আমি কিভাবে পেলাম। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ কথা বলতে পারবোনা বলেই কথোপকথন বন্ধ করে ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলে তারা কেউ ফোন ধরেননি। পরে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

গণভোট,অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশসহ ৪ উপায়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণভোট, অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে এমন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে এখন বৈঠকে আলোচনা চলছে।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়, জুলাই সনদের সংবিধানের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে দলগুলো বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়। সেগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সনদ বা তাঁর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠান; রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন করা; নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণপরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা করা; ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন; সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভারূপে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।

দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য কমিশন প্যানেল একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা করে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্যে সুপারিশ করে। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ এবং ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়া। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিষয়সমূহকে (যার মধ্যে ভিন্নমত/ নোট অব ডিসেন্ট আছে) সেগুলো চার উপায়ে বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট এবং বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।

আলোকিত প্রতিদিন/১১সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ফোনালাপে ট্রাম্প–নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কাতারে হামাস নেতাদের ওপর সম্প্রতি ইসরায়েলের চালানো হামলা নিয়ে ফোনালাপে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

হামলার এ ঘটনায় কাতার আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প এই হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের “তীব্র হতাশা” প্রকাশ করেন।

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন— দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা ছিল “অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ”। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে তিনি এই হামলার খবর পান, অথচ ইসরায়েল আগে থেকে কিছু জানায়নি। এর মাধ্যমে হামলা চালানো হলো এমন এক মিত্র দেশের ভূখণ্ডে, যারা গাজায় যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

নেতানিয়াহু এর জবাবে বলেন, হামলার সুযোগের সময়সীমা খুবই কম ছিল, তাই তিনি সেটিই কাজে লাগান।পরে আরেক দফা ফোনালাপ হয় উভয়ের মধ্যে, যা তুলনামূলকভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। এতে ট্রাম্প জানতে চান হামলা সফল হয়েছে কিনা, তবে নেতানিয়াহু নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেননি। পরে হামাস জানায়, তাদের নেতৃত্ব ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছে। তবে সংগঠনের পাঁচ সদস্য ও এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প ক্রমেই নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠছেন। কারণ, নেতানিয়াহু বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে না জানিয়ে একতরফা আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যা ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য–সংক্রান্ত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে কাতারে হামলা নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা “হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা” চালিয়েছে।

অন্যদিকে কাতার এ হামলাকে “কাপুরুষোচিত কাজ” এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের “বেপরোয়া আচরণ” আর সহ্য করা হবে না।

উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর একসঙ্গে গাজা যুদ্ধ শেষ করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ২০২৩ সারের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল–থানি বুধবার সিএনএনকে বলেন, দোহায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি জানান, এ নিয়ে আরব ও ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, “এই অঞ্চল থেকে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া আসবে। এটি বর্তমানে আমাদের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনার পর্যায়ে আছে।”

আলোকিত প্রতিদিন/১১সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

মুরাদনগরে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে স্কুলে হামলা

নাজমুল হাসান: 
কুমিল্লার মুরাদনগরে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে স্কুলে হামলা চালিয়েছে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ও গণিত বিভাগের শিক্ষক জহিরুল ইসলামসহ দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়। ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আনা হয় একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র বাকি বিল্লাহর বিরুদ্ধে।  ১০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ আনা হয় একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাকি বিল্লাহর বিরুদ্ধে। ইভটিজিংয়ের অভিযোগে বুধবার সকালে বিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণির ছাত্র বাকি বিল্লাহকে তুলে নিতে আসে ওই ছাত্রীর বড় ভাই ইমনসহ ৫ জন বহিরাগত।
এ সময় বাকি বিল্লাহকে না পেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া তার দুই বন্ধু শাহজালাল ও আরমানকে তুলে নিয়ে বিদ্যালয়ের গেটের বাইরে মারধর করতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বাধা দিলে তার ওপরেও হামলা চালায় বহিরাগতরা। বিষয়টি বিদ্যালয়ে জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনায় বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক জহিরুল ইসলামসহ দুই পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মুরাদনগর থানা পুলিশ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন উপস্থিত হয়ে আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বহিরাগতদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ বিষয়ে পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য শাহজাহান খান বাবুল বলেন, যদি কোন ছাত্রীকে কেউ ইভটিজিং করে থাকে, তাহলে সেটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিলো। এইভাবে বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদেরকে টানা-হেঁচড়া করে বাহিরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা এটা মোটেও কাম্য নয়। এটার সঠিক বিচার হওয়া উচিত।
পরমতলা শব্দর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, ইভটিজিংয়ের অভিযোগের বিষয়টি বিদ্যালয়ের কারোই জানা নেই। বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী যদি ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে আগে জানানোর দরকার ছিলো।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বিদ্যালয়ে যে বহিরাগত ৫ জন গিয়েছিলো। তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কিছু শিক্ষার্থীদেরকেও ডাকা হয়েছে। তারা আসার পরে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সেই অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান জানান, আমাকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। পরে আমি সেখানে এসিল্যান্ডকে পাঠাই আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টা দেখার জন্য। যেহেতু এটা মোবাইল কোর্টের আওতায় আসেনা, সেজন্য মুরাদনগর থানার ওসিকে বিষয়টা দেখার জন্য বলা হয়েছে।
আলোকিত প্রতিদিন/১১সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ছেলের হাতে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

মো: মহিদ:
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অর্থ-সম্পদের দ্বন্দ্বের জেরে ছেলের হাতে মায়ের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ১১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মান্দারতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম করুনা রানী ভদ্র (৬২)। তিনি মৃত ফটিক চন্দ্র ভদ্রের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রবি চন্দ্র ভদ্র (৪২) হত্যার পর পালিয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক অর্থ-সম্পদ নিয়ে মা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরে ভোর রাতে রবি চন্দ্র ভদ্র ধারালো বটি দিয়ে বসতঘরের ভেতর মাকে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনাস্থলেই করুনা রানী ভদ্র মারা যান।খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.আর.এম আল মামুন বলেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আলোকিত প্রতিদিন/১১সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম

সুরের রাজকন্যা কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক, বাংলা সঙ্গীতাঙ্গণের এক নন্দিত কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। অসংখ্য গান গেয়ে শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন। আজ ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে ঢাকার শান্তিবাগে জন্ম কনকচাঁপার।

অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতিসহ সবধরনের গানে কনকচাঁপা সমান পারদর্শী। তিনি ৩৫ বছর ধরে সংগীতাঙ্গণে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন কনকচাঁপা। তার প্রকাশিত একক গানের অ্যালবাম সংখ্যা ৩৫।
গানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে। ২০১০ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘স্থবির যাযাবর’, ২০১২ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ ও ২০১৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ নামে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে কনকচাঁপার।কনকচাঁপার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন..’, ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়’, ‘আমার নাকেরই ফুল বলে রে তুমি যে আমার’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’, ‘আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি আমার এমনই একজন’ ইত্যাদি।

গানের জন্য রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া তিনি বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। সঙ্গীতাঙ্গণের পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত কনকচাঁপা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি।

আলোকিত প্রতিদিন/এপি  

টাঙ্গাইলে দ্রুত এগিয়ে চলছে এলজিইডির ১৯টি প্রকল্প কাজ, গড় অগ্রগতি ৮২ শতাংশ 

সাইফুল ইসলাম সবুজ, টাঙ্গাইল:
টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) ১৯টি প্রকল্পের অধীনে প্রাক্কলিত মূল্য দুই হাজার ৬৭৮ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিপরীতে দুই হাজার ২৮৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের ৮২ শতাংশ গড় হার সম্পন্ন করেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও সার্বক্ষণিক তদারকির কারণে এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির অধীনে ২০২৪-২৪ অর্থ বছরে দুই হাজার ৬৭৮ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের বিপরীতে ১৯টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে- অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩(আইআরআইডিপি-৩) প্রকল্পে ১৬২ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭২টি স্কীমের মধ্যে ১৪৭টির কাজ সম্পন্ন ও ২৫টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে। গৃহীত প্রকল্পের ৯৪ শতাংশ কাজের ভৌত অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প তথা টাঙ্গাইল উন্নয়ন প্রকল্প(আইআরআইডিপি-টাঙ্গাইল) প্রকল্পে ৫৩১ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭৩৭টি স্কীম গ্রহন করা হয়। এরমধ্যে ৪৮০টি স্কীমের কাজ সম্পন্ন, ২১৪টি চলমান, ৯টি বাতিল ও ৩৪টি স্কীমের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে কাজের ভৌত অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প(এমআরআরআইডিপি) খাতে ৫০৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬৭টি স্কীমের মধ্যে ৩৭৯টির কাজ সম্পন্ন, ৭৯টি চলমান এবং ৯টির দরপত্র বাতিল
করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কজের ভৌত অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ। পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পে ১১২ কোটি ২৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ১৩টি স্কীমের মধ্যে দুইটি সম্পন্ন ৬টি চলমান এবং ৪টি বাতিল ও ১টি স্কীমের দরপত্র আহ্বন করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে ভৌত অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ (জিওবিএম) প্রকল্পে ৬২০ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে
গৃহীত ৮৬টি স্কীমের মধ্যে ৭০টি সম্পন্ন, চলমান রয়েছে ১৫টি এবং ১টি স্কীমের দরপত্র আহ্বন করা
হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কজের ভৌত অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ।
উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ (ইউএইচবিপি) প্রকল্পে ৮৪ কোটি ৫২ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ১৮টি স্কীমের মধ্যে ১০টি স্কীম সম্পন্ন, ৭টি চলমান রয়েছে এবং ১টির দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯২ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা-ইউনিয়ন সড়ক
প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ
(ডিডিআইআরডব্লিউএসপি) প্রকল্পে ১৯০ কোটি ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। উল্লেখিত ব্যয়ে ৪১টি স্কীম গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ২২টি স্কীম সম্পন্ন,
১৮টি চলমান এবং ১টি স্কীমের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে প্রকল্পের ভৌত
অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন (সিএএফডিআরআইআর) প্রকল্পে ১০১ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ব্যয়ে গৃহীত স্কীমের সংখ্যা ৫৮টি। এরমধ্যে ৩৩টির কাজ সম্পন্ন, ২৩টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে এবং ২টির দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৭০ শতাংশ। সাপোর্টিং ফর রুরাল ব্রিজেস (এসইউপিআরবি) প্রকল্পে ৯০ কোটি ১৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৫টি স্কীম গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ২২টির কাজ সম্পন্ন, ১২টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে এবং ১টির দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতির হার ৮৭ শতাংশ। সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (জিএসআইডি-২) প্রকল্পে ২১ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ৬৪১টি স্কীমের মধ্যে ৫৩২টির কাজ সম্পন্ন, ৬৭টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে এবং ৪২টি স্কীমের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন (ভিআরআরপি) প্রকল্পে ১০২ কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮০টি স্কীম গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে সবগুলো স্কীমের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতির হার ১০০ শতাংশ।
দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (সিআরএমআইডিপি) প্রকল্পে ৩৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহীত ১৬টি স্কীমের মধ্যে ১২টির কাজ সম্পন্ন, ৩টির কাজ চলমান রয়েছে এবং ১টির
দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ। সারাদেশে পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি) প্রকল্পে ৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ২৮টি স্কীমের মধ্যে ১৭টি সম্পন্ন, ৭টি স্কীম চলমান রয়েছে, ৩টির দরপত্র আ করা হয়েছে এবং ১টি স্কীম বাতিল করা হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কজের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২য় পর্যায় (এসএসডবিøউআরডিপি-২) প্রকল্পে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮টি স্কীমের মধ্যে ৬টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২টির কাজ চলমান রয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৮২ শতাংশ।
সমবায় মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠা পাইলট (ডিওসি) প্রকল্পে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১টি স্কীমগ্রহন করা হয়। স্কীমটির কাজ চলমান রয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে স্কীমের উন্নয়ন কাজের ভৌতঅগ্রগতি ৬০ শতাংশ। সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা ইউনিট (আইডবিøউআরএম) প্রকল্পে ১৩ কোটি ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ৮টি স্কীমের মধ্যে ৫টির উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে ও ৩টির কাজ চলমান রয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (টিইউএলও) প্রকল্পে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে
৮টি স্কীম গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ৭টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে এবং ১টি স্কীমের দরপত্র বাতিল করা
হয়েছে। ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ১৭ শতাংশ। উপজেলা-টাউন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন (ইউটিএমআইডিপি) প্রকল্পে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে গৃহীত ৬টি স্কীমের মধ্যে ২টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪টি স্কীমের কাজ চলমান রয়েছে।
ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে উন্নয়ন কাজের ভৌত অগ্রগতি ৬৭ শতাংশ। এছাড়া পিসিআরবিসিপি প্রকল্পের আওতায় ৩২ কোটি ৯৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় বা চুক্তিমূল্যে টাঙ্গাইল পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ৩৬ ও ৭২ ইউনিটের ৭তলা বিশিষ্ট দুইটি আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ জায়গা জটিলতার জন্য স্থগিত রয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গত বছরের আগস্টে সরকার পতনের পর তিনি দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পে স্কীম পরিদর্শন করেছেন। যেস স্কীমে সমস্য সৃষ্টি হয়েছিল সেগুলোর দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। কোন কোন স্কীমের কাজ ঠিকাদারকে ডেকে এনে
আলোচনার মাধ্যমে সমস্য সমাধান করেছেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে জেলার সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় ৯ হাজার ২৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে বিভিন্ন প্রকার সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে। উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তিনি সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকেন।
আলোকিত প্রতিদিন/১০সেপ্টেম্বর ২০২৫/মওম